এম. বেলাল হোসাইন : মাছ চুরি ও টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এক ঘের কর্মচারিকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে লাশের গলায় নাইনলের নেট বেঁধে শ্যালো মেশিন ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দিয়ে গভীর রাতে পুলিশ ম্যানেজ করে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ সৎকারের চেষ্টা চালানো হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউনিয়নের গোবরাখালির একটি চিংড়ি ঘেরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ সরকার (২৬)। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের সুধান্য সরকারের ছেলে।
মৃতের মামাত ভাই একই গ্রামের সঞ্জয় সরকার ও কাকাত ভাই ভোলা সরকার জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গ্রামের মুজিবর রহমান টুটুল ও টোনা গ্রামের শিবদাস সরকারের পরিচালনাধীন গোবরাখালির ৩৩০ বিঘা চিংড়ি ঘেরের কর্মচারি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল একই উপজেলার বরেয়া গ্রামের বিশ্বজিৎ সরকার। তার ভাই তুষার সরকার একই মালিকদ্বয়ের পরিচালনাধীন চম্পাফুল ইউনিয়নের কাঠুনিয়া ডোগরাখালির ২০০ বিঘা চিংড়ি ঘেরে কর্মচারি হিসেবে কাজ করে। দেড় মাস আগে গোবরাখালি ঘের থেকে আড়াই কেজি বাগদা চিংড়ি চুরির অপরাধে মালিক মুজিবর রহমান টুটুল, শিবপদ সরকার, তার মামাত ভাই একই গ্রামের দেবাশীষ সরকারসহ কয়েকজন বিশ্বজিতকে মারপিট করে। আবারো মারপিটের ভয়ে বিশ্বজিৎ পালিয়ে যায় বাড়িতে। পরদিন শিবপদ সরকার, দেবাশীষ ম-ল, সাবেক ইউপি সদস্য লক্ষীপদ সরকার, ঘোজা গ্রামের পলাশ বৈদ্য বরেয়া গ্রামের বাড়িতে বিশ্বজিতকে ধরে আনতে যায়। আগে ভাগে খবর পেয়ে দেবাশীষ পালিয়ে যায়। একপর্যায়ে চাকরি বজায় রাখতে বিশ্বজিতকে খুঁজে এনে দেওয়ার জন্য ভাই তুষারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। এক সপ্তাহ আগে তুষার বিশ্বজিতকে নিয়ে মালিকদের হাতে তুলে দেন।
স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বজিতকে নাগালে পেয়ে তার উপর ঘেরের আড়াই কেজি মাছ চুরি ও মাছ বিক্রির ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নির্যাতন চালায় শিবপদ সরকার, দেবাশীষ সরকার, টুটুল মোড়লসহ তাদের লোকজন। এভাবে এক সপ্তাহ ধরে তাকে ঘেরের বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হতো। একপর্যায়ে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শিবপদ সরকার, দেবাশীষ ম-ল, টুটুল মোড়লসহ তাদের ঘের কর্মচারিরা বিশ্বজিতকে কয়েক দফায় মারপিটের একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘেরের বাসায় বিশ্বজিৎ মারা যায়। বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মৃতের গলায় নাইনলের নেট দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঘেরের শ্যালো মেশিনের বাসার আড়ায় ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দেওয়া হয়। একইসাথে মৃতের ভাই তুষার সরকারকে দিয়ে ভাই বিশ্বজিৎ মানসিক রোগী হওয়ায় আত্মহত্যা করেছে মর্মে একটি কম্পিউটার কম্পোজকৃত কাগজে সাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। রাতেই থানাকে ম্যানেজ করে উপপরিদর্শক হেকমত আলীকে শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে গোবরাখালি ডেকে এনে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য একটি কাগজে মৃতের মা কৌশল্যা সরকার, ভাই সূর্যপদ সরকার ও তুষার সরকারের সাক্ষর করিয়ে নেয় পুলিশ ও নির্যাতনকারিরা। এরপরপরই তুষারকে দিয়ে রাতেই লাশ সৎকার করার জন্য বলা হয়। বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানোয় তারা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলায় শনিবার ভোরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য কালিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্বজনরা আরো অভিযোগ করে বলেন, হত্যার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মোটা অংকের টাকা দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে আত্মহত্যার ঘটনা দেখিয়ে ইচ্ছামত সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়না তদন্ত ছাড়াই রাতের আঁধারে লাশ সৎকারের চেষ্টা করা হয়। পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসতে পারেন এমন খবর পেয়ে ওই ঘেরে কর্মরত সাতজন কর্মচারিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে বিশ্বজিতের নবনির্মিত বাড়ি ও সম্পদ আত্মসাৎ করতে ভাই তুষার এ হত্যাকা-ে জড়িত থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন। জানতে চাইলে মৃতের ভাই তুষার সরকার বলেন, তার ভাই বিশ্বজিৎ জমি কিনে নতুন বাড়ি তৈরি করেছে। তবে সে মানসিক রোগী তাই আত্মহত্যা করেছে। মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৩ মিনিটে উপপরিদর্শক হেকমত আলী গোবরাখালি ঘেরে এসে ঝুলন্ত লাশ নামান বলে দাবি করেন তিনি। মৃতের মা কৌশল্যা সরকার ও বড় ভাই সূর্যপদ সরকার জানান, বিশ্বজিৎ কখনো মানসিক রোগী ছিল না। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাদের কিছু জানা নেই। তবে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপপরিদর্শক হেকমত আলী ও ঘের মালিকরা ময়না তদন্ত ছাড়াই রাতে লাশ দাফন করতে বলে একটি কাগজে সাক্ষর করিয়ে নেন। এ ব্যাপারে ঘের মালিক শিবপদ সরকারের সঙ্গে শনিবার সকাল ৮টার দিকে তার ০১৭১১-২১৭১৮৭ নম্বর মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার মামাত ভাই দোবশীষ ম-ল সাংবাদিকদের কাছে বিশ্বজিতকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সে আত্মহত্যা করেছে। একই ঘেরের অংশীদার মুজিবর রহমান টুটুল বলেন, যে ঘেরে বিশ্বজিৎ মারা গেছে সেটি শিবপদ সরকারের ব্যক্তিগত প্রজেক্ট। তাই এ মৃত্যু নিয়ে তার কোন ধারণা নেই।
শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক হেকমত আলী জানান, বিশ্বজিৎ আত্মহত্যা করেছে। তাদের পরিবারের কোন আপত্তি না থাকায় লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লস্কর জায়াদুল হক বলেন, প্রথমে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তণ করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য শনিবার সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃতের ভাই তুষার সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে এ ঘটনায় শনিবার থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা(২১নং) হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ি পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

১০ বছর ধরে ঘুমন্ত স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে ৯ বছরের জেল হল এক ব্যক্তির। ব্রিটেনের বাসিন্দা ওই ব্যক্তির কীর্তি সম্পর্কে মোবাইল ভিডিও দেখে জানতে পারেন তার স্ত্রী। এরপরই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

খবরে প্রকাশ, গত ১০ বছর ধরে প্রতি রাতে তাঁকে ধর্ষণ করত তাঁর স্বামী। শুধু তাই নয়, ধর্ষণ করার সময় গোটা ঘটনার ভিডিও করে রাখত অভিযুক্ত। তবে এতদিন সেই ঘটনা টের পাননি ওই মহিলা। সম্প্রতি, তাঁর স্বামী মোবাইল ফোনটি বাড়িতে ফেলে যাওয়ায় সামনে উঠে আসে গোটা ঘটনাটি। ভিডিওগুলি হাতে পান মহিলা। এরপরই স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। গ্রেফতার করা হয় তাকে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আইসিইউতে মুক্তামনি, বায়োপসি সম্পন্ন

বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনির বায়োপসি সম্পন্ন হয়েছে। বায়োপসির জন্য তার হাত থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছে। তাকে এখন আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অপারেশন থিয়েটারে শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার বায়োপসি সম্পন্ন হয়।

অপারেশনের পর ঢামেক বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, মুক্তামনি এখন ভালো আছে। সংগৃহীত টিস্যু পরীক্ষা করতে পাঠানো হবে। তাকে এখন আইসিইউতে রাখা হয়েছে। বিকালে কেবিনে দেবো।

বার্ন ইউনিউটের পরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, বায়োপসির জন্য মুক্তামনির হাত থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছে। সেটা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মুক্তামনির বায়োপসির রিপোর্ট আসার পর গঠিত মেডিকেল বোর্ড ৭ আগস্ট আবারো বসবে পরবর্তী করণীয় নিয়ে। অস্ত্রোপচার করতে সময় লাগে ৪০ মিনিট।

এর আগে তাকে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশশের পুরো প্রক্রিয়ার যুক্ত ছিলেন বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক সাজ্জাদ খোন্দকার, অধ্যাপক ডা. রায়হানা আওয়াল, সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ, সহকারী হেদায়েত আলী, কনসালটেন্ট ডা. আবু ফয়সাল, ডা. শারমিন সুমি, আবাসিক সার্জন হুসেন ইমাম, ডা. মাহবুবুর রহমান. ডা. লতা। আর অ্যানেসিথেশিয়ার বিভাগের প্রধান ডা. মোজাফফর আহমেদ, ডা. মৌমিতা তালুকদার ও ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আইসিইউতে মুক্তামনি, বায়োপসি সম্পন্ন

বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনির বায়োপসি সম্পন্ন হয়েছে। বায়োপসির জন্য তার হাত থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছে। তাকে এখন আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অপারেশন থিয়েটারে শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার বায়োপসি সম্পন্ন হয়।

অপারেশনের পর ঢামেক বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, মুক্তামনি এখন ভালো আছে। সংগৃহীত টিস্যু পরীক্ষা করতে পাঠানো হবে। তাকে এখন আইসিইউতে রাখা হয়েছে। বিকালে কেবিনে দেবো।

বার্ন ইউনিউটের পরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, বায়োপসির জন্য মুক্তামনির হাত থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছে। সেটা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মুক্তামনির বায়োপসির রিপোর্ট আসার পর গঠিত মেডিকেল বোর্ড ৭ আগস্ট আবারো বসবে পরবর্তী করণীয় নিয়ে। অস্ত্রোপচার করতে সময় লাগে ৪০ মিনিট।

এর আগে তাকে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশশের পুরো প্রক্রিয়ার যুক্ত ছিলেন বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক সাজ্জাদ খোন্দকার, অধ্যাপক ডা. রায়হানা আওয়াল, সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ, সহকারী হেদায়েত আলী, কনসালটেন্ট ডা. আবু ফয়সাল, ডা. শারমিন সুমি, আবাসিক সার্জন হুসেন ইমাম, ডা. মাহবুবুর রহমান. ডা. লতা। আর অ্যানেসিথেশিয়ার বিভাগের প্রধান ডা. মোজাফফর আহমেদ, ডা. মৌমিতা তালুকদার ও ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

পতৌদির নবাব পরিবার ঘুরতে বেরিয়েছে। ঘোরাঘুরির উদ্দেশ্যে সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুর পৌঁছেছেন সুইজারল্যান্ডে। আর তাঁদের এবারের সফরের সঙ্গী হয়েছেন পতৌদি পরিবারে ছোট নবাব তৈমুর আলী খান।

ডিএনএ ইন্ডিয়ার খবরে জানা যায়, সুইজারল্যান্ডে বেশ ভালোই সময় কাটাচ্ছেন তিনজন। সাইফ-কারিনা জুটির ছুটি কাটানোর প্রিয় জায়গা হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের ‘গসটাড’। এবার তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাত মাসের তৈমুরকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার। সুইস আল্পসের মনোমুগ্ধকর ছোট একটি রিসোর্ট শহরের নাম ‘গসটাড’।

সুইজারল্যান্ডের ছোট এই শহরে অনেক বলিউড ছবির চিত্রায়ন হয়েছে। সেখানেই প্রথমবারের মা-বাবার সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছেন পতৌদি পরিবারের ছোট নবাব। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ছবিতে হোটেলের বারান্দায় দাঁড়ানো বাবা সাইফ আলী খানের কোলে দেখা যায় তৈমুরকে। পেছনে ছিল সবুজ পাহাড়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : সাতক্ষীরায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন ২০১৭ এর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকালে শহরের সুর্যের হাঁসি ক্লিনিক- (পিকেএস) এ প্রধান অতিথি হিসেবে শিশুদের মুখে এ ভিটামিন “এ” প্লাস খাইয়ে জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন ২০১৭ এর উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রওশানারা জামান, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকল অফিসার ডা. শেখ আশিকুর রহমান, সুর্যের হাঁসি ক্লিনিক- (পিকেএস) এর মেডিকেল অফিসার ডা. মুহাম্মদ মাসুদুর রশিদ, মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত ফারজানা, মেডিকেল অফিসার ডা. সাবেরা সুলতানা, জেলা স্বাস্থ্য তত্বাবধায়ক জগদীশ চন্দ্র হাওলাদার, সুর্যের হাঁসি ক্লিনিক- (পিকেএস) ক্লিনিক ম্যানেজার মো. মফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় সুর্যের হাঁসি ক্লিনিক- (পিকেএস) এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলার মোট ২০৩১টি টিকাদান কেন্দ্রে ২ লক্ষ ৪১হাজার ৯শ ৫২ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশু ২৫ হাজার ৮শ ১৭জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশু ২লক্ষ ১৬ হাজার ১শ ৩৫ জন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রথম দিনের দুই শতকের সঙ্গে দ্বিতীয় দিন চার অর্ধশতকে শ্রীলঙ্কার সামনে রানের পাহাড় গড়েছে সফরকারী ভারত। ৯ উইকেটে ৬২২ রানের পাহাড়সম স্কোর গড়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান করেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

আগের দিনে অপরাজিত দুই সেঞ্চুরিয়ান পূজারা ও রাহানে দ্বিতীয় দিনের শুরুটা খুব বেশি ভালো করতে পারেনি। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই ব্যক্তিগত খাতায় আর ৫ রান যোগ করে সাজঘরে ফেরেন পূজারা। ২৩২ বলে ১১ চার ও এক ছক্কায় ১৩৩ রান আসে পূজারার ব্যাট থেকে। ১৩২ রান করে লাঞ্চের আগে সাজঘরে ফেরেন রাহানেও।

এরপর দলের হাল ধরেন অশ্বিন, ঋদ্ধিমান সাহা ও রবীন্দ্র জাদেজা। তিনজনই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। অশ্বিন হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পাশপাশি ২ হাজার রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন। আর এতেই গড়েন টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম ২ হাজার রান ও ২৫০ উইকেটের অসাধারণ ‘ডাবল’ অর্জন করেছেন।

অশ্বিনের বিদায়ের পর দলের সংগ্রহটা ছয়শ’তে নিয়ে গেছেন ঋদ্ধিমান, জাদেজা। হেরাথের বলে স্টাম্পড হওয়ার আগে ঋদ্ধিমান করেন ৬৭। আর জাদেজা ৮৫ বলে ৭০ রানে অপরাজিত থাকেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভার খেলার সুযোগ পায় শ্রীলঙ্কা। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই অশ্বিনের বলে লোকেশ রাহুলকে ক্যাচ দিয়ে ফেরে উপুল থারাঙ্গা। দিনের শেষ দিকে আরেক ওপেনার দিমুথ করুনারত্নেকেও (২৫) সাজঘরের পথ দেখান অশ্বিন। তখন ৩৩ রানেই ২ উইকেট নেই শ্রীলঙ্কার। বাকি সময়ে আর কোনো বিপদ হতে দেননি মেন্ডিস ও চান্দিমাল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষিরার শিশু মুক্তা-মনির অপারেশন আজ শনিবার। জানা গেছে, মুক্তামনির হাতে অস্ত্রোপচার দেশেই করা হবে। তার শরীরে রক্তের শূণ্যতা রয়েছে। অপারেশনের পূর্ব থেকে কাল অপারেশনের সময় পর্যন্ত প্রায় চার ব্যাগ রক্তের সাদা অংশ (প্লাটিলেট) প্রয়োজন।
এ বিষয়ে শুক্রবার মুক্তার মা আসমা খাতুন বলেন, ‌’আগামীকাল মুক্তার হাতের অপারেশন করা হবে। আর এজন্যে আজ রাত ২ টা থেকে মুক্তাকে কোনো রকম খাবার খেতে নিষেধ করেছে। ডা. বলেছেন মুক্তার অপারেশনের সময় প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হতে পারে।’
অপারেশনের জন্য মুক্তা মানসিকভাবে প্রস্তুত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তার প্র্রচুর সাহস। ও কিছুতেই ভয় পায়না। অপারেশনের আগে নিজেকে ঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের ইসলামিক গান, দোয়া কালাম পড়ে।
ইনফেকশনের কারণে যদি মুক্তার ডান হাত কেটে ফেলা হতে পারে, তাহলে আপনি কি তা চান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডাক্তাররা যা ভালো মনে করবে তাই করুক, যেকোনো মূল্যে আমি আমার মেয়েকে সুস্থ দেখতে চাই’। আমরা অনেক জায়গায় আমার মেয়েকে নিয়ে ঘুরেছি তার মধ্যে থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসায় আমরা খুবই খুশি।সবাই দোয়া করবেন চিকিৎসা শেষে সুস্থ মেয়েকে নিয়ে যেন বাড়ি যেতে পারি।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড সার্জারি বিভাগের কনফারেন্স রুমে মুক্তামনির চিকিৎসার করণীয় বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, মুক্তামণির বায়োফসি করার প্রয়োজন ছিল। তবে তার রক্তের প্লাটিলেট বারবার কমে যাওয়ার কারণে বায়োপসি নেয়ার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছিল। এ কথা জেনে প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার ব্যাপারে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। গত ২৭ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সাথে বোর্ড মিটিং করা হয়।
পরবর্তীতে ই-মেলের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল জানায়, মুক্তামণির এ রোগটি ভালো হওয়ার মতো নয়। অপারেশন করার মতোও নয়। তারা রোগটির পরীক্ষা-নীরিক্ষার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে কিন্তু মুক্তার রোগের চিকিৎসা করতে পারবে না।
তিনি বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহতি করলে তিনি দেশেই অস্ত্রোপচার করতে বলেন। পরবর্তীতে আমরা অস্ত্রোপচারের জন্য ১৩ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করি।বোর্ডের এক সভায় ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সব প্রকারের সতর্কতা অবলম্বন করে আমরা শনিবার মুক্তার বায়োপসি করার সিদ্ধান্ত নেই। মুক্তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
মুক্তার হাতটি কাটা হচ্ছে কি না সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে বোর্ড প্রধান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম বলেন, এই রোগ শুধু চামড়ায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। মাংসে ছড়িয়ে যেতে পারে। সব কিছু বিবেচনা করেই চিকিৎসা করা হবে। তবে আমরা হাতটি রেখে দেয়ার চেষ্টা করব।
তিনি আরো বলেন, চিকিৎসার অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। মুক্তাকে যখন প্রথম ভর্তি করা হয় তখন ওর হাতের দুর্গন্ধের কারণে সেখানে কেউ থাকতে পারত না। গন্ধও কমেছে। এই চিকিৎসা একটি অপারেশনে শেষ হবে না। ছয় থেকে সাতটি অপারেশন লাগবে। তার শরীর স্বাভাবিক রেখেই কিছু মাংস ও চামড়া প্রতিস্থাপন করা হবে। মুক্তামণির ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে ই-মেইল আসার পর মুক্তার বাবা-মায়ের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা। মুক্তার চিকিৎসা চলাকালীন বিভিন্ন ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন তারা। তবে একবারের জন্যও সাহস হারায়নি মুক্তার পরিবার। চিকিৎসকদের শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন মুক্তার মা আসমা খাতুন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুক্তামনির এই বিরল রোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরই তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ১১ জুলাই মুক্তামনিকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে ৬ তলার কেবিন ব্লকে ৬০৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest