সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তিপ্রদান ও পুরস্কার বিতরণীসাতক্ষীরায় কলেজের অধ্যক্ষকে পিটিয়ে বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের পর উল্টো বিভিন্ন অনলাইনে অপপ্রচারการเลือกเกมที่ตอบโจทย์สไตล์การเล่นของคุณใน playbet casinoL’arte della persuasione nei giochi di slot: come le piattaforme leader sfruttano la psicologia del giocatoreLes jeux de casino incontournables à essayer absolument sur GTBetদেবহাটায় কমিউনিটি শিশুদের জন্মদিন উদযাপনআশাশুনিতে ৮শ লিটার পেট্রোল জব্দ: ১০হাজার টাকা জরিমানাLes critères qui font de Boomerang Casino un choix incontournableসাংবাদিক জিন্নাহ’র ওপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের বিবৃতিদেবহাটা উপজেলাকে শিশু শ্রমমুক্ত করতে সুশীলনের অবহিতকরন সভা 

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সুদর্শন এক চা-ওয়ালাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছিল। শুধু পাকিস্তানেই নয়, এমনকী বৈরী প্রতিবেশী ভারতেও। সেই চা বিক্রেতা আরশাদ খানকে একটি পাকিস্তানি কোম্পানি তাদের পোশাকের মডেলও করেছে। এমনকী বড় পর্দায়ও নাকি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এতদূর পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

সম্প্রতি জানা যাচ্ছে, আরশাদ খান নাকি আদৌ পাকিস্তানি নন। এমনকি ভুয়া কাগজপত্রে তিনি নিজেকে পাকিস্তানি নাগরিক প্রমাণ করতে চাইছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের জিও নিউজ-এর একটি প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে দীর্ঘদিন বাস করলেও আরশাদ খান আসলে আফগানিস্তানের নাগরিক।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল ডেটাবেস এবং রেজিস্ট্রেশন অথরিটিস (এনএডিআরএ) জানিয়েছে, পাকিস্তানে থাকার জন্য আরশাদ খান কোনো বৈধ্য কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

পাকিস্তানের ডিজিটাল ন্যাশনাল আইডেনটিটি কার্ডের জন্য আরশাদ যে নথিগুলি জমা দিয়েছিলেন সেগুলি ভুয়া। সম্প্রতি পাসপোর্টের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন আরশাদ। এরপর পাসপোর্টের জন্য নথিগুলি পরীক্ষা করতে গিয়েই ভুয়া নথির বিষয়টি নজরে আসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

জিও নিউজের অনুসন্ধানের জানা গেছে, আরশাদ ও তাঁর পরিবার আদতে আফগানিস্তানের কান্দাহারের বাসিন্দা। সেখান থেকেই মোসাখেল উপজাতির মানুষদের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে এসেছিল আরসাদের পরিবার। তবে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেননি আরসাদ।

জিও টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে পাকিস্তানের নাগরিক বলে দাবি করেছেন আরশাদ। তিনি বলেন, তাঁর বাবার জন্ম পঞ্জাবের সরগোধায়। ১৯৮৪ সালে সৌদি আরবে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ১৩ বছর পর ফের ফিরে এসেছিলেন পাকিস্তানে। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের মরদান থেকে পখতুনখওয়া প্রদেশে এসেছিল তাঁদের পরিবার। তবে এই বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি আরশাদ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ঘর ভাঙা নিয়ে সম্প্রতি মডেল-অভিনেত্রী তানজিন তিশার দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন সঙ্গীত শিল্পী হাবিব ওয়াহিদের সাবেক স্ত্রী রেহান। কিন্তু তাঁর এই অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিশা। বিষয়টি বর্তমানে শোবিজ অঙ্গনে বেশ আলোচনার ঝড় তুলেছে। আর এই বিষয়কে কেন্দ্র করে একে অন্যকে দোষারোপ করে ফেসবুকেও স্ট্যাটাস দিচ্ছেন তারা। এবার সেই বিষয়টা নিয়ে হাবিব ও তিশার কাছে ফেসবুকে প্রশ্ন রাখলেন রেহান। তার সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো।

আচ্ছা! এবার তাহলে আমারও দুইটা প্রশ্ন হাবিব ওয়াহিদ আর তিশার কাছে!! প্রথমে হাবিবকে করি! আপনি স্ট্যাটাসে খুব সাহসের সাথে বলেন! আপনি আশ্চর্য হয়েছেন যে কেনই বা আমি ‘আফটার ডিভোর্স’ এসব বলছি? কথাটা কি বুঝে লিখেছেন? তাহলে একটা কথা বলতে চাই, আপনার কোন আইনে লেখা আছে যে ‘আপটার ডিভোর্স’ একটা মেয়ে গালি খেলেও চুপ করে সহ্য করবে অথবা করতে হবে? আমি ববং প্রতিবার আশ্চর্য ছিলাম যে আমাকে কেন এভাবে বাজে গালি দিয়ে আক্রমন করে আপনার প্রিয়তমা???? এটার উত্তরটা কি দিয়েছেন এখনও?

এখন প্রশ্ন তিশা তোমাকে! তোমার স্ট্যাটাসে লিখেছো, একবার গালি দিয়েছো। আরে মিথ্যুক মেয়ে, কয়বার দিয়েছো সেটা তো তুমি জানো, আমি জানি আর হাবিব। আর প্রমাণ তো আছেই, আবার পত্রিকার ইন্টারভিউতে বলেছো, আমি কেন রেহানকে কল করবো ইত্যাদি ইত্যাদি, ও তো সাধারণ একটা মেয়ে। এই যে শোনো, তুমি আমাকে বলেছো আমি ‘লাইমলাইটে’ আসতে চাই। আরে তুমি কাজ করো মিডিয়াতে, এসব পলিসি তুমি জানো। আমি এসব চিন্তা করি না। আর যে তোমার হাবি’র (হাবিবকে তোমার দেওয়া আদরের নাম) সাথে ৫ বছর সংসার করে মিডিয়াতে আসিনি, আবার এখন??? হা হা হা হা, আসলে তো মানসিক পাগল তুমি, তাই তো বলো রেহান হাবিবের ‘পাস্ট’। আর এই কথা বলে তুমিই হাবিবের ‘পাস্ট’ নিয়ে সব সময় ‘ইনসিকিউরড’ থাকো! ‘ইয়েস’! ‘পাস্ট’ ঠিক আছে, কিন্তু এটা ভুলোনা যে আমাদের একটা সন্তান আছে। যোগাযোগ তো থাকবেই একটা। যতদিন হাবিব আলিমকে (হাবিব-রেহানের সন্তান) ভালোবাসবে।

তাহলে তুমি কেন মেনে নিচ্ছো না! আর তোমারও ফ্যামিলি আছে! মান সম্মান আছে! তাহলে ফ্যামিলিকে আর ছোট করো না। অবিবাহিত মেয়ে ‘লিভ টুগেদার’ করে। আর প্রেমের অভিজ্ঞতা কয়টা আছে তা আমাকে নিজের মুখে বলেছিলে। তাও আবার তার মধ্যে একজন বিবাহিত সেলিব্রিটিও ছিল। বাহ! আমাকে প্রতিবার বলতে, তোমার আর হাবিবেরটা ”হ্যাভেনলি আর ডেঞ্জারাস লাভ”। কারও কোনো পাওয়ার নাই নষ্ট করার। তাহলে আর দেরি না করে মুসলিম মেয়ে যদি হয়ে থাকো, তাহলে ‘লিভ টুগেদার’ না করে রিলেশনটাকে অন্তত জায়েজ করো! খালি ‘পিওর লাভ ডেঞ্জারাস লাভ’ বললে হবে? প্রমাণ করো ভাই, তোমার ‘ডেঞ্জারাস পিওর লাভ’!!! শুভ কামনা তোমার জন্য যেন ভালো পথে চলো!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে আগামী ১৫ জুলাই আয়োজন করা হয়েছে ‘শর্মিলা ঠাকুর-জিৎ গাঙ্গুলি লাইভ ইন ঢাকা’ অনুষ্ঠানের। এদিন আমন্ত্রিত দর্শকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলিউডের স্বনামধন্য অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর।

কনসার্টে গাইবেন ভারতের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জিত্ গাঙ্গুলি। চ্যানেল লাইভ এন্টারটেইনমেন্টের এ আয়োজনে বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিবেশনাও থাকবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলবে রাত ১১টা পর্যন্ত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

গরুর মাংস বহনের অভিযোগে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এক সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে প্রচণ্ড মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার নাগপুরের ভরসিঙ্গি এলাকায় ইসমাল শেখ (৪০) নামে ওই ব্যক্তি স্কুটার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে গরুর মাংস আছে এ অভিযোগে তার পথ আটকায় কয়েকজন যুবক।

সে কথা অস্বীকার করলেও ইসমাইলকে রাস্তায় ফেলে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। মারের চোটে অচেতন ইসমাইলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নাগপুর পুলিশের ডিএসপি শৈলেশ বালকাড়ে জানান, আমরা গতকালই একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমরা চার ব্যক্তিকে আটক করেছি। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি।

এদিকে, ইসমাইলের গাড়িতে যে মাংস ছিল তা পরীক্ষার জন্য ওই ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।

গত মাসের শেষের দিকে গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে হরিয়ানায় ট্রেনের মধ্যে জুনেদ খান (১৫) নামে এক যুবককে খুন করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পরই সংখ্যালঘু ও দলিতদের ওপর হামলার অভিযোগে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। এমনকি দেশজুড়ে হামলার প্রেক্ষিতে গুজরাটের সবরমতীতে একটি অনুষ্ঠান থেকে গোরক্ষকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, গরু রক্ষার নামে মানুষ খুন করা কোনমতেই মেনে নেওয়া হবে না। কিন্তু মোদির সেই বার্তাতেও যে কোন কাজ হচ্ছে তা এই ঘটনায় পরিস্কার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে মানুষের স্মার্টফোন থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করে মার্কিন বিজ্ঞানীরা দেখতে চেষ্টা করেছেন কোন দেশের লোক শারীরিকভাবে কতটা সক্রিয়।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ দিনের সমান, মিনিট ধরে ধরে ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে গড়ে পৃথিবীতে মানুষ দিনে ৪৯৬১টি পদক্ষেপ নেয়।

এর মধ্যে হংকংয়ের মানুষ গড়ে সবচেয়ে বেশি পদক্ষেপ নেয়। তারা দিনে ৬৮৮০বার পা ফেলে।

র‍্যাঙ্কিংয়ের একেবারে নিচে আছে ইন্দোনেশিয়া। সে দেশের মানুষ গড়ে দিনে মাত্র ৩৫১৩টি পদক্ষেপ নেয়।

এই গবেষণা থেকে আরও নানা তথ্য পাওয়া গেছে, যা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে ওবেসিটি বা স্থূলতার সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করতে পারে।

জাপানের মতো দেশ – যেখানে স্থূলতা বা সামাজিক বৈষম্যের সমস্যা কম – সেখানে দেখা গেছে মহিলা ও পুরুষরা প্রায় সমান শারীরিক অনুশীলন করে।

কিন্তু আমেরিকা বা সৌদি আরবের মতো যেখানে বৈষম্য বেশি, সেখানে মেয়েরা কম সময় শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকে।

গবেষণায় অমেরিকার ৬৯টি শহরে পায়ে হেঁটে কতটা চলা যায়, সেই পরীক্ষাও চালানো হয়েছে।

দেখা গেছে নিউ ইয়র্ক বা সান ফ্রান্সিসকোর মতো শহর বেশ পথচারী-বান্ধব, সেখানে পায়ে হেঁটে অনেক কিছুই করা যায়।

কিন্তু হিউস্টন বা মেমফিসের মতো শহরে গাড়ি ছাড়া কার্যত এক পা-ও চলার জো নেই।

স্বভাবতই যে সব শহরে হাঁটা তুলনায় সহজ, সেখানেই মানুষ বেশি হাঁটে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। ভারতের নতুন কোচের দায়িত্ব দেয়া হলো রবি শাস্ত্রিকেই। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর বিদায়ী কোচ অনিল কুম্বলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। তাকে কোচ নিয়োগের দায়িত্ব ছিল ভারতীয় বোর্ডের গঠন করা ক্রিকেট পরামর্শক কমিটির।

যে কমিটিতে শচীন টেন্ডুলকার, ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলিও। ভারতের নতুন কোচ হিসেবে শাস্ত্রিকে মানতে পারছেন না সাবেক এই অধিনায়ক! তার মানে, কোনো চাপে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়েছে গাঙ্গুলিকে! ভারতীয় মিডিয়ার খবর এমনই।

 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিসিআইয়ের এক কর্তা বলেন, ‘প্রথমে শাস্ত্রিকে কোচ করতে মোটেই রাজি ছিলেন না গাঙ্গুলি। তবে জহির খানকে বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় আর আপত্তি করতে পারেননি গাঙ্গুলি। জহির খান এমন একজন বোলার, যার প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই কারোরই।’

জহির খানের প্রশংসায় ওই কর্তা আরও যোগ করেন, ‘জহির খান আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে শুধু পরিচিতই নন, কোচিংয়েও যথেষ্ট অভিজ্ঞ। ক্যারিয়ারের শেষদিকে খেলার সময় জহির অনুজ বোলারদের মাঠেই পরামর্শ দিতেন। জাতীয় দলের উঠতি পেসাররা জহিরের থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে। আইপিএলে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়েও বোলারদের মেন্টরের ভূমিকা পালন করেছে সে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদপুরুষ সত্যজিৎ রায় তাঁর রচিত চলচ্চিত্র-রচনা, আঙ্গিক, ভাষা ও ভঙ্গি প্রবন্ধে বলেছেন, নাটকের দ্বন্দ্ব, উপন্যাসের কাহিনী ও পরিবেশ বর্ণনা, সংগীতের গতি ও ছন্দ, পেইন্টিং সুলভ আলোছায়ার ব্যঞ্জনা এসবই চলচ্চিত্রে স্থান পেয়েছে। কিন্তু ইমেজ ও ধ্বনির যে ভাষা, দেখানো-শোনানোর বাইরে যার প্রকাশ নেই, সে একেবারে স্বতন্ত্র ভাষা। ফলে বক্তব্য এক হলেও ভঙ্গির তফাৎ হতে বাধ্য। এ ভঙ্গি চলচ্চিত্রের বিশেষ ভঙ্গি। তাই অন্য শিল্প-সাহিত্যের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও চলচ্চিত্র অনন্য।

এমন অনন্য শিল্পের ধারক ও বাহক অথবা সব পর্যায়ের কুশীলব যাঁরা হন, তাঁদের জ্ঞানবুদ্ধি আর চিন্তা-চেতনাটা নিশ্চিতই হওয়া উচিত সমাজের আর পাঁচটা মানুষের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা, বুদ্ধিদীপ্ত ও উচ্চমার্গীয়। খুব স্বাভাবিকভাবেই চলচ্চিত্র পরিবারের সঙ্গে যুক্তরা সাধারণের কাছে তারকা খ্যাতিসম্পন্ন হন। তাঁদের একনজর দেখবার জন্য এবং তাঁদের কথা শোনার জন্য মুখিয়ে থাকেন সবাই। চলচ্চিত্র তারকাদের অঙ্গভঙ্গি, কথাবার্তা, স্টাইল, ফ্যাশন এবং চালচলন অনুসরণ করাটাও সাধারণের রোজকার অভ্যাস। কিন্তু চলচ্চিত্রের সেই মানুষরা যদি হোন বিপথগামী? তাঁদের আচরণ যদি হয় পাড়াগাঁওয়ের স্বার্থপর যাচ্ছেতাই মোড়লদের মতো? তবে বাংলা সিনেমার চিরায়ত সংলাপটা মনে করা ছাড়া আর গতি থাকে না, ‘ছেড়ে দে শয়তান!’

গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদের ওপর হামলায় অভিযোগে চিত্রনায়ক রিয়াজ, খল অভিনেতা মিশা সওদাগর ও খোরশেদ আলম খসরু প্রযোজিত সিনেমা হলে প্রদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দিয়েছেন চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতারা। কেউ কি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন, একজন শিল্পী তাঁরই সহশিল্পী বা চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টের গায়ে হাত তুলতে পারেন? এই একটা উদাহরণই বাংলা চলচ্চিত্র পরিবারের এ সময়ের অধঃপতন ও নিমজ্জন প্রমাণে যথেষ্ট। কিন্তু ঘটনা কেবল এটা নয়। গেল কয়েক মাস ধরেই যৌথ প্রযোজনার ছবি ও দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আলোকে কলকাতার সঙ্গে চলচ্চিত্র বিনিময় নিয়ে সিনেমাপাড়া বেশ সরগরম। একপক্ষ এসব চুক্তি মেনে কলকাতা থেকে আধুনিক নির্মাণশৈলীর সিনেমা এনে হলে প্রদর্শন করে দেশীয় সিনেমার বাজারকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। আবার আমাদের এখান থেকে বিনিময়ে যেসব চলচ্চিত্র কলকাতায় পাঠানো হচ্ছে, সেসব দেখবার রুচি সে দেশ বা এ দেশের দর্শকদের কারোরই নেই। এমন এক পরিস্থিতিতে যে যেভাবে পারছেন, একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। ফেসবুকে বা টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানে প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কুৎসা রটনা পর্যন্ত করছেন।

সিনিয়র অভিনেতাদের অসম্মান করে বক্তব্য দিচ্ছেন অনেকে। আবার সিনিয়ররা অনেককে আগুনে ঝাঁপ না দিতে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। সিনিয়র আর্টিস্ট মৌসুমীকে বয়স্ক বলেছেন মিশা সওদাগর। আর কী চাই? ওমর সানী নিজের রেস্টুরেন্টে বসে ফেসবুক লাইভে মিশাকে একহাত নিয়েছেন। অবস্থাটা এমন যে কেউ কারো কথাই সইতে পারছেন না।

চলচ্চিত্র শিল্পী বা পরিচালক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একে অপরকে ঘায়েল করার বিষয়টি এতটা খেলো দেখঅ গেছে যে তাতে অনুমান করা যায়, জাতীয় রাজনীতির নোংরা ধারাটা চলচ্চিত্র পাড়াতেও ভালোই সংক্রমিত হয়েছে। কিন্তু চলচ্চিত্রের মতো একটা শক্তিশালী শিল্পমাধ্যমের পরিবেশটা এভাবে এতটা কলুষিত হতে আছে? শিল্পীদের কি এমনতর ঝগড়া-কলহ-নোংরামি সাজে?

যে যেভাবে পারছে, যখন তখন যাকে তাকে বহিষ্কার করছে, এফডিসিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছে। কারো মধ্যে এখন আর স্থৈর্য নেই, একে অপরের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধটুকু অবশিষ্ট নেই।

শিল্পীরা এতটা অহংকারী হয়ে উঠেছে যে নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে মানুষ বলেই গণ্য করছেন না। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনেও অন্ধকারচর্চাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, তাঁদের সন্তান আব্রাম ও অপর নায়িকা বুবলীকে নিয়ে যে বাস্তবধর্মী সিরিওকমেডি গত কিছুদিন দেখল সবাই, তা যেকোনো ফিকশনধর্মী জটিল গ্রাম্য চলচ্চিত্র গল্পকেও হার মানিয়েছে। কিন্তু একজন নাগরিক শিল্পীর কি বাস্তবজীবনেও গ্রামীণ লোভী মাতবর সাজলে চলে?

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নিয়ন্ত্রণ যাদের হাতে তথ্য মন্ত্রণালয়, এফডিসি, সেন্সর বোর্ড, বাংলাদেশ টেলিভিশন, শিল্পী-পরিচালক-প্রযোজক সমিতি, তারা কি চলচ্চিত্র পরিবারের মূল্যবোধের এমন অবক্ষয়ের বিষয়টি টের পাচ্ছেন না?

শিল্পীদের তো মহত্ত্ব চর্চা করবার কথা, মহানুভব হয়ে উঠবার কথা। তিনি হবেন অনুসরণীয়, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। কোথায় হারিয়ে গেল রাজ্জাক-কবরী, শাবানা-আলমগীর বা ববিতা-জাফর ইকবালদের আমল? পুঁজিবাদ আর সস্তা জনপ্রিয়তাই কি তবে সব গিলে খাচ্ছে। চলচ্চিত্র পরিবারের এই অবক্ষয়টাতে মিডিয়াও তাঁদের স্বার্থ বুঝে হাওয়া দিচ্ছে। শিল্পীরা যে নিজেরাই মারামারি-গালাগালি করে নিজেদের অধঃপাতে নিয়ে যাচ্ছে, এ নিয়ে কারো মুখে কোনো রা নেই। কোনো সুশিক্ষিত বা স্বশিক্ষিত মানুষ কি আমাদের চলচ্চিত্র পরিবারে নেই?

এমন এক হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতিতে ভালো চলচ্চিত্র আশা করা যায় কি? এখনো চলচ্চিত্রের আবেদন সব শিল্পের ওপরে। বৈশ্বিকভাবে চলচ্চিত্রের যে আধুনিকায়ন হয়েছে তার ছিটেফোঁটাও কি বাংলাদেশে আছে? উৎকর্ষতায় নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সদিচ্ছা কারোর মধ্যে না থাকুক একে অপরকে নিচু করবার ক্ষেত্রে কারো আগ্রহের সীমা-পরিসীমা নেই। বছরে দু-চারজন পরিচালকের হাতে খুব স্বল্প সংখ্যক ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হলেও নানা চাপে পড়ে সেসব আর পাদপ্রদীপের আলোয় আসে না। সার্বিকভাবে বাংলা চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। নিতান্ত বাধ্য হয়ে তারা ঝুঁকছে কলকাতা, মুম্বাই আর হলিউডে।

নন্দনতাত্ত্বিকদের মতে, শিল্প শিল্পীর অনুভবকে, অনুভূতিকে প্রকাশ করে। একজন শিল্পীর শিল্পসত্তা অনির্ভর, অসীম ও ক্ষয়হীন। শিল্প ও শিল্পীর মাধ্যমেই মহাসত্তার প্রকাশ। শিল্পের গোড়ার কথাই হলো ‘রিয়েলিটি’ বা পরম সত্যকে প্রকাশ করা। আর মহত্তম শিল্প থেকেই তার কাঙ্ক্ষিত সত্য ও সুন্দরকে খোঁজে পায় শিল্পরসিক। কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্র পরিবারে মহত্তম শিল্প বিনির্মাণ করতে পারেন এমন শিল্পী কোথায় পাব? আলো নয়, মননশীলতা নয়, অতল অন্ধকারকেই যে আমরা গন্তব্য করে চলেছি!

ফারদিন ফেরদৌস : সংবাদকর্মী, মাছরাঙা টেলিভিশন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কাতারের উপর সৌদি আরবের অবরোধের কারণে মারা পড়ছে শত শত উট। সৌদি ভূখণ্ড থেকে কাতারের কৃষকদের বহিষ্কারের কারণে পানির অভাবে মারা যাচ্ছে এসব প্রাণী। দুটি দেশের মধ্যে কূটনীতিক টানাপোড়েন শুরু হলে তার প্রভাব গিয়ে পড়ে উটগুলোর উপরও। আগে মুক্তভাবে পানি ও খাবার গ্রহণ করতে পারলেও এখন সৌদি সীমান্তে চলাচল করতে পারছে না কাতারের কৃষকদের উঠগুলো।

দুদেশের সীমান্তে অনেক উটকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অবরোধ শুরু হওয়ার পর সৌদি সীমান্ত থেকে উটগুলো ফিরিয়ে নিয়ে আসতে কৃষকরা বেশ ঝামেলায় পড়ে গিয়েছিল।

খুব অল্প সময়ের নোটিশে সৌদি ছাড়ার নির্দেশনা আসলে কৃষকরা বেশ বিপাকে পড়ে। নিজেদের উট চিহ্নিত করতে বেশ কষ্ট পোহাতে হয়। আর অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল সংখ্যক উট নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসা যায়নি।

জানা গেছে, প্রতিদিন মাত্র কয়েকশ’ উটকে সীমান্ত পার হতে দেওয়া হতো। বেশিরভাগ উটকেই এমন একটি জায়গায় জড়ো করা হয়েছিল যেখানে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রির উপরে। কাতারের উপর অবরোধ আরোপ করা হলে সৌদি আরব থেকে কাতারি কৃষকদের কিছু অংশ প্রথম দিকেই ফিরে আসে। কিন্তু বেশিরভাগ কৃষকই দুই সপ্তাহেও ফিরতে পারেননি।

কাতারের আবু সামরার এলাকার হুসেইন এল মারি নামে একজন উট মালিক বলেন, আমি সৌদি আরব থেকে ফিরেছি। দেখেছি রাস্তার পাশে একশ’রও বেশি মৃত উট। এছাড়া রয়েছে মালিকবিহীন শত শত উট ও ভেড়া।

বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কাতার অবরোধের ফলে ১২ হাজার থেকে ২৫ হাজার প্রাণীর উপর প্রভাব পড়েছে। অনেক প্রাণী হারিয়ে গেছে। খাবার ও পানির অভাবে কয়েকশ’ মারা গেছে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের একমাত্র স্থল সীমান্ত। প্রায় ৪৪০০ কিলোমিটার সীমান্তে উট ও ভেড়াকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য প্রতিবেশী দেশটির ভূখণ্ডও ব্যবহার করতেন কাতারের কৃষকরা। কিন্তু সন্ত্রাসবাদের সমর্থন দেয়ার কথিত অভিযোগ এনে গত ৫ জুন কাতারের ওপর সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে সৌদি জোট। বন্ধ করে দেয়া হয় সীমান্ত। এর প্রভাব পড়ে উট ও ভেড়ার মতো নিরীহ প্রাণীর উপরও।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest