প্রশ্ন ফাঁসের ‘মহামারি’ সঙ্গে ফের নকলবাজি

অনলাইন ডেস্ক: এসএসসির গণিতের প্রশ্নও সোশ্যাল নেটওয়ার্কে পাওয়া গেল পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে। এর মধ্যে ‘এমসিকিউ’ অংশের সঙ্গে মূল প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে গতকাল শনিবার বিভিন্ন জেলায় গ্রেপ্তার হয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে অনেকের স্মার্টফোন। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিনব ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে। গণিতের প্যাকেটে অন্য প্রশ্ন আসায় আরেক কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন এনে ফটোকপি করে পরীক্ষা নিতে হয়েছে।

শেরপুর মডেল গার্লস ইনস্টিটিউট কেন্দ্র থেকে এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্মার্টফোন থেকে বিভিন্নজনকে ‘গণিত’ প্রশ্ন সরবরাহ করার সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার অ্যানড্রয়েড স্মার্ট মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়।

শেরপুর সদর থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহরের মডেল গার্লস ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের সামনে টহল পুলিশের একটি দল দায়িত্বরত ছিল। এক যুবকের গতিবিধি সন্দেহজনক হলে কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা তার স্মার্টফোনটি জব্দ করেন। এরপর যুবকটিকে কেন্দ্রে কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হানুল ইসলামের কাছে সোপর্দ করা হয়। তার ফোনসেট পরীক্ষা করে গণিতের বহু নির্বাচনী পরীক্ষার ৩০টি প্রশ্ন ও উত্তর পাওয়া যায়। কেন্দ্রে অবস্থানরত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদ এ জেড মোরশেদ আলীর প্রশ্নের মুখে যুবকটি বলেন, তার নাম মো. সেলায়মান হোসেন (২৫)। বাবা সদর উপজেলার লছমনপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম খোকা মিয়া। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের জানান, অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। শেরপুর সদর থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আটক সোলয়মানের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
রাজশাহীতে রাজশাহী সিটি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রাবিয়া ইসলাম রিম (২২) সকাল ১০টার দিকে জেলার পিএন গার্লস স্কুল কেন্দ্রের পাশে বসে মোবাইল ফোনে এসএসসির গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে সেগুলোর উত্তর কাগজে লিখে দিচ্ছিল। অভিভাবকরা বিষয়টি জানতে চাইলে সে কৌশলে সরে পড়ার চেষ্টা করে। তখন ছাত্রীটিকে আটক করে পুলিশের কাছ সোপর্দ করে তারা। বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ কালের কণ্ঠকে জানান, পরীক্ষা শেষে দেখা যায়, ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোনে মেসেঞ্জার ইনবক্সে পাওয়া ৩০টি অবকেজটিভ প্রশ্ন হুবহু মিলি গেছে। ফলে ওই ছাত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পাবলিক পরীক্ষা আইনে ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করে বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপে জব্দ হলো প্রশ্নপত্র ফাঁসে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনসেট। এ ঘটনায় এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেরিনা সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি কেন্দ্রসচিবদের কাছে গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে নিজ অফিসের দিকে ফিরছিলেন। বাগাতিপাড়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে দুই-তিনটি জায়গায় জটলা দেখতে পেয়ে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। একটি জটলার কাছে গিয়ে দেখেন, সবাই মোবাইল ফোনে কিছু একটা দেখছে। তিনি ঘটনা জানতে চাইলে সবাই পালিয়ে যায়। এ সময় ফেলে যাওয়া একটি মোবাইল ফোনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গণিতের প্রশ্নপত্র দেখতে পান এবং পরে দেখা যায় কেন্দ্রে সরবরাহ করা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে এটি হুবহু মিলে গেছে। ফোনটি পরীক্ষার্থী শাহরিয়ার হোসেন শুভর বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত আরো একটি স্মার্টফোন পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিক এর মালিককে শনাক্ত করা যায়নি। শুভ উপজেলার দয়ারামপুর এলাকার কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের ছাত্র। ফোনটি তার বাবার কাছে ছিল বলে জানা যায়।
পরীক্ষার্থী শুভর বাবা সাবেক সেনা সদস্য রহমত আলী এবং শুভর ফুফাতো ভাই মাগুরা পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ও সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার বাগমারা এলাকার শাকিল হোসেনকে অভিযুক্ত করে বাগাতিপাড়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। বাগাতিপাড়া থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে দায়িত্ব অবহেলার জন্য দুই শিক্ষককে আটক এবং ছয় পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ হোসেন জানান, পরীক্ষার্থী প্রণয় দাসের মোবাইলে ‘প্রশ্ন ধারা ৫৩’, ‘এসএসসি এক্সাম ২০১৮ (গণিত)’সহ পাঁচটি মেসেঞ্জার গ্রুপ পাওয়া যায়। মেসেঞ্জার ঘেঁটে দেখা গেছে ‘প্রশ্ন ধারা ৫৩’ থেকে সকাল ৯টায় প্রশ্ন ও সাড়ে ৯টায় ৩০টি এমসিকিউর উত্তর পেয়েছে। এসব প্রশ্ন ও উত্তরগুলো সে ওই দুই ছাত্রকে দিয়েছিল। অন্য ছয় পরীক্ষার্থী উত্তরগুলো মোবাইল থেকে দেখে লিখছিল। পরীক্ষা হলে মোবাইল নিষিদ্ধ হলেও দুই শিক্ষকের সামনেই তারা মোবাইল থেকে উত্তরগুলো লিখছিল। নোয়াপাড়া ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আটক প্রণয় দাস জানিয়েছে, মেসেঞ্জার দিয়ে সে প্রশ্ন সংগ্রহ করেছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি আলম চাঁদ জানান, প্রশ্ন ফাঁসে তিন পরীক্ষার্থীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সিলেটে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রসহ মো. দেলোয়ার হোসেন (১৮) নামের এক যুবককে গোয়েন্দা পুলিশ নগরের হাউজিং এস্টেটের আম্বরখানা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কলেজ এলাকা থেকে আটক করে। দেলোয়ার কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার কলিমপুর গ্রামের মো. হুমায়ুন কবিরের ছেলে এবং সিলেটের মদন মোহন কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। পরে মিলিয়ে দেখা যায়, তার মোবাইলের প্রশ্নপত্রেই গতকাল পরীক্ষা হয়েছে। দেলোয়ারের মোবাইল ফোনে পূর্বে অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও পাওয়া যায়। আম্বরখানা ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ দেব জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নরসিংদীর মাধবদীতে মাধবদী এসপি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক মেহেরুন নেসা ও ফরিদা ইয়াসমিন, লাইব্রেরিয়ান অঞ্জন দেবনাথ ও অভিভাবক মোখলেছুর রহমানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। পরীক্ষা চলার সময় শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিনের বাসায় প্রশ্নপত্রের সমাধান করা হচ্ছিল। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেলিম রেজার নেতৃত্বে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে হাতেনাতে ধরা হয়।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশের একটি এসএসসি কেন্দ্রে দুই ঘণ্টা পরে গণিতের রচনামূলক প্রশ্ন পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্র দুটি হচ্ছে ফাতেমা জিন্নাহ বালিকা বিদ্যালয় ও কাসেম মাহাবুব উচ্চ বিদ্যালয়। রচনামূলকে প্রশ্ন সংকটের কারণে পাশের কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ ও ফটোকপি করে ফাতেমা জিন্নাহ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১১টা ১০ মিনিটে এবং কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২টা ৫ মিনিটে পরীক্ষা শুরু করা হয়। ফাতেমা জিন্নাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কেন্দ্রসচিব মো. ওসমান বলেছেন, বোর্ড থেকে রচনামূলক প্রশ্নের যে পাঁচটি প্যাকেট দেওয়া হয়েছে এর মধ্যে একটি ছাড়া বাকিগুলোতে অন্য বিষয়ের প্রশ্ন ছিল।
ইউএনও লুৎফর রহমান জানান, প্রশ্নপত্রের গায়ে গণিত লেখা ছিল; কিন্তু প্যাকেট খুলে অন্য প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। এ কারণে অন্য কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে ফটোকপি করতে হয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় এক হাজার ১০০ প্রশ্নপত্র সংকট পড়েছিল। এর মধ্যে পাশের কেন্দ্রগুলো থেকে চার শতাধিক সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকিগুলো ফটোকপি করতে হয়েছে। ইউএনও ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘প্রতি কেন্দ্রে কিছু বাড়তি প্রশ্ন যায়। যেমন—কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী আছে ১০৫ জন; কিন্তু প্রশ্ন তো আর পাঁচটি আলাদা করে প্যাকেট হয় না। এ কারণে পুরো এক প্যাকেট প্রশ্ন পাঠানো হয়। অব্যবহৃত প্রশ্নগুলো কেন্দ্রে জমা থাকে। সে ধরনের প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করে চার শতাধিক পাওয়া যায়।’ এসব কাজে লাগানো সম্ভব হয়েছে।
জানা যায়, ফাতেমা জিন্নাহ বালিকা বিদ্যালয়ে ৫৪৩ জন ও কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫৫৭ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে সাতজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী আছে। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর প্রশ্ন সঠিক পাওয়া গেলেও নিয়মিত এক হাজার ৯৩ জন পরীক্ষার্থীর জন্য প্রশ্ন পাওয়া যায় মাত্র ২১০টি।
এ ছাড়া ফরিদপুরের সালথায় জয়ঝাপ উচ্চ বিদ্যালয় ও সালথা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কর্তব্যরত শিক্ষক নুরুল আমীন ও অঞ্জলি বিশ্বাসকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং নকল করার অভিযোগে তিন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। নওগাঁর বদলগাছী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের মহিলা কলেজ শাখায় এসএসসি গণিত পরীক্ষায় নকল সরবরাহের দায়ে মহিলা কলেজের পিয়ন মোশারফ হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট দুই পরীক্ষার্থীকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা বৈকুণ্ঠপুর স্কুলের ছাত্র সৈকত হোসেন ও আছির হোসেন।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার তিন কেন্দ্রে ছয় ছাত্রকে বহিষ্কার এবং খালিয়া রাজারাম ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রের সচিব ও সহকারী সচিবকে পরিবর্তন করা হয়েছে। কেন্দ্রে প্রবেশ করে উত্তরপত্র তৈরির অপরাধে নড়াইলের কালিয়ার এক স্কুলশিক্ষককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সিএমবি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক এবাদত হোসেন একই উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
এ ছাড়া গতকাল কুমিল্লার কম্পানিগঞ্জ উপজেলার বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা যায় অভিনব দৃশ্য। অভিভাবকরা বেপরোয়া ভঙ্গিতে বাঁশের খুঁটিতে নকল বেঁধে পৌঁছে দিচ্ছিল পরীক্ষার্থীদের কাছে।
এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা পরীক্ষাকেন্দ্রের সহকারী সচিব আমজাদ হোসেন নাহিনকে (৪৫) পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হযেছে। নাহিন বেরাইদেরচালা ধনাই বেপারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দায়িত্বরত পুলিশ ও কেন্দ্রসচিবের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে গণিত পরীক্ষা চলছিল। আধাঘণ্টার এমসিকিউ পরীক্ষাও প্রায় শেষ, ওই সময় পরীক্ষার্থীদের দেওয়ার জন্য সংরক্ষিত বান্ডেল থেকে সৃজনশীলের একটি প্রশ্নপত্র সরিয়ে ফেলেন আমজাদ হোসেন।
পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বরত শ্রীপুর থানার শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক (পিএসআই) নয়ন ভূইয়া বলেন, প্রশ্ন সরানোর দৃশ্যটি তাঁর চোখে পড়ে। এরপর ওই শিক্ষক কেন্দ্রের বাইরে যেতে চাইলে তাঁকে তিনি অনুসরণ করেন এবং বাইরে গিয়ে প্রশ্নপত্রটি সরবরাহ করার আগেই আটক করেন। পরে অনেকের উপস্থিতিতে দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে একটি প্রশ্নপত্র উদ্ধার করা হয়। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, পরে গুনে দেখা যায় উদ্ধৃত্ত প্রশ্নের মধ্যে একটি কম রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, ওই ঘটনায় কেন্দ্রসচিব শাহজাহান সিরাজ বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
এই পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করতে না দেওয়ায় পরীক্ষার পর এক শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়েছে এক পরীক্ষার্থীসহ তার সহযোগীরা। ওই শিক্ষককে ধাওয়াও করা হয় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে ওই শিক্ষক ছুটে গিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণকক্ষে অবস্থান নেন। ওই শিক্ষকের নাম শাখাওয়াত হোসেন (৩০)। তিনি তেলিহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কেন্দ্রসচিব শাহজাহান সিরাজ জানিয়েছেন, হামলাকারী টিপু মাওনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।
আজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা রয়েছে। গতকাল দুপুর থেকেই এ বিষয়ের প্রশ্নের জন্য নানা পোস্ট দেওয়া হচ্ছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আজকের এ সভায় বেশিরভাগ নেতার পক্ষ থেকে যে বিষয়টা এসেছে সে বিষয়টা হচ্ছে দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। দেশনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে সমগ্র দেশ আজকে ধিক্কার দিয়েছে। প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা দেশবাসীকে সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং সব নেতাকর্মী যারা বাধা, নিষেধ ও নির্যাতনকে উপেক্ষা করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠক চলাকালে রাত ৮টায় গুলশান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব জানান, আজকে এ সভা আমাদের দলকে আরো ঐক্যবদ্ধ করবে। আজকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যে বক্তব্য সেটা আরো অনুপ্রাণিত করবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যাওয়ার সময়ই যে কথা বলে গিয়েছেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে গণতন্ত্রের জন্য, গণতন্ত্রেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সভায় বেগম খালেদা জিয়া, যাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় এ অনৈতিক অবৈধ সরকার তাদের একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্য, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য, মিথ্যা মামলায় পাঁচ বছরে সাজা দিয়েছে। এ সভায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ সভায় রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা শহরে এবং সারা দেশে এ অনৈতিক অবৈধ সরকার অত্যাচার নিপীড়নের যে স্টিম রোলার চালিয়েছে। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। নির্যাতন করেছে। তারাও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে কয়েক হাজার গ্রেপ্তার করা হয়েছে, প্রায় তিন হাজার। তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং যে সমস্ত মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করার জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে।

বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, আপনারা সবাই জানেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করা হয়েছে।

ফখরুল জানান, সভায় আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যিনি এখন লন্ডন থেকে দায়িত্ব পালন করছেন তারেক রহমান সাহেব তার বক্তব্য টেলিফোনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব দলের অংশগ্রহণের জন্য নিরপেক্ষ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আপনারা ইতিমধ্যে নিশ্চয়ই শুনেছেন আমাদের আজকে পাঁচজন সিনিয়র আইনজীবী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অন্যান্য যারা ছিলেন তারা গিয়েছিলেন। তারা হলেন- ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান। তারা কারাগারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা শুনলে বিস্মিত হবেন, তাকে সম্পূর্ণ সলিটারি কনফারমেন্টে রাখা হয়েছে, এবানডেন্ট যে কেন্দ্রীয় কারাগার ছিল যেখানে কেউ বাস করে না এবং ঘর-বাড়ি স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যাচ্ছে, সেই কারাগারে সম্পূর্ণ একা প্রিজনার হিসেবে রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, শুনলে আপনারা বিস্মিত হবেন, ব্যথিত হবে সমগ্র জাতি, তাকে এখন পর্যন্ত কোনো ডিভিশন দেওয়া হয়নি। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করেনি। তিনি তো ৭৩ বছরের একজন বয়স্ক মানুষ। তার যে সর্বক্ষণিক পরিচারিকা জেল কোডের মধ্যে রয়েছে সে সর্বক্ষণিক পরিচারিকাকেও তার সঙ্গে থাকতে দেয়া হয়নি। এ বিষয়গুলো আমরা মনে করি একেবারে অমানবিক।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে তাকে ডিভিশন দিয়ে তার যথাযথ যে মর্যাদার মতো সমস্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় নিয়ম এবং জেল কোডকে ভঙ্গ করার জন্য সরকারকে দায়ী থাকতে হবে।’

এ ছাড়াও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) আইনজীবীদের মাধ্যমে কোনো বক্তব্য দেননি। আইনজীবী গিয়েছিলেন আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোয়েলের বদলে জয়া

কোয়েলের বদলে জয়া

কর্তৃক Daily Satkhira

দুই বছর আগে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন জয়া আহসান। তারও ১৫ বছর আগে লেখা হয়েছিল ‘কণ্ঠ’ ছবির গল্প। চিত্রনাট্য ও সংলাপ তৈরিতেই এত সময় নিয়েছেন পরিচালকদ্বয়—নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখার্জি। অবশেষে মার্চে শুরু হতে যাচ্ছে ছবিটির শুটিং। তবে পুরো কাস্টিং এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগে জানা গিয়েছিল, ছবির প্রধান পুরুষ চরিত্র করবেন শিবপ্রসাদ মুখার্জি নিজেই, প্রধান নারী চরিত্রে জয়া আহসান ও কোয়েল মল্লিক। ছবিতে শিবপ্রসাদ ক্যান্সারে আক্রান্ত রেডিও জকি, জয়া স্পিচ থেরাপিস্ট আর কোয়েল হবেন শিবপ্রসাদের স্ত্রী। কিন্তু শুটিং শুরুর ঠিক আগে আগে জানা গেল, ছবিতে নেই কোয়েল মল্লিক। তাঁর বদলে অভিনয় করবেন পাওলি দাম। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানাল নতুন খবর, স্পিচ থেরাপিস্টের চরিত্রে শুরুতে অভিনয় করার কথা ছিল কোয়েল মল্লিকেরই। কিন্তু অডিশনে জয়া আহসানের কণ্ঠে জয় গোস্বামীর ‘মালতিবালা বালিকা বিদ্যালয়’ কবিতা শুনে মুগ্ধ হন পরিচালকদ্বয়। এমন কণ্ঠই দরকার তাঁদের ছবিতে। জয়া যোগ হওয়ার পর শিবপ্রসাদের স্ত্রীর চরিত্রটি পেলেন কোয়েল। সে চরিত্রটিই এখন করবেন পাওলি দাম—জয়ার নতুন ‘কণ্ঠ’সঙ্গী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নির্বাচন বর্জন করলেও বিএনপিকে কোন ছাড় দেবে না আ. লীগ

অনলাইন ডেস্ক: সব দলের অংশগ্রহণে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি সত্ত্বেও চলমান রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিএনপিকে সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে কোনো ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ। খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হলে তাঁর দল বিএনপি যদি নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণাও দেয়, তাতেও টলবে না ক্ষমতাসীন দল। সাজার কারণে বিএনপিপ্রধান নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হলে বিষয়টি আদালতের বলে নিজেদের দায় এড়াবে ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা পেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দীন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজও শেষ হওয়ার পথে। আগামী মার্চ বা এপ্রিলে ওই মামলার রায় হতে পারে। তাতেও খালেদা জিয়ার সাজা হতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে আপিল করে সাজা স্থগিত না করাতে পারলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হলে এবং সে ক্ষেত্রে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দিলে কী হবে, সে আলোচনা এখন আওয়ামী লীগের অন্দর মহলে মুখ্য হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন নয়—এমন ঘোষণা দিয়ে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকায় আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে সাতক্ষীরা ও ময়মনসিংহের সংঘর্ষের ঘটনা সে ইঙ্গিতই বহন করে বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁরা বলেন, দুর্নীতিবাজের তকমা ঢাকতে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। ওই বিবেচনা থেকেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা এরই মধ্যে বিএনপির বিরুদ্ধে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভণ্ডুল করার পাঁয়তারার অভিযোগ করেছেন।
তবে বিএনপি যে অবস্থানই নিক না কেন, আওয়ামী লীগ তা আমলে নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অসাংবিধানিক যেকোনো দাবি প্রতিহত করা হবে। বিভিন্ন অজুহাতে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচন ভণ্ডুল করে একটা অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় আনতে চায়। তারা নানা রকম বিভ্রান্তিকর কথা বলে। সংসদ ভেঙে দেওয়াসহ নানা সময়ে বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবি করছে। মূলত এগুলো নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা। তাদের এই অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে ১৪ দল মাঠে থাকবে।
মোহাম্মদ নাসিম গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানের বাইরে বিএনপির কোনো দাবি মানা হবে না।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতি করে জেলে গেছেন। এটা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কি পারবেন না সেটি আদালত ও নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবে। তবে কোনো দুর্নীতিবাজের জন্য একটি দল নির্বাচনে না যাওয়ার মতো কোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাদের উচিত আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তন করা। তিনি আরো বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে বিএনপিকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে বিএনপি নির্বাচনে না এলে সারা দেশে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হবে আওয়ামী লীগই—এমনটাই মনে করেন দলটির শীর্ষপর্যায়ের নেতারা। প্রায় প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন দলের ‘বিদ্রোহীরা’। শুধু অভ্যন্তরীণ এই সংকট নয়, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করাটা হবে তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপিকে ছাড়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করতে গিয়ে গত চার বছরে তারা বিষয়টি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। এ নিয়ে বিভক্ত আন্তর্জাতিক মহলকে সামলাতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে সরকারকে। তাই বিএনপির সমর্থক বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পুনরাবৃত্তিতে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়েছে। আবার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে এলে নিজেদের ভরাডুবির আশঙ্কাও আছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। এ অবস্থায় পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত করতে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করুক—এমন প্রত্যাশা করার মতো নেতাকর্মীর সংখ্যাও আওয়ামী লীগে কম নয়।
আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অবশ্য বলেন, ‘গতবার বিএনপি নির্বাচনে আসেনি, এটা তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত ছিল। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলকে বোঝাতে আমাদের খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। এবার তারা নির্বাচনে না এলে কিভাবে বিশ্বকে সামাল দেব তা সময় বলে দেবে। তবে বিএনপি যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন, এটা পশ্চিমা বিশ্বের একাধিক আদালত বলেছেন। আর বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতারা দুর্নীতিবাজ, সেটিও বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণিত।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরদিন জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, একপক্ষীয় এবং নিম্ন অংশগ্রহণের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনায় মহাসচিব দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিবদমান পক্ষগুলো কোনো ধরনের মতৈক্যে পৌঁছতে ব্যর্থ না হলে একটি শান্তিপূর্ণ, সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব হতো।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্বের ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু

দুটি দ্বীপ, দুটি দেশ। অপূর্ব সুন্দর এক স্থান। আর তাদের মধ্যে যাতায়াতের জন্য ছোট একটি সেতু। এটিই বিশ্বের ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু।

আন্তর্জাতিক সীমারেখা বলে দিচ্ছে দুটো দ্বীপ পড়ে দুই দেশে। একদিকে আমেরিকা অন্যদিকে কানাডা। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সীমানায় এক অভিনব স্থান জ্যাভিকন আইল্যান্ডস।

সেন্ট লরেন্স নদীর মধ্যে পড়ে জ্যাভিকন আইল্যান্ডস নামে দুটো দ্বীপ। বড়টার মধ্যে একটা বাড়ি আছে, সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে। আর ছোট দ্বীপটা নিঝুম, সেখানে কেউ থাকে না। এই দ্বীপ পড়ছে কানাডায়। দুটি দ্বীপের মধ্যে যাতায়াত করার জন্য ৩২ ফুটের একটি সেতু আছে। অনেকে তথ্য ঘেঁটে বলেছেন, বিশ্বের ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু হল এটি।

এই দুই দ্বীপ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। উনিশ শতক থেকে বারে বারে উঠে এসেছে জ্যাভিকন দ্বীপের কথা। পুরনো ছবিতে দেখা গেছে, দুই দ্বীপের মধ্যে উড়তে থাকা আমেরিকা ও কানাডার পতাকা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
২০১৮ সালের মধ্যে শ্যামনগর শতভাগ বিদ্যুতায়িত হবে -এমপি জগলুল হায়দার

মাহফুজুর রহমান তালেব: শনিবার বিকালে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদে রসের মেলা-২০১৮ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য পিঠা-পুলি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-০৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এস.এম জগলুল হায়দার।
বুড়িগোয়ালিনী ইউ.পি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি জগলুল হায়দার আওয়ামীলীগ সরকারের দীর্ঘ ৯ বৎসরের উন্নয়ন চিত্রের উপর আলোকপাত করেন, তিনি তার বক্তব্যে বলেন, একদিকে সততার রাজনীতি দেখছি। অপরদিকে দুর্নীতি, জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি, বিএনপির অপরাজনীতি। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটে। দেশের উন্নয়ন দূর্বার গতিতে এগিয়ে যায়। আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে যায়। তিনি বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে এই প্রথম পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানান এবং গ্রাম বাংলার পুরাতন ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন মডেল ইউনিয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সেকারণ এই ইউনিয়নে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলাম, তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ২০১৮ সালের মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ-এর বাতি জ্বলবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেঁড়ী বাঁধ অতি দ্রুত পুননির্মাণ হবে এব্যাপারে পর্যাপ্ত বরাদ্দ আছে। আমার বিশ্বাস অতি শীঘ্রই আমরা বরাদ্দ পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাউবোর বেড়ী বাঁধ পুনর্নির্মাণ করতে পারব।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল। ইউপি সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আ: রউফ, গোলাম মোস্তফা, আ: রসিদ এবং হরেকৃষ্ট মন্ডল। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এমপি জগলুল হায়দারের সহধর্মীনি ফাতেমা হায়দার রওজা, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মান্নান আলী, এনজিও ফোরাম সভাপতি লূুফর রহমান, নুরনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা এবং শ্যামনগর প্রেস ক্লাব ও সুন্দরবন সাংবাদিক ক্লাবের সদস্যবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ। পরিশেষে তিনি বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের পৃথক ৯টি স্টলসহ মোট ১০টি পিঠা-পুলির ষ্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জামার্নি থেকে ফেরার পর সাতক্ষীরায় এমপি রবির সংবর্ধনা

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ: জার্মানীতে বিশ্ব সন্ত্রাসবিরোধী সংগঠন ওয়ার্ল্ড এন্টি টেরোরিজম ওরগানাইজেশনে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে শহরের মিনি মার্কেট এলাকায় আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মকসুমুল হাকিম এর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত অতিথি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি। এসময় তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় অন্তরায় হল সন্ত্রাস। সন্ত্রাস দমনে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনেক দেশের জন্যেই অনুকরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন জার্মান পার্লামেন্টারীর সদস্যরা। জার্মান পার্লামেন্টারীর সদস্যরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সন্ত্রাসবাদ দমন ও দেশের উন্নয়নকে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমি সাতক্ষীরাবাসীর ভালবাসায় সিক্ত, আমি আমার জীবনের সব ভালবাসা দিয়ে সাতক্ষীরাবাসীর সেবা দিয়ে যাব।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও পিপি এড. ওসমান গনি, প্রচার সম্পাদক শেখ নুরুল হক, সদস্য অতিরিক্ত পিপি এড. আব্দুল লতিফ, ডা. মুনছুর আহমেদ, জেলা পরিষদের সদস্য ওবায়দুর রহমান লাল্টু, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল হক নান্টু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ সাহাবাজ, শেখ রিজভী আহম্মেদ, সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা আহছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি শেখ তহিদুর রহমান ডাবলু, সেক্রেটারি শেখ আজিজুল হক, সদস্য মীর মহিতুল আলম মহি, সাতক্ষীরা আহছানিয়া মিশন আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আ: মজিদ সিদ্দিকী, জেলা তাঁতীলীগের সভাপতি মীর আজহার আলী শাহীন, জেলা কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস.এম রেজাউল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মোস্তাক আলী, এপিপি এড. তামিম আহম্মেদ সোহাগ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাজী আক্তার হোসেন, আগরদাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার মফিজুর রহমান, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিকা জ্যোৎন্সা আরা, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদিকা সুলেখা দাস, রুখসানা পারভীন, দপ্তর সম্পাদিকা তহমিনা ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা মো. নুরে আলম সিদ্দিকী, মিজানুর রহমান, আলমগীর হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা মো. শাহিদুল ইসলাম। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার শয্যা পাশে উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু

নিজস্ব প্রতিবেদক: অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী একরামুল হক বাদশা (৭৫) কে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গেলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আসাদুজ্জামান বাবু। কাজী একরামুল হক বাদশা সদর উপজেলার বাশঘাটা এলাকার বাসিন্দা। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি তাকে দেখতে যান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ কামরুল হক চঞ্চল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাজী আক্তার হোসেন, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের যুগ্ম-আহবায়ক মেহেদী আলী সুজয়, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের দপ্তর সম্পাদক খন্দকার আনিসুর রহমান আনিস প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest