দুর্নীতির রায়ের ফলে বিএনপি নেতাদের মাঝে বিভ্রান্তি !

অনলাইন ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে। তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের ১০ বছরের কারাদণ্ডই বহাল রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে অর্থদণ্ড হিসেবে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে আসামীদের।

বৃহস্পতিবার (৮ই ফেব্রুয়ারি) ১টা ৪০ মিনিটে রায় শুনতে গুলশানের বাসা থেকে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে পৌঁছান বেগম জিয়া। এদিকে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে আদালতে পৌঁছান বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এ মামলার অপর তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান এবং কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী। উল্লেখ্য, ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলাটি করে।

সাম্প্রতিক রাজনীতি পর্যালোচনা করলে বিএনপিতে ভাঙ্গনের সুর স্পষ্ট। দলে এখন ৫ মাথা দৃশ্যমান। নেতাকর্মীরা নেতা মানছেন কেউ খালেদা জিয়াকে, কেউ তারেককে, কেউ ফখরুল, কেউবা মওদুদ আবার কেউবা রিজভীকেI দলের ক্রান্তিকালে একতার পরিবর্তে নিজেদের আখের গোছানোর প্রবৃত্তি বিএনপিতে দেখা যাচ্ছে, যা দলের জন্য অশনি সংকেত বলছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপি অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য এমনিতেই জনবিচ্ছিন্ন। নির্বাচনে না যাওয়ার মাশুল শেষ হবার আগেই এই অন্তর্দ্বন্দ্ব ও দলীয় কোন্দল বিএনপিকে নাকাল করছে। সামরিক লেবাসে জন্ম নেয়া বিএনপি গণতন্ত্রের পথে ভালভাবে এডজাস্ট করতে পারেনি কখনোই। সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জ তারা কিভাবে মোকাবিলা করে সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

দলটির শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলছেন, খালেদা জিয়ার ভুল সিদ্ধান্ত ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি’র ভেতরে অস্থিরতা কাজ করছে। বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনীতি, নেতাদের ঐক্য ভাঙার পথে কাজ করছে। বেগম জিয়া কারাগারে যাবার মাত্র একঘণ্টার মধ্যে বিএনপিতে মত বিরোধ প্রকাশ্য আকার নিয়েছে। বিএনপির নেতারা পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন এবং বক্তব্য দিচ্ছেন। অন্যদিকে খালেদার অনুপস্থিতিতে কেউ তারেক জিয়া কে দল প্রধান মানছেন আবার অনেকেই এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে আপত্তি তুলছেন।

দলীয় ঘোষণায় বিভ্রান্তির ছাপ স্পষ্ট বিএনপিতে। ৭ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া রায় পরবর্তী আন্দোলনের কথা বললেও, মধ্যরাত নাগাদ রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিএনপির সিলপ্যাডের একটি ঘোষণায় নেতা কর্মীদের শান্ত থাকতে বলা হয়। দলীয় কমান্ডে বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে বিএনপিতে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলও দিয়েছেন বিভ্রান্তিকর নির্দেশনা। দলীয় প্রধানের বিপক্ষে গিয়ে তিনি নেতা কর্মীদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেন।

দলীয় চেয়ারপারসন ও বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ফারাকে বিভ্রান্ত ছিল নেতা কর্মীরা। তারা রায় পর্যন্ত ও পরবর্তীতে কোন দলীয় দিক নির্দেশনা পায়নি। তাহলে কি দলে চেয়ারপারসন বিদ্বেষী মনোভাব গড়ে উঠল? বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

উদ্ভ্রান্ত দিকনির্দেশনার জন্যই দিকভ্রষ্ট ছিল বিএনপির কর্মীরা। একদিকে জনবিচ্ছিন্নতা, অন্যদিকে দিক নির্দেশনার অভাব বিএনপিকে দাঁড়াতেই দেয়নি ৮ তারিখে। ভবিষ্যতে দলের কর্মপরিকল্পনা কি হয় তা দেখার বিষয়। ৯ তারিখের বিক্ষোভ সমাবেশও ছিল বিক্ষিপ্ত। দলীয় মহাসচিব নেতা কর্মীদের ছেড়ে যখন পলায়ন করে তখন দলের রাজনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। বায়তুল মোকাররমের সামনে তারা ৩-৫ মিনিটের বিক্ষোভ করে, যা ফেলে জিপ নিয়ে চলে যান মির্জা ফখরুল। পরবর্তীতে সেটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। নাশকতা অব্যাহত রাখার প্রয়াসও ছিল বিএনপির। রায় পরবর্তী সহিংসতা তারা দেখিয়েছে। রাস্তায় যানবাহনে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ- এগুলো মিডিয়া ফুটেজে ধরা পড়েছে।

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিতর্কের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছেন। সরকারি দলের সাথে সখ্যতা গড়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাচ্ছেন এ নেতা। চতুর্মুখী বিতর্কের পালে আবদ্ধ এখন বিএনপি।

দুর্নীতি দেশের উন্নয়ন ও প্রগতির অন্তরায়। কোন ধরণের দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দেয়ার সুযোগ নেই কারণ তাতে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। খালেদা জিয়াকে কোন রাজনৈতিক দন্ড দেয়া হয় নাই, দেয়া হয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহারের সাজা। এ রায় দুর্নীতির দমনের জন্য, দৃষ্টান্ত কায়েমের জন্য। যে দেশে একজন এত প্রভাবশালীর নিরপেক্ষ বিচার হচ্ছে, সে দেশ বিচারিক কাজে দৃষ্টান্ত আকারে থাকবে।
অনেকেই বলছেন, অন্যায়ের সাজা হওয়া বাঞ্চনীয়। মিথ্যা কখনো সত্যের উপর জয়ী হয় না। প্রভাবশালী খালেদা জিয়ার রায় প্রমাণ করে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধকে নিরুৎসাহী করতে এই রায় মাইলফলক আকারে থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ জনতার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিএনপির শীর্ষ নেতারা

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির উপায় বের করতে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম কথা বলতে পারেন বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে রয়েছেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাব হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, মেজর জেনারেল (অব) রুহুল আলম চৌধুরী, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ প্রমুখ।

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদ মো. আবদুল কাইয়ুম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, গোলাম আকবর খন্দকার, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, এম এ হক, অ্যাড তৈমুর আলম খন্দকার, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফরহাদ হোসেন ডোনার প্রমুখ।

যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন এ্যানি চৌধুরী প্রমুখ।

গুরুতর অসুস্থ থাকায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বৈঠকে আসেননি। এবং অসুস্থ থাকায় বৈঠকে উপস্থিত হয়ে চলে যান স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় রোটারী ক্লাবের উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

জি.এম আবুল হোসাইন : রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরা’র উদ্যোগে মাল্টিডিস্ট্রিক প্রজেক্টের আওতায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরা’র ক্লাব প্রেসিডেন্ট এনছান বাহার বুলবুলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রোটা. পিপি আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরা জন্মলগ্ন থেকে আত্মমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। তারা নিজেদের অর্থায়নে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে এগিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস, রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরা’র সেক্রেটারী এ্যাড. শাহনওয়াজ পারভীন মিলি, রোটা. আখতারুজ্জামান কাজল প্রমুখ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, রোটা. পিপি প্রফেসর ভূধর সরকার, রোটা. পিপি ডা. সুশান্ত ঘোষ, রোটা. পিপি মাহমুদুল হক সাগর (পিএইচএফ), রোটা. পিপি সৈয়দ হাসান মাহমুদ, রোটা. পিপি আশরাফুল করিম ধনি, রোটা. মো. এমদাদ হোসেন, রোটা. মনিরুজ্জামান টিটু, রোটা. মীর মোশারফ হোসেন মন্টু, রোটা. মো. অলিউল্লাহ, রোটা. মাহফুজা রুবি, রোটা. ফারহা দিবা খান সাথী, রোটা. এ্যাড. সেলিনা আক্তার শেলী, রোটার্যাক্ট ক্লাব অব সাতক্ষীরা’র প্রেসিডেন্ট জি.এম আবুল হোসাইন, সেক্রেটারী শেখ কাইয়ুম রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, স্কুল ব্যাগ প্যাক প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান রোটা. পিপি মাগফুর রহমান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে কালিন্দীর চরে কুকুরে খাচ্ছিল কাশিমাড়ীর আবু বক্কারের মৃতদেহ

পলাশ দেবনাথ, নুরনগর থেকে: শ্যামনগর উপজেলার নুরনগরের দুরমুজখালী সীমান্ত নদী কালিন্দীর চর থেকে আবু বক্কার নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সে শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাঠালবাড়ীয়া গ্রামের মোঃ আব্দুল গনি তরফদারের ছেলে আবু বক্কার সিদ্দীক (১৯)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুরমুজখালী গ্রামের নজরুল গাজীর ছেলে ফয়সাল (১২) প্রতিদিনের ন্যায় সীমান্ত নদী কালিন্দীর চরে কাকঁড়া ধরার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছিল। হঠাৎ সে দূরে দেখতে পায় কয়েকটা কুকুর কিছু একটা খাচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখতে পায় একটা মানুষের মৃতদেহ। ফয়সাল এলাকার কয়েক জন পথচারীকে জানায়। এর পর দ্রুত এলাকায় এখবর ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত লোক ঐ স্থানে হাজির হয়। সেখানে নিহতের বড় ভাই মোঃ মনিরুল ইসলাম ও হাজির ছিল। সে এই প্রতিবেদককে জানায়, আমার ছোট ভাই আবু বক্কার ৩/৪মাস আগে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিল ইট ভাটায় কাজ করার জন্য। ভাটায় কাজ করা অবস্থায় আবু বক্কার অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বাড়ি ফেরার জন্য গত ৫ই ফেব্রুয়ারি সোমবার দুরমুজখালী সীমান্তের ওপারে চাড়ালখালী এলাকায় এসে বাংলাদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে পর্যন্ত মোবাইল ফোনে কথা বলেছে। তিনি আরও বলেন, আমার ভাই বলেছিল, ভারত থেকে ধুড় পারাপারকারী শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা গ্রামের নেপাল এর মাধ্যমে ৬হাজার টাকা চুক্তিতে বাংলাদেশে পৌঁছে দেওয়ার কথা। আমি তার পর থেকে আর আমার ভাইয়ের মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। এর পর থেকে আমিসহ আমার পরিবারের লোকজন ৫দিন যাবৎ দুরমুজখালী সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় আবু বক্কারকে খুঁজতে থাকি। শনিবার সকাল ১১টার দিকে জানতে পারি আমার ভাইয়ের মৃতদেহ দুরমুজখালী কালিন্দী নদীর চরে পড়ে আছে। এখবর শ্যামনগর থানা পুলিশকে অবহিত করলে শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলী তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে আসেন এবং লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশাল ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টে জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে তিন শতাধিক রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ২৯.৩ ওভার টিকতে পেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রায় আড়াই দিনেই টেস্ট হারল মাহমুদউল্লাহর দল। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১২৩ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ২১৫ রানের বিশাল জয়ে টেস্ট সিরিজ ১–০ ব্যবধানে জিতল শ্রীলঙ্কা।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চতুর্থ ইনিংসে এত রান (৩৩৯) তাড়া করে কোনো দলই জিততে পারেনি। এমন কঠিন লক্ষ্যের পিছু ছুটে বাংলাদেশ হাস্যকর ব্যাটিং করেছে। দলটির প্রথম ইনিংসে শেষ ৫ উইকেট পড়েছিল মাত্র ৩ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য তারা এর চেয়ে ভালো করেছে। ২৩ রানে পড়েছে শেষ ৬ উইকেট!

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই তামিম ইকবালকে হারায় বাংলাদেশ। দিলরুয়ান পেরেরার প্রথম বলেই এলবিডব্লিউর শিকার হন তামিম (২)। রিভিউ নিলেও তা কাজে লাগেনি। অন্য প্রান্তে বেশ দ্রুতলয়ে খেললেও ইমরুল কায়েস বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। বলা ভালো, ইমরুল আরেকটু ধৈর্য ধরলেও পারতেন। ১১তম ওভারে রঙ্গনা হেরাথকে লং অফ দিয়ে ছক্কা মারার পরের বলেই ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। এরপরই শুরু হয় আসা–যাওয়ার মিছিল। মধ্যাহৃ বিরতিতে যাওয়ার আগে ১৪ ওভারে শুধু তামিম–ইমরুলকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে ১৫.৩ ওভারেই পড়েছে বাকি ৮ উইকেট!

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই ফিরে যান মুমিনুল হক। এ সেশনে তৃতীয় ওভারে প্রথম বলেই হেরাথের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুমিনুল (৩৩)। এরপর মুশফিকের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন লিটন দাস। ২১তম ওভারে আকিলা ধনঞ্জয়ার লাফিয়ে ওঠা বল তাঁর ব্যাটের হাতলে লেগে জমা পড়ে ফিল্ডারের হাতে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর কাঁধে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তাঁর ইনিংস টিকেছে মাত্র ৮ বল। ধনঞ্জয়ার বলে কিছুটা এগিয়ে এসে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বলের ফ্লাইট মিস করে স্লিপে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ (৬)।

মাহমুদউল্লাহ ফিরে যাওয়ার পরের ওভারেই হেরাথকে উইকেট দেন মুশফিকুর রহিম। তাঁর ঘূর্ণিতে বোকা বনে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন মুশফিক (২৫)। তিনি ফিরে যাওয়ার পরের ওভারেই জোড়া উইকেট তুলে নেন ধনঞ্জয়া। প্রথম বলে সাব্বিরকে তুলে নেওয়ার পর চতুর্থ বলে ফিরিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাককে। বাংলাদেশের ইনিংসে লেজ মুড়িয়ে কাজটুকু সেরেছেন হেরাথ। শেষ উইকেট তাইজুলকে তুলে নিয়ে দারুণ এক কীর্তি গড়েছেন শ্রীলঙ্কার এ বাঁহাতি স্পিনার। টেস্টে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে ওয়াসিম আকরামকে টপকে হেরাথই এখন সর্বোচ্চ (৪১৫) উইকেটশিকারি। অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমে কীর্তি গড়েছেন লঙ্কানদের আরেক স্পিনার আকিলা ধনঞ্জয়াও। শ্রীলঙ্কার হয়ে অভিষেক টেস্টে আকিলার বোলিং ফিগারই (৩৯ রানে ৮ উইকেট) সেরা।

আসলে দুই লঙ্কান স্পিনারকে দুহাত ভরে সাফল্য উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানেরাই। তার একটা তুলনামুলক পরিসংখ্যান দেওয়া যায়। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৭.৭ শতাংশ ‘ফলস শট’ খেলেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে যেহেতু লড়াইটা আরও কঠিন তাই ধৈর্য নিয়ে খেলার কথা ছিল ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, এই দ্বিতীয় ইনিংসেই ‘ফলস শট’–এর হার ২১.৪ শতাংশ! যে কারণে মুড়ি–মুড়কির মতো পড়েছে উইকেট আর তাতে ভুলে যাওয়ার মতো এক কীর্তিও গড়েছে বাংলাদেশ—শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চতুর্থ ইনিংসে এই ১২৩ রানই সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিলিস্তিনকে দ্রুত স্বাধীন রাষ্ট্রে দেখতে চায় ভারত

ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন সফরে রয়েছেন ভারতের প্রাধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তরফে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মোদিকে৷

ফিলিস্তিনের চিরশত্রু দেশ ইসরায়েল৷ ইসরায়েলের ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রতি অতি দৃঢ় হয়েছে৷ তবে জাতিসংঘের অধিবেশনে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে গিয়েই স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে ভোট দেয় ভারত৷

শনিবার রামাল্লা শহর থেকে বিশেষ বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত চায় দ্রুত স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হক ফিলিস্তিন৷ ফিলিস্তিনে ঝটিকা সফর শেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবেন নরেন্দ্র মোদি৷ তার সফর ঘিরে এই আরব দেশটিতে ছড়িয়েছে উদ্দীপনা৷

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
টাইগারদের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে ব্যাপক পরিবর্তন

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার ঘোষিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে নতুন মুখ পাঁচ জন। দলে ফিরেছেন তিন জন। সবশেষ সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন আট জন।

নতুন মুখগুলো হলো, অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান, আফিফ হাসান, পেস বোলিং অলরাউন্ডার আরিফুল হক, পেসার আবু জায়েদ ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসান। সবাই পেয়েছেন বিপিএলে ভালো খেলার পুরস্কার।

চোটের জন্য টেস্ট সিরিজে খেলতে না পারা সাকিব আল হাসান টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দেবেন দলকে। এছাড়া চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন তামিম ইকবাল ও মুস্তাফিজুর রহমান। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দলে ফিরেছেন পেসার আবু হায়দার।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সবশেষ সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসির হোসেন, শফিউল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ।

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-২০ অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টি-২০ অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ দল: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, আবু হায়দার, আবু জায়েদ, আরিফুল হক, মেহেদি হাসান, জাকির হাসান, আফিফ হোসেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যুবকের গলিত লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানা পুলিশ আবু বক্কর সিদ্দিক (১৯) নামে এক যুবকের অর্ধ গলিত ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে। শনিবার বেলা ৩টার দিকে সীমান্ত কালিন্দী নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। সে শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাঁঠাল বাড়ীয়া গ্রামের আব্দুল গণি গাজীর ছেলে। পারিবারিক সূত্র মতে, সে মাস দুয়েক আগে ভারতে গিয়েছিল কাজের জন্য। সেখানে অসুস্থ’ অবস্থায় বাড়ীতে ফেরার পথে ভারতীয় বিএসএফ এর ধাওয়া খেয়ে কালিন্দী নদীতে পড়ে ডুবে মারা যায়। শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ মান্নান আলী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের কাছে জানতে পেরে ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবকের অর্ধ গলিত ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য সাতক্ষীরা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest