সর্বশেষ সংবাদ-
কলারোয়ায় মিনি স্টেডিয়াম ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি হাবিবুল ইসলাম হাবিবেরসাতক্ষীরার ৩২৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারশ্যামনগরে জনসভা- গণমিছিলের মধ্য দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুতালা–কলারোয়ার উন্নয়নে ঐক্যের ডাক হাবিবুল ইসলাম হাবিবেরআদালত চত্বরে কেরোসিন ঢেলে মাটি চাপা দেওয়া হলো জব্দকৃত হরিণের মাংসসাংবাদিক আকরামুলের উপর হামলা : সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দাপাইকগাছায় বাসস চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীনের উদ্যোগে দশ গ্রামের দুস্থদের মাঝে তিন সহস্রাধিক কম্বল বিতরণবিএনপি থেকে ডা: শহীদুল আলম বহিস্কারসংগ্রামের গল্পে ঢাবি জয় দিহানেরতালায় লার্নিং শেয়ারিং ওয়ার্কশপ

স্ত্রী ঘরে ঢুকতে না দেয়ায় অনশনে স্বামী!

স্ত্রী ঘরে ঢুকতে না দেয়ায় বাড়ির সামনেই অনশনে বসেন প্রবীর সাহা নামে এক ব্যক্তি।ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিলিগুঁড়িতে এমন ঘটনা ঘটেছে।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, রবিবার সকালে শিলিগুঁড়ির সূর্যসেন কলোনিতে প্রবীর সাহা নামে তার বাড়ির সামনে অনশনে বসেন। পাশেই স্ত্রীর ছবিসহ নানা অভিযোগ লেখা রয়েছে।

এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তাকে দেখতে ভিড় করেন কলোনিবাসী।এর পর স্থানীয় কাউন্সিলর তৃণমূলের কৃষ্ণ পাল ও পুলিশের মধ্যস্থতায় প্রবীর বাবু অনশন তুলে নেন। বাড়িতেও ঢোকেন। তবে তার স্ত্রী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।

স্ত্রীর ভাষ্য, এটি পুরোপুরি পারিবারিক বিষয়। বাইরের কাউকে কিছু বলব না।

প্রতিবেশীরা জানান, বছর দুয়েক ধরে এ দম্পতির মধ্যে টাকা-পয়সা নিয়ে গণ্ডগোল চলছিল।

কাউন্সিলর কৃষ্ণবাবু বলেন, এভাবে পাড়ার মধ্যে আমরণ অনশন করব বলে রাস্তায় বসে পড়াটা মানা যায় না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘আমি মারা যাব, তবুও পর্ন ছবি করবো না’

সাবেক পর্ন অভিনেত্রী সানি লিওন বলিউডে পা রাখার শুরুর দিকেই তার সাথে বলিউড অভিনেত্রী রাখি সবন্তের সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে। রাখি একাধিকবার সানি লিওন সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। কিন্তু তাতে কোনো সময়ই কান দেননি সানি লিওন।

অন্যদিকে রাখিও সানির বিরুদ্ধে নতুন নতুন অভিযোগ হাজির করছে। এবার সানি সম্পর্কে আরেক অভিযোগ আনলেন তিনি।খবর এবেলাডটইনের।

রাখি সবন্তের অভিযোগ করেছেন, সানি লিওন নাকি রাখি সবন্তের ফোন নম্বর অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রিতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি গণমাধ্যমের কাছে সানি লিওন সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন রাখি সবন্ত।

রাখি বলেন, ‘সানি আমার ফোন নম্বর অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রিতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রায়ই আমার কাছে ফোন
কল আসছে। এবং ফোন করে আমার ভিডিও ও মেডিকেল সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফোন করে আমাকে মোটা অঙ্কের টাকার প্রস্তাবও দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমি মোটেই এ রকমের কাজে আগ্রহী নই। রাখি এও বলেন, আমি মরে যাব, তবুও এই জগতে পা বা প্রবেশ করব না।

আমি মন থেকে ভারতীয় এটা উল্লেখ করে রাখি আরো বলেন, আমি একজন ভারতীয় নারী আর আমি আমাদের সংস্কৃতির মর্যাদা সম্পর্কে অবহিত।

কিন্তু রাখি কীভাবে এতোটা নিশ্চিত যে, তার ফোন নম্বরটি সানি লিওনই দিয়েছেন? এমন প্রশ্ন সবার মনে।

রাখি সবন্ত বলেন, আমার ফোন নম্বর কীভাবে পেয়েছেন জিজ্ঞাসা করায়, ফোন কল করা ওরাই সানি লিওনের নাম নিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শসার গুণ অনেক

শসার গুণ অনেক

কর্তৃক Daily Satkhira

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় শসা রাখতে পারলে রোগমুক্ত জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়। কারণ শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে শসার বিকল্প খুঁজে পাওয়া অসম্ভবই বলা চলে। আজকের আয়োজন এই শসা নিয়েই—

কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়
কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে আজ থেকেই শসা খাওয়া শুরু করুন। কারণ এ কাজে শসার বিকল্প নেই। শসার ভেতরে থাকে ফাইবার। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার সমাধান হতে সময় লাগে না।

পানির অভাব মেটায়
দেহের ভেতরে পানির মাত্রা স্বাভাবিক থাকাটা খুবই জরুরি। নইলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন শসা খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

ত্বকের যত্ন
শসায় সিলিকা নামক একটি উপদান রয়েছে, যা শরীরে প্রবেশের পর কোষের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে। সঙ্গে শরীরের প্রতিটি পেশি, লিগামেন্ট ও হাড়ের শক্তিও বাড়তে থাকে।

ক্যান্সার দূরে থাকে
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবারই অতিরিক্ত সচেতন থাকাটা জরুরি। কারণ গবেষণা বলছে, ক্যান্সারে আক্রান্তের হার ক্রমাগত বাড়ছে। তাই সেসব খাবারই খাওয়া উচিত, যেগুলোতে এই মারণ রোগ দূরে থাকে। আর এ ক্ষেত্রে শসাকে বাদ দেওয়া কোনো ভাবেই চলবে না।

ভিটামিন
শরীর সচল রাখতে নানা ধরনের ভিটামিনের প্রয়োজন পড়ে। সেই ভিটামিনের জোগান ঠিক রাখতে শসা খাওয়া খুবই জরুরি। কারণ এতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’, ‘বি’ এবং ‘এ’ থাকে। এ ছাড়া খনিজের ঘাটতি মেটাতেও শসা কার্যকর।

পুষ্টির ঘাটতি দূর
একটি ৩০০ গ্রামের শসায় ১১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, দুই গ্রাম প্রোটিন ও দুই গ্রাম ফাইবার থাকে। সেই সঙ্গে থাকে দিনের চাহিদার ১০ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম, ১৩ শতাংশ পটাসিয়াম ও ১২ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ওম-মিমের গান ‘ও রানী’ প্রশংসিত

বিনোদন ডেস্ক: বিদ্যা সিনহা মিম ও ওম অভিনীত ‘পাষাণ’ ছবির ‘ও রানী’ গানটি মুক্তি পেয়েছে। গানটি বেশ প্রশংসিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় গানটি প্রকাশ করা হয়। এরইমধ্যে শুধু ইউটিউবেই গানটি সাড়ে তিন লাখের বেশি দেখা হয়েছে।

জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘পাষাণ’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন সৈকত নাসির। ‘ও রানী’ গানটিতে সুর করেছেন কবির বকুল, সংগীতায়োজনে ছিলেন শওকত আলী ইমন। কোরিওগ্রাফি করেছেন হাবিব।

‘পাষাণ’-এ পেশাদার খুনীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওম। অন্যদিকে টিভি রিপোর্টার হিসেবে দেখা যাবে মিমকে। রাজধানীর উত্তরায় সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়। এরপর মংলা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এর দৃশ্যায়ন হয়। অ্যাকশনধর্মী ‘পাষাণ’-এ আরো অভিনয় করেছেন বিপাশা কবির, মিশা সওদাগর ও শিমুল খান।২৩ মার্চ মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আর নেই

খ্যাতিমান পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আর নেই। ৭৬ বছরে বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন তিনি। স্টিফেন হকিংয়ের পরিবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

ব্ল্যাক হোল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসছিলেন স্টিফেন হকিং। এছাড়াও তিনি তার বিখ্যাত বই ‘এ ব্রিফ স্টোরি অব টাইম’ এর জন্য অমর হয়ে থাকবেন।

হকিংয়ের সন্তান লুসি, রবার্ট এবং টিম বলেন, ‘আমাদের বাবা আচমকাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি ছিলেন মহান বিজ্ঞানী এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন।’

স্টিফেন হকিংয়ের পুরো নাম স্টিভেন উইলিয়াম হকিং। তার জন্ম ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি। বিশিষ্ট ইংরেজ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ হিসেবে বিশ্বের সর্বত্র পরিচিত ব্যক্তিত্ব তিনি। তাকে বিশ্বের সমকালীন তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

হকিং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান অধ্যাপক (স্যার আইজ্যাক নিউটনও একসময় এই পদে ছিলেন। ২০০৯ সালে ওই পদ থেকে অবসর নেন তিনি।

এছাড়াও তিনি কেমব্রিজের গনভিলি এবং কেয়াস কলেজের ফেলো হিসাবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে ভীষণরকম অচল ছিলেন। তিনি মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ফাইনালের পথে বাংলাদেশের সামনে আজ ভারত

অনলাইন ডেস্ক: শ্রীলংকার বিপক্ষে খরা ঘোচানো ঐতিহাসিক জয়ে সরে গেছে সংশয়ের মেঘ। গুঁড়িয়ে গেছে মানসিক বাধার দেয়াল। মিলেছে আত্মবিশ্বাসের রসদ। ফিরে পাওয়া সেই বিশ্বাসের ভেলায় চেপেই এবার আরেকটি চ্যালেঞ্জ জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

চ্যালেঞ্জটা ‘ক্ষুদে’ ক্রিকেটে ভারত-জুজু কাটানোর। ত্রিদেশীয় টি ২০ সিরিজ নিদাহাস ট্রফির পঞ্চম ম্যাচে আজ দেখা হবে বাংলাদেশ ও ভারতের। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে খেলা। শ্রীলংকার কাছে হার দিয়ে সিরিজ শুরুর পর টানা দুই ম্যাচ জিতে ফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে রেখেছে ভারত। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে টানা দুই হারে ফাইনালে ওঠার হিসাবটা জটিল হয়ে গেছে স্বাগতিক শ্রীলংকার।

বাংলাদেশ রয়েছে মাঝামাঝি অবস্থানে। ভারতের কাছে হেরে নিদাহাস ট্রফিতে শুরুটা ভালো না হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলংকার গড়া ২১৪ রানের পাহাড় টপকে ধূসর ছবিটা রঙিন করে তুলেছে বাংলাদেশ। আজ ভারতকে হারাতে পারলে আরাধ্য ফাইনাল চলে আসবে দৃষ্টিসীমায়। হারলেও সুযোগ থাকবে। তখন শেষ ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প থাকবে না। অন্যদিকে আজ জিতলেই ফাইনালে চলে যাবে ভারত।

আর হেরে গেলে তাকিয়ে থাকতে হবে শুক্রবারের বাংলাদেশ-শ্রীলংকা ম্যাচের দিকে। ভারতের সুবিধা হল নেট রান রেটে এগিয়ে তারা। তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে লীগ টেবিলের শীর্ষেও তারা। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার ঝুলিতে আছে সমান দুই পয়েন্ট। তবে এক ম্যাচ কম খেলা বাংলাদেশ নেট রান রেটে শ্রীলংকার চেয়ে পিছিয়ে আছে। ফাইনালের সমীকরণটা আরও জটিল হয়ে উঠবে আজ বাংলাদেশ জিতলে এবং শেষ ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে হারলে।

তখন তিন দলের পয়েন্ট সমান হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নেট রান রেটে এগিয়ে থাকা দল দুটি পাবে ফাইনালের টিকিট। রান রেটের বিষয়টিও তাই আজ মাথায় রাখতে হবে বাংলাদেশকে। তবে আগে ভারতের গেরো খোলার চ্যালেঞ্জটা জয় করতে চান মাহমুদউল্লাহরা। টি ২০ সংস্করণে দু’দলের আগের ছয় ম্যাচের প্রতিটিতেই জিতেছে ভারত। ২০১৬ টি ২০ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে এক রানের সেই অবিশ্বাস্য হারের দুঃস্মৃতি কখনই ভোলা সম্ভব নয়। তবে সেই দুঃস্মৃতি ভারতকে ফিরিয়ে দেয়া খুবই সম্ভব। মানসিক বাধাটা কেটে গেছে আগের ম্যাচেই। যে বাংলাদেশ আগে কখনও টি ২০ তে দুইশ’ করতে পারেনি, তারাই কিনা শ্রীলংকার বিপক্ষে ২১৫ রানের কঠিনতম লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে। রাঙিয়েছে ইতিহাসের পাতা। ৩৫ বলে ৭২* রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংসে ঐতিহাসিক এ জয়ের নায়ক ছিলেন মুশফিকুর রহিম। দুই ওপেনার লিটন দাস ও তামিম ইকবালের ব্যাটেও ছিল দুঃসাহসী আত্মবিশ্বাসের ছটা।

হন্যে হয়ে একটি জয়ের খোঁজে থাকা বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত সেই অমৃতের স্বাদ পেয়ে মানসিকভাবে খোলনলচে বদলে গেছে। ভারতকে হারানো এখন আর অসম্ভব মনে করছেন না মাহমুদউল্লাহরা। ভাগ্যের দিকে তাকিয়ে না থেকে বাকি দু’ম্যাচ জিতে নিজেরাই নিশ্চিত করতে চান ফাইনাল। ভারত জয়ের মিশনে নামার আগে সেটাই জানালেন লংকা-বধের নায়ক মুশফিক, ‘যে আত্মবিশ্বাস দরকার ছিল, আগের ম্যাচ থেকেই সেটা পেয়ে গেছি আমরা।
আশা করি, এটা ধরে রাখতে পারব। এখনও দুটি ম্যাচ আছে আমাদের। সেভাবেই আমরা পরিকল্পনা করছি। যদি তা বাস্তবায়ন করতে পারি, আশা করি, পরের ম্যাচ দুটি জিতে আমরাই ফাইনালে উঠব।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যে জেলার ডিসি, জেলা জজ, এসপি ও সিভিল সার্জন নারী

অনলাইন ডেস্ক: নরসিংদীতে শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে এখন নারীরা অবস্থান করছেন। জেলা পর্যায়ে একসঙ্গে শীর্ষ চার পদে নারীর নেতৃত্বদানের ঘটনা বাংলাদেশের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসক, জেলা ও দায়রা জজ, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারী কর্মকর্তারা।

গত রোববার নরসিংদী জেলা প্রশাসক হিসেবে সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন যোগদানের মধ্য দিয়ে শীর্ষ ৪ পদে নারী ক্ষমতায়ন পূর্ণ হয়। ফলে জেলার সব শীর্ষ পদে নারী কর্মকর্তাদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা এখন গোটা জেলায়। একটি জেলায় রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচার, প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগে একসঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা জানায়, স্থানীয় পর্যায়ে জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের পদটিই জেলার শীর্ষ পদ। তাঁরা বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তাঁরাই মূলত একটি জেলায় সরকারি কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দেন এবং জেলায় সব কর্মকাণ্ডের সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। দেশের সব কয়টি জেলার মধ্যে নরসিংদীই একমাত্র জেলা যেখানে এই মুহূর্তে চারটি শীর্ষ স্থানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চার নারী।

বর্তমানে নরসিংদীর জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্বে আছেন বেগম ফাতেমা নজীব। তিনি ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল নরসিংদীতে যোগ দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে নরসিংদীর পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করছেন আমেনা বেগম বিপিএম। তিনি তিন বছর দায়িত্ব পালন শেষে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবার তাঁর নরসিংদী ত্যাগ করার কথা রয়েছে। জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ পদ সিভিল সার্জন। ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এ পদে আছেন ডা. সুলতানা রাজিয়া।

এ ব্যাপারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন বলেন, ‘পৃথিবীর যা কিছু সৃষ্টি চির মহান, চির-কল্যাণকর, অর্ধেক করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ কবি নজরুল ইসলাম যথার্থই বলেছেন। নারী-পুরুষের কোনো এক অংশকে বাদ দিয়ে সামনে এগুনো যাবে না।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক ইচ্ছে ও প্রচেষ্টার কারণেই নরসিংদীর শীর্ষ পদগুলোতে নারী কর্মকর্তারা আসীন হয়েছেন। এ ধরনের পদায়ন সব স্তরের নারীদের আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাশীল করে তুলবে। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে পালন করতে পারলে নরসিংদীসহ সারা দেশের নারীরা অনুপ্রাণিত হবে। নারীরা স্বেচ্ছায় অধীর আগ্রহ নিয়ে দ্বিগুণ উৎসাহের সঙ্গে এ পেশায় এগিয়ে আসবে।’

পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বলেন, এ জেলায় সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচার, প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগে নারীর ক্ষমতায়ন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য উদাহরণ। এটা নরসিংদীসহ গোটা দেশের নারী সমাজের প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ।

একইভাবে সিভিল সার্জন ডা. সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘নারী বলে ঘরে বসে থাকার সুযোগ এখন আর নেই। কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। নারী হিসেবে কারো দয়া, দক্ষিণা পাওয়ার আশা না করে নিজের মেধা, পরিশ্রম ও যোগ্যতা দিয়ে নিজেদের অর্জন গড়ে তুলতে হবে। নারীরা যে এগিয়ে যাচ্ছে নরসিংদী তাই প্রমাণ করে। আমরা কেউ নারী হিসেবে নয়, যার যার যোগ্যতা দিয়ে এই পদগুলো অলংকৃত করেছি। এতে ভবিষ্যতে নারী কর্মকর্তারা একজন অফিসপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবেন।’

শীর্ষ পদে নারীর পদায়নকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘নারী ও পুরুষ এখন আর আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আমি বিশ্বাস করি পুরুষের সঙ্গে নারীও সমান তালে মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে তার কর্মে স্বাক্ষর রাখছে। নরসিংদীর নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের যোগদান আমাকে আনন্দিত করেছে। কারণ এর মাধ্যমে আমরা জেলার সব শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্ব পেয়েছি। নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সম মর্যাদায় ও দক্ষতায় প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে আমরা বিচার, আইন ও স্বাস্থ্য বিভাগে নারী নেতৃত্বের দক্ষতার ছাপ দেখতে পেয়েছি। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তাদের সহযোগিতা করা। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন দীর্ঘস্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী হবে।’

ওই চারজন ছাড়াও নরসিংদীর বিচার বিভাগেও নারীদের প্রাধান্য রয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ ছাড়াও অতিরিক্ত যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বেগম লুবনা জাহান। মুখ্য বিচারিক হাকিমের দায়িত্ব পালন করছেন শামীমা আফরোজ। অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিমের পদে রয়েছেন শামীমা আক্তার।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আছেন সুষমা সুলতানা, শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে আছেন শিলু রায় ও বেলাবর ইউএনও হিসেবে আছেন উম্মে হাবিবা, সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে আছেন লুবনা ফারজানা, নাহিদা পারভীন, সহকারী কমিশনার হিসেবে আছেন জাকিয়া সুলতানা, রাবেয়া আক্তার, মেহের নিগার সুলতানা ও তাহমিনা আক্তার।

জেলা পর্যায়ে অন্যান্য নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক জেবুন্নাহার পারভীন, জেলা সঞ্চয় অফিসের সহকারী পরিচালক সাইদা নাজমুন্নাহার, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, জেলা তথ্য কর্মকর্তা নাসিমা খাতুন, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার সাথী এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস. এম. রেখা রাণী হালদার। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দিচ্ছে ফেসবুক: জাতিসংঘ

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক সরাসরি ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ।

গত বছর আগস্টের শেষ দিকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযান শুরু হলে পৌনে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

তাদের ওপর বিভৎস হত্যাকাণ্ড, আগুন দিয়ে বসতবাড়ি ভস্মীভূত ও মাঠের ফসল ধ্বংস করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। নারী ও শিশুরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।-খবর টেলিগ্রাফ অনলাইন।

রাখাইনে সম্ভাব্য গণহত্যার তদন্তে নিয়োজিত জাতিসংঘের একটি টিম সোমবার অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্য-অনুসন্ধানী মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি ডারুসম্যান বলেন, আপনি যদি চান, তবে ফেসবুক সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্দিষ্ট মাত্রায় উগ্রতা, ক্ষোভ ও সংঘাত বিস্তারে স্বতন্ত্রভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন।

ইন্দোনেশিয়ার এই সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ঘৃণা-বিদ্বেষ অবশ্যই সেসবের একটি অংশ হিসেবে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ফেসবুক হচ্ছে- একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

এর আগে ফেসবুক বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি মিয়ানমারে ঘৃণা বিস্তারে সহায়ক কথাবার্তা সরিয়ে ফেলতে কাজ করছে। যারা এ ধরনের বিষয়বস্তু ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে, তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রীতিমাফিক বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিবিসিকে ফেসবুক বলেছে, তাদের প্লাটফর্মে ঘৃণা বিস্তারের সুযোগ নেই। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আমরা এটিকে অবিশ্বাস্য গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। বেশ কয়েক বছর ধরে নিরাপদ তথ্য-উপাত্ত বাড়াতে ও ঘৃণার পাল্টা বক্তব্য তৈরি করতে আমরা মিয়ানমারে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেছি।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের তদন্তকারী ইয়াংহি লি বলেন, ফেসবুকের সঙ্গে মানুষের প্রকাশ্য, বেসামরিক ও ব্যক্তিগতজীবনের বড় অংশ জড়িত। সামাজিক মাধ্যমটির ব্যবহারকারীদের কাছে সরকার সেসব তথ্য পৌঁছে দিতে পারে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মিয়ানমারে সবকিছু ফেসবুকের মাধ্যমে করা হচ্ছে। ঘৃণা বিস্তারে সহায়ক বক্তব্যও আত্মস্বার্থে কাজে লাগাতে এই মাধ্যমটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফেসবুক মানুষের প্রকাশ্য বার্তা অন্যের কাছে অবলীলায় পৌঁছে দেয়। কিন্তু আমরা জানি, অতিউগ্র বৌদ্ধদের নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে। নিজেদের অ্যাকাউন্ট দিয়ে তারা ব্যাপক মাত্রায় সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়।

উগ্র বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা ও নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে প্রচুর ঘৃণার বিস্তার ঘটায় বলে জানান জাতিসংঘের এই তদন্তকারী।

তিনি বলেন, আমার ভয় হচ্ছে- ফেসবুক একটি জন্তুতে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকে মূল লক্ষ্য কখনই এমনটি ছিল না।

জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী মিশনের মধ্যবর্তীকালীন বিবৃতিতে সোমবার এসব জানানো হয়।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের শিকার ৬০০ জনের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

এতে রাখাইনে নৃশংসভাব সহিংসতার তথ্য দেয়া হয়েছে। তদন্তে গণধর্ষণ, অঙ্গচ্ছেদসহ শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রমাণ মিলেছে। আন্তর্জাতিক আইনে যা গুরুতর অপরাধ বলে বিবেচনা করা হয়।

তবে মিয়ানমার মঙ্গলবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির সরকারের মুখপাত্র জ এইটেই বলেন, ওই প্রতিবেদনে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব রয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানী মিশনকে মিয়ানমারে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ফলে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest