সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’সাতক্ষীরায় রাইচ মিলের কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে অতীষ্ট এলাকাবাসী: ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সড়ক অবরোধপ্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদসাতক্ষীরায় মাদক এবং মাদক বিক্রির অবৈধ টাকাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারতালায় বাস মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিতআশাশুনিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলার তদন্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারদেবহাটায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের মতবিনিময়৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়াসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা

অবৈধ সম্পদ: নোটিস দেওয়া হবে ডিআইজি মিজানকে

দেশের খবর: আলোচিত পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে এসব সম্পদের উৎস জানতে নোটিস দিতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচারয্য বলেন, “ডিআইজি মিজান ও তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নার নামে শিগগিরই এ নোটিস পাঠানো হবে।”

এ বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান রেখে আরেক নারীকে জোর করে বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই এক নারী সংবাদ পাঠককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে তাকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

ডিআইজি মিজান পুলিশের উচ্চপদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে নানা উপায়ে শত কোটি টাকার মালিক হন বলে দুদকে অভিযোগ আসে।

এই অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের জন্য গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে দায়িত্ব দেয় দুদক।

এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ৩ মে মিজানকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার সাভারে পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটিতে তার নিজের নামে পাঁচ কাঠা জমি রয়েছে।

এছাড়া পূর্বাচল নতুন শহর এলাকায় ৫ কাঠা, পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতির অধীনে অ্যাডভান্স পুলিশ টাউনে সাড়ে ৭ কাঠার প্লট ছাড়াও বরিশালের মেহেদিগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ৩২ শতাংশ জমিতে ২৪০০ বর্গফুটের দোতলা ভবন করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে এসেছে।

অন্যদিকে ডিআইজি মিজান স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নার নামে উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল মডেল টাউনে ১৭৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ৬৩ লাখ ৯০ টাকায় কিনেছেন বলে দুদকে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া মিজানের ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান স্বপনের নামে রাজধানীর নিউ বেইলি রোডে ২৪০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। মেহেদিগঞ্জে ওষুধ ব্যবসা করে মাহবুবুর ৫৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৪০ টাকা দিয়ে এ ফ্ল্যাট কিনলেও এতে তার বড় ভাই মিজানের বিনিয়োগ থাকতে পারে বলে দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়।

মিজানের ভাগিনা রাজধানীর কোতোয়ালী থানার এসআই মাহামুদুল হাসানের নামে নগরীর পাইওনিয়ার রোডে ১৯১৯ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

২০১৬ সালে অগাস্টে তিনি এসআই পদে যোগ দেওয়ার আগে ৬৬ লাখ ১৮ হাজার ৮০ টাকা দিয়ে এ ফ্ল্যাট কেনা হয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে মিজানুর রহমানের বিনিয়োগের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

এসব অবৈধ সম্পদ অর্জন করার কারণে ডিআইজি মিজান ও তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নার নামে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গুহা থেকে আরো ৪ কিশোরকে উদ্ধারের পর অভিযান স্থগিত

বিদেশের খবর: সময় এবং প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে চলা দ্বিতীয় দিনের অভিযানে থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে থাকা আরো ৪ ফুটবলারকে বের করে এনেছে উদ্ধারকারীরা। এর পরপরই দ্বিতীয় দিনের অভিযান স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

এ নিয়ে দুই দিনের অভিযানে মোট ৮ জন কিশোর ফুটবলারকে ‍উদ্ধার করা হলো। রোববার চার জনকে উদ্ধারের পর সোমবার উদ্ধার করা হয় আরো ৪ জনকে।

তবে এখনো গুহার ভেতরে আটকা পড়ে আছে আরো ৪ জন ক্ষুদে ফুটবলার এবং তাদের তরুণ কোচ।

উদ্ধার অভিযানের খবর সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধিদের বরাতে বিবিসি জানায়, উদ্ধারের পর কয়েকজনকে গুহার মুখ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

উদ্ধার অভিযানের প্রধান নারংসাক ওসোতানাকর্ন বলেন, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১১টার দিকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। তবে রোববারের তুলনায় সোমবার আরো বেশি কর্মকর্তা অভিযানে অংশ নেন।

গত ২৩ জুন থেকে এ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই শহরের ন্যাশনাল পার্ক লাগোয়া জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ি এলাকার থাম লুয়াং নাং নন গুহায় আটকা পড়ে ছিলো ১২ কিশোর ফুটবলার আর তাদের ২৫ বছর বয়সী কোচের দলটি।

টানা ৯ দিনের চেষ্টায় তাদের কাছে পৌঁছানোর পর আরও ৬ দিন পর দলটিকে বের করে আনাতে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করে উদ্ধার কর্তৃপক্ষ।

প্রথম দিনের অভিযানে চারজনকে উদ্ধার করে আনে উদ্ধারকারীরা। এতদিনে উদ্ধার না করতে পারার মূল কারণ ছিলো টানা বৃষ্টিতে গুহার ভেতর সৃষ্ট তীব্র স্রোতের বন্যা আর গুহার গিরিপথের প্রতিকূল গঠন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
পদত্যাগ করলেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও

বিদেশের খবর: যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করেছেন। এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশটির তিনজন মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো।

ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার ব্রেক্সিট পরিকল্পনাকে সমর্থন করার বদলে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন তারা।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের ব্রেক্সিট পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার দুই দিনের মাথায় এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো।

সোমবার বিকেলে ওয়েস্টমিনস্টারে নিজের এমপিদের সামনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে থেরেসা মে’র। সাংসদদের মধ্যেও ব্রেক্সিট নিয়ে ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে।

শুক্রবার ‘সফট’ ব্রেক্সিট নীতি নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত মন্ত্রিসভার সাথে দিনব্যাপি বৈঠকের পরও সমঝোতা আনতে ব্যর্থ হন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।

ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র বলেন, আজ দুপুরে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বরিস জনসনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শিগগিরই নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হবে। জনসনের কাজের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবারের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর ব্রেক্সিট পরিকল্পনাকে অপ্রিয় বিষয়কে উন্নতির বৃথা চেষ্টা বলে অভিহিত করেন বরিস জনসন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কতিপয় দুর্বৃত্তের কর্মকাণ্ডের কারণে চিকিৎসাসেবার সুনাম নষ্ট হচ্ছে-হাইকোর্ট

দেশের খবর: ‘ভুল হবে বলে আমাদের একটা উচ্চ আদালত রয়েছে। ভুলটা অন্যায় নয়। কিন্তু ভুলটা জাস্টিফাই করার জন্য যদি হরতাল (ধর্মঘট) ডাকা হয়, তবে তা অন্যায়।’, একটি রুলের শুনানি চলাকালে চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের ডাকা ধর্মঘটের প্রসঙ্গ তুলে সোমবার (৯ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেন। আদালত বলেন, ‘কতিপয় দুর্বৃত্তের কর্মকাণ্ডের কারণে চিকিৎসাসেবার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। ভুল চিকিৎসার ভয়ে রোগীরা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গায় চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে আসা ২০ রোগীর চোখ হারানো বিষয়ে দায়ের করা রিটের শুনানির দিন ছিল সোমবার।

আদালতে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত। তার সঙ্গে ছিলেন সভাষ চন্দ্র দাস। অন্যদিকে, ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমিনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

এর আগে চুয়াডাঙ্গা শহরের ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে আয়োজিত চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে চোখ হারানো ২০ জনের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু সেই রুলের কোনও জবাব আদালতে দাখিল না করায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনকে ব্যাখ্যা দিতে তলব করেন আদালত। সোমবার (৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. মো. খাইরুল আলম আদালতে হাজির হন।

শুনানির শুরুতে আদালতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. মো. খাইরুল আলম রুলের বিষয়ে তাদের লিখিত জবাব দাখিলের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন। তখন আদালত বলেন, ‘লিখিত জবাব দাখিলের জন্য সময় পাবেন। যেহেতু (স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন) দু’জনই আছেন, তাই আপনাদের বক্তব্য ব্যক্তিগতভাবে শুনবো।’

এরপর আদালত সিভিল সার্জনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘চক্ষু শিবির করার আগে আপনার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা?’ জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, ‘না, নেয়নি।’

এরপর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য শুনতে চান আদালত। শুরুতে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবর আবুল কালাম আজাদকে দেখিয়ে আদালত বলেন, ‘চট্টগ্রামে যা (চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক মালিকরা চিকিৎসাসেবা বন্ধের ঘোষণা) হয়েছে, সেটি দুঃখজনক। আজকের (৯ জুলাই) মামলার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত নয়। যেহেতু আপনি (স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক) আছেন— তাই বলছি, মানুষ বিপদে পড়লে তিন পেশার লোকের কাছে যায়—পুলিশ, আইনজীবী এবং ডাক্তার। তিনটি পেশা যদি কিছু কিছু দুর্বৃত্তের কারণে ধ্বংস হয়, তবে মানুষ বিপদে পড়বে। মেয়েটাকে (চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রাফিদা খান রাইফার মৃত্যু) তো ফিরিয়ে আনা যাবে না। ডাক্তাররা দেবতা নন। আমাদের (মানুষের) ভুল হবে বলে আমাদের একটা উচ্চ আদালত রয়েছে। ভুলটা অন্যায় নয়। কিন্তু ভুলটা জাস্টিফাই (যথাযথ) করার জন্য যদি হরতাল (ধর্মঘট) ডাকা হয়, তবে তা অন্যায়।’

আদালত আরও বলেন, ‘কতিপয় দুর্বৃত্তের কর্মকাণ্ডের কারণে চিকিৎসা সেবার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। দেশে অনেক স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং ভালো মানের চিকিৎসা সেবার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কতিপয় ভুল চিকিৎসার ভয়ে রোগীরা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাচ্ছে। এতে দেশীয় মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। তাই আদালত এ ধরনের পরিস্থিতি কমিয়ে আনার জন্য আপনাকে (স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ) বলা হলো।’

এরপর প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ আদালতকে বলেন, ‘আমরা মহামান্য আদালতের সঙ্গে একমত। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসা নিতে আসা চোখ হারানো ২০ জনের বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ আদালতকে বলেন, ‘এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি করেছি। তারা ইতোমধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আমরা পর্যালোচনা করছি। ইমপ্যাক্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে ওষুধের নমুনা ‘আইসিডিডিআরবি’তে পাঠায়। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ওই ওষুধে ব্যাকটেরিয়ার নমুনা পাওয়া গেছে। কিন্তু আমাদের প্রতিবেদনে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আমরা দুটো রিপোর্টই পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করছি।’

পরে আদালত আগামী ১৬ জুলাই এ মামলায় জারি করা রুলের পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। এরপর প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘লিখিত জবাবে যেন ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হয়।যাতে করে,ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়।’ এই বলে আদালত স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চুয়াডাঙ্গার ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমুনিটি হেলথ সেন্টারে তিন দিনের চক্ষু শিবিরের দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ ২৪ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীন। এদের মধ্যে চার জন রোগী নিজেদের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার ইমপ্যাক্টের পক্ষ থেকে ১২ মার্চ একসঙ্গে ১৬ জন রোগীকে ঢাকায় নেওয়া হয়। ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। ৫ মার্চের ওই অপারেশনের ফলে এদের চোখের এত ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে যে, ১৯ জনের একটি করে চোখ তুলে ফেলতে হয়েছে। আর বাকি একজন অন্য জায়গায় চিকিৎসা নিতে থাকেন।

পরে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি সংযুক্ত করে আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ১ এপ্রিল রিট দায়ের করেন।

রিটের শুনানি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের ইমপ্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে চোখ হারানো ২০ জনের প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১১ রোগের মহৌষধ চিরতা

স্বাস্থ্য কণিকা: সুপ্রাচীনকাল থেকে চিরতা ভারতবর্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভারতবর্ষ চিরতার আদিনিবাস। বিশেষ করে হিমালয়ের পাদভূমিতে তার উৎপত্তি। সেখান থেকে ভারতের বিভিন্ন অংশে, নেপাল ও ভুটানে তা ছড়িয়ে পড়ে। ভারতবর্ষ থেকে ১৮৩৯ সালে চিরতা ইউরোপে প্রবেশ করে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ ও চরক সংহিতায় এর উল্লেখ আছে। চিরতার আয়ুর্বেদিক নাম কিরাততিক্তা।

চিরকালের তিতা গাছ বলে হয়তো বাংলায় এর নাম দেয়া হয়েছে চিরতা। কালোমেঘ গাছও তিতা। সে গাছের বাংলা নাম কালোমেঘ, ইংরেজী নামের অর্থ সবুজ চিরতা। তবে চিরতা ও সবুজ চিরতা আলাদা দুটি গাছ। এর বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজী নাম মোটামুটি একই।

এ গাছের হিন্দি নাম চিরেইতা, ইংরেজী নাম চিরেত্তা Chitretta), পাঞ্জাবী নাম চিরেইতা, তামিল নাম নিলাভেম্বু, আরবী নাম কাসাবুজাজারেয়ী। এ গাছের সব অংশই রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা যায়। আয়ুর্বেদিক বৈশিষ্ট্যে চিরতার রসা বা স্বাদ তিতা, গুণ বা ধর্ম লঘু ও শুষ্ক, বীর্য ঠাণ্ডা, বিপাক কটু।

রোগ নিরাময়ে চিরতার সমস্ত গাছই ব্যবহার করা হয়। তবে এর শিকড় সবচেয়ে বেশি কার্যকর। চিরতা চর্ম রোগ ও জ্বর সারাতে এক ওস্তাদ গাছ। এছাড়াও হেপাটাইটিস, ডায়াবেটিস, ম্যালেরিয়া জ্বর, অ্যাজমা প্রভৃতি কঠিন অসুখের চিকিৎসাতেও চিরতা ব্যবহার করা হয়। নিচে চিরতার উল্লেখযোগ্য কিছু ভেষজ গুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-

১. জ্বর সারায়
আকষ্মিক ঋতু পরিবর্তনে অনেকের জ্বর হয়, সেই সাথে সর্দি-কাশি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় হাত-পা চিবোয় বা কামড়ায়। এ অবস্থা হলে ৫-১০ গ্রাম চিরতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ থাকতে নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে। পরে তা ছেঁকে সকালে অর্ধেক ও বিকালে অর্ধেক খেতে হবে। কয়েকদিন খেলে জ্বরের এ ভাবটা চলে যাবে।

২. অ্যালার্জি সারায়
যাদের এলার্জি হয়ে শরীর চুলকায়, চুলকানোর জায়গাটা ফুলে লাল হয়ে যায়, ত্বক থাকা থাকা হয়ে ওঠে। তারা চিরতার শরণাপন্ন হয়ে ভালো থাকতে পারেন। অ্যালার্জি সারাতে চিরতার তিতা রস সাহায্য করতে পারে। আগের দিন রাতে শুকনো চিরতা ৪-৫ গ্রাম পরিমাণ এক গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন ওটা ছেঁকে দিনের মধ্যে ২-৩ বারে খেতে হবে। সেই সাথে খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। যেসব খাবার খেলে অ্যালার্জি হয় সেসব খাবার খাওয়া যাবে না। বিশেষ করে পুঁইশাক, বেগুন, চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ, হাঁসের ডিম ইত্যাদি খাওয়া উচিত হবে না।

৩. বমি কমায়
পিত্তজ্বরে অনেক সময় প্রচ- বমি হয়, বমিটা তিতা ও অল্প সবুজ রঙের বা সবুজাভ হলদে। বমি হলে পেটে কিছু থাকে না। সেই সাথে শরীওে দাহ সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা সাধারণত শরৎকালে বেশি দেখা যায়। অখাদ্য খেলেও এরূপ হয়। এক্ষেত্রে ২ কাপ গরম পানিতে ৫ গ্রাম চিরতা একটু থেঁতো করে ভিজিয়ে রাখতে হবে। ভিজারোর ২-৩ ঘন্টা পর ছেঁকে পানিটা অল্প অল্প করে খেতে হবে। এতে বমি থেমে যাবে।

৪. প্রবল হাঁপানির উপশম হয়
একজিমার সাথে যাদের হাঁপানি আছে অথবা অর্শের রক্ত পড়াব বন্ধ হওয়ায় হাঁপানি বেড়ে গেছে, অল্প ঠাণ্ডা লাগলে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি হয়ে হাঁপানির টানটা বেড়ে গেছে তারা আধা গ্রাম চিরতার গুঁড়ো ৩ ঘণ্টা অন্তর মধুসহ চেটে খাবেন। এতে ২-৩ দিনের মধ্যে প্রবল হাঁপানি কমে যাবে।

৫. কৃমি সারায়
কৃমি হলে পেটের উপরের অংশটা মোচড়ায়, ব্যথা করে। পেটে কৃমি হলে আধা গ্রাম চিরতার গুঁড়ো সকালে মধুসহ বা চিনি মিশিয়ে চেটে খাবেন। এরপর পানি খেতে পারেন। এতে কৃমির উপদ্রব চলে যাবে।

৬. চুলকানি সারায়
গায়ে চুলকানি হলে ২০ গ্রাম চিরতাতে অল্প পানি ছিটিয়ে বেঁটে বা ছেঁচে নিতে হবে। তারপর তা লোহার কড়াই বা তাওয়াতে ১০০ গ্রাম সরষের তেল দিয়ে জ্বাল দিয়ে হবে। সরষের তেল গরম হয়ে ফেনামুক্ত হলে তাতে চিরতা ছাড়তে হবে। ভালো করে ভাজা হলে নামিয়ে ছাঁকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে চিরতা যেন পুড়ে না যায়। এই তেল চুলকানোর জায়গায় ঘষে অল্প অল্প করে মালিশ করলে দ্রুত চুলকানি সেরে যাবে।

৭. পচা ঘা সারে
ঘা হয়েছে অথচ কিছুতেই সারছে না। এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে এক কাপ গরম পানিতে ৫ গ্রাম চিরতা ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেই জল ছেঁকে পচা ঘা ধুয়ে দিলে ২-৪ দিনের মধ্যে ঘায়ের পচানি চলে যাবে ও দ্রুত শুকাবে।

৮. চুল ওঠা বন্ধ করে
কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, অথচ রোজ মাথা থেকে প্রচুর চুল উঠছে। চুল উঠতে উঠতে ঘন কেশ পাতলা হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে এক কাপ গরম পানিতে ৫ গ্রাম চিরতা ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেই পানি ছেঁকে তা দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেললে চুল ওঠা কমবে। একদিন পর পর একদিন এভাবে চিরতার পানি দিয়ে মাথা ধুতে হবে। ৩-৪ বার এভাবে ধুতে পারলে চুল ওঠা অনেক কমে যাবে।

৯. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে
চিরতা নিয়মিতভাবে খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে বা কমে। চিরতা দেহে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে। এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে শুকনো চিরতা ৪-৫ গ্রাম পরিমাণ এক গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন ওটা ছেঁকে সকালে খালি পেটে খেতে হবে।

১০. রক্তশূণ্যতা কমায়
চিরতা দেহে রক্তকোষ গঠন করে। তাই চিরতা সেবনে রক্তশূন্যতা কমে যায়। এমনকি ঋতুস্রাব বা মাসিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তাও কমাতে পারে। কোথাও কেটে গেলে সে কাটা স্থানে চিরতার রস লাগিয়ে দিলে দ্রুত রক্ত পড়া বন্ধ হয়। অভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণ, নাক দিয়ে রক্তপড়া এসবও চিরতা বন্ধ করতে পারে।

১১. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
চিরতার মধ্যে শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা বার্ধক্যকে বিলম্বিত করে দিতে পারে। এমনকি নিয়মিত চিরতা সেবনে ক্যানসার ও হৃদরোগে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সব রেকর্ড চুরমার করল ‘সঞ্জু’

বিনোদন সংবাদ: রাজকুমার হিরানির ছবি মানেই দর্শকদের বাড়তি প্রত্যাশা। কিন্তু ‘সঞ্জু’ নিয়ে উৎসাহটা ছিল একটু বেশিই। তবে সঞ্জয় দত্তের বায়োপিক যে মুক্তির পরেই এমন কামাল করবে তা হয়তো স্বয়ং রাজকুমারও ভাবতে পারেননি। শুক্রবার সবে মুক্তি পেয়েছে ছবি। প্রথম তিন দিনে ১২০ কোটি টাকা রোজগার করেছে ছবি।

এর মধ্যে কেবল রবিবারেই ৪৬ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে ‘সঞ্জু’। যা ভারতের ছবির ইতিহাসে সর্বকালীন রেকর্ড! ‘বাহুবলী ২’-এর ৪৬.৫০ কোটি টাকার রেকর্ড ভেঙে ৪৬.৭১ কোটি টাকা রোজগার করেছে সঞ্জয় দত্তের বায়োপিক।

‘সঞ্জু’ এ বছরের একশো কোটি ক্লাবের সপ্তম ক্লাব। এখনও পর্যন্ত তার সাফল্যের যা গতি, তা থেকে পরিষ্কার বাগি ২, পদ্মাবৎ বা রেস ৩-কে টপকে বছরের সেরা ছবি হয়ে উঠতে চলেছে রণবীর কাপুরের ‘সঞ্জু’।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় নিপ্পন কে হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সদর উপজেলা তাঁতীলীগের সভাপতিকে হুমকি প্রদর্শন করা হয়েছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী এনামুজ্জামান নিপ্পন সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাগুরা গ্রামের নুরুজ্জামানের পুত্র ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা তাঁতীলীগের সভাপতি।
ডায়েরি সূত্রে জানাগেছে, নিপ্পন কিছু দিন যাবত ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এলাকার মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, সোনা চোরাকারবারী, মাদক সেবনকারী ও জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে আসছেন। এঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৬ জুলাই’১৮ তারিখ সন্ধ্যায় মাগুরা এলাকার মৃত কিনু মোড়লের ছেলে সাইদ মোড়ল, খালেক মোড়লের ছেলে ইমরান, আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল হান্নান ও সাইদ মোড়লের ছেলে রায়হানসহ কয়েকজন নিপ্পনকে হত্যাসহ খুন জখমের হুমকি প্রদর্শন করে। এঘটনায় নিপ্পন জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ওই মাদক ব্যবসায়ীদের কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি উল্লেখিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দক্ষিণশ্রীপুরে ভাইয়ের সম্পত্তি ভোগদখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কালিগঞ্জে ভাইয়ের সম্পত্তি অবৈধভাবে ভোগদখলের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাইদের বিরুদ্ধে। কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন ফল পাননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আবু বক্কার কারিকরের ছেলে মোতালেব হোসেন।
ভুক্তভোগী মোতালেব জানান, ঢাকায় ব্র্যাকের ডিভিশন ইনচার্জ পদে কর্মরত বড় ভাই আব্দুল মান্নানের নির্দেশে মেঝ ভাই আবু হাশেম ও ছোট ভাই ইসরাফিল হোসেন আমার পৈত্রিক সম্পত্তি অবৈধভাবে জোরপূর্বক ভোগ দখল করে আসছেন। এমনকি তার নামীয় জমিও লিখে নিয়ে তাকে ভিটে ছাড়া করতে উঠে পড়ে লেগে আছে। আমার নামে যে জমি আছে সেটা আলাদা করে দেয় না। আমি সামান্য জমি ঘের করে সেই ঘের থেকে তারা ইচ্ছামত মাছ মেরে নেয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে মেঝ ভাই কারণে অকারণে ঝগড়া বাধিয়ে মারপিট করে এবং আমার শিশু পুত্রকে হত্যা সহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে আসছে। এঘটনায় আমি স্থানীয় মেম্বর, চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিলেও কোন সমাধান করতে পারেননি।
তিনি আরো জানান, কোন দপ্তরে অভিযোগ করার পর তাদের নোটিশ করা হলেও তারা হাজির না হয়ে আস্ফালন করে আমাকে ভিটে ছাড়া করারও হুমকি দেয়।
এতে তিনি স্ত্রী পুত্র নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে জীবন-যাপন করছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বড় ভাই আব্দুল মান্নানের নির্দেশে মেঝ হাশেম ভাই ও ছোট ভাইয়ের ইসরাফিল হোসেন এলাকার অসহায় মানুষের উচ্ছেদ করে অন্যত্র তাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে বড় ভাই ও মেঝ ভাই ও ছোট ভাই এলাকার চিহ্নিত ভূমি দস্যু হিসাবে পরিচিত। এরা এলাকার কয়েকজন অসহায় মানুষের জমি অবৈধভাবে দখল করে অনেকের ভিটে ছাড়া করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে হাজেরার ছেলে ছপেদ আলী, হামিদ আলী, নুরুলের ছেলে হবি, ছবুর, ছুরমান আলীর ছেলে সোহরাব, সামছুর, শহিদুলদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে করে তাদের গ্রাম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু হাশেম বিত্তবান ও প্রভাবশালী হওয়ার তার বিরুদ্ধে ওই ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে সাহস পাননি।
এবিষয়ে দক্ষিণশ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার জানান, এ ঘটনায় মোতালেবের অভিযোগের ভিত্তিতে মিমাংসার জন্য তার দুই ভাই মান্নান ও হাশেমকে নোটিশ করা হয়েছিলো। তারা হাজির না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
এঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই আব্দুল মান্নানের ব্যবহৃত ০১৭১২ ৫২৩০৩৮ নাম্বারে ফোন দিলেও সেটি বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া মেঝ ভাই আবু হাশেমের ব্যবহৃত ০১৭২৫ ৬২২৭৬৪ নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest