সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় মে দিবসে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‌্যালি  অধিকার বঞ্চিত বাংলাদেশের চা শ্রমিকরাসাতক্ষীরার উপকূলে এখনো বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিকরাসুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই বোতলজাত সায়াবিন তেল খেতে হবে– সাতক্ষীরায় এডভোকেসি সভায় বক্তারাদেবহাটায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে ৪৮ ক্যারেট ক্যামিক্যাল মিশ্রিত আম বিনষ্ট‘আমাদের দুর্ভাগ্য একজন দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ এখনও রাষ্ট্রপতি’বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিমকে তাড়াতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে  হয়রানির অভিযোগকালীগঞ্জের নলতায় সড়ক ও জনপদ থেকে উচ্ছেদের পরেও পুনরায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িকসাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনসারা দেশে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস: নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

শ্যামনগরে  সন্ত্রাসী হামলায় আদিবাসী নরেন্দ্র মুন্ডা হত্যায় আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের অন্তাখালী গ্রামে আদিবাসী মুন্ডাদের উপর সন্ত্রাসী হামলায় আহত ৩ জন নারী ও নরেন্দ্র নাথ মুন্ডা হত্যায় আসামীদের গ্রেফতার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্তরে মুন্ডা সম্প্রদায় স্বার্থ সংরক্ষণ ও আন্দোলন সংগ্রাম কমিটি আয়োজিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে সামসের সভাপতি গোপাল মুন্ডার সভাপতিত্বে ও সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কমিটির সদস্য শেখ ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী,

প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ ঘোষ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কমিটির সদস্য প্রভাষক ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ তীর্ণমূল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি ফেডারেশনের সভাপতি শিপন শীল, স্বদেশের নির্বাহী পরিচলাক মাধব দত্ত, হেডের পরিচালক লুই রানা গাইন, শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম আকবর কবির, এলএআরটির সহকারী পরিচালক রওশন জাহান মনি, লিডার্সের মোহন কুমার মন্ডল, সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নজরুল ইসলাম, আলী আশরাফ, সিডিওর পরিচালক গাজী আল ইমরান, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের পরিচালক আফজাল হোসেন, সুন্দরবন মুন্ডা সম্প্রদায়ের সভাপতি কৃষ্ণপদ মুন্ডা, নিলিমা মুন্ডা, হিন্দু পরিষদ শ্যামনগর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমার দাশ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, জমিদাররা মুন্ডাদের রাঁচি থেকে এনেছিলেন সুন্দরবন কেটে বসতি গড়ার জন্য। তারা বাঘ কুমিরের মুখে জীবন দিয়ে সুন্দরবনের বসতি গড়েছেন। তারাই আজ নিজের জায়গা হারাচ্ছে। ১৯৫০ সালের প্রজাসত্ত্ব আইনে মুন্ডা সম্প্রদায়ের জমি হস্তান্তর যোগ্য নয় বলে আইন পাশ হয়। কিন্তু সরকারী দলের নাম ভাঙিয়ে প্রভাবশালীরা মুন্ডাদের পদবী পরিবর্তন করে কৌশলে তাদের জমি হাতিয়ে নিচ্ছে। মানববন্ধন থেকে নরেন্দ্র মুন্ডার হত্যাকারীকে শাস্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুমকি দেওয়া হয় এবং ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিরা কোন ভাবেই দায় এড়াতে পারেন না।

বক্তারা আরো বলেন, সন্ত্রাসী হামলার নেতৃত্বে থাকা উপজেলা তরুণলীগের সভাপতি আব্দুল আলিম, যুবলীগ ফিরোজসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষ আসামীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে প্রকৃত অপরাধীদের আসামী করে মামলা নেওয়াসহ হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা কমিটি সাতক্ষীরা, উত্তরণ আমার প্রকল, ডিস্ট্রিক হিউম্যান রাইসটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক সাতক্ষীরা , লিডার্স, স্বদেশ, সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা সামস্, কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটি, বাংলাদেশ দলিত পরিষদ, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন সাতক্ষীরা, আদিবাসী বিষয়ক জাতীয় কোয়ালিশন সাতক্ষীরা,জাগো যুব ফাউন্ডেশন, জেলা নাগরিক কমিটি, সি,ওয়াই,ডি, প্রভাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন এতে অংশ নেয়।

আন্দোলনকে বেগবান করতে অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহীকে আহবায়ক ও গোপাল চন্দ্র মুন্ডাকে সদস্য সচিব করে মুন্ডা সম্প্রদায় স্বার্থ সংরক্ষণ ও আন্দোলন সংগ্রাম কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এড.মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গ্রেপ্তার এড়াতে হাইকোর্টে ইমরান, বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ

বিদেশের খবর: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচারক ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এ মামলা করা হয়। তাঁর বাড়ি ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান আজ সোমবার তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে গ্রেপ্তার-পূর্ব জামিনের আবেদন করেছেন। খবর জিও নিউজের।

খবরে বলা হয়, পিটিআইয়ের আইনজীবী ফয়সাল চৌধুরী ও বাবর আওয়ান ইমরান খানের পক্ষে আবেদনটি দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে এক সমাবেশ থেকে হুমকি দেওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট আলি জাভেদের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর মারাগালা থানায় গত শনিবার রাত ১০টায় এই এজাহার (এফআইআর) করা হয়।

এতে বলা হয়, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ওই সমাবেশ থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জেবা চৌধুরী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি–ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। এ ভয়ভীতি প্রদর্শনের মূল উদ্দেশ্য পুলিশ কর্মকর্তা ও বিচার বিভাগকে আইনি বাধ্যবাধকতা পালনে বাধা দেওয়া।

এজাহারে আরও বলা হয়, ইমরান খানের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মধ্যে অস্থিরতা ও ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া।

এদিকে, মামলার পর ইমরান খানের বানিগালা বাসভবনের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অননুমোদিত লোকজনের জন্য তাঁর বাসায় যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ লোকজন এবং ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

পিটিআই নেতা-কর্মীরাও ইমরান খানের বাসভবন চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে পিটিআই নেতা মুরাদ সাঈদ টুইটারে দলের চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারে আদেশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রড-সিমেন্টের দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ

অনলাইন ডেস্ক: দেশে কয়েক মাসের মধ্যে ডলারের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। হঠাৎ করেই ডিজেলের দামও বেড়েছে ৪২ শতাংশ। এই দুই দাম বৃদ্ধির সরাসরি ভুক্তভোগী হয়েছে দেশের নির্মাণ খাত। জ্বালানি এবং ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছেছে নির্মাণ শিল্পের অন্যতম উপকরণ রড। তার সঙ্গী হয়েছে সিমেন্ট। কারণ রড তৈরির কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও সিমেন্ট উৎপাদনের কাঁচামাল ক্লিংকারের পুরোটাই দেশে আসে আমদানি হয়ে। এর মূল্য পরিশোধ করতে হয় ডলারে। আর পরিবহন করতে হয় জাহাজ ও ট্রাকে।

রড-সিমেন্টের ডিলার, মিলমালিক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলে একমাসের বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি টন এমএস রড বিক্রি হচ্ছে ৯০ হাজার থেকে ৯২ হাজার ৩শ টাকায়। এর আগে কখনো রডের দাম এত বেশি হয়নি। একমাস আগেও এসব রড ছিল ৮৫-৮৬ হাজার টাকা। আবার ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৫৩০ টাকায়। এর আগে গত মার্চে সিমেন্টের দাম ৫২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে একমাস আগে এসব সিমেন্ট ছিল ৪০০-৪২০ টাকা।

মাসের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম বেড়েছে ১০০-১২০ টাকা। বর্তমানে ডলার এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে রড-সিমেন্টের দাম বাড়ছে। এ কারণে বিক্রি একেবারে কমে গেছে।

রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী আকিল আহমেদ বলেন, বাজারে রড-সিমেন্টের দাম হু হু করে বাড়ছে। একমাসের ব্যবধানে রডের দাম প্রতি টনে ৫-৮ হাজার টাকা বেড়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসআরএম ব্র্যান্ডের এমএস রড ৯২ হাজার ৩শ টাকা, কেএসআরএমের রড ৯০ হাজার ৫শ টাকা, একেএস ৯১ হাজার ৫শ এবং জিপিএইচ ৯১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এখন কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করে দিলে ব্যাংকগুলোর লোন রেগুলার করা যাবে না। এতে ব্যাংকের সঙ্গে কারখানা মালিকদের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। সে কারণে এখন লস দিয়ে হলেও মাল বিক্রি করে যাচ্ছি।

রুপালি ট্রেডিংয়ের ম্যানেজার জয়দেব সাহা বলেন, বাজারে বর্তমানে ৫শ টাকার নিচে কোনো সিমেন্ট নেই। মাসের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম বেড়েছে ১০০-১২০ টাকা। বর্তমানে ডলার এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে রড-সিমেন্টের দাম বাড়ছে। এ কারণে বিক্রি একেবারে কমে গেছে।

বাজারে বর্তমানে রড-সিমেন্টের দামে অস্থিরতা চলছে বলে জানালেন পটিয়ার ব্যবসায়ী লতিফুর রহমান বাবু। তিনি বলেন, একমাসে প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম ১২০-১৩০ টাকা বেড়েছে। ৪৩০ টাকার রুবি সিমেন্ট এখন ৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডায়মন্ড সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকা। একমাস আগে ছিল ৪২০ টাকা। তবে প্রিমিয়ার সিমেন্টের দাম কিছুটা কম আছে। প্রিমিয়ার সিমেন্ট ৪৯০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা হলে রয়েল সিমেন্টের মহাব্যবস্থাপক আবুল মনসুর রোববার বলেন, এখন ডলারের দাম ২২-২৫ শতাংশ বেড়েছে। আগে ৮৪-৮৫ টাকা হিসেবে ডলার পেমেন্ট দিতাম। এখন সেই ডলার ১১০-১১২ টাকা পর্যন্ত গিয়েছিল। তাছাড়া সিমেন্টের কাঁচামালের যে দাম বেড়েছে তার দাম কমেনি। আগে যে ক্লিংকার ৪০-৪২ ডলারে পাওয়া যেত, এখন সেই ক্লিংকারের দাম ৬৫ ডলারের উপরে। এখন জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে কারখানা থেকে সিমেন্ট সরবরাহে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের শুধুমাত্র পরিবহন খরচ বেড়েছে ১০-১৫ টাকা। সব মিলিয়ে বাজারে প্রভাব পড়েছে। এ কারণে একদিকে দাম বেড়েছে, অন্যদিকে চাহিদা কমে গেছে। কারণ রড-সিমেন্টের দাম বাড়ায় মানুষ নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে।

প্রিমিয়ার সিমেন্টের মহাব্যবস্থাপক গোলাম কিবরিয়া বলেন, সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ৩৫টি সিমেন্ট কারখানায় উৎপাদন চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টিতে ক্লিংকার আমদানি করে সিমেন্ট উৎপাদন করে থাকে। একব্যাগ সিমেন্ট তৈরিতে ৫০০ টাকা খরচ হলে ৪০০ টাকায় খরচ হয় কাঁচামালে। এখন ডলারের যে হারে দাম বেড়েছে তাতে শুধু সিমেন্ট নয়, আমদানিনির্ভর সব শিল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, আমরা সর্বশেষ একটি এলসির মূল্য পরিশোধ করেছি প্রতি ডলার ১১২ টাকা ৫০ পয়সা হারে। ওই এলসিতে দুই কোটি ৯০ লাখ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। এখন টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ। তার প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে। এখন শুধু ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি বস্তায় ৭০-৮৫ টাকা দাম বেড়েছে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তি থাকায় সারাবিশ্বে বাংকারিংয়ের দাম বেড়েছে। এতে জাহাজ ভাড়াও বেড়ে যায়। ক্লিংকারের আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন ক্লিংকার ৬২-৬৩ ডলারে কিনতে হচ্ছে।

দেশে ডিজেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাবও পড়েছে এ খাতে। ডিজেলের বাড়তি দামের কারণে ট্রাক ও লাইটার জাহাজের ভাড়া বেড়েছে বলে জানান প্রিমিয়ার সিমেন্টের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, সিমেন্টের দাম বাড়ার আরেক কারণ হচ্ছে দেশে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়া। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়াতে মাদার ভেসেল থেকে লাইটারিং করতে লাইটারেজের ভাড়াও বেড়ে গেছে। হিসাব করে দেখেছি, প্রতি টনে ১০০ টাকার উপরে লাইটারিং খরচ বেড়ে গেছে।

দেশের রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহীরাও বলছেন, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দাম বাড়ার কারণে দেশে রডের দামে রেকর্ড হয়েছে। এখন কেউ বাধ্য হয়ে উৎপাদন বন্ধ রাখছেন আবার কেউ লস দিয়েও ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছেন।

দেশের শীর্ষ রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ইস্পাত শিল্পের উদ্যোক্তারা বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে। ডেফার্ড পেমেন্ট এলসিতে (পরে পরিশোধ) স্ক্র্যাপ আমদানি করা হয়। ডেফার্ড এলসির কারণে আমরা আমদানির ৬ মাস পর এলসি মূল্য পরিশোধ করি। ৬ মাস আগে ডলারের মূল্য ছিল টাকা। সেই হিসেবে কস্টিং করে উৎপাদিত রড বিক্রি করে দিয়েছি। এখন ডলার হয়ে গেছে ১১২ টাকা। এতে প্রতি ডলারে আমাদের ১৮ থেকে ২২ টাকা পর্যন্ত লোকসান দিতে হচ্ছে। প্রতি টন স্ক্র্যাপে ৫০০ ডলার পরিশোধ করতে হলে টাকায় ১০ হাজার টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। যারা লোহার ব্যবসা করেন, তারা প্রায় সবাই ডেফার্ড পেমেন্ট এলসি করেন। এতে প্রায় সবারই বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওযার কারণে বিশ্ববাজারে জাহাজের ভাড়া বেড়ে গেছে। আবার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ একটি পর্যায়ে পৌঁছানোয় আমরা আশা করেছিলাম স্ক্র্যাপের দাম কমবে। কিন্তু কমার বদলে বেড়ে গেছে। এখন প্রতি টন স্ক্র্যাপ ৪২০ ডলারের জায়গায় ৪৭০-৪৮০ ডলারে কিনতে হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণে বিক্রি কমেছে জানিয়ে এ ব্যবসায়ী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যে হারে রডের দাম বাড়ছে, গ্রাহকরা তার ভার নিতে পারছেন না। যে কারণে অনেকে তাদের নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছেন। আবার অস্থিতিশীল বাজারের কারণে লৌহ শিল্পের ছোট ছোট কারখানাগুলোও চাপ সামলাতে পারছে না। বড় কয়েকজন বাদে অন্যরা এলসি করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার আশায় তারা এলসি করেনি। এখন তারা ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

এখন প্রতি টন রড তৈরিতে এক লাখ টাকার মতো খরচ হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখন কারখানায় উৎপাদন বন্ধ করে দিলে ব্যাংকগুলোর লোন রেগুলার করা যাবে না। এতে ব্যাংকের সঙ্গে কারখানা মালিকদের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। সে কারণে এখন লস দিয়ে হলেও মাল বিক্রি করে যাচ্ছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্বের বড় বড় নদী শুকিয়ে যাচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা চরম হতে পারে চলতি বছর তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বিশ্বের অনেক অঞ্চলের বাসিন্দারা। পৃথিবীর কোথাও চলতি বছর তীব্র খরা চলছে আবার কোথাও চলছে ব্যাপক বন্যা। এমনকি আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বড় নদীর পানি প্রবাহ কমতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে একদিকে সুপেয় পানির উৎস কমে যাচ্ছে, আরেক দিকে চাষাবাদের জন্য পর্যাপ্ত পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া বিশ্বের ছয়টি বড় নদীর ছবি বিশ্লেষণ করে রোববার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

কলোরাডো নদী : যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে খরা তীব্রতা কমার তেমন লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। খরার প্রভাবে কলোরাডো নদীর তীর শুকিয়ে যাচ্ছে এবং সরু হয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম দুটি জলাধারের মধ্যে একটি হচ্ছে এই নদী। যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি অঙ্গরাজ্য ও প্রতিবেশী মেক্সিকোর চার কোটি মানুষ এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদী অববাহিকাকে সুরক্ষিত করার জন্য সরকার বাধ্যতামূলক পানি সংগ্রহ কমিয়েছে এবং রাজ্যগুলোকে অতিরিক্ত কর্ম পরিকল্পনা জমা দিতে বলেছে।

ইয়াংজি নদী : এশিয়ার ইয়াংজি নদীর কিছু অঞ্চল শুকিয়ে যাচ্ছে এবং ওই সব এলাকায় নদীর তলদেশ এখন দেখা যাচ্ছে। এর উপনদীগুলি ইতোমধ্যে একেবারে শুকিয়ে গেছে। চীন নয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী খরা সতর্কতা ঘোষণা করেছে এবং এর তাপপ্রবাহ ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। ইয়াংজি নদী শুকানোর প্রভাব অনে বেশি। আট কোটি ৪০ লাখ মানুষের প্রদেশ সিচুয়ানের জলবিদ্যুৎ বিদ্যুতের ৮০ শতাংশ উৎপাদন হয় এই নদী থেকে। নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। চলতি মাসে কর্তৃপক্ষ সিচুয়ানের সব কারখানা ছয় দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

রাইন নদী : সুইস আল্পসে জন্ম নিয়ে রাইন নদী জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মধ্য দিয়ে উত্তর সাগরে গিয়ে পড়েছে। এটি ইউরোপীয় জাহাজ যাতায়াতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল। কিন্তু এই মুহূর্তে, এতে জাহাজ চলাচল মুশকিল হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় নদীর তলদেশের অংশগুলো উপরে উঠে এসেছে, যার অর্থ যে জাহাজগুলি এই নদী দিয়ে যাবে তাদেরকে বহু পথ ঘুরে যেতে হবে।

পো নদী : এই নদীটি ইতালির পার্বত্য অঞ্চল থেকে বের হয়ে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরে গিয়ে পড়েছে। এটি আল্পসের শীতকালীন তুষার এবং বসন্তে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতি বছর নদীর চারপাশে বিধ্বংসী বন্যা হয়। কিন্তু এখন, পো নদীর চেহারা বদলে গেছে। উত্তর ইতালিতে শীতকাল শুষ্ক ছিল, তাই তুষার থেকে সামান্য জল প্রবাহিত হয়েছে এবং বসন্ত ও গ্রীষ্ম শুষ্ক ছিল, এই অঞ্চলটিতে গত সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র খরা সইতে হচ্ছে। নদী এখন এতটাই শুকিয়ে গেছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের একটি বোমা সম্প্রতি এর শুকনো তলদেশ থেকে পাওয়া গেছে।

লোয়ার নদী : ফ্রান্সের দ্রাক্ষাক্ষেত্রের একটি উপত্যকা বেঁচে আছে এই নদীকে ঘিরে। ওই দ্রাক্ষা দিয়ে তৈরি হয় বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ওয়াইন। নদীটি প্রায় ৬০০ মাইল জুড়ে বিস্তৃত এবং ফ্রান্সের শেষ বুনো নদী হিসাবে বিবেচিত হয়। সমগ্র উপত্যকায় জীববৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্র এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদীর কিছু অংশ ইতোমধ্যে মোটামুটি অগভীর হয়ে গেছে। কিছু অংশ বৃষ্টির অভাবে এবং প্রচণ্ড গরমে এতটাই শুকিয়ে গেছে যে, মানুষ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে পারে।

দানিউব : এটি হল পশ্চিম ইউরোপের দীর্ঘতম নদী এবং জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল। নদীটি ১০ দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। রোমানিয়া, সার্বিয়া ও বুলগেরিয়াতে নদীটি ড্রেজিং করা হচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরাসহ ১৫ জেলায় পেট্রোল পাম্প মালিকদের ধর্মঘট

দেশের খবর: জ্বালানি তেলের কমিশন বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ ১৫ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রেখে প্রতীকী ধর্মঘট পালন করছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।

সোমবার (২২ আগস্ট) ধর্মঘট পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির নেতা মো. ফরহাদ হোসেন।

এদিকে, সোমবার ভোর ৬টা থেকে খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে।

প্রতিকী ধর্মঘটের আওতায় যেসব জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে সেগুলো হল- খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ।

পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির ধর্মঘট চললেও বেসরকারি পাম্পগুলো থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জ্বালানি পরিবেশক সমিতির খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের অফিস সেক্রেটারি সরোজ দাস পিন্টু।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে ১২ ঘণ্টার প্রতিকী ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। সোমবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- বর্তমান জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে আনুপাতিক হারে জ্বালানি তেল বিক্রয় কমিশন বৃদ্ধি, অয়েল ডিপো থেকে ৪০ কিলোমিটারের বাইরে ট্যাংকলরি ভাড়া বৃদ্ধি এবং পেট্রোল পাম্পের ওপর আরোপিত বিভিন্ন সংস্থার লাইসেন্স প্রথা বাতিল করা।

কর্মসূচি চলাকালে দাবি বাস্তবায়ন না করা হলে পরবর্তীতে সারাদেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে।

বাংলাদেশ জ্বালানি পরিবেশক সমিতির খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের অফিস সেক্রেটারি সরোজ দাস পিন্টু বলেন, ‘বেসরকারি পাম্পগুলো থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্র থেকে এ প্রতিকী ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। তবে তেল পরিবেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য অ্যাসোসিয়েশন এই ধর্মঘটের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের মূল্যের (পূর্ব মূল্য) ২ দশমিক ৭১ টাকা কমিশন দেওয়া হয়। অতীতে কমিশন বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে (বিপিসি) একাধিকবার আবেদন করেও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। জ্বালানি তেলের মূল্য বর্তমানে অনেক বৃদ্ধি পেলেও তাদের কমিশনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় কমিশন প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের বর্তমান মূল্যের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রদানের দাবি জানানো হচ্ছে।

এর আগে একই দাবিতে গত ৭ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য ধর্মঘট শুরু করেছিলো বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও জ্বালানি তেল পাম্প মালিক সমিতি। তবে ৯ ঘণ্টা ধর্মঘট পালনের পর প্রশাসনের আশ্বাসে স্থগিত করা হয়েছিলো সেই ধর্মঘট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় আওয়ামীলীগের আয়োজনে ২১ আগষ্ট উপলক্ষ্যে মিছিল

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে ২১ আগষ্ট উপলক্ষ্যে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার ২১ আগষ্ট, ২২ ইং বিকাল ৫টায় উপজেলার ঈদগাহ শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার বিচার দাবী করে অনুষ্ঠিত উক্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে সমাবেশে সভাপতিত্ব কররন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুজিবর রহমান।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রতন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আরশাদ আলী, সখিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সরদার আমজাদ হোসেন, সাধারন সম্পাদক আব্দুল হান্নান, নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাহেব আলী, কুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বিধান চন্দ্র, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্নুর, সাধারন সম্পাদক বিজয় ঘোষ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক লোকমান হেসেনসহ আওয়ামীলীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে রাজাকার জামির আলী কর্তৃক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা কালিগঞ্জের ধলবাড়িয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি অবৈভাবে দখল করতে চিহ্নিত রাজাকার জামির আলী ও তার পরিবার কর্তৃক একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও মারপিটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন, কালিগঞ্জ থানার খড়মী গ্রামের আক্তার গাইনের স্ত্রী হালিমা খাতুন।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, কালিগঞ্জ থানার জে এল নং ১৩৬, আশিকুড়া মৌজায় খতিয়ান নং ৩৯, দাগ নং ৩৮ মোট জমির পরিমান ১.৬৬ একর সম্পত্তি আমার শ^শুর মৃত. হামিজ উদ্দীন গাইন ১৩.০৩.১৯৬৩ সাল থেকে ভোগদখলে আসছিলেন। শ^শুরের মৃত্যুর পর থেকে আমার স্বামীসহ স্বামীর ১৪ জন ভাই ও বোনেরা শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছিলেন।

সম্প্রতি উক্ত সম্পত্তির ডিসিআরও গ্রহণ করেছি আমরা। কিন্তু অত্র এলাকার চিহ্নিত রাজাকার জামির আলী গাজীসহ তার গোষ্ঠীর অত্যাচারে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। একের পর এক আমার স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে। মামলার হাত থেকে নারীরাও রক্ষা পাচ্ছে না। এছাড়া ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে রাজাকার জামির আলীর পুত্র রহিম, আমির, রহমান ও জমাত এবং চাচাতো ভাই রুহুল আমিন,হামিদ গাজী, মুজিবরসহ তার পবিরারের সদস্যরা আমাদের বসতবাড়ী ভাংচুর করে কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল ছিনিয়ে নেয় এবং আমাদের মারপিট করে মারাত্মক আহত করে।

এর আগে ৯ আগস্ট ২২ তারিখে আমাদের অর্পিত সম্পত্তির উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মৎস্যঘেরের বাসা ভাংছুর করে, আগুন লাগিয়ে দেয়। মাছ লুটপাট করে এবং আমার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা। অথচ উক্ত ঘটনায় নিজেরা গরম পানি গায়ে ছিটিয়ে এসিড মারা হয়েছে মর্মে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

কিন্তু চিকিৎসক বলছেন এসিড মারা হয়নি। যেটা ছেটানো হয়েছে সেটি গরম পানি। আমাদের শায়েস্তা করতে গত ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে আমার কলেজ পড়–য়া কন্যাকে জড়িয়ে একটি পরিকল্পিতভাবে নাটক সাজিয়ে যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলাটি বিজ্ঞ আদালত যশোর পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

পিবিআই তদন্তে উক্ত মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমানিত হলে যশোর পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক শেখ মোনায়েম হোসেন মামলার বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পেনাল কোডের ২১১ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। তাছাড়া আমাদের পরিবারের ১১ জনের বিরুদ্ধে রাজাকার জামির আলির পুত্র রহিমের স্ত্রী আলেয়া কে বাদী করে আদালতে একটি মিথ্যা ধর্ষন মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলার এজাহারে ধর্ষনের সময় উল্লেখ করা হয়েছে বেলা ১২টা। বেলা ১২টায় প্রকাশ্যে ১২ পুরুষ কোন নারীকে ধর্ষন করে অথচ এলাকাবাসী কেউ বিষয়টি জানবে না এটা কিভাবে সম্ভব? এছাড়া জামির আলী তার অন্য পুত্র আমীর স্ত্রী মর্জিনাকে বাদী করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। যার নং- সি আর ৪/২১। শুধুমাত্র অবৈধভাবে আমাদের দখলীয় সম্পত্তি দখল করতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানিসহ নানানভাবে হয়রানি করে দিশেহারা হারা করে তুলেছে ওই রাজাকার জামির আলী। জামির আলী অত্র এলাকার চিহ্নিত রাজাকার। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার দাবিতে বীরমুক্তিযোদ্ধা শ্রী বিষ্ণুপদ মিস্ত্রি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই অত্যাচারী রাজাকার জামির আলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গ্রামবাসী গণস্বাক্ষরও করেন। তিনি জামির আলীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক আমাদের সম্পত্তি রক্ষাসহ মিথ্যা মামলার দায় হতে অব্যাহতি পেতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় বসত বাড়ী থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি : তালার বসত বাড়ী থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলা মাগুরা গ্রামের মৃত ইমান আলী সরদার ছেলে আলিম সরদার।

তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন আমার বসবাস রত, তালা উপজেলা ডি এস খতিয়ান নং ১৭৬৩ দাগ নং ১৩৭৩ বাস্ত ২.৮০ শতক সম্পত্তি ইং ১২. ০৬ ১৯২ তারিখে ১৫৭নং বায়নামা মূলে পাপ্ত হন।

বিভৃতি লাল রায় চৌধুরী গং উক্ত বিভূতি লাল রায় চৌধুরী গং এর নিকট হইতে ইং ৭ জুন ১৯৫৫ তারিখে ১১৭৬ নং কবলিত মূলে বন্দোবস্ত লয়েন শেখ সেকেন্দার আলী উক্ত সম্পত্তি নূরজাহান বেগম গংদের ১৪-১৬ বাংলা সনের ১লা বৈশাখ তারিখে বাচনিক দান করেন এবং দখল দারিত্ব বুঝিয়ে দেন।

পরবর্তীতে নুরজাহান বেগম গং বাদী হয়ে তালা সহকারী জজ আদালতে শেখ সেকেন্দার আলী কে বিবাদী করে দেং ১৪৮/১৩ মোকদ্দমা দাখিল করেন। ওক্ত মোকদ্দমা ইং ০৫/০৩২০১৪ তারিখে দেওয়ানি আদালতে দাখিল করি এবং ১২ মার্চ ২০১৪ তারিখে উক্ত আদালতের ডিগ্রী মূলে সোলেনামা রায় পাপ্ত হই। এঘটনার পর থেকেই উক্ত সম্পত্তিতে নূর জাহান বেগম ভোগ দখল করে আসছেন।

তিনি আরো বলেন গত ইং ১৮ আগস্ট ২০২২ তারিখে সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ১ নং বিবাদী আব্দুস সামাদ মোড়ল আমার সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল নেয়ার জন্য তার নেতৃত্বে মাগুরা এলাকার সেলিম খাঁ পিতা মৃত নওয়াব আলী খাঁ আবু সাইদ সরদার পিতা মাফুজ সরদার, জাহাঙ্গীর শেখ, মৃত জবেদ শেখ, মেহেদী খাঁ পিতা রহমত আলী খাঁ সহ আরও ১০/১২ জন সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার সহ আমার পরিবারের লোকজনকে বেধড়ক যামারপিট করে আহত করে এবং সেই সাথে বাড়ী ঘর ভাঙচুর করে মূল্যবান স্বর্ণের গহনা ও টাকা-পয়সা লুটপাট করে নিয়ে যায়। সামাদ বাহিনী ভূয়া কাগজ পএ করে আমাকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে। তিনি ভূমিদস্যু সামাদ বাহিনীর শাস্তির দাবীতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

২১.৮.২০২২

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest