দেবহাটায় ১৫০ বোতল ফেনসিডিল আটক

কেএম রেজাউল করিম, দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটা থানা পুলিশের অভিযানে ১৫০ বোতল ফেনসিডিল আটক হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেবহাটা ভূমি এলাকা থেকে উক্ত ১৫০ বোতল ফেনসিডিল আটক করা হয়। দেবহাটা থানার এসআই আব্দুল কাদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবহাটা সদর ভূমি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি রাস্তার পার্শ্ববর্তী স্থানে বস্থাভর্তি পরিতক্ত অবস্থায় জব্দ করে। এসময় কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান তিনি। দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী কামাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে বলেন, দেবহাটা সদর ভূমি অফিস এলাকা থেকে জব্দকৃত ১৫০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে। তবে জব্দকৃত মাদকের মালিকের ব্যবপারে খবর নেওয়া এবং মাদক আইনের মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সমাপনী প্রশ্নপত্রে ভুল : বরখাস্ত হলেন অস্তিত্বহীন কর্মকর্তা !

চলমান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে ভুলের জন্য গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এই নামের কোন কর্মকর্তা সাদুল্ল্যাপুরে নেই।

চেষ্টা করেও অস্তিত্বহীন কর্মকর্তাকে বরখাস্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত ২১ নভেম্বর সিলেট বোর্ডের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ পরীক্ষার ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে অর্ধ শতাধিক ভুল ছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব ভুল ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সমালোচনায় মুখর ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করে আদেশ জারি করা হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫’ অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে ২৩ নভেম্বর থেকে আব্দুল মান্নানকে বরখাস্ত করা হলো।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, প্রাথমিক সমাপনীতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে ময়মনসিংহের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি(নেপ)। নেপ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ভুলেভরা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়িত্বে ছিলেন। সেই অনুযায়ী বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে।

গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানান, এখানে আব্দুল মান্নান নামে কোন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নেই।

সাদুল্ল্যাপুরের আরও কয়েকজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, এই নামে কাউকে তারা চেনেন না।
সাদুল্ল্যাপুরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী ছিদ্দিক বলেন, ‘এই নামে আমাদের উপজেলা কিংবা জেলায় কোন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আছেন বলে আমি শুনিনি।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

ওখানে এই নামে কোন কর্মকর্তা আছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি সেটা জানি না। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে নেপ। আর বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়। এখানে আমাদের কিছু নেই।’

এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামানকে দুটি নম্বর থেকে ২০ বার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরিচয় জানিয়ে মেসেজ পাঠানো হলেও সাড়া দেননি। অনেকবার ফোন দেয়া হলেও ধরেননি নেপের মহাপরিচালক মো. শাহ আলম।

নেপের ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মো. আব্দুল হাই বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ফোনে এ বিষয়ে বলেন, ‘এটা মহপরিচালক বলতে পারবেন। মন্ত্রী (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান) আমাদের এখানে এসেছেন। মহাপরিচালক তাকে নিয়ে ব্যস্ত আছেন।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চলে গেলেন বারী সিদ্দিকী

সঙ্গীতশিল্পী বারী সিদ্দিকী আর নেই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

বারী সিদ্দিকীর ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বারী সিদ্দিকী (জন্ম ১৫ নভেম্বর ১৯৫৪ খ্রিঃ) বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বংশী বাদক। তিনি মূলতঃ গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান করে থাকেন। তিনি তার গাওয়া ‘শুয়া চান পাখি, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘তুমি থাকো কারাগারে’, ‘রজনী’ প্রভৃতি গানের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় এক সঙ্গীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষ সহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। ওস্তাদ আমিনুর রহমান একটি কনসার্টের সময় বারি সিদ্দিকীকে অবলোকন করেন এবং তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী ছয় বছর ধরে তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন। সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাথে যুক্ত হন। ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল মিউজিক এরুপর পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ও বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সাথে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন।তিনি গোপাল দত্ত এবং ওস্তাদ আমিনুর রহমান থেকে লোক এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে পাঠ নিয়েছেন। মূলতঃ বংশী বাদক বারী সিদ্দিকী [[[হুমায়ুন আহমেদ|কথাসাহিত্যিক ও চিত্রনির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের]] প্রেরণায় নব্বুইয়ের দশকে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন এবং অল্পদিনেই বিরহ-বিচ্ছেদের মর্মভেদী গনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন। দৈনিক আমার দেশ সংবাদপত্রকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিদ্দিকী বলেন, “হুমায়ূন আহমেদ আমার গাওয়ার পেছনে যথেষ্ট উত্সাহ দিয়েছিলেন। মূলত তার সাহস নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস পেয়েছি।”

১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে বারী সিদ্দিকী প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘রঙের বাড়ই’ নামের একটা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে প্রথম সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরপর ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ূন আহমেদের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্রে ৭টি গানে কণ্ঠ দেন। এর মধ্যে “শুয়া চান পাখি” গানটির জন্য তিনি অতিদ্রুত ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাঁশি সম্মেলনে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

বারী সিদ্দিকী বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ও গানের কথা লিখেছেন।

২০১৩ খ্রিস্টাব্দে সিদ্দিকী ফেরারী অমিতের রচনা ও পরিচালনায় পাগলা ঘোড়া নাটকে প্রথমবারের মত অভিনয় করেন।

https://www.youtube.com/watch?v=mMC8PPZBvlo

https://www.youtube.com/watch?v=gljjN6qyQ8Y

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ব্রিটেন-আমেরিকাতেও গুম হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, অন্য দেশেও গুম হচ্ছে। গুম তো বহুভাবেই হচ্ছে। অনেকে ফেরতও আসছে। কিন্তু ফেরত আসা বা খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে বড় করে খবর হয় না।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন পরিচালিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সালের একটি হিসাবে ব্রিটেনে ২ লাখ ৭৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়ে গেল। তার মধ্যে ২০ হাজারের কোনো হদিসই পাওয়া গেল না। আমেরিকার অবস্থা আরও ভয়াবহ। বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের দেশ। এইটুকু ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে এত মানুষের অবস্থান। তাদের সেবা ও আর্থসামাজিক উন্নতি আমরা করে যাচ্ছি। অথচ এই উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা কত। তাদের সব কিছু আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, তারপরও সেই দেশে এত লোক গুম হয়, তার খোঁজ পাওয়া যায় না। সেই তুলনায় আমরা অবস্থা অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে রেখে যখন কোনো ঘটনা ঘটছে সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ নিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব, এটা অস্বীকার করছি না। বিরোধীদলীয় নেতা গুমের কথা বলেছেন। এই গুম তো বহুভাবেই হচ্ছে। অনেকে ফেরতও আসছে। কিন্তু ফেরত আসা বা খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে বড় করে খবর হয় না।’

কারও নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একজন স্বনামধন্য আঁতেল ‍গুম হয়ে গেলেন। পরে দেখা গেল উনি গুম হননি। উনি নিজে নিজেই খুলনায় গেলেন। পরে তাঁকে খুঁজে পাওয়া গেল। এর দোষটা আমাদের। এ ধরনের আরও অনেক ঘটনা তো ঘটে যাচ্ছে। আমি তার নামধাম বলতে চাই না।’

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে কীভাবে? যারা জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে? ‍যারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে, তাদের কি জনগণ ভোট দেবে? জনগণ কি ভোট দিয়ে ওই আপদ টেনে নিয়ে আসবে? অন্তত যাদের বিবেক আছে তারা এদের কোনো দিন ভোট দেবে না। কাজেই স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। বড় বড় কথা বলে লাভ নেই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা ফেরত শুরু

রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া শুরুর বিষয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে একটি ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট’ বা ‘ব্যবস্থা’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল দুপুরে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির দফতরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

নেপিদোতে স্বাক্ষরিত এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ‘সমঝোতা স্মারক’ বা ‘চুক্তি’ বলা হয়নি, বরং একে ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট’ বা ‘ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই মাস ধরে চলা আলোচনার মাধ্যমে এটি স্বাক্ষরিত হয়। ২২ নভেম্বর সকালে নেপিদোতে উভয় দেশের কর্মকর্তরা এর খসড়ার ব্যাপারে আলোচনা করেন। বিকালে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের ইউনিয়ন মিনিস্টার চ টিন্ট সোয়ে এর বিভিন্ন অসামঞ্জস্য দূর করেন। পরে গতকাল বেলা ২টায় তারা এতে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্দেশ্যে তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করা হবে এবং দ্রুততম সময়ে আরেকটি চুক্তি বা সমঝোতা স্বাক্ষরের মধ্যে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া চলবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল সকাল ১০টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা দুই দেশের বাণিজ্য, জ্বালানি ও বিসিআইএমের আওতায় কানেকটিভিটি নিয়ে কথা বলেন।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ও টিন্ট সোয়ে ১৯৯৮ সালে স্বাক্ষরিত নাফ নদের উত্তরাংশে সীমান্ত পুনশ্চিহ্নিতকরণ বিষয়ক একটি চুক্তি রেটিফিশেন-সংক্রান্ত কাগজপত্র হস্তান্তর করেন। ২০০৭ সালে সম্মত হওয়া নাফ নদের সীমান্ত পুনশ্চিহ্নিতকরণ-সংক্রান্ত একটি সাপ্লিমেন্টারি প্রটোকলও এ সময় হস্তান্তর করেন দুই দেশের মন্ত্রীরা। পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের উপহার হিসেবে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স দেশটির সমাজকল্যাণমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মিয়ানমার সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ঘটবে তাদের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করার পর। ১৯৯২ সালে দুই দেশের তরফে যে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয় এর মধ্যে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা ও নীতিমালা ছিল। রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিকীকরণের বিরোধিতা করে মিয়ানমারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সমস্যা শান্তিপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করতে হবে। দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ সমঝোতাকে ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ বা দুই পক্ষের জন্য বিজয় বলে বর্ণনা করেছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য, ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। আর গত বছর অক্টোবর থেকে জুলাই পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসে প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা। এর আগে থেকে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সর্বপ্রথম ১৯৭৮ সালে চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির অধীনে দুই লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ছয় মাসের মধ্যে ফেরত গিয়েছিল। পরে ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আরেকটি সমঝোতা হয়, যার অধীনে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দুই লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যায়। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সম্প্রতি ছয়বার প্রস্তাব-পাল্টা প্রস্তাব চালাচালি হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথম প্রস্তাব দেওয়া হয় ২৩ সেপ্টেম্বর এবং মিয়ানমারের ইউনিয়ন মন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময়ে ২ অক্টোবর ফের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেওয়া হয়। মিয়ানমার ২০ অক্টোবর এর জবাব দিলে বাংলাদেশ পুনরায় ২ নভেম্বর পাল্টা প্রস্তাব দেয়। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৬ নভেম্বর পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হলে বাংলাদেশ এর দুই দিন পর জবাব দেয়।

ভয়ঙ্কর নারী নিপীড়ন : যৌন সহিংসতার অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণ করা হয়। আক্ষরিক অর্থে অনেক রোহিঙ্গা নারীকে গণধর্ষণ করে মেরেও ফেলা হয়েছে। বুধবার জাতিসংঘ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন সংস্থাটির যৌন সহিংসতা বিষয়ক বিশেষ দূত প্রমীলা প্যাটেন। চলতি মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে গণধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।   তিনি জানান, নারীদের ওপর ভয়ঙ্কর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। গণধর্ষণ, প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে ফেলা এবং যৌন দাসত্বসহ রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাসদস্যদের যৌন সহিংসতা ছিল একেবারে অমানবিকতা। নারী ও কিশোরীদের গাছ বা পাথরের সঙ্গে বেঁধে মিয়ানমার সেনারা সবচেয়ে নৃশংস ও বর্বরোচিত কায়দায় যৌন সহিংসতা চালিয়েছে। মিয়ানমার সরকার নৃশংসতার অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাকে রাখাইনে ঢুকতে দেয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন প্রমীলা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে চিরবিদায় নিলেন কাজী সাঈদ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে অবশেষে চলেই গেলেন দরিদ্র মানুষের অধিকার আদায়ের নেতা গাজী সাঈদুর রহমান। শোক আর সাগর সমান কষ্টের মধ্যে তাকে চির বিদায় জানালেন সাতক্ষীরার মানুষ। গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অবনত মস্তকে তাকে সম্মানিত করেন তারা।
বৃহস্পতিবার সকালে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে স্মরণকালের বৃহৎ জানাযার নামাজে শরিক হন অগনিত মানুষ। সাতক্ষীরা সি এন্ড বি মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওঃ রফিকুল ইসলাম মরহুম কাজী সাঈদের জানাযার নামাজের ইমামতি করেন। এর আগে মাঠ ভর্তী শোভাকঙ্খীরা তার প্রতি শোক জ্ঞাপন করেন। জানাযা পূর্ব আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: নজরুল ইসলাম বলেন, কাজী সাঈদ ছিলেন দরিদ্র মানুষের নেতা। তিনি মানুষের অধিকার আদায়ের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমৃত্যু আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। সাতক্ষীরার রাজনৈতিক এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গন এখন থেকে কাজী সাঈদ শূণ্য হয়ে গেল। এই শূণ্যতা পুরণ হওয়ার নয় জানিয়ে তিনি বলেন, তার মতো নিবেদিত রাজনৈতিক এই সমাজে খুবই প্রয়োজন ছিল। আলোচনায় অংশ নেন জেলা জাসদ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রিয়াজ, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু, প্রেসক্লাব সভাপতি এ্যড. আবুল কালাম আজাদ, পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, বাসদ নেতা এ্যড. আজাদ হোসেন বেলাল, জেলা জজ আদালতের পিপি এ্যড. ওসমান গনি প্রমুখ।
শহীদ রাজ্জাক পার্কে জানাযার পর প্রয়াত এই নেতা কাজী সাঈদের মরাদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার জন্মভিটা কালিগঞ্জের মৌতলা ইউনিয়নের দুধলি গ্রামে। সেখানে দ্বিতীয় দফার জানা যায় অংশ নেন অগণিত মানুষ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ছিনতাইকারীদের হামলায় লাবসা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ আহত ৭

নিজস্ব প্রতিনিধি : গ্রাম্য পিকনিকে সন্ত্রাসী হামলায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিসহ কমপক্ষে ৭জন কে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহষ্পতিবার রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউপির নলকুড়া গ্রামের আজহারুলের দোকানের সামনে। এঘটনায় আহত লাবসা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রিজভি, তৌকির, রাসিফসহ কয়েকজনকে আধা ঘন্টা পরে স্থানীয় জনগন উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এলাকাবাসী জানায়, ছিনতাই, ধর্ষণসহ একাধিক মামলার আসামী ও ছিনতাই করতে যেয়ে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ ছিনতাইকারী দর্গা রুবেলের একান্ত সহযোগী ছিনতাই কারী আরিফুল, মাদক ব্যাবসায়ী সাগর, সন্ত্রাসী তনুর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীদল হঠাৎ পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গ্রাম্য পিকনিকে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে লাবসা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রিজভি, তৌকির, রাসিফসহ কয়েকজনকে লোহার রড, জিআই পাইব, ও ধারালো ছুরি দিয়ে তাদের কে বেধড়ক মারপিট করে। এর মধ্যে রিজভি ও তৌকিরের মাথা ফাটিয়ে রক্তাত্ব জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। এঘটনায় এলাকায় বর্তমানে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ আহম্মদ জানান, আমাদের অফিসার ঘটনাস্থলে আছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা পৌরসভা পরিদর্শ ও সমস্যার উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণ এশিয়ার জি.আই.জেড বিভাগীয় পরিচালকের সাতক্ষীরা পৌরসভা পরিদর্শন ও সমাস্যার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার কনফারেন্স রুমে সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ এশিয়ার জি.আই.জেড বিভাগীয় পরিচালক এম.এস করিননা কুশেল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ এশিয়ার জি.আই.জেড বাংলাদেশ’র কান্ট্রি ডিরেক্টর তবিআজ বেকার, আর.ই.ই প্রজেক্টের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মুদাব্বির আনাম, আরা.আই.ইউডি প্রজেক্টের টিম লিডার মো. হামিদুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা সভায় জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সমাস্যা ও করনীয়, সুপেয় পানি, রাস্তা-ঘাট, ড্রেণেজ ব্যবস্থা ও দারিদ্র বিমোচন বিষয়ে ও ভবিষ্যৎ করনীয় প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার কাউন্সিলর ফারহা দিবা খান সাথি, শেখ শফিক উদ দৌলা সাগর, কাজী ফিরোজ হাসান, শেখ আব্দুস সেলিম, শফিকুল আলম বাবু, শহিদুল ইসলাম, অনিমা রাণী মন্ডল, শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু, পৌরসভার সচিব সাইফুল ইসলাম বিশ^াস, নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল আখতার, প্রকৌশলী সেলিম সরোয়ার, হিসাব রক্ষক আক্তার হোসেন তালুকদারসহ দক্ষিণ এশিয়ার জি.আই.জেড’র কর্মকর্তা ও পৌরসভার কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রজেক্টরের মাধ্যমে মুল প্রেজেন্টেশন উপাস্থাপন করেন পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ শুভ্র চন্দ্র মহলী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest