সর্বশেষ সংবাদ-
সাংবাদিক সামিউল মনিরের উপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর হামলা: আটক -০২তালার নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ভূগর্ভ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের শীর্ষে আশাশুনিদীর্ঘ দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষ : কাঁকড়া আহরণ অনুমতি পেলো বনজীবীরাসাতক্ষীরা কারাগারে হাজতির মৃত্যুনার্সিং ভর্তি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় মায়ের বকুনিতে ছাত্রীর আত্ম#হত্যাশ্যামনগরে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতা ও তার পরিবারকে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধনসাতক্ষীরা জেলা বাস্তহারা দলের ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদনΜια βραδιά φωτός και ήχου στα ψηφιακά σαλόνια

e0cc3e0846ae896d0b391db53f1945db-5910669855acbসুস্বাদু খেজুরের রয়েছে এমন কিছু পুষ্টিগুণ যা সুস্থ থাকার জন্য জরুরি। আয়রন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানান ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় খেজুর থেকে। আঁশজাতীয় খাবারেরও অন্যতম উৎস এটি। প্রতিদিন কয়েকটি খেজুর খেলে দূরে থাকতে পারবেন বিভিন্ন রোগ থেকে।

জেনে নিন খেজুর খাওয়া কেন জরুরি-c

  • যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন তাদের জন্য খেজুর খুবই উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে।
  • খেজুরে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা চোখের ভিটামিন হিসেবে কাজ করে।
  • নিয়মিত খেজুর খেলে অন্ত্রে বেশকিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মে যা সুস্থতার জন্য জরুরি।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে খেজুর ভিজিয়ে রেখে পানিটুকু পান করুন ঘুমানোর আগে। প্রতিদিন পান করলে দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্য।
  • খালি পেটে কয়েকটি খেজুর খান প্রতিদিন। এটি রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করবে।
  • মিষ্টিজাতীয় খাবার বেশি খাওয়া হচ্ছে বলে ওজন কমছে না? প্রতিদিন খেজুর খান। এতে মিষ্টি খাবারের চাহিদা যেমন পূরণ হবে, তেমনি ওজন ও কমবে।
  • কয়েকটি খেজুর পানিতে ভিজিয়ে রাখুন সারারাত। পরদিন পানির সঙ্গে ব্লেন্ড করে খেয়ে ফেলুন। হার্ট ভালো থাকবে।
  • খেজুরে অল্প পরিমাণে সোডিয়াম ও প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • খেজুরে থাকা পটাসিয়াম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
  • খেজুরে রয়েছে ফসফরাস যা মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
  • দুধের সঙ্গে খেজুর মিশিয়ে পান করলে দূর হয় ক্লান্তি।

তথ্য: বোল্ডস্কাই   

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

298dea4e4313a4d0ae6aa7b1b115e94d-575cebb21f58eডেস্ক রিপোর্ট : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে। রবিবার (৭ মে) দলটির সংসদীয় দলের সভায় বসেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় এমপিদের প্রতি হুঁশিয়ারি বার্তা দেন তিনি। মূলত এ কারণেই তাদের ভেতরে দুশ্চিন্তা ভর করেছে।
তবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা এই সতর্কতায় উজ্জীবিত, তাদের মধ্যে বরং দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস।
দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আছেন এমন দশ জন সংসদ সদস্য তাদের দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে বলেন, ‘এমপি হিসেবে তৃণমূলে জনপ্রিয় হওয়া খুবই কঠিন। কারণ এমপিদের কাছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাওয়া-পাওয়ার কোনও সীমা নেই। কিন্তু আমাদের ক্ষমতা অসীম নয়, তাই সব চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হয় না। সংসদ সদস্যদের জনপ্রিয় হওয়া অনেক কঠিন। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের কাছে জনপ্রিয়তাই যদি একমাত্র মানদণ্ড হয়, তাহলে একজন এমপিও খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি জনপ্রিয়।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে দুই এমপি বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাদের কাছে শতভাগ জনপ্রিয় হওয়া কষ্টসাধ্য। তাদের অনেক চাওয়া-পাওয়া থাকে। তা পূর্ণ করতে না পারলে সৎ থেকেও তৃণমূলে জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় না।’
দলটির তৃণমূলের নেতারা জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতির সংসদীয় দলের সভায় এমপিদের দেওয়া সতর্কবার্তায় উজ্জীবিত হয়ে উঠবেন তারা। জেলা পর্যায়ের অন্তত তিন নেতা বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সময় দেওয়া তো দূরে থাক, অনেক সংসদ সদস্য আছেন ঢাকা ছেড়ে এলাকায় আসেননি গত তিন বছর। দলের নেতাকর্মীদের জেলে বন্দি হওয়ার পেছনেও অনেক এমপির ষড়যন্ত্র আছে। অন্তত ৩০টি জেলায় পাওয়া যাবে এমন নজির।’

এ প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দলীয় সভাপতি মাঈনুদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘অনেক জেলায় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের দূরত্বের খবর পাওয়া যায়। এটি দলের জন্য নেতিবাচক। নির্বাচনের আগে এমপিদের প্রতি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সতর্কবার্তা তৃণমূলকে সত্যিই উজ্জীবীত করেছে।তার হুঁশিয়ারি দলকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।’

কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী বলেন, ‘ক্ষমতাসীন থাকায় সবস্তরে দেখা দিয়েছে মানসিক দূরত্ব। এ কারণে মূলত সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে দল। সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা তৃণমূলকে একদিক দিয়ে শক্তিশালী করেছে।’

সংসদ সদস্যদের প্রতি তার হুঁশিয়ারি বার্তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শেরপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। এই দুই নেতার আশা, তৃণমূলকে প্রাধান্য দিয়ে শেখ হাসিনার সতর্কবার্তা নেতাকর্মীদের ভেতরে প্রাণের সঞ্চার ঘটাবে।

বৈঠকে এমপিদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে কোনও এমপিকে বিজয়ী করে আনার দায়িত্ব আমি নেবো না। ‘আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও কঠিন হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। কিন্তু আগামী নির্বাচনে আপনাদের নিজেদের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। এবার আমি কারও দায়িত্ব নিতে পারবো না। যেই হোন না কেন, জনপ্রিয়তা না থাকলে মনোনয়ন দেবো না। আপনারা কে কী করছেন, প্রত্যেকের খতিয়ান আছে আমার কাছে। ছয় মাস পরপর তথ্য নিই। যার অবস্থা ভালো তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য প্রায় সব এমপিকেই ফেলেছে দুশ্চিন্তায়। এ প্রসঙ্গে আ.লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘সংসদীয় দলের সভায় এমপিদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কার জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে যার যার কর্মফল মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। এতে তার কিছু করার নেই। যে জনপ্রিয় সে মনোনয়ন পাবে। দলীয় সভাপতির বক্তব্য অনেকের ভেতরে দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। তবে এটাও সত্যি যে, ভালো কাজ করে থাকলে চিন্তামুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি মানুষের জন্য, তাই মানুষের সংস্পর্শে যেসব এমপি আছেন তারাই আবারও মনোনয়ন পাবেন।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলে জনপ্রিয়তাকে ধরা হবে অন্যতম মাপকাঠি। এটাই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। তার সাফ কথা, জনবিচ্ছিন্ন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না আগামী নির্বাচনে। এই হুঁশিয়ারি অনেক এমপির মধ্যে দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এটাও তো ঠিক যে, ভালো লেখাপড়া করলেই কেবল ভালো ফল পাওয়া যায়। তেমনই ভালো কাজ করলে ভালো পুরস্কারও নিশ্চয়ই দেবেন শেখ হাসিনা।’

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিদের কী করলে মনোনয়ন পাবে আর কী করলে মনোনয়ন পাবে না, সেই প্রসঙ্গে কিছু বার্তা দিয়েছেন। শীর্ষ পর্যায় থেকে সতর্কতা অনেকের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কাজ দেখিয়ে তাদের অবস্থান সুসংহত করার সময় এখনও আছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

79f042713e14ae84275e9695e11d5436-58d234d0e0e39রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার এক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তিন উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) ১৭ জনের বিরুদ্ধে নালিশি মামলা হয়েছে। সোমবার (৮ মে) সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এক নারী এই মামলা দায়ের করেন। বিচারক আহসান হাবিব বাদীর জবানবন্দি নিয়ে ৯ মে আদেশের তারিখ ধার্য করেছেন। বাদীর আইনজীবী মাইন উদ্দিন মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম, এসআই মনিরুল ইসলাম, এনামুল, রাশেদুজ্জান বেগ, পুলিশ কনস্টেবল আপেল মণ্ডল, আনসার রওশন, আনসার হোসেন আলী ও পুলিশের সোর্স খলিল। বাকি অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান র‌্যানশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের কর্মকর্তা ওয়াজিউল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার পলাশ, চেয়ারম্যান আবু শাহাদাত মো. ফয়সাল, পরিচালক সিকদার মো. নওশের আলী রাজু, সিকদার মো. নওশের আলী রাজুর স্ত্রী মিসেস সাজু ও তার ভায়রা মিলন এবং বন্ধু রাজ ও আব্দুর রহমান।

আইনজীবী মাইন উদ্দিন মিয়া জানান, দণ্ডবিধির ১৬৫/এ, ৩২৩, ৩৫৪, ১১৯, ১২০, ১২০/বি, ৩৪২, ৫০৪, ৫০৬, ৫০৯-১০৯ এবং ৩৪ নং ধারায় এ মামলা হয়েছে। এতে ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২৭ এপ্রিল মধ্যরাতে বাদীর মিরপুর মধ্যপাড়ার বাসায় আসামিরা জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এরপর সবাই মিলে তার শ্লীলতাহানির করে। এ সময় বাদীকে মারধরও করা হয়। বাসা ত্যাগের আগে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদীর মধ্যপাড়ার জমি নিয়ে র‌্যানশ প্রপার্টিজ লিমিটেড আটতলা বিল্ডিং নির্মাণের চুক্তি করে। কিন্তু ছয়তলা পর্যন্ত নির্মাণের পর তারা কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর পুলিশের সহায়তায় পুরো বাড়িটি দখলের চেষ্টা করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

d05a3a27a2cc876ac953bf087f48d1c4-5910c34a1e2d6প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ও বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও তার অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলো দোয়া-মিলাদ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এছাড়া, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ, এম এ ওয়াজেদ ফাউন্ডেশন, মহাজোটের শরীক দলসমূহ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বিজ্ঞানীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি, ফাতেহ পাঠ ও জিয়ারত, স্মৃতিচারণ, মিলাদ মাহফিল ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

প্রয়াত বিজ্ঞানীর ভাতিজা ও পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম জানান, মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে লালদীঘির ফতেহপুরে জয়সদনে তার (ওয়াজেদ মিয়া) কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হবে। এরপর সকালে জয়সদন প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের পর গরীবদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। বিকালে উপজেলা সদরে দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন এবং মহাজোটের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।f1b87e8bfa5c34fb93ecc03d32a3a15a-5910c34bdbaf5

উল্লেখ্য, বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়া ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ফতেপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আবদুল কাদের মিয়া ও মাতা মরহুমা ময়জান নেছার সন্তান ড. ওয়াজেদ মিয়া এলাকায় ‘সুধা মিয়া’ নামেই পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সাত বছর নির্বাসিত জীবন কাটান। তিনি ২০০৯ সালের ৯ মে মারা যান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
SAMSUNG CAMERA PICTURES

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ৩ কোটি ৩৫ লক্ষ ৯১ হাজার ৯৮ টাকার খসড়া বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।  সোমবার দুপুর ৩টায় জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে সমিতির সভাপতি এড. শাহ আলমের  সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি এড. আব্দুর রউফ, সাবেক সভাপতি এড. আব্দুল মজিদ, এড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, এড. নিজামউদ্দীন, এড. জিয়াউর রহমান, এড. মতিয়ার রহমান, এড. নজরুল ইসলাম, এড. ইউনুছ আলী, এড. হাবিব ফেরদাউস শিমুল, এড. আশরাফুল কবীর, এড. কাজী আবু তাছিন  প্রমুখ।
এসময় বাজেট অধিবেশনে বাজেট সংক্রান্ত উন্মুক্ত আলোচনা আইনবীবীরা বক্তব্য রাখেন।খসড়া বাজেটে সমিতির প্রস্তাবিত আয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩৫লক্ষ ৯১হাজার ৯৮টাকা এবং প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। এসময় সমিতির উপস্থিত সকল আইনজীবীদের সর্ব সম্মতিক্রমে আয় খাতে ওকালাতনামার মূল্য  ও জামিননামা দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. ওসমান গণি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

unnamedমাহফিজুল ইসলাম আককাজ : সাতক্ষীরায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমী ও জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদের আয়োজনে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। এসময় তিনি বলেন, ‘বাঙালির নব জাগরণের বিরল সাহিত্য ¯্রষ্টা  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলাভাষার এই কবির পরিচিতি বিশ্বজোড়া। তাই বাঙালির গৌরবের নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান কবির স্মৃতিধন্য তার মধ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ গ্রাম কবির ব্যক্তি, কর্ম ও কাব্যজীবনের অনেকাংশের সাক্ষী হয়ে আছে। কবির চিন্তা চেতনা, অন্তর্নিহিত ভাব ও দর্শন সার্বজনীনবোধ অনন্য ও অসাধারণ। যে জন্য তিনি বিশ্ব সাহিত্যের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। অসাধারণ সব সাহিত্যকর্ম দিয়ে তিনি বিস্তৃত করেছেন বাংলা সাহিত্যের পরিসর। তাই তো জীবনের প্রতিটি সমস্যা-সংকট, আনন্দ-বেদনা এবং আশা-নিরাশার সন্ধিক্ষণে রবীন্দ্র সৃষ্টি আমাদের চেতনাকে আন্দোলিত করে। রবীন্দ্রনাথ তার লেখনীতে বাঙালির জীবন-যাপন, সংস্কৃতিকে যেমন তুলে ধরেছেন, তেমনি বাঙালির চিরদিনের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনারও অন্যতম রূপকার তিনি। বাংলাভাষা ও সাহিত্যকে তিনি সারাজীবনের সাধনায় অসাধারণ রূপ-লাবণ্যম-িত করেছেন। অতুলনীয় ও সর্বতোমুখী প্রতিভা দিয়ে তিনি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বমানে উন্নীত করে বাঙালিকে এক বিশাল মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের মানুষের কাছে রবীন্দ্রনাথ প্রেরণাদায়ী পুরুষ। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যলালিত দর্শন ও সাহিত্য, তার রচনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব সাহিত্য সভায় পরিচিতি পায়। ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙালি এবং এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। তার লেখা আমাদের ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ আমাদের জাতীয় সঙ্গীত’। আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.এফ.এম এহতেশামূল হক। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-ভাষা গবেষক সাবেক অধ্যক্ষ কাজী মো. অলিউল্লাহ, সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিশ্বাস সুদেব কুমার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল, সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকার, জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হেনরী সরদার, শহিদুর রহমান, চিত্র শিল্পী এম.এ জলিলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নের্তবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য সচিব শেখ মোশফিকুর রহমান মিল্টন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
Exif_JPEG_420

Exif_JPEG_420

আসাদুজ্জামান :  নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান লাভ করেও সাতক্ষীরার কলারোয়া বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজে  অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাচ্ছেন না আবদুল ওহাব। গত ছয় মাস ধরে তাকে নিয়োগ না দিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এমন অভযোগ এনে সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন কলেজের পরিচালনা পরিষদ সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা এমএ ফারুক। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাধাগস্ত করতে আবদুল ওহাবের বিরুদ্ধে বিএনপির রাজনীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে একটি নাশকতার মামলা দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যয়নপত্র পাঠিয়ে এই নিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করেছেন বলে অভিযোগ আনেন।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা ১ আসনের সংসদ সদস্য ডিও দেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, আব্দুল ওহাবের ডিগ্রি কলেজে শিক্ষাকতার ১২ বছরের অভিজ্ঞতা না থাকায় এই ডিও দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ স্বপন এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনেন বলে এমপি আরো জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কলারোয়া বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নজিবুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করায় তার স্থলে অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এ ব্যাপারে  ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত পাঁচ সদস্যের নিয়োগ বোর্ডের হয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মহাপরিচালক যথাক্রমে অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান ও অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, পরিচালনা পরিষদ সভাপতি এএম ফারুক, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অসীম কুমার ও শিক্ষক প্রতিনিধি নিলুফার ইয়াসমিন। তিনি বলেন, নিয়োগ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারে প্রথম হন আবদুল ওহাব। এ ছাড়া দ্বিতীয় হন মো. মাহবুবুর রহমান ও যৌথভাবে তৃতীয় হন আবদুর রহিম ও বখতিয়ার রহমান। নিয়োগ বোর্ডের এই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কলেজ পরিচালনা পরিষদ এতে অনুমোদন দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে কাগজপত্র পাঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, নিয়োগ বিষয়ক চূড়ান্ত কাগজপত্র তৈরির মূহুর্তে তালা কলারোয়ার সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এক চিঠি পাঠিয়ে বলেছেন আবদুল ওহাব স্থানীয় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। তাকে নিয়োগ দিলে এলাকায় উত্তজনা বৃদ্ধি পাবে। তিনি এই নিয়োগ বন্ধ রাখার সুপারিশ করেন। ঠিক একই সময়ে গত ৭ জানুয়ারি আবদুল ওহাবের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানার একটি নাশকতার মামলায়  তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এমএ ফারুক কলারোয়া বিএনপি ও কলারোয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের লিখিত একটি প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বলেন অধ্যক্ষ প্রার্থী আবদুল ওহাব কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত নন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
আফজাল হোসেন এর কলম থেকে- স্বপ্ন সত্যির সিনেমা বাহুবলী

বহুজনের কাছে সিনেমা 42a566d965bbe5c587f95d06c64bbaed-576289b87469bদেখা ভালো কাজ নয়। সিনেমা নিয়ে আলাপ তাও ভালো বলে বিবেচনা করে না অনেকেই। আমরা খুব ভালোতে বিশ্বাসী। ভাবখানা এমন, মন্দে আমাদের মোটেও মন নেই। খুবই খাঁটিজন আমরা। আমরা মন্দ বলি না, করি না, ভাবিও না। এত ভালোগিরি দিয়ে লাভের খাতা কতটা ভারি হয়েছে আর লোকসানের পরিমাণ কত ভেবে দেখা হয় না।
সিনেমা দেখা ভালো না, তাই ওদিকে মন নেই আমাদের। যাদের ওদিকটায় বেশি মনোযোগ তাদের প্রতি সমাজের বিশেষ মানুষেরা অশেষ মনোযোগহীন। মজার বিষয় হচ্ছে অনেক মনোযোগ না পাওয়া তরুণ চিত্রনির্মাতাদের চিন্তা ভাবনা, কুশলতা বিদেশের মাটিতে বিশেষ মনোযোগ কুড়াতে পারছে।
সেদিন বিবিসির এক রিপোর্টে দেখলাম, শুনলাম ভারতে নির্মিত বাহুবলী সিনেমার ধাক্কায় বিশ্ববাসী একযোগে ভারতীয় সিনেমার দিকে চোখ বড় করে তাকাতে বাধ্য হয়েছে। ভারতের বাইরে ভারতীয় সিনেমার বাজার অনেকদিন ধরে একটু একটু করে অনেকটা জমেছিল। এক বাহুবলী হঠাৎ সে পরিমাণটাকে চুরমার করে দিয়ে সিংহভাগ আয়ত্বে নিতে পেরেছে।
সিনেমা একটা দেশকে মাথায় তুলে কোন উচ্চতায় স্থাপন করতে পারলো, পারে ভাববার সামর্থ্য থাকলে সিনেমা বানানো, দেখা, আলাপ, প্রশংসা মন্দ কাজ বলে বিবেচনা করাদের মতির গতি পাল্টাবে।f423330177c7542bb9e28de85f5028c7-590ee15197af6
বাহু নয় চিন্তার বল দেখার আগ্রহ ছিল মনে। দেখে আসা হলো বাহুবলী। এই দেখে আসার ধরন খুবই বিশেষ। ছত্রিশজন একসাথে ঢাকা থেকে কলকাতা উড়ে গিয়ে সিনেমা দেখা বিশেষই তো। আমাদের জীবনে এমন ঘটনা না ভোলার মতো, অত্যন্ত আনন্দের হয়ে থাকবে। বিষয়টা নিয়ে ভালো কথা, মন্দ কথা হতে পারে, ঠাট্টা মস্করা হতেও পারে। ভ্রু কোঁচকানো আলাপ সালাপ, তাও হয়তো হবে। নিজের রুচি অভিরুচি অনুযায়ী যে যেমন মন্তব্যই করুক, আমাদের মন্তব্য হচ্ছে সামর্থ থাকলেই মানুষ অনেক কিছু করে না বা করে উঠতে পারে না। আনন্দময় মনে হলেও সে আনন্দ অর্জনের তাগিদ বহু মনে থাকে না। সব মনে কৌতুহল থাকে, সে কৌতুহল টান মেরে এতজনকে একসাথে এমন আনন্দে সামিল করায় না। মানুষের মনে ইচ্ছা জাগবে, সে ইচ্ছা পূরণের ইচ্ছা সকল মনে বিশেষভাবে জেগে ওঠে না বলে ইচ্ছা অপূর্ণই রয়ে যায়।

আমরা যেদিন বাহুবলী দেখতে গেলাম, হলে ঢোকার আগে দেখতে পাই শুধু আমরা নই তখন কলকাতায় থাকা অনেক বাংলাদেশি-ই  আনন্দ উত্তেজনা নিয়ে সেখানে অপেক্ষমান। কারও কারও সাথে পরিচয় ঘটেছে। আমরা এতজন একসাথে সিনেমা দেখতে এসেছি শুনে তারাও অবাক না হয়ে পারেনি। অবাক করলেও ঘটনা কি অতটা অবাক করানোর মতো? পরিচয় হওয়া পাঁচজনের একটা পরিবার সে রাতে বাহুবলী দেখতে গিয়েছে। পরিচয়ের পর জানা হলো, কলকাতায় আসবার পরিকল্পনা আগেই ছিল, ছেলে মেয়েদের আগ্রহে বাহুবলীর মুক্তির সাথে আসা ও থাকার দিন মেলানো হয়েছে। সে মতই রথ দেখা ও কলা বেচা একসাথে হয়ে যাচ্ছে। ছত্রিশজন তাহলে অনেক নয়। আমরা গিয়েছি অনেকগুলো পরিবার একসাথে, কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু একত্রে। আলাদা আলাদাভাবে সবারই কলকাতা এসে রথ দেখা ও কলা বেচা হয়, হয়েছে বহুবার। এবারই প্রথম সবাই মিলে আসা হয়েছে শুধুই রথ দেখতে।

বাহুবলী তো রথ দেখার মতই। কলকাতায় অনেককে বলতে শুনেছি, কোথাও কোথাও পড়েছিও, ছবিটা নিয়ে মানুষের বাড়াবাড়ি একটু বেশি রকমের। হলেও সেটা দোষের নয়। মুক্তির আগেই যদি ছবিটা জনমনে অতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে পেরে থাকে, তা তো ছবিটা এবং তার পেছনের মানুষদের কৃতিত্বই। জেনেছি, বাহুবলী একসাথে নয় হাজার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা দেখবার জন্য রেকর্ড সংখ্যক মানুষ অগ্রিম টিকেট কেটেছে। ব্যবসা বিষয়ক একটা পত্রিকা লিখেছে, আমেরিকাতে এই প্রথম একটা ভারতীয় ছবি একসাথে এক হাজার চারশত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। আরো জানতে পারি, তেলেগু, তামিল, হিন্দি, ইংরেজি- বহু ভাষায় বাহুবলী মুক্তি পেয়েছে। ২০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত বাহুবলী ভারতের বাইরে সারা বিশ্বের এগারো শত সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে এবং আগ্রহ সৃষ্টি করার মতো ঘটনার পর ঘটনার জন্ম দিয়েই চলেছে। দু’একটা খবর কানে পৌঁছালে বাহুবলী বিষয়ে কৌতুহল জাগবারই কথা। যত কথাই হোক সামগ্রিকভাবে এ হুলস্থুল ছবি অতি আগ্রহ তৈরির উপাদানে ভরপুর। তাই সে চলচ্চিত্র দেখার জন্য জগতজুড়ে এত হুড়োহুড়ি।

অনেকে বলতে পারেন বাহুবলী এত মাতামাতি করার মতো ছবি নয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মাতামাতি হচ্ছে। বাহুবলীর দ্বিতীয় পর্ব দেখে অনেক দর্শক প্রথম বাহুবলীর মতো আনন্দ পায়নি বলেছে। মতামত এক একজনের এক এক রকম হতেই পারে। মানুষ মানেই মত। মানুষের মনে যে বিষয় বিশেষ গুরুত্ব তৈরি করতে পারে মানুষ মতামত প্রকাশ করে সে বিষয়েই। সে যুক্তিতে বাহুবলী নিয়ে বিশেষ বলাবলি চলছে, চলতে থাকবে অনেকদিন। বিশেষজ্ঞরা ধারণা দিয়েছে এ সিনেমা এক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করবে। ভারতের সিনেমা বাণিজ্য আরও উঁচু লক্ষ্যে পৌঁছে গেলো।

শুরুতে যা লিখেছি, বাহু নয় চিন্তার বল দেখার আগ্রহ ছিল মনে। ছবিটা নিয়ে মন্দ বলে আনন্দ পেতে হবে কেন? বিশেষ ছবি ভেবে ভালোলাগার মতো বিষয়গুলোকে তো বড় করে দেখা যায়। যে ছবি সাধারণ নয়, যে ছবি নিয়ে অসংখ্য মানুষ স্বপ্ন বুনেছে, স্বপ্নের মতো রূপ দিতে চেয়েছে, তা বড় মাপের হলে কতটাই বা অসুন্দর হতে পারে। মুহূর্তে মুহূর্ত বিস্ময় সৃষ্টির চেষ্টা আমরা সমীহ করেছি। দোষ ত্রুটি থাকুক, তা আমাদের হয়রান করেনি। ছবি দেখে ঠকে গেলাম না জিতে গেলাম এসব নিয়ে মাথা ঘামানো অবান্তর। অবাক হয়েছে সবাই। সবারই মনে হয়েছে, মানুষের সাধ্য রয়েছে, সামর্থ সীমাহীন, শুধু সাধ থাকলেই হয়।

অনেক মানুষের সাধ্য রয়েছে। চেনা জানা অনেক মানুষের সামর্থ্য সীমাহীন, সাধও রয়েছে এক একজনের এক এক রকম। বাহুবলী কেউ বানাবে, এমন ছবি বানাতে চাইবে, যে ছবি দেখার জন্য সারা বিশ্বে হুড়োহুড়ি পড়ে যাবে। হুড়োহুড়ি ফেলে দেওয়ার সাধে অন্যায় নেই। যারা এত আগ্রহে ছবিটা দেখার জন্য ছুটবে না, ছোটেনি তারাও দোষ করেনি। জগতে যা ঘটবার ঘটে চলবে। মানুষের ভাবনাও, যার যার মতো চলতে থাকবে।

‘কাটাপ্পা বাহুবলীকে কেন মারলো’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মানুষ হুড়মুড়িয়ে ছুটছে সিনেমা হলের দিকে। সে ছোটা থামছে না। তা নিয়ে লেখালিখি হচ্ছে বিস্তর এবং বিচিত্র রকম। অধিকাংশকে নাড়িয়ে চাড়িয়ে দেওয়ার মতো কাণ্ড বাহুবলী ঘটাতে পেরেছে। জানা গেলো ভারতের কোনও প্রদেশে নিয়মিত চারটির বদলে আটটি প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দুই ঘণ্টা সাতচল্লিশ মিনিট দৈর্ঘ্যের বাহুবলীর নির্মাতা এস এস রাজামৌলি। যে যত কথাই বলুক, রাজামৌলি সবচেয়ে বড় স্বপ্নটা সহজে দেখতে পারেন। সেই স্বপ্ন দেখাতে সবাইকে জড়ো করতেও পারবেন। এমন আত্মবিশ্বাস ছিল বলেই প্রবল বাহুবলী জ্বরে মানুষ আক্রান্ত হয়ে চলেছে।

আমরাও সে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছি, বলতে দ্বিধা নেই। দলে বলে ঢাকা থেকে কলকাতায় উড়ে গেছি বাহুবলী দেখতে। আসলে দেখতে গেছি চিন্তার বল। আমাদের বন্ধু ফরিদুর রেজা সাগর, সাগর বাহুবলী জ্বর এবং বাহুবলী স্বপ্ন উভয়েই আক্রান্ত। প্রথম বাহুবলী দেখার পর থেকে সে ছবির বিস্ময়কর জায়গাগুলো যখনই সময় পায়, দেখেছে আর ভেবেছে- এরকম একটা স্বপ্ন তো আমরাও দেখতে পারি। দ্বিতীয় পর্ব যখন আসি আসি করছে, পরিবার বন্ধুবান্ধব সবাই মিলে সে সিনেমা দেখার পরিকল্পনা এঁটেছে মনে মনে। সাগর ভেবেছে ভালোলাগার ছবিটা একসাথে সবাই মিলে দেখা হবে মহাআনন্দের। ভেবেছে, ঢাকায় সবারই খুব ব্যস্ত জীবন, অবসর মেলেনা কারোরই। একসাথে একটা দিন অভিনব উপায়ে কাটানোর উপলক্ষ্য হবে বাহুবলী। হয়েছেও তাই। অনেকটা বয়স অতিক্রম করে এসে, যখন এদিক সেদিকে দেখি, মানুষে মানুষে সম্পর্ক এখন স্বার্থ ও সুবিধার অংকে ভরপুর। প্রায় সবাই এখন সম্পর্কের অন্দরে আবেগের জায়গা কমিয়ে হিসাব নিকাশের জায়গা বাড়িয়ে তোলায় ব্যস্ত। সংবেদনশীলতা কমিয়ে হৃদয়ে পোক্তভাবে ভান ভনিতার বাড়ি তৈরির জন্য সাগ্রহে জায়গা ছাড়তে প্রস্তুত। এরকম সময়ে দল বেঁধে সিনেমা দেখতে যাওয়ার মতো ছেলেমানুষি আনন্দের সাধ পঞ্চাশোর্ধ বয়সে জাগে, তা পরম সৌভাগ্যের।

বাহুবলীর ভিডিও ঢাকায় এলে অনেকের মুখে ছবিটার কথা শুনেছিলাম, দেখা হয়ে ওঠেনি। পত্রিকায়, এখানে ওখানে বাহুবলীর পোশাক আষাক দেখে অনুমান করে নিয়েছি রাজারাজড়ার গল্প, দেখার আগ্রহ জাগেনি। বন্ধু ফরিদুর রেজা সাগর একদিন অতি আনন্দে, উত্তেজনায় জিজ্ঞাসা করে বাহুবলি দেখেছি কিনা। উত্তরে সে না আশা করেনি। তুমুল উৎসাহে নিজের ফোনে ধরে রাখা বাহুবলীর একটা গান দেখায়। অসামান্য প্রকৃতি, অবিশ্রাম ঝর্না জলরাশি, মোহিত হওয়ার মতো চিন্তা শক্তি, মুগ্ধ হওয়ার মতো চিত্রায়ন তার মধ্যে নায়ক নায়িকার অভিনয় দেখে বাক্যহারা হতেই হয়। পুরো ছবিটা না দেখে থাকা যায় না।

বন্ধু বান্ধব পরিচিতজন যার সাথেই তারপর থেকে দেখা হয় সবার কাছেই সাগরের সেই গান দেখানোর গল্প শুনি। চল্লিশ বছর ধরে সাগরকে জানি, আমাদের আর ওর আনন্দ, উত্তেজনার প্রকাশ এক নয়। বাহুবলী বা ওই গান কাছেরজনদের দেখানোয় তার আনন্দ বা ছবি বিষয়ে আলাপের আগ্রহে নয়, এমন সিনেমা বা গানের কল্পনা মানুষ করতে পারে এবং তার বাস্তবায়ন সম্ভব ভেবেই সাগরের আনন্দ। এমন মাপের সিনেমা পৃথিবীতে আগে সম্ভব হয়েছে। পাশের দেশ ভারতে সম্ভব হলো। আগামীতে এমন স্বপ্ন আমরাও দেখতে পারি। পারা না পারার কথা পরে, আগে তো মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে হয়। স্বপ্ন দেখতে জানলে স্বপ্নপূরণ মানুষের অসাধ্য নয়।

যুবকবেলায় পাঁচ সাতজন একত্রে ছবি দেখা হয়েছে বহুবার। এইবেলায় এসে বড় ছোট মাঝারি মিলে ছত্রিশজন একসাথে সিনেমা উপভোগ অবিস্মরণীয় ঘটনাই। একটা উপলক্ষে, একত্রে অনেকটা সময় নবআনন্দে কাটানো হয়েছে, নির্ভেজাল আড্ডায় ওঠে এসেছে স্বপ্ন ও সার্থকতার কথা। বাহুবলী শুধু সিনেমা দেখা নয়, মনে করিয়ে দিয়েছে বেঁচে থাকা বড় কথা নয় বড় বড় স্বপ্ন দেখতে হয়। বড় স্বপ্ন মানে বড় করে বেঁচে থাকা। বড় স্বপ্ন মানে জীবনে নতুন সম্ভাবনা, অনুপ্রেরণা। রোজ ক্ষুদ্র চর্চায় যে আনন্দলাভ হয় তা আসলে সত্য নয়, ঘোর। এই ঘোরের চক্কর থেকে বের না হতে পারলে অর্থবহ জীবনলাভ হয় না, হবে না। আমাদের এত রূপকথার গল্প, সব পড়ে আছে অন্ধকারে। বাহুবলী সাগরের মধ্যে একটা স্বপ্ন তৈরি করে দিয়েছে। এমন ধরনের সিনেমা তো আমাদের দেশেও হতে পারে। যারা সাগরকে চেনে, সবারই জানা দেশের জন্য প্রথম এবং নতুন কিছু করার ইচ্ছা তার মনে যদি জাগে সে ইচ্ছা সাগর অপূর্ণ রাখে না। বাহুবলী স্বপ্নে আমাদের যদি জাগরণ ঘটে, তা সমগ্র জাতির ধ্যান ধারণা ও সংস্কৃতিকে পাল্টে দিতে পারে। সিনেমাকে আমরা ভালো চোখে দেখতে শিখিনি, সে দোষ সিনেমার নয়। আমাদের অসচেতনতা, ব্যর্থতা। আমরা গায়ের বল, বাহুর বল, গলার বল নিত্য হজম করে চলেছি। বাহুবলী চিন্তার বল, অসাধারণ। মনের বল, চিন্তার বলে বলীয়ান হতে পারলে বাহুবলী এ ভূমিতেও ঘটতে পারে। স্থির বিশ্বাস, ঘটবেও।

লেখক: অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রশিল্পী

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest