সর্বশেষ সংবাদ-
কালিগঞ্জে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ- ২০ লাখ টাকার ক্ষতিসাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের সুস্থতা কামনায় প্রেসক্লাবের বিবৃতিচ্যানেল ওয়ানে জাকিরের নিয়োগ : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনসাতক্ষীরা’র শ্যামনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষে আহত ১৪কালিগঞ্জে বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখল ও লুটপাটের অভিযোগসাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনসাতক্ষীরায় মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল খাতে জ্ঞান বিনিময়-কৌশলগত সহযোগিতার সেমিনারসাতক্ষীরায় জলবায়ু সহনশীলতায় নারী নেতৃত্বের ভূমিকা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালাশ্যামনগরে সুপেয় পানির সংকট তুলে ধরতে দৌড়ে অংশ নিল ২ শতাধিক মানুষসাতক্ষীরায় হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন’র উদ্বোধন

সীমান্ত দিয়ে যাতে একটি গরুও পাচার না হয় তা নিশ্চিত করতে অনেক আগেই বিএসএফ’কে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের বিজেপি সরকার। সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, পর্যায়ক্রমে বাধাও দিয়েছে কিন্তু পাচারকারীরাও হাল ছাড়তে নারাজ। সীমান্ত পেরিয়ে চোরাপথে বাংলাদেশে গরু ও ষাঁড় পাঠাতে পাচারকারীরা তাদের নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত রয়েছে ৪০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে বেশির ভাগটাই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সঙ্গে-যেখানে গরু পাচারকারীরা মূলত রাতের অন্ধকারেই তাদের অপারেশন করে থাকে।
পাচারকারীদের কাছে অত্যন্ত লাভজনক একটি ব্যাবসায় হল এই গরু পাচার। ভারতে যে গরুটি ৫ হাজার রুপিতে মেলে, সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকা মাত্রই তার দাম বেড়ে হয় ৫০ হাজার রুপি। সূত্রে খবর, গরুকে কেন্দ্র করে সীমান্তে এই অবৈধ ব্যবসার পরিমাণ বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি রুপির কাছাকাছি।
দুই দশক আগেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ মিটার দূরত্বে যখন পাতলা কাঁটাতারের বেড়া ছিল-সেসময় পাচারকারীরা মূলত কাঁটাতারের দুর্বলতাকেই কাজে লাগাতো। সেক্ষেত্রে গবাদি পশুর ওপর নির্যাতন করে তাকে খেপিয়ে এবং উত্তপ্ত করে সীমান্ত পার করাতো।
এই বিষয়ে ভারতের পশ্চিম অসমের ধুবরি জেলার এক পুলিশ ইনফরমার জানান ‘গরুর পাছায় পেরেকের খোঁচা মেরে তাকে খেপিয়ে দেওয়া হতো, নয়তো যৌনাঙ্গে মরিচ গুড়া বা পেট্রল ঢেলে দেওয়া হতো। এতে ব্যাথার চোটে গরু প্রচন্ড জোরে দৌড়তে শুরু করে এবং কাঁটাতারের বাধা পেরিয়ে চলে যায় বাংলাদেশে’। তবে এক্ষেত্রে কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে সীমান্তে ঢোকার সময় অনেকক্ষেত্রে গরুগুলির মৃত্যু হত নয়তো শারীরিক বিকলাঙ্গের শিকার হতো। ফলে গরু পাচারের সময় মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকলে দামের ওপর প্রভাব পড়তে বাধ্য। গরু পাচারের এই বাড়বাড়ন্তের ফলে নড়েচড়ে বসে সরকার। ২০০০ সালে পাতলা ও একস্তরীয় কাঁটাতারের বেড়াগুলিকে দ্বিস্তরীয় করার কাজ শুরু হয়। আর সঙ্গে সঙ্গেই নিজেদের কৌশলেও পরিবর্তন আনে গরু পাচারকারীরা। যার মধ্যে অন্যতম হল ডুব সাঁতারুর নি:শ্বাস নেবার নল। এক্ষেত্রে মূলত শিশুদেরই কাজে লাগানো হতো-যারা পেপে গাছের ডগাকে নল হিসাবে ব্যবহার করে পানির নিচ থেকে নিশ্বাস নিতো এবং নদী-নালা দিয়ে গরুগুলিকে ঠিক পথ দিয়ে বাংলাদেশে পাচারের সাহায্য করতো বলে অভিযোগ।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য ২০১৯ সালের মধ্যে দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তেস নতুন কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর কাজ শেষ করা। ইতিমধ্যেই ২৮০০ কিলোমিটার সীমান্তের কাজ শেষ। সীমান্ত দিয়ে গবাদি পশু পাচার ঠেকাতে নাইট-ভিসন ক্যামেরা ও লেসার’এর সহায়তা নিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে বিএসএফ’এর সশস্ত্র বাহিনী। ফলে সমস্যায় পড়েছে পাচারকারীরা।
যদিও সমস্ত বাধা বিপত্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই ফের নতুন কৌশল নিয়েছে পাচারকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে খবর বাঁশের কপিকলের সাহায্যে সীমান্তের একপার থেকে আরেকদিকে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ বাংলাদেশের এজেন্টরাই এই পদ্ধতির মাধ্যমে গরুকে বেঁধে কপিকলের সাহায্যে সেদেশে ঢুকিয়ে নিচ্ছে। কারণ বাংলাদেশে গরু ব্যবসা বৈধ হলেও ভারতে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
পাচারের সর্বশেষ পদ্ধতি হল গরুকে মাঝখানে রেখে দুই পাশে কলা গাছের ভেলা দিয়ে বেঁধে তা পানিতে ভাসিয়ে দিয়ে তা বাংলাদেশের উদ্যেশ্যে পাচার করা। অতি সম্প্রতি এই পদ্ধতির মাধ্যমেই অসম থেকে কালজানি নদী দিয়ে বাংলাদেশে একাধিক গরু পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ। পাচারের সেই ভিডিও সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলিতে সম্প্রচারিতও করা হয়।
অসমে পাচারের মূল চক্রী আসরাফুল আকন্দ-কে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে আটক করা হয়েছে ধুবড়ি জেলা পুলিশ সুপার লঙ্গনিট তেরাঙ্গ জানিয়েছেন।
বিএসএফ’এর এক কর্মকর্তা জানান ‘নদী দিয়ে গরু পাচার রুখতে বিএসএফ’এর তরফে বোটে করে টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও জানান পাচারের মূল সমস্যার কারণ হল ভারতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গরু বহন করার ওপর কোন নিষিদ্ধাজ্ঞা নেই’।
ভারত থেকে গরু পাচারের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন বিজিবি’এর আঞ্চলিক কমান্ডার অতিরিক্ত ডিজি মহম্মদ জাহিদ হাসান। শনিবার মেঘালয়ের শিলং’এ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকের পর গরু পাচার প্রসঙ্গ নিয়ে বিজিবি’এর এডিজি বলেন ‘এটা ঠিক যে গরু পাচার আমাদের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। যদি এই গবাদি পশুগুলি ভারত থেকে না আসতো তবে আমাদের কৃষকরাও (গরু পালকরা) সামনের দিকে অগ্রসর হতো পারতো এবং আমরা আমাদের নিজেদের খেয়াল রাখতে পারতাম’।
তিনি আরও জানান, ‘পাচার ঠেকাতে আমরা বিএসএফ-কে অনুরোধ করেছি এবং এর ফলে অন্য অনেক সমস্যাই মিটে যেতে পারে’। হাসান জানিয়েছেন, ‘গবাদি পশুরা নিজে নিজে সীমান্ত পার হয়ে আসতে পারে না। আমরা তাদের অনুরোধ করেছি যে এই ধরনের পাচার এখনি বন্ধ করা উচিত। কারণ এই গরুগুলি পশ্চিম ভারত থেকে আসছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অবাক পৃথিবীতে প্রতিমূহুর্তে কত অভিনব ঘটনার জন্ম হচ্ছে। এবার এমনই একটি ঘটনা ঘটলো যুক্তরাষ্ট্রে, বাসর রাতের জন্য ফটোগ্রাফার চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন এক প্রেমিক যুগল। দেশটির মেডিসন ও উইসকনসিনের এক বাগদত্তা যুগল তাদের বিয়ের ফটোগ্রাফির জন্য এমন অভিনব বিজ্ঞাপন দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফটোগ্রাফারকে তাদের বিয়ের দিনের প্রতিটি মুহূর্তের ছবি ক্যামেরাবন্দী করতে হবে। এমনকি বাসর রাতে তারা যে প্রথমবারের মতো যৌনমিলন করবে, সেই মুহূর্তও ধরে রাখতে হবে ফটোগ্রাফারকে!

‘অল ডে ওয়েডিং ফটোগ্রাফার নিডেড’ শিরোনামে দেওয়া এ বিজ্ঞাপনের শুরুতেই বলা হয়েছে, এ বছরের শেষ দিকে ওই যুগল বিয়ে করতে চান এবং বিয়ের দিনের শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্যামেরাবন্দী করতে পারবে, এমন একজন ফটোগ্রাফার খুঁজছেন তারা।

বিয়ের দিন যত কর্মকাণ্ড হবে সবই ক্যামেরায় ধারণ করতে হবে ফটোগ্রাফারকে। বিজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেনতেন ফটোগ্রাফার নয়, পুরো অ্যাসাইনমেন্ট সম্পূর্ণ করতে একজন সাহসী ফটোগ্রাফার প্রয়োজন। কারণ এমন মুহূর্তও ক্যামেরায় বন্দী করতে হবে, যা ধারণ করতে গিয়ে হয়তো ফটোগ্রাফারের বুক দুরুদুরু করতে পারে।

বিজ্ঞাপনে বাগদত্তা ওই যুগল বলেছেন, ‘বিয়ের রাতে আমাদের প্রথমবারের মতো যৌনমিলনকেও ক্যামেরাবন্দী করতে হবে ফটোগ্রাফারকে। আমরা জানি বিষয়টা আমাদের জন্য যতটা বিব্রতকর, ফটোগ্রাফারের জন্য তার চেয়েও বেশি বিব্রতকর। কিন্তু আমরা সত্যিই কাজটি করতে চাই। ’

কেন এমন একটা অদ্ভুত ইচ্ছা হলো তাদের, সে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে ওই বিজ্ঞাপনে। তারা বলছেন, ‘আমরা যখন বৃদ্ধ হয়ে যাব, তখন আমরা এসব ছবি দেখে নিজেদের সর্বোচ্চ উত্তেজনাকর ও সুন্দর মুহূর্তে অামরা কেমন ছিলাম, কেমন সেক্স করেছি, সেসব দেখে স্মৃতি হাতড়াতে পারব। ’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আল্লামা আহমদ শফীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে কওমি মতাদর্শীদের সর্বোচ্চ নেতার আসনে আসীন হচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী। এ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে তাকে কওমি মতাদর্শীদের বহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুঈনে মুহতামিম (সহযোগী পরিচালক) নির্বাচিত করা হয়েছে। কওমি নেতারা জানান, এরপর পর্যায়ক্রমে হেফাজতে ইসলাম, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক), সরকারি স্বীকৃতি নেওয়ার জন্য গঠিত কওমি শিক্ষা বোর্ড আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের আরও গুরুদায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জুনায়েদ বাবুনগরী। আল্লামা শফীর প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ বলেন, ‘আল্লামা আহমদ শফীর অসুস্থতার দিকটি বিবেচনায় বাবুনগরীকে মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক করা হয়। হাটহাজারী মাদ্রাসার ইতিহাসে কেউ ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হননি। তাই বর্তমান মহাপরিচালকের জীবদ্দশায় কাউকে কখনই ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে না। ’ হাটহাজারী মাদ্রাসার এক শূরা সদস্য বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় মুরব্বি আল্লামা শফীর জীবদ্দশায় কাউকে মুহতামিম নির্বাচিত করা হলে তিনি মনে কষ্ট পেতে পারেন। এ ছাড়া বিভক্ত হয়ে পড়া দুটি গ্রুপ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। তাই বাবুনগরীকে সরাসরি মুহতামিম করা হয়নি। মুঈনে মুহতামিম নির্বাচিত করা অর্থই হচ্ছে পরবর্তী মুহতামিম (পরিচালক) হচ্ছেন বাবুনগরী। ’ সূত্র জানায়, গতকাল সকালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় আল্লামা আহমদ শফীর সভাপতিত্বে মজলিসে শূরার বৈঠকের শুরু থেকেই পরিচালক নির্বাচিত করা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। শূরা সদস্যদের একটি গ্রুপ হেফাজত আমিরপুত্র আনাস মাদানীকে পরিচালক করার প্রস্তাব দিলে বিরোধিতা করে আনাসবিরোধী শিবির। এ সময় স্থানীয় ও দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে আসা শূরা সদস্যরা পরিচালক পদে জুনায়েদ বাবুনগরীর নাম প্রস্তাব করেন। এতে দুই গ্রুপ আক্রমণাত্মক হয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরে সরাসরি কাউকে পরিচালক না করে একজনকে মুঈনে মুহতামিম করার প্রস্তাব দেয় নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকা শূরা সদস্যের গ্রুপটি। এ প্রস্তাব উভয় গ্রুপ গ্রহণ করে আল্লামা আহমদ শফীকে ‘প্রতীকী’ পরিচালক রেখে বাবুনগরীকে মুঈনে মুহতামিম করেন শূরা সদস্যরা। এ ছাড়া মুফতি নূর আহমদকে শিক্ষা সচিব ও মাওলানা আনাস মাদানীকে সহকারী শিক্ষা সচিব নির্বাচিত করা হয়। হেফাজতে ইসলামের এক শীর্ষ নেতা বলেন, জুনায়েদ বাবুনগরী হাটহাজারী মাদ্রাসার মুঈনে মুহতামিম নির্বাচিত হওয়ায় এখন বেফাক ও আল-হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান হওয়া সময়ের ব্যাপার। এ ছাড়া হেফাজতে ইসলামের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক হবেন তিনিই হেফাজতে ইসলামের আমির হবেন। তাই বাবুনগরী কওমিদের আগামীর কাণ্ডারি হতে যাচ্ছেন।

বাবুনগর থেকে বাবুনগরী : জুনায়েদ বাবুনগরীর জন্ম চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর গ্রামে। পিতার নাম আবুল হাসান। বাবুনগরী হাটহাজারী মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য পাকিস্তানের জামিয়া বিন্নুরি টাউন করাচি মাদ্রাসায় যান। জুনায়েদ বাবুনগরী কট্টরবাদী কওমি আলেম হিসেবে পরিচিত। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন মুজাহিদ বাহিনীর অন্যতম নেতা। স্বাধীনতার পর থেকে জুনায়েদ বাবুনগরী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সক্রিয়। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি এলাকায় বাবুনগরী চারদলীয় জোট প্রার্থী সাকা চৌধুরীর সমর্থনে কাজ করেন। দেশের প্রথম জঙ্গি সংগঠন ‘হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ’-এর মুখপত্র মাসিক ‘জাগো মুজাহিদ’ এবং ‘মাসিক রহমত’ পত্রিকায় নিয়মিত নিবন্ধ লিখে যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আফগানফেরত জঙ্গি কমান্ডার মাওলানা সগীর বিন ইমদাদের লেখা বহুল আলোচিত গ্রন্থ ‘ফাজায়েলে জিহাদ’ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন তিনি। ২০০০ সালে মুফতি আমিনীর নেতৃত্বে প্রগতিশীল শক্তির বিরুদ্ধে গঠিত ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির ফটিকছড়ি থানা শাখার আমির নিযুক্ত হন বাবুনগরী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

চীনের এক বিপণিবিতানে যে নারীরা কেনাকাটা করতে যাবেন, সেখানে চাইলে তাঁরা স্বামীকে ‘জমা’ রাখতে পারবেন। চীনের ‘দ্য পেপার’ পত্রিকার খবর, সাংহাই শহরের ‘গ্লোবাল হার্বার’ নামের একটি বিপণিবিতানে কয়েকটি কাচঘেরা খোপ বানানো হয়েছে, যেখানে নারীরা তাঁদের স্বামীদের জমা রাখতে পারবেন। ফলে তাঁদের কেনাকাটার সময় স্বামীদের আর পেছন পেছন ঘুরতে হবে না।

কাচঘেরা খোপে স্বামীদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে তাঁরা বসে বসে গেম খেলতে পারবেন। প্রতিটি খোপের ভেতর থাকবে একটি চেয়ার, মনিটর, কম্পিউটার ও গেম প্যাড। সেখানে বসে তাঁরা নব্বইয়ের দশকের পুরনো গেমগুলো খেলতে পারবেন।

বিপণিবিতানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এ সেবা আপাতত বিনা মূল্যেই পাওয়া যাবে। কিন্তু পরে নির্দিস্ট অর্থ দিতে হবে। এই সেবা নিয়েছেন এমন একজন পুরুষ জানান, ‘আমি কেবলই পুরনো একটি গেম-টেকেন-থ্রি খেললাম। আমার মনে হলো, আমি যেন মাত্র স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেছি। ’

চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অবশ্য এই সেবা নিয়ে নানা কৌতুক চলছে। একজন লিখেছেন, ‘এই সার্ভিস এখন স্বামীদের শপিংয়ে যেতে উত্সাহ জোগাবে। যদিও শপিংয়ের খরচ তাদের পকেট থেকেই যাবে। ’ এক নারী আবার লিখেছেন, ‘আমার স্বামী যদি গেমই খেলবে, তবে তাকে বিপণিবিতানে নিয়ে যাওয়ার মানে কী?’ সূত্র : বিবিসি বাংলা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটা উপজেলার হাদিপুরে নলতা হজ্ব কাফেলার উদ্যোগে হাজীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা হাজীদের মিলন মেলায় পরিণত হয় হয়েছে। নলতা হজ্ব কাফেলার পরিচালক ডাঃ আলহাজ্ব হাবিবুল্লাহ বাবুর উদ্যোগে প্রতিবছরের ন্যায় তার নিজস্ব বাসভবনে হাজী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় হাদিপুর জগন্নাথপুর আলিম মাদ্রাসার সুপার আলহাজ্ব আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মাহমুদুল হক লাভলু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলগীর হোসেন সাহেব আলী, নলতা কেন্দ্রীয় মিশনের কর্মকর্তা আলহাজ্ব মাস্টার আবুল ফজল, আলহাজ্ব আনিছুর রহমান, আলহাজ্ব এনামুল হক। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আসমোতুল্লাহ আসমান ও মিজানুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সফিউল্লাহ ময়না, বিভিন্ন এলাকা থেকে আগাত সুধিজন ও হজ্ব গমনকারীরা। হজ্ব প্রশিক্ষণে হাজিদের মক্কা ও মদিনায় করনীয় বিষভয়ে আলোচনা করেন নলতা হজ্ব কাফেলার পরিচালক ডাঃ আলহাজ্ব হাবিবুল্লাহ বাবু। উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর উক্ত হজ্ব কাফেলার মাধ্যমে অতি সুনামের সাথে সুস্থ পরিবেশে হজ্ব পালন করা হয়। এবছর ৯১জন নারী-পুরুষ হজ্ব গমনে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এই উদ্যোগকে অব্যহত রাখতে সকলের সহযোগীতা ও দোয়া চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। প্রশিক্ষণ শেষে সকলের মঙ্গলকামনা করে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মোহম্মাদালী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

তালা ডেস্ক : সোনালী ব্যাংক লি. তালা শাখার ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরস্পর যোগসাজসে জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা লুটের ঘটনার শিকার হয়েছে দরিদ্র এক কৃষক। শিক্ষা সঞ্চয় স্কিম (ইডিএস) হিসাবের গ্রাহক তালার হরিশ্চন্দ্রকাঠি গ্রামের মৃত. হরিপদ মন্ডলের ছেলে সুজিত মন্ডলের ৮০ হাজার টাকা কৌশলে তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জালিয়াতির ঘটনা জানার পর ভুক্তভোগী সুজিত মন্ডল ব্যাংকের বর্তমান ম্যানেজারের নিকট ঘটনার প্রতিকার চাইলেও তিনি কোনও প্রতিকার পাননি। এমনকি ব্যাংক ম্যানেজার ভবেশ চন্দ্র মৃধা সুজিতকে এখন নানাভাবে হয়রানী করছে এবং ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আত্মসাৎকৃত টাকার দায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক সুজিত মন্ডলের উপর চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এঘটনায় ব্যাংকের গ্রাহকেদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী সুজিত মন্ডল জানান, বিগত ১৪/০৭/২০০৮ তারিখে তিনি তার নিজ নামে সোনালী ব্যাংক লি. তালা শাখা, তালা- সাতক্ষীরাতে একটি শিক্ষা সঞ্চয় স্কীম (ইডিএস) হিসাব খোলেন। যার হিসাব নং : ৩৬০০০০৬৩৯, পাশ বই নং : ৪৯১৬০। ১০ বছর মেয়াদী উক্ত হিসাবে প্রতি মাসে ১০০০ হাজার টাকা করে চলতি জুলাই- ২০১৭ পর্যন্ত তিনি নিয়োমিত টাকা জমা প্রদান করেছেন। এমতাবস্থায় গত ১২/০৭/১৭ ইং তারিখ দুপুর অনুমান ০২ টা ০৯ মিনিটে তালা সোনালী ব্যাংক এর ম্যানেজার টেলিফোন (টেলিফোন নং : ০৪৭২৭ ৫৬১০৭) থেকে সুজিত মন্ডলের মোবাইল ফোনে (মোবাইল নং : ০১৭২৯ ৭৪৬৩৮১) ফোন করে ব্যাংকে এসে দেখা করতে বলে। সেমতে ওইদিন বিকাল অনুমান ৪ টার সময় সুজিত মন্ডল তালা সোনালী ব্যাংকে যেয়ে ম্যানেজার এর সাথে দেখা করলে ম্যানেজার ভবেশ চন্দ্র মৃধা তাকে জানায় বিগত ০৪/০৪/১৭ ইং তারিখে সুজিত মন্ডল তাঁর ইডিএস হিসাব এর জমাকৃত টাকার বিপরীতে ৮০ হাজার টাকা লোন উত্তোলন করেছেন। ম্যানেজারের একথা শুনেই সুজিত হতভম্ভ হয়ে যায়। কারন তিনি কখনও তার হিসাবের বিপরীতে বা ব্যাংক থেকে অন্য কোনও লোন উত্তোলন করেননি। পরবর্তিতে সুজিত মন্ডল ম্যানেজার নিকট লোন উত্তোলনের আবেদন ফরম এবং লোন উত্তোলনের দিনকার ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে চাইলে ব্যাংকের ম্যানেজার তাকে সহযোগীতা প্রদান না করে লোনের টাকা পরিশোধের কথা বলেন। এদিকে এপ্রিল মাসে লোন তোলার পর জুন মাস পর্যন্ত উক্ত লোনের জন্য ব্যাংক থেকে প্রায় আড়াই হাজার টাকা সুদ হিসাব করে তা’ ক্ষতিগ্রস্থ সুজিত মন্ডলের উপর চাঁপানো হয়েছে।
সুজিত মন্ডল আরো বলেন, তিনি কখনও তাঁর ইডিএস হিসাব সহ অন্য কোনও ভাবে ব্যাংক থেকে লোন উত্তোলন করেননি। ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাঁর স্বাক্ষর জাল করে লোন হিসেবে টাকা উঠিয়ে তা আত্মসাৎ করেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সুজিত মন্ডল তালা থানায় একটি জিডি (৪৬৩, তাং : ১৩/০৭/১৭ ইং) করেছেন। এছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের ঘটনার প্রতিকার পেতে দরিদ্র কৃষক সুজিত মন্ডল- দুদক, বাংলাদেশ বাংক ও সোনালী ব্যাংকের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংক তালা শাখার প্রায় অর্ধ শত ইডিএস, ডিপিএস ও ডিপোজিট আমানতকারীদের হিসাবের বিপরীতে ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরস্পর যোগসাজসে লক্ষ লক্ষ টাকা লোন হিসেবে উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করে। এবিষয়টি জানাজানি হবার পর থেকে ব্যাংকের এক কর্মচারী স্বপরিবার নিয়ে পালিয়ে গেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টাকা উঠিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে আমানকতারী গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। জনগনের বিশ্বস্ত সোনালী ব্যাংকে টাকা রাখার পর তা আত্মসাৎ হয়ে যাওয়া এবং টাকার নিরাপত্তা না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্ষতিগস্ত গ্রাহকরা ঘটনার সুষ্ঠ প্রতিকার এবং তদন্ত দাবী করলেও ব্যাংকের ম্যানেজার তা না করে গ্রাহকদের সাথে চরম দূর্ব্যবহার করছে এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের আত্মসাৎকৃত টাকার সুদসহ হিসাব গ্রাহকদের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এতে ভুক্তভোগী গ্রাহকসহ তালাবাসীর মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় ২বোতল বিদেশি মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে। দেবহাটা থানার এসআই মাজরিহা হোসাইন গত ১৪/৭/১৭ তারিখ মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে কুলিয়া-বহেরা এলাকা হতে তাদেরকে আটক করে। আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম (৫০) ও মৃত কসিমউদ্দীন গাজীর পুত্র সবুর গাজী (৪০)। আটকের সময় তাকে ২ জনের কাছে মোট ২ বোতল বিদেশি মদ পাওয়া যায়। আটক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধারা-১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ার এ্যাক্টের ২৫-বি(২) এ দেবহাটা থানায় ১৪/৭/১৭তারিখে ১০নং মামলা দায়ের হয়েছে।
প্রসংঙ্গত যে, দেবহাটা থানায় যোগদান করার পর থেকে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেবহাটায় যোগদানের পর থেকে অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আটকের পাশাপাশি বড় বড় মাদকের চালান জব্দ করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ন্যাশনাল ডেস্ক : বাংলাদেশে স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে প্রধানত দুদিক থেকে বাধা আছে। একটি ক্ষমতাসীনদের তরফ থেকে, অন্যটির উৎস ধর্মীয় উগ্রবাদীরা। উগ্রবাদীদের কাছ থেকে কোনো ব্যক্তি নির্যাতনের বা মৃত্যুর ভয়ে থাকলে হয়তো তাঁর সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সরকারের বিরাগভাজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সুরক্ষা পান না।
শুক্রবার বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোম অফিস) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এ কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের কোনো নাগরিক প্রাণনাশের ভয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চাইলে সেই আবেদন কীভাবে বিবেচনা করা হবে, তার নির্দেশনা হিসেবে এমন হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে দেশটি। ‘কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন নোট: জার্নালিস্ট, পাবলিশার্স অ্যান্ড ইন্টারনেট ব্লগার্স’ শীর্ষক নির্দেশনায় বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ভিন্নমত প্রকাশের ঝুঁকিগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ঝুঁকি নিয়ে এটিই প্রথম কোনো নির্দেশিকা, যেখানে সাংবাদিক, সম্পাদক, ব্লগারদের আশ্রয় আবেদন বিবেচনার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠনের বরাত দিয়ে বাংলাদেশে স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে আইনি বাধা, আইনের অপব্যাখ্যা করে হয়রানি, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে হুমকি ও সাংবাদিকদের নিপীড়নের অস্তিত্বের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে ৩২ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সুরক্ষা বিষয়ে যেভাবে ঢালাওভাবে মন্তব্য করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়; বরং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এমনকি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও খোলাখুলিভাবে মতামত প্রকাশ করা হচ্ছে।
উগ্রবাদীদের হাতে ভিকটিম হওয়ার কথা উল্লেখ করে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে বরং সরকার অনেক সুরক্ষা দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি আছে। কিন্তু অস্পষ্ট শব্দচয়নে তৈরি বিভিন্ন আইনের ধারা ব্যবহার করে সরকার হুমকি, হয়রানি ও গ্রেপ্তারের সুযোগ নেয়। নজরদারিতে রাখে। মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনে। কিংবা বাধ্য করে সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিকেরা যাতে নিজ থেকেই সরকারের সমালোচনার পথ এড়িয়ে চলেন (সেল্ফ সেন্সরশিপ)।
এতে বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বেসরকারি সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টন করে সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
এ প্রসঙ্গে দেশের দুটি শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এ বিজ্ঞাপন আটকে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, ২০১৫ সালে চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে সেনা অভিযান নিয়ে স্পর্শকাতর সংবাদ প্রকাশ করায় বড় বড় কোম্পানিকে এই দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়।
স্বাধীন গণমাধ্যমকে বশে আনতে মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনার নজির তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন ছাপার কারণে ২০১৫ সাল থেকে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বহুসংখ্যক মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার শিকার হয়েছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব মামলা করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সদস্য ও সমর্থকেরা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মন্তব্য তুলে ধরে এতে বলা হয়, এসব মামলার অর্থ হলো সম্পাদকদ্বয় সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল আইনি ঝামেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন।
সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে কোনো কোনো সংবাদপত্রের কর্মীদের প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রসঙ্গ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মতপ্রকাশের কারণে ২০১৩ সাল থেকে অন্তত ৯ জন ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হাতে নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাজ্যে আইন পেশায় নিয়োজিত তারেক চৌধুরী বলেন, আপাতদৃষ্টিতে এই নির্দেশিকা যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনে ইচ্ছুক নিরাপত্তাহীন বাংলাদেশি লেখক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ইতিবাচক মনে হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যম, সরকার ও দেশের ভাবমূর্তির জন্য এ চিত্র মোটেই শুভ নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ দেশে একেবারে মুক্ত সাংবাদিকতা সম্ভব হয় না উল্লেখ করে প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষমতাসীনদের তরফ ও উগ্রবাদীদের তরফ ছাড়াও আরও একটি পক্ষ আছে, যারা ‘প্রেসার গ্রুপ’। এই গ্রুপ রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, প্রশাসনের লোকসহ বিভিন্ন রকম হতে পারে।
তবে তিনি বলেন, সরকারকে অনেক সময় চাপ সৃষ্টি করে সঠিক পথে আনা যায়। কিন্তু উগ্রবাদীরা কোনো কিছু মানে না।

সূত্র: প্রথম আলো

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest