আশাশুনি ব্যুরো : আশাশুনির চরম প্রতিবন্ধী খায়রুল ইসলাম সংসারের ঘানি টানার জীবনযুদ্ধের মধ্যেও ক্লান্তিহীন পড়ালেখার মাধ্যমে মাস্টার্স পাশ করে সুস্থ মানুষদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সৎ উদ্দেশ্য ও অদম্য ইচ্ছা থাকলে অনেক অসাধ্যকেও জয় করা সম্ভব তার উৎকৃষ্ট প্রমান খায়রুল।
আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের মোহাম্মদ আলি সরদারের পুত্র খায়রুল ইসলাম। তার বর্তমান বয়স ২৭ বছর। তিনি জন্মগত ভাবে প্রতিবন্ধী। দু’টি পা সম্পূর্ণ অচল। দু’হাতেও স্বাভাবিক কিছু করার সক্ষকতা নেই তার। এখন মুখে ভাত তুলেও খেতে পারেননা। কোন রকমে কলম চালাতে পারেন; তাও অতি কষ্টে। ২৭ বছর আগে তার জন্ম হয় পিতার ভিটা টেকাকাশিপুর গ্রামে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়ায় তার মাতার উপর নেমে আসে অভিশাপ। পিতা মোহাম্মদ আলি তার মা আমিরুন নেছাকে তালাক দিয়ে বিদায় করে দেন। তিন মাসের শিশুকে নিয়ে মা গোয়ালডাঙ্গায় পিতার ভিটায় আশ্রয় নেন। আর্থিক অনটনের মধ্যে কষ্টকর জীবন-যাপনের পথ ধরে তার বেড়ে ওঠা। সংসার নির্বাহের জন্য পরের বাড়িতে কাজ করতেন। প্রতিবন্ধী ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনকে অন্ধকারমুক্ত করা যায় কিনা সে মনোস্কামানা নিয়ে ছেলেকে মাদরাসায় পাঠানো শুরু করেন। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখাকালীণ খরচ যোগানোর তাগিদে টিউশনি শুরু করে খায়রুল। এভাবে নিজের খরচ নিজে যোগানোর মাধ্যমে গোয়ালডাঙ্গা শুক্কলিয়া দাখিল মাদরাসায় পড়ালেখা করে ২০০৫ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় খায়রুল। সাধারণ পরীক্ষার্থীদেরকে তাক লাগিয়ে দিয়ে খায়রুল ৩.৬৭ পেয়ে কৃতিত্ব অর্জন করেন। এরপর বড়দল আলিম মাদারাসায় ভর্তির পর খরচ বেড়ে যাওয়ায় টিউশনিতে আরও বেশী সময় দিতে হতো। কিন্তু না সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিল। চলাফেরায় দুর্বলতা বেড়ে গেল। তখন বিয়ারিং এর গাড়িতে চড়ে চলাচল শুরু করলেন। জীবনযুদ্ধের মাঝে আবার লেখাপড়ায় সফলতা অর্জন করলেন তিনি; ২০০৭ সালে ২.১৭ পেয়ে আলিম পাশ করলেন। এরপর বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুল হতে এইচএসসি এবং ২০০৯ সালে ফাজিল পাশ করেন ২.১৭ পেয়ে। চরম অভাব ও চলাচলে প্রতিবন্ধীকতা এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনে প্রতিকূলতা থাকা স্বত্তেও লেখাপড়া থামেনি। ২০১৩ সালে আশাশুনি কলেজ হতে ইসলামের ইতিহাসে ফার্স্টক্লাশ নিয়ে অনার্স পাশ করেন। অদম্য আগ্রহ সহকারে তিনি খুলনা বিএল কলেজ থেকে মাস্টার্স (ইসলামের ইতিহাস) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২০১৬ সালে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়া সাতক্ষীরা আলিয়া মাদরাসা হতে ২০১৭ সালে হাদিস গ্রুপ থেকে কামিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। আবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে মৎস্য চাষ ও খাদ্য উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। লেখাপড়ায় ঈর্ষণীয় সফলতা পেয়ে জীবনে বড় কিছু হওয়ার আগ্রহ বেড়ে গেলেও তার জীবনের বড় বিপত্তি শুরু হয় ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ। এদিন রাতে মাথার পাশে জ্বলন্ত গ্লোব রেখে মশারি টানিয়ে ঘুমিয়ে যান। কোন এক সময় মশারিতে আগুন লেগে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তার সমস্ত শরীর আগুনে ঝলছে যায়। তাকে নেওয়া হয় প্রথমে আশাশুনি হাসপাতালে এবং পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। এখানে তাকে ৮ মাস ধরে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসা শেষে পোড়া ঘা শুকিয়ে গেলেও তার পঙ্গুত্ব কয়েকগুণ বেড়ে যায়। হাত-পা চালানোর শক্তি বহুগুণ হারিয়ে যায়। এখন অন্যের সহযোগিতা ছাড়া নিজেকে পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে গেছ। মোজাহার উদ্দীন মাল্টিক্রাফট সেন্টারে শিশু শিক্ষার ছোট্ট একটি চাকুরি পেলেও সেটি টিকিয়ে রাখতে পারেননি। বর্তমানে টিউশনির ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও ধরে রাখতে পারছেননা। বর্তমানে একটি পুরনো হুইল চেয়ারে চড়ে তার চলাচল। যেটি ২০০৭ সালে ঋশিল্পী দিয়েছিল। তেতুলিয়া আশ্রয়ন আবাসনে বসবাসকারী অসহায় খায়রুল এখন ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে খুবই চিন্তিত। তারপরও তার অসীম আগ্রত তাকে থামিয়ে রাখতে পারছেনা। তার ইচ্ছা বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেয়া। তিনি বলেন সমাজের বোঝা হয়ে থাকার মধ্যে কোন তৃপ্তি নেই। কিন্তু প্রতিবন্ধিতা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তবুও তিনি হতাশ হতে রাজি নন। তার প্রত্যাশা বিসিএস দিয়ে একটি অবলম্বন তার ভাগ্যে জুটাতে চান তিনি। জীবনকে যতটুকু সম্ভব স্বাভাবিক করতে সচেতন মানুষের সহানুভূতিপূর্ণ ব্যবহার প্রত্যাশা করা তার জন্য বেশি কিছু চাওয়া নয় বলে মনে করেন তিনি। চরম শারীরিক প্রতিবন্ধী খায়রুল নিত্য প্রতিকূলতাকে পিছে ঠেলে দিয়ে বারবার স্বপ্ন জয় করে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, আমাদের জন্য সেটি বিশাল উদাহরণ হয়ে যুগ যুগ উঠে আসবে। আসুন আমরা তার জীবনকে যোগ্য স্থানে পৌছে দিতে পাশে থাকি।

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা দায় স্বীকার করে এই জবানবন্দি দেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন।
নেত্রকোনায় গিয়ে রিকশায় চড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৮ মে) নেত্রকোনার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে রিকশায় চড়েন তিনি। এর আগে, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে গিয়ে ভ্যানে চড়ে ঘুরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। অন্তত শতাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করে বাছাই তালিকা তৈরি করছে দলটি। ইতোমধ্যে লিখিতভাবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিমত নেওয়া শুরু করেছে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দলটির ভেতরে দুই রকমের পরিকল্পনা চলছে। প্রথমত হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত থাকা নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন ফিরিয়ে এনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা। দ্বিতীয়ত দলীয়ভাবে নির্বাচনে যেতে না পারলে বিগত স্থানীয় নির্বাচনগুলোর মতোই স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রার্থী দেবে দলটি। জামায়াতের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিচারকদের ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন; কিন্তু বিচারকরা স্বাধীন নন। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। এমনকি, বিচারকরাও নন। আমাদের কিছু পদ্ধতি আছে, দিক নির্দেশনা আছে, যার বাইরে যেতে পারি না। আমরা আইনের বাইরে কোনও কাজ করতে পারি না। ’বৃহস্পতিবার (১৮ মে) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা জজ আদালত ভবনে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহষ্পতিবার সকাল ৯টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে দেবহাটায় এসএনএসপি প্রকল্প ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব, পিআইসি, মেম্বর ও ট্যাগ অফিসারদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি বিষয়ক এক প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খোকন ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভিন। কর্মশালায় মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে ছিলেন ডিপিসি গ্রুপের মাস্টার ট্রেইনার মানিক হাওলাদার। কর্মশালায় সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, দেবহাটা সদর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজগার আলী, উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল্লাহ সহ সকল ইউনিয়নের সচিব ও ইউপি সদস্য/সদস্যাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটায় ডিজিটাল মেলা ও ইন্টারনেট সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১২টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দেবহাটা কলেজ প্রাঙ্গনে ৩ দিনব্যাপী ডিজিটাল মেলা ও ইন্টারনেট সপ্তাহের সমাপ্ত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও দেবহাটা কলেজের সভাপতি আনারুল হক। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নাজমুস শাহাদাত নফর বিশ্বাস, দেবহাটা কলেজ অধ্যক্ষ একেএম আনিসুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মাদ আলী, নাজিমউদ্দীন, দেবহাটা পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মদন মোহন পাল সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। এ সময় নওয়াপাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, সখিপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, পারুলিয়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, কুলিয়ায়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও দেবহাটা সদর ইউনিয়ন ডিজিটার সেন্টারের উদ্যোক্তাগন ইন্টারনেট সপ্তাহের বিষয়বস্তু নিয়ে মেলায় স্টল প্রদর্শনী করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন উপজেলা হিসাবরক্ষন কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ। সমাপনি অনুষ্ঠানে ইন্টারনেট বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিররনীর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্ত হয়।
গাজী আল ইমরান : সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম সুন্দরবনের গহিনে বনদস্যু বড় ভাই বাহিনীর ডেরা থেকে মুক্তিপনের টাকা পরিশোধ করে বাড়িতে ফিরেছে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে যতীন্দ্র নগর গ্রামের ৬ জেলে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে অন্য একটি কাকড়া নৌকা যোগে জেলেরা বাড়িতে ফেরে। এর আগে জেলেদের সুন্দরবনে পাটকোষ্টা সংলগ্ন দুনে এলাকায় জেলেদের মুক্তি দেয়। তবে, মুক্তি পেতে বড় ভাই বাহিনীকে ১ম দফায় নগদ ১ লাখ টাকা ও পরবর্তীতে ০১৮৫৫-৬৯৭২৩৮ এই নম্বর বিকাশ এজেন্ট এর মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। ফিরে আসা জেলেদের বরাত দিয়ে পার্শ্বেখালি গ্রামে হযরত আলীর ছেলে শাহাজান জানায়, কৈখালি বন অফিস হতে গত ১৫ মে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে মান্দার বাড়িয়া খালে মাছ ধরার সময় রাত ৮টার দিকে বনদস্যু বড় ভাই বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিপনের দাবিতে জেলেদের অপহরণ করে। পরবর্তীতে পারিবারিক দেনদরবারে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা শোধ করে জেলেরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। এখনও ওই বাহিনীর কবজায় ১২/১৩ জন জেলে জিম্মি অবস্থায় আছে জানায়।