সর্বশেষ সংবাদ-
দেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট ও বাদুড়িয়ায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশিদের মদদ রয়েছে।

স্থানীয় সময় আজ শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য প্রশাসিক ভবন ‘নবান্নে’ এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন মমতা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি আপত্তিকর পোস্ট নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মমতা বলেন, ‘ওই এলাকার অশান্তিতে বাংলাদেশ থেকে আসা লোকজনের মদদ রয়েছে বলে আমি খবর পেয়েছি। আর বাংলাদেশ থেকে আসা এই অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক খুব ভালো।’

মমতা আরো বলেন, ‘কোনো এক সংবাদমাধ্যমে বসিরহাটের ঘটনা বলে, আদতে বাংলাদেশের কুমিল্লার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা হয়েছে। এমনকি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকেও ভোজপুরি চলচ্চিত্রের দৃশ্য নিয়ে ভুল প্রচার করা হচ্ছে।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বসিরহাট ও বাদুড়িয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। বাংলা একটি স্পর্শকাতর জায়গা। এই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের বর্ডার রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া সিকিমের সঙ্গে রয়েছে চীনের বর্ডার। ফলে, পরিকল্পিতভাবে পশ্চিমবঙ্গে অশান্তি তৈরির চক্রান্ত করা হচ্ছে।’

বসিরহাট-বাদুড়িয়ার ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত দাবি করে মমতা বলেন, ‘বসিরহাট ও বাদুড়িয়াতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও বসিরহাট বাদুড়িয়ার মানুষ সেই প্ররোচনায় পা দেননি। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ।’

বসিরহাটে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় মমতা ভারতের রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘ (আরএসএসকেও) কাঠগড়ায় দাঁড় করান। আরএসএসের দুর্গাবাহিনীকে কটাক্ষ করেন। নারীদের বন্দুক চালানো শেখানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বসিরহাট ও বাদুড়িয়ার পাশাপাশি দার্জিলিং পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এক মাস হয়ে গেল দার্জিলিং শান্ত করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রের কাছে সিআরপিএফ বাহিনী চাওয়া সত্ত্বেও তারা তা দেয়নি। পাহাড়ের জনজীবন এখনো শান্ত হয়নি, এখনো স্কুল-কলেজ বন্ধ।

কেন্দ্র সরকারের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘পাহাড়ের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করতে দিন। পাহাড়ে খাবার পাঠান।’ এ সময় পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তির পথে ফিরে আসার বার্তাও দেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের (জিএনএলএফ) এক সদস্যের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং জেলাসহ পাহাড় অঞ্চল আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনার জের ধরে দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন আরো একজন।

স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে দার্জিলিংয়ের সোনাদা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন জিএনএলএফ সদস্য তাসি ভুটিয়া। এর পর থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাহাড়ের পরিবেশ।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ের মধ্যবর্তী সোনাদা এলাকায় একটি ওষুধের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তাসি। পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি।

জিএনএলএফের মুখপাত্র নিরাজ জিম্বা জানিয়েছেন, মৃত তাসি ভুটিয়া তাঁদের সমর্থক। পুলিশের গুলিতেই তাসির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে সেদিন রাতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার হয়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগাতে এলে তাসিকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, জিএনএলএফের দাবি ভুল। কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে খুন হয়েছেন তাসি। এখানে পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই। মোর্চাই এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং লাগাতে চাইছে।

এদিকে তাসি হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দার্জিলিংসহ পাহাড়ে মিছিল করে মোর্চা। ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকেই পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দার্জিলিংয়ের মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। এ ছাড়া পাহাড়ের কার্শিয়াং, কালিম্পংসহ বিভিন্ন স্থানে চলে পুলিশের কড়া নজরদারি।

নিরাপত্তা সত্ত্বেও শনিবার সকালে সোনাদা থানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায় মোর্চা সমর্থকরা। বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীকে মারধর করা হয় বলেও জানায় পুলিশ। সোনাদার পাশাপাশি ঘুম স্টেশনও অবরুদ্ধ করে দেয় মোর্চার সমর্থকরা। মোর্চার সঙ্গে দাঙ্গায় হাত জিএনএলএফের কর্মী-সমর্থকরাও।

এদিকে তাসি ভুটিয়ার মৃতদেহ নিয়ে মিছিল করে মোর্চা ও জিএনএলএফ সমর্থকরা। দার্জিলিংয়ের টয়ট্রেন স্টেশন ও ডিএসপি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে কালিম্পংয়ের গরুবাথান ন্যাওড়া রেঞ্জের ফরেস্ট কোয়ার্টারেও আগুন দেওয়া হয়। দার্জিলিংয়ের চকবাজার এলাকায় পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে সুরজ সুনদাসসহ আরেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। কমবেশি আহত হয়েছেন অনেক। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী।

পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে এক মাস ধরে দার্জিলিংসহ পাহাড়ে আন্দোলন চালাচ্ছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। চলছে অনির্দিষ্টকালের বন্ধ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ভারতের দিল্লি শহরের ব্যস্ততম একটি সড়কে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধ। তাঁর কোলে ছোট একটি কুকুর। আর পেছনের আসনে আরো দুটি কুকুর। মোটরসাইকেলের গতি নিয়ে যেন কোনো চিন্তাই নেই কুকুর তিনটির। বরং ফুরফুরে বাতাসে জিভ নাড়িয়ে মোটরসাইকেল ভ্রমণ বেশ উপভোগ করছিল তারা।

এমন ঘটনা কি সচরাচর দেখা যায়? তাই সুযোগ পেয়ে মুঠোফোনে ভিডিও করে নেন কাহান বক্সি নামের এক তরুণ। তারপর সেটি পোস্ট করেন ফেসবুকে। ভিডিওটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

এ বিষয়ে বক্সি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় আমরা কালকাজি যাচ্ছিলাম। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। দিল্লির বিকাশ মার্গ ও আইটিওর কাছে দৃশ্যটি দেখামাত্র ভিডিও করে রাখি।’

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ফেসবুকে ৩৯ হাজার ২৩৯ বার দেখা হয়েছে।

পরে ফেসবুকে ‘ডগস ডে আউট’ নামে একটি গ্রুপে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে অনেকেই মজার মজার মন্তব্য করেন।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী বলেন, ‘আমি প্রায়ই এই সর্দারজিকে লক্ষ্মীনগর ফ্লাইওভার থেকে আইটিও ব্রিজের দিকে তাঁর পোষা প্রাণীগুলোকে নিয়ে যেতে দেখি।’

আরেকজন লেখেন, ‘এমন একটি দৃশ্য দেখা খুব দুর্লভ। আমি এনএইচ ২৪-এর সামনে তাঁকে দেখেছি।’

অনেকেই আবার কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

স্বামীর মাদক গ্রহণে বাধা দিয়েছিলেন রওশন আরা। আর এ কারণেই দরজা বন্ধ করে তাঁকে বেঁধে দা দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে স্বামী গোলাম রসুল। পরে বাড়ির লোকজন রওশনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

গতকাল শনিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

কুশখালি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লিয়াকত হোসেন বাবু জানান, গোলাম রসুল দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল ও ইয়াবায় আসক্ত। এ নিয়ে পারিবারিক অশান্তি ছিল। গতকাল রাতে রসুল ঘরে বসে মাদক খাচ্ছিল। এতে বাধা দেন রওশন। ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে শাড়ি দিয়ে বেঁধে কুপিয়ে জখম করে রসুল।

রওশনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে দা হাতে নিয়ে পালিয়ে যায় রসুল। এ সময় সে তার মেয়েকেও কোপানোর জন্য তাড়া করে।

লিয়াকত বাবু আরো জানান, রওশন আরাকে প্রতিবেশীরা দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখান থেকে রাতেই রওশনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অনেক আগে থেকেই মিডিয়াতে গুঞ্জন চলছিল যে কণ্ঠশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ ও মডেল অভিনেত্রী তানজিন তিশার মধ্যে বেশ গভীর সম্পর্ক চলছে। সম্প্রতি মিডিয়াপাড়ায় গুঞ্জন চলছে সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ ও তানজিন তিশা বিয়ে করেছেন। সেই ঘটনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি তানজিন তিশা নিজেও বলেছিলেন, ‘আসলে আমাকে নিয়ে একটি শ্রেণি উঠেপড়ে লেগেছে। বিয়ের ঘটনাকে নিছক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে অভিহিত করেন।’

এই বিষয়ে নিজের অভিমত সোশাল মিডিয়া জানান হাবিব। তিনি বলেন, ‘আমাকে নাকি কিছু সাংবাদিক ভাইরা খুঁজে পাচ্ছেন না! আমি এখন অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করছি কনসার্ট এর জন্য। কিছুটা দুঃখজনক যে একটা বিষয় নিয়ে আবারও কথা বলতে হচ্ছে। আপনাদের করা একটা নিউস (নিউজ) দেখলাম। যেখানে বলা হয়েছে যে তানজিন তিশার কারণে আমার সাথে রেহান (হাবিবের বউ) এর ডিভোর্স হয়। কথাটি ঠিক নয়, কারণ ‘এক হাতে তালি বাজে না’। তানজিন তিশার সাথে আমার কি সম্পর্ক সেটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এবং এটি নিয়ে কিছু বলতে আমি বাধ্য না।’

হাবিব আরও বলেন, ‘কেন আমার ডিভোর্স এর কয়েক মাস পর এসব কথা রেহানই বা বললো এটাও আমার কাছে আশ্চর্যজনক। বলার হলে আরও আগেই বলত। ডিভোর্সের কারণ যাই হোক না কেন আমি তো জোর করে ডিভোর্স করতে বলিনি তাকে। সমঝোতার মাধ্যমেই তা হয়। তাহলে এখন এত কাদা ছোড়াছুড়ি কেন? এসব করে কারোই তো কোনো লাভ আমি দেখি না। এসব মোটেই কাম্য নয়।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অবিবাহিত। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। বড় লোকের সন্তান। এমন নানা পরিচয়ের ফাঁদ পাতত দক্ষ বাহাউদ্দিন ইভান। সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন। প্রেমের নিখুঁত অভিনয়। এমন কৌশলে নারীদের কাছে টানতো সে। বন্ধু-বান্ধব, মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও ফেসবুকের মাধ্যমে ফেলতো প্রেমের ফাঁদে। তারপর সুযোগ বুঝে ধর্ষণ।

বারবার ধর্ষণের জন্য কৌশলে সে দৃশ্যের ভিডিওচিত্র ধারণ করে জিম্মি করতো। এভাবে তার শিকারে পরিণত হয়েছে বহু নারী। হারিয়েছে সম্ভ্রম। কৈশোর থেকেই তার এ নারীলিপ্সা ও বহুগামিতার কথা জানতো পরিবার। অপকর্ম থেকে সরাতে কম বয়সে ২০০৮ সালে তার বিয়ে দেয়া হয়। তার সর্বশেষ শিকার এক টেলিভিশন অভিনেত্রী।

গত মঙ্গলবার রাতে বনানীর ২ নম্বর সড়কের ন্যাম ভিলেজে নিজেদের ভাড়া বাসায়। কিন্তু এবার আর ছাড় মিলেনি। ধর্ষণের শিকার তরুণীর মামলায় গতকাল ইভানকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে বনানী থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব তাকে বনানী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এর আগে সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে নেয়া হয় তাকে।

র‌্যাব-১১ এর এএসপি শাকিল আহমেদ বলেন, আমরা তাকে খুঁজতে গিয়ে তার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তার বিষয়ে অনুসন্ধান করেছি। সে বিভিন্নভাবে বহু মেয়েকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছে। পতিতাদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে। সে বহুগামী। এসব কথা তার আত্মীয়স্বজনরাও জানে। প্রায় অভিন্ন কথা বলেন, র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান। তিনি বলেন, নারীর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার বদনাম রয়েছে।

এদিকে বনানীর ২ নম্বর সড়কের ন্যাম ভিলেজের যে ৫/এ নম্বর ভবনে তারা ভাড়ায় থাকে তা সংলগ্ন উত্তর পাশের প্লটেই রয়েছে তার নানীর একটি প্লট। বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ির ডি ব্লকের ২৯৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের সেই নাজভীন ভিলা (ইতি)তে টিনশেড বাসায় বেশ কয়েকটি বাসা ভাড়া দেয়া হয়েছে।
সেখানকার ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে একই তথ্য। অন্তত ৪ ভাড়াটিয়া পুরুষ ও নারী নাম প্রকাশ না করে বলেন, তার চরিত্র ভালো না। সে মাঝে মাঝে এখানে আসতো। একাধিক কক্ষে সময় কাটায়। নারী নিয়ে খারাপ কাজ করে বলে শুনেছি।

জিজ্ঞাসাবাদে ইভানের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইভান রাজধানীর ক্যাম্ব্রিয়ান স্কুলে ৯বম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে। এরপর পড়ালেখা ছেড়ে দেয়। বনানীর ৮ নম্বর রোডে পিতার ইলেক্ট্রিক দোকানে বসতো। ব্যবসা দেখাশোনা করতো। সেই কিশোর বয়স থেকে নারী নিয়ে নানা অপকর্ম করতে থাকে। তার বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ২০০৮ সালে অল্প বয়সে পরিবার তার বিয়ে দেয়। পুরান ঢাকার মেয়ে ইসমত আরা টুম্পার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার আবরান নামে পাঁচ বছরের এক ছেলে ও অলিভিয়া নামে দেড় বছরের এক কন্যা রয়েছে। এরপরও সে বহুগামিতা ছাড়েনি। ২০০৫ সাল থেকে সে মাদক সেবন করে আসছে। এরপর আগে দু’বার তাকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাও দেয়া হয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, বুধবার সকালে ওই নারী থানায় গিয়ে পুলিশসহ বাসায় যাওয়ার সময় ইভান সেই ভবনেই ছিল। লুকিয়ে ছিল বাড়ির ছাদে। পুলিশ বাড়ি ত্যাগ করলে সে বাসা থেকে বের হয়ে পড়ে। প্রথমে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করে। সন্ধ্যায় যায় উত্তরার কাওলা এলাকায়। এরপর দক্ষিণ খান এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে রাত কাটায়। তারপর বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরা থেকে নারায়ণগঞ্জে খালা শান্তার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রথমে উত্তরা থেকে বাসে চড়ে গুলিস্থান যায়। সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া। তারপর ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগের মাসদাইর এলাকার ২৬০/২ নম্বর বাড়িতে খালার বাসায়। সেখান থেকে ওই দিন বিকালে র‌্যাব সদস্যরা তাকে আটকের পর প্রথমে র‌্যাব-১১ এর কার্যালয়ে নেয়া হয়েছিল।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে সেই নারীকে ধর্ষণের আগে একাধিকবার নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয় বলে জানিয়েছেন বনানী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সুলতানা আক্তার। জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীর বর্ণনার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর থেকে ধর্ষিতা তেজগাঁওয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছেন। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দু’একটি ধারাবাহিক নাটকের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন।
মঙ্গলবার তাকে বাসায় জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে ইভান মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা বলে ফোন করে আসতে বলে। এজন্য সে তার বাসায় যান। পরদিন তার শ্যুটিং ছিল বলে ব্যাগে টাকা ও কিছু কাপড়-চোপড়সহ বের হয়েছিলেন বলে জানান। ভিকটিমের পড়াশুনা এইচএসসি পর্যন্ত। ঘটনার পর এক পথচারীর মাধ্যমে ভোর ৪টার দিকে তিনি থানায় আসেন। তবে পথ দেখিয়ে দেয়ার পর ওই পথচারী থানায় না ঢুকে বাইরে থেকে চলে যায়। সেই রাতে ফোন করে বাসায় আনার পর তরুণীকে ডাল, মুরগী ও ভাত খেতে দেয়। এরপর দু’দফায় তাকে ইয়াবা সেবন করায়। তার স্ত্রী থাকার কথা সে আগে জানায়নি। নিজেকে অবিবাহিত ও ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়েছিল। কয়েক মাস আগে ফেসবুকে তাদের পরিচয়। এসব ঘটনা এখনও কুড়িগ্রামে তরুণীর পরিবার জানে কি না জানতে পারেনি তদন্ত কর্মকর্তা। এদিকে গত বুধবার ইভানের বাসা থেকে দুটি মোবাইল ফোন সেট ও তরুণীর পরিধান করা পোশাক জব্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সুলতানা।

ইভানের বাসায় গিয়ে তার বাবা বোরহান উদ্দিন বেলাল, মা নাজনীন জাহান ইতি বা তার স্ত্রী ইসরাত আরা টুম্পাকে পাওয়া যায়নি। বাসায় তার এক শালী ও তিন কাজের মেয়ে নিলুফা, মৌসুমি ও আসমাকে দেখা গেছে। বুধবার সকালে পুলিশ নিয়ে ওই তরুণী সে বাসায় গেলেই আগের রাতের ঘটনার বিষয়ে তারা জানতে পারে বলে জানায়। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে ভিকটিম তার জিনিস দাবি করে বাসার কিছু জিনিসপত্রও নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন তারা। সূত্র: মানবজমিন

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক : তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটায় গ্রামে বাল্যবিবাহের ঘটনায় নববধূসহ এলাকার মেম্বার মোঃ আব্দুল করিম বিশ্বাসকে পাটকেলঘাটা থানার ওসি (তদন্ত) উজ্জ্বল কুমার মৈত্র, এস,আই পীযূষ দাশসহ সঙ্গীয় ফোর্স থানায় নিয়ে গেছেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য এ্যাড. শাহনেওয়াজ পারভীন মিলি, মাহফুজা সুলতানা রুবি, এ্যাড. সেলিনা আকতার শেলী, তালা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক আলেয়া খাতুন প্রমুখ। সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার সকাল ১১ যখন উপরোক্ত ব্যক্তিরা ছেলের বাড়িতে যায় তখন তারা সেইবাড়িতে বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা চলছে তারপর সে বাড়িতে একসাথে নববধূ ইয়াসমীন এবং বর মোজাহারুলকে দেখা মাত্র বর ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এছাড়া গত ০৭-০৭-২০১৭ তারিখে গোপনে রেজিস্ট্রি ছাড়া হুজুরের মাধ্যমে বিয়ে হয়। শনিবার বরের বাড়ি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলার সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়। এসময় ছেলের চাচা বর্তমান নগরঘাটা ইউপি এর ২ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আব্দুল করিম বলেন, এটি আমার বাড়ির সামনে হলেও আমি কিছুই জানি না।
এ বিষয়ে এলাকার চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান লিপু বলেন শুক্রবার রাত ১১ টা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সমাধান করা হয়েছিল যে এদের এখন বিয়ে হবে না যতদিন ১৮ বছর বয়স না হয়।
পরে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানালে তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে পাটকেলঘাটা থানায় অবগত করেন তখন পাটকেলঘাটা থানার ওসি তদন্তসহ উপরোক্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন এবং প্রতিবেদককে জানান গতকাল থানায় ভিকটিম পরিবারের সাথে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনেন যতদিন প্রাপ্তবয়স্ক না হয় ততদিন বিবাহ দেবেন না তবুও পরদিন তাদের বিয়ের আয়োজনকে আইন বিরোধি মনে হওয়ায় তাদেরকে থানায় নিয়ে এসেছি। বর্তমানের তারা থানায় অবস্থান করছেন। এসময় থানার ওসি ছুটিতে ছিলেন বলে জানান ডিউটিরত এ,এস,আই সায়েদুল। এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয় যার নম্বর ২১৮। পরে ইউপি চেয়ারম্যান এর জিম্মায় মেয়েটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

রাজধানী ঢাকার হলি আর্টিজানের মতো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ ঘটনারও প্রধান আসামি চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেফতারকৃত সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা নাসিরউল্লাহ। তাই সোহেল মাহফুজকে হেফাজতে পেতে ঢাকায় আসবে ভারতের সর্বোচ্চ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) গোয়ন্দারা।

এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তারা অনেকটাই নিশ্চিত, এই সোহেল মাহফুজই বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরক ঘটনার মূল অভিযুক্ত হাতকাটা নাসিরউল্লাহ। তাকে জেরা করার পাশাপাশি কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সোহেল মাহফুজের গ্রেফতারের বিষয়ে তারা সরকারি ভাবে কিছু জানেন না। এনিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে এনআইএ।

২০১৪ সালের অক্টোবরে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তাতে সব মিলিয়ে মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে এনআইএ। ঘটনায় ১০ জন ফেরার দেখানো হয়। চার্জশিটে থাকা ৩০ জনের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে সাজিদ ও সরিবুলকে গ্রেফতার করে এনআইএ। কওসার, তালহা শেখ, সইদুল ও নাসিরউল্লাহর খোঁজ চলছিল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest