সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় শিশু শ্রমমুক্ত ও শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ামুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণাদেবহাটায় অপসিজন তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন চাষীরাঅবশেষে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারি রাকেশ মেহেরপুরে বদলিভারতে চিকিৎসা নিতে যেয়ে কলকাতার হোটেলে মারা যাওয়া সাতক্ষীরার সাজুর দাফন সম্পন্নমৎস্য খাতের উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় জোর দিল ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিআমিরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন : সভাপতি প্রভাষক আরিফুলদেবহাটা থানায় নবাগত ওসি এইচএম শাহীন-এর যোগদানপ্রধান শিক্ষকের বরখাস্তের তিনদিন পর নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির পদ স্থগিতসাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ : কারণ দর্শানোর নোটিশআশাশুনিতে নবাগত ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ এর যোগদান

যুব দিবসে দেবহাটায় ৫ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্ট

দেবহাটা প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার দেবহাটায় ৫ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকাল ৪টায় দেবহাটা উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের আয়োজনে এ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

টুর্নামেন্টে কুলিয়া ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ ও সখিপুর ইউনিয়ন ফুটবল একাদশসহ বিভিন্ন দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় কুলিয়া ইউনিয়ন ফুটবল একাদশকে ২-১ গোলে পরাজিত করে সখিপুর ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ।
খেলা দেখতে মাঠে স্থানীয় তরুণ, ক্রীড়াপ্রেমী ও দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পুরো সময়জুড়ে খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত নৈপুণ্য ও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

টুর্নামেন্টে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেবহাটা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি ও সাবেক ছাত্রনেতা এইচ এম ইমদাদুল হক, উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত লিপু, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কুলিয়া ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মাওলানা মোজাহিদুল আলম, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ।

আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক যুব দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা এবং তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে।

তারা আরও বলেন, তরুণ সমাজকে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও দেবহাটায় যুবসমাজকে নিয়ে আরও বেশি ক্রীড়া ও সামাজিক আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

খেলা শেষে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা এমন আয়োজন নিয়মিত করার আহ্বান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
মাদক প্রতিরোধে সাতক্ষীরায় মাদক বিরোধী মটরসাইকেল র‍্যালি

নিজস্ব প্রতিনিধি: মাদককে না বলুন”এসো আমরা মাদক ছাড়ি, দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়ি”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে এক মাদক বিরোধী মটর সাইকেল র‍্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

রাজার বাগান আদর্শ যুব সংঘের উদ্যোগে মাদক বিরোধী মটর সাইকেল র‍্যালিতে অংশ নেন কচি,সোনা,হাফিজ, রাজ্জাক, স্বপন,টুটুল,লুৎফর সহ রাজারবাগান গ্রামের যুব সমাজ ও সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।

তাদের লক্ষ একটা মাদক বিরধী একটি সুন্দর সমাজ গড়া। এ সময় বাগান আদর্শ যুব সংঘের সভাপতি কছি বলেন আমরা দলমত নিরবিশেষে সবাই একতা বদ্ধ হয়ে মাদকে বিরুদ্ধে অভিজান চালাচ্ছি প্রশাসন আমাদের সহযোগীতা করছে সব সময়।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যুব সংঘের সদস্য ও স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।আয়োজকরা জানান, মাদক ও দুর্নীতির ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় থেকেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তারা সকলকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির এ উদ্যোগকে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গণমাধ্যমে বক্তব্য চাইলেই ক্ষেপে যান সাতক্ষীরার ডিসি : প্রেসক্লাবের জরুরী সভায় নিন্দা ও প্রতিবাদ

সাতক্ষীরার ডিসি কাউসার আজিজের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ,ফোন না ধরা,ক্যামেরার সামনে কথা না বলা,অহরহ অপমান করাসহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সভা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কারযালয়ে শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের রুঢ ও অসহযোগীতামুলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

প্রেসক্লাবের সাহিত্য,সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং যমুনা টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক আকরামুল ইসলাম বলেন,‘‘ ৫ আগস্টে সাতক্ষীরা জেলা কারাগার ভাঙচুর করে হত্যা মামলার পলাতক আসামী আব্দুল আলিম আত্মগোপনে থেকে বিগত বছরের আগস্ট মাসে কলারোয়া উপজেলা ভূমি অফিসে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলা করেন। ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি অনুপস্থিত থেকেও মামলাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে রিপোর্ট করার জন্য তিনি গত বুধবার ভূমি অফিসে যান। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসংক্রান্ত বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় তিনি ফিরে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জেলা প্রশাসকের কারযালয়ে যান। ৩ ঘন্টা অপেক্ষায় থেকে তিনি জেলা প্রশাসকের টেবিলে যাওয়ার সুযোগ পান। জেল পলাতক হত্যা মামলার আসামী কিভাবে ভূমি অফিসে মামলা চালিয়ে যান-এমন প্রশ্ন করতেই তিনি তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন। ক্যামেরা সামনে কথা বলা তো দূরের কথা, ডিসি সদর উপজেলা কৃষি অফিসারের দুর্নীতির বিষয়ে রিপোর্ট করার জন্য তাকে শাষাতে থাকেন। একপরযায়ে তিনি যমুনা টিভিতে চাকরি কিভাবে করেন- এমন দম্ভোক্তিও করতে থাকেন। ঘটনার আকস্মিকতায় থতমত খেয়ে যান তিনি। ঘটনা এখানেই থেকে যায়নি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম ও কয়েকজন সহকারী কমিশনার ক্যামেরাপার্সন ইয়ারুল ইসলামের কাছে থাকা ক্যামেরা চেক করতে বাধ্য করেন।

সভায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন,‘‘ ২৯ জুলাই সদর হাসপাতাল মোড়ে অবস্থিত ২টি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স নবায়ন না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগে জরিমানা করেন এনডিসি তাজুল ইসলাম। তথ্য চাইতে তাঁর কাছে ফোন করা হলে তিনি এসব নিউজ করা লাগবেনা বলে তথ্য প্রদান করা থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। একপরযায়ে এনডিসি সাংবাদিকের চেহারা দেখবেন বলে অফিসে আসতে বলেন। বিষয়টি সুরাহার জন্য সিনিয়র সাংবাদিকদের নিয়ে তিনি পরের দিন জেলা প্রশাসকের কাছে যান। সাংবাদিকদের কাছ থেকে তিনি কোনকিছু না শুনে উল্টো তাদের ভৎসনা করেন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন জানান, নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসককে ফোন দেন। ফোন ধরে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি ক্ষেপে যান। সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়া ডিসির কাজ নয় বলে তিনি ফোন রেখে দেন।

একইভাবে বাজে আচরণের শিকার হয়েছেন মাইটিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবুসহ বহু সাংবাদিক। এমনকি গত ৫ আগস্ট সাতক্ষীরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে উপহার সামগ্রী দেয়ার সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ কাউকে না ডাকায় সভাস্থল ত্যাগ করেছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব,জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ,জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

জেলা বিএনপির আহবায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন,‘‘ মঞ্চে কাউকে না ডাকায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা সকলেই অনুষ্ঠান থেকে চলে আসি।’’
সার্বিক বিষয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন,‘‘ জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনাসহ সার্বিক বিষয়ে রিপোর্ট করতে যেয়ে অতীতে কোন জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অসহযোগীতা পাননি সাংবাদিকরা। এমনকি জেলা প্রশাসকের বাংলো থেকে গভীর রাতেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক হলেন রাস্ট্রের প্রতিনিধি।বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার সুশাসন ও জবাবদিহীতা প্রতিষ্ঠায় জেলা প্রশাসকের এমন আচরণ কাম্য নয়।’’ প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আদেশে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর থাকলেও অস্বীকার : প্রশ্নবিদ্ধ হত্যা মামলার আসামির দায়ের করা মামলা

আমিনুর রহমান :
সাতক্ষীরার কলারোয়া ভূমি অফিসে সরকারি আদেশের কপি, স্বাক্ষর এবং বাস্তব তথ্যের মধ্যে চরম অসঙ্গতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। বিবাদীকে কোনো নোটিশ না দিয়ে এবং বিবাদীর সই জাল করে একতরফা আদেশ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিরাজুস সালেহীন ও অফিস কর্মী বিজন সরকারের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, হত্যা মামলার আসামি কীভাবে এ ধরনের মামলা করল, তা নিয়েও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার ইলিশপুর মৌজার ৯৯৯ নং খতিয়ানের আংশিক রেকর্ড সংশোধনের জন্য গত অর্থবছরে (মামলা নং ৩৮/২৫-২৬) রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৫০ ধারায় একটি মিস কেস দায়ের করেন আব্দুল আলীম। এতে বিবাদী করা হয় নজরুল ইসলামকে।

ভূমি অফিসের নথিপত্র সূত্রে দাবি করা হয়, গত ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এসিল্যান্ড সিরাজুস সালেহীন বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি শেষ করে আদেশ প্রদান করেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়—রাষ্ট্রীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে রেকর্ডটি আংশিক সংশোধন করা হলো।

তবে আদেশের কপি হাতে আসার পর মূল জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিবাদী নজরুল ইসলামের অভিযোগ, মামলার শুনানি থেকে শুরু করে আদেশ হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো ধরনের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়নি। নথিপত্রে তার উপস্থিতি ও সই দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভূমি অফিসের বিজন সরকার এবং এসিল্যান্ড সিরাজুস সালেহীন আমার সাথে প্রতারণা করেছেন। আমি শুনানিতে উপস্থিত ছিলাম না। তারা আমার সই জাল করে একতরফাভাবে আদেশ দিয়ে আমার জমি কেড়ে নিয়েছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিরাজুস সালেহীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, তিনি কলারোয়ায় নতুন এসেছেন। ঠিক কবে এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চলতি সপ্তাহে এসেছে।”

অথচ সরেজমিনে অনুসন্ধান ও কলারোয়া ভূমি অফিসের রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, আলোচিত এই মামলার আদেশ প্রদানের আগেই তিনি কলারোয়ায় এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেছেন এবং প্রমানিত নথি অনুযায়ী মামলায় প্রদত্ত আদেশের কপিতে স্বয়ং এসিল্যান্ড সিরাজুস সালেহীনের নিজের স্বাক্ষর রয়েছে। লিখিত প্রমাণ ও আদেশের স্বাক্ষর সামনে রেখে এ বিষয়ে বার বার প্রশ্ন করা হলেও তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নথিপত্র স্পষ্ট প্রমাণ করছে, বিবাদীকে কোনো নোটিশ না দিয়েই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আদেশে এসিল্যান্ডের নিজস্ব স্বাক্ষর বিদ্যমান।

এদিকে মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম বিতর্ক। এ মামলার বাদী আব্দুল আলীম কলারোয়ার আলোচিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আইন ও সামাজিক সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন—একজন আলোচিত হত্যা মামলার আসামি কীভাবে সরকারি দপ্তরে বাদী হয়ে অন্য একজনের জমিজমা সংক্রান্ত মামলা দায়ের করে একতরফা সুবিধা পায়?

তবে বিবাদীর বাবা শাহাজুল জানান, তিনি এতে সই করেছেন।

নোটিশ না দেওয়া, জাল স্বাক্ষর ব্যবহার এবং এসিল্যান্ডের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য কলারোয়া ভূমি অফিসের সার্বিক স্বচ্ছতা ও কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

দেবহাটা প্রতিনিধি।। সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পির ওপর হামলার প্রতিবাদে দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টায় দেবহাটা উপজেলা সদরে উপজেলা ছাত্রদল, কেবিএ কলেজ ছাত্রদল ও দেবহাটা কলেজ ছাত্রদলের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির শুরুতে উপজেলা পরিষদের সম্মুখ থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি দেবহাটা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা মডেল মসজিদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান ফরহাদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ফিরোজ হোসেন তুহিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ইব্রাহিম কবির মিঠু, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাহিন ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুর মোর্শেদ মিলন, দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুর জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক আরাফাত সানি, আসাদুল ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান চঞ্চল।

এ ছাড়া কেবিএ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাকিব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন, দেবহাটা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হযরত আলী টিপু ও সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দাসসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রদল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রদল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে ভুল করে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে কিশোরীর মৃত্যু
শ্যামনগর প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ভুল করে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে সোহানা পারভীন (১৭) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পারিবারিকভাবে তার বিয়ের কথা ছিল।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোহানা পারভীন ওই গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে।

পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ভুলক্রমে ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সোহানা পারভীন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বৃহস্পতিবার পারিবারিকভাবে সোহানা পারভীনের বিয়ের আয়োজনের কথা ছিল। এর মধ্যেই আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা কারাগার ভেঙে পালানো দুই আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা কারাগার ভেঙে পালানোর দুই বছর পর দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার বেলা ১১টায় শ্যামনগর থানায় এক ব্রিফিংয়ে জানান , মঙ্গলবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ও আটুলিয়া ইউনিয়ন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার শ্রীফলকাটি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ গাজীর ছেলে মোজাম গাজী এবং নওয়াবেঁকী গ্রামের আবের গাজীর ছেলে রফিকুল ইসলাম গাজী।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি এলাকা থেকে মোজাম গাজীকে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেঁকী এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মোজাম গাজী চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে ছিলেন। রফিকুল ইসলামও চেক ডিজঅনারের অপর একটি মামলায় ১০ মাসের কারাদণ্ড ও ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানায় দণ্ডিত হন।

পুলিশের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সুযোগে ৮৭ বন্দি কারাগার থেকে পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে মোজাম গাজী ও রফিকুল ইসলামও ছিলেন।

কারাগার থেকে পালানোর পর তারা নিজ নিজ গ্রামে ফিরে আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা কারাগার থেকে পালানো দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৮৭ বন্দির বিরুদ্ধে ১৫ আগস্ট কারা কর্তৃপক্ষ মামলা করে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৪৬ জন গ্রেপ্তার হলেও ৪১ জন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কাজী রওশন আলমের বিরুদ্ধে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাল্যবিয়ে ও ভুয়া বিয়ে রেজিস্ট্রির অভিযোগসহ নানা বিতর্ক কর্মকা-ে জড়িয়ে থাকা কাজী রওশন আলমের বিরুদ্ধে এবার জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল সাতক্ষীরা জেলা রেজিষ্ট্রার হাফিজা হাকিম রুমার কাছে এ লিখিত অভিযোগ পেশ করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলহাজ এসহাক সরদারের পুত্র আতিয়ার রহমান।

লিখিত অভিযোগসূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২২ সালের ২০ মার্চ আতিয়ার রহমানের ভাই মফিজুর রহমান এবং তার স্ত্রী ফতেমা নার্গিসের আইনি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১ আগস্ট ফতেমা নার্গিস সংবাদ সম্মেলন করে মফিজুরকে প্রাক্তন স্বামী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর তালাক বাতিলের দাবি তোলেন। ২০২৪ সালের ২৭ জানুয়ারি মফিজুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। এক পর্যায়ে ২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ফাতেমা নার্গিস অসৎ উপায়ে আসল ওয়ারিশগণকে বাদ দিয়ে ভুয়া উত্তরাধিকার সনদ উত্তোলন করে।

অভিযোগে বলা হয়, মফিজুরের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি ভোগদখল করার উদ্দেশ্যে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ফতেমা নার্গিস দাবি করেন, ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম তালাকের মাত্র ১ মাস ৩ দিন পর বিতর্কিত কাজী রওশন আলমের নিকট থেকে পুনরায় বিবাহ করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে রওশন আলম দেখা করার কথা বলে টালবাহানা শুরু করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ছেলে সোহাগ তার বাড়িতে গেলে তিনি ভাড়াটে লোকজন দিয়ে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি (মব) তৈরির চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ উঠে।
রওশন আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনার কি লাগবে সেটা বলেন। বিয়ে পড়িয়েছি কি না সেটা পরের বিষয়। সেখানে বিসিএস ক্যাডার ছিলেন। আপনি তো সাংবাদিক। তবে বিতর্কিত এই বিবাহ তিনি পড়িয়েছেন কি না সেটি নিশ্চিত করেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রওশন আলমের বিরুদ্ধে এমন শত শত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি পার পেয়ে যান। জেলায় সংঘটিত অধিকাংশ বাল্যবিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি সম্পন্ন করেন। এর আগে ভুয়া ও বাল্যবিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগে একাধিকবার তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল ভূয়া বিবাহ সম্পাদন মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি কারাবাসও খাটেন।

সাতক্ষীরা জজকোর্টের এক আইনজীবী সহকারী জানান, কাজী রওশন আলমের অসংখ্য ভুয়া লেজার বই সক্রিয় রয়েছে। সাতক্ষীরা জজকোর্ট প্রাঙ্গণসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে তার সিন্ডিকেট সদস্যরা এসব বই সংরক্ষণ করেন। রওশনের মূল কাজ শুধু অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে স্বাক্ষর করা। পরবর্তীতে কোনো আইনি অভিযোগ উঠলে তিনি সেই স্বাক্ষর ও সিল নিজের নয় দাবি করে এড়িয়ে যান। একেক সময় একেক ধরনের স্বাক্ষর ব্যবহার করায় আইনিভাবে তার অপরাধ প্রমাণ করা জটিল হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিবাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজিবুল ইসলাম বলেন, “কাজী রওশন আলমকে নিয়ে আমরা বেশ বিপাকে আছি। বারবার সতর্ক ও নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি নিজের ভুল সংশোধন করছেন না।”

সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্টার হাফিজা হাকিম রুমা বলেন, “তার বিরুদ্ধে শত শত মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু চরম চতুরতার আশ্রয় নেওয়ায় দাপ্তরিকভাবে প্রমাণ করা কঠিন হয়। সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া মাত্রই আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest