সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪১ বোতল বিদেশি মদ জব্দ  সাতক্ষীরায় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ২০ গ্রামের মানুষের ঈদ উল ফিতর উদযাপনসাতক্ষীরায় শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্রসদরঘাটের মৃত্যু: দুর্ঘটনা নয়-এক নির্মম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবিসাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের কমিটি গঠন: সামাদ সভাপতি, রাজীব সম্পাদককালিগঞ্জে চোরাই ভ্যানসহ আটক-০৩মোটরসাইকেলের জ্বালানি সংকটে ঈদযাত্রা ব্যাহত : বিপাকে বাইকাররাকলারোয়ায় ২৫০ অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণসাতক্ষীরায় নির্যাতিত মোটর শ্রমিক একতা ঐক্যের পরিচিতি সভাসাতক্ষীরা জেলা রোভার স্কাউটস এর ঈদ সামগ্রী বিতরণ

0a32128c255acfe221abdbfe10ef51b9নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতে পাচারের সময় সাতক্ষীরার ভোমরার লক্ষিদাড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে ৫০ ভরি ওজনের ৫টি স্বর্ণের বারসহ এক চোরচালানীকে আটক করেছে বিজিবি। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সীমান্তের বিজিবি’র বাঁশকল চেকপোস্ট এলাকা থেকে এই স্বর্ণ আটক করা হয়।
আটক চোরাচালানীর নাম এছহাক আলী গাজী (৪৫)। সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীদাড়ি গ্রামের মৃত বাহার আলী গাজীর ছেলে।
বিজিবি জানায়, স্বর্ণের একটি বড় চালান ভারতে পাচারের জন্য সাতক্ষীরা শহর থেকে ভোমরা সীমান্তের দিকে আনা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ভোমরা বিওপি’র কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার হায়দার আলীর নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহল দল বাঁশকল চেকপোষ্ট এলাকায় অভিযান চালায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি মটর সাইকেল দ্রুত গতিতে চালিয়ে বাঁশকল চেকপোষ্ট অতিক্রম করে ভোমরা সীমান্তের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তার গতিরোধ করে। এসময় মটর সাইকেলটি থামিয়ে  তল্লাশীর এক পর্যায় মটর সাইকেলের তেলের ট্যাংকির মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৫০ ভরি ওজনের ৫ পিচ স্বর্ণের বার উদ্ধার করে বিজিবি সদস্যরা। স্বর্ণ চোরচালানের অভিযোগে এ সময় মটর সাইকেল চালক এছহাক আলী গাজীকে আটক করে বিজিবি।
সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আরমান হোসেন (পিএসসি) এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আটক স্বর্ণের ওজন ৫০ ভরি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। এঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি আরো জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

455544 444সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপি উন্নয়নকে সহ্য করতে না পেরে খালেদা জিয়া এর  বিরোধিতা করছেন। দেশে বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গিবাদ উস্কে দিয়ে খালেদ জিয়া ও তার ছেলে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন। বঙ্গবন্ধু দেশের ক্রান্তিকালে যে ভাবে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন ঠিক একই ভাবে ছাত্রলীগের সকল নেতা-কর্মীদের ঝাপিয়ে পড়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারন করে তার কন্যার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হচ্ছে তা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের রুখে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে ছাত্রলীগকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিানর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশে এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে। মহান মুক্তিযোদ্ধার সময় দেশে ১৭ হাজার ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী তাদের জীবন  উৎসর্গ করেছিল।
সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বিকাল ৪ টায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হুসাইন সুজনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গোলাম রসুল বিপ্লব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফয়সাল আমীন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইসফাক আবির হাওলাদার, উপ-ত্রান বিষয়ক সম্পাদক জি এম শরিফুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবীব অয়ন, জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান, সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী আক্তার হোসেন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ছাত্রলীগ সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করবে। তিনি এ সময় সাতক্ষীরায় চিত্র তুলে ধরে বলেন, ২০১৩ সালে শান্ত সাতক্ষীরাকে অশান্ত করে তুলেছিল জামায়াত শিবির। তারা ছাত্রলীগ নেতা মামুনসহ আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের ১৮ নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছিল। সে সময় ছাত্রলীগ মাঠে থেকে তাদের প্রতিহত করেছিল। তিনি আরও বলেন বঙ্গবন্ধুর অসামাপ্ত আত্মজীবনী যে পড়েনি সে ছাত্রলীগ করার যোগ্যতা রাখেনা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

chour_44নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় হঠাৎ করে চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়েছে এলাকাবাসী। প্রতিদিন কোন না কোন এলাকায় চুরি হচ্ছে। এক শ্রেণির উঠতি বয়সি নেশাগ্রস্ত যুবকরা এ সব কাজ করছে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন। গরম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ির মালিকরা জানালা খুলে ঘুমালে জানালা দিয়ে মোবাইল ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়ে চম্পট দিচ্ছে চোরেরা। তাছাড়া রাতে বাইরে কোন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখলে সাকালে উঠে তা আর পাওয়া যাচ্ছে না।
কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা ফজলুর রহমান জানান, প্রায় প্রত্যেক দিন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড এলাকায় চুরি হচ্ছে। এখানে কিছু নেশাগ্রস্ত যুবক রাতে চারিদিকে ঘুরে বেড়ায়। তারা কোন বাড়ির জানালা খোলা বা বাহিরে কোন জিনিস আছে দেখলেই তা চুরি করে নিয়ে যায়। তাছাড়া এই এলাকায় হোস্টেল ও বাসা বাড়ি বেশি হওয়ায় প্রতিদিন চুরি হচ্ছে। বিশেষ করে চোরেরা হোস্টেলে বেশি চুরি করছে। চোরেরা ফলো করে থাকে কোন ছাত্র কখন বাইরে যাচ্ছে। সুযোগ পলেই তারা জানালা দরজা ভেঙে সব কিছু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। গত এক মাসের ব্যাবধানে কাটিয়ায় ভাই ভাই ছাত্রবাসে চারটি মোবাইল ফোন সেট জানালা ভেঙে চুরি করে যায়।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড এলাকায় চোরদের একটি চক্র রয়েছে। এরা গ্রাম অঞ্চল থেকে আসা নিরিহ ছাত্রদের মারপিট ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এদের ভয়ে এলাকায় কেউ কথা বলতে পারে না। এলাকাবাসী চোরদের উপদ্রব থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্লা জানান, দুটি ছেলের কারণে একটি এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হবে এটা মেনে নেওয়া যাবে না। এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

image_68887_0
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতির অনুষ্ঠানে আসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বিপুল জানান, সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক র্পাকে কেন্দ্রেীয় ছাত্রলীগে সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ আসায় আমরা আশাশুনি ছাত্রলীগ ১৪ টি বাস নিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের সামনে আসলে আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলমগীর আলম লিটন আমাদের বাঁধা দেয়। তারা তাদের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতা কমীদের বিভক্ত করে আলাদা করে মিছিল সমাবেশ করে সমাবেশ স্থলে যেতে বলে।  তারা বাঁধা দিলে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমদের নেতা কর্মীদের মারধর করে আহত করে। এবং চেয়ারম্যান তার নিজের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র উচিয়ে গুলি করতে উদ্ধত হয়। এতে তার ্আশিক ও সবুজ নামে দুই নেতা কর্মীকে বেধম মারপিট করে চেয়ারম্যানের লোকজন।
আনুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর আলম লিটন জানান, তার ইউনিয়ন থেকে জেলা ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে আসার জন্য ৬টি বাসে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা আসে। তারা সদর উপজেলা পরিষদের সামনে পৌছালে বিপুলের নেতৃত্বে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এতে আমি নিজে বাধা দিলে বিপুলের নেতৃত্বে তার ও তার নেতাকর্মীর উপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনিসহ শওকত হোসেন ও জহুরুল ইসলাম আহত হন। সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবীব অয়ন জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

745মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : সদরের বাঁশদহা শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের নব-নির্মিত একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষার বিস্তার লাভে দেশের সকল স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার নতুন ভবনসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সদরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার নতুন বিল্ডিং ও অবকাঠামো কাজ করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর-রশিদ, সাতক্ষীরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী তানভীর ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ বিন গফুর, শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. আলতাপ হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বৈকারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান অছলে, শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ দীপক কুমার মল্লিক, ঠিকাদার মোল্যা আওরঙ্গজেব প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে রাজস্ব বাজেট  (কোড নং-৭০১৬) এর আওতায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৬৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫শ’ টাকা ব্যয়ে একতলা একাডেমিক ভবনের (চারতলা ভীত বিশিষ্ট) নব-নির্মিত ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। এসময় সদরের বাঁশদহা শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থরা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

666মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : শহরের কামালনগর তকদীর মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাতে বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। মেঘণা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি অগ্নিকাণ্ডে ২টি ঘরসহ সংরক্ষিত মালামাল সম্পূর্ণরূপে পুরে ছাঁই হয়ে যায়। এসময় পাশে মা ইলেকট্রনিক্স পয়েন্ট ও টেলিকম এবং সততা এন্টারপ্রাইজ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেঘনা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির স্বত্তাধিকারী দীন মোহাম্মদ গাজী (মোকর আলী) জানান, গতকাল আনুমানিক রাত ২ টার দিকে বৈদ্যুতিক সর্ক সার্কিটের কারণে আমার মেঘণা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সংরক্ষিত মালামাল, প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র, আলমারীতে রাখা নগত ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আগুনে পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দিলে তারা আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে আমার মেঘনা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির অর্ধ কোটি টাকার পণ্য ও দামী মালামাল আগুনে পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। এসময় তিনি আর্তনাদ কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে বলেন, “আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

satkhira-2-allaudin-180610ফাহিমুল হক কিসলু : কয়েক বছর পর আবারও চাঞ্চল্যকর শহিদ স ম আলাউদ্দিন হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। নিহতের ৩য় কন্যা লায়লা পারভীন সেঁজুতি আজ আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে মাত্র ১০ হাত দুরে দৈনিক পত্রদূত অফিসে কর্মরত অবস্থায় রাত ১০টার পর দুস্কৃতিকারীদের গুলিতে প্রাণ হারাণ দৈনিক পত্রদূতের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম আলাউদ্দিন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকে। ২০১২ সালে সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালতে সেশন ৫৭/৯৭ (দায়রা), জিআর ২৪৭/৯৬ মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলাটির ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতিপূর্বে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে আদালত। মারা গেছেন বেশ কয়েকজন সাক্ষী। লায়লা পারভীন সেঁজুতি এ মামলায় ১৭তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
এ সময় তিনি আদালতে বলেন, “আসামি আব্দুস সবুর, খলিলুল্লাহ ঝড়–, নগরঘাটার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দু রউফ, সাইফুল্লাহ কিসলু(মৃত), মমিনউল্লাহ মোহন, এস্কেন, শফিউর রহমান শফি, সাইফুল ইসলাম, আতিয়ার রহমান ও আবুল কালাম পরস্পর যোগসাজশে ষড়যনন্ত্রমূলকভাবে পরিকল্পিতভাবে আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দীনকে হত্যা করে।”
সাক্ষীর শুনানি হলেও জেরার জন্য আসামি পক্ষ সময় প্রার্থনা করলে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ জোয়ার্দ্দার মো: আমিরুল ইসলাম সময় মঞ্জুর করে আগামী ২৭ এপ্রিল মামলার পরবর্তী দিন ধার্য্য করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র আইনজীবী এড. এস এম হায়দার, পাবলিক প্রসিকিউটর এড. ওসমান গণি ও অতিরিক্তি পিপি এড. ফাহিমুল হক কিসলু।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এড. আব্দুল মজিদ, এড. লুৎফর রহমান, এড. জহুরুল হক, এড. আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

001বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল সর্বাধিক দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের একটি গ্রাম কালিনগর। গ্রামটি সুন্দরবনের কোল ঘেষে মালঞ্চ নদীর চরে অবস্থিত। একদিকে নদী ও বন অপরদিকে লবণপানির চিংড়ি ঘের। লবণাক্ততা ও নদী ভাঙন প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মানুষের জীবন-জীবিকায় বড় রকমের প্রভাব রেখেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় এ অঞ্চলের মানুষের নিকট গাছের প্রয়োজনীয়তা অধিক। মানুষ তাই ব্যক্তি উদ্যোগে হোক আর সামাজিক উদ্যোগে হোক নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বসতভিটাসহ বনায়ন উপযোগী জায়গাগুলোকে বনায়ন তৈরিতে বেছে নেয়। যাতে করে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় ভূমিকা সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে সংঘঠিত নানাবিধ দুযোর্গের মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় নদীভাঙন অন্যতম প্রধান সমস্যা। নদী ভাঙন রোধে স্থানভেদে স্থানীয় জনগোষ্ঠী নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। চর বনায়ন তার মধ্যে একটি অন্যতম কাজ। নদীর চর বনায়নের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন নদী ও বেড়িবাঁধ ভাঙন রক্ষা পাবে আবার বনায়ন সৃষ্টির ফলে পরিবেশ-প্রতিবেশ সুরক্ষা পাবে, পরিবর্তিত হবে বৈচিত্র্য ও জীবন। সিডর, আইলা ও জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা, জ্বালানী সংকট নিরসন ও পরিবেশ/প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী নদীর চরে বনায়ন গড়ে তোলে। স্থানীয়ভাবে বনায়ন তৈরি ও সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়ন গড়ে তোলা যেমন জরুরি তেমন তা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
নদী ভাঙন, নদীর চর রক্ষা এবং জ্বালানী সংকট দূর করার লক্ষ্যে কালিনগর গ্রামের যুব ও অন্যান্য পেশার মানুষেরা যৌথভাবে নদীর চর বানায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০১৩ সালে স্থানীয় জনগোষ্ঠী মালঞ্চ নদীর চরে বনায়ন কাজ শুরু করে। চর বনায়নের ক্ষেত্রে প্রথম প্রয়োজন হয় বনায়নের স্থান সুরক্ষায় ঘেরা বেড়া প্রদান। তা না হলে গবাদি পশু বনায়নকৃত এলাকায় গজানো চারা খেয়ে ফেলবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠী সবুজ বেষ্টনী তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে প্রথমে তাই বনায়নকৃত স্থানে ঘেরা প্রদান করে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগকে সহযোগিতার মাধ্যমে গতিশীল ও কার্যকরী করে তুলতে বনায়ন সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বারসিক থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ সহযোগিতা করা হয়। নদীর চরে বনায়নের জন্য স্থানীয়রা আলোচনার মাধ্যমে চরের সীমানা নির্ধারণ করে কালিনগর গ্রামের রবীন্দ্র নাথ মন্ডলের বাড়ি থেকে অধীর ম-লের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আধা কি: মি: জায়গায় বনায়নের জন্য। বনায়ন মৌসুমে নির্ধারিত জায়গায় নেট ও গরাণের খাদি (গরানের কচা) দিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠী স্বেচ্ছাশ্রমে প্রথমে ঘিরে রেখে দেন। ঘিরে দেওয়ার সপ্তাহ দুয়ের মধ্যে ঘাসের সাথে চরে ধানী (এক জাতীয় ঘাস) জন্মাতে শুরু করে। জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা সুন্দরবনের বিচিত্র রকম গাছের বিচিত্র ফল ধানীর মধ্যে বসতে থাকে। এরপর আরো কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পর আটকে থাকা বিচিত্রময় ফল থেকে চারা জন্মাতে শুরু করে। ঘিরে দেওয়ার পূর্বে উন্মুক্ত থাকার কারণে চরের দু’এক জায়গায় একটু আধটু ঘাস ও দু’একটা গেওয়া ছাড়া অন্য কোন গাছ বা প্রাণের বৈচিত্র্য লক্ষণীয় ছিল না। ধীরে ধীরে সুন্দরবন থেকে ভেসে আসা বিচিত্র ফলের থেকে বিভিন্ন প্রজাতির চারা (কেওড়া, কাকড়া, বাইন, গেওয়া, গোল) গজিয়ে ধীরে ধীরে বন তৈরি হয়।002
কিন্তু নদীর চর হওয়ায় সময়ের ব্যবধানে ছাগল/কুকুরের আক্রমনের কারণে বনায়নকৃত জায়গার বেড়া কিছু কিছু জায়গায় নষ্ট হয়ে যায়। বনায়ন সংরক্ষণে তাই প্রয়োজন হয় পুনরায় বেড়া সংস্কার। স্থানীয় জনগোষ্ঠী স্বেচ্ছাশ্রমে পুনরায় বেড়া সংস্কারে উদ্যোগী হয়ে ওঠে। প্রয়োজনীয় উপকরণ সহযোগিতার মাধ্যমে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান  বারসিক তাদের এই উদ্যোগকে বেগবান করে তুলতে বেড়া পুনঃসংস্কারে অবদান রাখে। এছাড়া স্থানীয়রা আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করেন বনায়নের বেড়া রক্ষায় যার যার বাড়ির সামনের অংশ সে সে দেখে রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তদারকি ও তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে বনায়ন এলাকায় সবুজায়ন হয়েছে।
ক্ষুদ্র আকারে হলেও নদীর চরে গড়ে ওঠা বনায়নটি স্থানীয় মানুষের ভাঙন রক্ষা, জ্বালানী চাহিদা পুরণ ও বৈচিত্র্য তৈরীতে একটি পর্যায়ে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এছাড়াও স্থানীয় জনগোষ্ঠী মনে করেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাস ও অভিযোজন, বৈচিত্র্য সংরক্ষণের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সমগ্র উপকূল অঞ্চল জুড়ে ব্যাপক হারে বনায়ন করা দরকার। কারণ উপকুলীয় এলাকায় সকল ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে ও জীবন ব্যবস্থা রক্ষায় বনায়ন কার্যক্রমের কোন বিকল্প নেই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest