সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪১ বোতল বিদেশি মদ জব্দ  সাতক্ষীরায় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ২০ গ্রামের মানুষের ঈদ উল ফিতর উদযাপনসাতক্ষীরায় শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্রসদরঘাটের মৃত্যু: দুর্ঘটনা নয়-এক নির্মম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবিসাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের কমিটি গঠন: সামাদ সভাপতি, রাজীব সম্পাদককালিগঞ্জে চোরাই ভ্যানসহ আটক-০৩মোটরসাইকেলের জ্বালানি সংকটে ঈদযাত্রা ব্যাহত : বিপাকে বাইকাররাকলারোয়ায় ২৫০ অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণসাতক্ষীরায় নির্যাতিত মোটর শ্রমিক একতা ঐক্যের পরিচিতি সভাসাতক্ষীরা জেলা রোভার স্কাউটস এর ঈদ সামগ্রী বিতরণ

unnamedনিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ শাখার আংশিক কমিটির অনুমোদন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ এহসান হাবীব অয়ন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের অনুমোদিত এ কমিটি’র সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম রাহাত, মো. আলমগীর হোসেন, নিউটন হালদার, মো. আজমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন শিকদার, নয়ন হালদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজারুল ইসলাম সবুজ, অর্নব সাঈদ, প্রচার সম্পাদক রসিফুর রহমান দ্বীপ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় অবৈধ লটারি চলছেই ; এ যেন হীরক রাজার দেশ!
প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ র্যাফেল ড্র'র টিকিট

প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ র্যাফেল ড্র’র টিকিট

এম বেলাল হোসাইন : এ যেন হীরক রাজার দেশ! নৈতিকতা, আইন, প্রশাসনের ভাবমূর্তি কোন কিছুর পতিই কারও তোয়াক্কা নেই। আছে শুধু দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের ঘরে ঘরে অশান্তির বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয়া র‌্যাফেল ড্র’র আড়ালে অসুস্থ লটারি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পাচ্ছে না কোন মূসক, মানা হচ্ছে না নীতিমালা, উপেক্ষা করা হচ্ছে এইচএসসি’র মত গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা। এক মাসেরও অধিককাল পর করে মেলার মোলিক উদ্দেশ্যকে পায়ে ঢেলে চলছে অবৈধভাবে অর্থ লুণ্ঠনের খেলা।
কথা হচ্ছে তালা উপজেলার তেঁতুলিয়ায় কবি সিকান্দার আবু জাফরের ৯৮তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেলা নিয়ে।
এ মেলার প্রকৃত উদ্দেশ্য আর মেলাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যে অনৈতকতার চর্চা চলছে তা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। কিন্তু প্রশাসনের ছত্রছায়ায় বরং চলছে এসব। গত পরশু রাতে অনুষ্ঠিত র‌্যাফেল ড্র’য় পুরস্কার জিতিছেন স্বয়ং তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সম্পূর্ণ অবৈধ এই র‌্যাফেল ড্র’য় তার অংশ নেয়ার কোন সুযোগ না থাকলে তিনি বলছেন, এমনিই টিকিটি কটেিেছলেন!
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক জানাচ্ছেন, সাতক্ষীরার গর্ব কবি সিকান্দার আবু জাফরের ৯৮ তম জন্মজয়ন্তী পালনের আড়ালে সেখানে সাধারণ জনগণের পকেট কাটার মহা উৎসব। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তালা ও এর আশপাশের পরিবেশ। দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ দিনের স্বল্প আয়ের একটি বড় অংশ কার্যত এই র‌্যাফেল ড্র নামক প্রকাশ্য জুয়ায় ব্যয় করছে।
২০ টাকায় নতুন মটরবাইক পাওয়ার আশায় প্রতিদিন লাটারির টিকিট কেটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষই লটারি নামক ধোকার শিকার হচ্ছেন। তবে এ মেলার টিকিট শুধু সাধারণ মানুষই ক্রয় করেছেন তা নই। তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরিদুল ইসলামও টিকিট ক্রয় করেছিলেন(!)। তিনি অবশ্য মটরসাইকেল পুরস্কার পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুরস্কার জেতার কথা স্বীকার করে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরিদুল ইসলাম বলেন, সবাই লাটারি কেটেছে। আমিও আনন্দ করে কটেছি। তাছাড়া আর কিছুই না। মেলার খরচ তোলার জন্য এখানে লটারি চলছে। এখানে কোন নগ্ন নৃত্য, জুয়া বা অন্য কিছুই হচ্ছে এমন প্রমান দিতে পারলে মেলা সেইদিনই বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর এবিষয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সচিবের সাথে যোগাযোগ করেন।
এদিকে শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সচিব শেখ মোশফিকুর রহমান মিল্টন বলেন, মেলার প্রধান সমন্বয়ক হলেন ইউএনও সাহেব। আমি তো শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে যা করা দরকার তা করছি মাত্র। আর সেখানে পরিচ্ছন্ন মেলা হওয়ার কথা। যদি কোন অপ্রীতিকর কিছু হয় সেটা বন্ধ করা উচিত।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন জানান, সেখানে কোন অশ্লীল কিছু পরিবেশন করার অনুমতি দেয়া হয়নি। আমি খোঁজ নিয়েছি সেখানে অশ্লীল কোন কিছু হচ্ছেও না, তবে তিনি অবৈধ লটারি ব্যাপারে বরাবরের মত বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে তালা-কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফূলাহর গত ১৬ এপ্রিল অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডেইলি সাতক্ষীরার এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনের ফেসবুক লিংকে লিখেছেন ‘শুধু বন্ধ নয়, তদন্ত পূর্বক এর বিচার করা উচিৎ।’
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে একাধিকবার এধরনের অবৈধ লটারির টিকিট বিক্রির সময় জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বন্ধ করে দিলেও বর্তমানে এর কোন আলামত দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে তাদের কোন আগ্রহ আছে বলেও জনগণ মনে করছেন না। এ যেন হীরক রাজার দেশ!

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

5555এম. বেলাল হোসাইন : তীব্র তাপদাহ, নিম্নমানের রেণু ও ভাইরাসের কারণে মারা যাচ্ছে সাতক্ষীরার সাদা সোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ি। জেলার অসংখ্য চিংড়ি ঘেরে এ অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় মাথায় হাত উঠেছে চিংড়ি চাষিদের। দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হলে বাগদা চাষে আগ্রহ হারাবেন বলে জানান চাষিরা।
অভিজ্ঞদের অভিযোগ, একটি ভারতীয় আধা-নিবিড় খামার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে সরকারি-বেসরকারি কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিয়ে এ জাতীয় মড়কের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে ব্যাপারটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে প্রচুর নি¤œমানের ভারতীয় রেণু চোরাই পথে এনে দেশিয় মোড়কে বাজারজাত করে কিছু অসাধু পোনা ব্যবসায়ী। এসব চিংড়ি পোনাও সাতক্ষীরার চিংড়ি চাষের জন্য বড় রকমের হুমকি বলে মন করেন বিশেষজ্ঞরা।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে ৫৪ হাজার ৯৩৫টি ঘের রয়েছে। সাতক্ষীরায় এ বছর ৬৬ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হচ্ছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।
গত বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন হয়েছিল ২৬ হাজার ৮০০ মেট্রিন টন।
সাধারণত আট থেকে ১৪ পিপিটি লবণাক্ত পানি বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য উপযোগী। এক টানা সূর্যতাপের কারণে পানিতে লবণাক্ততার পরিমান অনেক বেশি। গতবছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও এবার লক্ষ্য্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখানে এক বিঘা থেকে তিন হাজার বিঘা জমিতে সনাতন পদ্ধতির মাছের ঘের আছে। অধিকাংশ ঘেরে পানির গভীরতা দেড় থেকে দুই ফুটের বেশি নয়।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের চিংড়ি চাষী ইমদাদুল হক জানান, জেলার আইলা দুর্গত শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া, রায়মঙ্গল, কপোতাক্ষ ও কালিন্দি নদীর উপকূলবর্তী এলাকায় সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি সবচেয়ে বেশি চাষ হয়ে থাকে।
এ ছাড়াও কালীগঞ্জ, দেবহাটা, সাতক্ষীরা সদর, তালা ও কলারোয়া উপজেলার কপোতাক্ষ, কাঁকশিয়ালী, বেতনা নদীর দুই পাশে চিংড়ি চাষ একেবারে কম নয়। এসব এলাকায় চিংড়ি চাষের জন্য এক বিঘা জমি লিজ নিতে হয় প্রতি বছরের জন্য ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকায়। মৌসুম শুরুতইে চট্টগ্রাম, কলাতলী ও কক্সবাজারের এলাকার বিভিন্ন হ্যাচারির সরবরাহকৃত রেণু ঘেরে ছাড়া হয়।
তবে অনেকেই দ্বিতীয় গ্রেডের হ্যাচারির রেণু পোনা ব্যবহার করে থাকে। তবে ঘেরে রেণুপোনা ছাড়ার আগে যথাযথভাবে তার গুণগত মান পরীক্ষা করা হয় না।
লবণাক্ত পানিতে বাগদা চিংড়ির পাশাপাশি মিষ্টি পানিতে গলদা চিংড়ির চাষও হয়ে থাকে। এবার এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রচ- তাপদাহে নদীর পানির লবণাক্ততা বাড়তে শুরু করে। একই সাথে পানি গরম হয়ে চিংড়িতে ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তারা আরো জানান, রেণু ছাড়ার পর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঘের থেকে বাগদা চিংড়ি ধরা শুরু করা হয়। এসময় কয়েকটি ঘেরের পানিতে অজানা ভাইরাসের কারনে বাগদা মরে তা ভাসতে দেখা যায়। ভাইরাসের আক্রমণ ও তীব্র তাপদাহে পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া চিংড়ি মারা যাওয়ার কারণ বলে তারা মনে করেন। বর্তমানে বিভিন্ন ঘেরের চিংড়ি মরে উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় ভয়ে ছোট অব্স্থায় চিংড়ি ধরতে বাধ্য হতে হচ্ছে চাষিরা। ফলে বিদেশে পাঠানোর জন্য মাছের সেটে ওইসব চিংড়ি বিক্রি না হওয়ায় স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৪০০ টাকা থেকে  ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চিংড়ি চাষ করতে আসা ব্যবসায়ীদের লোকসানে পড়ে মাথায় হাত উঠেছে।
আধুনিক পদ্ধতিতে সরকারিভাবে চিংড়ি চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আবারো সুদিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা।
আশাশুনি এলাকার চিংড়ি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর এ সময় তার সেটে ২০ থেকে ২৫ মণ চিংড়ি কেনা বেচা হতো। গত এক মাস যাবৎ প্রতিদিন দুই মণ মাছ বেচা কেনাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসা মন্দা যাওয়ায় তাদের কর্মচারিদের বেতন দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
চিংড়ি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মশিউর রহমান পলাশ বলেন, গত বছর বাংলাদেশ প্রথম বারের মত ওই ভাইরাস দেখা দেয়। এটি প্রথম ধরা পড়ে ২০০৯ সালে চায়নায়, ২০১০ সালে ভেতনাম, ১১ সালে ইন্দোনেশিয়া, মালিয়া, ১২ সালে থাইলান্ডে ও ২০১৩ সালে ভারতে ধরা পড়ে। এরপর ২০১৬ সালের দিকে আমাদের দেশে ধরা পড়ে। ওই ভাইরাস বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে মূলত ভারত থেকে আসা নিম্নমানের ডিম ও পোনা(নাপলি) আমদানির কারণে। তবে তিনি মাছে ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাপমাত্রা ৩৪০ ডিগ্রি হলে, পানির ঢ়ঐ ৮৫ এর উপরে গেলে, পুকুরের তলায় অধিক মাত্রায় কালোমাটি জমা হলে ও খামার ব্যবস্থাপনা ত্রুটি হলে মাছ ওই রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগের লক্ষণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, পোনা ছাড়ার ৩০ দিন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ছোট চিংড়ি মাছের মৃত্যু মাছের খাদ্যনালী আংশিক খালী থাকা।
এদিকে একটি নির্ভর যোগ্য সূত্রে থেকে জানা গেছে, ওই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ হচ্ছে, একটি ঘেরে যখন রোগ ধরা পড়ে। ওই ঘের মালিকরা তার সমাধানের জন্য কোন বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা না বলে ঘেরের পানি সেচে নদী ও বা পাশ্ববর্তী খালে ফেলে দেন। এছাড়াও ভারতের সিপি কোম্পানির এই ব্যবসায়ী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি কারো কাছে না জানিয়ে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেন। এতে করে দেখাযায় উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়।
শুধুমাত্র ভাইরাসের কারণই ঘেরে চিংড়ি মারা যাচ্ছে এমন অভিযোগ ঠিক নয়। সনাতন পদ্ধতিতে এখনো ঘের পরিচালনা করায় পরিচর্যা সঠিকভাবে করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে চিংড়ির খাদ্য হিসেবে ঘেরে প্রয়োজনীয় উপাদান (ফাইটো পাঙ্কটন ও জুপাটন) তৈরি হয় না। পানির গভীরতা কম থাকায় তীব্র তাপদাহে মাছ মারা যাচ্ছে। তাছাড়া হ্যাচারিতে ১০ পিপিটি লবণাক্ততার পানিতে রেণু উৎপাদনের পর তা পরিশোধিত না করে যেকোন পিপিটিযুক্ত পানিতে রেণু ছাড়ার ফলে এক মাস না যেতেই নতুন পানির সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে চিংড়ি মারা যাচ্ছে। তাছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাপর পদ্ধতিতে চিংড়ি রেণুকে বিভিন্ন ধরণের পোকা মাকড় প্রতিরোধে শক্তিশালী না করতে পারাটাও চিংড়ি মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
অপরদিকে যখন কোন ঘেরে এটি ধরা পড়ে তখন কিছু অসাধু কোম্পানি তাদের পণ্য বিক্রি করার ঘের মালিকদের অসহায়ত্বের সুযোগ গ্রহণ করেন। এবিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করছেন। সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি নির্ভর সাতক্ষীরার অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে চাষিদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি ঘেরে ভাইরাসমুক্ত উন্নতমানের রেণু পোনা ব্যবহার করার ব্যবস্থা করতে হবে।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, সারা দেশের উৎপাদিত বাগদা ও গলাদার মধ্যে এক তৃতীয়াংশ উৎপাদিত হয় সাতক্ষীরা জেলায়। এ জেলায় শুধু বাগদা ও গলদা নয়, রুই ও তেলাপিয়া ছাড়াও অন্যান্য মাছ উৎপাদিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাগদা চিংড়ির বিশেষ সমস্যা হয়ে থাকে। বাগদা চিংড়ি উৎপাদনে ঘেরে পানির গভীরতা তিন ফুট বা এক মিটার রাখার জন্য চাষিদের পরামর্শ দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা তা মানছেন না। তাছাড়া তীব্র তাপদাহে কম গভীরতা আছে এমন ঘেরের মাটির তলদেশ থেকে এমোনিয়াম সালফেট পানিতে ছড়িয়ে পড়ে মাছ মরে যেতে পারে। ছত্রাকের কারণে চিংড়ি মারা গেলেও ভাইরাস ও চিংড়িতে মড়ক লাগার অন্যতম কারণ। এছাড়া ১৯৯৪ সাল থেকে বাগদা মাছে ভাইরাস লেগে আছে। এটি বন্ধ করার কোন ওষুধ আমাদের কাছে নেই। এটা নিয়েই বাস করতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

895 ডেস্ক রিপোর্ট : আছিয়া খাতুনের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা, মা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টায় দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের হিরারচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, জেলা আইনজীবী সমিতির নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, জজ কোর্টের পিপি ও বিদ্যালয়ের সভাপতি এড. ওসমান গণির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার দেবাশিষ সিংহ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডা. রমজান আলী মোড়ল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের আহবায়ক মাহমুদ আলী সুমন, আজকের সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও অতিরিক্ত পিপি সৈয়দ জিয়াউর রহমান বাচ্চু, পৌর আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, দৈনিক দৃষ্টিপাতের মফঃস্বল বার্তা সম্পাদক ও ভোরের ডাকের জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মাদ আলী সুজন, দৈনিক কালের চিত্রের মফঃস্বল বার্তা সম্পাদক মেহেদী আলী সুজয়।333
বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদ, সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান, সাইফুল ইসলাম, হিরারচক জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওঃ আফতাবুজ্জামানসহ সকল ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ। এর আগে এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের মা’কে ফল ও ওষুধ মূুখে তুলে খাইয়ে দেয়। একই সাথে শিশু শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে তাদের মায়েদের পা ধুয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, মরহুমা আছিয়া খাতুন জেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, জেলা আইনজীবী সমিতির নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি ও বিদ্যালয়ের সভাপতি এড. ওসমান গণির মাতা ও সাবেক সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম এড. এএফএম এন্তাজ আলীর বড় ভাবি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

77777মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৩১২ নং আসনের সংসদ সদস্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামী সভাপতি মিসেস রিফাত আমিনের ৬৬তম জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদিকা ও পৌর কাউন্সিলর জ্যোন্সা আরা, যুগ্ম সম্পাদিকা লায়লা পারভীন সেঁজুতি, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী মাহফুজা রুবি, সুলেখা চন্দ্র দাস, রোকসানা, মাহমুদা, রওশনআরা রুবি, হেলেনা পারভীন প্রমুখ। পরে উপস্থিত সকলকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দীর্ঘদিন পর এক মঞ্চে জেলা আ.লীগের দুই কর্ণধর

ডেস্ক রিপোর্ট:
দীর্ঘদিন পর সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের দুই কর্ণধর জেলা সভাপতি মুনসুর আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এক মঞ্চে দেখলেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার সাতক্ষীরা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ছাত্রলীগের জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশে তারা উভয়েই অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তাদেরকে এক সাথে দেখে আ.লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত আনন্দিত হন। এদের অনেকেই সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য। তবে মঞ্চে এই দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কোন কথা না হলেও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যের শুরুতে সভাপতি মুনসুর আহমেদ সম্পর্কে বলেন, “মঞ্চে উপবিষ্ট আছেন বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের সংগ্রামী সভাপতি মুনসুর আহমেদ….।”Ñ তার এ ধরনের সম্বোধনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দলের নেতা-কর্মীরা। উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট তিক্ততা থেকে সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের দুই শীর্ষ নেতা দলের জেলা সভাপতি মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তাদের উভয়ের ঘনিষ্টরা বিভক্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের কর্মকা-ে কার্যত স্থবিরতা চলছে। ক্ষমতাসীন এই দলটির নিবেদিত প্রাণ হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকরা বিষয়টি নিয়ে বেশ বিব্রত। তারা এর অবসান চান। অনেকেই এই প্রতিবেদককে বলেন, আগামী নির্বাচনে সাতক্ষীরায় ভালো ফলাফল করতে হলে দলীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। যত দ্রুত বিরোধ মিটিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব দলীয় কর্মকা-ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারবেন ততই মঙ্গল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মঙ্গলবার রাতে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি পর্বের ম্যাচটি ৪-২ গোলে জিতেছে রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে তাদের জয় ৬-৩ ব্যবধানে। প্রথম পর্বে ২-১ গোলে জিতেছিল জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা।

নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বায়ার্নের বিপক্ষে রিয়ালের শেষ গোলটি করেন বদলি নামা মার্কো আসেনসিও।

প্রতিপক্ষের উপর রিয়ালের টানা আক্রমন আবার কখনও বা স্বাগতিকদের সীমানায় বায়ার্নের একচেটিয়া প্রভাব। এভাবে এগিয়ে চলা ম্যাচের ২৬তম মিনিটে দানি কারবাহালের আচমকা শটে এগিয়ে যেতে পারতো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান মানুয়েল নয়ার।

দুই মিনিট পর এই অর্ধের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পায় জিদানের দল। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল দাভিদ আলাবা-মাটস হুমেলসরা বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে ফাঁকায় পেয়ে যান সের্হিও রামোস। তার জোরালো শট গোললাইনের কাছ থেকে ফেরান জেরোমে বোয়াটেং।

৩৭তম মিনিটে প্রতি-আক্রমণে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন রোনালদো। বাঁ-দিকে ছিলেন করিম বেনজেমা; কিন্তু পাস না দিয়ে নয়ারের বরাবর শট মেরে বসেন পর্তুগিজ ফরোয়াড।

শুরু থেকে বায়ার্ন বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণ করলেও প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে খেই হারিয়ে ফেলে রবের্ত লেভানদোভস্কি-আরিয়েন রবেনরা। বিরতির আগে তারা মোট আটটি শট নেয়; কিন্তু তার কোনোটিই ছিল না লক্ষ্যে।

প্রথমভাগের ব্যর্থতা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে দারুণভাবে আক্রমণে উঠতে থাকে অতিথিরা। ৫০তম মিনিটে বিনা বাধায় রবেনের নেওয়া হেড গোললাইন থেকে হেড করে ফেরান মার্সেলো।

তিন মিনিট পরেই লেভানদোভস্কির সফল স্পট কিকে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। বাঁ-দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকা রবেনকে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার কাসেমিরো ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি।

চোট কাটিয়ে ফেরা পোলিশ স্ট্রাইকার লেভানদোভস্কির এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটা অষ্টম গোল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৯। ইউরোর সেরার প্রতিযোগিতার এবারের আসরে ১১ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন বার্সেলোনার লিওনেল মেসি।

এগিয়ে গিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বায়ার্ন। ৫৭তম মিনিটে কিছুটা কঠিন হলেও আর্তুরো ভিদাল সুযোগ পেয়েছিলেন ব্যবধান দ্বিগুণ করার। কিন্তু ক্রসবারের উপর দিয়ে বল উড়িয়ে মারেন চিলির এই মিডফিল্ডার।

শুরু থেকে নিজেকে তেমন মেলে ধরতে না পারা বেনজেমাকে ৬৪তম মিনিটে তুলে নেন জিদান, নামান মার্কো আসেনসিওকে।

বলতে গেলে ধারার বিপরীতেই ৭৬তম মিনিটে সমতায় ফেরে রিয়াল। ডান দিক থেকে কাসেমিরোর ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান রোনালদো।

স্বাগতিকদের সমতায় ফেরার স্বস্তি অবশ্য দুই মিনিটও স্থায়ী হয়নি। খেলা শুরু হওয়া মাত্রই আত্মঘাতী গোল খেয়ে বসে। ছয় গজ বক্সের বাইরে বল নিজেদের আয়ত্তেই ছিল; কিন্তু রামোসের পায়ে টোকা লেগে বল চলে যায় গোললাইন পেরিয়ে।

৮৪তম মিনিটে আসেনসিওকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ভিদাল।

অতিরিক্ত সময়ের অষ্টম মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন দগলাস কস্তা। কিন্তু তার কোনাকুনি শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে আসেনসিওর নীচু কোনাকুন শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান নয়ার।

এর কিছুক্ষণ পরেই ফের কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোল পেয়ে যায় রিয়াল। ১০৪তম মিনিটে রামোসের উঁচু করে বাড়ানো বল বুক দিয়ে নামিয়ে নীচু হাফ-ভলিতে জালে পাঠান রোনালদো। এই তারকা ফরোয়ার্ড অফসাইডে ছিলেন বলে আবেদন করে বায়ার্নের খেলোয়াড়েরা; কিন্তু রেফারি গোলের বাঁশি বাজান। টিভি রিপ্লেতেও দেখা যায়, অফসাইডে ছিলেন রোনালদো।

এর পাঁচ মিনিট পরেই হ্যাটট্রিক পূরণ করেন রোনালদো। মার্সেলোর পাস ধরে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি।

এবারের আসরে রোনালদোর এটা সপ্তম এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে ১০০তম গোল। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তার এটা ১০৩তম গোল।

তিন মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়িয়ে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন আসেনসিও। ডি-বক্সের মধ্যে থেকে নীচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন স্পেনের এই মিডফিল্ডার।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

satkhira-picture-tree-18-04-17img_20170410_133457সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত কাটা খালের ভিতর ও তার দুই পাশের বেঁড়িবাধের মাটি কেটে বাইপাস সড়কের কাজে লাগানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে সেখাকার বেঁড়িবাধের দু’ ধারের বড় বড় গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে।
একটি স্বার্থন্বেষী মহল এখানকার মাটি ও বড় বড় গাছ বিক্রি করে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। শুধু মাটি ও গাছ নয় খালের একাধিক স্থান থেকে গোপনে বালি উত্তোলনও করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়ের খাল থেকে একটি শাখা থানাঘাটা থেকে বের হয়ে লাবসা ইউনিয়নের দেবনগরের উপর দিয়ে বেতনানদীতে মিশে গেছে। আর এ খাল দিয়ে সাতক্ষীরা শহরসহ অত্র অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন হয়। তবে এবার শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই লাবসা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান শাহনেওয়াজ ও ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি আবুল কালাম উক্ত খালের ভিতরের ও বেঁড়িবাধের মাটি কেটে তা বাইপাস সড়কের কাজে লাগাচ্ছেন বলে স্থানীয় এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন। তারা উক্ত খাল ও বেঁড়িবাধ থেকে অপরিকল্পিতভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাটি কেটে নিচ্ছেন। বেঁড়ীবাধ কেটে মাটি নেয়ার কারণে সেটি এতই চিকন হয়ে গেছে যে এবারের বর্ষামৌসুমে ওই বেঁড়ীবাধ ভেঙে লাবসা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর, মাগুরা ও কৈখালীসহ একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার হেক্টর ফসল নষ্ট হতে পারে বলে আশংকা করছেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে লাবসা ইউনিয়নের ৬ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি আবুল কালাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খালের মাটি কাটা হচ্ছে এটা সঠিক। তবে বিক্রি করা হচ্ছে না। খালটি দীর্ঘদিন অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় পানি উন্নয়নের বোর্ডের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে খালের মাটি কেটে তা বাইপাস সড়কের কাজে লাগানো হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বাইপাস সড়কের ৩ কিলোমিটার রাস্তার ঠিকাদার তিনি। আর এ কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি সংগ্রহ করে তা বাইপাসের কাজে লাগাচ্ছেন।
এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বর আসাদুলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইলে সংযোগ না পাওয়ায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বেঁড়িবাধের ধারের গাছ কেটে নেয়ার ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা জোতিন্দ্র নাথ সরকার জানান, আমাদের জমি খালের ভিতর চলে গেছে। আর খালের ধারে বেঁড়িবাধে আমরা গাছ লাগিয়েছি এবং আমরাই তা প্রয়োজনে তা কেটে নিচ্ছি। তিনি আরো জানান, গাছ কাটার বিষয়টি নায়েব এসে দেখে গেছেন।
এ ব্যাপারে লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার কানে এসেছে। আমি তাদের বলেছি ডিসি সাহেবের অনুমতি নিয়ে মাটি কাটার জন্য। এর পর আর আমি কিছু জানিনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest