সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় মানষিক ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যুসাতক্ষীরায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মুদি ও চায়ের দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগডিবিসি নিউজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ: ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহানভিডিও কন্টেন তৈরীর আড়ালে চাঁদাবাজী -ব্লাকমেইল-আলোচিত মামুন গ্রেফতারশ্যামনগরে অনলাইন জুয়া চক্রের মূল হোতা আটক: ‌দুটি মোবাইল জব্দসাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ২০২৭ সালের ইংরেজি নববর্ষ প্রকাশনার উদ্বোধন১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে এবার দাম বাড়ল ২২৩ টাকাসাতক্ষীরায় নির্মানাধীন ভবনের কাজ নিয়ে দুপক্ষের বিরোধের মীমাংসাবীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা: সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে বাস-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে ইজিবাইক চালক নিহত

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য সব সহায়তা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশের খবর: জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার জন্য সব ধরনের অর্থ সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি ‘সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ’ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
আজ শনিবার বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা জাতিসংঘ ত্রাণ ও কার্যক্রম সংস্থাকে (ইউএনআরডব্লিউএ) ‘অসংশোধনীয় ত্রুটিপূর্ণ’ উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সংস্থাটির জন্য সব ধরনের অর্থ সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন মুখপাত্র হিদার নাওরেট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বিষয়টি ‘সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ’ করছে এবং তারা ইউএনআরডব্লিউএতে আর কোনো অবদান রাখবে না।
এ ঘটনাকে তাঁর দেশের জনগণের ওপর ‘আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, এ ধরনের শাস্তির মাধ্যমে তারা এই বাস্তবতা পাল্টাতে পারবে না যে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো ভূমিকা নেই এবং এটা কোনো সমাধানেরও অংশ নয়। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের রেজুলেশনের প্রতি অবজ্ঞাও দেখানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট বিবিসির খবরে বলা হয়েছিল, গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনি জনগণ ও পশ্চিম তীরের জন্য ২০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি সহায়তা কাটছাঁট করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারও আগে জানুয়ারিতে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএতে দেওয়া সহায়তা যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণে কমিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে মার্কিন প্রশাসন ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফিলিস্তিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করার আর অধিকার রাখে না বলেও মন্তব্য করে ফিলিস্তিন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সিদ্ধান্ত এবং ইউএনআরডব্লিউএকে ‘অসংশোধনীয় ত্রুটিপূর্ণ’ উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে সংস্থার মুখপাত্র ক্রিস গুনেজ একের পর এক টুইট বার্তায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইউএনআরডব্লিউএর স্কুল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও জরুরি সহায়তা কর্মসূচিকে “অসংশোধনীয় ত্রুটিপূর্ণ” বলে সমালোচনা করাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছি আমরা।’ তিনি আরও বলেন, মানব উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সংস্থার এই কার্যক্রমগুলো সফলতার প্রমাণ রেখেছে। এর ফল পাওয়া গেছে মধ্যপ্রাচ্যে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, দাতা দেশগুলো ইউএনআরডব্লিউএর অর্জন ও মান নিয়ে বরাবরই প্রশংসা করে আসছে।
১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর লাখ লাখ স্থানচ্যুত ফিলিস্তিনির সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএনআরডব্লিউএ। সংস্থাটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৫০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কাজে সহায়তা দিয়ে থাকে। সংস্থাটিতে যুক্তরাষ্ট্র একক বড় দাতা দেশ হিসেবে রয়েছে। ২০১৬ সালে দেশটি ৩৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছে। এ অঞ্চলে ইউএনআরডব্লিউএর ৩০ শতাংশ কাজ হয় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই অর্থে। এ বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন সংস্থাটিতে ছয় কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে আরও ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সহায়তা পর্যবেক্ষণের নামে ঝুলিয়ে রাখে। এই সহায়তা বাতিল করা হবে বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস সংস্থায় জার্মানির সহায়তা আরও বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। জানুয়ারি মাসে সংস্থাটি এই ঘাটতি পূরণে বিশ্বব্যাপী আবেদন জানিয়েছে। ইসরায়েলেও কেউ কেউ মনে করেন, অর্থ সহায়তা কমিয়ে ইউএনআরডব্লিউএকে দুর্বল করে ফেললে এ অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে এ অঞ্চলে উগ্রপন্থাও আরও বাড়তে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ে ৭ মার্চ ভবন উ‌দ্বোধন

দেশের খবর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাত্রীদের জন্য নবনির্মিত আবাসিক ভবন ‘৭ মার্চ ভবন’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভবনটি উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাবি ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। এ সময় সবাইকে বিকল্প পথ ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চীনে গণহারে উইঘুর মুসলিম আটক; উদ্বেগ জাতিসংঘ

বিদেশের খবর: ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসের আশঙ্কায়’ চীনে গণহারে উইঘুর মুসলিমদের আটকে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের পশ্চিমাংশে সংশোধন ক্যাম্পগুলোতে ১০ লাখের মতো উইঘুর মুসলিমকে আটকে রাখা হয়েছে এমন তথ্য পাওয়ার পর জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি এ উদ্বেগ প্রকাশ করল।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা জাতিসংঘের কাছে দাখিল করা প্রতিবেদনে চীনে গণহারে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের আটকের দাবি করে। বন্দি ক্যাম্পগুলোতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি অন্যায়ভাবে আনুগত্য প্রদর্শনের ব্যাপারে বল প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করে তারা।
এদিকে বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও ধর্মীয় কিছু উগ্রবাদীকে সংশোধন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেছে। জিনজিয়াং প্রদেশে অস্থিতিশীলতার জন্য চীন ইসলামী বিদ্রোহীদের দায়ী করে আসছে। সরকারের বিভিন্ন অভিযানের ফলে জিনজিয়াং প্রদেশে নিরবচ্ছিন্ন সহিংসতার পরিস্থিতি বিরাজমান।
এ মাসের শুরুতে জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণ কমিটি জানায়, উইঘুর মুসলিমদের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে বেইজিং বেশ কিছু কারাগারে গণহারে উইঘুরদের আটকে রাখছে, এ ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আছে। কিন্তু বেইজিং ১০ লাখ উইঘুরকে আটকে রাখার কথা অস্বীকার করে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের আইনে সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের অস্পষ্ট সংজ্ঞার সমালোচনা করে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের কমিটি বেইজিংয়ের প্রতি বিশেষ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পুলিশের ফার্নিচারে ২৯ হাজার ইয়াবা

দেশের খবর: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে ঢাকায় ফার্নিচার পাঠানোর আড়ালে ইয়াবা পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ওই ফার্নিচারবোঝাই একটি মিনিট্রাক থামিয়ে ২৯ হাজার ২৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব। এ সময় ট্রাকটি জব্দ এবং এর চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ট্রাকচালক মো. মোক্তার (২৪) ও তাঁর হেলপার মো. সবুজ ওরফে বাবু (১৯)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিএমপির উপপরিদর্শক মো. বদরুদ্দৌজা মাহমুদকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
র‌্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান বলেন, ফার্নিচারবোঝাই একটি মিনিট্রাকে করে ইয়াবা পাচারের সময় মিরসরাই উপজেলার রেদোয়ান পেট্রল পাম্পসংলগ্ন এলাকা থেকে মো. মোক্তার ও মো. সবুজ নামে দুজনকে আটক করে র‌্যাব। তাঁদের কাছ থেকে ফার্নিচারের (স্টিলের ফাইল কেবিনেট) ভেতর তালাবদ্ধ করে লুকানো ২৯ হাজার ২৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাকচালক ও সহকারী ইয়াবাগুলো নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজার হাইলেভেল রোড থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান মিমতানুর রহমান।
ইয়াবাগুলো সিএমপির এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বলে জানা গেছে। এই উপপরিদর্শকের নাম মো. বদরুদ্দৌজা মাহমুদ। তিনি সিএমপির পুলিশ লাইনে সংযুক্ত আছেন। এক মাস আগে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা থেকে তাঁকে শাস্তিমূলক বদলি করে সিএমপিতে পাঠানো হয় বলে সিএমপি কর্মকর্তারা জানান।
ইয়াবা উদ্ধারের পর তাঁদের দুজনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী উপপরিদর্শক বদরুদ্দৌজাকে আটক করে খুলশী থানা পুলিশের হেফাজতে তুলে দেন সিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাকিলা সুলতানা। উপপরিদর্শক বদরুদ্দৌজা বর্তমানে খুলশী থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাকিলা সুলতানা বলেন, উপপরিদর্শক বদরুদ্দৌজার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা রয়েছে। সেই মামলা এখন তদন্তাধীন রয়েছে। আটক ট্রাকচালক মো. মোক্তার ও হেলপার মো. সবুজকে আসামি করে র‌্যাবের পক্ষ থেকে মিরসরাই থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। সেই মামলায় উপপরিদর্শক বদরুদ্দৌজাকে সরাসরি আসামি করা না হলেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কার‌ণে অকার‌ণে এম‌পি‌দের ব্যয়বহুল বি‌দেশ ভ্রমণ

অনলাইন ডেস্ক: দেশে একটি রেলওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করেছিল রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সেই সুপারিশ চূড়ান্ত করতে এখন রেলওয়ে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এমন দেশ সফরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ওই কমিটির সদস্যরা। কমিটির পক্ষ থেকে ওই সফরের জন্য চীন ও যুক্তরাজ্যের নাম উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। গত ২২ জুলাই জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক।
বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে সংসদ সদস্যদের এ ধরনের বিদেশ সফর বাস্তবে কতটা কাজে আসে তা নিয়ে নানা মহলের প্রশ্ন থাকলেও বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে নানা সময়ে এমন সুপারিশ করা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়ে সফল হয়েছে। আবার কখনো কখনো অর্থাভাবে আটকে গেছে বিদেশ সফর। তা নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তীব্র ক্ষোভও প্রকাশ করা হয় বলে জানা গেছে।
সংসদীয় কমিটির সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ওই দুটি দেশ সফর করার সুপারিশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কিন্তু মন্ত্রণালয় সে সফর আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি এক বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে উপস্থিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রয়োজনীয় ব্যয় বরাদ্দ ও কতিপয় সীমাবদ্ধতার কারণে সফর আয়োজন সম্ভব হয়নি এবং ভবিষ্যতে হবে কি না তা বলতে পারছি না।’ এতেই চটে যান সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। কমিটির সদস্য সামশুল হক চৌধুরী বৈঠকে বলেন, ‘অন্যান্য স্থায়ী কমিটি যথারীতি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করছে। তাহলে আমরা পারব না কেন?’ তিনি যথাশিগগির সম্ভব অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পূর্বনির্ধারিত সফর আয়োজনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কমিটির সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন সফর অনুষ্ঠানে বিলম্ব হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে নিয়মিত ও অব্যাহতভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে বিদেশ ভ্রমণ কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে। অথচ স্থায়ী কমিটির পূর্বনির্ধারিত এ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সফর অনুষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়া দুঃখজনক।’ কমিটির আরেক সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন যেভাবেই হোক ওই সফর আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানান।
সভার কার্যবিবরণী থেকে আরো জানা যায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ আর কমিটির সদস্যদের বিদেশে না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। তাঁরা বলেন, অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে কিছুদিন আগেও তিন সচিব অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেছেন। রাজধানীর পূর্বাচলে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার জন্য স্টেডিয়াম নির্মাণের অভিজ্ঞতা অর্জনে ভেন্যু দেখতে গেলেও তাঁদের সঙ্গে দুই খেলার সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা হয়নি। ওই সফরে সরকারের অর্থ ব্যয় করে শুধু ভ্রমণবিলাসই হয়েছে। অথচ কমিটির পক্ষ থেকে বিদেশ সফরের কথা বলা হলেই আইন দেখানো হয়। অর্থসংকট দেখানো হয়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মতে, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) আইন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নিতে গত অর্থবছরে সরকারি খরচে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও যুক্তরাজ্য সফর করে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সংসদ লাইব্রেরির আধুনিকায়ন ও ডিজিটাইজেশনের বিষয়ে ভারত সফর করে জাতীয় সংসদ লাইব্রেরি কমিটি। আরেক বিষয়ে সমৃদ্ধ হতে ভিয়েতনাম ও চীন সফর করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম দেখতে কঙ্গো ও আইভরি কোস্ট সফর করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। এভাবে প্রতি মাসেই কোনো না কোনো কমিটির সদস্যরা বিদেশ সফর করেন অভিজ্ঞতা অর্জন ও মতবিনিময়সহ নানা ইস্যুতে। সংসদীয় কমিটি ও সংসদ সদস্যদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা নেই। যে কারণে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশ সফরের আগ্রহ বেশির ভাগ সংসদ সদস্যের।
সূত্র মতে, সংসদীয় কমিটিকে কাজে লাগিয়ে বিদেশ ভ্রমণের হিড়িক পড়ে নবম সংসদে। আর এতে আপত্তি জানান তৎকালীন স্পিকার (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) মো. আবদুল হামিদ এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। স্পিকার সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফরের অনুমতি প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করেন। আর অর্থমন্ত্রী অনীহা প্রকাশ করেন ওই খাতে অর্থ ছাড় করতে। কিন্তু সংসদ সদস্যরা মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে বা বেসরকারি খাতের অর্থায়নে বিদেশ সফর অব্যাহত রাখলেও জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝেমধ্যে সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফরের অর্থ ছাড়ের অনুমোদন মিললেও অনেক সময় নথি আটকে যায়। আবার বিদেশ সফর করে ফিরলেও বছরের পর বছর বিল আটকে থাকে। এই জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করার তাগিদ দেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ ক্ষেত্রে সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদীয় কমিটির বিদেশ সফরের অর্থায়ন করতে হলে আলাদা বরাদ্দেরও প্রস্তাব দেন তিনি। কিন্তু চলতি অর্থবছরের বাজেটে সেটা করা হয়নি। সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এবার বাজেটে জাতীয় সংসদের জন্য ৩৩২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও সেখানে এসংক্রান্ত কোনো খাত নেই।

এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ), কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) এবং অন্যান্য সংসদীয় সংস্থার সম্মেলন, সেমিনার ও বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য কোনো সংসদীয় দল বা প্রতিনিধি কোনো দেশে গেলে সেই ব্যয় সংসদ সচিবালয় বহন করে। আর সংসদীয় কমিটির বিদেশ সফরের ব্যয় মন্ত্রণালয় থেকে বহন করা হয়। সরকার চাইলে এটা সংসদ সচিবালয় থেকে করা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। আর এ জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। আগামী দিনে সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।
সংসদীয় কমিটির বিদেশ সফরের ব্যয় নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে। ওই চিঠিতে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিদেশ সফরের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে আর্থিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের উদাহরণ তুলে ধরে চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সেসব দেশে সরকারি খরচে সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফর নিরুৎসাহ করা হয়। বিষয়টি সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওই চিঠিটি পাওয়ার পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পরামর্শ করেন। এরপর স্পিকারের নির্দেশে সংসদ সচিবালয় ওই চিঠির জবাব দেয়। সেখানে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের বিদেশ সফরের জন্য আলাদাভাবে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়, যার ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো বিদেশ সফরের পরিকল্পনা তৈরি করবে। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। কিন্তু এরপর দুটি জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হলেও এসংক্রান্ত কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ শীর্ষক এক গবেষণায় সংসদীয় কমিটির অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের কাজের তদারকি ও নজরদারি করাই সংসদীয় কমিটির প্রধান কাজ। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের পাশাপাশি ভুল-ত্রুটিও শুধরে দিয়ে থাকে কমিটি। অনিয়ম-দুর্নীতি হলে তদন্ত করে সুপারিশ প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। সেই কমিটি মন্ত্রণালয়ের টাকায় অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর করলে কমিটির ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়ে। মন্ত্রণালয় থেকে সুবিধা নেওয়ার পর কমিটির সদস্যদের নৈতিক জোর কমে যায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে।
মন্ত্রণালয়ের অর্থে বিদেশ ভ্রমণকে স্বার্থের সংঘাত বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দেশে-বিদেশে দায়িত্ব পালন করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সংসদ থেকে অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিষয়টি বাজেট পাসের সময় বিবেচনা করা যেতে পারে। আর সংসদীয় কমিটির বিদেশ সফরের কর্মসূচি ওই কমিটির সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে হবে।
জানা গেছে, সব শেষ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের ওয়াক্ফ কার্যক্রম পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয় ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ জন্য ওয়াক্ফ তহবিল থেকে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়। কিন্তু ওই তহবিলের অর্থ ব্যয়ের নির্ধারিত খাতের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণ না থাকায় টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওয়াক্ফ প্রশাসক। ফলে ধর্ম মন্ত্রণালয় সফর আয়োজনে ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে গত ২৮ মে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সংসদীয় কমিটির সভার কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ ১৮ জনের সফরের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এক কোটি ৯২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৫২ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। ওই প্রতিনিধিদল বিদেশ সফর করলেও কত ব্যয় হয়েছিল সেই তথ্য কমিটিতে নেই।
প্রবীণ সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রগ্রামে জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে থাকেন। এর বাইরেও সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন ইস্যুতে অভিজ্ঞতা অর্জন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার জন্য বিদেশে যান। তবে কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী বলেন, ‘আমিও সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। সেই সময়ে সংসদীয় দলের সদস্য হিসেবে বিদেশ গেলেও কোনো অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর করিনি।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রবাসী আ. লীগ নেতা খুন

প্রবাসী আ. লীগ নেতা খুন

কর্তৃক daily satkhira

দেশের খবর: সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে এক প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জিন্দাবাজারের তাঁতিপাড়া গলির মুখে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত এস এম আব্দুল আহাদ আওয়ামী লীগের কুয়েত শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট বিভাগীয় লেখক ফোরাম কুয়েত শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার করিমপুর মেদিনী মহলের নুর মিয়ার ছেলে।
আজ শনিবার সকালে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মোটরইসাইকেলে করে একদল দুর্বৃত্ত এসে আব্দুল আহাদকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।’
গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভায় যোগ দিতে সিলেটে এসেছিলেন আহাদ। শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এ ঘটনা ঘটে।
ওসি মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, কারা এবং কেন এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। খবর পেয়ে হাসপাতালে যান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অ্যামাজনে নতুন নৃ-গোষ্ঠীর সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক: অ্যামাজনের গহীন জঙ্গলে খোঁজ মিলেছে নতুন এক নৃ-গোষ্ঠীর। যাদের সাথে বহির্বিশ্বের কোনো যোগাযোগই ছিল না। এই বিচ্ছিন্ন জাতিটির সন্ধান দিয়েছে একটি ড্রোন। ড্রোনে ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নতুন এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ড্রোনে ধরা পড়া ওই জায়গাটি জাভারি নদীর উপত্যকা। এটি পেরু ও ব্রাজিল সীমান্তের খুব কাছাকাছি একটি জায়গা। ব্রাজিল সরকারের ইন্ডিজিনাস সংস্থা ‘ফুনাই’ ড্রোনের ভিডিওগুলো ধারণ করেছে।
ড্রোনের ভিডিওতে দেখা যায়, গাছ দিয়ে আচ্ছাদিত একটি জায়গা। সেখানে কয়েকজন মানুষ হাঁটাহাঁটি করছেন। হাঁটাহাঁটি করা মানুষদের মধ্যে একজন ঘুরছেন বর্শা নিয়ে। সেখানে পাম গাছ ও খেজুর গাছ দিয়ে তৈরি বাড়ি, পাথর দিয়ে তৈরি ধারালো অস্ত্র যার হাতল কাঠের, এছাড়াও কুঁড়েঘরের দৃশ্য দেখা গেছে। এ ছবিগুলোও প্রকাশ করেছে ‘ফুনাই’।
ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ করা চিত্র ‘ফুনাই’ বলছে, এ অঞ্চলের আটটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়াও কমপক্ষে ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে যাদের সঙ্গে বহির্বিশ্বের কোনো যোগাযোগ নেই। তারা বিচ্ছিন্ন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আমদানিতেই গেলো পাঁচ লাখ কোটি টাকা!

দেশের খবর: রেকর্ড পরিমাণ আমদানি হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৮৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় চার লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রসঙ্গত, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে সংশোধিত বাজেটের আকার নামিয়ে করা হয় তিন লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্বাভাবিকভাবে আমদানি ব্যয় বাড়ায় বাংলাদেশকে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছে ছয় হাজার ৯৪২ কোটি ২১ লাখ ডলারের (বা পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকার)।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, অস্বাভাবিকভাবে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া ও রফতানি আয় কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশকে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে হবে।
তিনি বলেন, ‘এখনই এই চাপ সহ্য করতে হচ্ছে। আগামীতে এই চাপ আরও বাড়বে। এর ফলে ক্রমে বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।’
আহসান এইচ মনসুরের মতে, আমদানি ব্যয় মেটাতে যে পরিমাণ টাকা লাগবে, সেই টাকা থাকলে সমস্যা হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো— কতদিন এভাবে চলবে? সেটাই দেখার বিষয়।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময়ই আমরা শুনি, এক পণ্য আমদানির নামে অন্য পণ্য আমদানি হচ্ছে। অনেক সময় শূন্য কন্টেইনারও আসে। আবার ওভার ইনভয়েসের (আমদানি করা পণ্যের বেশি মূল্য দেখিয়ে) মাধ্যমে অর্থ পাচার করছেন অনেকে।’
এদিকে আমদানি ব্যয় বাড়ায় গেলো অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর পরিমাণ ৯৭৮ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চলতি হিসাবে মাত্র ১৩৩ কোটি ডলারের মতো ঘাটতি ছিল। অন্যদিকে, গত অর্থবছরে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যেখানে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৯৪৭ কোটি ডলার, সেখানে গত অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে একহাজার ৮২৫ কোটি ডলারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (লেটার অব ক্রেডিট বা এলসি) খোলার ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। গত অর্থবছরে এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১১ শতাংশের মতো। এ হিসাবে এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় চার গুণ। এই সময়ে খাদ্যপণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি তেলের এলসি খোলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাদ্যপণ্যের এলসি খোলার হার, প্রায় ১৪৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৮৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। সেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল চার হাজার ৩৪৯ কোটি ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছে ছয় হাজার ৯৪২ কোটি ২১ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে যা ছিল চার হাজার ৮১২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে, এ সময়ে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে পাঁচ হাজার ১৫৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল চার হাজার ৪২৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে খাদ্যপণ্যের মধ্যে চাল ও গমের আমদানি ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৩৬০ কোটি ৯১ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরে ছিল মাত্র ১৪৭ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। সে হিসাবে খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে ১৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ।
গেল অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৬৪৭ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৫৩০ কোটি ৮১ লাখ ডলার।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ঋণপত্র খোলা হয়েছে একহাজার ৯৮২ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরে ছিল একহাজার ৭৭২ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘যদি মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়ে, তাহলে সেটা অর্থনীতির জন্য অনেক ভালো খবর।’ তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা হয়তো এখন বিনিয়োগে মনোযোগ দিচ্ছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পসহ বড় বড় প্রকল্প বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা এনে দিয়েছে, যা শিল্পায়নে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest