সাতক্ষীরা প্রতিনিধ : সাতক্ষীরা সদর উপজেলা রাইস মিল মালিক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা-২০১৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে সদর উপজেলা রাইস মিল মালিক সমিতির আয়োজনে সদর উপজেলা রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মোকাদ্দেস খান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু’র নির্মাণ কাজ করছে। যা ইতিমধ্যে ৪০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন আসবে। ভোমরা পোর্ট থেকে প্রতি বছর সরকার ১ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলায় মোট ৭লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন হয়, এর মধ্যে উদ্বৃত্ত ৩ লক্ষ মেট্রিক টন আমরা রপ্তানী করি। এ জেলার উন্নয়নকে আরো তরান্বিত করতে খাদ্য উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করতে হবে।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডাঃ মো. আবুল কালাম বাবলা, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রণয় কুমার পাল, আব্দুল খালেক, মো. আব্দুল গফ্ফার প্রমুখ। বার্ষিক সাধারণ সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ উপস্থাপন করেন সদর উপজেলা রাইস মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বাবু।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা রাইস মিল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শাহারুল ইসলাম. উপদেষ্টাম-লীর সদস্য জামাত আলী, সদর উপজেলা রাইস মিল মালিক সমিতির নির্বাহী সদস্য শাহারুল ইসলাম. আনসারুল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম ও মো. ইবাদুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় সদর উপজেলা রাইস মিল মালিক সমিতির অন্তভূক্ত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা সদর উপজেলা রাইস মিল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান।

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটা শততম বলেই স্মরণীয় করে রাখতে সবকিছু করছে বাংলাদেশ। যার প্রমাণ পাওয়া গেছে প্রথম সেশনেই। এই সেশনে সফল বাংলাদেশ ৪ উইকেট তুলে নিয়ে চাপে ফেলে দিয়েছে স্বাগতিকদের। যদিও দ্বিতীয় সেশনে ফিরে প্রতিরোধ দিচ্ছিলেন দিনেশ চান্দিমাল ও ধনঞ্জয়। দুই জনের জুটিতেই সংগ্রহ ১০০ ছাড়ায় স্বাগতিকরা। কিন্তু দলীয় ১৩৬ রানে ধনঞ্জয়কে বোল্ড করে ৬৬ রানের এই জুটি ভেঙে ফের চাপ সৃষ্টি করেছেন তাইজুল। স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৩৬ রান।
ইরানের খ্যাতনামা ‘ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এ যাচ্ছে তৌকীর আহমেদের ছবি ‘অজ্ঞাতনামা’। আগামী ২১ এপ্রিল শুরু হচ্ছে উৎসবটির ৩৫তম আসর। এর প্যানরোমা শাখার জন্য নির্বাচিত হয়েছে ছবিটি।
শুরুতেই সরল প্রশ্ন, ‘আয়নাবাজি’র সিক্যুয়েল করছেন না? মানে প্রশ্নটির অন্তর্নিহিত ভাব এমন ছিল, সুপটারহিট ছবিটির সিক্যুয়েল চলতি বছরের মধ্যেই মুক্তি দেওয়া উচিত!
বিনোদন ডেস্ক : এবার দক্ষিণ ভারতের ছবিতে দেখা যাবে বলিউডের আলোচিত অভিনেত্রী সানি লিওনকে। বেশ কয়েকটি ছবির জন্য অফার এসেছে তার কাছে, যোগাযোগ করছেন দক্ষিণ ভারতের পরিচালকরাও। এমনটাই জানা গেছে ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে।
অপেক্ষার পালা বুঝি আরেকটু ঘুচলো। গতকাল মঙ্গলবার মুক্তি পেয়েছে ‘বেগম জান’ ছবির প্রথম ট্রেলার। পোস্টারের মতো এখানেও বিদ্যা বালানের উপস্থিতিটাই সবচেয়ে বেশি। ২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের এ ট্রেলারে তাকে একজন সাহসী আর দাপুটে নারী হিসেবে দেখা গে
স্কোরবোর্ডে শ্রীলঙ্কার নামের পাশে ৭০ রান, উইকেট ৪টি। বাংলাদেশের শততম টেস্টের প্রথম সেশনে এরচেয়ে স্বস্তি কি হতে পারে।
ইতিহাসের প্রাপ্ত তথ্যাদি থেকে জানা যায়, যশোর, বুড়ন, সমতট, ব্যাঘ্রতট, বাগড়ি প্রভৃতি নামে নানা সময়ে এলাকাটিকে চিহিুত করা হয়েছে। আর সুলতান দাউদ খান কররানীর পতনের পর বিক্রামাদিত্য ও ভ্রাতা বসন্ত রায় স¤্রাট আকবরের বশ্যতা স্বীকার করে। এবং তারা ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে স¤্রাট আকবরের কাছ থেকে যশোর রাজ্যের সনদ নিয়েছিলেন। অত:পর বর্তমান কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুরে এসে রাজ প্রাসাদ গড়ে তুলেছিলেন। ঐ সময়ে বসন্ত রায় বঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে আতœীয়-স্বজনকে এখানে এনে যশোর সমাজ নামে এলাকা তৈরি করেছিলেন। আর রাজা প্রতাপাদিত্যের পতনের পর তাঁর বিশাল সৈন্য বাহিনীর এক অংশ শ্যামনগর – কালিগঞ্জ এলাকায় বসবাস শুরু করেছিলেন। পাঠান বিদ্রোহ দমনের জন্য মুঘলদের পক্ষে সামান্ত রাজা প্রতাপাদিত্য ১৫৯৩ খ্রিস্টাব্দে উড়িষ্যা অভিযান শেষ করে যশোর হয়ে বর্তমানে শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুরে এসে গোবিন্দ দেবের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং সে মন্দিরের সেবাইত বল্লাভট্টাচার্যকে নিযুক্ত করেন। ১৬৬৭ খ্রিষ্ট্রাব্দে ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে হযরত শেখ মুহাম্মাদ শাহ ওরফে দরগাহ শাহ নামে এক ব্যক্তি বাগদাদ থেকে সস্ত্রীক নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বর্তমান আশাশুনি উপজেলার দরগাপুরে সংসার জীবন শুরু করে। তারপর তাঁরই নামানুসারে গ্রামটির নামকরণ করা হয় দরগাপুর। মুঘল রাজত্বের অন্তিমকালে ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দে রাজকীয় চার্টারের বলে প্রেসিডেন্সী শহরের সৃষ্টি হয়েছিল। অত:পর ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে নদীয়ার জমিদার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর অধিকৃত জমিদারী পরগনাগুলো যখন নিলামে ওঠে তখন তাঁরই এক কর্মচারী বিষ্ণরাম চক্রবর্তী বুড়ন পরগনা নিলামে কিনে নেন। এবং পরে তিনি সাতঘরিয়া বা সাতক্ষীরায় এসে বসবাস শুরু করেন। তার আচার-আচারণ ও কর্মদক্ষতার কারণে ব্রিটিশরা তাকে রায় চৌধুরী উপাধি দিয়েছিলেন। ঐ সময়ে তাঁর বংশধরেরা সাত ঘরিয়ার আশে-পাশে জমি ক্রয়ের মাধ্যমে বসবাস শুরু করে। লর্ড ডালহৌসী (১৮৪৮-১৮৫৬) খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ ভারতের গভর্ণর জেনারেল হয়ে আসার পর তিনি সমগ্র বৃটিশ ভারতকে বিভিন্ন মহাকুমায় বিভক্ত করেন। তখন নীল বিদ্রোহ দমন ও স্থানীয় শাসন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যশোর জেলায় কয়েকটি মহাকুমা করার প্রয়োজন হয়েছিল। অত:পর ১৮৫১ সালে সাতক্ষীরাকে যশোর জেলার চতুর্থ মহাকুমা হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছিল। আর এ মহাকুমার প্রধান কার্যালয় কলারোয়াতে স্থাপিত হয়েছিল। জানা যায়, পাবনা জেলার অধিবাসী নবাব আব্দুল লতিফ খান সাতক্ষীরা মহাকুমার প্রথম মহাকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেছিলেন। তিনি সাতক্ষীরা মহাকুমার ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন এ জনপদে নীল চাষীদের প্রতি অত্যাচার, জুলুম এবং শোষণের প্রতিকারের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে বৃটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ নিমাই চন্দ্র মন্ডল বলেন, এ অঞ্চলে ইংরেজ বিরোধী গণ আন্দোলন শুরু হলে কলারোয়া উপজেলার পিছলাপোল গ্রামের মওদুদ বরকন্দাজ নামে এক কৃষক নেতা এ এলাকায় নীল চাষকে কেন্দ্র করে নীল কুঠিয়ালদের অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছিলেন। ১৮৫২ -১৮৫৩ সালে সাতক্ষীরা মহাকুমা স্থাপিত হলেও ১৮৬১ সালে সাতক্ষীরা মহাকুমা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল। এবং তৎকালীন সাতক্ষীরার জমিদারদের প্রচেষ্ঠায় মহাকুমার প্রধান কার্যালয় কলারোয়া থেকে মহাকুমা কার্যালয় সাতক্ষীরাতে স্থানান্তরিত করেছিলেন। এবং সাতক্ষীরাকে মহাকুমা করে তা যশোর জেলার এবং ১৮৬৩ সালে চব্বিশ পরগনার অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। অত:পর জেলা শহর আইন অনুসারে শহর কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আর এই আইনের বলে ১৮৬৭ সালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টাউন কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। জানা যায়, এখানে বহু আগে কয়েক ঘর জমিদার বসবাস শুরু করেছিলেন। আর এখানে গ্যাসের আলো, উন্নত রাস্তাঘাট ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা সহ নগর জীবনের সকল সুযোগ-সুবিধা থাকায় এই এলাকার নামকরণ টাউন কমিটির নামানুসারে টাউনশ্রীপুর করা হয়েছিল। আর পরবর্তীতে টাউন কমিটির নাম পরিবর্তিত হয়ে পৌরসভায় রুপান্তরিত হয়। এবং এটিই প্রথম প্রতিষ্ঠিত পৌরসভা। যার নামকরণ করা হয়েছিল টাউনশ্রীপুর পৌরসভা। আর এ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান হলেন ফনীভূষণ সরদার। অত:পর ১৮৬৯ সালে সাতক্ষীরা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর এ পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান হলেন প্রাণনাথ রায় চৌধুরী। এবং আরও পরে ১৮৮২ সালে খুলনা জেলার সাথে সাতক্ষীরা সম্পৃক্ত হয়েছিল। ১৮৮৫ সালে লোকাল সেলফ গভমেন্ট আইন অনুযায়ী ১৮৮৬ সালে তদানীন্তন খুলনা জেলায় প্রথম জেলা বোর্ড গঠিত হয়েছিল। অত:পর সাতক্ষীরা মহাকুমা পর্যায়ে লোকাল বোর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। আর প্রশাসনিক সুবিধার জন্য এলাকাকে মহাকুমা বা জেলা যাই বলা হোক না কেন, এর ইতিহাস অতি প্রাচীন? প্রাচীন এই জনপদে মহাকালের সাক্ষী হয়ে যে সকল মহাকুমা বা জেলা প্রশাসকগণ উন্নয়নের জন্য কাজ করে গিয়েছিলেন এবং বর্তমানে সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ভাবে অবদান রেখে অনন্য ভুমিকা পালন করেছেন, তা সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে জানানোর জন্য এই পত্রিকায় আজকের লেখা।