দেবাহাটা ব্যুরো : দেবহাটায় এক নিহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা দাউদ আলীর সন্তানের নিকট রাষ্ট্রীয় সম্মানী প্রদান করা হয়। উপস্থিত থেকে সম্মানী সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আব্দুল গনি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা অধির কুমার গাঈনসহ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা। এসময় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা দাউদ আলী এর সন্তানের নিকট ৩ মাসের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটায় মাধ্যমিক পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলাধীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের শিক্ষার্থীদের গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে সাতার এর উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাই, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার জসীমউদ্দীন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার বদরুজ্জামান, উপজেলা সমবায় অফিসার জহুরুল ইসলাম, পল্লী দারিদ্র বিমোচন অফিসার অসীম বরণ রায়, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এনামুল হকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

দেবহাটা ব্যুরো : দেবহাটার ইছামতি নদীর বাধ রক্ষায় প্যালাসাইডিংকরন কাজ শুরু হয়েছে। ইছমতি নদীর পানির চাপ বাড়াতে বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাধ পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় ভাঙ্গন রক্ষায় এ কাজ। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গন রোধ করতে উপজেলাধীন দেবহাটা সদর ইউনিয়নের শিবনগর মৌজায় ভয়াবাহ হওয়ায় ভাঙন রোধে প্যালাসাইডিংকরন করা হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানাগেছে, নদীর বাধ রক্ষায় ইছামতির তীরে অবস্থিত ম্যানগোভ মিনি সুন্দরবন সংলগ্ন বেড়ি বাধ রক্ষায় ৭মিটার প্যালাসাইডিং করা হচ্ছে। আর এতে নদীর বাধ রক্ষা সাথে সাথে অসংখ্য মৎস্য ঘের, ফসলি জমির ফসল ও জনবসতি এলাকা নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কলারোয়া ডেস্ক : কলারোয়া থানা পুলিশ মাদকমুক্ত ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চিরনি অভিযান শুরু করেছে। যারা এলাকায় মাদক ব্যবসা করে সমাজ ধ্বংস করছে তাদের খুজে বের করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হচ্ছে। গত দুই দিনে ৩শ’৩০বোতল ফেনসিডিল ও ২৪ পুরিয়া গাজা উদ্ধার সহ ৩ ব্যক্তিকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার নাথ এর নেতৃত্বে খোরদো পুলিশ ফাড়ির এসআই হাসানুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের শাকদহ বাজার এলাকা থেকে ২ব্যক্তিকে আটক করেছে। পরে তাদের দেহ তল্লাসী চালিয়ে ২৪পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার হয়। আটকৃকত ব্যক্তিরা হলো-উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের কলাটুপি গ্রামের মোঃ ফজর আলী সরদারের ছেলে আল আমীন (২০) ও একই গ্রামের মোঃ মতলব সরদারের ছেলে মোঃ হাসানুজ্জামান ওরফে খোকন(২২)। এঘটনায় কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘মুক্তামণি এখন কেমন আছে? ওকে কি দেশে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব? আপনারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালান, বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওকে সুস্থ করে তুলতে আরও কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন তা জানুন। প্রয়োজনে সিঙ্গাপুর বা অন্য কোনো দেশে পাঠিয়ে শিশুটিকে সুস্থ করে তুলতেও আমার আপত্তি নেই। আর সেই আবুল বাজানদার এখন কেমন আছে?’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতে চাচ্ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন শিশু মুক্তামণি ও ট্রিম্যান খ্যাত আবুল বাজানদারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ডা. জুলফিকার লেনিনের কাছে ঠিক এভাবেই আন্তরিক মনোভাব নিয়ে তাদের সম্পর্কে জানতে চান শেখ হাসিনা।
‘কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত অবধি যিনি রাষ্ট্রীয় নানা কাজে সদাব্যস্ত। কিন্তু গরিব, দুঃখী ও নিঃস্ব এবং হৃতদরিদ্র মানুষগুলোর কথা ভুলেন না। ওদের কথা ভাবেন, পরম মমতা নিয়ে পাশে দাঁড়ান তিনি।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডা. সামন্ত লাল সেন এভাবেই গল্পচ্ছলে প্রধানমন্ত্রীর এসব গুণাবলির কথা বলছিলেন। আর জানাচ্ছিলেন সাক্ষাৎকালে কী কী কথা হয় শেখ হাসিনার সঙ্গে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুক্তামণির চিকিৎসার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছিলেন। তার পক্ষে ডা. জুলফিকার লেনিন বার্ন ইউনিটে এসে মুক্তামণিকে দেখে যান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন। গত কয়েকদিন কী চিকিৎসা দেয়া হলো, তার শারীরিক অবস্থা এখন কেমন? এ সম্পর্কে জানাতে সর্বশেষ চিকিৎসার ফলোআপ রিপোর্ট নিয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি ও ডা. জুলফিকার লেনিন যান।
ডা. সেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই আন্তরিকভাবে সময় নিয়ে মুক্তামণির রোগটি সম্পর্কে শোনেন। তিনি দেশীয় চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রেখে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি সিঙ্গাপুর কিংবা উন্নত কোনো দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসার কাগজপত্র পাঠিয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
ডা. সেন জানান, মুক্তামণিকে সুস্থ করে তুলতে সিঙ্গাপুর বা উন্নত দেশে পাঠানোর প্রয়োজন হলে পাঠাবেন বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। মুক্তামণির প্রসঙ্গ শেষ হতে না হতেই তিনি আবুল বাজানদারের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ খবর জানতে চান। প্রায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছে জেনে তিনি খুশী হন। মুক্তামণিও নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে উঠবে এমনটা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফিরে বিকেলেই ডা. সেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগ করে মুক্তামণির চিকিৎসা সংক্রান্ত হালনাগাদ কাগজপত্র স্ক্যান করে সেখানে পাঠিয়ে দেন। সেখানকার চিকিৎসকরা এমআরআইসহ আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেই ফলাফলগুলো পাঠানোর পরামর্শ আপাতত দিয়েছেন।
মুক্তামণির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. সেন জানান, মুক্তামণির রক্তে প্লাটিলেট কমে গেছে। সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের দেহে এক লাখ ৫০ হাজার বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ প্লাটিলেট থাকে। কিন্তু তার শরীরে মাত্র ২২ থেকে ২৪ হাজার প্লাটিলেট রয়েছে। রক্ত থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করে তার শরীরে দিয়ে প্লাটিলেট বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা জনপ্রিয়তম অনলাইন নিউজপোর্টাল ডেইলি সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে মুক্তামণির অসুস্থতার খবর প্রকাশিত হয়। এরপর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হকের উদ্যোগে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওইদিনই রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয় এবং প্রধানমন্ত্রী মুক্তামনির চিকিৎসার সমস্ত দায়ভার গ্রহণ করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ :

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এম বেলাল হোসাইন : সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের ষাটলিপিকার থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতির পর বদলির খারিজ হওয়া রুলনিশির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দায়েরকৃত এস এম মাহাবুবর রহমানের আপিল খারিজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর দু’টোয় চেম্বার জজ বিপুল বাগমার এ আপিল খারিজ করে দেন। ফলে বগুড়া জেলা পরিষদে যোগদান করা ছাড়া মাহাবুবর রহমানের আপাতত অন্য কোন উপায় থাকছে না। এদিকে এ আদেশ কার্যকর হলে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে মাহাবুবর রহমানের ২৭ বছরের রামরাজত্বের অবসান ঘটবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ষাটলিপিকার থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতির পর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ২০০৫ সালের ১৪ জুন এস,এম, মাহবুবুর রহমানকে দ্বিতীয়বার জামালপুর জেলা পরিষদে বদলী করেন। তিনি জামালপুর জেলা পরিষদে যোগদানের জন্য আবেদন করলেও যোগদানপত্র গৃহীত হয়নি। অপরদিকে গত ২০০৫ সালের ১৯ আগষ্ট সাতক্ষীরা জেলার চার জন সংসদ সদস্য এস,এম মাহবুবের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগে এক ডিও লেটার পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ৬৪টি গৃহ বন্দোবস্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্ধ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, জেলার বিভিন্ন খেয়াঘাট লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে পূর্ববর্তী ডাকের চেয়ে কম ডাকে ইজারা দেওয়াসহ বিভিন্ন দূর্ণীতির কথা উল্লেখ করেন। একইভাবে অনেকগুলো অভিযোগকারির অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ জসিমউদ্দিন তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রমানসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। তার বিরুদ্ধে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদন্ত করার জন্য দাবি জানানো হলেও এক অদৃশ্য কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
২০০৫ সালের ১৪ জুন বদলী আদেশ চ্যালেঞ্জ ও একই বছরের ১৯ আগষ্ট চার সাংসদের উদ্দেশ্য প্রণোদিত ডিও লেটারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাহবুববর রহমান হাইকোর্টে -৬৯১৭/২০০৫ নং রীট পিটিশন দায়ের করেন। সেখানে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ভুইয়া মোঃ আতাউর রহমানের ২০০৩ সালের ১৭ জুনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে সাতক্ষীরা জেলা ন্যাপ এর সাধারণ সম্পাদক কাজী সাঈদুর রহমানের অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর আদালত শুনানীন্তে উক্ত আদেশের উপর রুলনিশি জারী করেন এবং বদলী আদেশ স্থগিত করেন। স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় পরবর্তীতে তিনি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ থেকে তাহার বেতন ভাতা এবং রীট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চাকুরীতে যাহাতে স্থিতিবস্থা বজায় থাকে সে জন্য তিনি ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর একটি আবেদনপত্র দাখিল করেন এবং তা’ মঞ্জুর হয়। তাকে সাতক্ষীরা জেলাা পরিষদে রাখার জন্য গত বছরের ১২ মে ও ৩০ মে প্যাডে চিঠি লিখে সব ধরনের সহায়তা করেন যথাক্রমে তৎকালিন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর আহম্মেদ ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মোঃ মনিরুজ্জামান। ১৩ জুলাই উভয়পক্ষের শুনানী শেষে এ সংক্রান্ত রীট পিটিশনটি নিষ্পত্তি করে মাহাবুবর রহমানের বিরুদ্ধে যে কোন ধরণের দূর্ণীতির তদন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় করতে পারবে বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের ষাটলিপিকার থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান এসএম মাহাবুবর রহমান। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ২০০১ সালের ২৬ জুন এস,এম, মাহবুবর রহমানকে পঞ্চগড় জেলা পরিষদে বদলী করেন। উক্ত বদলী আদেশকে চ্যালেজ্ঞ করে তিনি হাইকোর্টে ৩৪৪৬/২০০১ নং রীট পিটিশন দায়ের করেন। ৪ আগষ্ট শুনানী শেষে আদালত উক্ত বদলী আদেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে পরদিন বিবাদীগনের বিরুদ্ধে রুললনিশি জারী করেন। ২০০৫ সালের ২৪ মে বাদি মাহাবুবর রহমান রিট মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। জামালপুরে বদলী সংক্রান্ত রীট পিটিশনটির কার্যক্রম চলাকালিন তাকে ২০১৬ সালের ১৪ জুন বগুড়ায় বদলী করা হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে ৭৩৩৩/২০১৬ নং রীট পিটিশন দায়ের করেন এসএম মাহাবুবর রহমান। গত ১২ জুলাই বিচারক কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ উভয়পক্ষের শুনানী শেষে মাহাবুবর রহমানের দায়েরকৃত রীট পিটিশনের রুলনিশি খারিজ করে দিয়ে সরকারি কর্মচারি হিসেবে বদলী হতে হবে বলে আদেশ দেন।
এদিকে খারিজ হওয়া রুলনিশির (৭৩৩৩/১৬) এর বিরুদ্ধে এসএম মাহাবুবর রহমান গত ১৬ জুলাই চেম্বার জজে আপিল(সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন নংÑ১২২৩/১৭) করেন। চেম্বার জজ বিপুল বাগমার শুনানী শেষে খারিজ করে দেন।
পিটিশনকারির পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.জয়নুল আবেদীন।। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. রিয়াজউদ্দিন খান রেজা ও অ্যাড. সত্যরঞ্জন ম-ল।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবী অ্যাড. রিয়াহউদ্দিন খারন রেজা বলেন, সোমবারের আদেশ সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে পৌঁছানোর পর মাহাবুবর রহমানকে বগুড়ায় যোগদান করা ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকবে না। সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুবর রহমানের সঙ্গে সোমবার বিকেলে তার ০১৭১১-৩৫২৭২০ নং মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আসাদুজ্জামান : নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সাতক্ষীরায় গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার সাতটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে শত শত বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি।
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি, তালা, কলারোয়া ও শ্যামনগর উপজলোর কয়েক হাজার হেক্টর মৎস্য ঘের, ফসলি জমি ও সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হেেয়ছ আশাশুনি ও তালা উপজলোর কয়েকটি গ্রামে।
এদিকে, পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সাতক্ষীরা শহররে বদ্দীপুর কলোনী, পুরতান সাতক্ষীরা সরদার পাড়া, ডেইয়ের বিল, কামালনগর, মধুমোল্যারডাঙ্গী, মহেদেীবাগ, মাছখোলা, বিনেরপোতা ও লাবসা এলাকার নিম্নাঞ্চল পানরি নিচে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। বাজারেও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ভিজতে ভিজতে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করছে। খেটে খাওয়া দিন মজুর মানুষেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তারা বৃষ্টিতে বের হতে না পেরে অলস সময় কাটাচ্ছেন। ব্যবসা বাণিজ্যে প্রতিষ্ঠান গুলোও ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে।
সংশি¬ষ্টরা বলছেন, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের ও জেলার কয়েকটি নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এ জেলার নিম্নঞ্চল প্লাাবিত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা গণফোরামের সাধারন সম্পাদক আলীনুর খান বাবুলসহ একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অপকিল্পিত বেড়িবাধ দিয়ে মৎস্য ঘের তৈরী করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করায় প্রত্যেক বছরই বর্ষা মৌসুমে জেলা শহরের নি¤œাঞ্চলে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তারা জানান, শহরের কামাননগর, পলাশপোল ও মাছখোলা এলাকায় কয়েক জন প্রভাবশালী ঘের মালিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে চিংড়ি ঘের করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঘের মালিকরা পানি নিষ্কাশনের কোন পথ রাখেননি। যার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই এসব এলাকার বাড়ি, ঘর ও রাস্তায় পানি উঠছে। তাই মাছের ঘের কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা অতীব জরুরি। আর তা না হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষ স্থায়ী ভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়বে। তারা আরো বলেন, সাতক্ষীরা শহরের বড় একটি অংশের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র উপায় পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের খড়িবিলা খাল। অথচ সে খালে নেটপাটা দিয়ে স্থানীয় কয়েজন ব্যক্তি ঘের ব্যবসা শুরুকরায় কয়েক হাজার মানুষ আজ পানিবন্দী। ভেলায় করে রাস্তা পারাপার করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অপরদিকে, তালা উপজেলা সদরসহ কয়েটি স্থানের রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। অনেক স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা মৎস্য অফিসার সেলিম সুলতান জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষনে এ উপজেলার প্রায় ২৭’শ হেক্টর মৎস্য ঘের ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তা জুলফিকার আলি রিপন জানান, বৃষ্টি আরো কয়েকদিন যাবত হতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সদরের এল্লারচরে পোস্ট অফিসের জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক দখল করে দোকানঘর ও বাড়ি নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে।
সদরের ফিংড়ী ইউনিয়নের এল্লাচর বাজারে অবস্থিত এল্লারচর পোস্ট অফিসের নামে বালিথা এল্লাচর মৌজায় ২৪৬ নং দাগের, ৭নং খতিয়ানে ১০ আগস্ট’১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডাক বিভাগের নামে ০৩ শতক জমি রেকর্ড করা হয়। অথচ সরেজমিনে উক্ত জায়গা না থাকায় পোস্ট অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরৎ যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সদর উপজেলার ওই এলাকার যে কোন ধরনের চিঠি, মানি-অর্ডার, পে-অর্ডার, লিগ্যাল নোটিশসহ, পোস্ট অফিস সংক্রান্ত যেকোন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এল্লাচর বাজারে একটি দোকানঘরে ঢেলামেশাভাবে ডাকঘরের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে পোস্ট মাস্টার আক্তারুল ইসলাম। বর্তমানে পিওন জয়দেব বাবু রাস্তার পাশের অন্য একটি কম্পিউটারের দোকানে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

জানা যায়, ডাকঘরের পাশে একটি বসত ঘর, বিথিকা জুয়েলার্স ও অনিক লাইট হাউজ নামে ২টি দোকান রয়েছে যা ওই এলাকার প্রভাবশালী নিমায় চন্দ্রের দখলে। ডাক ঘরের জায়গা ০৩ শতক হলেও বাস্তবে ০১ শতকেরও কম জায়গায় ১টি অব্যবহার যোগ্য পাকা ডাকঘর আছে। দীর্ঘদিন ঘরটি পরে থাকা এবং সংস্কারের অভাবে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যে কারণে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন ডাকঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়। সে মোতাবেক কাজ শুরু করতে যেয়ে সরেজমিনে জায়গা না থাকায় উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরৎ যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে জানাগেছে। এলাকাবাসী জানায় পোস্ট অফিসের ওই জায়গাটি ১৯৮৮ সালের আগে হিন্দু জমিদারদের মাঠ ছিল। ১৯৮৮ সালে সার্ভেয়ার আসলে তৎকালীন মেম্বর সন্তোষ সিং পোস্ট অফিসের নামে ওই ০৩ শতক জায়গা লিখে দিয়ে যায়। পরবর্তীতে পোস্ট অফিসের জায়গা দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী নিমায় চন্দ্র বিথিকা জুয়ের্লাস ও অনিক লাইট হাউজ নামে ২টি দোকান গড়ে তোলে। কিছু কুচক্রী ব্যক্তিদের জন্য পোস্ট অফিসের জন্য টেন্ডার হওয়ার পরেও কাজ না হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি পোস্ট অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরৎ গেলে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চিরতরে বিলুপ্ত হতে পারে। ওই এলাকার সর্বস্তরের মানুষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করে পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করার আহবান জানিয়েছেন।

এঘটনায় ফিংড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শামসুর রহমান বলেন, “জায়গাটি পোস্ট অফিসের নামে রেকর্ড হয়েছে। কিন্তু পোস্ট অফিসের কোন ভবন ছিলো না। অনেক আগে পোস্ট মাস্টার বটতলায় বসে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতো এবং বট গাছে বক্স ঝুলানো ছিলো। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি সমিতির ঘরে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আমারও চাই পোস্ট অফিসের ভবন নির্মাণ করা হোক।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest