সর্বশেষ সংবাদ-
  সাতক্ষীরায় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ২০ গ্রামের মানুষের ঈদ উল ফিতর উদযাপনসাতক্ষীরায় শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্রসদরঘাটের মৃত্যু: দুর্ঘটনা নয়-এক নির্মম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবিসাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের কমিটি গঠন: সামাদ সভাপতি, রাজীব সম্পাদককালিগঞ্জে চোরাই ভ্যানসহ আটক-০৩মোটরসাইকেলের জ্বালানি সংকটে ঈদযাত্রা ব্যাহত : বিপাকে বাইকাররাকলারোয়ায় ২৫০ অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণসাতক্ষীরায় নির্যাতিত মোটর শ্রমিক একতা ঐক্যের পরিচিতি সভাসাতক্ষীরা জেলা রোভার স্কাউটস এর ঈদ সামগ্রী বিতরণসাতক্ষীরা সদরে ৫ হাজার ৭শ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও শাড়ি বিতরণ

বিশ্ব ক্রীড়া দিবস আজ

বিশ্ব ক্রীড়া দিবস আজ

কর্তৃক Daily Satkhira

বিশ্ব ক্রীড়া দিবস আজ (শুক্রবার)। বরাবরের মতো এবারও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ‘ক্রীড়ায় শান্তির সমাবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশ’ প্রাতিপাদ্য নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সকল ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক, পৃষ্ঠপোষকসহ ক্রীড়াঙ্গনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।

অপর এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খেলাধুলা একটি শিল্প। খেলাধুলার মূল কথাই হলো প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করা। সুস্থ-সবল দেহ-মন এবং দেশ ও জাতির প্রতি ভালবাসা তৈরিতে খেলাধুলা অপরিহার্য। খেলাধুলা শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, দায়িত্বজ্ঞান, কর্তব্যপরায়ণতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়ানুরাগীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং আনন্দ প্রকাশ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আয়োজিত র‌্যালিটি সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ১নং গেইট থেকে শুরু হয়ে তা জিপিও, শিক্ষা ভবন, জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে এনএসসি টাওয়ারে শেষ হয়। এরপর সকাল ৮টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শিরোপা আবাহনীরই

শিরোপা আবাহনীরই

কর্তৃক Daily Satkhira

লং অন থেকে ওয়াইডিশ মিড উইকেটে দৌড়ে গিয়ে বদলি ফিল্ডার সাইফ হাসানের নেওয়া দুর্দান্ত ক্যাচে গেলেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের আশার সলতে জ্বালিয়ে রাখা মুশফিকুর রহিম। আর সঙ্গে সঙ্গেই আগাম শিরোপা উদ্‌যাপন শুরু হয়ে গেল বাদ্য-বাজনা নিয়ে অপেক্ষায় থাকা আবাহনী সমর্থকদেরও। একটু পরে দেখা গেল ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের ট্রফিও গিয়ে পৌঁছেছে বিকেএসপির মাঠে। ততক্ষণে মিরপুরে খেলাঘরের কাছে শেখ জামাল ধানমণ্ডির হারে যদিও তাদের শিরোপা উৎসব ভণ্ডুল হওয়ার সুযোগ ছিল না। তবু জিতে উদ্‌যাপনের মহিমাই আলাদা। চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিকের বিদায়ের পর আর কেউ তাদের জয় অনিশ্চিত করেও তুলতে পারেনি। ৯৪ রানের জয়ে তাই ১৯তম লিগ শিরোপার বল্গাহীন উৎসব করতে করতেই ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পেরেছে আবাহনী। যে শিরোপা জয়ে আছে অনেক প্রশ্নও। শেষ ম্যাচে বড় জয় নিয়ে হয়তো কথা বলার কিছু নেই, কিন্তু এ পর্যন্ত আসতে আবাহনী খেলেছে অনেকগুলো সন্দেহজনক ম্যাচ। আর তাই এই শিরোপা জয় আবাহনীকে কতটা গর্বিত করল, তা নিয়ে সন্দিহান দেশের ক্রিকেট মহল।

এই মাঠে খেলা নিজেদের সবশেষ ম্যাচে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ ৩৯৩ রানের রেকর্ড গড়েছিল আবাহনী। কাল করল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭৪ রান। দোলেশ্বরের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে ২৩৬ রানের নতুন রেকর্ড গড়ার পথে সেঞ্চুরি করেছিলেন দুই ওপেনারই—এনামুল হক (বিজয়) ও নাজমুল হোসেন (শান্ত)। এদিন একই রকম হলো না কিন্তু মাত্র ১২ ওভারেই ৯২ রানের জুটিতে শুরুর ছন্দটা ধরা হয়ে যায় আবাহনীর। ৫১ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় খেলে যাওয়া ৫৭ রানের যে ছন্দ ধরে দেওয়া ইনিংসের জন্য তাই দিনের শেষে মাশরাফি বিন মর্তুজার অকুণ্ঠ প্রশংসাও পেলেন এনামুল, ‘সবাই হয়তো দুটি সেঞ্চুরির কথাই বলবে, কিন্তু আমার কাছে এনামুলের ইনিংসটিও কম মূল্যবান নয়।’
নাজমুলের মতো সেঞ্চুরি দেখা দিয়েছে আবাহনী অধিনায়ক নাসির হোসেনের ব্যাটেও। তবে নাজমুলের এই মাঠে টানা দ্বিতীয় এবং লিগে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরিটা যদি হয়ে থাকে নিশ্ছিদ্র, তাহলে এই আসরে নাসিরের প্রথম সেঞ্চুরি বহুবার জীবন ফিরে পাওয়ার গল্পে লেখা। ২৭ রানে মিড উইকেটে তাঁর লোপ্পা ক্যাচ ফেলেছেন আশিকুজ্জামান। কঠিন হলেও নাসিরের রিটার্ন ক্যাচ নেওয়া অসম্ভব ছিল না রূপগঞ্জ অধিনায়ক নাঈম ইসলামের জন্যও। ফিফটির পর নাসিরের নিশ্চিত ক্যাচকে ছক্কা বানিয়েছেন মোশাররফ হোসেনও। প্রতিপক্ষের জঘন্য ক্যাচিং আর বাজে ফিল্ডিংয়ে নাসিরও পেয়ে যান পাল্টা আক্রমণে ছিন্নভিন্ন করার পথ। তা করেনও। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে ৭৯ বলে নাজমুলের আগেই পৌঁছে যান সেঞ্চুরিতে। একই ওভারে (৪২) নাজমুল তিন অঙ্কে যান ৯৭ বলে। দুজনের ১৮৭ রানের চতুর্থ উইকেট পার্টনারশিপে অবশ্য নাসিরের একারই ৯১ বলে ১২৯ রান। তুলনায় রয়েসয়ে খেলা নাজমুলের ইনিংসটি ১০৭ বলে ১১৩ রানের। এই আসরে চার সেঞ্চুরিতে লিগ সর্বোচ্চ ৭৪৪ রান করা নাজমুলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎও এখান থেকেই দেখলেন মাশরাফি, ‘এই ছেলেটা লম্বা রেসের ঘোড়া হবে।’দলের ইনিংস লম্বা করায় ব্যাট দাগলেন মাশরাফি নিজেও। ৮ বলে ৪ ছক্কায় অপরাজিত ২৮ রান। এর মধ্যে তিনটিই মেরেছেন শেষ ওভারে তরুণ পেসার আশিককে। তাতে ৩৭৪ করেও নির্ভার হওয়ার উপায় ছিল না, কারণ দোলেশ্বর প্রায় ৪০০ তাড়া করেও বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বৃষ্টি আইনে এগিয়ে ছিল ১ রানে। তাই স্কোরবোর্ডে কোনো রান জমা হওয়ার আগেই রূপগঞ্জ ওপেনার আব্দুল মজিদ কিংবা ৪১ রানে অভিষেক মিত্রকে অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরানোর পরও ঢিলেঢালা হওয়ার সুযোগ ছিল না আবাহনীর। তা যে ছিল না, সেটি মোহাম্মদ নাঈম শেখকে (৫৪ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৭০ রান) নিয়ে মুশফিকের (৬৬ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৬৭ রান) ৯১ রানের পার্টনারশিপই বোঝাচ্ছিল। অফস্পিনে দুজনকেই তুলে নেওয়া নাসিরকে তাই ম্যাচ সেরার পুরস্কার দেওয়া ছাড়া উপায়ও ছিল না। মুশফিকের বিদায়ের পর লড়াইয়ে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া রূপগঞ্জ অধিনায়ক নাঈমও (৬৮ বলে ৭৬) যথাসাধ্য দলকে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে দল যে ৩৭৪ তাড়ার শক্তি হারিয়েছে মুশফিক যাওয়ার পরপরই। এরপর ছিল উৎসবের অপেক্ষা। আবাহনী সমর্থকরা যখন সেটি করছেন, তখন মাশরাফি এসে সংবাদমাধ্যমকে বলে গেলেন, ‘আমার যখন অভিষেক হয়, তখন ঢাকার লিগ দারুণ জমজমাট ছিল। এবারও দারুণ জমজমাট হলো আসরটি। কাগজ-কলমে আমরা সেরা দল হয়েও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
টাটকা মাছ চিনবেন যেভাবে

মাছ কিনতে গেলে ঠকে যান এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। অনেক সাবধানতা অবলম্বন করে মাছ কিনে বাসায় নেওয়ার পর দেখা যায় মাছটা পঁচা। কিন্তু যদি জানা থাকে তাজা মাছ চেনার উপায়, তাহলে ঠকে যাওয়ার আশঙ্কাটা থাকে না। তাই জেনে নিন টাটকা মাছ কেনার কয়েকটি টিপস—

১. মাছ হাতে নিলে যদি পিছলে যায় তাহলে বুঝবেন মাছটি টাটকা।

২. মাছের চোখ ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। চোখ যদি ভিতরদিকে বসে যায় তবে সেটি টাটকা নয়। কেননা টাটকা মাছের চোখ কখনও ঘোলাটে হয় না, আর খানিকটা বাইরের দিকে বের হয়ে থাকে।

৩. ছোট মাছের পেট ফাঁক করে যদি দেখেন ভিতরের পটকাটি লাল ও ভেজা, তাহলে বুঝবেন তাজা মাছ। পুরনো মাছের পেটের ভেরতটা শুকনো হয়।

৪. কেউ কেউ মাছের পেটি কিনে থাকেন। অল্প চাপ দিয়ে দেখুন, যদি কাঁটা থেকে মাছটি আলাদা হয়ে যায় তবে জানবেন সেটি টাটকা মাছ নয়।

৫. চিংড়ি মাছ হাতে নিতে গেলে সহজেই মাথা ভেঙে যায় কিনা দেখুন। যদি তা হয় তাহলে বুঝবেন মাছ টাটকা নয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কেনিয়ার ক্রিকেট বোর্ড বিলুপ্ত ঘোষণা

অর্থনৈতিক টানাপড়েন আগেই ছিল কেনিয়ার ক্রিকেটে।  তার ওপর যোগ হয়েছে পারফরম্যান্সের দীনতা।  এক সময় বিশ্ব আসরে নিজেদের চেনানো সেই দেশটির ক্রিকেট বোর্ডই এখন বেহাল অবস্থায়।  তাই কেনিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

সবশেষ ঘটনার সূত্রপাত ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটের পর। ফেব্রুয়ারিতে বাজে পারফরম্যান্স ছিল কেনিয়ার। অবনমন হওয়ায় চলে গেছে তৃতীয় বিভাগে! তাতেই একে একে পদত্যাগের মিছিল চলে কেনিয়া ক্রিকেটে। পদত্যাগ করেছেন বোর্ড প্রধান, হেড কোচ ও অধিনায়ক।

গত সপ্তাহে নতুন করে সব কিছু ঢেলে সাজাতে নির্বাচন হওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু তাতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন সাবেক কিছু খেলোয়াড়। তাদের দাবি এই বোর্ডের ফান্ডের অপব্যবহারের তদন্ত করতে হবে। এই অবস্থায় কেনিয়া ক্রিকেটের সার্বিক চালচিত্র নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তাই আইসিসি খুব শিগগিরই এ নিয়ে বিবৃতি দেবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মারা গেছেন মডেল তিয়াশা

চলে গেলেন তিয়াসা। পাঁচদিন ধরে অনেক চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হল এসএসকেএম -এর চিকিৎসকদের। মৃত্যু হলো কলকাতার উঠতি মডেল তিয়াসা মজুমদারের।

গত ১ এপ্রিল বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যান তিয়াসা। পরিবারের একাংশের দাবি, তিনি মানসিক অবসাদে ভুগে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্থানান্তরিত করা হয় এসএসকেএম-এ । গত কয়েকদিনে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু লাভ হয়নি। আজ মৃত্যু হয় তাঁর।

দীর্ঘদিন ধরে মডেলিং ক্যারিয়ার নিয়ে অবসাদে ভুগছিলেন তিয়াসা। পেশাগত দিক থেকে সাফল্য আসছিল না। অভিযোগ, প্রায়ই বাড়িতে চিৎকার চেঁচামেচি করতেন। কয়েক মাস ধরে স্নায়বিক রোগের চিকিৎসাও চলছিল তাঁর।

হাসপাতালে থাকা অবস্থায় পুলিশ বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর শুরু করলেও, তিয়াশার কোনও বয়ান পায়নি। এখন পরিবার ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল ঘটনার সন্ধানে পুলিশ। দক্ষিণ কলকাতার একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন উঠতি মডেল তিয়াশা মজুমদার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৯ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণ

আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল ২০০৯ সালের ৬ জুন। সেই বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। এরপর প্রতিবছরই দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১৯ মার্চে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হলো ১০ হাজার ৮৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ৯ বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পার্থক্য ছয় হাজার ৮১৬ মেগাওয়াট।
এ দুই সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনামূলক চিত্রই বলে দিচ্ছে বিদ্যুৎখাতের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে দেশজুড়ে কমে গেছে লোডশেডিং দুর্বিষহ যন্ত্রণা। যদিও মাঝে মধ্যে বিতরণ ত্রুটিতে ভুগছেন গ্রাহক। তবে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার আর নেই। রাজধানীর সব এলাকায় যেখানে প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং হতো, সেই অবস্থা অনেক এখন অনেক সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। শিল্পের মারাত্মক সংকটও আর নেই। গত কয়েক বছর ধরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক বলেই মত সংশ্লিষ্টদের।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নের আরও জায়গা রয়েছে। গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোড ম্যানেজমেন্ট করতে হয়। তবে এ বছরের যে প্রক্ষেপণ তাতে বলা হচ্ছে, বিগত বছরের মতো বিদ্যুৎ আর ভোগাবে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সঙ্গে স্বল্প উৎপাদন ব্যয় যোগ করে টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দেন তারা।
আসছে গ্রীষ্মের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘চাহিদার ওপর নির্ভর করে আমরা উৎপাদন বৃদ্ধি করছি। এপ্রিলে ৮০০ মেগাওয়াটের তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। এছাড়া একই সময়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আসলে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে কমপক্ষে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’ এতে করে গ্রীষ্মে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পিডিবির ওয়েব সাইট বলছে,গত ১৫ মার্চে দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৭১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ১৮ নভেম্বর বিদ্যুৎ উৎপাদন ওই বছরের সর্বোচ্চ ছিল—৯ হাজার ১১ মেগাওয়াট। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের ৩০ জুন সাত হাজার ৪৮৫ মেগাওয়াট সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে।
সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের প্রতিটি ঘরে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ করা হবে ২০২১ সাল নাগাদ। এ জন্য বিদ্যুতের উৎপাদন যা-ই হোক না কেন প্রতিমাসেই নতুন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এভাবে প্রতিমাসে নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ায় সংকট সৃষ্টি হলেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন,‘সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে সরকার কাজ করছে। কেউ বিদ্যুৎ পাবেন আর কেউ পাবেন না— এটা হতে পারে না। এজন্য উপজেলাভিত্তিক শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘দ্রুত চাহিদা বাড়ছে। শহরে বিদ্যুৎ চাহিদার গড় প্রবৃদ্ধি ২০ ভাগের কাছাকাছি। সরকার চাহিদা মাথায় রেখে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে।’
পরিসংখ্যান বলছে, বিগত নয় বছরে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নতুন ৮৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আর এ সময়ে অবসরে গেছে মাত্র তিনটি কেন্দ্র। ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭টি আর এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১১২টি।
পাওয়ার সেল গত মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) যে হিসাব দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ছিল চার হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। এখন ক্যাপটিভসহ যা ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। ওই সময় বিদ্যুতের সুবিধা পেতো ৪৭ ভাগ জনগণ। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ ভাগে।
পিডিবি সূত্র বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই নতুন কেন্দ্র উৎপাদনে এসেছে। ২০০৯ সালে মোট ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেগুলোর মোট ক্ষমতা ৩৫৬ মেগাওয়াট। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়, যেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ৭৭৫ মেগাওয়াট। একইভাবে ২০১১ সালে এক হাজার ৭৬৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২২টি, ২০১২ সালে ৯৫১ মেগাওয়াটের ১১টি, ২০১৩ সালে ৬৬৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার পাঁচটি,২০১৪ সালে ৬৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সাতটি, ২০১৫ সালে এক হাজার ৩৫৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার সাতটি, ২০১৬ সালে এক হাজার ১৩২ মেগাওয়াট ক্ষমতার আটটি এবং গত বছর এক হাজার ১৮৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট, ২০১৬ সালে ১০০ মেগাওয়াট এবং গত বছর আরও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করা হয়েছে।
উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গত ৯ বছরে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনও বেড়েছে। ২০০৯ সালে মোট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ছিল আট হাজার কিলোমিটার। এখন যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬৮০ কিলোমিটারে।
গ্রিড সাবস্টেশনের ক্ষমতা ছিল ২০০৯ সালে ১৫ হাজার ৮৭০ এমভিএ। এখন যার পরিমাণ ৩০ হাজার ৯৯৩ এমভিএ। নতুন নতুন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করায় ব্যাপকভাবে বিতরণ লাইন বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৯ বছরে এক লাখ ৮০ হাজার কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৯ সালে বিতরণ লাইন ছিল দুই লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার, এখন যা বেড়ে চার লাখ ৪০ হাজার কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ কিলোওয়াট ঘণ্টা থেকে বেড়ে ৪৩৩ কিলোওয়াট ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে। সাধারণ গ্রাহকের সংখ্যা এক কোটি আট লাখ থেকে বেড়ে দুই কোটি ৮৭ লাখে দাঁড়িয়েছে। কৃষিকাজে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণও বেড়েছে। ২০০৯ সালে দুই লাখ ৩৪ হাজার সেচ পাম্প বিদ্যুতে চলতো, এখন যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৬১ হাজারে।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন,‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ খাতের সত্যিই আমূল পরিবর্তন হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল খুবই কার্যকর।’
তিনি বলেন, ‘আগে যেখানে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যেতো, সেখানে এখন বৈদ্যুতিক ত্রুটি ছাড়া বিদ্যুৎ যায় না বললেই চলে।’ ড. ইজাজ বলেন, সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সে তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যেসব বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে সেগুলো দ্রুত না আনা গেলে বিদ্যুতের দাম বাড়তেই থাকবে। তাই দ্রুত বড় ও সাশ্রয়ী জ্বালানির কেন্দ্র উৎপাদনে আসা দরকার বলে মত দেন তিনি।
২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এসেছে সেগুলোর মধ্যে সরকারি খাত থেকে এসেছে ৩২টি। এগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা চার হাজার ৬০৬ মেগাওয়াট। বেসরকারি খাত থেকে এসেছে ৫৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র; এসব কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা চার হাজার ২১৩ মেগাওয়াট।
সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ এসেছে সাশ্রয়ী জ্বালানি গ্যাস থেকে অর্থাৎ গ্যাসভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্র থেকে। এর পরিমাণ পাঁচ হাজার ১৪৬ মেগাওয়াট। অন্যদিকে, প্রায় তিন হাজার ৬৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে, যা ব্যয়বহুল। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেও সরকারের উদ্যোগ আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। বর্তমানে তিন মেগাওয়াটের একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। খুব শিগগির আরও কিছু কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়।
এ প্রসঙ্গে সাবেক বিদ্যুৎ সচিব এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন বিষয়ক সরকারের মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সরকার দেশের সব মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে বদ্ধপরিকর। তার জন্য যেসব পরিকল্পনা করা দরকার, তার সবই বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সময়মতো যাতে সবগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসে, সে বিষয়ে সবাইকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।’
সরকার ২০২১ সাল পর্যন্ত নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনে আনার পরিকল্পনা করেছে। সে অনুযায়ী এ বছর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে চার হাজার ৬৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। একইভাবে ২০১৯ সালে চার হাজার ৮৩৩, ২০২০ সালে চার হাজার ৭২ এবং ২০২১ সালে তিন হাজার ৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা। এ চার বছরে যুক্ত হওয়া বিদ্যুতের মধ্যে সরকারি খাত থেকে আসবে আট হাজার ২৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং বেসরকারি খাত থেকে সাত হাজার ৪৯৫ মেগাওয়াট।
পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ বলেন,‘বর্তমান সরকার ক্ষমতার আসার পর বিদ্যুতের যে মহাপরিকল্পনা করেছে তাতে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের মানুষ শত ভাগ বিদ্যুৎ পাবেন।’ তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের উৎপাদন যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে চাহিদাও। সে চাহিদা পূরণে সরকারও বদ্ধপরিকর। মহাপরিকল্পনার স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এবার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পালা। সেখানে আছে বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র।’
খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ বছর বেশ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। বর্তমানে মাতারাবাড়ি, রামপাল ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট করে।’
সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েকটি বড় কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এখন পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া বড় কেন্দ্রের সবগুলোই কয়লাচালিত। এ কাজে সব থেকে এগিয়ে রয়েছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ কেন্দ্রের ৪০ ভাগের মতো কাজ শেষ হয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাইলিংয়ের কাজ চলছে এখন। এছাড়া মাতারবাড়ির কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ক্রমশ ভয়ংকার হয়ে উঠছে লন্ডন : ১২৩ দিনে ৫০ খুন

ক্রমেই ভয়ংকর নগরী হয়ে উঠছে লন্ডন। দ্রুত বেড়ে চলছে খুনের ঘটনা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১২৩ দিনের ভেতরে লন্ডনে ৫০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে গতকাল বুধবার পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনিতে। রাত প্রায় ৮টার দিকে পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনিতে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ ‍নিহত হয়েছেন ছুরিকাঘাতে। হ্যাকনির লিঙ্ক স্ট্রিটে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার প্রায় ২৫ মিনিট পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে সোমবার রাতে ওয়ালথামস্টোতে গুলিবিদ্ধ এবং ছুরিকাহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ বছরের কিশোর আমান শাকুর পরদিন মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। আমান শাকুর লেইটনের বাসিন্দা ছিল। তার মুখে গুলি লেগেছিল। তার সঙ্গে ১৫ বছরের আরেক কিশোর আহত হয়েছিল। আমান গুলিবিদ্ধ হবার কিছু আগে টটেনহ্যামে গুলিবিদ্ধ হয়ে তানিশা নামে ১৭ বছরের আরেক কিশোরী নিহত হয়।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের ১২৩ দিনের ভেতরে লন্ডনে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ৩৪ জন। বাকি সাতজন নিহত হন গুলিবিদ্ধ হয়ে। নিহতের মধ্যে ১০ জনই উঠতি বয়সের। নিহত বাকি সবার বয়স ৪০ বছরের ভেতরে। তবে বেশির ভাগ নিহতের বয়স ৩৭ বছরের ভেতরে এবং তারা সবাই পুরুষ। জানুয়ারি থেকে সবচাইতে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে হ্যারিঙ্গে কাউন্সিলে। বাকি সবাই লন্ডনের অন্যান্য স্থানে নিহত হয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, বরং ধর্ম পালনের স্বাধীনতা। আর ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের কাছে তুলে ধরতেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ৯টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধনের সময় দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই শান্তি যেন বজায় থাকে সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি। এদেশে অনেক ধর্মের মানুষ বাস করে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষই এদেশে স্বাধীনভাবে তার নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে। এর নামই ধর্মনিরপেক্ষতা। এটাই ছিল জাতির পিতার চেতনা এবং চিন্তা।

মডেল মসজিদ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ৯টি জেলা-উপজেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রাথমিকভাবে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঝালকাঠি, খুলনা, বগুড়া, নোয়াখালী এবং রংপুরে এই মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এই ধর্মের প্রচার ও প্রসারে জাতির পিতা আরও অনেক কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, ইসলামের নাম নিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে ধর্মের মূল শিক্ষা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেয়া এবং নিরীহ মানুষ হত্যা করে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের এই পবিত্র ধর্মের সুনাম নষ্ট করা হচ্ছে। আমরা চাই, ধর্মের মর্যাদা সমুন্নত থাকুক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু এই দেশটা তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন। তিনি চেয়েছিলেন এই দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলতে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে সে পথে যাত্রাও শুরু করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা সম্পন্ন করতে পারেননি। কারণ ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপরেই বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে।’

‘ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাটা যেন মানুষ পায় এবং ইসলামী সংস্কৃতি মানুষ যেন ভালভাবে রপ্ত করতে পারে, চর্চা করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিটি জেলায়-উপজেলায় আমরা ৫৬০টি মডেল মসজিদ তৈরি করে দেব। যেখানে সত্যিকারভাবে ইসলাম ধর্মের চর্চা হবে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি রাজস্ব খাতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তার সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। বলেন, আগে তাদের জন্য (ইমাম-মুয়াজ্জিনদের) কোন ব্যবস্থা ছিল না। আমি প্রথমবার যখন প্রধানমন্ত্রী হই সেসময় ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট ফান্ড করে দেই।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে বেতারে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ভাষণের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমরা ইনসাফের ইসলামে বিশ্বাসী। আমাদের ইসলাম হযরত নবী করিম (সা:) ইসলাম। যে ইসলাম জগতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে- ন্যায় ও সুবিচারের মন্ত্র। আমরা সেটাই বিশ্বাস করি এবং আমাদের ধর্মের সেই মর্যাদাটা সমুন্নত থাকুক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশে কোন সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ও মাদক থাকবে না। প্রতিটি মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। তাঁদের আর্থসামাজিক উন্নতি হবে এবং বাংলাদেশ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠবে। দেশ যেন সব দিক থেকে উন্নত হয়, আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনা করে তিনি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সবসময় চেষ্টা করি আমাদের পবিত্র ধর্ম সম্পর্কে মানুষ যেন জানতে পারে এবং ধর্ম পালনে আরও উৎসাহিত হতে পারে। তারা ধর্মচর্চাটা যেন করে এবং বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে পারি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest