সর্বশেষ সংবাদ-
মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: ওসি শাহিনদুটি মামলায় দেবহাটার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর কারাগারেকাঁধে কফির ফ্লাস্ক, চোখে স্বপ্ন—রূপসী ম্যানগ্রোভে আকাশের জীবনসংগ্রামশ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ৫০ হাজার টাকা জরিমানাদেবহাটায় বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযানবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতক্ষীরায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহসাতক্ষীরায় ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজআশাশুনির মহিষকুড় মৎস সেট সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধনশ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন : সভাপতি মনির- সাধারণ সম্পাদক লিটন

পিজিতে নেওয়া হবে খালেদাকে, নিরাপত্তা জোরদার

চিকিৎসার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হবে।

শনিবার (৭ এপ্রিল) বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি জানা যায়।

এদিকে রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর কেন্দ্রীয় কারাগার, পুরান ঢাকা, আলিয়া মাদ্রাসা চত্বরসহ আশপাশের এলাকায় কয়েকস্তরের নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

সব ধরনের যান চলাচল শিথিল করা হয়েছে। কারাগার এলাকায় জনসাধারণের চলাচল এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।

কখন নেওয়া হবে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বোমা ফাটালেন স্বস্তিকা, কী বললেন শ্রীলেখা!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ওয়ালে শুক্রবার দুপুরে সহসা বিস্ফোরক ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। তিনি কী লিখেছেন সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে বিতর্কের ঘটনাক্রম এক বার দেখে নেওয়া যাক।

অনলাইন স্ট্রিমিং চ্যানেল ‘হইচই’-এর অন্যতম জনপ্রিয় শো ‘দুপুর ঠাকুরপো’র প্রথম সিজন শেষ হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় সিজন আসার কথা। হঠাৎ জানা গেল স্বস্তিকা সেই শো আর করবেন না। অভিনেত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখতে তিনি জানিয়েছিলেন, চিত্রনাট্য না পেলে তিনি শো করবেন না। শোয়ের পরিচালনা কে করছেন, সেটাও জানাতে হবে তাঁকে। নির্মাতা সংস্থা টিভিওয়ালা মি়ডিয়ার কাছ থেকে জবাব না পেয়ে শো ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন স্বস্তিকা। অন্য দিকে নির্মাতারা নতুন মুখ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু টিভিওয়ালা মি়ডিয়ার কর্তৃপক্ষ অমিত গঙ্গোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে স্বস্তিকাকে একটি টেক্সট পাঠান। সেখানে তিনি অভিনেত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে ফের কাজ করবেন বলে উল্লেখ করেন। ঠিক এইখানেই আপত্তি স্বস্তিকার।

‘‘আমি শো ছেড়ে দিয়েছি, তার বদলে অন্য এক জন করবে। মিটে গেছে ব্যাপারটা। তার পরেও টেক্সট করে ন্যাকামি করার মানেটা কী! এরা চূড়ান্ত অপেশাদার বলেই কাজটা আর করছি না। আমার কাছ থেকে ডেট চাইছে আর সামান্য একটা চিত্রনাট্য পাঠাতে পারছেন না! গত চার-পাঁচ মাস ধরে ‘জানাচ্ছি’ বলে কাটিয়ে গেছে। ‘দুপুর ঠাকুরপো’তে চিত্রনাট্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক চুল এদিক-ওদিক হলে পুরোটা অশ্লীল মনে হবে! আমি মুখ্য ভূমিকায়। তাই প্রশ্ন, প্রশংসা, নিন্দা সবটাই আমার দিকে আসবে। সুতরাং শোয়ের কনটেন্ট নিয়ে আমাকে তো ভাবতে হবেই,’’ উত্তেজিত হয়ে বলছিলেন স্বস্তিকা।

‘দুপুর ঠাকুরপো’র প্রথম সিজনের পরিচালক ছিলেন দেবালয় ভট্টাচার্য। স্বস্তিকার কথায়, ‘‘দ্বিতীয় সিজনের পরিচালকের নামটাও ওরা বলতে পারেনি! টুকু জানার অধিকার একজন অভিনেত্রীর আছে। পেশাদারিত্বের ছিটেফোঁটা নেই। এদিকে রাত দুপুরে ফালতু মেসেজ করছে। আমি ‘দুপুর ঠাকুরপো’ নিয়ে কথা বলছি বলে ওদের পাবলিসিটি হচ্ছে, এটা আবার নিজেরাই নির্লজ্জের মতো বলছে! সত্যিই তো, আমি আজ পাবলিক ফোরামে না বললে ওদের নাম কেউ জানতেও পারত না। আমাকে ছাড়া ওদের যে আপস করেই শো চালাতে হচ্ছে, তা এই টেক্সটের বহর দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এ রকম মেসেজ আগেও এসেছে। এবার মুখ না খুলে থাকতে পারলাম না। আমি না থাকলে ‘দুপুর ঠাকুরপো’ হিটও করত না।’’

স্বস্তিকার আপত্তি টিভিওয়ালা মিডিয়াকে নিয়েই। কিন্তু ‘হইচই’ যেহেতু ‘এসভিএফ’-এর, তাই তাদের সঙ্গেও অভিনেত্রীর সমস্যা রয়েছে বলে চর্চা চলছে। একই সময়ে তিনি বিরসা দাশগুপ্তর ছবির কাজও ছাড়েন। ফলে গুজব আরও বাড়তে থাকে। স্বস্তিকা অবশ্য বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘‘আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে ‘এসভিএফ’-এর। ‘আমি আসবো ফিরে’র প্রচারও করছি। আসলে আমি ছাড়া তো আর কেউ এগুলো নিয়ে সোচ্চার হয় না। ভাবে, কাজ পাবে না। কিন্তু কোথাও প্রতিবাদ করা দরকার। একে বাজেট নেই, তার উপর চিত্রনাট্য দেবে না, নির্দেশকের ঠিক-ঠিকানা নেই, তা-ও নাকি কাজ করতে হবে! কোন সাহসে ভবিষ্যতে কাজ করতে চাওয়ার কথা বলে? আমি অন্তত এই সংস্থার সঙ্গে আর কাজ করব না।’’

এটা কিন্তু বির্তকের একটা পিঠ। আর এক দিকে রয়েছে শ্রীলেখাকে কেন্দ্র করে অন্য ঘটনা। খবর বলছে, শ্রীলেখাও ‘দুপুর ঠাকুরপো’ করছেন না। তার বদলে কাজ করছেন মোনালিসা নামে এক ভোজপুরি অভিনেত্রী। এর আগে ‘বিগ বস’-এ দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু কেন হঠাৎ ঘটনার এমন দিক পরিবর্তন? শ্রীলেখাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কিন্তু খুলে কিছু বললেন না। শুধু জানালেন, আগামী সপ্তাহে গোটা বিষয়টা নিয়ে একটা সাংবাদিক বৈঠক করতে চান তিনি। বেশ কিছু অন্যায় তাঁর চোখে পড়েছে, যার প্রতিকার চান অভিনেত্রী। বিষয়বস্তুর কয়েকটা জিনিস অপছন্দ হয়েছে বলেই শো করতে চাননি তিনি।

আবার ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, শ্রীলেখাকে প্রাথমিকভাবে পছন্দ হলেও শেষ পর্যন্ত চরিত্রটির গড়নের সঙ্গে বেমানান বলে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রযোজনা সংস্থা থেকেই! তবে এ বিষয়ে টিভিওয়ালা মিডিয়ার অমিত গঙ্গোপাধ্যায় এবং দ্বিতীয় সিজনের পরিচালক অয়ন চক্রবর্তী কেউই কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেনার দায়ে খুলনায় বিএনপি নেতার গুমের নাটক

খুলনা : খুলনা জেলা বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মোড়লকে কেউ অপহরণ বা গুম করেনি। ১৫ লাখ টাকা দেনার দায়ে তিনি কক্সবাজারের রামুতে আত্মগোপন করেছিলেন।

শুক্রবার বিকেলে খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে নজরুল এ স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। এর আগে দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক রওশন আরা রহমানের কাছে নজরুল একইভাবে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা বলেন, গত ১৭ মার্চ নজরুল যশোরের কেশবপুর হয়ে ঢাকায় যান। পরের দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারের রামুতে যান। রামুতে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে থাকতো নজরুল। ইতোপূর্বে গ্রেফতার হয়ে খুলনা কারাগারে থাকাকালীন সাইফুলের সঙ্গে পরিচয় হয় নজরুলের।
পুলিশ সুপার বলেন, নজরুল কক্সবাজারে গিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে নতুন মোবাইল ও সিমকার্ড ব্যবহার শুরু করেন। সেখানে গিয়ে তিনি তার দাড়ি কামিয়ে ফেলেন। পলাতক থাকা অবস্থায় একদিন কক্সবাজার পুলিশের সন্দেহ হলে নজরুল কোথা থেকে এখানে এসেছে এবং কি করে জানতে চায়। নজরুলের কথাবার্তা এলোমেলো মনে হয় পুলিশের। একপর্যায়ে খুলনার ডুমুরিয়ায় যে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতো নজরুল সেই মাদ্রাসার অপর এক শিক্ষককে ফোন করে নিশ্চিত হয় তার বাড়ি খুলনায়। খুলনার ডুমুরিয়ার ওই শিক্ষকের কাছে করা ফোন নম্বরের সূত্র ধরে মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয় নজরুল রামুতে আছেন। পরবর্তীতে কক্সবাজার পুলিশের সহায়তায় খুলনা জেলা পুলিশ ও ডিবি অভিযান চালিয়ে গত বুধবার রাতে রামু থেকে বিএনপি নেতা নজরুলকে উদ্ধার করে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এস এম শফিউল্লাহ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) সজীব খান, ডিবির ওসি শিকদার আক্কাস আলী ও ডুমুরিয়া থানার ওসি হাবিল হোসেন।
উল্লেখ্য, ১৭ মার্চ বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন বিএনপি নেতা নজরুল। স্বামী নজরুলের নিখোঁজের ঘটনায় ওই দিন রাতে স্ত্রী তানজিলা বেগম ডুমুরিয়া থানায় একটি জিডি করেন। পরের দিন জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নজরুলকে গুম করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় মহিলা মাদক ব্যবসায়ীসহ আটক ৫, ফেনসিডিল-গাঁজা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি : কলারোয়ায় মহিলা মাদক ব্যবসায়ীসহ ৫ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ফেনসিডিল ও গাঁজা।
শুক্রবার সকালে ও বৃহষ্পতিবার রাতে উপজেলার পৃথক স্থান থেকে তাদের আটক করে থানা পুলিশের পৃথক টিম।
থানা সূত্র জানায়- উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বাজার সংলগ্ন ব্রীজের উপর থেকে আসমা খাতুন (৩৫) নামের এক মহিলাকে ২৫ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ সাড়ে ১২হাজার টাকাসহ আটক করে পুলিশ। আটক আসমা যশোরের কোতয়ালী থানার রায়পাড়া গ্রামের মৃত.মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় মামলা নং-১০(৪)১৮ দায়ের হয়েছে।
অপর দিকে, উপজেলার কাজীরহাট তিনরাস্তার মোড় এলাকা থেকে রঘুনাথপুর গ্রামের আবু বক্কর গাজীর পুত্র রিংকু গাজী (২২), ওমর আলী সরদারের পুত্র রাসেল হোসেন (২৩) ও মৃত সেলিমুল ইসলামের পুত্র মেহেদি হাসান (২২)কে ১শ’৫০ গ্রাম গাঁজা ও নগদ ৩ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করে।
এদিকে, খোরদো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সিরাজের নেতৃত্বে পুলিশ পাকুড়িয়ার দেয়াড়া মাঠপাড়া গ্রামের আব্দুল আহাদ খানের ছেলে ভুট্রো মিয়া (৩৫)কে ১শ’ গ্রাম গাঁজা ও ২ হাজার টাকাসহ আটক করা হয়।
এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব দেব নাথ জানান- ‘থানা পুলিশের মাদক বিরোধী সাড়াশি অভিযানে তাদের আটক করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিসিএস প্রস্তুতিতেই আটকে যাচ্ছে তরুণদের মেধা

অনলাইন ডেস্ক: আটবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান। শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেননি। গেল বছর শেষ হয় সরকারি চাকরির বয়সসীমা। এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য চেষ্টা করছেন।

একাডেমিক শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই চাকরির পেছনে ছুটেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী। শ্রেণিকক্ষে না গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে যাওয়া হতো প্রতিদিন। পাঠ্যবইয়ে চোখ না রেখে চাকরির প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন গাইড বই পড়েই দিনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে তার। বয়সসীমা শেষ হওয়ার আগে মরণপণ চেষ্টা করেছিলেন। তাতেও ‘বিসিএস ক্যাডার’ নামক সোনার হরিণ দেখা দেয়নি।
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে পাস করে হাসান এখন অনেকটাই হতাশাগ্রস্ত। বলেন, মনে হয় যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করলাম। এত শ্রম দিয়ে কী লাভ হলো! এখন মনে হচ্ছে, শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য থেকে অনেক দূরে সটকে পড়েছি। ‘কোন দেশের রাজধানী কী, আর কোন দেশের টাকার মান কত’ এরকম শিক্ষাতেই যেন আটকে থাকলাম। অথচ কত কিছুই না জানার ছিল। লাইব্রেরিতে লাখ লাখ বই। তা ছুঁয়েও দেখিনি কোনোদিন।
একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে মাস্টার্স করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন খাদিজা সুলতানা। তিনবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ক্যাডার হওয়া হয়নি এখনও। তবুও বিসিএস-ই ধ্যানজ্ঞান তার। বলেন, জানি না স্বপ্ন পূরণ হবে কি না। কিন্তু হাল তো ছাড়তে পারি না।
তবে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রেখে খাদিজা বলেন, আজকের উচ্চশিক্ষিত বেকারদের যে সমস্যা, তার জন্য মূলত শিক্ষাব্যবস্থা এবং নিয়োগ ব্যবস্থাই দায়ী। একজন মেধাবীকে পরিকল্পিতভাবে এই অভিশপ্ত জীবনের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এর জন্য রাষ্ট্রকেই দায়ী করছি। রাষ্ট্র আমার অধিকার হরণ করছে।
খাদিজা বা হাসানের মতো জীবনকথা এখন লাখ লাখ উচ্চশিক্ষিত তরুণের। সবাই যেন মরীচিকার পেছনে ছুটছেন। রাষ্ট্র কর্তৃক সৃষ্ট কথিত সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই উচ্চশিক্ষিতদের এমন দৌড়। সরকারি চাকরি মানেই ‘সোনার হরিণ’। মেধা, অর্থ, সময় সব ঢেলে দিচ্ছেন সরকারি চাকরির প্রত্যাশায়। অসুস্থ এই প্রতিযোগিতা-ই যে দুর্নীতি, অনিয়মকে উসকে দিচ্ছে, তা-ও যেন সবাই ভুলে গেছেন।
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. সা’দত হোসাইন। এই প্রতিবেদকের কাছে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় ত্রুটি আছে। যে প্রস্তুতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের শ্রমশক্তিতে যোগ দিচ্ছে, তা সঠিক বলে মনে করি না। এভাবে চাকরি পেয়ে অনেক আমলা ইংরেজিতে একটি চিঠি লিখতে পারেন না।
তিনি বলেন, মেধার মূল্যায়নে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলাম আমার সময়ে। ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিলও। কিন্তু সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় দুই হাজার ২৪টি পদের বিপরীতে তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী আবেদন করেন। একই চিত্র সরকারি অন্যান্য চাকরির বেলাতেও। যেন এগিয়ে যাওয়া বিশ্বে পিছিয়ে পড়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণরা। আর রাষ্ট্রই যেন সে প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিচ্ছে উচ্চশিক্ষিতদের।
অন্তত এমনটিই মনে করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করা মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়া শেষ করে ছয় বছর সরকারি চাকরির পেছনে ছুটেছি। এখন বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
মেহেদীর ক্ষোভ ‘চাকরির প্রস্তুতির সময় যা শিখেছি, তা এখন খুব কাজে লাগছে বলে মনে করি না। অথচ ছয়টি বছর জীবন থেকে চলে গেল, যা শেখার কথা, তাও শিখতে পারিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।’
চাকরির পেছনে ছুটতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা বিশেষ এক জায়গায় আটকে যাচ্ছে কি না- এমন প্রশ্ন করা হলে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তুতি নিয়েই চাকরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, সে প্রতিযোগিতাটা আসলে কী? চারুকলার একজন শিক্ষার্থী তার শিল্পচর্চা রেখে তো বিসিএস পরীক্ষার জন্য উঠেপড়ে লাগতে পারে না।
একই প্রশ্ন তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বলেন- ‘বিষয়টি আমিও খতিয়ে দেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা এখন বসতে পারে না। সাবেক শিক্ষার্থীরা চাকরির পড়া পড়তে সকাল থেকেই লাইন ধরে। বিসিএস পরীক্ষাই একমাত্র পন্থা তাদের কাছে। অবাক করার মতো বিষয়। চাকরিতে পদের সংখ্যা কম। এ কারণেই এই প্রতিযোগিতা। কিন্তু এভাবে উচ্চশিক্ষিতদের মেধা আটকে যেতে পারে না। চাকরি নিয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তার পরিবর্তন আনতে হবে। আর এই পরিস্থিতির জন্য রাষ্ট্রকেই আগে ভাবতে হবে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘ মহাসচিবের ফোন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ফোন দিয়ে প্রায় ১২ মিনিট কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে দেয়া টেলিফোনে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছেন শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কা‌লিগ‌ঞ্জে বিদ্যুৎ‌তের শর্টসা‌র্কি‌টে ২ দোকা‌নের ৫ লক্ষা‌ধিক টাকার মালামাল ভ‌স্মিভুত

‌মোঃ আরাফাত আলী:কা‌লিগঞ্জ উপ‌জেলার মৌতলা বাজা‌রে অব‌স্থিত ইউনিয়ন প‌রিষদ সংলগ্ন আনসার সা‌হে‌বের মা‌র্কে‌টে দোকা‌নের ভিত‌রে বি‌দ্যুৎ‌তের সর্টসা‌র্কি‌টের কার‌নে দুই‌টি দোকা‌নের মালামাল পু‌ড়ে আনুমা‌নিক ৫ লক্ষা‌ধিক টাকার ক্ষয়ক্ষ‌তি হ‌য়ে‌ছে । ঘটনা‌টি ঘ‌টে‌ছে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দি‌কে। প্রত্যাক্ষ দর্শী সু‌ত্রে জানা যায় সন্ধ্যা ছয়টার দি‌কে ওই মা‌র্কে‌টের জু‌তো ব্যবসায়ী মৌতলা ইউনিয়‌নের নামাজগড় গ্রা‌মের অমল চক্রবর্তীর ছে‌লে বিশ্ব‌জি‌তের দোকা‌নে সর্টসা‌র্কি‌টের কার‌নে আগুন লে‌গে যায়। ওই দোকা‌নে আগুন লাগার সা‌থে সা‌থে পাশ্ববর্তী টুথ ব্রাশ ও কস‌মে‌টিকস‌য়ের দোক‌ানদার একই এলাকার সাধন দা‌শের ছে‌লে তুষার দা‌শের দোকা‌নে আগুন লা‌গে। ফায়ার সা‌র্ভিস ও স্থা‌নিয়‌দের সহ‌যো‌গিতায় আগুন নেভা‌তে সক্ষম হ‌লেও তার ম‌ধ্যে বিশ্ব‌জি‌তের অনুমা‌নিক ৩ লক্ষ টাকার ও তুষা‌রের ২ লক্ষ টাকার মালামাল আগু‌নে ভ‌স্বিভুত হ‌য়ে‌ যায়। ঘটনার সত্যতা নি‌শ্চিত ক‌রে কা‌লিগঞ্জ থানার উপ-প‌রিদর্শক হেকমত আলী ব‌লেন বিদ্যুৎ‌তের সর্টসা‌র্কি‌টের কার‌নে দুই‌টি দোকা‌নে আগুন লাগার কার‌নে দোকানদাররা ৫ লক্ষ‌ধিক টাকার ক্ষয়ক্ষ‌তি হ‌য়ে‌ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এপ্রিলের আবহাওয়া পূর্বাভাসে তাপদাহ বন্যা ঘূর্ণিঝড়, সবই আছে

বসন্ত শেষে এ মাসেই প্রকৃতিতে আসছে গ্রীষ্ম; আর এ মাসেই বাংলাদেশকে তাপদাহ, আকস্মিক বন্যা আর ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবেল করতে হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এপ্রিল মাসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে এ মাসে এক থেকে দুটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি পেতে পারে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ।

দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ২-৩ দিন মাঝারি বা তীব্র কালবৈশেখী এবং দেশের অন্যত্র ৪-৫ দিন হালকা থেকে মাঝারি বজ্রঝড় হতে পারে।

দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপপ্রবাহের পাশাপাশি মাসের শেষ দিকে পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাসও দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক শুক্রবার বলেন, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে এ মাসে। কিন্তু তার ফাঁকেই বয়ে যেতে পারে তাপপ্রবাহ।

এপ্রিলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি) এবং অন্যত্র এক থেকে দুটি মৃদু (৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অথবা মাঝারি (৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এপ্রিলের শেষার্ধে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে বলে ওমর ফারুক জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest