সর্বশেষ সংবাদ-
কালীগঞ্জের নলতায় সড়ক ও জনপদ থেকে উচ্ছেদের পরেও পুনরায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িকসাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনসারা দেশে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস: নদীবন্দরে সতর্ক সংকেতUnlocking the Full Potential of Betmaze Casino’s Loyalty and Rewards Programতরুণদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে ঘটাবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’- সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকসাতক্ষীরায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি এবং স্যানিটেশন নিশ্চিতে জনসচেতনতামূলক পটগান সাতক্ষীরায় মহিলা দোকানীকে হত্যাসাতক্ষীরায় আইনজীবীর জমি দখলচেষ্টা : হামলায় আহত ৩সাতক্ষীরায় আম ক্যালেন্ডার ঘোষণাবজ্রপাতে সারা দেশে ১২ জনের মৃত্যু

রক্তাভ চাঁদ দেশে মুগ্ধ বিশ্ববাসী

বিশেষ সংবাদ: ’রক্তাভ চাঁদ’ এর মহাজাগতিক বিস্ময়ে মুগ্ধ জগতবাসী। শুক্রবার দিবাগত রাতটি ছিলো শিহরন জাগানো অভাবনীয় মহাজাগতিক রাত। ভরা পূর্নিমায় আকাশের বুকে জগতের কোটি কোটি মানুষ অবলোকন করেছেন একুশ শতাব্দীর এক বিরল আশ্চর্য দৃশ্যমালা। দীর্ঘ চন্দ্রগ্রহণকালে ধবল জোছনার বদলে রক্তের মতো টকটকে লাল চাঁদ ছড়িয়েছে ’রক্তাভ জোছনা’।

এই রাতটা ছিলো অন্যরকম। এক অপার্থিব অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো বেশুমার মানুষ। সন্ধ্যাকাশে চাঁদ উদিত হওয়ার পর ঘুরতে ঘুরতে প্রবেশ করে একেবারে পৃথিবীর ছায়ার মধ্যে। অতপর গ্রহণস্পর্শ তাকে
গ্রাস করতে থাকে। টানা ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট ধরে চাঁদের মুখ ঢেকে যায় সম্পূর্ণ। তার আগে ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট ধরে চলে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। আবার পূর্ণগ্রাস হয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় আংশিক গ্রহণ, যা চলে আরও ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট ধরে। এই দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ বাংলাদেশের আকাশেও যেখানে মেঘমুক্ত ছিল সেখান থেকে অবলোকন করা গেছে।

তবে সজল সঘন মেঘমালা ছাওয়া ঢাকার আকাশে দেখা যায়নি চন্দ্রগ্রহণ। গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা ২১ মিনিটে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শুরু হয় এই গ্রহণ। বিভিন্ন দেশের মানুষ রীতিমত উৎসবের আমেজে এই ব্লাডমুন দেখার আয়োজন করে।

নাসা’র তথ্য মতে,শুধু গ্রহণ হওয়াই নয়, চাঁদ সূর্যের আলো বিকিরণ করে লাল হয়ে যায়। গত প্রায় ৬০ হাজার বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বার পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসা ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলকে রাতের আকাশে অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা যায়। কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীকে মাঝখানে রেখে সূর্যের ঠিক উল্টো দিকে চলে যায় মঙ্গল, আর ১০০ বছরের মধ্যে যেখানে ‘উপনিবেশ’ বানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে মানবসভ্যতার।

যদিও ‘লাল গ্রহ’ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসবে ৩১ জুলাই, আগামী মঙ্গলবার। সেদিন পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব হবে প্রায় পাঁচ কোটি ৭৬ লক্ষ কিলোমিটার। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই একটি চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে, তবে তা আংশিক। ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি হবে আরও একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। তবে তা উপমহাদেশ থেকে দেখা যাবে না। আগামী ৯ জুন ২১২৩ সালে এর থেকে বড় চন্দ্রগ্রহণ হবে। সেই সময় পৃথিবী থেকে সবথেকে দূরে থাকবে চাঁদ। এর ফলে সাধারণ দিনের থেকে চাঁদের আকার একটু ছোট হয়ে যাবে।

চাঁদের এই ছোট হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘মাইক্রো মুন’ বলা হয়। পৃথিবীর সব জায়গা থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়নি। উত্তর ও দণি আমেরিকার মানুষ এই গ্রহণ দেখতে পারেনি। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত,বাংলাদেশ,অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের কিছু দেশ থেকে দেখা গেছে চাদের এই বিস্ময়কর দৃশ্য। সবচেয়ে ভালো দেখা যায় আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং সেন্ট্রাল এশিয়া থেকে।

এর আগে এত বেশিক্ষণ ধরে চন্দ্রগ্রহণ এই শতাব্দীতে কোনও দিন হয়নি। এর আগের দীর্ঘ চন্দ্রগ্রহণ হয় ২০১১ সালের ১৫ জুন । সেটা ১০০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, জলবায়ু মহাশাখার প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী গতক্রার শুক্রবার রাত ১১ টা ১৩ মিনিট ০৬ সেকেন্ড গ্রহণটি শুরু হয়। শেষ রাত ২ টা ২১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড কেন্দ্রীয় গ্রহণ ঘটে। গ্রহণটির সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল ১.৬১৪। গ্রহণটির সর্বশেষ পর্যায় সমাপ্ত হয় ভোর ৫ টা ৩০ মিনিটে।

ঢাকার বিজ্ঞান জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য চন্দ্রগ্রহণ দেখার আয়োজন করে। রাত সাড়ে ১০টা থেকে জাদুঘর উন্মুক্ত রাখা হয়। আয়োজন করা হয় প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী ও সেমিনারের।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার (অনেকটা ডিমের মতো) কক্ষপথে পাক খায় চাঁদ। পৃথিবীকে এক বার পাক খেতে তার গড়ে সময় লাগে সাড়ে ২৭ দিন। এই সাড়ে ২৭ দিনের মধ্যে চাঁদ এক বার পৃথিবীর কাছে চলে আসে আর তার পরে দূরে চলে যায়। দূরত্বটা যখন সব থেকে কমে যায়, সেটাকে বলে ‘অনুভূ’ (এপিজে) অবস্থান। আর পৃথিবী ও চাঁদ যখন একে অন্যের থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে থাকে, সেই অবস্থানকে বলে ‘অপভূ’ (অ্যাপোজে) অবস্থান।

শুক্রবার সেই ‘অ্যাপোজে’-তেই ছিলো চাঁদ ও পৃথিবী। একই সরল রেখায় ছিলো চাঁদ, সূর্য আর পৃথিবী। চাঁদ আর পৃথিবী কারওই নিজের আলো নেই। সূর্যের আলোতেই তারা আলোকিত হয়। সূর্য আর চাঁদের মাঝে তাই পৃথিবী এসে পড়লে মুখ ঢেকে যায় চাঁদের। হয় চন্দ্রগ্রহণ। চেহারায় বড় কোনও বস্তুর সামনে কোনও বস্তু এসে পড়লে ছায়ার দু’টি এলাকা তৈরি হয়-প্রচ্ছায়া আর উপচ্ছায়া। সূর্যের আলো পৃথিবীর উপর পড়লে তেমনই একটি প্রচ্ছায়া কোণ তৈরি হয়। পৃথিবীকে অতিক্রম করতে করতে কোণের মাঝামাঝি অংশ দিয়ে চাঁদ অতিক্রম করলে তখন চাঁদের গতি মন্থর হয়ে যায়। পৃথিবীকে অতিক্রম করতে বেশি সময় লাগে। তাই দীর্ঘতম হয় এই চন্দ্রগ্রহণ।

বিবিসি বাংলা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষ্য উদ্বৃতি করে জানায়, সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছুঁয়ে ছড়িয়ে যায়, সেই আলো আবার পৃথিবীতে আসার পথে অন্য সব রঙ হারিয়ে লাল রঙটি এসে আমাদের চোখে পৌঁছায়, কারণ এই রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি। আর এ কারণে চাঁদ অনেকটা ‘রক্তিম’ দেখায়, তাই এটাকে ‘ব্লাড মুন’ বলা হয়। এদিকে এই রক্তাক্ত চাঁদ নিয়ে বহু অলিক কাহিনী ছড়িয়ে আছে! বাইবেলে কেয়ামত এর অন্যতম আলামত হিসেবে বলা আছে, ‘সূর্য আলোহীন হয়ে পড়বে আর চাঁদ গাঢ রক্ত বর্ণ ধারণ করবে।

এছাড়া বিভিন্ন ডাকিনীতন্ত্রের ধর্মমতগুলো- যেমন উইকা বা আরাদিয়ার অনুসারীরা, যারা চন্দ্রদেবী ডায়নার পূজা করে থাকে তাদের জন্যে এই ব্লাড মুন বা রক্ত জোছনা খুব গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার পালনের রাত। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাতে যারা জন্ম গ্রহণকরে তারা বিশেষ আধ্যাত্মিক মতার অধিকারী হয়। হিব্রু বাইবেলের ‘বুক অফ জোয়েল’-এর বর্ণনা থেকে ব্লাড মুন বা রক্তবর্ণ চাঁদ নিয়ে বিস্তর ভবিষ্যদ্বাণী প্রচলিত। তার মধ্যে বেশির ভাগটাই প্রলয় সংক্রান্ত।

তবে এর বাইরেও কিছু অন্য বিপর্যয়ের কথা বলে লোকবিশ্বাস। রক্ত চাঁদের দিন নাকি ভ্যাম্পায়াররা প্রবল সক্রিয় হয়ে ওঠে আর এদিন তারা নতুন জীবনীশক্তি লাভ করে। গ্রিকদের ধারণা ছিলো, সূর্যগ্রহণ হচ্ছে স্রষ্টার রাগ এবং আসন্ন মৃত্যু ও ধ্বংসের পূর্বাভাস। চীনের মানুষ মনে করতো, স্বর্গীয় ড্রাগন সূর্যকে গ্রাস করে নেওয়ার ফলে সূর্যগ্রহণ হয়। ভিয়েতনামের বাসিন্দাদের ধারণা, বিশাল আকারের একটি ব্যাঙ সূর্যকে গিলে ফেলার কারণে সূর্যগ্রহণ হয়।

ইনকা সভ্যতার লোকদের বিশ্বাস ছিল যে, একটি চিতাবাঘ চাঁদকে গ্রাস করার কারণে চন্দ্রগ্রহণ হয়। চাঁদের ওপর আক্রমণ শেষ হলে সে পৃথিবীতে নেমে এসে মানুষদের ওপর আক্রমণ করবে। তাই তারা চাঁদের দিকে বর্শা তাক করে কল্পিত এই চিতাবাঘকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করতো। এমনকি আশপাশের কুকুরদের গায়ে তারা আঘাত করতো, যাতে কুকুরের আর্তচিৎকারে ঐ চিতাবাঘ ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় এবং পৃথিবীতে আর আক্রমণ না করে।

চন্দ্রগ্রহণকে জড়িয়ে নানা কুসংস্কার রয়েছে যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। পুরোটাই কুসংস্কার এবং অলিক ধারণা। যেমন, গ্রহণের সময় ঘরের বাইরে বেরোতে নেই, খাবার থাকলে তা ফেলে দিতে হয়, অন্তঃসত্বা নারীদের খুবই সাবধানে থাকতে হয়। কিন্তু গ্রহণ হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক বিষয়। এর সঙ্গে শুভ বা অশুভয়ের কোনো পার্থক্য নেই। শনিবার আবারো স্বাভাবিক চাঁদ আকাশ আলো জোছনা ছড়াবে।

এদিকে ইসলাম ধর্মভীরুরা চন্দ্রগ্রহণকালে সালাতুর কুসুফ পড়েন। কারণ তাদের রাসুল (সা.) গ্রহনকালে সাহাবিদের নিয়ে কুসুফ নাজাম পড়তেন। কান্নাকাটি করতেন। আল্লাহর কাছে মাফ চাইতেন। এসময় নবী (সা.) এর চেহারা ভয়ে বিবর্ন হয়ে যেতো।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফিরোজা বেগমের ৮৮তম জন্মদিন আজ

সাহিত্য ও সংস্কৃতি: নজরুল সঙ্গীতের সম্রাজ্ঞী খ্যাত ফিরোজা বেগমের ৮৮তম জন্মদিন আজ শনিবার। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথিতযশা নজরুল সঙ্গীত শিল্পী। সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে তিনি নজরুল সঙ্গীতের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন প্রতিটি নজরুল সঙ্গীত প্রেমীদের হৃদয়ে।
এদিকে ফিরোজা বেগমের জন্মদিনে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ডুডল করেছে সার্চজায়ান্ট গুগল। শনিবার প্রথম প্রহর থেকেই গুগলের হোমপেজে এ ডুডল দেখতে পাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।
ডুডলে দেখা যাচ্ছে, মাইক্রোফোনের সামনে গান গাইছেন ফিরোজা বেগম। পরনে শাড়ি, গলায় বড় মালা আর খোপায় ফুটে উঠেছে তার চিরাচরিত প্রতিচ্ছবি।
ফিরোজা বেগম ১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই গোপালগঞ্জের অন্তর্গত রাতইল ঘোনাপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল এবং মা বেগম কওকাবুন্নেসা।
বাল্যকাল থেকেই তার সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগ জন্মে। তিনি ১৯৫৪ সাল থেকে কলকাতায় বসবাস করতে শুরু করেন এবং ১৯৫৫ সালে সুরকার, গায়ক ও গীতিকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবন্ধ হন। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং কমল দাশগুপ্ত ১৯৭৪ সালের ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৮৪ বছর বয়সে মারা যান ফিরোজা বেগম। এ দম্পতির রয়েছে তিন সন্তান- তাহসিন, হামিন ও শাফিন। হামিন ও শাফিন দু’জনেই রকব্যান্ড দল মাইলসের সদস্য।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৩৮০টির বেশি একক সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন প্রখ্যাত এই সঙ্গীত শিল্পী। নজরুলসঙ্গীত ছাড়াও তিনি আধুনিক গান, গজল, কাওয়ালি, ভজন, হামদ ও নাতসহ বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন। জীবদ্দশায় তার ১২টি এলপি, ৪টি ইপি, ৬টি সিডি ও ২০টিরও বেশি অডিও ক্যাসেট প্রকাশিত হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সিলেটে কামরানকে জাতীয় পার্টির সমর্থন

রাজনীতির খবর: সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সমর্থন দিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধীদল ও মহাজোট সরকারের অন্যতম শরিক দল জাতীয় পার্টি।

শনিবার নগরীর একটি হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে সিলেট জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে এ সমর্থনের কথা জানায়।

এ সময় জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট জেলা আহবায়ক এটিইউ তাজ রহমান বলেন, মহাজোট সরকারের অন্যতম শরিক দল হিসেবে জোটের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে জাতীয় পার্টির কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশে সিলেট সিটিকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মহাজোটের শরিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে আমরা সমর্থন জানাচ্ছি।

এসময় তিনি জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সব নেতাকর্মী এবং দলের প্রতি অনুগত সবাইকে নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করার পাশাপাশি নির্বাচনে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে ভোট দেয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতিও আহ্বান জানান তাজ রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।

জাতীয় পার্টির এ সমর্থনকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রায় সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি এক সঙ্গে কাজ করে আসছে। সিলেট সিটি নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির সমর্থন দুই দলের ঐক্য ও দেশের উন্নয়নে কাজে লাগবে।

আগামীতে সব সুদিন-দুর্দিনে জাতীয় পার্টিকে কাছে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নিজ আসনের আ.লীগ নেতাকর্মীদের নতুন মুজিব কোট দিলেন এমপি জগলুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: শনিবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মনে ধরে রাখতে নিজ নির্বাচনী এলাকার ২০ টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, উপজেলার সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে মুজিব কোট উপহার দিলেন সাতক্ষীরা – ৪ আসনের সংসদ সদস্য এস, এম জগলুল হায়দার।

এসময় সংসদ সদস্য তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তুলে ধরে বলেন, “আমরা সেই নেতার সৈনিক যে নেতার আদর্শ নিয়ে আমরা রাজনীতি করি। আসুন আমরা সবাই আজ থেকে শপথ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে সব ভেদাভেদ উপেক্ষা করে নৌকাকে আবারো বিজয়ী করি এবং মানবতার জননী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলায় দেখতে চাই। ” তিনি আরও বলেন, আমি এমপি হই আর না হই আমি আবারো এই বাংলাতে আমার জনম দুঃখীনী জননেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।” স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি মিলন মেলায় পরিণত হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফের ইসরাইলের গুলিতে ২ ফিলিস্তিনি নিহত

বিদেশের খবর: ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ১২ বছর বয়সী এক বালকসহ দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার অধিকৃত গাজা উপত্যকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ওই বালকের নাম মাজদি রামজি কামাল আল-সাত্রা।

গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। সে সময় ওই দুই ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কাদরি জানিয়েছেন, ওই বালকটিকে খান ইউনিস এলাকায় হত্যা করা হয়।

তিনি জানান, শুক্রবার ইসরায়েলি সেনারা গাজা সীমান্তের কাছে গাজী আবু মুস্তফা (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে।

প্রসঙ্গত, ইসরায়েলি সেনারা গত ৩০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড়শ’ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে । সূত্র: আল-জাজিরা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও আশাশুনিতে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু

আসাদুজ্জামান: সাতক্ষীরার পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে ও শুক্রবার মধ্য রাতে সাতক্ষীরার আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
বজ্রপাতে মৃত দুই ব্যক্তি হলেন, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের পাইথলী গ্রামের হরী মন্ডলের ছেলে উদয় কুমার মন্ডল (৩৬) ও কালিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম মৌতলা গ্রামের মৃত মোকছেদ মীর্জও ছেলে মীর্জা শাহজান আলী (৫৫)।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের পাইথলী গ্রামের উদয় কুমার মন্ডল একই গ্রামের প্রবীর মন্ডলের সূর্যখালী বিলের একটি মৎস্য ঘেরে বিগত ৩ বছর যাবত কর্মচারীর কাজ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার ভোর ৪ টার দিকে ঘুনি থেকে মাছ কুড়ানোর সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। পাশ্ববর্তী ঘেরের লোকজন উদয়ের মৃতদেহ পানিতে ভাসতে দেখে তার স্বজনদের খবর দিলে তারা তার মৃত দেহ উদ্ধার করে।
অপরদিকে, কালিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম মৌতলা গ্রামে মীর্জা শাহজান আলী নামের এক মৎসজীবি শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ির পাশে একটি মৎস্য ঘেরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান। তিনি ওই গ্রামের মৃত মোকছেদ মীর্জার ছেলে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান ও আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, সাতক্ষীরার আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলায় দুই জনের মৃত্যুতে তাদের স্ব স্ব এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় মৎস্য সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

মোস্তাফিজুর রহমান : ‘স্বয়ংসম্পর্ণ মাছে দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৮ এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল হান্নান প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য উৎপাদনে শীর্ষে অবস্থান করছে। বর্তমানে যত্রতত্র অপরিকল্পিত ভাবে মৎস্য চাষ করা হচ্ছে। যেটা ঝুকিপূর্ণ ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। সকলের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে মৎস্য চাষ করতে হবে। ‘জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও দারিদ্র্য বিমোচনের সাতক্ষীরা জেলায় গুরুত্ব অনেক বেশি। এ জেলায় বার্ষিক মৎস্য উৎপাদন হয় ১লক্ষ ৩১ হাজার ৫১৬ মেট্রিক টন। জনগণের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৮৯২২৩ মেট্রিক টন মাছ ও চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি এবং অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ৪র্থ। চিংড়ি চাষে সাতক্ষীরা দেশের প্রথম স্থানে থাকলেও তা এখন নানাভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। এক্ষেত্রে চিংড়ি পোনার ভাইরাস রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী ডা. আবতাবুজ্জামান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম বাবলা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ভারপ্রাপ্ত মো. নুরুল ইসলাম প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আজ মাঠে নামছে মাশরাফিরা

খেলার খবর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম ওয়ানডেতে সহজ জয় পায় বাংলাদেশ। তাই তো সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জয়ের লক্ষ্যে উইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামে। কিন্তু, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিততে জিততে হেরে যায় মাশরাফি বাহিনী। একেবারে সহজ ১৩ বলে ১৪ রানের সমীকরণ মিলাতে ব্যর্থ হয় টাইগাররা। ফলে নাটকীয় জয় পেয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই আজ শনিবার (২৮ জুলাই) সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি সিরিজ মীমাংসার মহা লড়াই।

সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ম্যাচটি আজ অঘোষিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে। দু’দলই সিরিজ জিততে ঝাঁপিয়ে পড়বে। মাঠে লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দেবে না। তাই বলা যায়, ম্যাচটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

কিন্তু, বাস্তবতায় ভিন্ন দৃশ্য মঞ্চস্থ হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কেননা, ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা।

৩ রানের দুঃখ ভুলে আজ মাশরাফিদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে সবাইকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে একসঙ্গে। নিশ্চয়- সে দিকেই মনোযোগ থাকবে টাইগারদের।

কেননা, দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি টাইগাররা। টেস্টের বিভীষিকা কাটিয়ে ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। হতাশাকে পিছনে ফেলে প্রথম ওয়ানডেতে দারুণ জয় তুলে নেয় তারা। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের একেবারে কাছে গিয়ে হেরেছে বাংলাদেশ। তাই সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই তৃতীয় ওয়ানডে খেলতে মাঠে নামবেন মাশরাফি বাহিনী।

আজ শনিবার (২৮ জুলাই) সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্ক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এ মাঠে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার তিন ম্যাচের সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতেই ৯১ রানে হেরে হোয়াইটওয়াশ (৩-০) হয়েছিল সফরকারীরা। সর্বশেষ ২০১৬ সালের জুনে ওয়ার্নার পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়ারা প্রায় সাড়ে তিনশ’ রান করেছিল। ম্যাচটিতে প্রায় দেড়শ’ রানের ব্যবধানে হেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই অতীত রেকর্ড বলছে- ওয়ার্নার পার্কে আগে ব্যাট করা দল প্রচুর রান পাবে। ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন ব্যাটসম্যানরাই।

এজন্য সিনিয়রদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটসম্যানদেরও জ্বলে উঠতে হবে। ম্যাচে টস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন দেখার বিষয় মাশরাফিরা সিরিজ জয় করতে পারে কিনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest