ন্যাশনাল ডেস্ক: কথায়-কথায় তৃণমূল আওয়ামী লীগে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটছে অহরহই। এছাড়া কোথাও কোনও কারণ ঘটলেই জেলা কমিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর ও থানা কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের ঘটনাকে গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতরা। তারা বলছেন, কাউকে বহিষ্কার বা কোনও কমিটি বিলুপ্ত করার এখতিয়ার একমাত্র কেন্দ্রের। কোনও জেলা কমিটির এই এখতিয়ার নেই। এ ধরনের ঘটনার লাগাম টানতে গত বুধবার (১ মার্চ) সারাদেশে কেন্দ্র থেকে লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে তৃণমূল নেতাদের বহিষ্কার ও কমিটি বিলুপ্তের ঘটনা বন্ধে জেলা কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনও ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর, থানা, উপজেলা ও জেলা শাখার কমিটি ভাঙা বা বিলুপ্ত করা যাবে না। অথচ আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি, ইতোমধ্যে কোনও কোনও জেলা তাদের অধীন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর, থানা, উপজেলা ও জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত করেছে। কোনও কোনও এলাকায় কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা দলের কেন্দ্রীয় গঠনতন্ত্রের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
নির্দেশনা আরও বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে কাউকে বহিষ্কার করার প্রয়োজন হয়, তাহলে বিষয়টি কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। কাউকে বহিষ্কার করার এখতিয়ার একমাত্র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের। সঙ্গে-সঙ্গে দলের বিভিন্ন শাখাকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করার জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয় ওই চিঠিতে।

নিজস্ব প্রতিবেদক : আশাশনির শোভনালীতে মাছের ঘের দখল-পাল্টা দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে আশাশুনি উপজেলার শোভনালি ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনা পুলিশ আহসান, আলমগীর ও বৈদ্যনাথ নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটা টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র দাদপুর গ্রামের কাজল সরদারের পুত্র বকুল সরদারকে মারপিটের ঘটনা ঘটে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা ও অনলাইন নিউজপোর্টাল ডেইলি সাতক্ষীরা’র বিশেষ প্রতিনিধি শেখ শরিফুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি প্রদান করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সকালে ডাকযোগে এ চিঠি প্রদান করা হয়। এ ব্যাপারে তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছেন। যার নং-১৮। তারিখ-০১.০৩.২০১৭।
হাসান হাদী : দিগন্তজোড়া সবুজে শহীদদের রক্তে রঞ্জিত আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ। স্বাধীন ও সার্বভৌম এ দেশ বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে লাল-সবুজের পরিচয়ে। এই স্বাধীন পতাকার জন্য বাংলার দামাল ছেলেদের অনেক বিসর্জন দিতে হয়েছিল। গৌরবান্বিত যে পতাকাটি এখনো আমাদের মাথার ওপর বিজয়ের প্রতীক হয়ে উড়ছে, সেটি বাংলার মাটিতে প্রথম উত্তোলন করা হয়েছিল ইতিহাসের এই দিনে। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ আ. স. ম. আবদুর রব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে বটতলায় এক ছাত্র সমাবেশে বাঙালি জাতির স্বপ্নের লাল-সবুজের পতাকা সর্বপ্রথম উত্তোলন করেন।
কলারোয়া প্রতিনিধি : কলারোয়ায় বাকি মাত্র ৪দিন জমে উঠেছে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া মিলছে। আগামী ৬ মার্চ সোমবার উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিরাজ করছে উৎসব আমেজ আর আনন্দ। এক কথায় উপ-নির্বাচন জমে উঠেছে। আর এই নির্বাচন ঘিরে দুই প্রার্থী দিনভর প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনী পথসভা ও মতবিনিময় সভায় দেখা যাচ্ছে তাদেরকে। উপজেলার ৬৭ টি ওয়ার্ডে ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের টাঙানো পোস্টার আর ব্যানারে। সরেজমিনে ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে নির্বাচন নিয়ে এলাহি কা-। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দিচ্ছে আশার বানী। দুপুরের পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রার্থীদের মাইকে প্রচার প্রচারনায় মুখোরিত বিভিন্ন ওয়ার্ড। সার্বক্ষণিক প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোটারদের কাছে গিয়ে। ভোটারদের নিকট প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং নিজ প্রতীকে তাদের ভোট প্রার্থনা করছেন। থেমে নেই প্রার্থীদের আত্মীয়-স্বজন ও কর্মী সমর্থকরা। উপজেলার ৬৭টি ওয়ার্ডে ১লাখ ৮২ হাজার ২শ’ত ২৯জন ভোটারদের মধ্যে কে হবেন উপজেলার সৌভাগ্যবান ভাইস চেয়ারম্যান সেটাই এখন জনমনে আলোচিত। জয় পরাজয় থাকবেই তবুও বসে নেই কেউ, সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন সবারই মনে। উপজেলাবাসীর মন জয় করতে রাত দিন ঘুরে বেড়াচ্ছেন দুই প্রার্থী। তারা হল আওয়ামীলীগ দলিয় মনোনিত প্রার্র্থী জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম-বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত হোসেন ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী আসাদুজ্জামান শাহাজাদা। কলারোয়া উপজেলার ২০ দলীয় জোটের ভোটার সংখ্যা বেশি। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আরাফাত হোসেন প্রচার-প্রচারণায় সবার শীর্ষ। গত পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে পরাজয়ের পর থেকে র্দীঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন এলাকার মানুষের সুখ দুঃখের সাথী হয়ে। প্রার্থী হিসেবে সর্বমহলের কমবেশি ভোট পাবেন, খুবই যোগ্য, ধর্মভীরু, সৎ মানুষ। এবার নির্বাচনে কোমর বেধে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। প্রচার-প্রচারণায় তরুণদেরকে প্রাধ্যান্য দিয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। এদিকে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী শাহাজাদা। এছাড়া গ্রহণযোগ্যতা কোন অংশে কম নয় সব দিক দিয়ে ফিটেস্ট। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনসহ শীর্ষ স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে ভালভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামীলীগ দলীয় নৌকা মার্কার প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে। সব মিলিয়ে আওয়ামীলীগ এবার শক্ত অবস্থানে। কাজী শাহাজাদা দলীয় সর্মথন না পেয়ে যুবলীগ একাংশের নেতাকর্মীদের নিয়ে সরাসারি কাজ করতে দেখা গেছে। তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তার পরেও থেমে নেই প্রচার-প্রচারণায় সবার আগে সব খানে ভোট প্রার্থনা করছেন। বিশেষ করে তরুণদের কাছে প্রতিনিয়ত শুনাচ্ছে আশার বানী এবং উপজেলাকে তিনি দুর্নীতি মুক্ত করতে চান। নিবার্চন কমিশন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬৭ টি ওয়ার্ডে ১ লাখ ৮২হাজার ২শ’ত ২৯জন মত ভোটার রয়েছে। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৮৯হাজার ৭’শ ৯৬ জন এবং নারী ভোটার সংখ্যা ৯২হাজার ৪’শ ৩৩ জন। দলিয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, গত পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে তিনি আজও পর্যন্ত এলাকার মানুষের সুঃখে-দুঃখে পাশে আছেন এবং থাকবেন। কলারোয়া উপজেলার মানুষ অবহেলিত। তাই এ অবহেলিত উপজেলাবাসী আগামী ৬ই মার্চ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। আর ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোটের মাঠে গিয়ে নিরপেক্ষভাবে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে পারলে তিনি জয়ী হবেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইতোমধ্যে তার কর্মীদের বিভিন্নভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। পোষ্টার, লিপলেট ছেড়াসহ কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। নির্বাচনে হেরে যাবার ভয়ে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মিথ্য অপ-প্রচার চালাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন। যা তার ভোটারদের মনে আতংক কাজ করছে। আমি মিথ্য অপ-প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তাই উপজেলাবাসী আগামী ৬ই মার্র্চ সুস্থ নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়ে জয়ের মালা পরাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী যুুবলীগ সভাপতি কাজী শাহাজাদা বলেন, কলারোয়া উপজেলার অনেক এলাকায় তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, সুপীয় পানীয় জলের কোন ব্যবস্থা নেই, উপজেলার অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধ থাকে। এলাকায় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ি ঢোকার মত কোন রাস্তা ভাল নেই। উপজেলাকে তিনি মডেল উপজেলা হিসেবে উপহার দিতে চান। তাই উপজেলাবাসী আগামী ৬ই মার্চ সুস্থ নির্বাচনে তাকে উড়োজাহাজ মার্র্কায় ভোট দিয়ে জয়ের মালা পরাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
আশাশুনি ব্যুরো : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ম-লীর সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক এমপি’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক সমাবেশের বিরুদ্ধে আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটিতে মানববন্ধ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার বিকালে কুল্যা টু দরগাহপুর সড়কে প্রথমে দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে গুনাকরকাটি বাজারস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ইয়াহিয়া ইকবালের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাবেক এমপি আলহাজ্ব ডাঃ মোখলেছুর রহমান। হাবিবুল্লাহ মালীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা পরিষদের স্থায়ী কমিটি শিক্ষা বিভাগের সভাপতি মোঃ দেলওয়ার হোসাইন। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপজেলা আ’লীগ ক্রীড়া সম্পাদক ফিরোজ খান মধু, ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ সভাপতি শাহজাহান আলি, সেক্রেটারী ফােরুক হোসেন, আব্দুল্লাহ, আ’লীগ নেতা নজির শিকদার, কফিল উদ্দিন, আলতাফ হোসেন, শাহাবুদ্দিন, আবু তালেব, রিপন, যুবনেতা আঃ সামাদ, রানরা, রাকিব, সোহাগ, বাবু, শাহিনুর, রবিউল, আলম, শফিকুল, মকফুর, শাহিন, শাহজাহান, আক্তারুল, হাফিজুল, কণ্ঠশিল্পী মনিরুল প্রমুখ।