22222সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ঢাকা ইডেন কলেজের ছাত্রী শরীফা বেগম পুতুল (২২) কে জবাই করে হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-াদেশ প্রাপ্ত পলাতক আসামিকে সাতীরা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার ভোররাতে শহরের বাসট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব -৬ এর একটি দল।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মাহমুদুল আলম শিকদার (৩৩)। সে বাগেরহাট জেলার মোল্লার হাট থানার উদয়পুর দৈবকান্দি গ্রামের মৃত শামসুল আলম শিকদারের ছেলে।
খুলনা র‌্যাব ৬ এর লবণচরা ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার  লেফটেন্যান্ট এ এম এম জাহিদুল কবীর, (এল) বিএন জানান, ঢাকা ইডেন কলেজের ইতিহাস বিভাগের ৩য় বর্ষের (সম্মান) মেধাবী ছাত্রী ছিলেন শরীফা বেগম পুতুল। ২০১৩ সালের ১০ মে মাহমুদুল আলম শিকদারের সাথে পুতুলের বিয়ে হয়। হাতের মেহেদির রঙ না শুকাতেই তিন দিনের মধ্যে ১৩ মে মধ্যরাতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পুতুলকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করে তার স্বামী  মাহমুদুল আলম। বিষয়টি দেশব্যাপী চাঞ্চল্য ও আলোড়ন সৃষ্টি করে। মোল্লার হাটের জনসাধারণ ও ইডেন কলেজের ছাত্রীরা সে সময় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে হত্যাকারী স্বামীর ফাঁসির দাবি জানান। এঘটনায় মোল্লারহাট থানায় ২০১৩ সালের ১৪ মে ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত কলেজ ছাত্রী পুতুলের পিতা। মামলা নং-৮। এই মামলায় জামিনে থাকা অবস্থায় পলাতক ছিলেন আসামি মাহমুদুল। তার অনুপস্থিতিতে ২০১৬ সালের ১২ মে বাগেরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আদালত আসামি মাহমুদুল আলমকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করেন। এরপর থেকে আসামি মাহমুদুল আলম শিকদারকে ধরার জন্য র‌্যাব নিরলসভাবে কাজ করতে থাকেন। অবশেষে সাতক্ষীরা থেকে তাকে গ্রেফতার করে খুলনা র‌্যাব হেড কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

bbd5110fd5788aae02b06f1206b3a04e-578c826f301aeবিচার বিভাগকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগ। বিচারিক আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশে বারবার সময়ের আবেদন করা এবং কালক্ষেপণ করার প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগ।

গত নভেম্বরে থেকে শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কয়েক দফা সময় নিয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) ফের দুই সপ্তাহ সময়ের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। অ্যাটর্নি জেনারেলের সময় আবেদনের পর আদালত বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাছে ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান বড়। রাষ্ট্রের পক্ষে একটা ফেয়ার প্লে-এর বিষয় আছে। একটা যৌক্তিক কারণ থাকবে তো।’

শেষবারের মতো সময় দেওয়ার পর আবারও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, ‘এটা কি? সরকার কি আছে! বিচার বিভাগকে জিম্মি করে রাখছেন তো।’

শুনানি শেষে আবারও দুই সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করতে শেষবারের মতো মঙ্গলবার দিন পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছিলেন আদালত। এর আগেও গেজেট প্রকাশে কয়েক দফা সময় নেয় সরকার।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে বিচারিক আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

প্রসঙ্গত, বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে তলবও করেছিলেন আপিল বিভাগ।

গত বছরের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

062905f9af699a725f614fae01dfdaef-58c749d7d1a20দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ব্রেক্সিট বিল পাস করেছে ব্রিটেনের পার্লামেন্ট। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে এটি পাসের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়তে যুক্তরাজ্যের আর কোনও বাধা রইলো না।

রয়্যাল এসেন্ট বা রানির সম্মতি পেলে এই বিলটি মঙ্গলবারই আইনে পরিণত হতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইইউ নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে সরকারের ওপর চাপ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩০ বছর ধরে বাস করছেন ফরাসি নাগরিক এন-লর ডন্সকি। যুক্তরাজ্যে ইইউ-এর যে প্রায় ৩০ লাখ নাগরিক বসবাস করছে তাদের সংগঠন ‘দি থ্রি মিলিয়ন’ এর সহকারী চেয়ারপার্সন তিনি। এই বিল পাশ হবার তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন।

এন-লর ডন্সকি বলছেন, ভোটের কথা শুনে আমার মন বিষাদে ছেয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, আমরা যারা এখন যুক্তরাজ্যে বাস করছি, রাজনৈতিক আলোচনার টেবিলে দরকষাকষির জন্য তাদেরকেই আসলে ব্যাবহার করা হবে। এক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের আর কিছুই বলারও থাকবে না।

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইইউ নাগরিক যারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন তাদের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক।

এদিকে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জিওন সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতার জন্য গণভোট আয়োজনে তিনি স্কটিশ পার্লামেন্টের অনুমতি চাইবেন। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রেক্ষিতে এই গণভোট প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। আগামী সপ্তাহে এ অনুমোদন চাইবেন নিকোলা স্টার্জিওন।

সোমবার রাজধানী এডিনবার্গে সরকারি বাসভবন বুটে হাউসে স্টার্জিওন বলেন, ‘এ প্রক্রিয়া শেষে (ব্রেক্সিট) যাতে করে স্কটল্যান্ডের সামনে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আমি নেব। এ সিদ্ধান্ত হবে, ব্রেক্সিটের পক্ষে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে স্কটল্যান্ড থাকবে নাকি স্বতন্ত্র দেশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত হবে।’

ফার্স্ট মিনিস্টার চান ২০১৮ সালের শেষ ও ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে এ গণভোট অনুষ্ঠিত হোক। যদি স্কটল্যান্ডের সংসদ অনুমতি দেয় তাহলে স্কটিশদের স্বাধীনতার জন্য এটা হবে দ্বিতীয় গণভোট। এর আগে ২০১৪ সালে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই গণভোটে মানুষ স্কটিশদের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

স্টার্জিওন যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে সেকশন ৩০-এর আদেশের অনুমতি চাইবেন স্কটিশ পার্লামেন্টের কাছে। এটা ছাড়া গণভোট আয়োজন করা সম্ভব না। আগামী সপ্তাহে এই অনুমোদন চাইবেন বলে জানিয়েছেন স্টার্জিওন।

যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে সোমবার যখন আর্টিকেল ৫০ অনুসরণবিষয়ক ব্রেক্সিট বিল নিয়ে এমপিরা বিতর্কে অংশগ্রহণ করবেন তখনই স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোটের দাবি তুলেছেন স্টার্জিওন।

স্টার্জিওন মনে করেন, এবারের গণভোটে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষেই জনগণ রায় দেবেন। তার এ আস্থার কারণ ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন এবং জোর করে স্কটল্যান্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার ত্যাগে বাধ্য করার প্রভাব।

স্টার্জিওন বলেন, ‘আমি সত্যিকার অর্থে ও নিষ্ঠার সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসার চেষ্টা করছি। আমরা এমন কোনও সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করিনি যারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। তারা কথায় সমঝোতা থেকে অনেক দূরে চলে যাওয়াতে বিষয়টি কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে ওঠছে।’ সূত্র: বিবিসি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

25a789403691bcf958e12d69708a4661-58c790c2b431aসম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় সাবেক এবং বর্তমান মন্ত্রীর স্ত্রীসহ তিনজনকে নিম্ন আদালতে আত্নসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তারা হলেন, বর্তমান পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর স্ত্রী তাসমিমা হোসেন (ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক), সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের স্ত্রী নাসরিন খান এবং তার ছেলে ফয়সাল মোরশেদ খানের স্ত্রী শ্যামা সেহজিন খান। একইসঙ্গে তাদের তিনজনের পক্ষে করা খালাসের আবেদন হাইকোর্টকে বিবেচনা করতে বলেছেন আদালত।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম ও আমিনুল হক হেলাল।

আদেশ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করার অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এছাড়া আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের স্ত্রী শাহিদা কামাল, বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস দুলুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আকতার কল্পনা, এমএ কাইয়ুমের স্ত্রী শামীম আরা বেগম ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের ছেলে শামীম ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলা নিম্ন আদালতে চলবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ৬ মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতকে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

eeeeeগাজী আল ইমরান, শ্যামনগর : সুন্দরবনের পাদদেশে মালঞ্চ নদীরকোলে বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ উপজেলার নাম শ্যামনগর। এ উপজেলার সকল কর্মই যেন সুন্দরবনের সুন্দরের সাথে মিলেই তৈরি হয়েছে। লবণাক্ত পানি আর মিষ্টি পানির মিশ্রণে ফলে সকল প্রকারের ফষল। এ অঞ্চলের লোনা পানির সোনা খ্যাত চিংড়ি চাষ বহির্বিশ্বে পরিচয় ঘটিয়েছে এ উপজেলাকে। সত্তর দশক থেকে সাতক্ষীরাবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে চিংড়ি সম্পদ বিশেষভাবে জড়িত।
বঙ্গোপসাগর থেকে চিংড়ি আহরণের পাশাপাশি সত্তর দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশে প্রথম বৃহত্তর খুলনা জেলায় বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু হয়। তন্মধ্যে সর্বপ্রথম চিংড়ি চাষ শুরু হয় তৎকালীন বৃহত্তর খুলনা জেলার অন্তর্গত বর্তমান সাতক্ষীরা জেলার সদর, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর থানায়। তখন থেকেই দেশীয় (সনাতন) পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ হয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে চিংড়ি চাষ সনাতন পদ্ধতিকে পেছনে ফেলে শ্যামনগরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়িচাষ করে অধিক উৎপাদনে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। আধানিবিড় বা সেমিইন্টেসিভ বলা হয়। যেহেতু ঘেরে চিংড়ি চাষের জন্য বেশি জমির প্রয়োজন হয়, সে কারণে নানা সমস্যা তৈরি হয়। প্রয়োজনীয় উপযোগী জমিরও অভাব রয়েছে। তাই স্বল্প জমিতে পুকুর কেটে এ পদ্ধতির চাষ বেশ সুবিধা ও লাভজনক। অল্প জমিতে অধিক উৎপাদনের ফলে দিন দিন এই চাষ পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েই চলেছে। তবে সরকারি বেসরকারি সহায়তা পেলে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারে আরো আগ্রহী হবেন চাষিরা। এই পদ্ধতির ফলে চিংড়ির উপযোগী গুণগত মান সম্পন্নের পাশাপাশি এ খাত থেকে বছরে সন্তোষ্ঠ জনক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রযুক্তির মাধ্যমে অক্সিজেন, ঔষধ ও খাবার সরবরাহের কারণে সম্পূর্ণ ভাইরাসের ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় পদ্ধতিটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ চাষের তুলনায় মুনাফার পরিমাণ অধিক হওয়ায় পার্শ¦বর্তী কয়েকটি জেলায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসাইন সাগর বলেন, অল্প জমিতে অধিক মুনাফা লাভের জন্য এই প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে আধানিবিড় পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করতে মৎস্য বিভাগও কাজ শুরু করছে। নওয়াবেকী শ্রিম্প কালচারের দেখাদেখি এলাকার অনেক চিংড়ি চাষি এই পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করতে আগ্রহী হয়েছেন। আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। একটি খামারে দুই শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। প্রতিটি পুকুরে বছরে ২ বার মাছ ধরা যাবে। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অর্থাৎ যদি নিরোগ পোনা ছাড়া হয় তাছাড়া ঘেরে পানির পরিমাণ ৩ থেকে ৪ ফুট, ভালো পানি, ভালো পরিবেশ, জৈব নিরাপত্তা, ভালো মানের খাদ্য, মাছের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এসব সব ঠিক থাকলে ৫ মাসে একর প্রতি ১০ লক্ষ টাকা পাওয়া সম্ভব, যেখানে খরচের পরিমান ৫ লক্ষ টাকা। সনাতন পদ্ধতির অপেক্ষা আধা নিবিড় পদ্ধতিতে ১০গুণ মাছ উৎপাদন করা সম্ভব বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন এ পদ্ধতিতে চিংড়ি উৎপাদন করে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূল এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদাচিংড়ি চাষে ব্যাপক সফলতা এসেছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে অক্সিজেন, ওষুধ ও খাবার সরবরাহের কারণে সম্পূর্ণ ভাইরাসের ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় পদ্ধতিটি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ চাষের তুলনায় মুনাফার পরিমাণ বেশি হওয়ায় পাশের কয়েকটি জেলায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলার বাগদা চিংড়ির সেমি-ইনটেনসিভ খামারের ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শাওন ফিস প্রডাক্টস লিঃ প্রোঃ মোঃ আঃ সাত্তার, মোড়ল, ১৩৫.০০ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে জলায়তন ৬৪.০০ হেক্টর, পকুরের সংখ্যা ১৮০টি, যার মধ্যে চাষকৃত ১৫৮টি, তার উৎপাদিত মাছের পরিমান ৯৫০.৫০ মেট্রিক টন। রেডিয়েন্ট শ্রিম্প কালচার-০১ প্রোঃ আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম নঁওয়াবেকী, ৪০.০০ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে জলায়তন ১৯.৪০ হেক্টর, পকুরের সংখ্যা ৬০ টি, যার মধ্যে চাষকৃত ৪৮ টি, তার উৎপাদিত মাছের পরিমান ২৩০.০০মেট্রিক টন। সুন্দরবনমৎস্য প্রকল্প টাইগারপয়েন্ট, সুশীলন, মুন্সিগঞ্জ, ৩.৫০ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে জলায়তন ১.৬২ হেক্টর, পকুরের সংখ্যা ৪ টি, তার উৎপাদিত মাছের পরিমান ২০.০০ মেট্রিক টন। সুন্দরবন শ্রিম্প কালচার লিঃ প্রোঃ আলঃ আবুল কালাম বাবলা, নঁওয়াবেকী, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা ০৫.০০ হেক্টর জমিতে, যার মধ্যে জলায়তন ৩.২৩ হেক্টর, পকুরের সংখ্যা ১০ টি, যার মধ্যে চাষকৃত ৯ টি, তার উৎপাদিত মাছের পরিমাণ ২৩.০০ মেট্রিক টন। মৎস্য বিভাগ অল্প পরিসরে হলেও এ পদ্ধতিতে চাষে এগিয়ে আসার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানায়।
স্থানীয় চাষিদের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তারা জানান, আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করতে আমরা আগ্রহী হলেও মূলত অর্থনৈতিক ঘাটতি থাকার কারণে আমরা এ চাষে অন্তর্ভূক্ত হতে পারছিনা। তবে আমরা জেনেছি এই পদ্ধতিতে চাষে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা পাওয়া সম্ভব।
তারা আরো বলেন, এই চাষ পদ্ধতিতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎ যেখানে নেই সেখানে ইঞ্জিনচালিত মেশিন অথবা প্রয়োজন মতো সোলারের সাহায্যে চাষ করা সম্ভব। চাষি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা গেলে এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষিরা ব্যাপক লাভবান হবে বলে জানান তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

00000000নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় দুর্যোগ ঝুকিহ্রাস কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এ সময় তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলা একটি বড় ধরনের দূর্যোগ প্রবণ এলাকা। তাই শুধু আলোচনা ও কর্মশালা করলে হবেনা। যুগোপযোগি পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে দূর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। দূর্যোগ দু’ধরনের একটি প্রাকৃতিক আর একটি মানব সৃষ্ট। সুন্দরবনকে রক্ষা করতে পারলে সাইকোণের ক্ষতি থেকে জেলা কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে। যত্রতত্র অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের ও যত্রতত্র নকশা ও অনুমোদন ছাড়া ঘর-বাড়ি আর নির্মান জলাবদ্ধতার মূল কারণ। এই মানব সৃষ্ট দূর্যোগ মোকাবেলা করতে জরুরী পদক্ষেপ নিতে হবে। বড় দূর্যোগ সাইকোণ ও জলাবদ্ধতা থেকে সাতক্ষীরাকে বাঁচাতে বাস্তব মুখি কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। বৃষ্টির পানি ইছামতি ও সাগরে ফেলতে হবে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে’। অনুষ্ঠানের শুরুতে মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা আফসানা কাওসার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেমি টারজি, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাবেল ফিরোজ, ডিডিএম, ঢাকা উপ-পরিচালক মো. আমিনুল হক প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ, তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা জি.এম.এ গফুর, জেলা তথ্য অফিসার শাহানওয়াজ করিম, সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারী শেখ নুরুল হক, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন, জেলা স্কাউটস্ সম্পাদক এম ইদুজ্জামান ইদ্রিস, পৌর কাউন্সিলর ফারহা দীবা খান সাথী, এন.এ.আর.আর.আই এর কনসোটিয়াম ম্যানেজার নাসের শওকত হায়দার প্রমুখ। দুর্যোগ ঝুঁকি প্রবণ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা জেলায় বাংলাদেশ সরকারের Standing Orders on Disaster(SOD) অনুযায়ী জেলার ০৪ টি উপজেলার ৪৯ টি ইউনিয়ন ও ০২ টি পৌরসভা পর্যায়ে জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি নিরূপণের (সিআরএ) মাধ্যমে DeSHARI (ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ, কেয়ার বাংলাদেশ, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ও হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল) এবং অজও (এসিএফ, ড্যান চার্চ এইড, মুসলিম এইড ও ক্রীস্টান এইড) কনসোর্টিয়াম ও তাদের সহযোগী সংস্থা-উত্তরণ, সুশীলন, দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সিসিডিবি এই কাজে সহায়তা প্রদান করছে বলে মতবিনিময় সভায় জানানো হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

222222নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সুস্থ দেহ সুস্থ মন ক্রীড়া আনে বিনোদন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের আয়োজনে কলেজ মাঠে সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এ সময় তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরা জেলার ছেলেরা ও মেয়েরা সর্বক্ষেত্রে সুনামের সাথে অবদান রেখে চলেছেন। শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিতে জাতীয় পর্যায়সহ বহির্বিশ্বে সাফল্যের সাথে জেলার সুনাম অর্জন ধরে রেখে চলেছেন। নারীরা মায়ের জাত। তারা আজ বসে নেই পুরুষের সাথে সমান তালে দেশের উন্নয়নে কাজ কাজ করছে মেয়েরা’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সরকারি মহিলা কলেজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক সহযোগি অধ্যাপক শশী ভূষণ পাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মকসুমুল হাকিম, আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ হায়দার আলী তোতা, সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক পর্ষদ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর আলীসহ সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রভাষক মো. অলিউর রহমান ও প্রভাষক নাজমুল হোসেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

001নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা’র ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী ২০১৭ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকালে কলেজ মাঠে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ করেন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এ সময় তিনি বলেন, ‘লেখা পড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতি গুরুত্ব দিতে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা একটি জাতিকে বিকশিত করতে সহায়তা করে। আজকের এই শিক্ষার্থীরা লেখা পড়া শেষ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে’। তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করতে আমি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাই অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। মাদকমুক্ত, জঙ্গিমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত সাতক্ষীরা গড়তে সকলের সহযোগিতা দরকার’।
এ সময়¡ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল খালেক, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সুকুমার দাস, অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল অদুদ, অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর দীনবন্ধু দেবনাথ, প্রফেসর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক পর্ষদ সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান আবুল কালাম আজাদ, আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আবুল হাশেম প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মহাদেব চন্দ্র সিংহ, সহযোগী অধ্যাপক আবুল হাশেম, অধ্যাপক কাজী আসাদুল ইসলাম, মাহমুদা খাতুন, প্রভাষক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী অধ্যাপক কাজী আসাদুল ইসলাম,অরুণাংশু কুমার বিশ্বাস, মাহফুজুল ইসলাম, আজাদ হোসেন, মহিতোষ নন্দী, মোশাররফ হোসেন, আলতাফ হোসেন প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest