সর্বশেষ সংবাদ-
পৌর ৮ নং ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলশ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের দোয়া ও ইফতারআইনজীবী হিসেবে সাংবাদিক  বিপ্লব হোসেনের পথচলা :সফলতা কামনা করে প্রেসক্লাবের বিবৃতিঈদ উল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় রোড শোসাতক্ষীরায় চার দিন ধরে নিখোঁজ কলেজ ছাত্রীর মেলেনি সন্ধান : দিশেহারা পরিবারসাতক্ষীরায় ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে ইফতারি বিতরণসাতক্ষীরা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের ইফতারদেবহাটার দর্জিরা আসন্ন ঈদুল ফিতর ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেনবেতনা ও মরিচ্চাপ নদী রক্ষায় টিআরএম বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনসাতক্ষীরায় সচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

জেলা পরিষদ সদস্যদের তোপের মুখে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেন দুর্নীতিবাজ মাহাবুব

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুববর রহমান অবশেষে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। জেলা পরিষদের পুকুর ও খেয়াঘাট ডাকে অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির প্রতিবাদে সদস্যদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার এক পর্যায়ে বৃহষ্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী শাহানা পারভিনের কাছে এ পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাড. শাহানাজ পারভিন মিলি জানান, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মাহাবুবর রহমানকে বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনের পরদিন স্থানীয়রা অফিসে এসে লাঞ্ছিত করে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে আব্দুর রউফ কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জেলা পরিষদের টাকা খরচ করার অভিযোগে তদন্ত হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে নেমেছ দুদক। বদলি সংক্রান্ত হাইকোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে মাহাবুবর রহমান সুপ্রিম কোর্টে গেলে কোন সুবিধা করতে না পেরে আবারো বহাল থাকেন সাতক্ষীরা অফিসে। একপর্যায়ে বৃহষ্পতিবার দুপুর ২৯টি পুকুর ইজারা সংক্রান্ত টে-ার ও বিকেল চারটায় মাসিক মিটিং আহবান করেন মাহাববুর রহমান। শ্যামনগরের নওয়াবেকী খেয়াঘাট ইজারার নামে ছয় লাখ টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন খেয়াঘাট ও পুকুর ইজারা দেওয়ার নাম করে বহু টাকা নিয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত খরচ করেছেন এমন বিষয় জানতে পেরে বৃহষ্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সদস্যদের সঙ্গে তার বচসা হয়। এসময় তার উপর চড়াও হলে তিনি ক্ষমা চেয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে মাহাবুবর রহমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারীর কাছে তার ইস্তফা পত্র জমা দিয়ে চলে যান। তবে আগামী মাসিক সভায় আব্দুর রউফ কমপ্লেক্সে জেলা পরিষদের টাকা বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।
জানতে চাইলে জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবু মোবাইল ফোনে মাহাবুবর রহমানের ইস্তফার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, সদর উপজেলার মাটিয়াডাঙা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের ছেলে এস,এম মাহবুবুর রহমান ১৯৯০ সালের ২৯ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে ষাটলিপিকার (টাইপিষ্ট) হিসাবে অস্থায়ী নিয়োগ পান। পরবর্তীতে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে একই অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পেলে তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২০০১ সালের ২৬ জুন পঞ্চগড় জেলা পরিষদে বদলী করেন। হাইকোর্টে বদলী আদেশ স্থগিত হলেও পরবর্তীতে তিনি প্রত্যাহার করে নেন।
২০০৫ সালের ১৪ জুন তাকে জামালপুর জেলা পরিষদে বদলী করলে তার যোগদানপত্র গৃহীত হয়নি। অপরদিকে গত ২০০৫ সালের ১৯ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলার চার জন সংসদ সদস্য এস, এম মাহবুবের বিরুদ্ধে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ৬৪টি গৃহ বন্দোবস্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্ধ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, জেলার বিভিন্ন খেয়াঘাট লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে পূর্ববর্তী ডাকের চেয়ে কম ডাকে ইজারা দেওয়া, নিজের এলাকার ও নিজ আত্মীয় স্বজনদের জেলা পরিষদে চাকুরি দিয়ে সি-িকেটের মাধ্যমে গডফাদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ, একজন নিম্নমানের কর্মকর্তা হয়েও প্রধান নির্বাহীর মত উচ্চ মানের কর্মকর্তাকে হয়রানি ও হেনস্তার মধ্য দিয়ে বদলী করার কথা তুলে ধরে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেন।
সাংসদরা আরো উল্লেখ করেন যে, অনেকগুলো অভিযোগকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জসিমউদ্দিন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এক প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। ডিও লেটারে মাহাবুবর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা তার বিরুদ্ধে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদন্ত করার জন্য দাবি জানানো হয়। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ২০০৫ সালের ১৪ জুন বদলি আদেশ চ্যালেঞ্জ ও একই বছরের ১৯ আগস্ট চার সাংসদের উদ্দেশ্য প্রণোদিত ডিও লেটারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাহবুবর রহমান হাইকোর্টে -৬৯১৭/২০০৫ নং রিট পিটিশন দায়ের করেন। সেখানে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ভুইয়া মোঃ আতাউর রহমানের ২০০৩ সালের ১৭ জুনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে সাতক্ষীরা জেলা ন্যাপ এর সাধারণ সম্পাদক কাজী সাঈদুর রহমানের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর আদালত শুনানীন্তে উক্ত আদেশের উপর রুল জারী করেন এবং বদলী আদেশ স্থগিত করেন। স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় পরবর্তীতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ থেকে তাহার বেতন ভাতা এবং রীট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চাকুরীতে যাহাতে স্থিতিবস্থা বজায় থাকে সে জন্য তিনি ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর একটি আবেদনপত্র দাখিল করেন এবং তা’ মঞ্জুর হয়। যাহা পরবর্তীতে খারিজ হয়ে যায়।
এদিকে বদলী সংক্রান্ত একটি রীট পিটিশনের কার্যক্রম চালু থাকার পরও ২০০১ সালের ৮ মে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস,এম মাহবুবুর রহমানকে বগুড়া জেলা পরিষদে বদলী করেন। একটি বদলীর আদেশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের কার্যক্রম চালু থাকার পরও নতুন করে দেওয়া বদলি আদেশেকে চ্যালেঞ্জ করে এসএম মাহবুবর রহমান বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত না করে পুনরায় ৭৩৩৩/২০১৬ নং রিট পিটিশন দায়ের করেন। যা’ ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই খারিজ হয়ে যায়।
এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৮ আগষ্ট ‘গৃহ নির্মাণের তালিকা তৈরিতে দুর্নীতির অভিযোগ’ অনিয়ম সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে জলবায়ু ট্রাস্ট ফা-ের আওতায় গৃহণির্মাণের তালিকা তৈরিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট জেলা পরিষদের আওতাধীন এডিবি ও নিজস্ব অর্থায়নে মন্দির, মাদ্রাসা, স্কল ভবনসহ জেলায় এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি প্রতিষ্ঠান তৈরির জন্য উৎকোচের মাধ্যমে দরপত্র দলিল আহবানের ক্ষেত্রে তঞ্চকতা করেছেন মাহাবুবর রহমান। ফলে হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া দু’ শতাধিক ঠিকাদার দরপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি।
এ ব্যাপারে এসএম মাহাবুবর রহমানের কাছে বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানতে চাইলে তার ০১৭১১-৩৫২৭২০ মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাবির হলগুলোতে হয়রানি না করতে উপাচার্যকে অনুরোধ

হলগুলোতে কাউকে যেন হয়রানি করা না হয় সে দাবি জানিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এ দাবি জানায় তারা।

এ সময় কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে হলে থাকতে পারা, ক্যাম্পাস বহিরাগতমুক্ত করা, অতিরিক্ত যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে গেট করার দাবি জানায় কমিটির সদস্যরা।

কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে উপাচার্য তাদের আশ্বস্ত করেছেন। উপাচার্য তাদেরকে বহিরাগতমুক্ত করতে ব্যবস্থা নিবেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারী শনাক্ত করবেন বলেও আশ্বস্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে কেন্দ্রীয় কমিটি উপাচার্যের বাসায় হামলার ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুখ হাসান, নুরুল হক প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দাঁড়িয়ে গান না গাওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গায়িকাকে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানের লারকানা অঞ্চলের কানগা গ্রামে এক স্থানীয় শিল্পীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঞ্চে গান গাওয়া অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়। তিনি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

২৪ বছর বয়সী সামিনা সামুন নামের ওই গায়িকাকে ডাকা হয়েছিল স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্যে। তিনি সামিনা সিন্ধু নামেও পরিচিত। হত্যাকারীর নাম তারিক আহমেদ জাতোই। গায়িকার অপরাধ- বার বার অনুরোধের পরও তিনি দাঁড়িয়ে গান গাইছিলেন না। এ কারণেই তাকে গুলি করে তারিক।

ডনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তারিক সে সময় মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি গুলি করার আগে গায়িকাকে উত্যক্ত করছিলেন।

সামিনাকে দ্রুত চান্দকা হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু গুলির ক্ষত তিনি সামলে নিতে পারেননি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে গায়িকার স্বামী সাংবাদিকদের বলেন, তার স্ত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্বামীর দাবি, এখানে খুনি জোড়া খুন করেছেন। কারণ, কেবল তার স্ত্রীকেই নয়, সঙ্গে তার গর্ভের সন্তানকেও হত্যা করা হয়েছে।

অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঘুষসহ নৌ-পরিবহন অধিদফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আটক

হাতে-নাতে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষসহ নৌ-পরিবহন অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হককে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সেগুন হোটেল থেকে দুদকের উপ-পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি দল তাকে আটক করে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সিরিয়া-রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাট্টা যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানি-ফ্রান্স

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলের দৌমায় রাসায়নিক হামলার জেরে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সিরিয়া ইস্যুতে একই সুরে কথা বলছে, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র। দৌমায় রাসায়নিক হামলার অভিযোগ এনে যেকোনো মুহূর্তে সিরীয় ভূখণ্ডে নতুন ধরনের স্মার্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে রাশিয়াকে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যেকোনো মুহূর্তে সিরিয়ায় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। আর এতে সমর্থন রয়েছে ওই তিন দেশের।

এদিকে থেমে নেই রাশিয়াও। মস্কো বলছে, মিত্র বাশার আল আসাদের সমর্থনে যেকোনো ধরনের গুরুতর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পিছপা হবে না তারা।

দৌমায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে বিশ্বশক্তিগুলোর মাঝে চরম উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার মাঝে চলমান এই উত্তেজনায় যোগ দিয়েছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, তার কাছে প্রমাণ আছে যে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছেন।

ফরাসী এই প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের উপযুক্ত সময় অনুযায়ীই এর জবাব দেয়া হবে।

সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র আসছে; রাশিয়ার অন্যতম মিত্র প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে এমন হুমকি দেয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে আবারো টুইট করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এতে তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই বলি নাই, সিরিয়ায় ঠিক কখন হামলা চালানো হবে। তবে তা খুব শিগগিরই হতে পারে আবার শিগগিরই নাও হতে পারে।’

সিরিয়া শাসকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সমর্থনের ব্যাপারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল বলেছেন, ‘তার দেশ আগে থেকেই দাবি করে আসছে যে, সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্রভাণ্ডার নির্মূল করেনি এবং এটাই সত্যি।’

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপবিরোধীরা বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। হোয়াইট হাউস বলছে, গত শনিবার দৌমায় রাসায়নিক হামলার জন্য সিরিয়া শাসক ও তার মিত্র রাশিয়াকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা বলছেন, ওই হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে।

ট্রাম্পের টুইটের জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ‘স্মার্ট ক্ষেপণাস্ত্র সন্ত্রাসীদের দিকে ছুঁড়ে মারা উচিত, বৈধ (সিরিয়ার) সরকারের দিকে নয়; যে সরকার গত কয়েকবছর ধরে সিরীয় ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে।’

তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে সিরিয়া সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে তার দেশ এবং তারা দেশটির প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের মিত্র। সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলের ঘৌটার দৌমায় রাসায়নিক হামলার অভিযোগ মিথ্যা। এছাড়া সিরিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপট হিসেবে এটিকে ব্যবহার করা যেতে পারে না।

বুধবার রাশিয়া সমর্থিত জোটের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যারা মানুষকে মারছে এবং এটি উপভোগ করছে; তাদের মতো গ্যাস প্রয়োগকারী জানোয়ারদের অংশীদার হওয়া উচিত হবে না।

এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নাকচ করে দেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। হোয়াইট হাউস বলছে, সম্ভাব্য সব উপায় এখন টেবিলে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গুগল-ফেসবুক-ইউটিউবকে করের আওতায় আনার নির্দেশ

জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং ভিডিও দেখার জনপ্রিয় সাইট ইউটিউবসহ ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে করের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো বিগত ১০ বছরে কী পরিমাণ অর্থ আয় করেছে এবং এ বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত দায়ের করা রিটের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর গুগল, ফেসবুক, ইউটিউবসহ ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে করের আওতায় আনার নির্দেশ দেন আদালত।

গত সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের ছয়জন আইনজীবী। রিটে একই সঙ্গে ডোমেইন এবং লাইসেন্স ক্রয় বাবদ কত টাকা আয় করেন তারা এবং বাংলাদেশ সরকারকে কত টাকা কর দেন তাও জানতে চাওয়া হয়।

এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির নির্দেশনাও চাওয়া হয় রিটে।

রিটের বিবাদীরা হলেন- অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রথম আলোর সম্পাদক এবং বাংলাদেশ নিউজ পেপারস ওনারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিউর রহমানসহ, গুগল, ফেসবুক, ইয়াহু এবং ইউটিউব কর্তৃপক্ষ।

রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবিন পল্লব জানান, জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ভিডিও দেখার জনপ্রিয় সাইট ইউটিউবসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রিট আবেদনে ইন্টারনেটভিত্তিক সব প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনা, প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রস্তুত করা, প্রতিষ্ঠানগুলো কী পরিমাণ টাকা নিচ্ছে, তা দেখার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং সেই কমিটি দিয়ে বিগত ১০ বছরে কী পরিমাণ অর্থ নেয়া হয়েছে তা নির্ধারণ করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

রিট আবেদন করা আইনজীবীরা হলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউসার, অ্যাডভোকেট আবু জাফর মো. সালেহ, অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার বিশ্বাস, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের।

এর আগে ৭ এপ্রিল সার্চ ইঞ্জিন গুগল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনবিআরের চেয়ারম্যান, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সচিব, প্রথম আলোর সম্পাদক ও বাংলাদেশ নিউজ পেপারস ওনারস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতিকে এ নোটিশ পাঠানো হয়। এছাড়া গুগল, ফেসবুক, ইয়াহু ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষকেও নোটিশটি পাঠানো হয়। রিট সংশ্লিষ্ট ছয় আইনজীবী ওই নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয় ‘প্রযুক্তির যুগে গুগল, ফেসবুক এখন প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেখতে আগ্রহী। দিন দিন এর ব্যবহার বাড়ছে। বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও। এ সুযোগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে দেশ থেকে কোটি কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট বিশ্বের নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু সরকারকে এক টাকাও রাজস্ব দিচ্ছে না। প্রতি বছর কত টাকা বিজ্ঞাপন বাবদ বিদেশে পাচার হচ্ছে, তার সঠিক কোনও হিসাব নেই সরকারের কোনও প্রতিষ্ঠানের কাছে। কারণ, বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের অর্থ পরিশোধ করছে ক্রেডিট কার্ড ও অন্যান্য অনলাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে।’

নোটিশপ্রাপ্তদের কয়েকটি প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল। সেগুলো হলো গুগল, ইয়াহু, অ্যামাজন, ইউটিউব, ফেসবুককে দেওয়া সব বিল থেকে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য রাজস্ব কর কর্তন করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করাসহ রাজস্ব কর আদায়ের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারির অনুরোধ।

এছাড়া সরকারকে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করাসহ বিগত ১০ বছরে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব ওই ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পেতো সেই হিসাব করে সংশিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তা আদায়ের ব্যবস্থা করতে বলা হয় নোটিশে। পাশাপাশি গুগল, ইয়াহু, অ্যামাজন, ইউটিউব, ফেসবুককে তাদের গত ১০ বছরের বকেয়া রাজস্ব বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত পাঠানোর জন্যও নোটিশে বলা হয়।

পরে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে তাদের নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর জবাব দিতে হবে। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে।’

কিন্তু কোনও জবাব না পাওয়ায় আদালতে রিট দায়ের করা হলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোটা পদ্ধতি বাতিলের প্রজ্ঞাপন যথাসময়ে- জনপ্রশাসন সচিব

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের বিষয়ে যথাসময়েই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক খান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের বিষয়ে কথা বলেছেন। আমরা তাঁর বক্তব্য শুনেছি। এখন আমরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। নির্দেশনা পেলেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হবে।’

সব কোটাই বাতিল হবে কি না জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয়। তবে তিনি প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখার কথাও বলেছেন। প্রজ্ঞাপন জারির সময় সব বিষয়ই রাখা হবে।

কবে নাগাদ এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে—জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘অপেক্ষা করুন। যথাসময়েই প্রজ্ঞাপন জারি হবে।’

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে বলেন, ‘খুব দুঃখ লাগে দেখলাম, হঠাৎ কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন। এ আন্দোলনটা কী? সমস্ত লেখাপড়া বন্ধ করে রাস্তায় বসে থাকা। রাস্তার চলাচল বন্ধ করা। এমনকি হাসপাতালে রোগী যেতে পারছে না। কর্মস্থলে মানুষ যেতে পারছে না। লেখাপড়া বন্ধ। পরীক্ষা বন্ধ। এটা সমস্ত জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল।’ তিনি বলেন, ‘যখন চায় না, তাহলে দরকার কী? কোটা পদ্ধতিরই দরকার নাই। যারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা প্রতিবন্ধী, তাদের আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এটা (আন্দোলন) করছে, তারা অনেকে আমার নাতির বয়সী। তাদের কিসে মঙ্গল হবে-না হবে, আমরা কি তা কিছুই বুঝি না? তাদের কিসে ভালো হবে, আমরা তা জানি না?’

কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আজ সকালে চলমান আন্দোলন স্থগিত করেন সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পরিচালকদের ‘কুকীর্তি’ ফাঁস করলেন অভিনেত্রী

টলিউডের প্রযোজক থেকে পরিচালক কিংবা অভিনেতা, একের পর একের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ তথ্য প্রকাশ করেছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী শ্রী রেড্ডি। রেড্ডির তালিকা থেকে বাদ পড়েননি রানা দাগ্গুবতীর ভাই থেকে শুরু করে কোরাতলা শিবা কিংবা সুরেশ বাবু। দক্ষিণী প্রযোজক থেকে পরিচালক কিংবা অভিনেতাদের বিরুদ্ধে যেন বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছেন রেড্ডি। খবর জিনিউজের।

দক্ষিণী অভিনেত্রীর সেই বিস্ফোরণের তালিকায় যুক্ত হলো আরও বেশ কয়েকটি নাম। যার মধ্যে রয়েছেন গায়ক শ্রীরাম চন্দ্র ও পরিচালক শেখর কাম্মুলাও।

সম্প্রতি সুরেশ বাবুর ছেলে ‘বাহুবলী’ অভিনেতা রানা দগ্গুবতীর ভাই অভিরামের বিরুদ্ধে যেমন সরব হয়েছেন রেড্ডি, তেমনি পরিচালক কোরাতলা শিবার সেক্স চ্যাটও প্রকাশ করেছেন।

আর এবার প্রকাশ করলেন ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ খ্যাত শ্রীরাম চন্দ্রের কীর্তি। শ্রীরামের সঙ্গে শ্রী রেড্ডির কথোপকথন যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন থেকেই ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহল। শ্রী রেড্ডি যেন শ্রীরামকে তার ‘হট ছবি’ পাঠান সে বিষয়েও ওই চ্যাটে জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি শেখর কাম্মুলার বিরুদ্ধেও শ্রী রেড্ডি কাস্টিং কাউচের অভিযোগ এনেছেন। রেড্ডির বিস্ফোরণের পর শেখর কাম্মুলা কীভাবে তাকে ‘হুমকি’ দিয়েছেন সেই কথাও প্রকাশ করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ যাতে শেখর কাম্মুলা প্রত্যাহার করে নেন, সে বিষয়েও দক্ষিণী অভিনেত্রীকে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে দেখা যায়।

তেলুগু পরিচালক-প্রযোজক কোনা ভেঙ্কটের বিরুদ্ধেও ক্ষেপেছেন শ্রী রেড্ডি। কোনা ভেঙ্কট একসময় তাকে গেস্ট হাউজে দেখা করতে বলেন। এবং ওই গেস্ট হাউজেই ভি ভি ভেঙ্কটের সঙ্গে শ্রী রেড্ডির দেখা করিয়ে দেবেন বলেও আশ্বাস দেন। ওই গেস্ট হাউসেই শ্রী রেড্ডির সঙ্গে অশ্লীল ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও রেড্ডির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পরিচালক-প্রযোজক কোনা ভেঙ্কট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest