ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ভাই ভাই; আর কোনো ঝামেলা নাই

খেলার খবর: যদি বলা হয়, বিশ্বকাপ তো শেষ হয়ে গেল! তেড়ে এসে পাঠককুল বলবেন, কী সব ভুলভাল লেখেন? এখনও তো পাঁচটা ম্যাচ বাকি! সুতরাং বলা ভালো, বাংলাদেশের জন্য শেষ হয়ে গেল রাশিয়া বিশ্বকাপ। কারণ, যে দুটি দল নিয়ে বাংলাদেশে ফুটবল উন্মাদনা হয়, সেই আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে। ল্যাটিন ছন্দ ছাড়া বিশ্বকাপ এখন হয়ে গেছে ‘ইউরো কাপ’। এটি অবশ্য বলেছেন গ্যারি লিনেকার। গতকাল রাতেই নিশ্চিত হয়ে গেছে, বিশ্বকাপ শিরোপা এবারও যাচ্ছে ইউরোপে।

তাহলে বাংলাদেশি সমর্থকদের কী হবে? বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে থেকে গত প্রায় দেড়মাস ধরে যেসব উন্মাদনা চলে আসছিল, গতরাতেই তার পরিসমাপ্তি ঘটেছে। জার্মানির বিশাল পতাকা বানিয়েছিলেন এক কৃষক। সেই জার্মানিও বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে। পর্তুগাল, স্পেন, উরুগুয়ে সবাই ফিরে গেছে নিজ নিজ দেশে। বাকী ছিল শুধু ব্রাজিল। বেলজিয়ামের কাছে হেরে গতরাতে মাটি করে দিয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আনন্দ!

এই দুই দলের মাঝে যেকোনো এক দলের খেলা থাকা মানেই দুই দলের সমর্থকদের ঈদ। যেমন ব্রাজিল হারলে আর্জেন্টাইনদের আনন্দ, আবার আর্জেন্টিনা হারলে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য ঈদের দিন। তর্ক-বিতর্ক, কথার বাণে একে অপরকে ঘায়েল করা, বিশাল বিশাল সব পতাকা বানিয়ে উড়িয়ে দেওয়া, র্যালি করার মতো ঘটনা তো প্রতিদিনই ঘটেছে। সেইসঙ্গে ঘটেছে মারামারি, সশস্ত্র হামলার মতো অপরাধমূলক ঘটনাও। সবকিছুই এই দুই দলকে ঘিরেই।

শেষ ষোলো থেকে আর্জেন্টিনার বিদায়ের পর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। ওপার বাংলাতেও তাই। দুই দশক আগে আবাহনী-মোহামেডান নিয়ে এমন উন্মাদনায় মাতত বাঙালি জাতি। রাস্তায় মিছিল হতো, মারামারি হতো, গাড়ি ভাঙচুর এমনকী ভালো পারফর্ম করায় প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের ধরে মাইর দেওয়া হতো! দেশের ফুটবলের সেই সোনালী সময় এখন অতীত। বাঙালির মাঝে ফুটবল বাঁচিয়ে রেখেছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা।

রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে ল্যাটিন আমেরিকার দুই পাওয়ার হাউসের বিদায়ের পর এখন তো নিশ্চয়ই সমর্থকদের মধ্যে আর কোনো সংঘর্ষ হবে না। কথার লড়াইও থেমে যাবে। সবাই ভাই ভাই হয়ে কোনো চাপ না নিয়ে বিশ্বকাপের বাকী ম্যাচগুলো উপভোগ করবে। ফুটবলের এই উন্মাদনা বাঁচিয়ে রাখলে একদিন হয়তো আবারও জেগে উঠবে আমাদের দেশের ফুটবল। তবে, কোনো অবস্থাতেই সমর্থকদের মধ্যে মারামারি কাম্য নয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আবারো কলারোয়ার ওসি ও থানা জেলার শ্রেষ্ঠ মনোনীত

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব দেব নাথ আবারো জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার মনোনীত হয়েছেন। এ নিয়ে তিনি ৪র্থ বারের মতো জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে সম্মাননা পেলেন।
শনিবার ৭জুলাই সকালে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত মাসিক অপরাধ সভায় সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন ওসি বিপ্লব দেবনাথকে। একই সাথে জেলার শ্রেষ্ঠা থানা হিসেবে কলারোয়া থানাকে মনোনীত করা হয়েছে।
জানা গেছে- ওই অনুষ্ঠানে জুন’ ১৮ মাসে সাতক্ষীরা জেলার পশ্চিম জোনের শ্রেষ্ঠ থানা হিসেবে কলারোয়া থানাকে মনোনীত হওয়ায় ওসি, সকল অফিসার ও ফোর্সদের অভিনন্দন জানিয়েছেন এসপি সাজ্জাদুর রহমান।
এদিকে, চতুর্থ বারের মত জুন/২০১৮ মাসে শ্রেষ্ঠ ওসি ও শ্রেষ্ঠ থানা হিসাবে কলারোয়া থানা কে মনোনীত করায় পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ওসি বিপ্লব দেব নাথ জানিয়েছেন- ‘এ কৃতিত্ব কলারোয়া থানার সকল অফিসার ও ফোর্সের।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘মাদককে না বলুন, ফুটবলকে হ্যা বলুন’ শীর্ষক স্লোগানে কলারোয়ার সোনাবাড়িয়ায় বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কাজিরহাট প্রগতি সংঘ। ফাইনাল ম্যাচে ট্রাইব্রেকারে ৪-২ গোলে স্বাগতিক সোনাবাড়িয়াকে পরাজিত করে তারা।

৭ জুলাই শনিবার বিকেলে স্থানীয় সোনাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল মাঠে আয়োজিত ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ট্রফি বিতরণ করেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান।

সোনাবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী প্রভাতি সংঘ ওই টুর্নামেন্টটির আয়োজন করে।

প্রভাতি সংঘের সভাপতি নয়ন রঞ্জন মজুমদারের সভাপতিত্বে পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেরিনা আক্তার ও কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব দেব নাথ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু দাউদ, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান খাঁন চৌধুরী, সোনাবাড়িয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আক্তার আসাদুজ্জামান চান্দু, সোনাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক, সোনাবাড়িয়া প্রভাতি সংঘের উপদেষ্টাবৃন্দ- সহযোগি অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, সিদ্ধেশ্বর চক্রবর্তী, ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম, ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য রেহেনা পারভীন, জিয়াউল হক, মেঘনাথ, আফসার হোসেন, সহ.সভাপতি সাহেব আলী, সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান, ক্রীড়া সম্পাদক আনোয়ার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক রুহুল কুদ্দুস।

৯জন করে খেলোয়ারের অংশ গ্রহনে আক্রমন- পাল্টা আক্রমনে মুখোরিত ছিলো পুরো খেলা। নির্ধারিত সময়ে গোলশুন্য ড্র থাকায় খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে কাজিরহাট ৪-২ গোলে সোনাবাড়িয়াকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। মাঠের চারপাশে বিপুল সংখ্যক দর্শক সমাগম ছিলো লক্ষ্যণীয়।
খেলা পরিচালনা করেন মাস্টার মাসউদ পারভেজ মিলন। রেফারিং-এ তাকে সহায়তায় ছিলেন আবু সাইদ ও মোশাররফ হোসেন।
কলারোয়া নিউজ’র বার্তা সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক মাস্টার শেখ শাহাজাহান আলী শাহীন খেলার ধারাভাষ্য প্রদান করেন।

এর আগে এসপি সাজ্জাদুর রহমান সেখানে পৌছুলে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন। অনুষ্ঠানে এসপি সহ অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

টুর্নামেন্টে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ, ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট ও সেরা গোলদাতাকে বিশেষ পুরষ্কার প্রদান করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হিউম্যান এইড সোনাবাড়িয়া’।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ইংল্যান্ডে সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরায় নজরুল ইসলামকে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম ১০ দিন রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফেরায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার বিকাল ৫টায় ঝাউডাঙ্গা বঙ্গবন্ধু পাঠাগার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে নেতৃবৃন্দ এ শুভেচ্ছা প্রদান শেষে এবং এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় মিলিত হয়। ১১নং ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাস্টার তারক নাথ পালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল ফেরদৌস পলাশ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা যুব লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ময়নুল ইসলাম। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ জাহিদ হোসেন। বিদেশ সফর শেষে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, বিদেশের প্রতিটি কর্মকান্ড নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যদিয়ে চলে। আমরা সবাই সচেতন হলে বাংলাদেশও হবে একটি সুখি সমৃদ্ধ সোনার বাংলা। বর্তমান সরকার বাংলাদেশের প্রতিটি কর্মকান্ড অত্যন্ত দুরদর্শীতার সাথে পরিচালনা করে আসছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসই পারে দেশকে আরো উন্নতির শিখরে পৌছে দিতে। তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার এমন কোন সেক্টর নেই সেখানে সরকারের উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। এ উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে নৌকাকে আবারও বিজয়ী করে এদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরায় যে চারটি আসন আছে সেখানে নেত্রী যাকে নৌকার প্রতিক দিবে আমাদেরকে সকল ভেদাভেদ ভুলে নৌকার পক্ষে ক্জা করতে হবে। আলোচনা সভা শেষে সাতক্ষীরার বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, সদর থেকে আগত নেতাকর্মীরা মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা করে ঝাউডাঙ্গা থেকে প্রধান অতিথিকে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজের মৃত্যু, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

কে.এম রেজাউল করিম, দেবহাটা ব্যুরো ॥ দেবহাটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে………রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি দেবহাটা উপজেলার কামটা গ্রামের মৃত অজেদ আলীর ছেলে। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ মৃত্যুকালে স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সহ অসংখ্যা আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আব্দুল আজিজ শনিবার ভোররাত ৩ টার দিকে ইন্তেকাল করেন। শনিবার বাদ যোহর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে তার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। এসময় দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ¦ আব্দুল গনি, দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ, মুক্তিযোদ্ধা সাবুর আলী সহ বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিভাজন দূরের প্রত্যয়ে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশের’ আত্মপ্রকাশ

দেশের খবর: ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার জাগরণের মাধ্যমে বিভাজন দূর করার প্রত্যয় নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন সংগঠন ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’।

শনিবার জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

বেশ কিছু দিনের কাজের ধারাবাহিকতায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিসহ সমাজের নানা পেশার শীর্ষস্থানীয়দের এক মঞ্চে আনে নতুন এই সংগঠন।

‘গাহি সাম্যের গান’ স্লোগান নিয়ে আসা এই নাগরিক ফোরামের উদ্দেশ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে এর আহ্বায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের যেই প্রধান চেতনা ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’, সেটার দিকে আমরা ফিরে যেতে চাই। তাহলে আমরা ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ, শোষণহীন বাংলাদেশ ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।”
তিনি বলেন, “আমাদের আঘাত আসতে পারে, আমরা আগে থেকে প্রস্তুত থাকতে চাই। আমরা জানি, এই দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ও সাম্যের পক্ষে। আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আপনাদের সঙ্গে পেলে আমরা জয়ী হব।”

প্রথমত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ করা হবে বলে জানান পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, “মানুষের মধ্যে যে ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা সেটার মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক আমরা তৈরি করতে চাই। আজকে আত্মপ্রকাশ হল। এরপর ডিসেম্বর পর্যন্ত সুধী সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা হাতে নেব।”

এছাড়া সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনো আঘাত এলে সেটা প্রতিহত করতে নতুন এই সংগঠন প্রস্তুত থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জাতীয় অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমেরিটাস অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী, সাংবাদিক আবেদ খান, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মো. আফজাল, বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা শুদ্ধানন্দ মহাথেরো, রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী গুরু সেবানন্দ, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, ইসকনের প্রতিনিধি সুখীল দাস, সংগঠনের সদস্য সচিব মামুন আল মাহতাব বক্তব্য দেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে হাজার হাজার বছর ধরে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ সম্প্রীতি নিয়ে বসবাস করছে। দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গেছে। বিভেদ এবং সংঘাত যে হয়নি তা নয়। সব মিলিয়ে যে সম্প্রীতির অবনতি হয়েছে, তা সত্ত্বেও আমরা এর উপরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হয়েছি।”

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ধর্মনিরপেক্ষতাকে ১৯৭১ সালে রাষ্ট্রীয় আদর্শ এবং বাহাত্তরের সংবিধানে মূলনীতি হিসাবে গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

আনিসুজ্জামান বলেন, “১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সামনে আনা হয়েছে। তার ফলে আমরা দেখি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শ ও বাহাত্তরের সংবিধানের যে আদর্শ সেটা সাময়িকভাবে হলেও ভুলুণ্ঠিত হয়েছে। তারপরে মানুষ আবার এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে ফিরিয়ে এনেছে।
“আমরা সেজন্য সবার কাছে আহ্বান জানাই, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেটা আমরা ইতিহাস থেকে পেয়েছি, যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ থেকে পেয়েছি, যা আমাদের সংবিধান থেকে পেয়েছি, তা যেন ঊর্ধ্বে তুলে ধরে সামনের দিকে অগ্রসর হই।”তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যেক ধর্মের মানুষের একই অধিকার এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষ তার ধর্মবিশ্বাস সত্ত্বেও অথবা ধর্মবিশ্বাসের অভাব সত্ত্বেও পরস্পরের হাতে হাত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন। এবং বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ-সভ্য জাতি হিসাবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করবেন।”জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে সূচনা হওয়া অনুষ্ঠানে অতিথিদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ধর্মীয় সংগঠনের কর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ ছিল জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘কমছে অক্সিজেন বাড়ছে বৃষ্টি, তলিয়ে যেতে পারে আটকা স্থান’

বিদেশের খবর: গুহার ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকহারে কমে আসায় এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের গুহায় আটকা কিশোর ফুটবলারদের উদ্ধারে হাতে সময় রয়েছে মাত্র তিন থেকে চারদিন। উদ্ধার অভিযানের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ সময়ের মধ্যে কিশোরদের বাইরে নিয়ে আসার পথে যতদ্রুত সম্ভব এগোতে হবে বলে জানিয়েছেন উদ্ধার মিশনের প্রধান।

শনিবার থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই প্রদেশের গভর্নর ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন বলেছেন, ‘গুহার ভেতরে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে কিশোররা যে স্থানে আটকা রয়েছে, বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও সেই স্থানের ও উদ্ধারপথের আশপাশের পানি নিষ্কাশন অত্যন্ত সফল হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আজও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে গুহার ভেতরে পানির স্তর এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।’ কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিন তীব্র বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে বর্ষণ তীব্র হওয়ার আগে ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারে হাতে অল্প কয়েকদিন রয়েছে।

গভর্নর ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন বলেছেন, ‘একটি কর্মপরিকল্পনা ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযানের জন্য আগামী তিন থেকে চারদিন হচ্ছে উপযুক্ত সময়। শনিবার গুহার পাশে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি বেশি দেরি করে ফেলি, তাহলেও আমরা জানি না কেমন বৃষ্টিপাত হবে।’

ন্যারংস্যাক বলেন, ‘গত সপ্তাহে ভারী বর্ষণের কারণে গুহার ভেতরে সকীর্ণ ও অসমতল স্থানগুলোতে সুনামি তৈরি হয়েছিল। গত ২৩ জুন থেকে থাইল্যান্ডের থ্যাম লুয়াং গুহায় আটকা রয়েছে স্থানীয় কিশোর ফুটবল দলের ১২ সদস্য ও তাদের কোচ।

যে কোনো ধরনের উদ্ধার অভিযানের আগে দুটি বিষয় বিবেচনায় নেয়া হবে। প্রথমত, কিশোররা যে জায়গায় রয়েছে সেখানকার বায়ু। শুক্রবার তিনি বলেন, গুহার ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে; যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গুহার ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা ২১ শতাংশ থাকলে সেটিকে স্বাস্থ্যের জন্য স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়।

গভর্নর ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন বলেন, গুহায় অক্সিজেনের মাত্রা যদি ১২ শতাংশের নিচে নেমে আসে তাহলে কিশোরদের মস্তিষ্কের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। এতে তারা আতঙ্কগ্রস্ত হতে পারে।
অতিরিক্ত বিপদ হচ্ছে, উদ্ধার কাজে নিয়োজিত শত শত উদ্ধারকারীর শ্বাসত্যাগের কারণে গুহার ভেতরে কার্বন মনো অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। ‘আমাদের কাছে যত পরিমাণেই অক্সিজেন থাকুক না কেন, আমরা বাঁচতে পারবো না (অতিরিক্ত কার্বন মনো অক্সাইডে)। কারণ আমাদের রক্ত বিষাক্ত হয়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত, গুহার ভেতরের পানির স্তর। প্রথমবারের মতো উদ্ধার মিশন স্বীকার করে বলছে, বন্যার পানি বাড়তে থাকলে কিশোররা যে জায়গায় আটকা রয়েছে; সেই স্থানটিও তলিয়ে যেতে পারে।

ওসোত্তানাকর্ন বলেন, ‘আমি যতটুকু জেনেছি, পানির স্তর সেখানে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে তারা যে জায়গায় বসে রয়েছে সেটির আয়তন কমে মাত্র ১০ বর্গমিটার হতে পারে।’
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত পানির স্তর কমিয়ে আনার কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। কিশোরদের বের করে আনার জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে পানির স্তর একেবারে শূন্যে নেমে আসা। কিন্তু এটি অসম্ভব, কারণ পানির স্তর শূন্যে নেমে আসবে ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে।‘সুতরাং আমরা সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি না। দ্বিতীয় সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে তাদের বের করে আনার জন্য পানির স্তর যথাযথ পর্যায়ে নামিয়ে আনা। তিনি বলেন, পানি বৃদ্ধি এবং বাতাসের অক্সিজেনের ঝুঁকি বিবেচনা করে আমরা যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

‘আমরা এখন প্রতিকূল সময় এবং প্রত্যাশার সঙ্গে লড়াই করছি।’ এদিকে গুহার ভেতর থেকে কিশোরদের হাতে লেখা চিঠি শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে কিশোররা তাদের পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছে, তারা ভালো আছে।

ওসোত্তানাকর্ন বলেন, আজও শিশুরা সুস্থ আছে। তারা কথা বলছে, মজা করছে। তবে তাদের সামান্য কিছু জখম রয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত সঠিক খাবার পায়নি; তবে তাদের অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত বিশেষ খাবার দেয়া হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় বেতনা নদী বাঁচানোর দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘বেতনা বাঁচলে সাতক্ষীরা বাঁচবে’ এই স্লোগানকে ধারন করে বেতনা নদী বাঁচানোর দাবীতে সাতক্ষীরায় মানব বন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ‘সাতক্ষীরা বেতনা বাঁচাও আন্দোলন ও সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ’ এর আয়োজনে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।
বেতনা বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক আবেদুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এড. আবুল কালাম আজাদ, জজ কোর্টের পিপি এড. ওসমান গনি, সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ’ এর আহবায়ক এড. ফাহিমুল হক কিসলু, সুজনের সভাপতি অধ্যক্ষ সুভাষ সরকার, ওয়ার্কাসপার্টির নেতা স্বপন কুমার শীল, যমুনা বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক আশেক ই এলাহি, সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সদস্যসচিব আলি নুর খান বাবুল প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বেতনা নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। এর চরে গড়ে উঠছে বাড়ি ঘর দোকান পাট ও বাজার ঘাট। এককালের খর¯্রােতা বেতনা এখন এক সরু খালে পরিণত হয়েছে। বেতনায় এখন আর নৌকা চলে না, বেতনায় জোয়ারভাটা খেলে না, বেতনা এখন পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায়। এর দুই তীর দখল করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন ইটভাটা। বেতনায় আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষেও মেতে উঠেছেন প্রভাবশালীরা।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সব ধরনের সুবিধা নিয়ে দখলদারদের সহায়তা দিচ্ছে। ফলে বেতনা দিন দিন অকার্যকর হয়ে পড়ছে। ঝাউডাঙ্গা থেকে সুপারিঘাটা পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে খনন প্রয়োজন দাবি করে তারা আরা বলেন, এর আগে ২০১৫ সালে বেতনা খননের নামে লুটপাট করা হয়েছে। এতে বেতনা তীরের মানুষের এতোটুকু উপকার হয়নি উল্লেখ করে তারা বলেন, আমরা বেতনাকে দখলমুক্ত দেখতে চাই। বেতনা খনন চাই’।
বেতনা রক্ষায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করে তারা আরও বলেন, বেতনা সংলগ্ন ১২ টি বিলের পানি এই নদী দিয়েই প্রবাহিত হয়। কিন্তু পলি জমে এই পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে ফি বছর এলাকা জুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে থাকে। তারা আরও বলেন বেতনার ওপর তিনটি স্লুইস গেটের সবক’টি অকেজো হয়ে পড়েছে। তারা অবিলম্বে বেতনা খনন এবং বেতনা দখলমূক্ত করার দাবি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest