সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালাসাংবাদিক জিন্নাহর উপর হামলাকারী মামুনকে কারাগারে পাঠালো আদালতসাতক্ষীরায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকার চেক বিতরণসাতক্ষীরায় জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে ব্যবসায়ীর জেল জরিমানালবণাক্ততা দূরীকরণ ও লবণ পানি অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে আটুলিয়ায় গণতান্ত্রিক সংলাপসাতক্ষীরায় পহেলা বৈশাখে মর্নিং সান প্রি-ক্যাডেট স্কুলে বর্ণাঢ্য আয়োজনদেবহাটার ১০ ফুটের খাল কাটার উদ্বোধনসাতক্ষীরায় মাটি বহনকারী ট্রলির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যুErfahrungen und Bewertungen von Spielern über das Casino Spinnandoইছামতি নদীতে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা রেজাউলের জীবন যুদ্ধ

photo-1464888645ঠিকানা আহমাদিয়া প্রেস। ১ কেবি আহছানউল্লাহ রোড, সাতক্ষীরা। বহু পুরনো এই ঠিকানাটি আজকের প্রজন্মের অনেকেরই অচেনা হলেও প্রবীণদের মুখে মুখে রয়েছে । কারণ এই ঠিকানায় দিনরাত বসতো জমজমাট আড্ডা। শীত গ্রীষ্ম বর্ষা ঝড় সব দিনেই খোলা থাকতো আহমাদিয়া প্রেসের দরজা। হাসির ফোয়ারা উঠতো। কখনও বা বিষাদে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়তো আড্ডাটা। আর এ সবের  পেছনে জড়িত রয়েছে প্রেসের অতি পরিচিত ম্যানেজার  আবুল কাসেমের নামটিও। বহুল পরিচিত আহমাদিয়া প্রেসটি এখনও আছে। তবে নতুন রুপে। আজ আর নেই শুধু  সেই আড্ডাটা । নেই সেই আড্ডার মধ্যমনিও।
সাতক্ষীরা শহরের নারকেলতলা থেকে পাকাপুলের মোড় আসার  শহীদ নাজমুল সরণি বরাবর দক্ষিনমুখী সড়কের বামধারের ছোট রাস্তাটিই ১ কেবি আহছানউল্লাহ রোড। এখানেই গড়ে উঠেছিল  এক মোহনা।  যেন  অবিরাম জন ¯্রােতোধারার একটি  মিলনমুখ। যেখানে মিলিত হতো হাজার প্রাণ, প্রাণে প্রাণে প্রাণময় হয়ে থাকতো সারাক্ষন। প্রেসটির দেয়ালে সাঁটা থাকতো অভিনন্দনপত্র, মানপত্র।এমনকি কিছু বাঁধানো ছবিও। যে কেউ তার কক্ষে ঢুকে দেখতে পেতেন মোতালেব সাহেবের প্রশস্তি গাওয়া  সেই সব মানপত্রগুলি। হে ক্ষনিকের অতিথি , হে বিদ্যানুরাগী , হে মহানুভব এমনসব  নানা বিশেষণে ভূষিত করে সুন্দর হস্তলিখিত প্রশস্তিপত্র পড়ে যে কেউ তার  মর্যাদা ও সম্মান সম্পর্কে ধারনা পেতে পারতেন।  স্কুল কলেজ যেখানেই যেতেন তিনি  প্রধান অথবা বিশেষ অতিথি হয়ে, সেখানেই তাকে সম্মানিত করা হতো অভিনন্দনপত্র দিয়ে ।
প্রেসের অফিস কক্ষে গায়ে গায়ে ঠাঁসা গোটা পনের  চেয়ার। সামনে টেবিল । সেখানেই বসতেন একটি কুশন চেয়ারে , তিনিই এই প্রেসের মালিক,নাম আবদুল মোতালেব। যার নাম  ডাক ছিল খুব। এক নামেই মানুষ জানতো যাকে তিনিই  আবদুল মোতালেব। টেবিলে  এক গাদা বাংলা ইংরেজী খবরের কাগজ রেখে চেয়ারে বসে থাকা মানুষগুলোর সাথে পান চিবুতে চিবুতে অবিরাম গল্প গুজব করা। পানের সাথে সাথে চা। কখনও হাসি কখনও বিষাদে ভরে উঠতো সামনের সারিতে বসে থাকা মুখগুলো। আবার হাসির ফোয়ারা উঠতো মাঝে মাঝে। অনবরত মানুষ আসছে , কথা বলে চলে যাচ্ছে । কারও চাকুরি চাই। কারও একটি স্কুল চাই। কেউ চান এলাকায় দরিদ্র মানুষের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ সামগ্রী বিতরন। কেউ  কম্বল , কেউ টিন, কেউ বা গুড়ো দুধ। কেউ বা আসতেন পুলিশের বালা মসিবতের  হাত থেকে রক্ষা পেতে। প্রেস অফিস কক্ষটির বাইরের  দেয়ালে টানানো একটি চিঠির বাক্স। বহুদিন হওয়ায় জীর্নতার ছাপে নড়বড়ে হয়ে দাঁত ভেংচি কাটা লেটার বক্স।  রানার আসতো , বক্স খুলে চিঠি নিয়ে যেতো । আর ডেলিভারি দিতো অনেক চিঠি। অন্যের নামের চিঠি। লেখা থাকতো কেয়ার অব আবদুল মোতালেব , আহমাদিয়া প্রেস। যার নামের চিঠি তিনি তো এই প্রেসের কেউ নন। সাতক্ষীরার দুরগ্রাম , যেখানে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম দুই চাকার হেলিকপ্টার , আর নদী পারাপার সেখানকার গ্রামে কবে পৌছাবে এই চিঠি তার হিসাব কেউ বলতেই পারতো না । গ্রামে চিঠি বিলি হতো সপ্তাহের একদিন হাটবারে। এক হাটবারে না পাওয়া গেলে পরের হাটবার দিন।হয়তো চিঠি নেওয়ার জন্য মৌখিক খবর যেতো প্রাপকের বাড়িতে।  এভাবে কতো হাট যে কেটে যেতো তার ঠিক ছিলনা।  আর তাই প্রত্যন্ত এলাকার প্রিয়জনরা ব্যবহার করতেন কেয়ার অব আবদুল মোতালেব , আহমাদিয়া প্রেস , ১ কেবি আহছানউল্লাহ রোড। নিরাপদে চিঠি পৌঁছাতো। প্রাপক খবরও পেতেন তাড়াতাড়ি।
মোতালেব সাহেব বহু স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা  চেয়ারম্যান। আমার জানা মতে এ সংখ্যা ৯০ টিরও বেশি। এ ছাড়া কলেজ মাদ্রাসা তো আছেই। ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি স্কুল তৈরির অভিযানে মাঠে নেমেছিলেন। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকও। তালার কুমিরায় তিনি নারী শিক্ষার প্রদীপ প্রজ্বলন করেছিলেন।  নিজ হাতে গড়ে তোলেন কুমিরা গার্লস হাইস্কুল , কুমিরা মহিলা কলেজসহ নানা প্রতিষ্ঠান। নতুন স্কুল কলেজের  প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করে তিনি কাগজপত্র প্রস্তুত করাতেন । আর তা ঢাকায় নিয়ে স্কুলটির রিকগনিশন আদায় করতেন। এভাবে একের পর এক স্কুল প্রতিষ্ঠান করতে থাকায় তার সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি হয়ে ওঠেন জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষানুরাগী। এরপর যতো স্কুল প্রতিষ্ঠা লাভ করতো তার সবগুলিতে প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে নাম থাকতো আবদুল মোতালেবের। কারণ তারা জানতেন তাকে ছাড়া রিকগনিশন প্রাপ্তির অসাধ্য কাজ আর কারো দ্বারা সাধ্য নয়। স্কুল তৈরির সাথে সাথে চাকুরিও পেয়ে গেছেন অগনিত বেকার যুবক। আজও চাকুরিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন তারা। আবার কেউ কেউ অবসরে গেছেন। চিরদিন তারা স্মরণে রেখেছেন তাকে । কারণ তিনিই তাদের রুটি রুজির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
আবদুল মোতালেব একজন নন্দিত নেতা ছিলেন। তার রাজনৈতিক বিশ্বাস ছিল আওয়ামী লীগের প্রতি । কিন্তু দলীয় কোনো পদ গ্রহন করেননি তিনি। তবে রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করেছেন। জেলার রাজনীতির অন্যতম নীতি নির্ধারকও ছিলেন তিনি। একদিকে তিনি ছিলেন দৈনিক কাফেলার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। অন্যদিকে নিজে ছিলেন বাংলাদেশ অবজারভারের সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট।  ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা। বন্যা ও ঝড়ের সময় বিটিভিতে তার কন্ঠ শোনা যেতো। টিভিতে ভেসে আসতো দুর্যোগ কবলিত মানুষের দুর্ভোগের কথা , ত্রাণ বিতরনের কথা ।  তিনি ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের  প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বহু দফায় তিনি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের মূল ভবনটি তিনিই আদায় করেছিলেন তৎকালিন এসডিও শহিদুল আলমের কাছ থেকে। বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির তিনি ছিলেন সভাপতি। ৬০ এর দশকে সাংবাদিকতায় প্রবেশ করে তিনি নিজেকে দেশজুড়ে পরিচিত করে তুলেছিলেন।  জেলার সাংবাদিকদের পথপ্রদর্শক ছিলেন তিনি। তার তৎকালিন সাপ্তাহিক কাফেলায় ( পরবর্তীতে দৈনিক কাফেলা ) কিংবা তার প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ সহযোগিতায় সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেছেন সাতক্ষীরার অগনিত সংবাদকর্মী। তার কাছেই সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি হয়েছে অনেকের ।  তিনি ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় কমিটির বিভিন্ন সময়ের সদস্য। সাতক্ষীরা জেলা রেড ক্রিসেন্টের তিনি  ছিলেন সম্পাদক। রেড ক্রিসেন্টের বর্তমান ভবনটি তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছ থেকে গ্রহন করেছিলেন। আবদুল মোতালেবের বিচরন ছিল এক .সংবাদ জগতে , দুই .শিক্ষা ভূবনে , তিন.  রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে। ফলে সকল সময়ই তাকে জনগনের পাশে থাকতে হতো। জনগনের সমস্যা শুনতে হতো । সমাধান দিতে হতো তাকে। ২০০০ সালের অক্টোবর মাস। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সাতক্ষীরার পশ্চিম জনপদ  ভয়াবহ অকাল বন্যার কবলে পড়ে ভারতীয় পানিতে ভাসছিল। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ  সাতক্ষীরার বন্যা পরিস্থিতি দেখতে এসেছিলেন। সার্কিট হাউসের হলরুম সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তাদের  ভিড়ে ঠাঁসা। রাষ্ট্রপতি হলে ঢুকতেই সবাই উঠে দাঁড়িয়ে সালাম জানালেন। আর রাষ্ট্রপতিও দাঁড়িয়ে গেলেন । বললেন ‘এখানে মোতালেব সাহেব নেই। মোতালেব সাহেব যিনি টিভিতে খবর দেন তিনি কোথায়’। হতবাক সবাই। অডিয়েন্স থেকে জবাব এলো তিনি ঢাকায় রয়েছেন। এরপর যশোর সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল আশফাক রাষ্ট্রপতিকে বন্যার ওপর ব্রিফ করেন।  একজন রাষ্ট্রপতি যিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নন তিনি সাতক্ষীরায় এসে আবদুল মোতালেবকে খুঁজছেন এটা কম কথা নয়। তার পরিচিতি এতোটাই  যার প্রমান হতে পারে এটি।  মোতালেব সাহেবের পরিচিতি   এতোটাই তুঙ্গে ছিল যে সাতক্ষীরায় শীর্ষ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাই এখানে যোগ দিয়ে অথবা যোগদানের আগে  তার সাথে কথা বলতেন। দেখা করতেন। সাতক্ষীরাকে বুঝবার চিনবার চেষ্টা করতেন।  দায়িত্ব পালন কালে তারা তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন।
দেশ সেরা সমাজকর্মী ছিলেন  আবদুল মোতালেব। তাকে একজন সমাজ সংস্কারক হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়। কোনো কিছু প্রাপ্তির জন্য নয় , জীবনব্যাপী তিনি সমাজ কর্মের মধ্যে মানুষকে শুধু দিয়েই গেছেন। জেলায় এমন কোনো স্কুল কলেজ খুঁজে পাওয়া যাবেনা যে প্রতিষ্ঠানে তার যাদুস্পর্শ পড়েনি। একজন স্কাউট কমিশনার হিসাবে তিনি ছিলেন বিরল কৃতিত্বের অধিকারী । তার বাড়িতেই বসতো দাদা ভাই রোকনুজ্জামানের  কচি কাঁচার মেলা। এই মেলা সাতক্ষীরার শিশুর সাংস্কৃতিক উন্নয়নে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছে। জেলা শিল্পকলা  একাডেমি ,জেলা সাংস্কৃতিক সংস্থা এসব কিছু  প্রতিষ্ঠার পুরোধা আবদুল মোতালেব। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আন্দোলনে  তিনি ছিলেন অগ্রগামী সৈনিক। জেলাব্যাপী তিনি শুধু জমি খুঁজতেন । সরকারি জমি কিংবা বাড়ি । যেমনটি তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন জ্ঞানমন্দির । যেখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন দিবা নৈশ উচ্চ বিদ্যালয়। সরকারের কাছ থেকে এসব জমি আদায়ের সব কলা কৌশল তারা জানা ছিল। এভাবেই তিনি জেলার  উন্নয়নে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। এ কারণে তিনি হয়ে ওঠেন সব আলোচনার মধ্যমনি। তেমনি জমে থাকতো তার আহমাদিয়া প্রেস। ১৯৫২ তে যে প্রেসের জন্ম। এই প্রেসই ছিল সাধারন মানুষেরও ঠিকানা।
শুধু সাংবাদিকতা নয় শিক্ষা বিশেণ করে  নারী শিক্ষার প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ ।  সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত এলাকায়  তৃণমুল পর্যায়ে তিনি গড়ে তুলেছেন প্রাথমিক  ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় , মাদ্রাসা ও কলেজ ।  সাতক্ষীরায় একটি পলিটেকনিক ইন্সিটিটিউট , সরকারি বিএড কলেজ , কৃষি কলেজ , ল’ কলেজ , এমনকি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্বপ্নও দেখেছিলেন তিনি ।  তার সেই দীর্ঘ লালিত স্বপ্নের অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়েছে । অনেকটাই এখন বাস্তবায়নের দ্বার প্রান্তে । আবার আলোর মুখ দেখেনি অনেকগুলি । খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পুরোধাদের অন্যতম  ছিলেন তিনি।  এরই মধ্যে তার জাদুষ্পর্শে জন্ম নিয়েছে  সাতক্ষীরা দিবা নৈশ কলেজ , নৈশ বিদ্যালয় , ছফুরেন্নসা কলেজ ।  এভাবে অগনিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে  সেখানে চাকুরি দিয়ে   তিনি বেকারত্ব দুরীকরনের   পাশাপাশি  শিক্ষিত ও আলোকিত সমাজ গঠনে ব্রতী হয়ে চিরস্মরনীয় হয়ে রয়েছেন । তার সমস্ত কর্ম তৎপরতা পরিচালিত হতো এই আহমাদিয়া প্রেস থেকে।
ঠিকানা আহমাদিয়া প্রেসের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল। প্রতিদিন দুপুরে সন্ধ্যায় মুড়ি চানাচুর আসতো মোতালেব সাহেবের টেবিলে। সাথে বাদাম চলতো বেশ। সেই সাথে গরম গরম চা। দুধ চা। মোতালেব সাহেব দক্ষিন দিকে মুখ করে চেয়ারে বসতেন। তার ডান পাশে টুলের ওপর থাকতো টেলিফোন। অনেকেরই মনে থাকবার কথা, ফোন নম্বরটি ছিল  থ্রী সেভেন ফাইভ(৩৭৫)। সাতক্ষীরার বাইরে কথা বলতে টেলিফোন এক্সচেঞ্জে বুকিং দিতেন তিনি। ওয়ান সেভেনে বার বার রিমাইন্ডার দিতেন। অনবরত ফোন আসতো, ফোন করতেন তিনি। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে রিসিভার উঁচু করে কথা বলতেন তিনি। অনবরত কথা বলা  আর গল্প করা সম্ভবতঃ তার হবি ছিল। আর মাঝে মাঝে হুংকার দিতেন ‘কাসেম, চা নিয়ে আয়’। ম্যানেজার আবুল কাসেম ফ্লাক্স নিয়ে যেতেন চা আনতে ,সিরাজের চা দোকানে। পেছনে থাকা কাপে ঢালতেন , হাতে হাতে দিয়ে দিতেন। আর পেছনে খট খট করতো ছাপাখানা, লেটার প্রেস। ছাপা হতো নিজের সম্পাদিত দৈনিক কাফেলা। ছাপা হতো অন্যান্য পোস্টার লিফলেট এমনকি প্রশ্নপত্রও। এ কথা সবার মনে থাকবার কথা। শুধু গল্পে গুজবে হাস্যরসিক নন, তিনি ছিলেন ভোজন রসিকও।
আজ  সেই  ২ জুন । প্রবাদ প্রতিম  নন্দিত সাংবাদিক নেতা , অবিসংবাদিত শিক্ষানুরাগী , দুর্যোগে  দুর্বিপাকে মানুষের একান্ত সাথী আবদুল মোতালেবের ১৬ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ । তাঁকে মনে পড়ছে বারবার । আর তাঁকে ঘিরে  ঠিকানা আহমাদিয়া প্রেসের  জমজমাট আড্ডার কথাও ভুলিনি। প্রেসটি আছে । লেটার যুগের শেষ হয়েছে। এসেছে নতুন ডিজিটাল প্রেস । কিন্তু  সেই আড্ডাটা আজ আর নেই। নেই সেই মধ্যমনি আবদুল মোতালেবও।
সুভাষ চৌধুরী : সাংবাদিক, এনটিভি ও দৈনিক যুগান্তর, সাতক্ষীরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

1470464455নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১০ জন, কলারোয়া থানা ০৫ জন,তালা থানা ০২ জন, কালিগঞ্জ থানা ০৫ জন,শ্যামনগর থানা ০১ জন, আশাশুনি থানা ০৩ জন,দেবহাটা থানা ০২ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ০১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশর বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

IMG_20170601_090801কাশিমাড়ী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি : বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঘোলা আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন নদীর ধারে ‘এন.এস শিক্ষা কেন্দ্রের’ শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রেবেকা ইমতিয়াজ ট্রাস্ট কর্তৃক সার্বিক পরিচালনায় এ শিক্ষাকেন্দ্রের উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই স্কুলের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব নাসিরউদ্দীন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ০৬ নং ওয়ার্ডের (ঘোলা) ইউপি সদস্য রাজগুল ইসলাম, প্রাক্তন ইউপি সদস্য আনিছুজ্জামান, মাওলানা আব্দুল আজিজ প্রমুখ। উদ্বোধন শেষে অত্র উপকূলবর্তী এলাকার অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বই বিতরন করে পাঠদান কে আরও ত্বরান্বিত করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জিয়াউর রহমান। এ কেন্দ্রে অনুর্ধ ৬ বছর বয়সের ছেলে-মেয়েকে নৈতিক ও নাগরিক শিক্ষা দান মূল উদ্দেশ্য, সাথে সাথে প্রাথমিক বাংলা, আরবি, ইংরেজী ও অংক শিক্ষা দান করবে। রেবেকা ইমতিয়াজ ট্রাস্ট’র প্রতিষ্ঠাতা অত্র এলাকার কৃতি সন্তান, বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী ডাঃ ইমতিয়াজ উদ্দীন মুঠোফোনে জানান, ২০০৮ সালে ভয়াবহ সিডর আঘাত হানে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব জেলা গুলোতে। এরপর ২০০৯ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র আঘাত হানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলায় আঘাত হেনে ল– ভ- করে দেয় সবকিছু। মানুষের জীবন বিপন্ন হয়। এসব দূর্যোগ কবলিত এলাকায় বহু ঘর-বাড়ি নষ্ট হয়। এসব দূর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষেরা এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনি। পৃথিবীতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে এ দুর্ভোগগ্রস্থ মানুষের সেবায় আমি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমার পরিবার নিয়ে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে রেবেকা ইমতিয়াজ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করি।  ttp://Www.rebekaemtiaztrust.org.uk  এই লিংকের মাধ্যমে এই ট্রাস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

Biri labour human chain picনিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রীর কর্তৃক ২ বছরের মধ্যে বিড়ি বিদায় করার ঘোষণা প্রত্যাহারসহ ৬ দফা দাবিতে বাংলাদেশ বিড়িশ্রমিক ফেডারেশন সাতক্ষীরা জেলার শাখার আয়োজনে প্লেট ও গ্লাস নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সমন্বয়ক কাজী ওয়াহিদুজ্জামান। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক নেতা শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো: আশরাফুল ইসলাম, তৌহিদুর ইসলাম, রায়হান, জিয়াউর রহমান, মো: ফারুক হোসেন প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন আগামী ২ বছরের মধ্যে দেশ থেকে বিড়ি বিদায় করতে চাই” এটি কোন মন্ত্রীর বক্তব্য হতে পারে না। কারণ তার জানা উচিত বিড়ি একটি শিল্প। এ শিল্পে প্রায় ১৭ লক্ষ শ্রমিক সরাসরি জড়িত। বিশেষ করে বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্ত নারীরাই এ বিড়ি শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এছাড়া সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো সিগারেট কিনতে পারে না। তারা কম টাকায় বিড়ি কিনেন। কিন্তু মাননীয় মন্ত্রী এসব মানুষের কথা না ভেবে তিনি বাংলাদেশ থেকে বিড়ি শিল্প ধ্বংস করে সিগারেটের সুযোগ করে দিতে চান। অথচ সিগারেটের থেকে বিড়ি থেকেই বেশি রাজস্ব পায় সরকার এবং বিড়ি শিল্পের সাথে ১৭ লক্ষ শ্রমিকের জীবন জীবিকা জড়িয়ে আছে। তারা কর্মহীন হয়ে যাবে। না খেয়ে মরতে হবে ১৭ লক্ষ শ্রমিক ও তার পরিবারের সদস্যদের। মন্ত্রী শ্রমিকদের কথা না ভেবে এ ধরনের ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা। এসময় তারা ৬দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো- দুই বছরের মধ্যে বিড়ি বিদায় করার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে, বিড়ির উপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে, সিগারেটের উপর পক্ষপাতিত্ব মূলক শুল্কনীতি বন্ধ করতে হবে, বিড়ি শিল্পবন্ধ করার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কর্মহীন করা যাবে না, বিড়ি শিল্পের প্রতি বিমাতা শুলভ আচরণ বন্ধ করতে হবে ও ব্রিটিশ টোবাকোর প্রতি বিশেষ আনুকুল্য প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

0000কলারোয়া ডেস্ক : খুলনা বিভাগের বৃহত্তর আমের হাট এখন কলারোয়ায়। আম ব্যবসায়ীরা কলারোয়ায় বিষমুক্ত আম রপ্তানি ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নিলেন। বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম বিদেশে রপ্তানি ও স্থানীয় ভাবে বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে কলারোয়া উপজেলায় অবশেষে উদ্যোগ নিলেন ব্যবসায়ীগণ। বৃহস্পতিবার সকালে কলারোয়া উপজেলার দমদম বাজার, সিংগা বাজার ও বেলতলা বাজার আমের মোকাম ঘুরে দেখা গেছে ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলার সুনাম বৃদ্ধি করণে গাছ থেকে বাছাইকৃত টাটকা আম নিয়ে কাটুন জাত করে তা দেশ ও বিদেশে রপ্তানি করছে। ব্যবসায়ীরা বলছে ‘নিরাপদ আম বিপননে নীতিনির্ধারণী পরিবেশ’ আমাদের দেশ আমাদের সুনাম আমরাই রক্ষা করবো এই তাদের অঙ্গিকার। কলারোয়ার সিংগা বাজার, দমদম বাজার ও বেলতলা বাজারের আমের মোকামে গিয়ে দেখা গেছে ব্যবসায়ীরা দেশের সুনাম রক্ষায় ভেজাল ও বিষমুক্ত আম রাস্তার ধারে ঝুড়িতে ভরে রেখে দিয়েছে। এই মোকামের ব্যবসায়ীগণ রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলকার আম ব্যবসায়ীদের বিষমুক্ত আম ক্রয়ের জন্য আহবান জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1496297918‘ময়ূর ভারতের জাতীয় পাখি। তাই ময়ূর পবিত্র। আর এই পবিত্র পাখি ময়ূর যৌনমিলন করে না। ময়ূর গর্ভবতী হয় চোখের জল পান করে।’ গত বুধবার একটি রায় পাস করার সময় এ বক্তব্য দেন দেশটির রাজস্থান রাজ্যের হাইকোর্টের বিচারক মহেশ চন্দ্র শর্মা।

আদালতে দেওয়া ওই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন এনডিটিভির এক সাংবাদিক। ওই সাংবাদিকের কাছে বিচারপতি মহেশচন্দ্র জানান, দেশের জাতীয় পাখির মর্যাদা পাওয়া ময়ূর ‘আজীবন ব্রহ্মচারী’। আর তাই ময়ূর ময়ূরীর সঙ্গে মিলিত হয় না।

এর আগে গতকাল বুধবার এক আপিলের রায়ে গরুকে ভারতের জাতীয় পশু করার জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করেন রাজস্থান হাইকোর্ট। এ ছাড়া গো-হত্যা করলে যাতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়, তার জন্য কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় আইন পাস করতে বলে হাইকোর্ট।

এদিকে, বিচারপতির এহেন অবৈজ্ঞানিক মন্তব্য প্রচারিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়। অনেকে বিচারপতি মহেশচন্দ্র শর্মার জ্ঞানের পরিধি নিয়েও ঠাট্টা-মশকরা করছেন।

এ বিষয়ে ভারতের বিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মী ও খ্যাতনামা বিজ্ঞানবক্তা ঋদ্ধিমান ত্রিবেদি তাঁর টুইটারে লেখেন, ময়ূরের চোখের জল পান করে গর্ভবতী হয় ময়ূরী—এমন ধারণা সম্মানিত  বিচারপতির কল্পনার ফসল নয়। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রচলিত অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাসের মধ্যে এটিও একটি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1496313484গরুর ডাকে বাতাসে থাকা জীবাণু মরে যায় উল্লেখ করে ভারতের রাজস্থান রাজ্য হাইকোর্টের বিচারপতি মহেশ শর্মা বলেছেন, গোমূত্র পানে কলেরাও নিরাময় হয়।

স্থানীয় সময় বুধবার রাজ্য হাইকোর্ট গরুর আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ওই মন্তব্য করেন বিচারপতি মহেশ শর্মা।

রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে বুধবারই শেষ কর্মদিবস ছিল মহেশ শর্মার। অবসরের দিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গরুকে ভারতের জাতীয় পশু করার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া রাজস্থানে গো-হত্যার শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে যাবজ্জীবন করার সুপারিশ করেন তিনি।

রাজস্থানের ওই বিচারপতি বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গরু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গোবর ও গরুর মূত্র স্বাস্থ্যের জন্য খুবই দরকারি।

মহেশ শর্মার মতে, গরুই একমাত্র প্রাণী যা শিং দিয়ে অক্সিজেন নেয় ও ছাড়ে। প্রাণীটি নিজেই একটি হাসপাতাল। এ ছাড়া ৩৩ কোটি হিন্দু দেব-দেবী গরুর ভেতরেই অবস্থান করে।

মহেশ আরো জানান, গরুর দুধ ক্যানসার প্রতিরোধ করে ও গোবর কলেরার জীবাণু ধ্বংস করে। গো-মূত্র পানে যকৃত, হৃৎপিণ্ড ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এ ছাড়া প্রাণীটির মূত্রপানে পূর্বজন্মের পাপ মোচন হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

5Pxl5N_3প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের মুখ না দেখলেও উদ্বোধনী ম্যাচে শুরুটা আলোঝলমলে করেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৩০৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই রান পেতে ব্যাট হাতে ভিতটা গড়ে দেন ওপেনার তামিম ইকবাল। ১২৮ রানে থামলেও ইংলিশদের ওপর একচেটিয়া দাপট দেখিয়ে পূরণ করেন নবম সেঞ্চুরি। তবে প্লাঙ্কেটের বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে বাটলারের হাতে তালুবন্দি হন বাঁহাতি ওপেনার।এর আগে ১২৪ বলে সিঙ্গেল নিয়ে হাঁকান তার নবম সেঞ্চুরি। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়। তার ১৪২ বলের ইংনিংসে ছিল ১২টি চার ও ৩টি ছয়।

ওভালে এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুতে দেখে শুনে খেলছিলেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। প্রথম ৭ ওভারে ২০ রান তোলার পর খানিকটা মেরে খেলেন দুজন। তবে বেন স্টোকসের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় সৌম্যকে। ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ২৮ রানে বদলি জনি বেয়ারস্টোকে ক্যাচ দেন তিনি। ১১ রানে মঈন আলীর হাতে জীবন পেয়েছিলেন এ ওপেনার। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংস বেশি লম্বা করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। ৩৯ রানের জুটি গড়ে তিনি লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে সাজঘরে ফেরেন। অসাধারণ এক ক্যাচ ধরে ১৯ রানে ইমরুলকে থামান উড।

ইমরুল আউট হলেও তামিম ৭১ বলে ৩৭তম হাফসেঞ্চুরি করেন। তার সঙ্গে অপর প্রান্তে আছেন মুশফিকুর রহিম। আর তৃতীয় উইকেটে এই জুটিতেই বড় সংগ্রহের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ৪৮ বলে করেছেন ২৫তম হাফসেঞ্চুরি। এই জুটিতেই আসে সর্বোচ্চ ১৬৬ রান। তামিম ১২৮ রানে বিদায় নেওয়ার পর থিতু হতে পারেননি মুশফিকও। পরের বলেই প্লাঙ্কেটের বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৭৯ রানে ব্যাট করতে থাকা মুশিফক। ৭২ বলের ইংনিংসে ছিল ৮টি চার।  এরপরে শেষ দিকে আর সেভাবে আলো ছড়াতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা। পরের ওভারে সাকিব ১০ রানে বলের ডেলিভারিতে ও সাব্বির রহমান ২৪ রানে প্লাঙ্কেটের বলে বিদায় নেন। এদের পর শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহর ৬ ও মোসাদ্দেকের ২ রানে ৩০৫ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

ইংলিশদের পক্ষে ১০ ওভারে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন লিয়াম প্লাঙ্কেট। একটি করে নেন জেক বল ও বেন স্টোকস।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest