সর্বশেষ সংবাদ-
কালিগঞ্জে তথ্য গোপনের অপরাধে প্যানেল চেয়ারম্যানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানাসাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের অধ্যক্ষের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সভাসাংবাদিকের ওপর হামলা: চাপ এড়াতে সংবাদ সম্মেলনআশাশুনির কাকবাসিয়ায় পাউবো’র বেড়ী বাঁধে আবারও ভয়াবহ ভাঙ্গনভালোবাসার একযুগ এতিম শিশুদের হাসি আর ভ্যানচালকদের পাশে যমুনা টেলিভিশনসাংবাদিক জিন্নাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনজংধরা ও ভাঙা ফ্লোরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার : সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমেআশাশুনির খাজরা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাচ্চুকে অপসারন ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনসাতক্ষীরায় কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তিপ্রদান ও পুরস্কার বিতরণীসাতক্ষীরায় কলেজের অধ্যক্ষকে পিটিয়ে বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের পর উল্টো বিভিন্ন অনলাইনে অপপ্রচার

রাশিয়া ইরান ও উত্তর কোরিয়ার ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ।

এবারের এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে রাশিয়ার বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রুশ সম্পৃক্ততায় তারা জড়িত ছিলেন।

এর ফলে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেই আশাবাদও এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

তবে, এই বিলটিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেটো দেবেন কিনা সেই সিদ্ধান্ত এখনো তিনি নেননি বলে জানাচ্ছে হোয়াইট হাউস।

স্যাংশান বিল বা নিষেধাজ্ঞা বিল বলে ডাকা এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন মোট ৪১৯ জন সদস্য।

রাশিয়ার পাশাপাশি ইরান ও উত্তর কোরিয়ার উপরেও নিষেধাজ্ঞা দিতে ভোট দিয়েছেন হাউজ অফ রেপ্রেজেন্টেটিভের সদস্যরা।

এই বিলটি সিনেটে পাশ হয়ে গেলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য তা যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কারণ বিলটিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেটো দেবার ক্ষমতা রাখেন।

কিন্তু তিনি যদি ভেটো দেন, তাহলে, ‘রাশিয়ার অতি সমর্থক’ হিসেবে তার বিরুদ্ধে মার্কিন জনতার যে সন্দেহ ও অভিযোগ রয়েছে সেটি আরো ঘনীভূত হবে। বিবিসি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এম. শাহীন গোলদার : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ১০ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার হয় ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে ০৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৫ জন, কলারোয়া থানা ০৪ জন,তালা থানা ০৩ জন, কালিগঞ্জ থানা ০৪ জন, শ্যামনগর থানা ০৪ জন, আশাশুনি থানা ০৪ জন,দেবহাটা থানা ০২ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশি এক নারীকে (৩৩ বছর) একই পরিবারের কর্তা ও তার ছয় ছেলে মিলে বার বার ধর্ষণ করেছে। একটু প্রতিবাদ করলেই জুটেছে কিল-ঘুষি-লাথি। আর্তনাদ আর চোখের জলে তাদের মন গলেনি। বরং অত্যাচার আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে তলপেটে আঘাতের ফলে একাধিকবার মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এমন এক জীবন্ত নরকের বর্ণনা দিতে গিয়ে বাংলাদেশি ওই দুই নারীর স্বামী ও ভাই বলেন, কেবল তিনই নন, তাঁর মতো আরেক বাংলাদেশি নারীও ছিলেন সেই সৌদি পরিবারে বন্দী। তাঁরও কেটেছে একই রকম দুর্বিষহ জীবন। গরম খুন্তি দিয়ে তাঁদের হাত-পা ঝলসে দেওয়ার মতোও নির্যাতন চালায় তারা।

নির্যাতিত নারীদের স্বজনদের ভাষ্য, ভালো চাকরির আশায় প্রত্যেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করে সৌদি আরব যান। সেখানে গিয়ে দেখেন যে আশা নিয়ে এসেছেন, সবই মিথ্যা। তারা আদম পাচারকারীদের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন। কিন্তু তখন আর চট করে এ ভুল শোধরানোর সুযোগ নেই। পরিণামে গুনতে হলো চড়া মাশুল।

এ ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগ এনে একজন সৌদি নাগরিকসহ বাংলাদেশি সাত নাগরিকের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা হয়। আদালতের আদেশে (১৬ জুলাই) মামলা তালিকাভুক্ত করেন গুলশান থানা-পুলিশ। আদালত গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে গুলশান থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশি দুই নারীর ওপর যৌন নির্যাতনের মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

মামলার বাদী একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য মো. ইয়াসিন বলেন, একই সৌদি পরিবারের সাতজন মিলে যেভাবে দুজন বাংলাদেশি নারীর ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়েছে, তা চিন্তাও করা যায় না। যেসব মানব পাচারকারী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৩৩ বছর বয়সী ওই নারীর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। আট বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। কয়েক বছরের ব্যবধানে তার তিনটি সন্তান হয়। গাড়ি চালক স্বামীর আয়ে সংসার ঠিকমতো চলত না। অভাব-অনটন লেগেই থাকত। সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা আনতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্বামী তাঁর ঢাকার রিক্রুট এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্বামীর ভিসা না এলেও তাঁর ভিসা আসে। আড়াই লাখ টাকা খরচ করে যান সৌদি আরবে।

বলা হয়েছিল, সৌদি আরবে তিন সদস্যের এক পরিবারে কাজ করতে হবে। পরিবারের ছোট্ট এক বাচ্চাকে দেখাশোনা করাই তাঁর মূল কাজ। পাশাপাশি সংসারের টুকটাক কাজ করা। বেতন দেওয়া হবে ২৫ হাজার টাকা। তিনি সৌদি যান গত ২৭ মে।

ত্রিশ বছর বয়সী অপর নারীর বাড়ি ঝালকাঠিথে। তিনি কাজ করতেন ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায়। বেতন পেতেন আট হাজার টাকা। বিদেশে চাকরি করলে ভালো বেতন পাওয়া যাবে এমন আশায় বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। শেষমেশ দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে গত ১ জুন বিদেশ যান।

সৌদি আরবে নির্যাতনের অভিযোগে গত ২ জুলাই ঢাকার একটি আদালতে নালিশি মামলার পর গত সপ্তাহে এই দুই নারীকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। প্রধান আসামি হলেন, বাংলাদেশি নাগরিক জহিরুল ইসলাম, সৌদি নাগরিক আবদুল আজিজ, রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স আল-বোখারী ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ সাতজন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এই দুজন নারীকে সৌদি আরবের সাত সদস্যের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিনিময়ে আসামিরা কয়েক লাখ রিয়াল নেন। সেই পরিবারের সাতজন সদস্য দিনের পর দিন তাঁদের ধর্ষণ করে নির্যাতন চালায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে এক আবেদনে বলা হয়, ‘ওরা মানুষ না। বাপ-ছেলে সাতজন মিলে দিনের পর দিন গণধর্ষণ করে মেরে ফেলছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে মেসার্স আল-বোখারী ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া (৫২) বলেন, ‘আমরা একটি মেয়েকে সৌদি আরব পাঠিয়েছিলাম। যখন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়, তখন সৌদি আরব থেকে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’

শরিয়তপুরের নারীর স্বামী বলেন, তাঁর স্ত্রী সৌদি আরবে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। বাবা-ছেলে মিলে যে যৌন নির্যাতন চালিয়েছে, তা কল্পনা করলে ভয়ে গা শিউরে ওঠে। তাঁর স্ত্রী বহু বার সৌদির বাবা-ছেলের পা ধরে বলেছেন, তাঁকে যেন মুক্তি দেয়। উল্টো তারা বলেছে, যদি সে যৌন কাজে বাধা দেয়, তাহলে তার দেহ তিন টুকরো করে ফ্রিজে রেখে দেবে।

ঝালকাঠির ওই নারীর ভাই বলেন, একদিন তার বোন তাঁকে বলে, ‘ভাই আমি আর বাঁচব না। আমাকে নরক থেকে উদ্ধার করেন।’

এদিকে সৌদি আরব থেকে যেদিন দুজন নারী ঢাকার বিমানবন্দরে নামেন, সেদিন তাঁকে দেখে চিনতে পারছিলেন না তাদের স্বজনেরা। সালোয়ার কামিজের বদলে তাঁদের পরনে ছিল প্যান্ট আর শার্ট।

এক নারীর স্বামী জানান, ‘জীবনে কোনো দিন চিন্তা করিনি স্ত্রীর পরনে থাকবে শার্ট-প্যান্ট। অথচ তাঁর শরীরে তাই ছিল। বিমানবন্দর থেকে কীভাবে ওই পোশাকে আনব তাঁকে? বাধ্য হয়ে বোরকা পরিয়ে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। সৌদি আরবের সেই বাবা-ছেলের যৌন নির্যাতনের চিহ্ন এখনো তার শরীরে।’ স্বামী বলেন, নরক থেকে মুক্তি পেয়েছে। তিন ছেলের কোলে ফিরেছে তার মা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : ইউএনও তারিক সালমনকে নাজেহালের ঘটনায় বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আলী হোসাইনকে বদলির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের তদন্ত চেয়েছে সরকার। এ বিষয়ে পদক্ষেপ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে চিঠি পাঠিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে বলা হয়, “এহেন পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের বরিশাল সিএমএম আদালত ও বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে বিচারক আলী হোসেনকে অন্যত্র বদলি করা আবশ্যক। অধিকন্তু তার বর্তমান কর্মস্থলে বদলিযোগ্য মেয়াদ পূর্তি হয়েছে। তাছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ভূত ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা নিরূপনের জন্য তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।”
তারিকের ঘটনা নিয়ে বরিশাল ও বরগুনার জেলা প্রশাসককে সরিয়ে দেওয়ার পর বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিচার বিভাগের কাছে নির্বাহী বিভাগের সুপারিশ গেল।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজুর করা এক মানহানির মামলায় বরগুনা সদরের ইউএনও গাজী তারিককে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় আলোচনা চলছে এই বিচারক নিয়ে।
বরিশাল সার্কিট হাউসে তার ৯৩ হাজার ৯৫০ টাকা বকেয়া থাকার ঘটনাও সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে বিচারক আলী হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রীন লাইন পরিবহনে যাতায়াতের ভাড়া পরিশোধ না করার অভিযোগ ওঠার কথা বলা হয়েছে।
এজন্য বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার কার্যক্রম নিয়ে জনমনে নানাবিধ ‘বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে’ বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
আলী হোসাইনের জায়গায় বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষক (অতিরিক্ত জেলা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানকে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম হিসেবে বদলির প্রস্তাব করা হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে।
মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শাহাবুদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠি মঙ্গলবার তাদের হাতে পৌঁছায় বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) সাব্বির ফয়েজ। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের জেনারেল অ্যাডমিন্টিস্ট্রেশন কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা আইন মন্ত্রণালয়কে জানাবে।”
তারিক সালমন বরিশালের আগৈলঝাড়ার ইউএনও থাকাকালে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে ‘বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে ছাপিয়েছিলেন’ অভিযোগ করে গত ৭ জুন মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।
ওই মামলায় সমন জারির প্রেক্ষাপটে ১৯ জুলাই তারিক সালমন আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন মুখ্য মহানগর হাকিম আলী হোসাইন। একই বিচারক দুই ঘণ্টা পর জামিন মঞ্জুর করেন বলে ইউএনও তারিকের ভাষ্য।
তাকে আদালত প্রাঙ্গনে পুলিশের ধরে নেওয়ার ছবি প্রকাশ হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিস্মিত হয়েছেন জানিয়ে তার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গণমাধ্যমকে বলেন, সেই ছবিতে বিকৃত করার মতো কিছু তারা দেখেননি বরং এটি একটি ‘সুন্দর কাজ’।
এই প্রেক্ষাপটে ২১ জুলাই ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। তারিক সালমনকে নাজেহালের দিন বরিশালের আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের ছয় সদস্যকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
রোববার মামলা প্রত্যাহার করেন সাজু। পরদিন বরিশালের জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান এবং বরগুনার জেলা প্রশাসক বশিরুল আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়। তাদের জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয় নতুন দুজনকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দের মাঝে ভিলেন হয়ে দাঁড়ায় নাক বন্ধ, সর্দি, গলা ব্যাথার মতো সমস্যাগুলো। এছাড়াও পেটের রোগ আর আরও কত কি আছে। আসলে বর্ষাকালে জল এবং জলীয় বাতাসের জন্য আমাদের শরীর সব সময় অসুস্থ হতেই থাকে, তা সে বয়স্ক হোক বা শিশু।

বর্ষাকাল মানেই সব সময় বেশ আনন্দের তা কিন্তু নয়। বর্ষাকালে আমাদের দেশে প্রকট ভাবে দেখা যায় বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। এছাড়াও, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো অসুখ তো দিনেদিনে আরো মারাত্মক হয়ে উঠছে। তবে, এমন ভয়াবহ রোগগুলি সবার না হলেও, সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যাথা এই সময়ে প্রায় সবারই হয়ে থাকে।

গলা ব্যাথা, মাথা ধরা বা সর্দি কাশির মতো সমস্যাগুলি হয় মূলত নানারকম ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর কারণে। তাই আমাদের উচিত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ানো। আমরা সাধারণ সর্দি কাশিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকি।

কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াও বেশ কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি কিন্তু এমন সব রোগের চিকিৎসা সম্ভব হয়, চলুন জেনে নেয়া যাক সেই ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কেঃ

প্রয়োজনীয় উপাদানঃ
১। ব্রাউন সুগার- এক টেবিল চামচ।
২। লবঙ্গ- চার-পাঁচ টা।
৩। তুলসি পাতা- পাঁচ-ছয় টা।
৪। হলুদ- এক টেবিল চামচ।

এই উপাদান গুলো খুব সহজেই সর্দি কাশি, জ্বর, গলা ব্যাথা ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে। প্রতিদিন এই উপাদানগুলি ব্যবহার করলে শরীরের সাধারণ জীবাণুঘটিত অসুখগুলি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা গড়ে ওঠে।

পদ্ধতিঃ
১। উপাদানগুলোকে একসাথে একটি পাত্রে পানি দিয়ে ফোটাতে হবে।
২। এরপর পানিটিকে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে একটি গ্লাসে রাখতে হবে।
৩। পানিটি গরম থাকাকালীন সেই গরম পানীয়টি পান করতে হবে।
৪। পানীয়টি খুব কম তাড়াতাড়ি সর্দি-কাশি, গলা ব্যাথা এবং জ্বরের হাত থেকে মুক্তি দেয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : সুখের সাগরে ভাসছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বন ওপরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। গত বছরের অক্টোবরে দলের জাতীয় সম্মেলনের পর তিনি পেয়েছেন বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের পদ। বিয়ে করেছেন প্রায় মাস তিনেক আগে। নবীন এই দম্পতি আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন। আর তাই দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শারমিন সুলতানা লিলি পেয়েছেন দলের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যুব মহিলা লীগের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে লিলিকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

লিলি-দেলোয়ারে মিল আরেক জায়গায়। ছাত্রলীগ থেকেই দুজনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দেলোয়ার। পরে আসেন মূল দলে। লিলিরও রাজনৈতিক জীবন শুরু ছাত্রলীগ দিয়ে।

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কমিটির সভাপতি ছিলেন দেলোয়ার, সেই কমিটিতে ছিলেন তিনিও। তখন রোকেয়া হল শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে ছাত্রলীগের বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলমের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

ছাত্রজীবন শেষে ছাত্রলীগ ছেড়ে যুবলীগে যোগ দেন লিলি। ছাত্র সংগঠনের মতই যুব সংগঠনেও দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি। দায়িত্ব পান সহ সম্পাদকের। এরপর সংগঠনটির নতুন সম্মেলনে তাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

জানা গেছে, শারমিন সুলতানা লিলি বিএনপি জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়াও একএগারো সরকার বিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মুক্তির আন্দোলেন তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। ২০১৫ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনের পর তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শারমিন সুলতানা লিলি বলেন, আমি রাজনৈতিক কর্মী। আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। একজন রাজনৈতিক কর্মীকে জননেত্রী শেখ হাসিনা মূল্যায়ন করেছেন। এজন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।’
দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা দুইজনই রাজনৈতিক কর্মী। মাঠে ময়দানে দলের জন্য কাজ করেছি। এখানে পারিবারিক বিবেচনায় নয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় দুইজনকে দলীয় পদ দেয়া হয়েছে।
রাজনীতিতে দম্পতি শুধু তারাই নন। আওয়ামী লীগেই আছে অসীম কুমার উকিল ও যুব মহিলী লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল। ছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও শহিদ আইভি রহমান দম্পতি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সাভারে প্রত্যাহারের পর বরিশালে বহিষ্কার অ্যাপিসোড। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার বরগুনার ইউএনও তারিক সালমনকে হাজত খাটানো মামলার বাদী ওবায়দুল্লাহ সাজু। অস্বীকার, বহিষ্কার, প্রত্যাহারের এ বায়োস্কোপ সরকারকে-আওয়ামী লীগকে কোথায় নিয়ে ঠেকাচ্ছে দলটির হিতাকাঙ্ক্ষীদের তা মর্মবেদনায় ভোগাচ্ছে। স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্রে এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করার জের ধরে এই ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা, হাজতবাসের সার্কাস প্রশাসন, নাগরিক সমাজসহ গোটা দেশে তামাশাকর পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর বিরক্তি ও দলীয় অ্যাকশনেও কূল কি মিলেছে? তা পুনরুদ্ধারই বা কতটা সম্ভব? এর মাত্র দুই দিন আগে, ‘পাঁচজনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি, ১৪ জনের লিস্ট করেছি’—মর্মে দেওয়া বক্তব্য বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রত্যাহার করেছেন সাভারের মাননীয় ডা. এনামুর রহমান। পাশাপাশি বলেছেন, যথাযথভাবে উপস্থাপন না হওয়ায় তার বক্তব্যের রূপটি বিকৃত হয়ে ভিন্ন অর্থ হয়ে গেছে। এ জন্য তিনি দুঃখিত। এর আগে বিনা বিজ্ঞাপনে গর্বভরে বলেছেন, সাভারে এখন সব পানি হয়ে গেছে। সব ঠাণ্ডা। কারও টুঁ-শব্দ করার সাহস নেই। পাঁচজনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি। আরও ১৪ জনের লিস্ট করেছি। লিস্ট করার পর যে দু-একজন ছিল তারা তার পা ধরে বলেছে, জানে মাইরেন না। শুরুতে অস্বীকার। পরে বহিষ্কার। এর মাঝে এখন যোগ হলো প্রত্যাহার। এই সংস্কৃতি আর কোথায় গড়ানোর বাকি আছে? সংশোধনীমূলক বিজ্ঞাপনটিতে পাঠকদের বুঝতে সমস্যা হয়নি তিনি নিজে বিকৃত না তার বক্তব্য বিকৃত হয়েছে? সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, তার ক্ষমতা, পদ বা গদি কি প্রত্যাহার হয়েছে? বক্তব্য প্রত্যাহারে কি ক্রিয়াকর্ম প্রত্যাহার হলো আওয়ামী লীগে আচমকা আমদানিকৃত এই ডাক্তারের? লিস্ট করা ১৪ জনকে হয়তো প্রাণভিক্ষা দেবেন তিনি। কিন্তু ক্রসে খরচ করা পাঁচ প্রাণ কি ফিরিয়ে দিতে পারবেন? এ ছাড়া তিনি এসব কথা না বলে থাকলে প্রত্যাহারের কী আছে? কেনই বা দুঃখ প্রকাশ। নানা এনামে নৌকায় উঠে পড়া এই প্রজাতির মাননীয়দের নামে-বেনামে অপকর্মের তালিকা বেশ দীর্ঘ। অস্বীকার, বহিষ্কার, প্রত্যাহার নাটকে তারা এ যাত্রায় নিস্তারও নিচ্ছেন। মূল দায় চাপছে সরকারের ওপর। দল ও সরকারের শক্তির ওপর ভর করে বচনে বা কাণ্ড ঘটিয়ে নগদে বাহবা নেন মহাশয়রা। পরে গোলমাল বাধলে প্রথমে অস্বীকার। সাংবাদিকরা বিকৃত করেছে বলে দোষারোপ। এতেও ল্যাঠা না ছুটলে বক্তব্য প্রত্যাহার। দুঃখ প্রকাশ। এ দুটিই সহজ ব্যাপার। কিন্তু হত্যাসহ ঘটানো কিছু কাণ্ড তো প্রত্যাহারের সুযোগ থাকে না। পুষিয়ে দেওয়ার আওতায়ও থাকে না। এরপরও সার্কাসের মতো চলছেই খেলাটা। সাভারের মাননীয়ের বুক ফোলানো কথায় নগদে তিনি বেনিফিসিয়ারি। এলাকায় তার দাপট, হিম্মতের প্রচার বেড়েছে। একদিকে তার পক্ষের আতিপাতিরা জোর পেয়েছে। তারা সুর তুলে প্রচার করেছে লিডারের হেকমত। অন্যদিকে জানের ভয়ে দোয়াদরুদ পড়া বাড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের খুচরা কর্মী-সমর্থকরা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মাস দুয়েক আগে অসাধারণ কিছু মন্তব্যে দেশ তোলপাড় করে দিয়েছিলেন। গণমাধ্যমে ব্যাপক কাভারেজ নেন। দলে হাইব্রিড, কাউয়া, ফার্মের মুরগা টাইপের কিছু মন্তব্যে চারদিকে বাহবা ছড়িয়ে পড়ে। আহা বেশ বেশ কোরাসের দু-তিন দিনের মাথায়ই কথা পাল্টে ফেলেন তিনি। প্রথমে বলেন, তিনি আসলে ঠিক এভাবে কথাগুলো বলেননি। সাংবাদিকদের উপস্থাপনের দোষে তার বক্তব্যের মানে বিকৃত হয়ে গেছে। পরে বলেন, তিনি বলেছেন ঠিকই। তবে, সিরিয়াসলি বলেননি। নেতা-কর্মীদের একটু রিফ্রেশমেন্ট দিতে ফান করে বলেছেন। মিটিংয়ে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে থাকতে টায়ার্ড হয়ে যায় বলে তাদের একটু রিফ্রেশমেন্ট দিতে হয়।

সাংবাদিক বেচারারা এমনকি উপস্থিত নেতা-কর্মীরাও মন্ত্রীর কথাকে ফান মনে করেননি। সাংবাদিকরা গুরুত্বের সঙ্গে গণমাধ্যমে তুলে আনেন এ ধরনের কথামালা। আর পাঠক, দর্শক, শ্রোতা মিলিয়ে অডিয়েন্সের কাছেও তা মনে হয়েছে বেশ হট এবং হিট। তখন কে ভেবেছিল পরে তা অস্বীকার বা প্রত্যাহার করতে পারেন কোনো মহোদয়, মহাশয় বা মাননীয়? তবে, ইদানীং বেশ ভাবনার সঙ্গে সতর্কতাও যোগ হয়েছে গণমাধ্যম কর্মীদের। তাদের ফুটেজ, রেকর্ডসহ তথ্য-সাবুদ মজুদ রাখার প্রবণতা বেড়েছে। তাতে কী? মাননীয়রা তো আরও পাকা। জুতসই কৌশল হিসেবে তারা এখন সরাসরি অস্বীকারে না গিয়ে ধরেছেন প্রত্যাহার আর দুঃখ প্রকাশের পথ। পাকা কাজের সঙ্গে এরা কথায়ও পটু।

আসলে সমস্যা কথায় নয়, অন্য জায়গায়। দুর্দমনীয় ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহিতা এবং লজ্জাহীনতা তাদের কেবল জয়ীই করছে। ক্ষমতার জৌলুসে মান্যবররা মন যা চায় তা-ই করতে পারছেন। কথা বলা তো আরও মামুলি। কোথাও থেকে তেমন বাধা আসে না। মানুষও ক্ষেপে না। বরং এ সার্কাস উপভোগ করে। ভয়ের সঙ্গে তোয়াজও করে। এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে শুধু বেয়াকুবেরা। সাভারের এনাম ডাক্তার থেকে বিউটিকুইন শাবানা বা তার স্বামী বা স্বগোত্ররা তা বোঝেন বলেই তো বুদ্ধিমানের পালে। ঢাকার ডাক্তার ইকবালও বা বাদ পড়বেন কেন? মাননীয়ের পাইপলাইনে ঢুকতে পেরেছেন বলেই কক্সবাজারের বদি, টাঙ্গাইলের রানা, ঠাকুরগাঁওয়ে দবিরুল, ফেনীর নিজাম হাজারী বা পিনু খানদের লোভনীয় অগ্রগতি। এই মোহে পেশাজীবী থেকে নেশাজীবী, চিকিৎসাজীবী, সিনেমাজীবী সবার মধ্যে মাননীয়ের কাতারে শামিল হওয়ার লোভ দুর্নিবার পর্যায়ে। এই রেস পেশাজীবীদেরও নিচ্ছে পেশিজীবীতে। জনপ্রতিনিধি হতে না পারা দলীয় পদ-পদবিধারীরাও যে যেখান দিয়ে পারছেন হুকুমত কায়েম করে ছাড়ছেন। মাঝে-মধ্যে তাদের কাণ্ডকীর্তির ছিটেফোঁটা খবর গণমাধ্যমে লোকসমাজে সমালোচিত হলেও কদিন পর সব ঠিক হয়ে যায়। মায়ামন্ত্রী বা ঈশ্বরদীর ডিলু উজির ছাড়াও খেলার কোয়ার্টার মন্ত্রী আরিফ খান জয়, সিলেটের মাহমুদ সামাদ চৌধুরীদের ইতিহাস-ভূগোলের চ্যাপ্টারগুলো এই রেসলারদের মুখস্থ। মাননীয়দের স্বজনদের দাপটও তো লোভনীয়-মোহনীয়। ইয়াবা, মানব পাচারের মতো অভিযোগেও বদি অ্যান্ড ব্রাদার্সের পশম হেলেনি। এর আগে সংরক্ষিত মাননীয়া পিনু খানের সোনার সন্তান রনির রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে যানজটে বিরক্ত হয়ে গুলি করে দুজনকে পাখির মতো হত্যা, টাঙ্গাইলে রানা মাননীয়ের পরিবারের সদস্যদের কাণ্ডকীর্তি, ঈশ্বরদীতে ডিলুর ছেলে এবং জামাতা, আরিফ খান জয়ের ভাই শুভ, ঠাকুরগাঁওয়ে দবিরুল ইসলামের ছেলে সুজন, সাতক্ষীরার রিফাত আমিনের ছেলে রুমন, ঢাকার সাবেক এমপি এইচ বি এম ইকবালের ভাতিজা ফারিজ রহমানদের ক্ষমতার বাহার হিরোইজমের মতো। এই থ্রিল-সাসপেন্সের ঘোড়ায় চড়তে ইচ্ছা কার না হয়? মান্যবরদের উল্টো পথে প্রটোকলে গাড়ি হাঁকানো, বিমানের শিডিউল পেছাতে পারার মতো সমাদর স্থল, জল, অন্তরীক্ষে আধিপত্যের দৃষ্টান্ত গোবেচারার জন্যও প্রেরণাদায়ক। বিভিন্ন এলাকায় মাননীয়দের স্বজনদের কদর-সমাদরও কম আকর্ষণীয় নয়। তা অনেকের ইমান-বিশ্বাসেও টোকা দিচ্ছে। তারা ভাবনমুনায় মনে করে বরাত বুঝি মাননীয় আর তাদের স্বজন-পরিজনদেরই। শবেবরাতে যত অর্জন-গর্জন, ভোগ- বরাদ্দ কি তাদের ভাগ্যেই লেখা হয়?

মারের ভয়ে মানুষকে চুপ রেখে আদাব-সালাম আদায় করা, ক্রসের লিস্টে ফেলা, জোড়া খুন থেকে সাত খুন, বশ্যতা মানলে ক্ষমা করে দেওয়ার মহানুভবতার এ সার্কাসে কখনো কখনো টুকটাক শব্দ হলেও শেষতক সমস্যা হয় না। নানা গুরুতর দুষ্কর্মেও পিছু হটতে হচ্ছে না তাদের। কোথাও বাপ-বেটা, ভাই-ভাতিজা এমনকি শালা-দুলাভাইয়ের দাপটের তাড়নার কটা খবর গণমাধ্যমে আসে? তাদের বেশির ভাগেরই মাইরের ওপর ওষুধ নাই— তরিকা যার যার এলাকায় বেশ লাগসই। মানুষের কাছে এরাই জয়ী। শক্তির পূজা সব বাজারেই চলে, তা জেনে বুঝেই তো সম্মানীয়দের এই অগ্রগতি। এই প্রতিযোগিতায় বাপের ব্যাটা, বাঘের বাচ্চা হওয়ার খায়েশ মিটিয়ে ছাড়ছে মহোদয় ও মাননীয়দের পুত্র-ভ্রাতারা। নিজেদের কর্মগুণে বাপ-ভাইয়ের নাম ভুলিয়ে নিজেদের সামনে নিয়ে আসছে। কলঙ্কিত হচ্ছে গোটা সরকার, দেশের প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ। কখনো কখনো দায় পড়ছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর ওপরও। অথচ অপকর্মের হোতা মাননীয়রা কোনো না কোনোভাবে নিস্তারই পেয়ে যাচ্ছেন।
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest