ফুটবল সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশ নিহত!

খেলা নিয়ে সমর্থকদের মারামারি থেকে প্রাণহানির ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সামান্য খেলার জন্য এমন ভয়াবহ ঘটনা কোনোক্রমেই আটকানো যাচ্ছে না। অনেক প্রচার প্রচারণা আর কঠোর আইনের পরেও দর্শকরা উন্মাদ হয়ে উঠছে প্রায়ই। বৃহস্পতিবার ইউরোপা লিগে অ্যাটলেটিকো বিলবাও আর স্পার্তাক মস্কোর মধ্যকার ম্যাচের আগে ঘটে গেল ভয়ানক ঘটনা। প্রাণ গেল এক পুলিশ কর্মকর্তার।

বৃহস্পতিবার রাতে আতলেটিক বিলবাও ও স্পার্তাক মস্কোর দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে মাঠের খেলা শুরু হওয়ার কিছু আগে এই ঘটনা ঘটে। আগেই থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল স্পেনে দ্বিতীয় লেগকে সামনে রেখে রাশিয়ান চরমপন্থী সমর্থকরা বিপদ ঘটাতে পারেন। সেই আশংকাই অবশেষে সত্য হলো। ম্যাচ শুরুর আগেই স্টেডিয়ামের বাইরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের সমর্থকরা।

রাশিয়ার একশর বেশি সমর্থক টিকিট ছাড়াই স্পেনে আসার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ট্রাভেল অর্ডার না মেনেই স্পেনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ২০০ জনের একটি রাশিয়ান চরমপন্থী দল প্লাজা মুয়োয়ার সামনে অবস্থান নেয়। সেখান থেকেই প্রথম প্রতিপক্ষ সমর্থকদের উপর আক্রমণ চালানো হয় বলে জানা যায়।

এর আগে গত সপ্তাহে রাশিয়ায় প্রথম লেগে স্পাতার্ক মস্কোর বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় পায় বিলবাও। তখন থেকেই ফিরতি লেগের ম্যাচে সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছিল। সেই সংঘর্ষ থামাতে এগিয়ে আসে পুলিশ। প্রায় ৭ শতাধিক পুলিশ একযোগে দাঙ্গাবাজদের এলাকাছাড়া করার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে রাশিয়া এবং স্পেনের সমর্থকরা একে অপরের দিকে বোতল, গ্লাস আর মশাল ছুঁড়ে মারতে থাকে।

একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করতে শুরু করে পুলিশ। এতে দুই দলের সমর্থকদের সব রাগ গিয়ে পড়ে পুলিশের ওপর। তীব্র সংঘর্ষের এক পর্যায়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান এক পুলিশ কর্মকর্তা। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জানা গেছে, তার মাথায় চরমপন্থীদের ছুঁড়ে দেয়া কিছু একটা আঘাত করেছিল।

বাইরে মারামারি চললেও মাঠের ভেতর ম্যাচটি ঠিকভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেও বিদায় নিয়েছে স্পার্তাক মস্কো। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ ব্যবধানের জয়ের সুবাদে শেষ ষোলোর টিকিট পেয়ে গেছে আতলেটিক বিলবাও।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কে.এম রেজাউল করিম, দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ সাতক্ষীরা জেলার ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হওয়া সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরষ্কার প্রদান করেন শুভেচ্ছা সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন, জেলা প্রশাসকের সহধর্মীনি মিসেস সেলিনা আফরোজ সহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সুধীমন্ডলী উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ ইনোভেশন ক্যাটাগরিতে জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত হন।

এই সম্মান পাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলা হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে দেবহাটা উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ইউএনওকে তার অফিস কক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। এসময় সাতক্ষীরা জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি ও দৈনিক বজ্রশক্তি পত্রিকার খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান শেখ মনিরুল ইসলাম, হেযবুত তওহীদের দেবহাটা উপজেলা সভাপতি মফিজুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক মোসলেম আলী প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় পুলিশের অভিযানে জামায়াতের ২ কর্মীসহ আটক ৪৪

আসাদুজ্জামান: বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মামলার রায় পরবর্তী নাশকতা এড়াতে সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে জামায়াতের দুই কর্মীসহ ৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে, সাতক্ষীরা থানা থেকে ১৬ জন, কলারোয়া থানা থেকে ৪ জন, তালা থানা ২ জন, কালিগঞ্জ থানা ৫ জন, শ্যামনগর থানা ৭ জন, আশাশুনি থানা ৪ জন, দেবহাটা থানা ২ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মিয়ানমার জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ইইউয়ের

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় দেশটির জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যেসব জেনারেলের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা আনা হবে তাদের নামের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধানকে আগামী সপ্তাহেই অনুরোধ জানানো হবে। একই সঙ্গে আগামী জুলাইতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানের ঘটনায় কম্বোডিয়ার ওপরও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।

ইইউয়ের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বৃহস্পতিবার এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় অতি দ্রুত সেসব প্রস্তাব সামনে আনতে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান মোঘেরিনিকে আহ্বান জানাবেন ইউরোপীয় দেশগুলোর মন্ত্রীরা।

শুক্রবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, কম্বোডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হতে পারে। চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করা হবে। কম্বোডিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যর বিষয়গুলোও আরো পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার জার্মানি জানিয়েছে, তারা কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন, ঊচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তা এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্টসহ সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসা স্থগিত করেছে।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের অত্যাচার, নির্যাতনের ঘটনায় নতুন করে মিয়ানমার জেনারেলদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি বা তাদের সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা হবে মিয়ানমারের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোরতম পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা অনেক আগেই মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।

নব্বইয়ের দশক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইইউ। ওই নিষেধাজ্ঞা এখনও জারি রয়েছে। কীভাবে তা আরও জোরদার করা যায় সে বিষয়ে সোমবার মোঘেরিনি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র দপ্তরকে আহ্বান জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

পাখির আঘাতের কারণে বিমান আটকে যাওয়ার ঘটনা আছে অনেক কিন্তু মশার কারণে ফ্লাইট বিলম্ব- বিশ্বে হয়তো প্রথম ঘটনা এটি। অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার রাতে এমন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে অসংখ্য মশা ঢুকে পড়ায় যাত্রীরা চেঁচামেচি ও হট্টগোল শুরু করেন। মশার উৎপাতে রাত দেড়টায় চলন্ত ফ্লাইটটিকে রানওয়ের মুখে থামিয়ে দিতে বাধ্য হন পাইলট। পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা চলে মশক নিধন অভিযান।

এ সময় যাত্রীদের সবাইকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ফ্লাইটের যাত্রী সোহেল। সোহেল জানান, শাহজালালের রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে এই ঘটনা ঘটে। বিমানের ভেতরে অসংখ্য মশা ঢুকে পড়ায় যাত্রীরা চেঁচামেচি ও হট্টগোল শুরু করেন। এক ঘণ্টার মধ্যে বিমানের ভেতর ও রানওয়েতে মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ। পরে রাত আড়াইটায় ফ্লাইটটি আকাশে ওড়ে।

বিমানবন্দরের একটি সূত্রে জানা গেছে, মশার উৎপাতের কারণে ফ্লাইট আটকে যাওয়ার ঘটনা বিশ্বে এটিই হয়তো প্রথম। তবে শাহজালালে মশার উৎপাত নতুন নয়। ফ্লাইটে ওঠার পর যাত্রীরা মশার কামড়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রায়ই। বিদেশিরাও বিরক্তি প্রকাশ করে থাকেন। বিমানবন্দরের ভেতরে-বাইরে তো কথাই নেই। লাগেজ বেল্টে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তির সাথে যোগ হয়েছে মশার কামড়।

বিমানবন্দরের দুরাবস্থার কথা স্বীকার করে আক্ষেপের সঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, এমন ঘটনায় দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। কিন্তু চেষ্টা করেও মশার কাছে আমাদের হার মানতে হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার ফিংড়ীর বালিথায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে এক কৃষকের করুন মৃত্যু হয়েছে। নিহত কৃষক বালিথা এলাকার মৃত. মোহাম্মাদ আলীর ছেলে আলাউদ্দিন (৪৫)। শুক্রবার সকাল ১০টায় ফিংড়ী ইউনিয়নের বালিথা বিলে এঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার সকালে আলাউদ্দিন বিলের বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পে সংযোগ দিতে যায়। এসময় তিনি শর্ট সার্কিটের কারণে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন। বিলে কর্মরত কৃষকরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎক তাকে মৃতু ঘোষণা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নুরনগরে ফার্মেসীতে ঔষধ বিক্রয়ে প্রতারণা !

পলাশ দেবনাথ, নুরনগর থেকে: শ্যামনগর উপজেলার নুরনগরের ফার্মেসীতে ঔষধ বিক্রয়ে প্রতারনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, রামজীবনপুর গ্রামের জুব্বার গাজীর স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ্ হয়ে পড়লে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আইযুব আলীর চেম্বারে নিয়ে গেলে চিকিৎসক একটি প্রেসক্রিপশন করে দিলে রোগীর স্বামী জুব্বার গাজীর নুরনগর পুরাতন মাছের সেট সংলগ্ন আর্দশ ফার্মেসীতে যান ঔষধ কিনতে এবং তিনি প্রেসক্রিপশন বরাবর ঔষধ দিতে বলেন। ফার্মেসী মালিক জিল্লুর রহমান তাকে ঔষধ দিয়ে বিদায় দেন। জুব্বার গাজী ঔষধ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে চিকিৎসক তাকে জানায় আমি যে কোম্পানীর ঔষধ লিখেছি সেটা নিয়ে আসেন এগুলো কমদামী এবং প্রেসক্রিপশনে যেটা লেখা সেটা নয়। এর পর জুব্বার গাজী আর্দশ ফার্মেসীতে এসে ফার্মেসী মালিক কে বলে আমি এই ঔষধ নিব না আপনি আমার টাকা ফিরিয়ে দেন। ফার্মেসী মালিক জিল্লুর রহমান ঔষধ ফেরত হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিলে, গরীব অসহায় জুব্বার গাজী দিশেহারা হয়ে স্থানীয় সংবাদিকদের কাছে তার অভিযোগ তুলে ধরে। শুধু জুব্বার গাজী নয় এমন ভাবে প্রতারনার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত হাজারও মানুষ। মানুষের অসুস্থ্যতার সুযোগ নিয়ে অসাধু ফার্মেসী মালিকরা নিন্মমানের ঔষধ দিয়ে প্রতারনা করছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ার ইলিশপুরে রয়েল ইট ভাটায় অবাধে পুড়ছে কাঠ, গাছ-পালা

নিজস্ব প্রতিনিধি : যথাযথ আইন অমান্য করে বহাল তবিয়তে চলছে কলারোয়ার কেরালকাতা ইউনিয়নের ইলিশপুরের রয়েল ভাটা। সেখানে অবাধে অবৈধ ভাবে পোড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার মণ কাঠ, গাছ-পালা। ফলে ভয়াবহ বায়ু দূষণের মুখে পড়েছে এলাকাটি। দেখা দিয়েছে জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা।
অভিযোগ রয়েছে- এ অবৈধ এবং পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের অলিখিত বৈধতা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীরা। বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা আর পরোক্ষভাবে সহায়তায় ভাটা মালিকরা আইন অগ্রাহ্য করে কাঠ পোড়ালেও দেখার যেন কেউ নেই। দিনের পর দিন ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় প্রতিনিয়তই বায়ু দূষন হচ্ছে পাশাপাশি এর প্রভাব পরছে ভাটার আশপাশের ফসলী জমি এবং গাছপালার উপর। পরিবেশ সচেতন মানুষ এতে ক্ষুব্ধ হলেও তাদের করার কিছুই থাকছে না।
ইট পরিবহনের কাজে ফিটনেস বিহীন নিষিদ্ধ ঘোষিত শত শত ট্রলি ব্যবহৃত হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা গুলোও।
জানা গেছে- ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮৯ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী ফসলী জমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। ইট ভাটার জন্য অকৃষি জমি ব্যবহার করতে হবে এবং আইনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা করতে হবে। যেমন ভাটায় ১২০ ফুট উচ্চতার চিমনি ব্যবহার, জনবহুল এলাকায় ও ফসলি জমিতে ভাটা নির্মাণ না করা এবং ইট পোড়ানোর কাজে দেশীয় বা বনজ কোনো ধরনের কাঠ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরবর্তীতে কয়লা পোড়ানোর দিক নির্দেশনায় দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে। অথচ এসবের তোয়াক্কা না করে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের ইলিশপুর রয়েল ভাটা।
রয়েল ভাটার ম্যানেজার তৌহিদুর রহমানের কাছে সাংবাদিরা কাঠ পৌড়ানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমরা উপজেলা প্রশাসনকে মাসিক দুই লক্ষ টাকা দেয়, সাংবাদিকেরা লিখে কিছুই করতে পারবেনা। আমাদের মালিক কবির হোসেন মাই টিভির সাংবাদিক। রিপোট করতে চেয়েছিল বলে গাছের সাথে বেঁধে রেখেছিল। এছাড়া রিপোট করলে আপনার ব্যাবস্থা নেয়া হবে। আমরা যশোর জেলার লোক এভাবেই হুমকি প্রদান করেন সাংবাদিকের।
সরেজমিনে দেখা যায়- রয়েল ভাটা প্রতিনিয়ত কাঠ পুড়িয়ে ইট পোড়াচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবহার করছে ভ্যাকাস (পামওয়েলের গাদ)। প্রতিটি বেড়ে ইট পোড়ানোর কাজ চলছে পুরোদমে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান- ভাটায় রাতে কাঠ পোড়ানো হয় সবচেয়ে বেশী। অনেকে কাঠ ভাটায় সংরক্ষন না করে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে রেখে দেন। রাতের আঁধারে সেখান থেকে কাঠ নিয়ে পোড়ানো হয় ভাটায়। পুরোদমে চলছে ইট পোড়ানোর কাজ।
রয়েল ভাটার মালিক আবার গত কয়েক বছরের ইটের বিনিময়ে অগ্রিম টাকা নিয়ে ইট দিতে না পারায় এবছরও ভাটা জ্বালিয়ে ওই টাকা পরিশোধের চেষ্টা করছেন।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভাটার এক শ্রমিক জানান- যেভাবে ইটের অগ্রিম টাকা নেয়া হয়েছে তার পরিশোধ করতে আরো ২ বছর ভাটা পরিচালনা করতে হবে। ইটের দাদন দেয়া টাকা নিয়েও চিন্তিত রয়েছেন ইলিশপুরের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাসীন আলী জানান- ইটভাটা নির্মানের সময় অকৃষি জমির সনদ বাধ্যতা মূলক থাকলেও আমার সময়কালে কলারোয়ার রয়েল ভাটা মালিক এ সনদের জন্য আমার নিকট আসেনি। অধিকাংশ ইট ভাটা গড়ে উঠেছে কৃষি জমিতে। ফলশ্রুতিতে দিনে দিনে কমছে কৃষি জমি। গ্রামের মধ্যে ইট ভাটা নির্মানের ছাড়পত্র পরিবেশ অধিদপ্তর কিভাবে দেয় তা আমার বোধগম্য নয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুল ইসলাম জানান- ইট পোড়ানো নির্গত ধোঁয়া মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। এতে ফুসফুস সংক্রমিত হয়ে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
এ সকল বিষয়ে ভাটা মালিক কবির হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান- বর্তমান কয়লার যে দাম তাতে কয়লা কিনলে ব্যবসা করতে পারবো না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন জানান- আমি ইতিমধ্যে দু’এক জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেছি। ভাটা মালিকদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেছি। তারপরও ইটের ভাটায় কাঠ পোড়ানো হলে সেসব ভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ভাটা পার্শ্ববর্তী এলাকাবাসীরা জানান- এলাকায় ইটের ভাটা হওয়ায় নগদ উপার্জনের আশায় অনেক দরিদ্র কৃষক চড়াদামে বিক্রি করছে জমির টপ সয়েল। এতে করে ওই সকল ফসলী জমি উর্বরতা হারাবে। কাঠ পোড়ানোর ফলে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং তাপমাত্রার কারণে ভাটা পার্শ্ববর্তী জমিতে কমে গেছে ফসলের উৎপাদনও।
এদিকে পুরোপুরি অবৈধভাবে ইট ভাটার ব্যবসা পরিচালনা করলেও সংশ্লিষ্টদের কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অবিলম্বে কেরালকাতা ইউনিয়নের রয়েল ভাটা বন্ধ করে পরিবেশ রক্ষায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest