দুজনের প্রথম ছবি ‘নবাব’ পেয়েছিল সুপারহিটের তকমা। কাল মুক্তি পাবে এই জুটির ‘চালবাজ’। শাকিব খান-শুভশ্রী গাঙ্গুলি জুটির চালবাজি নিয়ে লিখেছেন সুদীপ কুমার দীপ
‘চালবাজ’ নিয়ে কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি শাকিব-শুভশ্রীকে। পহেলা বৈশাখে দুই বাংলায় একসঙ্গে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল এই ছবি। বাংলাদেশের ‘চলচ্চিত্র পরিবার’-এর আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত মুক্তি দিতে পারেননি প্রযোজক। অগত্যা ভারতেও এই ছবির মুক্তি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর কাল বাংলাদেশে মুক্তি পাবে।
লন্ডনে এই ছবির প্রথম লটের শুটিংয়েই বেঁধেছিল গণ্ডগোল। কলকাতার কলাকুশলীদের বকেয়া আদায়ের আন্দোলনের মুখে আটকে যায় শুটিং। শুটিং না করেই ইউনিট নিয়ে লন্ডন ছাড়তে বাধ্য হয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে মুভিজ। এক মাস ধরে চলে সেই ঝামেলা। তখন অন্য কোনো ছবির শিডিউল না থাকায় শাকিবকে বেকারই বসে থাকতে হয়েছিল। পরে যখন শুটিং শুরু হলো তখনো বিপদ পিছু ছাড়েনি। অসুস্থ হয়ে লন্ডনের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্য করতে গিয়ে আঘাতও পান তিনি। ‘ভালো কিছু একটা হবে’—এই আশায় সব সহ্য করেছিলেন শাকিব। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশে মুক্তি পেলে ‘চালবাজ’ কি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাবে? কারণ তত দিনে এখানকার অনেক দর্শকই ছবির পাইরেটেড কপি দেখে নেবে! “ছবিটি নিয়ে অনেক রাজনীতি হলো। অথচ তাঁরা একবারও ভাবলেন না ছবি খরায় থাকা হলগুলোর কথা। পহেলা বৈশাখে ছবিটি মুক্তি পেলে হুমড়ি খেয়ে পড়ত দর্শক। হল মালিকরাও কিছু টাকা পেতেন। কিন্তু সেটা হতে দিল না চলচ্চিত্রেরই কিছু লোক। জানি না ছবিটি এখন দর্শকরা কতটুকু গ্রহণ করবে! আমি ভরসা হারাচ্ছি না। ভালো লাগার মতো অনেক কিছুই আছে ছবিটিতে। বিশেষ করে কমেডি এবং অ্যাকশন দৃশ্যগুলো দারুণ। লোকেশনও চোখে আরাম দেবে। শুভশ্রীর সঙ্গে ‘নবাব’ যেভাবে দর্শক লুফে নিয়েছিল, আশা করছি ‘চালবাজ’ ছবিটিও সেভাবে লুফে নেবে”, বললেন শাকিব।
শাকিবের সঙ্গে কাজ করাটা বেশ উপভোগ করেন শুভশ্রী। জীবনে নাকি শাকিবের মতো ঠাণ্ডা প্রকৃতির মানুষ দেখেননি—‘এক শটা কথা বলার পর একটা উত্তর পাই। কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না শাকিব। এত বড় একজন স্টার। চারপাশে ভিড় লেগেই থাকে। অথচ ওর কোনো অহংকার নেই। ওর সঙ্গে কাজ করার মজাই আলাদা। বাড়তি কোনো চাপ থাকে না।’
২০ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের শতাধিক হলে মুক্তি পায় ‘চালবাজ’। শুভশ্রী বলেন, ‘সেখানকার দর্শকরা দারুণ পছন্দ করেছে ছবিটি। প্রচারণায় যেখানেই গেছি, সবাই শাকিবের কথা জিজ্ঞেস করেছে। শুটিং থাকায় ও আসতে পারেনি। শাকিব এখানে নতুন। মাত্র দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে ভক্ত-দর্শক তৈরি করে ফেলেছে এখানে।’
দীর্ঘ এক মাস পর ২১ এপ্রিল দেশে ফিরেছেন শাকিব। বিশ্রামেই থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাসায় রীতিমতো প্রযোজকদের লাইন। কেউ নতুন ছবি করতে চান, আবার কেউ আটকে থাকা ছবির শুটিং শেষ করতে চান। পারিশ্রমিক ৭০ লাখ টাকা হাঁকিয়েও পার পাচ্ছেন না। বললেন নিজের মুখেই, “সিদ্ধান্ত নিয়েছি বেছে বেছে ছবি করব। ভাবলাম পারিশ্রমিক বাড়ালে হয়তো অনেকে সরে দাঁড়াবেন। লাভ হলো না। যাঁকেই ‘না’ করি, তিনিই পরে বদনাম রটান। বুঝে উঠতে পারছি না আমার কী করা উচিত!”
শাকিব প্রযোজিত একটি ছবিতে অভিনয়ের কথা শুভশ্রীর। সেটির খবর জানতে চাইলে শাকিব বলেন, “এখন চলছে গল্প লেখা। শুভশ্রীর সঙ্গে কথা হয়ে আছে। এখন দেখা যাক কবে থেকে শুরু করা যায়! তবে সব কিছু নির্ভর করছে ‘চালবাজ’ ছবির সাফল্যের ওপর।”

সেখান থেকে মটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে শহরের নিউ মার্কেটস্থ শহীদ আলাউদ্দিন চত্বরে পৌছে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সদ্য কারামুক্ত জেলা যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল মান্নান। এসময় তিনি বলেন, “স্বাধীনতা দিবসের জনসভায় এমপি রবির নেতৃত্বে যুবলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছিলো। এমপি রবি সাতক্ষীরায় যুবলীগকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমপি রবি কখনো আওয়ামীলীগের লোক হতে পারে না। সে আওয়ামীলীগের লোক হলে যুবলীগের ছেলেদের বুকে কোপ মারতে পারতো না। আমাকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে এমপি রবি। আমার পরিবারের একটি ব্যক্তিও আওয়ামীলীগের বাইরে অন্য কোন দলের রাজনীতি করে না। আমার বড় ভাই একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। তিনি শ্রমিকলীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক। আমি ১৯৮২ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতি করে আসছি। ১৯৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় এমপি রবি’র ভাই মহি আলম স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে ছাত্রসমাজের হয়ে আমাদের ছাত্রলীগ যুবলীগের মিছিলে হামলা চালিয়েছিলো। ১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৭-০৮ সালের আন্দোলনের সময় কোথায় ছিলো এমপি রবি ও তার ভাইয়েরা? আমরা রাজপথে থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার জন্য জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছি। আর আজ এমপি রবি আমাকে যুবলীগ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। আমি তাকে দুইশত বছর সময় দিলাম পারলে আমাকে যুবলীগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখাক। আপনারা সবাই জানেন, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামীলীগের জনসভায় আমি যখন বক্তব্য রাখছিলাম তখন এমপি রবির হুকুমে আমর উপর আক্রমণ করা হয়। অথচ কি নির্লজ্জ্ব, কি বেহায়া আমার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মিথ্যা মামলা করেছে। আমার সাতক্ষীরা জেলার যুবলীগের সকল নেতাকর্মী যারা আমাকে মুক্ত করার জন্য মিছিল করেছেন, মিটিং করেছেন তাদের সকলের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় যুবলীগকে আরো সংগঠিত করুন। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী করার জন্য যুবলীগকে কাজ করতে হবে। সাতক্ষীরায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রী তাকেই মনোনয়ন দেবেন যিনি নেতাকর্মীদের পাশে থাকেন, জনগণের পাশে আছেন। জনবিচ্ছিন্ন কাউকে নেত্রী আর মনোনয়ন দেবেন না।”