জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে সাতক্ষীরায় বিআরটির রোড শো

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের উদ্যোগে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস – ২০২৫’ উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে এই রোড শো শুরু হয়। পুলিশ ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএ সাতক্ষীরার যৌথ প্রয়াসে আয়োজিত এই রোড শোতে স্থানীয় জনগণ ও পথচারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পরিলক্ষিত হয়।

বিআরটিএ খুলনার বিভাগীয় পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিয়াউর রহমানের দিক নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত এই রোড শোতে পথচারী, যাত্রী এবং যানবাহন চালকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া, বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক সকলের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক মাইকিং এর মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিআরটিএ’র সাতক্ষীরার সার্কেলের উচ্চমান সহকারী মোঃ নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ ও উপস্থিত সাধারণ মানুষ।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বিআরটিএ’র এই উদ্যোগ সড়ক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং সঠিক যানবাহন পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। এই অবস্থায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। রোড শোতে অংশগ্রহণকারীরা এই ধরনের উদ্যোগকে আরো সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানান।

সাতক্ষীরার স্থানীয় মানুষ ও সাধারণ জনগণ বিআরটিএ’র এই কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছে এবং তারা আশা প্রকাশ করেছে যে, এই ধরনের উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে, যা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় বালু বিক্রয় নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪ : ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মদনপুর গ্রামে অবৈধভাবে বালু বিক্রয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একই পরিবারের দুইজনসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহতদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

রোববার (১৩ অক্টোবর) বিকালে তালা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ঈশিকা আরজু লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

তিনি জানান, গত ১৬ অক্টোবর বিকাল ৩টার দিকে মৃত ইউছুপ শেখের স্ত্রী রুপিয়া বেগম অবৈধভাবে সোহাগ শেখের পুকুর থেকে বালু বিক্রয় করছিলেন।

শিরাশুনি গ্রামের নজরুল ইসলামের বালু তোলার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু হলে পুকুরের মালিক সোহাগ শেখ বিষয়টি নিয়ে তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর প্রশাসনের নির্দেশে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর ঘটনাস্থলে গেলে রুপিয়া বেগম সোহাগ শেখের পক্ষের লোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তার ছেলে সাহাদ শেখ শাবল দিয়ে আঘাত করে তাহফিমুর রহমানের মাথা ফাটিয়ে দেন।

এতে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়। এ সময় ঈশিকার বাবা শেখ আওছাফুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আজিজ ও সোহাগ হোসেনকেও মারধর করা হয়। আহতদের তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর শেখ আওছাফুর রহমান বাদী হয়ে সাহাদ শেখ, রুপিয়া বেগম ও রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে তালা থানায় মামলা (নং–০৬) দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঈশিকা আরজু অভিযোগ করে বলেন, রুপিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন তিনি। প্রতিবাদ করায় তাদের পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা প্রদানের জোর দাবি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
লাবণ্যবতী খালের উপর কাঠের ব্রিজটি যেন মৃত্যুর ফাঁদ
নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা ও দেবহাটা উপজেলার সীমান্তবর্তী লাবণ্যবতী খালের উপর কাঠের ব্রিজটি যেন মৃত্যুর ফাঁদ।যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা।তাতে জীবনও বিপন্ন হতে পারে মনে করেন স্থানীয়রা। কতৃপক্ষের অযত্ন আর অবহেলায় ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে কাঠের পাটাতন ভেঙে জর্জরিত হয়ে পড়েলেও তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।তাতে বিঘ্নিত হচ্ছে দুটি উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের লাখেরও অধিক লোকের যাতায়াত ব্যবস্থা।তাছাড়া শ্রীরামপুর কলেজ, সরকারি প্রাইমারি স্কুল, কুলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে ।
স্থানীয় বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ নুর ইসলাম জানান, শুনেছি শ্রীরামপুর-কুলিয়া গ্রামকে একত্রিত করা কাঠের ব্রিজটি ঠিক করবে।কিন্তু সেটিতো ২০ বছর হয়ে গেল। এখানো ঠিক হলো না।আমি জানি না আমার জীবদ্দশায় ব্রিজটি ঠিক দেখে যেতে পারবো কি না? তবে আশায় আছি।
তিনি আরও বলেন, ব্রিজটি দিয়ে ভোমরা স্থলবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমিক, ব্যাবসায়ীসহ স্কুল-কলেজে পড়াশুনারত শিক্ষার্থীরা পারাপার হয়।কিন্তু ব্রিজটি ভগ্ন ও ভেঙে পড়ায় তাদের যাতায়াত দারুণ ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন ব্রিজটি নতুন ভাবে নির্মাণ করে জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থাটি নিরাপদ করার।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শ্রীরামপুর বাজারে ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেবহাটা উপজেলার কুলিয়ায় বাড়ি হলেও আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সদর উপজেলার শ্রীরামপুর বাজারে। আমার দিনরাত যেকোনো সময় আসা-যাওয়ার একমাত্র পথ এই ব্রিজটি।কিন্তু সেটি জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। কতৃপক্ষের অবহেলার কারণে এমনটি হয়েছে তার দাবি।
শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন,আমি ও আমার বন্ধুদের স্কুলে আসা-যাওয়ার ব্রিজটি মিলা দিন ভেঙে গেছে। এখনো কেউ ঠিক করে দেয়নি।আমরা একটা ভালো ব্রিজ চায়।তা না হলে আমরা সময়মতো স্কুলে আসতে পারবো না।
স্থানীয় ভোমরা ইউপির ৪ নম্বার ওয়ার্ড সদস্য মো.নেছার উল্লাহ বলেন,ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন সময় ব্রিজটি মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।কিন্তু তদারকির অভাবে ব্রিজটি আবার ভগ্ন হয়ে ভেঙে পড়েছে।জরাজীর্ণ ব্রিজের দু’ধারে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে জনগণের পথ আটকানো থাকলেও ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছে লাবণ্যবতী খালের দু’ধারের বাসিন্দারা।স্বাধীনতা পরবর্তী নির্মিত ব্রিজটি সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলার সীমান্তবর্তী মানুষের পারাপারের একমাত্র অবলম্বন।দুহাজার সালের বন্যায় ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আবারও সংস্কার করা হয়।তিনি জোর দাবি করে বলেন, লাবণ্যবতী খালের উপর নির্মিত কাঠের ব্রিজটি পুনরায় আধুনিক অবকাঠামো দিয়ে নির্মান করা হলে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের পারাপারে অনেক উপকার হবে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা-২ আসনে এবি পার্টির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জি এম শাকিল

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ আসনে এবি পার্টির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জি এম সালাউদ্দিন শাকিল (এমএ, এলএল,বি,এলএল.এম)। গত ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ঢাকার পল্টনের ফারইস্ট টাওয়ার মিলনায়তনে ১০০ আসনে মানোনীত প্রার্থীগনের মতবিনিময় সভায় সাতক্ষীরা-২ আসন থেকে তাকে মনোনীত করা হয়।

জি এম সালাউদ্দিন শাকিল আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবিপার্টি) জেলা সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ব্যবসায়ী পেশার সাথে জড়িত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি সমাজের নির্যাতিন নিস্পেষিত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

এবিষয়ে জি এম সালাউদ্দিন শাকিল বলেন, দলীয়ভাবে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে সাতক্ষীরা-২ আসনের সর্বস্থরের মানুষের উন্নয়নে কাজ করবো। আসনটিকে একটি মডেল আসন হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখি।

বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার-যুবতীদের কর্মসংস্থানে কাজ করবো। সে কারণে আগামী নির্বাচনে আমার বাংলাদেশ পার্টি(এবি) পার্টির দলীয় প্রতিক ঈগল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বর্ণিল সাজে সাতক্ষীরায় লেকভিউ রাগবি সেভেনস ট্রফি’র উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি : ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বর্ণিল আয়োজনে লেকভিউ রাগবি সেভেনস ট্রফি- ২০২৫ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে রাগবি ক্লাবের আয়োজনে উক্ত লেকভিউ রাগবি সেভেনস ট্রফি’র উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা জেলা রাগবি ক্লাবের সভাপতি শেখ তানজিম কালাম তমাল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিঞ্চুপদ পদ পাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা রাগবি ক্লাবের সভাপতি শেখ তানজিম কালাম তমাল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসান, তুফান কোম্পানী লিমিটেড এর পরিচালক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলা, বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আনিস-উজজামান, আবু মো. সাজ্জাদ সাধারণ সম্পাদক আখতার-উজ-জামান, সদস্য সরোয়ার রাকিব,আশরাফ উদ্দীন,
এশিয়া রাগবি কর্মকর্তা মাহাফিজুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ফিফা রেফারি তৈয়েব হাসান শামসুজ্জামান, সিরাজুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য মো. মোফাসসিনুল তপু, মোহিনী তাবাসসুম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর তাজুল ইসলাম রিপন, সাতক্ষীরা রাগবি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, মো. ইমরাবন,

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাগবি বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খেলা। এ ধরনের প্রতিযোগিতা জেলা পর্যায়ে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। ক্রিকেট ও ফুটবলে যেভাবে সাতক্ষীরার খেলোয়াড়রা দেশের মান উজ্জ্বল করেছে একইভাবে রাগবি খেলায় সাতক্ষীরার খেলোয়াররা দেশের সুনাম বয়ে আনবে। উদ্বোধন খেলায় সাতক্ষীরা বনাম গোপালগঞ্জ জেলা অংশ নেয়।

এছাড়া প্রতিযোগিতায় মাগুরা জেলা, নড়াইল জেলা, নীলফামারী জেলা ও যশোর জেলা দল অংশ নিবেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন,রাগবি ধারাভাষ্যকর আরিফ শাহাদাত আরমান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পিআর পদ্ধতির দাবিতে সাতক্ষীরায় সেমিনার

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : পিআর পদ্ধিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ অক্টবর বিকাল ৪:৩০ মিনিটে শহরের কাজী শামসুর রহমান মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে হবে।’ নির্বাচনে রাজনৈতিক পেশিশক্তি ও কালো টাকার প্রভাব থেকে মুক্ত করতে বাংলাদেশে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচন প্রয়োজন। এতে যে দল যত শতাংশ ভোট পাবে, সংসদে সেই অনুপাতে আসন পাবে। ফলে কেউ এককভাবে মাতবর করতে পারবে না।’

সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ওমর ফারুক।
জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারী মাওলানা রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পিআর পদ্ধিতে নির্বাচনের দাবী জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এড.আজিজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী,
শহর আমীর জাহিদুল ইসলাম, সদর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা হাবির রহমান, সদর সেক্রেটারী মাওলানা হাবিবুর রহমান।
সেমিনারে বক্তরা বলেন,দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় পিআরের বিকল্প নেই।

সেমিনারে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলি, চিকিংসাবিদ, আলোম ওলামাসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সভাস্থল উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে আজাবা শাকের মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় খাদ্য ভাণ্ডার ও অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আজাবা শাকের মেলা ও রান্না প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় সবুজ সংহতি ও স্থানীয় জনসংগঠন এই মেলার আয়োজন করে।

সিক্সটিন ডেজ অব গ্লোবাল অ্যাকশন অন এগ্রোইকোলজি ২০২৫ ও বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলায় শীলতলা গ্রামের স্থানীয় পাঁচটি জনসংগঠনের ১০ জন সদস্য অচাষকৃত উদ্ভিদের প্রদর্শনী এবং ১০ জন রান্না প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

প্রদর্শনীতে থানকুনি, হেলাঞ্চ, শাপলা, গাদোমনি, আদাবরুন, পেপুল, ইপিলইপিল, দুর্বা, তুলশি, সেঞ্চি, বামনআটি, বিলকুমারী, কলমি, কচুশাক, নাটা, অশ^গন্ধ্যা, শিষাকন্দা, ঘুমশাক, ডুমুর, আকম্দ, মাটিফোড়া, তিতবেগুন, নিমুখা, বৌনুটি, ধুতরাসহ ৯০ প্রজাতির অচাষকৃত উদ্ভিদ স্থান পায়।

এসময় অংশগ্রহণকারীরা এসব অচাষকৃত উদ্ভিদের গুণাগুণ, প্রাপ্তিস্থান, কোন মৌসুমে পাওয়া যায়, কোনটি মানুষ ও প্রাণীর খাবার এবং কিভাবে খাওয়া যায় তা তুলে ধরেন।

এছাড়া রান্না প্রতিযোগিতায় স্থানীয় নারীরা বিভিন্ন শাক, মূল ও কন্দজাত উপাদান দিয়ে ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুত করেন। পাঁচ সদস্যের বিচারকমণ্ডলী স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও উপস্থাপনার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার বিচার করেন।

আজাবা শাকের মেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক অচাষকৃত উদ্ভিদ প্রদর্শন করে ১ম স্থান অধিকার করেন মালতি রানী, ২য় শিখা রানী ও ৩য় পৃথা রানী।

এছাড়া রান্নায় প্রতিযোগিতায় ১ম হন ইতি রাণী, ২য় রিংকু রাণী ও ৩য় অঞ্জলী রাণী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সবুজ সংহতির সভাপতি জিল্লুর রহমান। বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম, স্থানীয় ইউপি সদস্য কমলা রানী মৃধা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজীব বাছাড়, কৃষাণী অল্পনা রানী, কৃষাণী মিতা রানী, কৃষক চিত্তরঞ্জন, বারসিক কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, বিশ্বজিৎ মন্ডল, মফিজুর রহমান, মিলন হোসেন, বরষা রানী প্রমুখ।

এতে জাতীয় কৃষিপদক প্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল ছিলো চাষ করা অচাষকরা নানান শস্য ফসলে ভরা ছিলো। বর্তমানে আধুনিক কৃষি ও বাজর নির্ভর খাদ্যাভ্যাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অচাষকৃত উদ্ভিদের প্রাপ্তিস্থান বিলুপ্ত, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এসকল প্রাণবৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে। কিন্তু এগুলোই গ্রামীণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির প্রধান উৎস। এসব উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সংকটের মুহূর্তে জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা কালবেলার সাহসী ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে

ডেস্ক রিপোর্ট :
‘সত্য, সুন্দর, সাহস’ এই স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে দৈনিক কালবেলা তিন বছর অতিক্রম করে চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরা শহরের পিজ্জাওলজি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সম্মাননা স্বারক প্রদান অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালবেলার জেলা প্রতিনিধি গাজী ফারহাদ, এবং সঞ্চালনা করেন মানবজমিনের জেলা প্রতিনিধি এস. এম. বিপ্লব হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন-সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খান, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এনডিসি মো. তাজুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম বাবলা, খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদুল হাসান (পলাশ), প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, দৈনিক দক্ষিণের মশালের সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক ই-এলাহী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মো. ইমরান হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তির পিতা ও ক্রীড়া সংগঠক খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী আবু আফফান রোজ বাবু, জনপ্রিয় ইসলামিক আলোচক হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসাইন মোমিন, শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম আঙ্গুর, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, ডিবিসি নিউজের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম. বেলাল হোসাইন, যমুনা টিভির আকরামুল ইসলাম, যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি মো. মুজাহিদুল ইসলাম, এনটিভির এস. এম. জিন্নাহ, সাংবাদিক আমিনুর রহমান, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আল মামুন, শহর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শাহিন ইসলাম, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালবেলার তালা প্রতিনিধি এস. এম. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কালবেলা তার বস্তুনিষ্ঠ, নির্ভরযোগ্য ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পত্রিকাটি জনগণের পক্ষে নির্ভীক সাংবাদিকতার উদাহরণ স্থাপন করে আসছে।

তাঁরা আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কালবেলা নির্ভয়ে ছাত্র-জনতার পক্ষেই সংবাদ প্রকাশ করেছে। সংকটের মুহূর্তে জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা এ পত্রিকার সাহসী ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এছাড়া বক্তারা কালবেলা ডিজিটালের সফল অগ্রযাত্রার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দ্রুত, নির্ভুল ও প্রামাণ্য সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে কালবেলা আজ তরুণ ও সচেতন পাঠকমহলে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।

সবশেষে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, কালবেলা ভবিষ্যতেও সত্য, ন্যায় ও জনগণের অধিকার রক্ষার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

এদিকে অনুষ্ঠানে জেলার ধর্মীয়, সামাজিক সেবায় নেতৃত্ব দেওয়ায় ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সেবায় পাটকেলঘাটার তৈলকুপি দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুল হামিদ, চিকিৎসা সেবায় মানবতার দৃষ্টান্ত রাখায় ডা. মো. এবাদুল্লাহ ও ডা. মো. মাহমুদুল হাসান (পলাশ), ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাহসী নেতৃত্বের জন্য জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মো. ইমরান হোসেন, জেলার বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স ও সাংবাদিক হিসেবে যমুনা টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আকরামুল ইসলামকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

এছাড়া সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সেবা ও স্বেচ্ছাসেবায় অনন্য ভূমিকার জন্য ১১টি সংগঠনকে সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হয় শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থা, ভিবিডি সাতক্ষীরা, প্রথম আলো বন্ধুসভা, বিডি ক্লিন সাতক্ষীরা, শরুব ইয়ুথ টিম, সুন্দরবন স্টুডেন্টস সলিডারিটি টিম, উদারতা যুব ফাউন্ডেশন, জনকল্যাণ সংস্থা, আমাদেরটিম (একটি মানবিক পরিবার), হাজরাকাটি ব্লাড ব্যাংক এবং আল-মুমিন ফাউন্ডেশন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest