হাসান হাদী: যতই দিন যাচ্ছে, ততই বেপরোয়া হয়ে উঠছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তৃণমূল সংগঠনগুলো। জেলা ও থানায় দলীয় কোন্দলে মারামারি, হানাহানি ও সংঘর্ষের ঘটনা এখন নিয়মিত। সম্প্রতি অন্তত ২০ জেলায় দলীয় কোন্দল গড়িয়েছে মারামারি-প্রাণহানির পর্যায়ে। এ কারণে তৃণমূলের সাংগঠনিক রাজনীতি অনেকটাই নাজুক হয়ে পড়েছে। তৃণমূলের এমন পরিস্থিতিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এতটাই শঙ্কিত যে, বিরোধপূর্ণ জেলাগুলোয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তারা বৈঠকেও বসতে শুরু করেছেন। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এসব ঘটনাকে কোন্দল বলতে নারাজ। তাদের দাবি, এসব ঘটনা ‘বড় পরিবারের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি’। এগুলোটা ‘ঠাণ্ডা লড়াই মাত্র। সাতক্ষীরাতেও দলীয় কোন্দল এতটাই তীব্র যে, যেকোন মূহুর্তে তা সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশংকা করছেন অনেেকেই। আর এ কোন্দল নিরসনে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের ডাকে ঢাকায় আগামি ৪ মে বৃহস্পতিবার বৈঠক হওয়ার কথা সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা থেকে নির্বাচিত দলীয় তিন জন সংসদ্য সদস্যকে নিয়ে।
বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল সংগঠনের মধ্যে চলা কোন্দলের মধ্যে সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের ঘটনা।
স্থানীয় সংসদ সদস্যকে এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না করা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। জেলার বিজয়নগরে নবনির্মিত উপজেলা প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্বোধনের পূর্ব-নির্ধারিত তারিখ ছিল ২৩ এপ্রিল। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের বিজয়নগর সফর কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয় আগেই। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ তুলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ এই সফরের বিরোধিতা করে। তারা কর্মসূচি বর্জনের পাশাপাশি মন্ত্রীর সফর ঠেকাতে হরতালের ডাক দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
আর চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিংপুলের নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবিতে ঘেরাও কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশের গুলিতে আহত হন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ২৫ নেতাকর্মী।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির সুইমিংপুল নির্মাণের পক্ষে। অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর অবস্থানের বিপক্ষে। জেলার দুই শীর্ষ নেতার বিরোধিতার জের ধরেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রক্ত ঝরেছে।
এছাড়া, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কোন্দলে জর্জরিত সাংগঠনিক জেলাগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা ছাড়াও রয়েছে, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, খুলনা জেলা, রাজশাহী জেলা, নাটোর, নওগাঁ, বরিশাল মহানগর, ভোলা, পিরোজপুর, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র গত তিন বছরে রাজনৈতিক কোন্দল ও অন্যান্য ঘটনা নিয়ে হত্যাকাণ্ডের যে বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাতে দেখা যায়, ২০১৬ সালে রাজনৈতিক সংঘাতে দেশে ১৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের ৮৩ জন আওয়ামী লীগের। ২০১৫ সালে রাজনৈতিক সংঘাতে প্রাণ হারানো ১৫৩ জনের মধ্যে ৩৩ জন এবং ২০১৪ সালে নিহত ১৪৭ জনের মধ্যে ৩৪ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। তাদের বেশিরভাগই দলীয় কোন্দলে নিহত হয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করতে তৃণমূলের এসব দ্বন্দ্ব, কোন্দল, বিবাদ-বিরোধ দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। নির্বাচনের আগেই তৃণমূলের এই কোন্দল নিরসনে প্রতিটি জেলা-থানার নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে এরই মধ্যে তিন জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষও করেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্ব্চনের আগে দলীয় কোন্দল নিরসনে ধারাবাহিক বৈঠক করছি। আশা করি এ কোন্দল নিরসন করতে পারব।’
তবে কেন্দ্রের এ উদ্যোগকে আমলে নিচ্ছেন না তৃণমূলের নেতারা। শুধু তাই নয়, অনেক জেলার নেতারা স্থানীয় পর্যায়ে মারামারি-হানাহানি পর্যন্ত গড়ানো ঘটনাগুলোকে কোন্দল বলতেও রাজি নন। এসব ঘটনা তাদের কাছে ‘ঠাণ্ডা লড়াই’। তারা বলছেন, রাজনীতিতে এগুলো স্বাভাবিক ঘটনা, এগুলো থাকবেই।

কে এম রেজাউল করিম : অতিমাত্রায় খানা, খন্দকে পরিণত হওয়ায় সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ মহাসড়ক চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আর এতে প্রাণহানি লেগেই থাকছে। সাতক্ষীরার দক্ষিণঞ্চালের একমাত্র সড়কটি দিয়ে সাদা সোনা চিংড়ি, কাঁকড়া, আমসহ বিভিন্ন দ্রব্য রপ্তানি করা হয়। প্রতিদিন লাখো মানুষ এই রাস্তাটি দিয়ে সর্বস্থরের মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় কর্ম সম্পাদন করে। শহরগামী সড়কটি অতিমাত্রায় নষ্ট হওয়ায় শিক্ষার্থীদেরও সঠিক সময়ে পৌছাতে বিলম্ব হয়। অন্যদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা, বিভাগীয় শহর বা ঢাকাতে যেতে অনেকটা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষ এটাই ধরে নিয়েছে যে, তাদেরকে এ ভাঙা চোরা সড়কের মধ্যদিয়ে চলতে হবে। আশা হারিয়ে নিরাশায় পরিণত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেবহাটা উপজেলার সীমান্ত সাতক্ষীরা সদর আলিপুর শেষ হয়ে পুষ্পকাটি হতে কালিগঞ্জ উপজেলায় বেজরআটি শেষ হয়েছে। আর এই দীর্ঘ প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রধান সড়কের বেহালদশা। উপজেলার বহেরা বাজার হতে আশুমার্কেট পর্যন্ত কয়েকশত ছোটবড় গর্ত, পারুলিয়া কদবেলতলা মোড়, ডেলটা পিয়ার আলীর মোড়, নওয়াপাড়র হাদিপুর হতে বেজরআটি মোড় পর্যন্ত সড়কে অতিমাত্রায় বড় বড় গর্তে প্রতিনিয়তই ছোট-বড় ঘটছে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। জেলা শহরের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের এই একমাত্র মাধ্যমটি দীর্ঘদিন ধরেই চলাচলের অনুপযোগি হয়ে উঠলেও কখনো চোখ পড়ছে না সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তাদের। তাদের কাছেই যেন জিম্মি এখন জেলা ও দক্ষিণাঞ্চলের লাখো লাখো মানুষ। রৌদ্রে ধুলো-বালিতে জনসাধারণ হাফিয়ে উঠেছে। দীর্ঘ এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন থেকেই সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তাদের অযতœ আর আবহেলায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হলেও মেরামতের উদ্যোগ নেই। এতে করে সাতক্ষীরা জনপদের সর্বস্তরের মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হলেও সড়কটি সংস্কারে গৃহীত হয়নি কোন কার্যকর ও যুগোপযোগি ব্যবস্থা। ২০১৬-১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ২০-২৫ টি তাজাপ্রাণ ঝরেগেছে। আর অসংখ্য মানুষ হারিয়েছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রার সক্ষমতা। দুর্ঘটনায় কবলিত যাত্রীরা বলছেন, অদক্ষ চালক আর সড়কের বেহালদশায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তাছাড়া বাংলাদেশ যখন এগিয়ে চলেছে ঠিক তখনি সড়কে বেহালদশায় জীবনহানিতে অনেকটা বাধাগ্রস্ত করছে। যদি সঠিক উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয় তাহলে অনেকটা উন্নয়ন পিছিয়ে পড়বে দক্ষিণঞ্চালের। শুক্রবার দেবহাটা উপজেলার ডেলটা মোড় এলাকায় অতিমাত্রায় সড়কে গর্ত থাকায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আজগার আলী নামে একজন নিহত ও ৩০জন আহত হয়েছেন। আর এভাবে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় অনেক স্বজন তাদের আপনজন হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। শুক্রবার ঘটে যাওয়া দুর্ঘটানার প্রত্যক্ষদর্শী কামটা গ্রামের আরিফুল ইসলাম জানান, কালিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরা জ- ১১০০০৬ বাসটি চাঁদপুরের ডেলটা এলাকায় আসলে সাতক্ষীরা থেকে আসা মালবোঝায় একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে যেয়ে সড়কের অসংখ্য গর্তে বাসের চাকা পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। তখন বাসটির চালক উপায় না পেয়ে রাস্তার পাশে একটি গাছে মেরে দেন। গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে বাসটি কাঁত হয়ে পড়েন। এতে বাসটির হেলপার পিশে মারা যায় এবং যাত্রীরা আহত হন। পরে আহতদের নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দুর্ঘটনা কবলিত এলাকাগুলোতে বিশেষ সংকেত, স্প্রিড ব্রেকারসহ কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবি জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রাণ কোম্পানির উন্মুক্ত ম্যাক্স কোলা মাস্তি কনসার্টের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া কনসার্ট চলে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে আম পাড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সংসদ ভবনের পাশে চন্দ্রিমা উদ্যানে সদ্য ঘোষিত ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণের নতুন কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিএনপি মহাসচিব। সেসময়ই এ ঘটনা ঘটে।
পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি : পাটকেলঘাটার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি উত্তর পাড়ার মতিয়ার পেশকারের বাড়ির আঙিনার বাগান থেকে একটি চিতা বাঘের বাচ্চা আটক পূর্বক উদ্ধার করেছে স্থানীয় এলাকাবাসি।
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করার অভিযোগে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল গ্রামের তিন জামায়াত-বিএনপির নেতা কর্মীসহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বড়দল গ্রামের মৃত দাউদ আলী মালীর ছেলে ও স্থানীয় ইউনিয়ন স্বোচ্ছসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান মালী বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।
বিয়েতে দাবি করেছিল বরপক্ষ মোটর সাইকেল কিনে দিতে হবে। কন্যাপক্ষ রাজি হয়। কিন্তু বিয়ের দিন বরপক্ষ বেঁকে যায়। তাদের কনে পক্ষের দেয়া মোটর সাইকেল পছন্দ না। চাই আধুনিক মডেলের দুই গুণ দামের। কনে পক্ষ এবার নড়েচড়ে বসে। গ্রামবাসীরাও মেনে নিতে পারেনি বরপক্ষের এই ‘লোভ’ আচরণ।
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪১ জন আটক হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।