সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় আটক ভারতীয় রেনু পোনা ইছামতি নদীতে অবমুক্তসাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক ময়লার স্তুপদেবহাটায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ শ্যামনগরে ছেলের গাড়ীর পেট্রোল নিতে জন্য দীর্ঘ লাইনে মাসাতক্ষীরায় পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কর্মশালাকালিগঞ্জে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ- ২০ লাখ টাকার ক্ষতিসাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের সুস্থতা কামনায় প্রেসক্লাবের বিবৃতিচ্যানেল ওয়ানে জাকিরের নিয়োগ : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনসাতক্ষীরা’র শ্যামনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষে আহত ১৪কালিগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ

কলারোয়া ডেস্ক : কলারোয়া থানা পুলিশ মাদকমুক্ত ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চিরনি অভিযান শুরু করেছে। যারা এলাকায় মাদক ব্যবসা করে সমাজ ধ্বংস করছে তাদের খুজে বের করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হচ্ছে। গত দুই দিনে ৩শ’৩০বোতল ফেনসিডিল ও ২৪ পুরিয়া গাজা উদ্ধার সহ ৩ ব্যক্তিকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ এর নেতৃত্বে খোরদো পুলিশ ফাড়ির এসআই হাসানুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের শাকদহ বাজার এলাকা থেকে ২ব্যক্তিকে আটক করেছে। পরে তাদের দেহ তল্লাসী চালিয়ে ২৪পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার হয়। আটকৃকত ব্যক্তিরা হলো-উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের কলাটুপি গ্রামের মোঃ ফজর আলী সরদারের ছেলে আল আমীন (২০) ও একই গ্রামের মোঃ মতলব সরদারের ছেলে মোঃ হাসানুজ্জামান ওরফে খোকন(২২)। এঘটনায় কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘মুক্তামণি এখন কেমন আছে? ওকে কি দেশে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব? আপনারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালান, বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওকে সুস্থ করে তুলতে আরও কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন তা জানুন। প্রয়োজনে সিঙ্গাপুর বা অন্য কোনো দেশে পাঠিয়ে শিশুটিকে সুস্থ করে তুলতেও আমার আপত্তি নেই। আর সেই আবুল বাজানদার এখন কেমন আছে?’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতে চাচ্ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন শিশু মুক্তামণি ও ট্রিম্যান খ্যাত আবুল বাজানদারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ডা. জুলফিকার লেনিনের কাছে ঠিক এভাবেই আন্তরিক মনোভাব নিয়ে তাদের সম্পর্কে জানতে চান শেখ হাসিনা।
‘কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত অবধি যিনি রাষ্ট্রীয় নানা কাজে সদাব্যস্ত। কিন্তু গরিব, দুঃখী ও নিঃস্ব এবং হৃতদরিদ্র মানুষগুলোর কথা ভুলেন না। ওদের কথা ভাবেন, পরম মমতা নিয়ে পাশে দাঁড়ান তিনি।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডা. সামন্ত লাল সেন এভাবেই গল্পচ্ছলে প্রধানমন্ত্রীর এসব গুণাবলির কথা বলছিলেন। আর জানাচ্ছিলেন সাক্ষাৎকালে কী কী কথা হয় শেখ হাসিনার সঙ্গে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুক্তামণির চিকিৎসার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছিলেন। তার পক্ষে ডা. জুলফিকার লেনিন বার্ন ইউনিটে এসে মুক্তামণিকে দেখে যান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন। গত কয়েকদিন কী চিকিৎসা দেয়া হলো, তার শারীরিক অবস্থা এখন কেমন? এ সম্পর্কে জানাতে সর্বশেষ চিকিৎসার ফলোআপ রিপোর্ট নিয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি ও ডা. জুলফিকার লেনিন যান।
ডা. সেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই আন্তরিকভাবে সময় নিয়ে মুক্তামণির রোগটি সম্পর্কে শোনেন। তিনি দেশীয় চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রেখে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি সিঙ্গাপুর কিংবা উন্নত কোনো দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসার কাগজপত্র পাঠিয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
ডা. সেন জানান, মুক্তামণিকে সুস্থ করে তুলতে সিঙ্গাপুর বা উন্নত দেশে পাঠানোর প্রয়োজন হলে পাঠাবেন বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। মুক্তামণির প্রসঙ্গ শেষ হতে না হতেই তিনি আবুল বাজানদারের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ খবর জানতে চান। প্রায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছে জেনে তিনি খুশী হন। মুক্তামণিও নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে উঠবে এমনটা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফিরে বিকেলেই ডা. সেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগ করে মুক্তামণির চিকিৎসা সংক্রান্ত হালনাগাদ কাগজপত্র স্ক্যান করে সেখানে পাঠিয়ে দেন। সেখানকার চিকিৎসকরা এমআরআইসহ আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেই ফলাফলগুলো পাঠানোর পরামর্শ আপাতত দিয়েছেন।
মুক্তামণির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. সেন জানান, মুক্তামণির রক্তে প্লাটিলেট কমে গেছে। সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের দেহে এক লাখ ৫০ হাজার বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ প্লাটিলেট থাকে। কিন্তু তার শরীরে মাত্র ২২ থেকে ২৪ হাজার প্লাটিলেট রয়েছে। রক্ত থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করে তার শরীরে দিয়ে প্লাটিলেট বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা জনপ্রিয়তম অনলাইন নিউজপোর্টাল ডেইলি সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে মুক্তামণির অসুস্থতার খবর প্রকাশিত হয়। এরপর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হকের উদ্যোগে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওইদিনই রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রী মুক্তামনির চিকিৎসার সমস্ত দায়ভার গ্রহণ করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ :

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এম বেলাল হোসাইন : সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের ষাটলিপিকার থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতির পর বদলির খারিজ হওয়া রুলনিশির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দায়েরকৃত এস এম মাহাবুবর রহমানের আপিল খারিজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর দু’টোয় চেম্বার জজ বিপুল বাগমার এ আপিল খারিজ করে দেন। ফলে বগুড়া জেলা পরিষদে যোগদান করা ছাড়া মাহাবুবর রহমানের আপাতত অন্য কোন উপায় থাকছে না। এদিকে এ আদেশ কার্যকর হলে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে মাহাবুবর রহমানের ২৭ বছরের রামরাজত্বের অবসান ঘটবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ষাটলিপিকার থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতির পর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ২০০৫ সালের ১৪ জুন এস,এম, মাহবুবুর রহমানকে দ্বিতীয়বার জামালপুর জেলা পরিষদে বদলী করেন। তিনি জামালপুর জেলা পরিষদে যোগদানের জন্য আবেদন করলেও যোগদানপত্র গৃহীত হয়নি। অপরদিকে গত ২০০৫ সালের ১৯ আগষ্ট সাতক্ষীরা জেলার চার জন সংসদ সদস্য এস,এম মাহবুবের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগে এক ডিও লেটার পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ৬৪টি গৃহ বন্দোবস্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্ধ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, জেলার বিভিন্ন খেয়াঘাট লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে পূর্ববর্তী ডাকের চেয়ে কম ডাকে ইজারা দেওয়াসহ বিভিন্ন দূর্ণীতির কথা উল্লেখ করেন। একইভাবে অনেকগুলো অভিযোগকারির অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জসিমউদ্দিন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রমানসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। তার বিরুদ্ধে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদন্ত করার জন্য দাবি জানানো হলেও এক অদৃশ্য কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
২০০৫ সালের ১৪ জুন বদলী আদেশ চ্যালেঞ্জ ও একই বছরের ১৯ আগষ্ট চার সাংসদের উদ্দেশ্য প্রণোদিত ডিও লেটারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাহবুববর রহমান হাইকোর্টে -৬৯১৭/২০০৫ নং রীট পিটিশন দায়ের করেন। সেখানে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ভুইয়া মোঃ আতাউর রহমানের ২০০৩ সালের ১৭ জুনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে সাতক্ষীরা জেলা ন্যাপ এর সাধারণ সম্পাদক কাজী সাঈদুর রহমানের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর আদালত শুনানীন্তে উক্ত আদেশের উপর রুলনিশি জারী করেন এবং বদলী আদেশ স্থগিত করেন। স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় পরবর্তীতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ থেকে তাহার বেতন ভাতা এবং রীট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চাকুরীতে যাহাতে স্থিতিবস্থা বজায় থাকে সে জন্য তিনি ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর একটি আবেদনপত্র দাখিল করেন এবং তা’ মঞ্জুর হয়। তাকে সাতক্ষীরা জেলাা পরিষদে রাখার জন্য গত বছরের ১২ মে ও ৩০ মে প্যাডে চিঠি লিখে সব ধরনের সহায়তা করেন যথাক্রমে তৎকালিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর আহম্মেদ ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মোঃ মনিরুজ্জামান। ১৩ জুলাই উভয়পক্ষের শুনানী শেষে এ সংক্রান্ত রীট পিটিশনটি নিষ্পত্তি করে মাহাবুবর রহমানের বিরুদ্ধে যে কোন ধরণের দূর্ণীতির তদন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় করতে পারবে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের ষাটলিপিকার থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান এসএম মাহাবুবর রহমান। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ২০০১ সালের ২৬ জুন এস,এম, মাহবুবর রহমানকে পঞ্চগড় জেলা পরিষদে বদলী করেন। উক্ত বদলী আদেশকে চ্যালেজ্ঞ করে তিনি হাইকোর্টে ৩৪৪৬/২০০১ নং রীট পিটিশন দায়ের করেন। ৪ আগষ্ট শুনানী শেষে আদালত উক্ত বদলী আদেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে পরদিন বিবাদীগনের বিরুদ্ধে রুললনিশি জারী করেন। ২০০৫ সালের ২৪ মে বাদি মাহাবুবর রহমান রিট মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। জামালপুরে বদলী সংক্রান্ত রীট পিটিশনটির কার্যক্রম চলাকালিন তাকে ২০১৬ সালের ১৪ জুন বগুড়ায় বদলী করা হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে ৭৩৩৩/২০১৬ নং রীট পিটিশন দায়ের করেন এসএম মাহাবুবর রহমান। গত ১২ জুলাই বিচারক কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ উভয়পক্ষের শুনানী শেষে মাহাবুবর রহমানের দায়েরকৃত রীট পিটিশনের রুলনিশি খারিজ করে দিয়ে সরকারি কর্মচারি হিসেবে বদলী হতে হবে বলে আদেশ দেন।
এদিকে খারিজ হওয়া রুলনিশির (৭৩৩৩/১৬) এর বিরুদ্ধে এসএম মাহাবুবর রহমান গত ১৬ জুলাই চেম্বার জজে আপিল(সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন নংÑ১২২৩/১৭) করেন। চেম্বার জজ বিপুল বাগমার শুনানী শেষে খারিজ করে দেন।
পিটিশনকারির পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.জয়নুল আবেদীন।। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. রিয়াজউদ্দিন খান রেজা ও অ্যাড. সত্যরঞ্জন ম-ল।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবী অ্যাড. রিয়াহউদ্দিন খারন রেজা বলেন, সোমবারের আদেশ সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে পৌঁছানোর পর মাহাবুবর রহমানকে বগুড়ায় যোগদান করা ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকবে না। সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুবর রহমানের সঙ্গে সোমবার বিকেলে তার ০১৭১১-৩৫২৭২০ নং মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সাতক্ষীরায় গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার সাতটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে শত শত বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি।
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি, তালা, কলারোয়া ও শ্যামনগর উপজলোর কয়েক হাজার হেক্টর মৎস্য ঘের, ফসলি জমি ও সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হেেয়ছ আশাশুনি ও তালা উপজলোর কয়েকটি গ্রামে।
এদিকে, পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সাতক্ষীরা শহররে বদ্দীপুর কলোনী, পুরতান সাতক্ষীরা সরদার পাড়া, ডেইয়ের বিল, কামালনগর, মধুমোল্যারডাঙ্গী, মহেদেীবাগ, মাছখোলা, বিনেরপোতা ও লাবসা এলাকার নিম্নাঞ্চল পানরি নিচে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। বাজারেও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ভিজতে ভিজতে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করছে। খেটে খাওয়া দিন মজুর মানুষেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তারা বৃষ্টিতে বের হতে না পেরে অলস সময় কাটাচ্ছেন। ব্যবসা বাণিজ্যে প্রতিষ্ঠান গুলোও ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে।
সংশি¬ষ্টরা বলছেন, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের ও জেলার কয়েকটি নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এ জেলার নিম্নঞ্চল প্লাাবিত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা গণফোরামের সাধারন সম্পাদক আলীনুর খান বাবুলসহ একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অপকিল্পিত বেড়িবাধ দিয়ে মৎস্য ঘের তৈরী করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করায় প্রত্যেক বছরই বর্ষা মৌসুমে জেলা শহরের নি¤œাঞ্চলে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তারা জানান, শহরের কামাননগর, পলাশপোল ও মাছখোলা এলাকায় কয়েক জন প্রভাবশালী ঘের মালিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে চিংড়ি ঘের করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঘের মালিকরা পানি নিষ্কাশনের কোন পথ রাখেননি। যার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই এসব এলাকার বাড়ি, ঘর ও রাস্তায় পানি উঠছে। তাই মাছের ঘের কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা অতীব জরুরি। আর তা না হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষ স্থায়ী ভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়বে। তারা আরো বলেন, সাতক্ষীরা শহরের বড় একটি অংশের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র উপায় পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের খড়িবিলা খাল। অথচ সে খালে নেটপাটা দিয়ে স্থানীয় কয়েজন ব্যক্তি ঘের ব্যবসা শুরুকরায় কয়েক হাজার মানুষ আজ পানিবন্দী। ভেলায় করে রাস্তা পারাপার করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অপরদিকে, তালা উপজেলা সদরসহ কয়েটি স্থানের রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। অনেক স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা মৎস্য অফিসার সেলিম সুলতান জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষনে এ উপজেলার প্রায় ২৭’শ হেক্টর মৎস্য ঘের ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তা জুলফিকার আলি রিপন জানান, বৃষ্টি আরো কয়েকদিন যাবত হতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সদরের এল্লারচরে পোস্ট অফিসের জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক দখল করে দোকানঘর ও বাড়ি নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে।
সদরের ফিংড়ী ইউনিয়নের এল্লাচর বাজারে অবস্থিত এল্লারচর পোস্ট অফিসের নামে বালিথা এল্লাচর মৌজায় ২৪৬ নং দাগের, ৭নং খতিয়ানে ১০ আগস্ট’১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডাক বিভাগের নামে ০৩ শতক জমি রেকর্ড করা হয়। অথচ সরেজমিনে উক্ত জায়গা না থাকায় পোস্ট অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরৎ যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সদর উপজেলার ওই এলাকার যে কোন ধরনের চিঠি, মানি-অর্ডার, পে-অর্ডার, লিগ্যাল নোটিশসহ, পোস্ট অফিস সংক্রান্ত যেকোন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এল্লাচর বাজারে একটি দোকানঘরে ঢেলামেশাভাবে ডাকঘরের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে পোস্ট মাস্টার আক্তারুল ইসলাম। বর্তমানে পিওন জয়দেব বাবু রাস্তার পাশের অন্য একটি কম্পিউটারের দোকানে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

জানা যায়, ডাকঘরের পাশে একটি বসত ঘর, বিথিকা জুয়েলার্স ও অনিক লাইট হাউজ নামে ২টি দোকান রয়েছে যা ওই এলাকার প্রভাবশালী নিমায় চন্দ্রের দখলে। ডাক ঘরের জায়গা ০৩ শতক হলেও বাস্তবে ০১ শতকেরও কম জায়গায় ১টি অব্যবহার যোগ্য পাকা ডাকঘর আছে। দীর্ঘদিন ঘরটি পরে থাকা এবং সংস্কারের অভাবে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যে কারণে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন ডাকঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়। সে মোতাবেক কাজ শুরু করতে যেয়ে সরেজমিনে জায়গা না থাকায় উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরৎ যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানাগেছে। এলাকাবাসী জানায় পোস্ট অফিসের ওই জায়গাটি ১৯৮৮ সালের আগে হিন্দু জমিদারদের মাঠ ছিল। ১৯৮৮ সালে সার্ভেয়ার আসলে তৎকালীন মেম্বর সন্তোষ সিং পোস্ট অফিসের নামে ওই ০৩ শতক জায়গা লিখে দিয়ে যায়। পরবর্তীতে পোস্ট অফিসের জায়গা দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী নিমায় চন্দ্র বিথিকা জুয়ের্লাস ও অনিক লাইট হাউজ নামে ২টি দোকান গড়ে তোলে। কিছু কুচক্রী ব্যক্তিদের জন্য পোস্ট অফিসের জন্য টেন্ডার হওয়ার পরেও কাজ না হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি পোস্ট অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরৎ গেলে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চিরতরে বিলুপ্ত হতে পারে। ওই এলাকার সর্বস্তরের মানুষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করে পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করার আহবান জানিয়েছেন।

এঘটনায় ফিংড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শামসুর রহমান বলেন, “জায়গাটি পোস্ট অফিসের নামে রেকর্ড হয়েছে। কিন্তু পোস্ট অফিসের কোন ভবন ছিলো না। অনেক আগে পোস্ট মাস্টার বটতলায় বসে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতো এবং বট গাছে বক্স ঝুলানো ছিলো। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি সমিতির ঘরে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আমারও চাই পোস্ট অফিসের ভবন নির্মাণ করা হোক।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ রাখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ মঙ্গলবার শুরু হওয়া তিনদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সব মিলিয়ে মোট ২৩ দফা নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

২৩ দফার মধ্যে আরো বলা হয়েছে, তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। মানুষ যেন শহরমুখী না হয়। শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ যাতে না বাড়ে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে জেলা প্রশাসকদের ব্রতী হতে হবে।

ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমাতে উন্নয়ন কর্মসূচি এমনভাবে গ্রহণ করতে হবে যাতে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ উপকৃত হয়। বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরো সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, গ্রামের মুরুব্বি, নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী, নারী সংগঠক, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, এনজিওকর্মীসহ সমাজের সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার প্রদান ও আদালতে মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে।

জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে।

শিক্ষার সর্বস্তরে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমি রক্ষায় আরো সচেষ্ট হতে হবে।

কৃষি-উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনাকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী হতে হবে।

ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও এসডিজির সফল বাস্তবায়নে মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত আইন ও বিধি বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘ্ন করা এবং পেশিশক্তি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভোক্তা অধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

নারী উন্নয়ন নীতি সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং নারী ও শিশু পাচার রোধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ইতিহাস চেতনা, জ্ঞানস্পৃহা ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে।

কঠোরভাবে মাদক ব্যবসা, মাদক চোরাচালান এবং এর অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে সরকারি ভূমি রক্ষায় সজাগ থাকতে হবে।

পার্বত্য জেলাগুলোর উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের পাশাপাশি এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। পর্যটনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।

এসবের বাইরে নিজ নিজ জেলাভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে এগুলো সমাধানের উদ্যোগ এবং নদীভাঙনের শিকার ও গৃহহীনদের ঘর-বাড়ি তৈরি করে দিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন।

এ সময় মঞ্চে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি হজ ফ্লাইটে (এসভি ৮১১) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ৩১৩ হজযাত্রী। উড্ডয়নের মিনিট খানেক আগে এ ঘটনা ঘটেছে বলে হজ যাত্রী সূ্ত্রে জানা গেছে। খবর বাংলানিউজের।

খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটলেও এসভি ৮১১ ফ্লাইটের ৩১৩ জন যাত্রী নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত সবাইকে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনা হয়। পরে দুপুর পৌনে ২টায় অন্য আরেকটি ফ্লাইটে হজ যাত্রীদের জেদ্দা পাঠানো হয়। ফ্লাইটটির বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা ত্যাগ করার শিডিউল ছিলো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এম. বেলাল হোসাইন : সাতক্ষীরায় বিরল রোগে আক্রান্ত ১০ মাস বয়সের শিশু শেখ ইব্রাহীম। জন্মের ৭ মাস বয়স থেকে শিশু ইব্রাহীম এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে তার পিতা শেখ জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের শেখ জয়নাল আবেদীনের শিশুটির গলায় ও উরুর গোড়ায় বড় আকারে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৩ মাস পূর্বে তার গলায় ছোট আকারে একটি ক্ষতের চিহ্ন দেখা দেয় সেটা ধীরে ধীরে গলার চারিদিকে বিস্তার হচ্ছে। শিশুটির পিতা অসহায় ফল বিক্রেতা শেখ জয়নাল ও মাতা হাসিনা বেগম জানান ৭ মাস বয়সে রোগ দেখা দিলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডাক্তার নারায়ন প্রসাদ সান্যালকে দেখালে কোন উন্নতি না হওয়ায় তার পরামর্শে ঢাকার সমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ডাঃ কবির চৌধুরীর তত্বাবধানে ২০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও কোন উন্নতি না হওয়ায় ডাক্তার কবির চৌধুরী উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের ভেলোরে ক্রিস্টিয়ান মেডিকেল কলেজে ডা. অনু করুলার নিকট যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সামান্য ফল বিক্রেতা বাবার কোন উপায় না থাকায় তার সর্বস্ব বিক্রি করে ভেলোরে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ইব্রাহীমের উরুর গোড়ায় একই ক্ষত চিহ্ন দেখা দিলে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে ডা. অনু কোরুলা বলেন, তার বোনমেরা পরিবর্তন ছাড়া তাকে সুস্থ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বাংলাদেশ টাকায় প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। যা একজন হতদরিদ্র নিঃস্ব ফল বিক্রেতার পক্ষে বহন করা সম্ভব না। তিনি কিভাবে শিশু সন্তানের চিকিৎসা করাবেন তা নিয়ে রয়েছেন দুঃশ্চিন্তায়। তিনি তার শিশুটির সুচিকিৎসায় সরকারের উচ্চ মহলসহ দেশের বিত্তবানদের নিকট মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা মাতা হাসিনা হিসাব নং ২১৬৮৫ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ সাতক্ষীরা শাখা। যোগাযোগ: ০১৭১৬৫৭০১৭৭।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest