সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালাসাংবাদিক জিন্নাহর উপর হামলাকারী মামুনকে কারাগারে পাঠালো আদালতসাতক্ষীরায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার চেক বিতরণসাতক্ষীরায় জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে ব্যবসায়ীর জেল জরিমানালবণাক্ততা দূরীকরণ ও লবণ পানি অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে আটুলিয়ায় গণতান্ত্রিক সংলাপসাতক্ষীরায় পহেলা বৈশাখে মর্নিং সান প্রি-ক্যাডেট স্কুলে বর্ণাঢ্য আয়োজনদেবহাটার ১০ ফুটের খাল কাটার উদ্বোধনসাতক্ষীরায় মাটি বহনকারী ট্রলির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যুErfahrungen und Bewertungen von Spielern über das Casino Spinnandoইছামতি নদীতে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা রেজাউলের জীবন যুদ্ধ

jowa-amarbdআসাদুজ্জামান : সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার গ্রামে নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে। এতে নিরীহ মানুষ যেমন সর্বস্বান্ত হচ্ছে। তেমনি এলাকায় চুরি ডাকাতির ঘটনাও বেড়ে গেছে।
তবে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল হাসান বলেন, জুয়ার আসর সম্পর্কে কোনো খবর আমার কাছে নেই। খোঁজ নিয়ে প্রমাই পেলে অবশ্যই তা তুলে দেওয়া হবে।
এলাকার লোকজন জানান, কুমিরা ইউনিয়নের নোয়াকাটি গ্রামে একটি আমবাগানের মধ্যে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বসে জুয়ার আড্ডা। একইভাবে জুয়ার আড্ডা বসে সরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কাশীপুর গ্রামের একটি আমবাগানে। রাতভর জুয়ার আড্ডার সুযোগে চারদিকে চুরি ডাকাতি বেড়ে গেছে বলে জানান তারা। জুয়ায় বসে সর্বস্ব হারাচ্ছে কিছু মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার রাতে নোয়াকাটি গ্রামের জুয়াড়ি আবু সাঈদের বাড়ি থেকে তিনটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করেছে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ। তবে ওসি বলেন, এগুলি চোরাই নয়। বরং মালিকরা তার কাছে বন্ধকি রেখেছে বলে তারা জানিয়েছে। এদিকে কয়েকদিন আগে খলিসখালি ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামের মধুসূদন মন্ডলের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা বাড়ির ১০ তোলা স্বর্ণালংকার ও নগদ  টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া রোববার রাতেও পাটকেলঘাটা বাজারের অগ্রণী ট্রেডার্সে চুরি হয়েছে। চোরেরা দোকানের নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন দোকান মালিক।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

1459971721মোস্তাফিজুর রহমান, আশাশুনি ব্যুরো প্রধান : আশাশুনি থানার এএসআই আবু রাসেল নিজেই মোবাইল কোর্ট বসিয়ে উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়ৎ থেকে জরিমানার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। উপজেলার মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়ৎদার ও চাষীদের মধ্যে নেমেছে হতাশার ছোয়া। অভিযোগ সূত্রে বিভিন্ন মৎস্য আড়তে গিয়ে জানা যায়, আশাশুনি থানার এএসআই আবু রাসেল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়তে গিয়ে বাগদা চিংড়িতে পুশ করা অবস্থায় ব্যাপারীদের আটক করে। কিন্তু সে তাদেরকে থানায় না নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে জরিমানার কথা বলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের কাদাকাটি হাজীরহাট মৎস্য আড়তে শনিবার সকালে বাগদা চিংড়ি পুশ করার অভিযোগ পাওয়া গেলে আশাশুনি থানা পুলিশের এএসআই আবু রাসেল মৎস্য আড়তে অভিযান চালিয়ে পুশকৃত বাগদা চিংড়ি আটক করে। কিন্তু আটকের পর এএসআই আবু রাসেল পুশকৃত বাগদা চিংড়ি সাড়ে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয় বলে জানায় স্থানীয়রা। এব্যাপারে মৎস্য ব্যবসায়ী নওয়াপাড়া গ্রামের পঞ্চানন নাথ মাছ পুশের কথা স্বীক্ষার করে বলেন আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পুশকৃত মাছ আটক করেছিলো কিন্তু তারপর কি হয়েছিলো আমি জানিনা। আপনারা আড়ৎদারের সাথে কথা বলেন।

আড়ৎদার কাদাকাটি গ্রামের মোঃ শাহিন রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাছ পুশ করার সময় আশাশুনি থানা পুলিশের এএসআই আবু রাসেল অভিযান চালায়। এসময় সাড়ে ১২হাজার টাকায় তৎক্ষণাৎভাবে বিষয়টি মীমাংশা ও মাসিক ১০হাজার টাকা থানাকে দিতে হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের পাইথালী মৎস্য আড়তে ২৫মে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে ব্যাপারী সুকুমারকে হ্যান্ড ক্যাপ পরিয়ে আটক করে। সুকুমার জানায় আটকের পর স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ড মেম্বর আলতাফ হোসেন সানা, পুলিশিং কমিটির সভাপতি বিজন দে ও আড়ৎদারদের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৪০হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে আমাকে মুক্ত করে।
অন্যদিকে রমজানের আগের দিন উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বসুখালীতে আইয়ুব আলীর পুত্র জাহাঙ্গীর বাড়িতে কিছু মাছ পুশ করা অবস্থায় তাকে সহ মাছ আটক করে। এসময় স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ড মেম্বর ফারুক হোসেনর বড়ভাই আজিবর হোসেন ও সাবেক মেম্বর শাহবাজ পিয়াদা এর মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা জরিমানার নামে আত্মসাত করে বলে জানান জাহাঙ্গীর। সে আরও জানায় এএসআই আবু রাসেল জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে জোর করে কোন টাকা নেওয়া হয়নি বলে আবু রাসেল তার নিকট থেকে লিখিত নেয়। জানা গেছে এর আগেও একই গ্রামের রায়সুল ইসলামের বাড়ি থেকে একই ভাবে নগদ ৭০হাজার টাকা ও বিশ কেজি খাওয়ার মাছ আদায় করে।
এব্যাপারে এএসআই আবু রাসেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন আমি কিছুই জানিনা।
বিষয়টি নিয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি কেউ মাছ পুশ করে এবং এমন তথ্য উপজেলা প্রসাশন জানতে পারে তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অথবা উপজেলা মৎস্য অফিসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদেরকে সাজা দিবেন। কিন্তু থানা পুলিশ যদি বেআইনি ভাবে পুশ করা মাছ ও আসামি ছেড়ে দেয় এবং তা প্রমাণ হয় তবে তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তার দায়ভার থানা পুলিশকে নিতে হবে।
উপজেলার মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়ৎদার ও চাষীরা জানান, কোম্পানিতে পুশ বা পুশ বিহীন বাগদা মাছের দাম একই, যে কারণে ব্যবসায়ীরা বাগদা মাছে পুশ চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার সচেতন মহলের দাবি সরকার কোম্পানিগুলোকে পুশ মাছ কেনতে বন্ধ করলে আর কেউ মাছে পুশ করবে না। তাই কোম্পানির কাছে তাদের দাবি যেন তারা পুশ মাছ কেনা বা বেচা বন্ধ করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

02মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : ‘সরকারিকরণ নয়, তিনবেলা খাওয়া ও সুস্থ্যভাবে বাঁচতে চাই’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবস্থান মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জেলা সুইপার কল্যাণ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। সোমবার সকালে সাতক্ষীরা পৌর ভবনের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
ইতিমধ্যে কর্মচারীরা সাতক্ষীরা পৌর মেয়র বরাবর দুটি ব্যানার সম্বলিত আবেদনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেছেন। মানববন্ধন চলাকালে  বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। কর্মচারীরা তাদের আবেদনে উল্ল্যেখ করেছে যে, সাতক্ষীরা পৌরসভার পরিস্কার পরিছন্নতার কাজ করে থাকি। যা লোক চক্ষে একটি অশোভনীয় কাজ। তার পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুধুমাত্র পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য এসকল কাজ আমরা করে থাকি। এ কাজ  করার কারণে আমরা বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। আর এ কাজের বিনিময়ে আমরা যে বেতন পাই তা বর্তমান বাজার মূল্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে আমাদের জীবন যাপন করা কষ্ট সাধ্য হয়ে যাচ্ছে। এ কাজ করার ফলে আমরা নানা ধরনের রোগ, আর বৃদ্ধ বয়সে আমাদের কোনো ভবিষ্যত নেই। এ কারণে আমরা পরিবারের সদস্যদের কাছেও হয়ে থাকি অবহেলিত, লাঞ্ছিত।
এজন্য কর্মচারীরা মানবিক দিক বিবেচনা করে কর্মচারীরা যাতে তিন বেলা খেয়ে সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে পারে সে ব্যাপারে সাতক্ষীরা পৌর মেয়রের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা সুইপার কল্যাণ ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল গফুর, সাধারণ সম্পাদক গণেশ, জেলা সুইপার কল্যাণ ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সামছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ও জেলা সুইপার কল্যাণ ইউনিয়নের উপদেষ্টা চন্দন হেলা। বক্তব্যে জেলা সুইপার কল্যাণ ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দরা বলেন, পৌরসভার ড্রেণ পরিচ্ছন্নকারীরা মাসিক বেতন পায় ৪ হাজার ৫ শ’ টাকা, ট্রাকের পরিচ্ছন্নকারীরা বেতন পায় ৫ হাজার ৪শ’ টাকা ঝাড়–দাররা মাসিক বেতন পায় ২ হাজার ৫শ’ টাকা। এই নুন্যতম বেতনে বর্তমান সময়ে ছেলে- মেয়ে নিয়ে সংসার চালানো দূর্বিসহ হয়ে যাচ্ছে। আমরা সাহায্য চাইনা আমরা নার্য্য মজুরী চাই এবং বাঁচতে চাই।
এব্যাপারে পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি জানান, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ করার কথা। কিন্তু তারা ২ ঘন্টা কাজ করে। ২ ঘন্টা কাজ করে ৮ ঘন্টার কাজের বেতন কিভাবে নেবে। যারা প্রকৃত পরিচ্ছর্ন্ন কর্মী তাদের তালিকা চেয়েছি। আলোচনা সাপেক্ষে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

01মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : ‘প্রাণের স্পন্দনে, প্রকৃতির বন্ধনে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৭ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (৫ জুন) সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রিজে এসে শেষ হয়। এসময় প্রাণ সায়ের খালের কচুরিপনা তুলে পরিবেশ দিবসের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনের কক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এন.এম মঈনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.এফ.এম এহতেশামূল হক, সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আসফিয়া সিরাত, আবু তালেব, একি মিত্র চাকমা, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, টিআইবি’র সাতক্ষীরা এরিয়া ম্যানেজার আবুল ফজল মো. আহাদ, পৌর কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ দৌলা সাগর, ফারহা দিবা খান সাথী, শফিকুল আলম বাবু, পৌর সচিব সাইফুল ইসলাম বিশ্বাস প্রমুখ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1496650970চলছে পবিত্র রমজান মাস। ধর্মীয় রীতি মেনে রোজা রেখেছেন ফাতিমা সালাহ (৫৮)। বিধান অনুযায়ী সারা দিন না খেয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। কিন্তু দিন শেষে ইফতারির পরও খাবার জুটছে না। এভাবেই রাত-দিন না খেয়ে কাটাচ্ছেন তিনি। এ চিত্র শুধু ফাতিমার নয়, ইয়েমেনের সানা শহরের কমবেশি সবার প্রতিদিনের জীবনের ঘটনা এমনই।

ইয়েমেনে চলছে দুর্ভিক্ষ। চারদিকে খাবারের হাহাকার। কিন্তু পেট তো আর কথা শোনে না। তাই সকালেই প্রতিবেশীদের বাড়ি ও আশপাশের দোকানগুলোতে খাবার খুঁজতে বের হন ফাতিমা। বেলা গড়ালে পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্তত কিছু যেন পড়ে, এটাই আশা।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে ফাতিমা বলেন, ‘সেই সকাল থেকে হাঁটছি। সেহরিতে তেমন কিছুই মুখে দিইনি। আমি একেবারে বিধ্বস্ত। পিপাসায় গলা শুকিয়ে এসেছে।’ কথাগুলো বলতে বলতে চোখ ভিজে আসে তাঁর।

‘আমি আমার বাড়িতে সম্মানের সঙ্গেই থাকতাম। রমজান ছিল বছরের সেরা মাস। যুদ্ধ আমাদের প্রতিদিনের সুখ কেড়ে নিয়েছে। গত রমজানও ভালো ছিল। কিন্তু এবার কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা দিনে রোজা রেখে রাতে না খেয়ে থাকি।’

কয়েক বছর আগেও এ অবস্থা ছিল না ইয়েমেনে। হঠাৎ একদিন শুরু হয় যুদ্ধ। দুই বছরব্যাপী যুদ্ধ শুধু হাজার হাজার প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং বেঁচে থাকা জীবনগুলোকেও ফেলেছে ‘মৃত্যুকূপে’। কারণ যুদ্ধের ফলে দেখা দেয় তীব্র দুর্ভিক্ষ। খাদ্যশূন্য হয়ে পড়ে দেশটি। দুর্ভিক্ষের কারণে সেখানে এক কোটি ৭০ লাখ মানুষের জীবন ফাতিমার মতোই চোখের জলে ভাসছে।

এদিকে, শুধু খাদ্যের অভাবই এ রমজানে ইয়েমেনবাসীকে ধরাশায়ী করেনি। এ বছর দেশটিতে আঘাত হেনেছে মরণব্যাধি কলেরাও। এরই মধ্যে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৩০ জন। আর কলেরার ঝুঁকিতে রয়েছেন আরো ৬৫ হাজার মানুষ।

রমজানে এই সংকটময় অবস্থায় ইয়েমেনের প্রতি ঘরে ঘরে নেমে এসেছে শোক। শোকে শামিল হয়েছেন মোহাম্মদ আল-মোখদারিও। তাঁর ১০ সন্তানের কেউ আক্রান্ত হয়নি কলেরায়। তাও পাড়া-প্রতিবেশীদের কষ্টে একটুও শান্তিতে নেই তিনি। মোখদারি বলেন, ‘রমজান বিশেষ একটা সময়। কিন্তু যুদ্ধের আগের রমজানগুলোতে আমি যে শান্তি খুঁজে পেতাম, এখন তা পাই না। খাবারের দাম বাড়ছে আর টাকা কামানোও কঠিন হয়ে পড়ছে।’

এই সংকট থেকে রেহাই পেতে অর্থ উপার্জনে নেমেছে মোখদারির দুই সন্তানও। রাস্তার বাতিল বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে তারা। মোখদারির নিজেরও কোনো চাকরি নেই। তাই ইফতারে সামান্য দুধ-রুটি খেয়েই থাকতে হয় তাঁদের। তিনি জানান, ভালো খাবার এখন ইয়েমেনে স্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইয়েমেনের এ অবস্থার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির অর্থনীতিবিদ সায়েদ আবদুল মোমিন। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘বেতন অপরিশোধিত রয়েছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বাড়ছে ও পড়তির দিকে যাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এবারের রমজানের অবস্থা অন্যবারের থেকে অনেক খারাপ।’

প্রথম অর্ধে রয়েছে রমজান। আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাবে মাসটি। কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির কবলে পড়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনবাসীর ফিকে হয়ে আসা দিনগুলো আবার কবে রঙিন হবে, তার নিশ্চয়তা কি দিতে পারবে কেউ?

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1496640262অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশগুলো বলছে, কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ সন্ত্রাসী দলগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে।

সৌদির সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘এসপিএ’ জানিয়েছে, রিয়াদ কাতারের সঙ্গে জল, স্থল, আকাশপথসহ সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করেছে। সংবাদ সংস্থাটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার ঝুঁকি থেকে দেশকে নিরাপদে রাখতেই এটা করা হচ্ছে।’

পাশাপাশি সৌদি জোটের নেতৃত্বে ইয়েমেনে নিযুক্ত সেনাবাহিনী থেকে কাতারের সব সেনাকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি কাতারের পরিবহনকে তাদের নৌ অথবা বিমানবন্দর ব্যবহার করতে দেবে না।

সংযুক্ত আরব আমিরাত কাতারের কূটনৈতিকদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে বলেছে। আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে গলায় গলায় ভাব, উগ্রপন্থীদের সমর্থন ও সহায়তা করার জন্য কাতারের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখতে আবুধাবি আগ্রহী নয়।

বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটি কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। তারা বলেছে, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণ, বাহরাইনের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের কারণে তারা এটা করছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ২৩ ধরনের পদে ৩৬৯ জন এই নিয়োগ পাবেন।

পদসমূহphoto-1496568477

প্রকৌশলী প্রশিক্ষক (মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত) একজন, সিনিয়র সাইফার অফিসার দুজন, চিফ ইন্সট্রাক্টর ছয়জন, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার ২০ জন, সহকারী প্রোগ্রামার (মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত) আটজন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (অস্থায়ী) দুজন, মেডিকেল অফিসার (মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত) ১৫২ জন, প্রিন্টিং ম্যানেজার একজন, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট  একজন, রেডিওলজিস্ট (মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত) একজন, ব্যাকটেরিওলজিস্ট (মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত) একজন, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা  ৬০ জন, সহকারী প্রকৌশলী-সিভিল (স্থায়ী বা অস্থায়ী) ১৭ জন, সহকারী প্রকৌশলী-তড়িৎ (অস্থায়ী) দুজন, সহকারী প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকৌশলী দুজন, জেলা ক্রীড়া অফিসার ১২ জন, প্রভাষক (অস্থায়ী) ১৩ জন, এস্টিমেটর (তড়িৎ) একজন, ড্রাফটসম্যান ২৯ জন, পরিদর্শক (মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত) একজন, উপসহকারী প্রকৌশলী-সিভিল (মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত) ১৯ জন এবং মোটরযান পরিদর্শক (অস্থায়ী) ১৮ জনসহ মোট ৩৬৯ জনকে এই নিয়োগ দেওয়া হবে।

যোগ্যতা

পদমর্যাদা অনুযায়ী আবেদনের জন্য প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা পাস থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। এ ছাড়া প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত দক্ষতার পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়াদে অভিজ্ঞতাসম্পন্নও হতে হবে।

বয়স

১ মে-২০১৭ অনুযায়ী প্রথম তিনটি পদের জন্য প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়স যথাক্রমে ৪৫, ৪০ ও ৩৫ বছর হতে হবে। এ ছাড়া অন্য পদগুলোর জন্য আবেদনকারীর বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের  বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

বেতন

পদমর্যাদা অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রতি মাসে ১৬ হাজার থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

টেলিটক (bpsc.teletalk.com.bd) বা বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (www.bpsc.gov.bd) ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে নির্ধারিত আবেদনপত্র ‘বিপিএসসি ফরম-৫এ’ পূরণ করে এবং ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। প্রার্থীরা শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একাধিক পদে আবেদন করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি পদের জন্য আলাদা করে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে হবে। আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। আবেদন করা যাবে ৩০ জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

বিস্তারিত দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ৩ জুন-২০১৭ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখুন-

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

13SlDk_62পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশী রহমানকে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসাথে ৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশও দিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রায় ঘোষণা করছেন। গতকাল রোববার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করে একই বেঞ্চ।

এর আগে গত ৭ মে মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত ঐশী রহমানের করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষামাণ রাখেন আদালত। গত ১২ মার্চ ঐশীর আপিল ও ডেথ রেফারেন্স এর শুনানি শুরু হয়। ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর ঐশীর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছায়। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন ঐশী রহমান।

মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানকে হত্যার দায়ে ওই দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমানকে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। ওই হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য ঐশী রহমানের বন্ধু মিজানুর রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে খালাস পেয়েছেন মামলার অন্য আসামি ঐশী রহমানের আরেক বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক সাঈদ আহমেদ আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ভাই মশিউর রহমান এ ঘটনায় পল্টন থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই ঐশী রহমান পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে বাবা-মাকে খুন করার কথা স্বীকার করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest