সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগতালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

পাল্টাতে যেয়ে ভেঙে যাচ্ছেন মোস্তাফিজ

ইনজুরির আগে ৯ ম্যাচে ২৬ উইকেট। পরের ১৮ ম্যাচে ১৩ উইকেট। দুটি ভিন্ন সময়ের এই চিত্রই বলে দেয় মোস্তাফিজুর রহমানের কিছু একটা হয়েছে। দুই সময়ের বোলিংয়ের ভিডিও বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, কিছু মৌলিক দিক পরিবর্তন করতে যেয়ে নিজের সহজাত শক্তিকে ভেঙে ফেলছেন সাতক্ষীরার তরুণ।

মোস্তাফিজের এই পরিবর্তন অনেকের মতো চোখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারের গুরু নাজমুল আবেদিন ফাহিমেরও। তিনি বললেন, ‘খেয়াল করে দেখবেন, আগে বল ছাড়ার সময় সে স্টাম্পের খুব কাছে থাকত। এখন দূরে থাকে। আগে স্টাম্প-টু-স্টাম্প বল করতো। যার কারণে কাটার এবং স্লোয়ার খুব বিপজ্জনক হতো। এখন ক্রিজের বেশ বাইরের দিক থেকে বল করায় আগের মতো ফলপ্রসূ হচ্ছে না।’

গত বছর জুলাইতে ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতে যেয়ে ইনজুরিতে পড়েন কাটার মাস্টার। এরপর আগস্টে ফোর্টিয়াস ক্লিনিকের অভিজ্ঞ অর্থোপেডিক সার্জন অ্যান্ড্রু ওয়ালেস বাংলাদেশের এই পেসারের কাঁধে অস্ত্রোপচার করেন। এর ভেতর বাংলাদেশ দলে পেসারদের কোচ হয়ে আসেন কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশ। মোস্তাফিজকে ইনজুরি মুক্ত রাখতে তার বোলিংয়ে কিছু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন তিনি।

এখন ফিজের বল স্টাম্প থেকে বেশ দূরে পিচ করে। যার কারণে ব্যাটসম্যানরা শট খেলতে ভয় করে না।

মোস্তাফিজ সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে। ভারতের বিপক্ষে সেদিন ৬ ওভার বল করে ৫৩ রান দিয়ে উইকেটহীন ছিলেন। এই অবস্থা ছিল প্রায় প্রত্যেক ম্যাচে। শুধুমাত্র নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি উইকেট পান। তাও ৫২ রান দিয়ে।

বাঁহাতি পেসারদের সবসময় স্বাভাবিক ইনসুইং থাকে। মোস্তাফিজের সেটা নেই। কাটার আর ইনসুইংয়ের সমন্বয় করতে যেয়ে এখন জট পাকিয়ে ফেলছেন!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ডি ভিলিয়ার্সদের হেসে খেলেই হারাল ইংল্যান্ড

এবি ডি ভিলিয়ার্সের দলকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টি-টুয়েন্টি সিরিজে দারুণ শুরু করেছে ইংল্যান্ড। বুধবার রাতে রোজ বোলে সাউথ আফ্রিকার ছুঁড়ে দেয়া ১৪৩ রানের লক্ষ্য ৩৩ বল হাতে রেখেই টপকে যায় ইয়ন মরগানের দল।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ডি ভিলিয়ার্স ও ফারহান বেহারদিনের অপরাজিত অর্ধশতকে নির্ধারিত ওভারে ৩ উইকেটে ১৪২ রান তোলে আফ্রিকানরা। ইংলিশরা সেটি হেসে খেলেই টপকে যায় জনি বেয়ারস্টোর অপরাজিত ফিফটি ও অ্যালেক্স হেলসের প্রায় ফিফটিতে।

জবাব দিতে নেমে জেসন রয় ও হেলসের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত শুরু পায় স্বাগতিকরা। ৩ চার ও ২ ছয়ে ১৪ বলে ২৮ রানে ফিরেছেন রয়। পরে বেয়ারস্টোকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৯৮ রান যোগ করে ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন হেলস। নিজে ৩ চার ও ২ ছয়ে ৩৮ বলে ৪৭ এবং বেয়ারস্টো ৬ চার ও ২ ছয়ে ৩৫ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে জেজে স্মুটের (০) বিদায়ে শুরু হয় সাউথ আফ্রিকার। দলীয় রানও তখন শূন্য। পরের ওভারেই ফিরে যান রেজা হেনড্রিক্স (৩)। দ্রুত তাদের অনুসরণ করেন ডেভিড মিলার (৯)।

সেই চাপ আর সামলে উঠতে পারেনি প্রোটিয়ারা। প্রায় ১৬ ওভার অবিচ্ছিন্ন থেকে ডি ভিলিয়ার্স ও বেহারদিন ১১০ রানের জুটি গড়লেও তাদের মন্থর জুটির মূল্য দেয় দল। ডি ভিলিয়ার্স ৪ চার ও ২ ছয়ে ৫৮ বলে ৬৫ এবং বেহারদিন ৪ চার ও ২ ছয়ে ৫২ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। কিন্তু দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি এই মারকুটে তারকা।

আগামী শুক্রবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুদল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সৌদি আরবের নতুন যুবরাজ সম্পর্কে পাঁচটি তথ্য

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বাবা ক্ষমতায় বসার পর থেকেই আস্তে আস্তে তিনি আলোচনায় আসা শুরু করেন, আর এখন ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণার পর সিংহাসনের একধাপ পেছনে রয়েছেন বিন সালমান।

৩১ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমান খুবই দ্রুতই রাজনীতিতে জায়গা করে নিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোও তাঁর নিয়ন্ত্রণে।

সৌদি আরবের ভবিষ্যত বাদশাহ সম্পর্কে যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন।

প্রতিরক্ষা খাতে তাঁর অবদান

২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে সালমান বিন আবদুল আজিজ সিংহাসনে আরোহণের পর বেশকিছু রদবদল করেন। তাঁর ছেলেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব দেন।

২৯ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ বিন সালমান।

তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পরেই ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে।

সৌদি আরবে অর্থনীতিতে তেল নির্ভরতা কমাতে চান মোহাম্মদ বিন সালমান

সৌদি কাউন্সিল অব ইকোনমিক এন্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের প্রধান মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে দেশটির অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।

সৌদি আরবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য প্রকাশিত তাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, যা ভিশন ২০৩০ নামে পরিচিত।

ওই পরিকল্পনা প্রকাশ করে তিনি এটাও বলেছেন যে “আমরা তেল ছাড়াই চলতে পারবো, ২০২০ সালের মধ্যেই এমনটা নিশ্চিত হবে”।

নতুন এই যুবরাজ সৌদিদের কাছে অন্যতম একটি রোল মডেলও হয়ে উঠেছিলেন।

অর্থনৈতিক সংস্কারের যে পরিকল্পনা মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষণা করেছেন সেটাক অবশ্য ‘উচ্চাভিলাষী” বলে বর্ণনা করেছে আইএমএফ । একইসাথে এই লক্ষ্যে পৌঁছানোও একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড বা আইএমএফ।

ইরানের সাথে সম্পর্কে তিনি কোনো পরিবর্তন আনবেন সেই সম্ভাবনা নেই

প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার সম্ভাবনা গত মাসেই বাতিল করে দেন প্রিন্স মোহাম্মদ।

সিরিয়া ও ইয়েমেনে যে লড়াই চলছে তাতে দুদেশ দুই পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সৌদি আরবে এক শিয়া নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবার পর দুই দেশের সম্পর্কে আরো অবনতি হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম ওই শিয়া নেতার মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাকে ‘এক অভ্যুত্থান’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছিল সৌদি আরবকে এ ঘটনার জন্য কড়া মূল্য দিতে হবে।

রাজপরিবারের ক্ষমতা আরো বেশি দৃঢ় করেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান

তাঁর বাবা বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ সিংহাসনে বসার আগে থেকেই ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যথেষ্ঠ ঘনিষ্ঠ ছিল।

২০০৯ সালে তাঁর বাবার বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান মোহাম্মদ বিন সালমান। সেই সময়ে রিয়াদের গর্ভনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় এসে বাদশাহ সালমান তাঁর ছেলেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেন এবং ভাতিজা মোহাম্মদ বিন নায়েফকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেন।

ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হলেও মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের তেল নীতি বাস্তবায়ন ও ব্যবসা পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছিলেন। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অস্ত্র আমদানিকারক এই দেশের বিপুল প্রতিরক্ষা বাজেটও ছিল তার নিয়ন্ত্রণে।

মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্যও তাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছেন, যা ভিশন ২০৩০ নামে পরিচিত।

তিনি রাজপরিবারের সদস্য

মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্ম ১৯৮৫ সালের ৩১শে আগস্ট। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের তৃতীয় স্ত্রী ফাহদা বিনতে ফালাহ বিন সুলতানের সন্তান মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি রাজপরিবারের বেশিরভাগের মতোই তিনি সৌদি আরবেই তার পড়ালেখা শেষ করেছেন।

কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেছেন বিন সালমান।

তাঁর একজন স্ত্রী রয়েছেন, দুই কন্যা ও দুই পুত্রের জনক সৌদি আরবের নতুন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
চীনের শেনঝেন যেভাবে কর্দমাক্ত গ্রাম থেকে মেগাসিটি

১৯৮০ সালের মে মাস। চীন সরকার শেনঝেন নগরীকে এক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বলে ঘোষণা করলো। ইয়ং ইয়া এখনো মনে করতে পারেন সেসময়ের শেনঝেন। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি সেখানে এসেছিলেন।

“শেনঝেন তখন একটা বিরাট গ্রামের মতো। সেখানে কিছু কারখানাও ছিল। তবে মনে হচ্ছিল সেখানে সারাক্ষণই নতুন বাড়ি তৈরির কাজ চলছে।”

১৯৮৪ সালে ইয়াং ইয়া-র মা যে কারখানায় কাজ করতেন, সেটা শেনঝেনে সরিয়ে নেয়া হলো। ফলে তাদেরও সেখানে চলে যেতে হলো।

চীনের উপকুল বরাবর চারটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছিল। চীন সরকার তাদের অর্থনীতি নিয়ে এক নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছিল। এটি ছিল তারই অংশ।

তাদের লক্ষ্য সমাজতান্ত্রিক পরিকল্পিত অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতির দিকে যাওয়া। আরও সহজ করে বললে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যেই তারা পুঁজিবাদী অর্থনীতি চালু করতে চাইছিল।

মেরি অ্যান ও ডনেল একজন শিল্পী এবং এথনোগ্রাফার। তিনি শেনঝেনে আছেন ১৯৯৫ সাল থেকে। কিভাবে একটা কর্দমাক্ত গ্রাম থেকে শেনঝেন হয়ে উঠলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মেগাসিটি, তার শেষ পর্বটা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন।

“আশির দশকে শেনঝেনে লোকজন আসতে এই কারণে নয় যে এটি দারুণ আকর্ষণীয় কোন জায়গা ছিল। শেনঝেনে তখনো নির্মাণযজ্ঞ চলছে। কাদামাখা একটা জায়গা। বিদ্যুত আসে যায়। বর্ষা মওসুমে শেনঝেন বন্যায় ভেসে যায়। সেখানে পানি-নিস্কাশন ব্যবস্থা মোটেই ভালো নয়। কাজেই লোকজন এখানে এ কারণে আসতো না যে এটা একটা দারুণ নগরী। লোকজন এখানে আসতো কিছু একটা শুরু করার ইচ্ছে নিয়ে।”

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণার আগে শেনঝেন ছিল মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা। শেনঝেন প্রসিদ্ধ ছিল শুকর, শামুক আর লিচুর জন্য। কিন্তু জায়গাটি ছিল ব্রিটিশ কলোনি হংকং এর খুবই কাছে।

১৯৬০ এবং ৭০ এর দশকে হংকং এক বিরাট অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠে এর গভীর সমূদ্র বন্দরের কারণে। কমিউনিষ্ট চীন আর বাকী বিশ্বের মাঝখানে হংকং ছিল এক সুবিধেজনক জায়গায়। চীনের সঙ্গে হংকং সীমান্তে কড়াকড়িও ছিল কম। এই সুযোগে শেনঝেনে যেসব পণ্য তৈরি হতো, সেটি বাইরে বিক্রির জন্য হংকং হয়ে উঠলো এক সুবিধেজনক জায়গা।

মেরি অ্যান ও ডনেল বলছিলেন, “শুরুতে তাদের আইডিয়াটা ছিল দোকান থাকবে সামনে, আর কারখানা পেছনে। অর্থাৎ শেনঝেনে স্থাপিত হবে কারখানা, কারণ এখানে উৎপাদন খরচ কম পড়বে। এরপর এখান থেকে পণ্য নিয়ে যাওয়া হবে হংকং এ। সেখানকার বন্দর থেকে চীনা পণ্য যাবে বাকী বিশ্বে।”

কী ধরণের পণ্য তখন শেনঝেনে উৎপাদিত হচ্ছিল?

“এটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। তখন আসলে তারা সব কিছুই করছিল। ধরুণ ১৯৯০ এর দশকের শুরুতে আপনি সনি ওয়াকম্যানে গান শুনছেন। সেটি তৈরি হয়েছে শেনঝেনে। আপনি একটি বুমবক্স কিনেছেন। সেটি শেনেঝনে তৈরি। নিকন্যাক্স, সস্তা সাবান, বলতে পারেন্ তখন সবকিছুই শেনঝেনে তৈরি হচ্ছে।”

ইয়ং ইয়া যখন শেনঝেনে এসে পৌঁছান তখন তাঁর মা ইলেকট্রনিক শিল্পে একজন প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। মা মেয়ে তখন থাকেন এক ডরমিটরিতে।

” কোম্পানি থেকেই আমাদের সেখানে থাকতে দেয়া হয়েছিল। সেখানে আরও দুই মহিলা থাকতেন। আমাদের থাকতে হতো একটি রুমে। কিন্তু তখন আমাদের কারই সেরকম ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছিল না। কাজেই আমাদের সেরকম অসুবিধা হয়নি। আমরা আমাদের জিনিসপত্র রাখতাম খাটের নীচে।”

শেনঝেনে তখন চীনের সব জায়গা থেকে লোকজন আসছে কাজ করতে। ইয়াং ইয়ার পরিবার এসেছিলেন চীনের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ জিয়াং থেকে।

“আমার শিক্ষক এবং সহপাঠী যারা ছিলেন, তারা এসেছিলেন চীনের নানান জায়গা থেকে। কাজেই তাদের সবার আঞ্চলিক ভাষা আর উচ্চারণ ছিল ভিন্ন। এমনকি শিক্ষকরা পর্যন্ত। আশি থেকে নব্বুই শতাংশ মানুষ কথা বলতো ক্যান্টনিজ ভাষায়। আমার কাছে সেটাকে একটা বিদেশি ভাষা বলে মনে হতো। কাজেই আমাকে ভাষাটা খুব দ্রুত রপ্ত করতে হয়েছিল।”

যে গতিতে তখন শেনঝেন বাড়ছে, তা মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতো।

“আমি দেখতে পাচ্ছিলাম যে শহরটা খুব দ্রুত বড় হচ্ছে। একটা জায়গাকে আপনি যেসব দালান কাঠা দিয়ে চেনেন, সেটা কিন্তু আমি শেনঝেনে যাওয়ার প্রথম দশ বছরে মধ্যে কয়েক মাস পরপরই বদলে যাচ্ছিল। কারণ তখন সেখানে সারাক্ষণই নতুন নতুন ভবন তৈরি হচ্ছিল।”

১৯৮৬ সালে যখন প্রথম শেনঝেনের মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয়, তখন অনুমান করা হয়েছিল যে সেখানে দু হাজার সাল নাগাদ জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে দশ লাখে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটলো, দুহাজার সাল নাগাদ শেনঝেনের জনসংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো সম্ভবত এক কোটিতে।

জনসংখ্যা যেভাবে হুহু করে বাড়ছিল, তার সঙ্গে শেনঝেনের অবকাঠামো তাল রাখতে পারছিল না। শেনঝেন যেহেতু খুব দ্রুত বাড়ছিল, দ্রুত বদলাচ্ছিল, তাই সেখানে সম্ভাবনাও ছিল বিপুল। শেনঝেন যেন সবাইকে হাতছানি দিচ্ছিল।

শেনঝেন মানুষকে যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এনে দিল, তার সঙ্গে তারা যেন ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক স্বাধীনতা ভোগ করার সুযোগ পেল।

মেরি অ্যান ও ডনেল বলছিলেন, “সেখানে সেক্স ট্যুরিজম শুরু হলো, পতিতাবৃত্তি শুরু হলো। কিন্তু সেখানে নারী-পুরুষের ডেটিং এ যাওয়ারও সুযোগ তৈরি হলো। মাও জেদং এর যুগে নারী-পুরুষকে কঠোরভাবে আলাদা করে দেয়া হয়েছিল, প্রেমকে একটি বুর্জোয়া ধারণা বলে সমালোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু শেনঝেন যেন একেবারেই আলাদা। এখানে আপনি যেন সবধরণের সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে পারেন। যেটা কিনা পাঁচ বছর আগেও হয়তো ভাবা যেত না।”

কিন্তু যেভাবে শেনঝেন গড়ে উঠছিল, সেটা যে সবাই পছন্দ করছিল তা নয়।

যারা চাইছিল মার্কসবাদী আদর্শের ভিত্তিতে চীনের রাজনৈতিক অর্থনীতির ভিত্তি রচিত হোক, তাদের কাছে মনে হচ্ছিল শেনঝেনের এই পরীক্ষা একটা বেশি তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু লোকজন কিন্তু শেনঝেনকে পছন্দ করছিল ঠিক একারণেই।

ইয়ং ইয়া এখন একজন সঙ্গীত শিল্পী। তিনি বলছিলেন, শেনঝেন ছিল যেহেতু একেবারে নতুন, এবং এটি সবসময় বদলাচ্ছিল, কাজেই এখানে কারও কোন স্থানীয় পরিচয় তৈরি হচ্ছিল না, যেটা অন্য কোন শহরে বেড়ে উঠলে হয়।

“একটা শহরের যে কোন চরিত্র নেই, সেটাকে একটা র্দুবলতা বলেই আপনার মনে হবে। কিন্তু শেনঝেনের এই দুর্বলতাই হয়তো তার শক্তি। যখন কোন শহরের বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য থাকে না, তখন সেটার জন্য আপনার কোন দায়িত্ববোধও থাকে না। আমি বলবো শেনঝেন একটা মুক্ত শহর, স্বাধীন শহর।”

সূত্র :  বিবিসি বাংলা

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বুধহাটায় ছাত্রলীগের ইফতার মাহফিল

মোস্তাফিজুর রহমান : আশাশুনি উপজেলার বুধহাটায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আযোজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় বুধহাটা বিবিএম কলেজিয়েট স্কুল হলরুমে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম বাবু’র সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী সামছুর রহমান রাজু’র পরিচালনায় ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ সভাপতি প্রভাষক মাহবুবুল হক ডাবলু, যুবলীগ নেতা নুরুজ্জামান জুলু, উপজেলা তাঁতীলীগ আহবায়ক এম এম সেলিম রেজা, তরুণলীগ আহবায়ক ইদ্রিস আলী, যুগ্ম আহবায়ক আজহারুল ইসলাম ও রিপন হোসেন, সাতক্ষীরা জিয়া হল ছাত্রলীগ সেক্রেটারী রবিউল ইসলাম, সমাজ সেবক মোঃ রফিক আহম্মেদ, বুধহাটা ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ সভাপতি কেসমত আলী, সেচ্ছা সেবকলীগ সহ সভাপতি তাইজুল ইসলাম ও ইউনুছ আলী, যুবলীগ নেতা মোঃ রুবেল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান হোসেন, শিমুল গাজী, মুত্তাদীর হোসেন, মনিরুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম প্রমুখ। ইফতার মাহফিলে দেশ ও জাতির শান্তি সমৃদ্ধি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত ও সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রূহের মাহফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মোসবাউল ইসলাম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আশাশুনি প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল

মোস্তাফিজুর রহমান : আশাশুনি প্রেসক্লাবের আয়োজনে ইফতার মাহফিল ও এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলা বিআরডিবি মিলনায়তনে ইফতার উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায়  সভাপতিত করেন প্রেক্লাবের সভাপতি জিএম মুজিবুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন আশাশুনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএমডি মোস্তাকিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুষমা সুলতানা, থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিদুল ইসলাম শাহীন, আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব রুহুল আমীন, জেলা পরিষদের সদস্য এসএম দেলোওয়ার হোসেন, মহিতুর রহমান, ওসি তদন্ত আক্তারুজ্জামান, ইউপি চেয়ারম্যান আ.ব.ম মোসাদ্দেক, এসএম রফিকুল ইসলাম, স, ম সেলিম রেজা মিলন, ম. মোনায়েম হোসেন,্ প্রাক্তন চেয়ারম্যান স.ম সেলিম রেজা সেলিম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান, নির্বাচন অফিসার রাকিবুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হান্নান, সমাজসেবক ঢালী সামছুল আলম, আ’লীগ নেতা রাশেদ সরোয়ার শেলী, প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা একেএম ইমদাদুল হক, সুবোধ চক্রবর্তী, প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক জিএম আল ফারুক, সাবেক সেক্রেটারি এসএম আহসান হাবিব, আশাশুনি রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সম্পাদক সোহরাব হোসেন, সাংবাদিক এস এম সাহেব আলী। প্রেসক্লাবের যুগ্মসম্পাদক মাসুদুর রহমানের উপস্থাপনায় এসময় সাংবাদিক সমীর রায়, আলী নেওয়াজ, গোলাম মোস্তফা, আকাশ হোসেন সাংবাদিক আমীর হামজা, হাসান ইকবাল মামুন, মনিরুল ইসলাম মনি, আব্দুল বারিসহ সমাজের সর্বস্তরের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা মসজিদের ইমাম মাওঃ আঃ গফফার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রতি আসনে ৩ জন প্রার্থী বাছাই করছে আ. লীগ

আসনভিত্তিক মনোনয়ন পাবেন একজন। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রত্যেক আসনে তিন জন করে প্রার্থী বাছাই করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরই অংশ হিসেবে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রত্যেক আসন থেকে তিন জন প্রার্থীর নাম বাছাই করার কাজে সম্পৃক্ত হয়েছে। এছাড়া দলের কতিপয় নেতাকেও এ কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
নেতাদের ভালো-মন্দ নিয়ে গণমাধ্যমে  প্রকাশিত তথ্যও আমলে নেওয়া হচ্ছে বাছাই প্রক্রিয়ায়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। দলটির মনোনয়ন বোর্ডের দুজন সদস্য এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্যও দুই/তিন সেট প্রার্থী বাছাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো- আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে কোথাও প্রার্থীর ক্যারিশমা, আবার কোথাও দলের ক্যারিশমাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাই প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি আসনে তিন জন  প্রার্থী বাছাই করে রাখছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে। সভাপতির ঘনিষ্ঠ এই নেতারা আরও জানান, আগামী নির্বাচনকে শেখ হাসিনা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমলে নেওয়া হচ্ছে- দলের নেতাকর্মীদের কাছে ‘গুড ইমেজ’ আছে কিনা, রাজনীতিক হিসেবে এলাকায় কতটা পরিচিত, সংগঠক হিসেবে কতটা দক্ষ,  সততা, নিষ্ঠা, শিক্ষা ও দলের জন্যে ত্যাগ-তিতীক্ষা কেমন, এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।।

প্রত্যেক আসনে বাছাই করা এসব প্রার্থীর মধ্য থেকেই আগামী নির্বাচনে নৌকার টিকিট দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এরসঙ্গে তৃণমূল থেকে পাঠানো তালিকাও দেখা হবে। তৃণমূলের পাঠানো নামের সঙ্গে বাছাই করা তালিকার নামগুলো আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এরপর চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের তিন জন নেতা জানান, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাসহ একাধিক মাধ্যম জড়িত। একাধিক মাধ্যমে উঠে আসা ‘কমন’ নামগুলো সর্বাদিক গুরুত্ব পাবে।

এ প্রসঙ্গে জানাতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনও প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার আগে বিভিন্ন ভাবে যাচাই-বাছাই করেন। এবার আগে থেকেই এ যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছেন তিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এবার সবচেয়ে সেরা প্রার্থীদের হাতে নৌকার টিকিট তুলে দেবেন দলীয় সভাপতি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রার্থী বাছাই করার কাজ চলছে অনেক আগ থেকেই।  বিভিন্ন সংস্থাসহ একাধিক মাধ্যমে এই বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গ্রহণযোগ্যরাই পাবেন আগামী নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন।’

দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘প্রার্থী যাছাই-বাছাই আওয়ামী লীগের রুটিন কাজ। তাই এ কাজগুলো নির্বাচন পর্যন্ত চলবে।’ তিনি বলেন, ‘আগামীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে আমরা আশা করি। তাই প্রস্তুতিও পরিকল্পনা মাফিক নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে গত মঙ্গলবার (২০ জুন) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আওঢামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংস্থা তথ্য সংগ্রহ করছে। এর ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচনে এমপি মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই অগ্রহণযোগ্যদের এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
যে স্কুলে নেই ক্লাসরুম, নেই বাড়ির কাজ

নিউজিল্যান্ডে গড়ে উঠেছে দারুণ মজার এক স্কুল। সেই স্কুলে ক্লাসরুম নেই, চেয়ার টেবিল নেই। খোলা মাঠে শিশুরা খেলছে, গাছে উঠছে, পানিতে মাছ ধরছে। আর বাড়ির কাজ? তার তো কোনো বালাই-ই নেই।

স্কুলটির নাম ডিপ গ্রিন বুশ স্কুল। মজার এই স্কুলের সহপ্রতিষ্ঠাতা জো মনকার্জ। স্কুলটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা এটাকে স্কুল বলি ঠিকই, কিন্তু এখানে স্কুলের মতো কিছু নেই। আমরা কখনো শিশুদের বলি না যে এখন শেখার সময়। যখন তাদের এটা করতে ইচ্ছে করে তখন তারা এটা করে।’

আগে প্রথাগত স্কুলগুলোতে শিক্ষকতা করতেন মনকার্জ। পাঁচ বছর সেখানে কাজ করার পর হতাশ হয়ে তিনি সেই কাজ ছেড়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ডিপ গ্রিন বুশ স্কুল। যেখানে নেই ক্লাসরুমের কোনো দেয়াল, চেয়ার বা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়।

মূলধারার স্কুলগুলো শিশুদের ভবিষ্যতের বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করতে শেখায় না এমন ভাবনা থেকে মনকার্জ তাঁদের স্কুলের জন্য পরিকল্পনা করেছেন। যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যার কথা মাথায় রেখে এখানে শিশুদের শিকার, সংগ্রহ এবং টিকে থাকার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আবহাওয়া ভালো থাকলে বেশিরভাগ সময় বাইরেই কাটায় শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ঝোপঝাড়ে ঘুরে বেড়ায়, মাছ ধরে, শিকার করে, কীটপতঙ্গ ধরে এবং বিভিন্ন গাছ ও গুল্ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানে।

যখন শিক্ষার্থীরা নিজেরাই আগ্রহী হয় তখন তাদের নিজ নিজ দক্ষতা অনুযায়ী পড়তে, লিখতে ও অঙ্ক করতে শেখানো হয়। তখন নয়, যখন শিক্ষকরা প্রয়োজন মনে করেন। মনকার্জ বলেন, ‘আমরা প্রথাগতভাবে বাচ্চাদের সমস্যাগুলো নিয়ে চিন্তা করি না। আমাদের অভিভাবকরা মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় তাঁদের সন্তানদের অখুশী এবং চাপের মধ্যে থাকতে দেখেন। কিন্তু একজন শিশুর কি স্কুল থেকে অসন্তোষ হয়ে বাড়ি ফেরা উচিত? কিন্তু বেশিরভাগ মূলধারার স্কুলে তাই হয়।’

স্বাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিউজিল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বুশ গ্রিন স্কুলটির নিবন্ধন করা। যুক্তরাজ্যের সামারহিল স্কুল থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই স্কুলটি তৈরি করা হয়েছে। জানুয়ারিতে স্কুলের কার্যক্রম শুরু পর থেকে নিউজিল্যান্ডের অন্য শহর ও অন্য দেশ থেকে স্কুলের শাখা খোলার অনুরোধ আসতে শুরু করে মনকার্জের কাছে।

ধীরে ধীরে মূল ধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চান মনকার্জ। তিনি বলেন, তাঁরা আলাদা বা বিশেষ ধরনের কোনো শিক্ষা দিচ্ছেন না। লাখ লাখ বছর ধরে অভিভাবকরা এভাবেই তাঁদের সন্তানদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তারা শুধু সেই পদ্ধতিন নতুন করে প্রয়োগ করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest