সর্বশেষ সংবাদ-
কালিগঞ্জে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ- ২০ লাখ টাকার ক্ষতিসাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের সুস্থতা কামনায় প্রেসক্লাবের বিবৃতিচ্যানেল ওয়ানে জাকিরের নিয়োগ : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনসাতক্ষীরা’র শ্যামনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষে আহত ১৪কালিগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগসাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনসাতক্ষীরায় মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল খাতে জ্ঞান বিনিময়-কৌশলগত সহযোগিতার সেমিনারসাতক্ষীরায় জলবায়ু সহনশীলতায় নারী নেতৃত্বের ভূমিকা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালাশ্যামনগরে সুপেয় পানির সংকট তুলে ধরতে দৌড়ে অংশ নিল ২ শতাধিক মানুষসাতক্ষীরায় হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন’র উদ্বোধন

সাভারের আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাবালি এলাকার একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সেখানে অবস্থান নেয়া সকল জঙ্গি র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

তবে তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রথমে দুই ‘জঙ্গি’ আত্মসমর্পণ করেন। ১টার পর আরও দুই ‘জঙ্গি’ও আত্মসমর্পণ করেন।

রোববার দুপর ১২টায় এ রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত ওই আস্তানা থেকে গুলির শব্দ পাওয়া যায়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জাগো নিউজের কাছে চার ‘জঙ্গি’র আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাদের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর ১২টার দিকে দুই জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেন। ভেতরে তখনও দুই জঙ্গি সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করছিলেন। আত্মসমর্পণকারী দুই জঙ্গির মাধ্যমে আমরা তাদেরও আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাই। দুপুর ১টার দিকে তারা আস্তানা থেকে দুই হাত তুলে বের হয়ে আসেন।

আত্মসমর্পণকারী চার জঙ্গিকে র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই আস্তানা থেকে গুলি ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরও আগে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির ভেতর থেকে রাত ৩টার দিকে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

মুফতি মাহমুদ এর আগে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটিতে জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সেখানে যায় র‌্যাব। প্রথম থেকেই জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়।

অভিযান শুরুর আগে ওই বাড়ির আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। র‌্যাবের বিশেষ ইউনিট এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও সেখানে অবস্থান করছে।

শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাবালি এলাকার ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীনে ওই বাড়িটি ঘেরাও করে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। আজাদ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে পোশাক শ্রমিক পরিচয় দিয়ে বাড়িটি ভাড়া নেয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরার পল্লীচিকিৎসক মোকলেসুর রহমান জনির ‘নিখোঁজের’ তদন্তভার ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ রোববার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদউল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
এর আগে হাইকোর্ট জনির অবস্থান নির্ণয়ে বিচারিক তদন্তের জন্য সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হাবিবুল্লাহ মাহমুদকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিচারিক তদন্ত রিপোর্টে যা আছে :
পুলিশ কর্তৃক সাতক্ষীরার কুখরালীর অধিবাসী শেখ মোকলেসুর রহমান জনিকে গ্রেফতার ও তিনদিন পর্যন্ত থানায় আটকে রেখে পরবর্তীকালে অস্বীকারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বিচারিক তদন্ত কমিটি।
এই ঘটনার সাথে সাতক্ষীরার সদর থানার তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ ও এসআই হিমেল হোসেনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তৎকালীন এসপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন কল রেকর্ড যাচাই করা সম্ভব হলে জনির বর্তমান অবস্থানসহ এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেত। তদন্তকালীন সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্তৃপক্ষ বরাবর সহযোগিতা চেয়েও তা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে সময় ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণের অপর্যাপ্ততার কারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা ও জনির বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
আজ রবিবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চের দৈনন্দিন কার্যতালিকার ২৪ নম্বর ক্রমিকে বিষয়টি আদেশের জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
হোমিও চিকিৎসক মোকলেসুর রহমান জনির খোঁজ না পেয়ে তার স্ত্রী জেসমিন নাহার হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস রিট করেন। রিটে বলা হয়, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট রাত ৯টার দিকে ওষুধ আনতে বাড়ি থেকে বের হয়ে সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট এলাকায় এলে জনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওইদিন রাত ১টায় পুলিশ জনিদের বাড়িতে অভিযান চালায়। পরদিন জেসমিন ও তার শ্বশুর থানায় গিয়ে জনির খোঁজ করেন ও তাকে থানা হাজতে দেখতে পান। পরে আরো দুইদিন থানায় আটক থাকা জনিকে খাবারও দেন। ৮ আগস্ট থানায় গেলে পুলিশ জনিকে আটক করা এবং থানায় রাখার কথা অস্বীকার করে।
ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদউল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চ এ ঘটনায় প্রথমে পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জনিকে আটক বা গ্রেফতার করেনি। এছাড়া তাকে আটকের বিষয়ে থানার রেজিস্ট্রারে কোনো এন্ট্রিও নেই।
এরপরই হাইকোর্ট জনির অবস্থান নির্ণয়ে বিচারিক তদন্তের জন্য সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল­াহ মাহমুদকে ঘটনাটি তদন্ত করে সম্প্রতি হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, পুলিশের এ ধরনের আটক ও পরবর্তীতে তা অস্বীকার করার বিষয়ে সাম্প্রতিককালে যথেষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে কারো কারো লাশ পরবর্তীতে পাওয়া গেছে। কাউকে পরবর্তীতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কাউকে বেশ কিছুদিন পর ফেরত পাওয়া গেছে। আবার কারো কারো খোঁজ আজও পাওয়া যায়নি। এ জাতীয় ঘটনাগুলোর যথাযথ তদন্ত হয়েছে বলে জানা যায়নি বলে প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় জিডি করার জন্য গিয়েছিলেন জেসমিন নাহার; কিন্তু তৎকালীন ওসি ওই জিডি গ্রহণ করেননি। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ডও তিনি সরবরাহ করেছেন। তৎকালীন ওসি ফিরোজ মোল্লাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সে জিডি গ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৭ আগস্ট গ্রেফতার হওয়া আসামি হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে জনির নাম মনে করতে পারেননি। তবে তাকে জনির ছবি দেখানো হলে চিনতে পারেন এবং তাকে থানা হাজতে দেখেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। জনির বাসা থেকে আনা খাবার দুইজনে ভাগ করে খেয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এসআই হিমেলকে জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি জনির পরিবারের সদস্যদের ডাকার কথা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি। তবে জনি সম্পর্কে কোনো অ্যাসাইনমেন্ট তার কাছে ছিল না মর্মে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। থানার ওসি, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার এবং ডিএসবি কর্মকর্তাসহ সকলেই জনির নামীয় কোনো অভিযোগ তাদের নিকট থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। গত ১০ আগস্ট জেসমিন ও তার পরিবারের সকল সদস্য জাতীয় পরিচয়পত্রসহ থানায় গিয়েছিলেন। জেসমিন ও এসআই হিমেলের সাথে তার কথোপকথনের অংশ মোবাইলে রেকর্ড করতে সক্ষম হন। পরে তা সিডি আকারে এই তদন্ত কমিটির কাছে একটি কপি দেওয়া হয়। রেকর্ডের সংশ্লিষ্ট অংশ মনোযোগ দিয়ে শুনলে পুলিশ কর্তৃক জনিকে আটকের বিষয়ে এটি একটি আকাট্য প্রমাণ।
পরবর্তীকালে সিডির ওই কণ্ঠস্বর এসআই হিমেলের মর্মে চিনতে পেরেছেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা।

সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক, ১৬ জু্লাই ২০১৭

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

যশোরের শহিদ সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ১৭তম বার্ষিকী আজ। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পার হলেও অদ্যাবধি এর বিচার সম্পন্ন হয়নি বরং গত ১২ বছর ধরে আইনের মারপ্যাঁচে আটকে রয়েছে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া।
এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নিহতের পরিবার ও যশোরের সাংবাদিক সমাজ। যদিও সরকার চাইলেই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব বলে মন্তব্য আইনজীবীদের।
প্রথিতযশা সাংবাদিক শামছুর রহমান ২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে জনকণ্ঠ যশোর অফিসে কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে সাংবাদিক শামছুর রহমান খুন হবার পর ২০০১ সালে সিআইডি পুলিশ এই মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। সেসময় বিগত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েক আসামির আগ্রহে মামলার বর্ধিত তদন্ত করে শামছুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাংবাদিক নেতা ফারাজী আজমল হোসেনকে নতুন করে আসামি করা হয়।
একইসঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে বাদ দিয়ে সাক্ষী করা হয় আসামিদের ঘনিষ্ট জনদেরকে। এতে একদিকে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় অন্যদিকে দুর্বল হয়ে যায় চার্জশিট। এরপর বিতর্কিত ওই বর্ধিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ২০০৫ সালের জুন মাসে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন হয়। ওই বছরের জুলাই মাসে বাদীর মতামত ছাড়াই মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
এ অবস্থায় মামলার বাদী শহীদ শামছুর রহমানের সহধর্মিনী সেলিনা আকতার লাকি বিচারিক আদালত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আপিল করেন।
আপিল আবেদনে তিনি বলেন, মামলার অন্যতম আসামি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিরক পলাতক রয়েছে। হিরকসহ সংশ্লিষ্ট মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে খুলনার সন্ত্রাসীদের সখ্যতা রয়েছে। ফলে তার (বাদীর) পক্ষে খুলনায় গিয়ে সাক্ষী দেয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাদীর এই আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলাটি কেন যশোরে ফিরিয়ে দেয়া হবে না তার জন্য সরকারের উপর রুলনিশি জারি করেন। এরপর মামলার আসামি ফারাজী আজমল হোসেন উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। সেই রীটের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলার সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
নিহতের সহোদর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন জেইউজে সভাপতি সাজেদ রহমান জানান, একাধিক বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে শামছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হয়। এছাড়া তারা একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন। কিন্তু এ নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
উচ্চ আদালতের নির্দেশের কারণে শামছুর রহমান হত্যা মামলার বিচারকাজ বন্ধ হয়ে আছে উল্লেখ করে যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম পিটু জানান, তাদেরও প্রত্যাশা আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হবে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপের জন্য তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরে যোগাযোগ করবেন বলেও জানান।
প্রসঙ্গত এ মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ জনের মধ্যে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মুশফিকুর রহমান হিরক পুলিশের খাতায় পলাতক রয়েছে। আরেক আসামি খুলনার ওয়ার্ড কমিশনার আসাদুজ্জামান লিটু র্যাবের ক্রসফায়ারে, কোটচাঁদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন কালু হার্টস্ট্রোকে এবং যশোর সদরের চুড়ামনকাটির আনারুল প্রতিপক্ষের হামলায় মারা গেছেন। বাকি আসামিরা জামিনে রয়েছেন।
এদিকে দীর্ঘদিনেও চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির বিচার না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর নিহতের পরিবার ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয় পুরনো বিতর্কিত তদন্ত বাতিলপূর্বক মামলাটি পুনঃতদন্তের।
শামছুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসক্লাব যশোর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তির দিনে দেশটির প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভন্ডামি’র অভিযোগ এনে বলেছেন – তারা সেদিন অভ্যুত্থানের ফল কি হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছিল।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মি. এরদোয়ান বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কোনভাবেই এটাকে ঢেকে রাখার উপায় নেই যে সেদিন তারা তুরস্কের সাথে তাদের বন্ধুত্বকে প্রতারণা করে ‘অভ্যুত্থানের ফল কি হয়’ এটা দেখার জন্য বসে ছিল।

এরদোয়ান ওই অভ্যুত্থানের পর তুরস্কে গণগ্রেফতার এবং শুদ্ধ অভিযান চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর গ্রেফতার করা হয় ৫০ হাজার লোককে। গ্রেফতার হন অন্তত ১৩০ জন সাংবাদিক।

সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় ৭ হাজার জনকে। এ ছাড়াও চাকরি হারান ১ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষাবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তা।

২০১৬ সালের এই দিনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সেনাবাহিনীর একটি অংশ বড় শহরগুলোর রাস্তায় অস্ত্র এবং ট্যাংকসহ নেমে পড়ে এবং পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন সরকারী ভবনে হামলা চালাতে থাকে।

তুরস্কের ওই অভ্যুত্থানে নিহত হয় কমপক্ষে ২৬০ জন , আহত হয় ২ হাজার ১৯৬ জন।

অনেক বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর পরও জনগণের প্রতিরোধের মুখে সেই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়।

এরদোয়ান বলেন, ওই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়াটা ছিল গণতন্ত্রের ইতিহাসে মোড়বদলকারী ঘটনা।

সেই রাতের পর প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের জনপ্রিয়তা আরো অনেক বৃদ্ধি পায়।

কিন্তু অভ্যুত্থানের পর ব্যাপকহারে ধরপাকড় নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয় এবং এ নিয়ে সমালোচনা এখনো চলছে।

তুরস্কে এর আগে চারটি অভ্যুত্থান হয়েছে, প্রথমটি ১৯৬০ সালে , এর পর ১৯৭১, ১৯৮০ ও ১৯৯৭ সালে আরো তিনটি অভ্যুত্থান হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রথম ছবি ‘জয়যাত্রা’, এরপর মোশাররফ করিম অভিনয় করেছেন ‘রূপকথার গল্প’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘প্রজাপতি’, ‘টেলিভিশন’, ‘জালালের গল্প’ এবং ‘অজ্ঞাতনামা’ চলচ্চিত্রে। মোশাররফ করিমের নতুন ছবি ‘ফালতু’। আর এই ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করবেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।

মাহিয়া মাহি জানান, তার সঙ্গে এখনো চুক্তি হয়নি। পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কাজটি তিনি করবেন, এটা চূড়ান্ত হয়েছে।

মোশাররফ করিম এখন আছেন মালয়েশিয়ায়। সেখান থেকে তিনি জানিয়েছেন, ‘এখন তো নাটকের কাজের চাপ বেশি। এর ফাঁকে ফাঁকে কীভাবে ছবির কাজ করা যায়, সেটাই ভাবছি।’

‘ফালতু’ ছবির পরিচালক ওয়াজেদ আলী সুমন বলেন, ‘আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শিডিউল দিয়েছেন মোশাররফ করিম। ছবির শুটিং হবে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড, সদরঘাট, কমলাপুর রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন জায়গায়। কিছু কাজ হবে বান্দরবানে। জায়গাগুলোতে জনসমাগম বেশি। তাই প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে সেভাবেই।’

ওয়াজেদ আলী সুমন আর জানান, ‘ফালতু’ ছবির কাজ আরও আগেই শুরু করতে চেয়েছি। কিন্তু ছবির মোশাররফ করিমের শিডিউল-জটিলতার কারণে দেরি হয়েছে।

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ৬২ হাজার ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিরক্ষা বিল অনুমোদন করেছে।

পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাতে মার্কিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরোপ করা হয়েছে শর্ত ও বিধিনিষেধ।

কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদিত ভারত-সংক্রান্ত ওই সংশোধনী বিল নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা করবেন।

এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর নীতি ১৮০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি পাকিস্তানকে প্রতিরক্ষা তহবিল দেওয়ার জন্য সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে বলেছে পেন্টাগন। মার্কিন কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতারা এ বিষয়ে অতীতে বারবার উদ্বেগ জানিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ঢাকার আশুলিয়ায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে র‌্যাব সদস্যরা। এর পর থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাড়ির মালিককে র‍্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান আজ রোববার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, টিনশেড ওই বাড়িটি গত রাত একটা থেকে ঘিরে রেখেছে র‍্যাব। জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলে তারা ভেতর থেকে র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ও গুলি ছুড়ছে। থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে।

তিনি জানান, বাড়ির আশপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে অভিযান শুরু হবে।

র‍্যাবের এই পরিচালক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাড়ির মালিক ইব্রাহিমকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে আগের অভিযানগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে মনে হচ্ছে, ওই বাড়িতে চার থেকে পাঁচজন জঙ্গি থাকতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

‘সবাই বলছেন আমি সুস্থ হয়ে যাব। আঙ্কেল (স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম), ডাক্তার, বাবা-মাও বলছেন আমার হাত ভালো হয়ে যাবে। আর হীরামনিও। ওই আঙ্কেল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার দায়িত্ব নিয়েছেন।
আমার অনেক ভালো লাগছে, সাহস পাচ্ছি। সুস্থ হয়েই প্রধানমন্ত্রী আন্টির কাছে যাব। আন্টিকে জড়িয়ে ধরে বলব, আমি ভালো হয়ে গেছি।’ বলছিল বিরল রোগে আক্রান্ত ১১ বছরের শিশু মুক্তামনি।
পাশে দাঁড়িয়ে অঝরে কাঁদছিল তার যমজ বোন হীরামনিও। ১১ জুলাই থেকে মুক্তামনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবাইশা গ্রামে।
শনিবার ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ৬ তলার ৬০৫ নম্বর কেবিনে গিয়ে দেখা যায়, মুক্তামনির চুল আঁচড়িয়ে দিচ্ছে হীরামনি। কখনও মুখে তুলে দিচ্ছে ফল, পানি। মুক্তার ডান হাতের ওজন প্রায় ৮ থেকে ৯ কেজি। বাম হাতে স্যালাইন লাগানো।
দুপুরের দিকে জাতীয় বার্ন ইউনিটের উপদেষ্টা ও সাবেক পরিচালক ডা. সামন্ত লাল সেন মুক্তামনির কাছে ঘণ্টাখানেক সময় কাটান।
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, বুধবার এ ইউনিটের পরিচালক ডা. আবুল কালামকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট চিকিৎসক বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সে অপুষ্টিতে ভুগছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ডা. জুলফিকার আলী লেনিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার দায়-দায়িত্ব নিয়েছেন। তার খোঁজখবর রাখছেন তিনি। ইতিমধ্যে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল এমপি এবং বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও তাকে দেখে গেছেন। মুক্তামনিকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানো হবে। তবে আশা করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা দেশেই তাকে সুস্থ করে তুলবেন।
মুক্তামনির বাবা ইদ্রিস হোসেন বললেন, ২০০৬ সালের ১৪ জুলাই তাদের যমজ মেয়ের জন্ম হয়। নাম রাখেন মুক্তামনি ও হীরামনি।
মুক্তামনির বয়স যখন দেড় বছর তখন তার ডান হাতের বাহুতে ছোট্ট এটি গোঁটা দেখা দেয়। তারপর থেকে এ গোঁটাটি বড় হয়ে হয়ে এ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
দিনমজুরের কাজ করে যত টাকা কামাতেন তার অধিকাংশ মেয়ের চিকিৎসায় খরচ করেছেন।গ্রাম্য চিকিৎসক থেকে শুরু করে বহু চিকিৎসকদের কাছে নিয়েছেন মেয়েকে। প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন মুক্তামনির বাবা।
মা আসমা খাতুন বলেন, এ রোগ নিয়েই তাকে স্থানীয় স্কুলে ১ম শ্রেণীতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাতের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় সে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উঠতে পারেনি। দুই বোন একই শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিল। এখন হীরামনি ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ছে।
হাতের ওজনে মেয়ের বুকের হাড় বাঁকা হয়ে কিছুটা নিচে নেমে গেছে। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে পারেননি। ফলে দিন দিন তার মেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মেয়েটি অনেক লক্ষ্মী ও শান্ত। হাতের তীব্র ব্যথা সহ্য করার চেষ্টা করে।
আমরা কাঁদলে সে সান্ত্বনা দিয়ে বলে, ‘কেঁদো না, আল্লাহ আমাকে ভালো করবেন। তোমরা কাঁদলে আমি অনেক কষ্ট পাই।’
বার্ন ইউনিটের পরিচালক ডা. আবুল কালাম বলেন, বর্তমানে তাকে পুষ্টিকর খাবার ও রক্ত দেয়া হচ্ছে। এমন অবস্থায় তাকে অজ্ঞান করে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। আগামী ৭-৮ দিন পর অস্ত্রোপচারসহ সার্জারি করা হবে। আমরা আশাবাদী, কেননা জটিল রোগের চিকিৎসায় আগেও আমরা সফল হয়েছি।
সূত্র: যুগান্তর।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest