সর্বশেষ সংবাদ-
উপকূলবাসীর পানি দিবসে কলসবন্ধনশ্যামনগরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪১ বোতল বিদেশি মদ জব্দ  সাতক্ষীরায় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ২০ গ্রামের মানুষের ঈদ উল ফিতর উদযাপনসাতক্ষীরায় শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্রসদরঘাটের মৃত্যু: দুর্ঘটনা নয়-এক নির্মম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবিসাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের কমিটি গঠন: সামাদ সভাপতি, রাজীব সম্পাদককালিগঞ্জে চোরাই ভ্যানসহ আটক-০৩মোটরসাইকেলের জ্বালানি সংকটে ঈদযাত্রা ব্যাহত : বিপাকে বাইকাররাকলারোয়ায় ২৫০ অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণসাতক্ষীরায় নির্যাতিত মোটর শ্রমিক একতা ঐক্যের পরিচিতি সভা

taka20150505234856নিজস্ব প্রতিবেদক : লাবসা ইউনিয়নের দেবগনগরে ঈদগাহের নামে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সংস্কার না করে আত্মসাথের ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে দেবনগর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে কবির হোসেন এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থিত ঈদগাহটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিলো। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান ঈদগাহটি সংস্কারের জন্য কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু উক্ত টাকা থেকে ঈদগাহ সংস্কারের জন্য একটি টাকাও ব্যয় না করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাত করেন। এ টাকা আত্মসাথে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন ফেরদৌস ইসলাম মিষ্টি। এলাকাবাসীর ব্যক্তি উদ্যোগে পরবর্তীতে ঈদগাহটি কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে এ ধরনের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করা হয়। এবিষয়ে ইউপি মেম্বর আসাদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অবশ্যই কাজ করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রুপিংয়ের কারণে একটি মহল এধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

7777নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকায় গ্রিলের তালা কেটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাতে রাজার বাগান উত্তরপাড়া এলাকার মুনছুর আলীর বাড়িতে এঘটনা ঘটে। মুনছুর আলীর বড় ছেলে শাহিনুর রহমান জানান, তার ছোট ভাই হাফেজ শামীমের সাথে একই এলাকার রফিকুলের কন্যা আমেনা খাতুনের বিবাহ হয়। কিন্তু পারিবারিক অশান্তির কারণে গত ২০মার্চ’১৭ তারিখে তাদের ছাড়া ছাড়ি হয়ে যায়। এর ২০ দিন পরে ওই আমেনা খাতুন আমাদের কে হয়রানি করার জন্য ১০ এপ্রিল’১৭ তারিখে সদর থানায় একটি মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আমার পিতা মুনছুর আলী, মাতা সুফিয়া ও আমাকে আসামি করা হয়েছে। অথচ আমি বিগত কয়েকবছর যাবৎ পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকি। এ মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে আমি, আমার পিতা,মাতা ও ছোটভাই বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। যে কারণে রাতে আমাদের বাড়িতে কেউ থাকে না। এ সুযোগে বুধবার গভীর রাতে গ্রিলের তালা কেটে চোরেরা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে একটি এল ই ডি ডিভি, ৪ ভরি স্বর্ণের গহনা, নগদ ২২ হাজার টাকাসহ প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকার মামলা নিয়ে যায়। এছাড়া ঘরের আলমারিসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে তছনছ করে তারা। তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের তালাক প্রাপ্তা স্ত্রী আমেনা আমাদের পথে বসানোর জন্য একের পর বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আমি সম্পূর্ণ আলাদা থাকি। তারপরও আমেনা আমাকে উক্ত মামলায় জড়িয়েছে। যদি আমরা সত্যিই যৌতুক দাবি করতাম তাহলে তালাকের সময় তারা কেন কিছু বলল না। তালাকের ২০ দিন পর তারা বুঝতে পারলো আমরা আমেনার কাছে যৌতুক দাবি করেছি। এ চুরির ঘটনায় আমেনার পরিবারের সম্পৃক্ততা রয়েছে এমনটি দাবি করেন তিনি। স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, গতরাতে শাহিনুরদের বাড়িতে দূর্ধর্ষ চুরির সংঘঠিত হয়েছে। চোরেরা এসময় অনেক টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। তবে কারা করেছে এটি বলতে পারবো না। এছাড়া বর্তমানে চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে শহরের উপরে একের পর চুরি হচ্ছে আমাদের বুঝে আসে না। অবিলম্বে এসব চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

6565 ডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি নিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সংস্থাটির সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট কর্মকর্তা আতিকুল হক বলছেন তাকে অফিস করতে দেয়া হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত ২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি সেরে জেলা ইউনিট কার্যালয়ে আসলে তাকে পরবর্তী ১২ দিন অফিসে না আসার জন্য বলা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব বি.এম.এম মোজহারুল হক এনডিসি স্বাক্ষরিত এক পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি অর্ডার (পি.ও.২৬ অব ১৯৭৩) এর আর্টিকেল ৭.৩ অনুযায়ী নির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ পদাধিকার বলে স্ব-স্ব জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সভাপতির দায়িত্ব বুঝে নেয়ার কথা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: নজ7887রুল ইসলামের। তিনি এ সংক্রান্ত চিঠি পাওয়ার পরপরই সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের কর্মকর্তা আতিকুল হককে জানান, সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করে দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করার ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু ৩ মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও নজরুল ইসলামকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে না দেখে তিনি আতিকুল হককে জানান, বৃহস্পতিবার(২০ এপ্রিল) তিনি অফিসে আসতে চান। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলকে যেন জানানো হয় যে, সবাইকে নিয়ে চেয়ারম্যান মহোদয় চা খেতে চান।
আতিকুল হক বলেন, “চেয়ারম্যান মহোদয় আমাকে বিষয়টি বলার পর বুধবার আমি কমিটির সকল সদস্যকে ফোনে বিষয়টি জানাই। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ফোনে সবকিছু শুনে আমাকে বলেন, “আপনাকে আমি ১২ দিনের জন্য ছুটি দিলাম। আপনাকে কাল থেকে ১২ দিন অফিস করতে হবে না।” বিষয়টি আমি কেন্দ্রের মহসচিব এবং চেয়ারম্যান মহোদয়কে জানিয়ে রাখি। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে আমি ও জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল হক সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ও সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজে রেড ক্রিসেন্ট যুব ইউনিটের দুটি অনুষ্ঠান সেরে অফিসে ফিরে এলে সেখানে উপস্থিত কিছু লোকজন আমাকে অফিস থেকে চলে যেতে বাধ্য করে এবং বলে, “এমপি সাহেব ছুটি দেয়ার পরও আপনি কেন অফিসে এসেছেন? আপনি এখনই অফিস থেকে চলে যান এবং আগামী ১২ দিন অফিসে আসবেন না। এমপি সাহেব সাতক্ষীরায় এলে তবেই আপনি অফিস করবেন।” আতিকুল হক বলেন, “তাদের আচরণে বাধ্য হয়েই আমি অফিস ত্যাগ করে চলে আসি। এর বেশি আমার আর কিছু বলার নেই।”
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টার দিকে সাতক্ষীলা পৌর আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রাশিসহ কয়েকজন সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট অফিসের সামনে উপস্থিত হয়ে অফিস তালাবন্ধ পান।
উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে রাশি বলেন, “আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকলকে জানাতে চাইÑ আপনারা দেখুন রাষ্ট্রপতির আদেশবলে দায়িত্ববলে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বুঝে নিতে চান জেলা পরিষদ নজরুল ইসলাম। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে রেডক্রিসেন্ট কার্যালয় আজ তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে। যাতে করে বৈধ চেয়ারম্যান তার দায়িত্ব বুঝে নিতে না পারেন।” বক্তব্য দিয়েই রাশি নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করেন।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জেলা ইউনিট কর্মকর্তা আতিকুল হককে আমি বুধবার বলেছিলাম উনি যেন সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সকলকে জানিয়ে রাখেন আমি বৃহস্পতিবার বিকালে সবাইকে নিয়ে অফিসে বসে একটু চা খেতে চাই। সে অনুযায়ী রেড ক্রিসেন্টের কিছু আজীবন সদস্য সেখানে গিয়েছিলেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে। তারা আমাকে জানান সেখানে অফিস তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে। তালা বন্ধ থাকায় আমি সেখানে যাইনি। তবে আতিক সাহেব আমাকে জানিয়েছেন তাকে(আতিকুল হককে) অফিসে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এদিকে, এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সাধরণ সম্পাদক শেখ নুরুল হকের মোবাইলে উপর্যুপরি ফোন দিলেও তার ফোনে সংযোগ পাওয়া জায়নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

unnamedগাজী আল ইমরান, শ্যামনগর : আকাশলীনা ইকোট্যুরিজম যেন অগণিত সুন্দরের কলিতে ফোটা একটি ফুল। পূর্বে স্থানটি ছিল নদীর চর, যে স্থানটি বিন্দু মাত্র মূল্য ছিলনা মানুষের কাছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ পর্যটকদের কাছে স্থান পেয়েছে বিনোদনের অন্যতম স্থান হিসাবে। স্থানটির মাধ্যমে সরকার পাচ্ছে রাজস্ব আর শ্রমিকের সূযোগ হয়েছে কর্মসংস্থানের, পর্যটকেরা মিটাতে পারছে তাদের মনের খোরাক। বাংলাদেশের একেবারেই দক্ষিণে অবস্থিত শ্যামনগর উপজেলা। সুন্দরের চাদরে মোড়ানো শ্যামনগর পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভাবনাময় একটি উপজেলা। পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভাবনাময় শ্যামনগরে আকাশলীনা যেন ভোরে সূর্য উকি দেওয়ার মত। উপজেলা প্রশাসনের সম্পূর্ণ তত্বাবধানে সুন্দরবনের এক বারে কোল ঘেষে এবং চুনা নদীর পাড়ে মনোরম পরিবেশে সুন্দরবন ভিত্তিক পর্যটন শিল্পে অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মাচনের লক্ষে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম গত ৪ এপ্রিল২০১৫ তারিখে প্রকল্পটি শুরু করেন। বর্তমানে প্রকল্পটি জেলা প্রশাসন, সাতক্ষীরার তত্ত্বাবধানে উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এ পর্যটন কেন্দ্রটি মন কেড়েছে অসংখ্য পর্যটকের। ছুটির দিনে পর্যটকদের ব্যপক আগমনে পরিপূর্ণ যৌবন ফিরে পায় আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। বলে রাখা দরকার আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজমের মধ্যেই দর্শনার্থীদের জন্য স্থাপিত হয়েছে আব্দুস সামাদ মৎস্য মিউজিয়াম। যেটি আকাশলীনার সৌন্দর্যের সাথে বাড়তি সোন্দর্য্য যুক্ত করেছে। মানব সৃষ্ট পরিবেশ দূষণের কারণে দ্রত জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মাছের আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে দিন দিন মাছ বিলুপ্তের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে আমাদের নতুন প্রজন্ম আমাদের ওই সব সংস্কৃতির নিদর্শন দেখতে পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। বিলুপ্ত এবং বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলে বাস করা বিভিন্ন জলজ প্রাণীর সাথে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই ব্যতিক্রম ধরনের জাদুঘর গড়ে তুলেছে উপজেলা প্রশাসন। জাদুঘরটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের সুন্দরবন অঞ্চল অর্থাৎ উপকূলীয় অঞ্চলের মাছের সাথে পরিচয় ঘটাতে তৈরি করা হয়েছে। তবে মিউজিয়ামটিতে উপকূলীয় অঞ্চলের মাছের সাথে সাথে যদি এ অঞ্চলের সকল প্রাণ বৈচিত্র্যকে যুক্ত করা হয় তাহলে পর্যটকদের কাছে মিউজিয়ামটি আরো প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা যায়। তাছাড়া আকাশলীনা সংলগ্ন শুরু নির্মিত হচ্ছে জেলা প্রশাসক এগ্রো-ফিসারিজ টেকনোলজি পার্ক যেটাকে সাজানো হবে পানির রাজ্যে বসবাসকারি নানান প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম তৈরির মাধ্যমে। আকাশলীনার মাধ্যমে জাগবে মন বাঁচবে সুন্দরবন। একটি আকাশলীনা কিন্তু বাঁচবে হাজার প্রাণ ও প্রাণ বৈচিত্র্য। আর সেই হাজার প্রাণের সমষ্ঠিগত নাম সুন্দরবন। মানুষের অসৎ আচরণের কারণে ধ্বংসের মুখে পৃথিবীর একক সর্ব বৃহৎ ‘ম্যানগ্রোভ’ বা শ্বাসমূলীয় বন। যার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে আসে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের, মূখ ভাবতেই হিম ধরে শরীরে। তবু সুন্দরবন ভ্রমণের নেশাটা পিছু ছাড়ে না পর্যটকের। কেবল জোয়ার ভাটার বৈচিত্র্যই নয়। সুন্দরবনের এক এক এলাকার বৈশিষ্ট্যও ভিন্নতর। তাই বার বার ভ্রমণেও তৃপ্তি মেটে না। প্রতিবারই নতুন অভিজ্ঞতা, পরিচয় হয় নতুন বৃক্ষ, মাছ আর পাখিদের সঙ্গে। সুন্দরী গাছের আচলে আটকে যায় চোখ। নানান ধরণের গাছের অপরুপ সৌন্দর্য্য ভরপুর এ মায়া ভরা বন।কোথাও একক ভাবে আবার কোথাও মিশ্রভাবে গড়ে উঠেছে গেওয়া বন। গেওয়ার সৌন্দর্য আকৃস্ট করে পর্যটকদের, ভ্রমনের সময় নদীর পাড়ের গেওয়ার অপূর্ব সমরোহে নয়ন জড়িয়ে যায় পর্যটকদের। যা মূলত জ্বালানী ও বাড়ির বেড়া হিসাবে ব্যবহার করা হয়। সবাই বলে থাকি সুন্দরবন মায়ের মতন, কিন্তু পিতা মাতার অবাধ্য সন্তান যেমন তার পিতা মাতার সাথে অসৎ আচরণ করে থাকে ঠিক বনের সাথে এর ব্যতিক্রম নয়।বন নির্ভরশীলতা কমাতে আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী এখানকার স্থানীয় গবেষকেরা। তাছাড়া সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি উল্লেখ যোগ্য পরিমান আয় এ স্থানটি থেকে সম্বভ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ঠরা। সরকারের রাজস্ব আয় ও পর্যটনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন-সংরক্ষক মাকসুদ আলম জানান“ বিগত দিনের তুলনায় বর্তমানে পর্যটকদের আগমন অনেকাংশে বেড়েছে, ফলে সরকারের রাজস্বও দিন দিন বেড়েই চলেছে, আকাশলীনা ইকোট্যুরিজম সেন্টার তৈরি হওয়ায় পর্যটকদের মাঝে নতুন পুত্তলি তৈরি হয়েছে সুতরাং পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। আকাশলীনা এবং সুন্দরবনে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে কতটুকু সম্ভাবনাময় জানতে চাইলে তিনি জানান,বাংলাদেশের মধ্যে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে সুন্দরবন অধিক সম্ভাবনাময় স্থান এর সাথে আকাশলীনা যুক্ত হওয়ার কারনে আরো বেশি সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন আমরা সর্বাত্মক চেষ্ঠা করছি একদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়ার অন্যদিকে বন যেন কোন প্রকার হুমকির মুখে না পড়ে সে দিকে লক্ষ্য রাখার, কিন্তু আমাদের লোক বল কম থাকার কারনে আমাদের মাঝে মাঝে হিমশিম খেতে হয়। কেউ যেন বনের উপর ক্ষতি না করতে পারে সে জন্য আমরা রুট ঠিক করে বনে যাওয়ার অনুমতি দেই যাতে করে কেউ বনের উপর ক্ষতি সাধন করতে পারে। তিনি বলেন আকাশলীন কে আরো বেশি ঢেলে সাজানো দরকার এবং সাথে সাথে সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ সড়কটি ভালোভাবে সংস্কার প্রয়োজন। তাহলে বিদেশী পর্যটকদের আগমন আরো অনেকাংশে বেড়ে যাবে ফলে রাজস্ব বাড়বে ,সাথে সাথে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। ” স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি আকাশলীনা তথা সুন্দরবনে পর্যটকদের আগমনের ফলে এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বেড়েছে অগনিত মানুষের দৈনিক আয়। স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আকাশলীনা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আশির্বাদ স্বরুপ, এটি হওয়ার কারণে এখানকার অনেক মানুষের নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে সাথে সাথে আয় বেড়েছে অনেক ভিন্ন ভিন্ন পেশার মানুষের। ইউএনও স্যার আমাদের এলাকার বেকাদের কর্মসংস্থান করে দেওয়ায় সত্যিই আমরা কৃতজ্ঞ সাথে সাথে ধন্যবাদ জানাই উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে। আকাশলীনা ও সুন্দরবরন পর্যটন সম্পর্কে জানতে চাইলে আকাশলীনার প্রকল্প প্রণয়নকারী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম বলেন, “শ্যামনগরে প্রাায় ৪০টি প্রাচীন স্থাপত্য ও দর্শনীয় স্থান আছে। এ প্রকল্পটির ফলে পর্যটকরা এসকল স্থাপত্য ও দর্শনীয় স্থান একই সাথে স্বাচ্ছন্দে- সহজে ভ্রমণ করতে পারছে। সুন্দরবনভিত্তিক জীবিকা অর্জনকারীদের জন্য আর্থ সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানও তৈরী হয়েছে।আমরা চাচ্ছি স্থানীয় কমিউনিটিকে ব্যবহার করে রেসপনসিভ পর্যটন শিল্প সৃষ্টি করতে এবং উপজেলা পর্যায়ে পর্যটন কমিটি গঠন এবং পর্যটন এলাকা চিহ্নিত করতে সাথে সাথে ডেটাবেজ তৈরির মাধ্যমে ও দেশে বিদেশে আকাশলীনার প্রচার ঘটাতে। তাছাড়া কমিউনিটি নির্বাচন, সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ ও তাদের মাধ্যমে পর্যটন বিকাশের জন্য প্রস্তুতি চলছে। পর্যটকদের সাথে এলাকার বিভিন্ন সেবা প্রদানকারীদের লিঙ্কেজ তৈরি করছি। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সহ প্রশাসনের সকল স্থরের সকলেই সেবা প্রদানের জন্য সর্বদা প্রস্তুত। আমরা চেষ্ঠা করছি বিভিন্ন প্যাকেজ অফারের ব্যবস্থা করতে যার মাধ্যমে পর্যটকেরা স্বল্প খরচে ভ্রমণ করতে পারবে। উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য সম্পদকে পর্যটকদের মাঝে উপস্থাপনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে মোঃ আবদুস সামাদ ফিস মিউজিয়াম, আকাশলীনা থেকে বনের মধ্যে সরাসরি দেখতে নির্মিত হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার, এছাড়া নির্মিত হয়েছে ইকো রেস্ট রুম, ট্রেনিং সেন্টারসহ অন্যান্য অবকাঠামো। তিনি আশাবাদি, বন নির্ভরশীলতা কমাতে আকাশলীনা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। সুন্দরবনকে নিয়ে যারা জীবিকা অর্জন করে আকাশলীনার মাধ্যমে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে সাথে সাথে বনের উপর হুমকি কমবে বাড়বে প্রাণ বৈচিত্র্য।” একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার মতে একজন পর্যটক ভ্রমনের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে বাস, রিক্সা, হোটেল, মোটেল, চা , ফুচকা, এভাবে এগার জন ব্যক্তিকে স্পর্শ করে যার দ্বারা ঐ মানুষগুলির আয় বেড়ে যায়। পর্যটকরা  বছরের শীতকালীন সময়টা ভ্রমনের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন সুন্দরবন দেখতে। সুন্দরবনের অপরুপ সৌন্দর্যের গভীরে ডুবে যান সুরঞ্জনারা। কিন্তু সে অভিজ্ঞতা নিতে বড় বাধা সময়, দূরত্ব, অর্থ এবং নিরাপত্তা বলয়। যে অঞ্চল যত বেশি সুরক্ষিত ও নিরাপদ সে অঞ্চল তত বেশি উন্নত। তবে এখানে সন্ত্রাসী বাহিনী গুলো পর্যটকদের আক্রমণ করেছে, এ রকম কোনো ঘটনা নিকট অতীতে নেই।তবুও পর্যটকদের আগমন বাড়াতে অবশ্যই সুন্দরবন পর্যটনে পর্যাপ্ত বনরক্ষী প্রয়োজন ,ট্যুরিস্টরা যখন ট্যুরে যাই, তখন পর্যাপ্ত গার্ড থাকে না। গার্ড সংকট দেখা দেওয়ার কারণে পর্যটকরা সুন্দরবনের ভেতরে যেতে পারেন না। সুতরাং ফরেস্ট বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক গার্ড প্রয়োজন। নিরাপত্তা বলয় সম্পর্কে জানতে চাইলে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মান্নান আলী বলেন, “ভ্রমণ কারীদের নিরাপত্তা দিতে আমরা সব সময় প্রস্তুত, বিশেষ করে বিদেশী পর্যটকদের জন্য আমরা অত্যন্ত আন্তরিক,সব মিলিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তার দিতে আমরা সব সময় প্রস্তুত”। গহীন সুন্দরবন যেমন- হিরণ পয়েন্ট, নীল কমল সহ আরো কিছু স্থানে ভ্রমন করতে গেলে কিছু সমাস্যার মুখে পড়তে হয় পর্যটকদের। সাতক্ষীরা অঞ্চলের মানুষকে সুন্দরবনে ঘোরার জন্য খুলনা থেকে অনুমতি নিয়ে আসতে হয়। এটা খুবই কষ্টকর। দুই-তিন দিন ঘুরে পর্যটক হিসেবে মানুষ অনুমতি পাই। অনুমতি পেলেও বলা হয়, গার্ড প্রস্তুত নেই। এ প্রসঙ্গে গত ২৪ শে ডিসেম্বর শ্যামনগর উপজেলার মুিন্সগঞ্জ টাইগার পয়েন্টে এক আলোচনা সভায় পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ড. অপরুপ চৌধুরী বলেন, ‘অতি শিঘ্রই এই সমাস্যা সমাধান করা হবে এবং পর্যটকরা যাতে মুন্সিগঞ্জ থেকেই গহীন বন ভ্রমনের পাশ নিতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে,এবং সাথে সাথে গার্ড পেতে যাতে কোন সমাস্যা না হয় সে বিষয়ে দূত পদক্ষেপ গ্রহন করার আশ্বাস দেন তিনি। আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারটি আরো সুন্দর ও আকর্শনীয় করে তোলা অতি আবশ্যক বলে মনে করেন স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকেরা। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভ্রমণকারীরা মুগ্ধ হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে সৌন্দর্যের লীলাভূমি আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার পর্যটন শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনা অপরিসীম। নতুন করে কৌশল ঠিক করে সম্ভাবনার সবটুকুকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে পর্যটনে মডেল হতে পারে আকাশলীনা। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ স্বল্প আয়তনের দেশ হলেও বিদ্যমান পর্যটক আকর্ষণে যে বৈচিত্র্য তা সহজেই পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে। সুতরাং এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান ঘটবে ও বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সফল হবে। পর্যটন হলো একটি বহুমাত্রিক শ্রমঘন শিল্প। এ শিল্পের বহুমাত্রিকতার কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি অনুদান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় সাধন করার পাশাপাশি উন্নত অবকাঠামো, সঠিক পরিকল্পনা দরকার আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজমের জন্য।আকাশলীনার সৌন্দর্য দেশে ও বিদেশে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের অধিকতর বিকাশ ঘটান সম্ভব বলে মনে করেন এলাকার চিন্তাশীল মানুষেরা। আকাশলীনার অপরুপ সৌন্দর্য্যরে পাশাপাশি আকাশলীনাকে আরো সৌন্দর্য্যময় করে তুলতে ট্যুরিষ্ট হিসাবে আসা আকাশলীনার পর্যটকদের চাওয়া থেকেই যাই। তাদের চাওয়া মতে, আকাশলীনার মনোগ্রাম এবং নাম সম্বলিত ব্রেসলেট তৈরি করা যেতে পারে যার মাধ্যমে আকাশলীনায় প্রবেশের পর দর্শনার্থীরা প্রয়োজনে পার্কের বাহিরে আসলে পুনরায় ঢুকতে কর্তৃপক্ষকে পর্যটককে চিনতে সুবিধা হবে অন্যদিকে পর্যটক তার ভ্রমনের নিদর্শন হিসাবে সংরক্ষন করবে সাথে সাথে আকাশলীনার প্রচার ও প্রসার ঘটবে। তাছাড়া স্থানটিতে পারিবর্জ্য ফেলার জন্য ডাস্টবিনের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। নালা কিংবা নদীতে ফেলা হচ্ছে এসব বর্জ্য। সুতরাং পরিবেশ ঠিক রাখতে অর্থাৎ স্থানটি যেন পরিবেশ বিমূখ না হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। সাথে সাথে আকাশলীনায় চলাচলের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মূলক বোর্ড, সুন্দরবন সম্পর্কে জ্ঞান গর্ভিত বোর্ড, শ্যামনগরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে যাওয়ার রাস্তা পরিচিতি সহ শ্যামনগর এবং এর ইতিহাস সম্বলিত বিল বোর্ড স্থাপন অতি আবশ্যক। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন পর্যটকরা সচেতন থাকবে অন্যদিকে বাড়তি সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পাবে এবং আকাশলীনার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে পর্যটকদের কাছে।এখনি আকাশলীনাকে সুন্দর পরিপাটির মাধ্যমে গুছিয়ে ফেলা দরকার। এখানকার  নদ-নদী ও বন, ঐতিহাসিক স্থান সব মিলিয়ে পুরো উপজেলাটি পর্যটনের জন্য উপযুক্ত। তাই শুধু সুন্দরবন বা আকাশলীনা নয় বরং আকাশলীনাকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলাকে পর্যটনবান্ধব করার প্রয়াস নিতে হবে। পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করতে হলে সারা সুন্দরবন অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাড়াতে হবে হবে। আর এ অঞ্চলকে ঢেলে সাজাতে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। পর্যটকদের যাতায়াত সুবিধার্থে সাতক্ষীরা মুন্সিগঞ্জ সড়কটি আরো প্রসস্থ ও সংস্কার করতে হবে।পর্যটকদের আগমন বাড়াতে আকাশলীনা থেকে পর্যটকদের জন্য সাশ্রয়ী রেটে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থান ভ্রমনের জন্য ট্যুর প্যাকেজের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।যাতে করে কোন স্থান থেকে পর্যটকেরা এসে অন্যান্য পর্যটটকদের সাথে মিলে স্বল্প খরচে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে পারে। এর মাধ্যমে পর্যটকদের খরচ কমবে আর খরচ কমলে আগমন বাড়বে তাছাড়া দেশের এক প্রান্তের মানুষের সাথে অন্য প্রান্তের মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে। সাথে সাথে ভিন দেশী মানুষের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে। আকাশলীনার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করতে আকাশলীনার পাড়ে নিরাপত্তা বেষ্টিত সান্ধ্যকালীন আলোকিত লেক তৈরি বা বিনোদনের স্থান তৈরি করা যেতে পারে যেখানে থাকতে পারে চা,কফি, ফুচকা সহ গ্রামের মানুষের তৈরি বিভিন্ন পিঠাপুলি সহ বিভিন্ন ভিন্ন ধরনের ছোট খাট বিক্রেতা। যেন সারাদিন বিভিন্ন স্থান ভ্রমনের পরে সান্ধ্যকালীন সময়টাও সুন্দরবনের পাদদেশে বসে বনের অপরুপ সৌন্দর্যের গভীরে ডুবে যেতে পারেন সুরঞ্জনারা।পর্যটকদের নিশি যাপনের সুবিধার্থে এখানে বেশি বেশি কটেজ নির্মাণ করা যেতে পারে এবং যার ভাড়ামূল্য হবে মানুষের নাগালের মধ্যে এবং কটেজ গুলো হতে হবে প্রায় সুন্দরবন সংলগ্ন। বর্তমানে যেগুলো আছে সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম এবং ভাড়ার পরিমান অনেক বেশি সুতরাং অনেক সময় পর্যটকেরা রাত্র যাপনে কুন্ঠিত বোধ করেন।কটেজ হলে এবং ভাড়ার পরিমান কম হলে পর্যটকেরা এসে আরেকটি নতুন জায়গায় বেড়ানোর সুযোগ পাবেন। সুন্দরবন ঘোরার পাশাপাশি উপজেলার বিভিন স্থান্নে ছিটিয়ে থাকা দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই সুতরাং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।আর তাহলে আশলীনা ইকোট্যুরিজম সেন্টার হবে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের এক অন্যতম দৃষ্টান্ত স্বরুপ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় পুকুর খননকালে উদ্ধারকৃত হাতির কঙ্কাল

দেবহাটায় পুকুর খননকালে উদ্ধারকৃত হাতির কঙ্কাল

আসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় পুকুর খননকালে দুই শত বছরের পুরানো হাতির কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার সকালে শ্রমিকরা উক্ত পুকুর থেকে মাটি খনন করে তোলার সময় এই পুরানো হাতির কঙ্কাল গুলো উদ্ধার করেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কোড়া গ্রামের শেখ আব্দুল হামিদের এই পুকুরটিতে  শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকায় তিনি গত ২/৩ দিন ধরে শ্রমিক দিয়ে পুকুরটি খনন কাজ শুরু করেন। বৃহষ্পতিবার সকালে শ্রমিকরা তাদের কাজ শুরুর কিছু সময় পরে শক্ত কিছু বস্তুর সন্ধান পান। সে সময় তারা আতঙ্ক গ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে তারা সেখান থেকে হাতির পা, মেরুদন্ড সহ দেহের বেশ কিছু অংশ উদ্ধার করেন।  শ্রমিকরা এ সময় সতর্কতার সাথে কঙ্কালগুলো না ভেঙ্গে বের করার চেষ্টা করেন। এদিকে, এ সংবাদটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশুরা কঙ্কালগুলো দেখতে সেখানে ভিড় জমায়।
স্থানীয় প্রবীনরা জানান, এই এলাকায় এক সময় নদী ছিল। হয়তোবা দুই থেকে আড়াই’শ বছর আগে কোন হাতি এখানে পানিতে ডুবে মারা যায়। কঙ্কালটি বালির মধ্যে থাকার কারনে এখনো অনেকটা ভাল আছে বলে তারা জানান। তারা আরো জানান, গত ৫/৬ বছর আগে ঐ একই পুকুর থেকে মাটি খননকালে হাতির মাথা ও কিছু অংশের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছিল এবং সেগুলো ঢাকা থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা এসে নিয়ে যান। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1492591245তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ‘অফিসার, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড লজিস্টিকস’ পদে এই নিয়োগ দেওয়া হবে।

যোগ্যতা

যেকোনো প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায় প্রশাসন অথবা সংশ্লিষ্ট অন্য যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাজীবনের সব ক্ষেত্রে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের ফলপ্রাপ্ত হতে হবে। কোনো ক্ষেত্রেই তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের ফল গ্রহণযোগ্য হবে না। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কমপক্ষে এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশন চালনায় পারদর্শী হতে হবে। এ ছাড়া প্রার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লিখিত ও মৌখিক যোগাযোগে দক্ষ হতে হবে।

বয়স

আবেদনকারীর বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে।

বেতন

নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রতি মাসে ২৫ হাজার ৭৪৫ টাকা বেতন দেওয়া হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

ব্র্যাকের ওয়েবসাইট (careers.brac.net) এবং বিডিজবস ডটকমের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এ ছাড়া প্রার্থীরা পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত ই-মেইল (resume@brac.net) করার মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার সুযোগ থাকছে ২৮ এপ্রিল, ২০১৭ পর্যন্ত।

সূত্র : বিডিজবস ডটকম

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1492599893নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এসিআই গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এসিআই হেলথকেয়ার লিমিটেড। ‘এক্সিকিউটিভ বা সিনিয়র এক্সিকিউটিভ, এইচএস অ্যান্ড ই’ পদে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

যোগ্যতা

কেমিক্যাল বা এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা সমমানের বিষয়ে এমএসসি বা বিএসসি পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ হতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

শুধু বিডিজবস ডটকমের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যাবে ৩০ এপ্রিল, ২০১৭ পর্যন্ত।

বিস্তারিত দেখুন বিডিজবস ডটকমে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে-

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1492600889নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক। ‘নেটওয়ার্ক প্ল্যানিং স্পেশালিস্ট ইঞ্জিনিয়ার, রেডিও প্ল্যানিং’ এবং ‘জোনাল ম্যানেজার’ পদে এই নিয়োগ দেওয়া হবে।

নেটওয়ার্ক প্ল্যানিং স্পেশালিস্ট ইঞ্জিনিয়ার, রেডিও প্ল্যানিং

ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বা টেলিযোগাযোগ বিষয়ে বিএসসি পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এক থেকে দুই বছরের সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। জিএসএম টেকনোলজি, জিএসএম রেডিও ডিজাইন এবং জিএসএম অপটিমাইজেশন সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতে হবে। এ ছাড়া টু পয়েন্ট ফাইভ জি ডিজাইন ও অপটিমাইজেশন এবং থ্রিজি টেকনোলজি সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে।

জোনাল ম্যানেজার

বিএ বা বিবিএ পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এক বছরের সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতাসহ মোট দুই থেকে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ডিস্ট্রিবিউশন সেলস এবং পণ্য ও সেবা সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। এ ছাড়া মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশন চালনায় দক্ষ হতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীরা বিডিজবস ডটকমের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ২৫ এপ্রিল, ২০১৭ পর্যন্ত।

বিস্তারিত দেখে নিন বিডিজবস ডটকমে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে-

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest