বাম হাতের দুই আঙ্গুলের মাঝে ধোঁয়া ছড়াচ্ছে সিগারেট। মাঝে মাঝে উঠছে দুই ঠোঁটে। আর ডান হাতের তিন আঙ্গুলের মাথায় কলম। সামনে নিউজ প্রিন্ট কাগজের প্যাড। কাছেই চায়ের কাপ ছেড়ে উড়ছে মিষ্টি ধোঁয়া। এক সাথেই চলছে তিনটি কাজ। মাঝে মাঝে সুখটান দিয়ে শেষের অংশ ফেলে দিয়ে আরেকটি সিগারেটে অগ্নিসংযোগ। চা ফুরালে ‘এই চা নিয়ে আয়। সিগারেট দে’।
হঠাৎ সব কিছু ছেড়ে একটু গল্প। একটু আয়েশ। একটু হাসি। ফের লেখায় মনোনিবেশ।
যারা সংবাদপত্রে কাজ করেন তারা এমন দৃশ্যের সাথে বহুল পরিচিত। তবে এখন এ দৃশ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। এখন সাংবাদিকরা ল্যাপটপ নিয়ে ক্লিক করে তাবত সংবাদ বের করে আনেন। আর না হয় ঠক ঠক করে ডিজিট টিপে টিপে আয়েশে সংবাদ বানিয়ে দেন। কিন্তু কচি ভাইদের মতো নিবেদিত সাংবাদিক এভাবেই বছরের পর বছর কাজ করে গেছেন। আর এভাবেই হয়ে উঠেছেন প্রাতঃস্মরণীয়। আজ এ প্রসঙ্গ এসেছে আমাদের কচি ভাই, মুফতি আবদুর রহিম কচির মৃত্যুর খবরের পর। শুক্রবার বিকাল তিনটায় বাসায় ফিরতেই দুঃসংবাদটি কানে এলো। ক’দিন ধরে ভাবছিলাম। তাকে দেখতে যাবো তার বাসায়। হয়ে ওঠেনি। আজ তার চিরপ্রস্থানে ছেদটা পড়েই গেলো। কচি ভাইয়ের সাথে আমার দেখা হতো সাতক্ষীরার জাহান প্রিন্টিং প্রেসে। প্রয়াত নির্মলদা বসতেন সেখানে। কচি ভাই তার পত্রিকা দখিনায়নের ম্যাটার প্রস্তুত করে এনেছেন। চার পৃষ্ঠার দখিনায়ন। চারটি প্লেট হাতে নিয়ে রিকসায় আসতেন সুলতানপুর থেকে। এরপর ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দখিনায়ন প্রকাশ করে নিয়ে যেতেন। নিজ হাতে কোনো কোনো সময় তরতাজা কাগজ বিলিও করতেন। পাঠিয়ে দিতেন পোস্ট অফিস মোড়ে মেসার্স আরিফ খানের সংবাদপত্র পরিবেশকের দোকানে কিংবা বাস টার্মিনালে। এর আগে সীসার অক্ষর সাজিয়ে পত্রিকার ম্যাটার তৈরি করতেন সুলতানপুর বাজারের মধ্যে এক কোনায় একটি বাসায় বসে। ১৯৭৮ সালে তিনি যখন সাপ্তাহিক দখিনায়ন প্রকাশ করেন তখন সাতক্ষীরার আরেকটি সাপ্তাহিক ছিল, মোতালেব ভাইয়ের কাফেলা। এই কাফেলা পরবর্তীতে আবদুল মোতালেব দৈনিক কাফেলায় উন্নীত করেন। কিন্তু মুফতি আবদুর রহিম কচি তার দখিনায়নকে আর কোনোদিন দৈনিকে তুলতে পারেন নি। আর্থিক টানাপড়েনে পত্রিকাটির অকালমৃত্যু আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি কেবল। কথা ছিল এই মৃত্যুকে সবাই মিলে ঠেকানো হবে। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। কচি ভাই নিজে ছিলেন দখিনায়নের সম্পাদক। নিজেই সাংবাদিক। আবার নিজেই কম্পোজিটর। এতে তিনি অপমান বোধ করেন নি। জেলার বিভিন্ন স্থানে তার প্রতিনিধি থাকলেও কাগজটির অনিয়মানুবর্তিতার কারণে তারাও ঢিল দিতেন। তবে দখিনায়নের পরিচয় দিতে অনেক সাংবাদিকই ভালবাসতেন, সাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। সাতক্ষীরার বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি হয়েছে এই দখিনায়নে। কম কথা নয়। কচি ভাই জড়িত ছিলেন কবি পল্টু বাসার সম্পাদিত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ঈক্ষণের সাথেও। তারা দুজনেই এক সাথে জাহান প্রেস থেকে পত্রিকা দুটি বের করতেন। তখন সংবাদপত্র সংখ্যায় ছিল কম। এজন্য দখিনায়নের প্রভাবও ছিল বেশ। কোনো রিপোর্ট ছাপা হলে তা নিয়ে বেশ ঝড় উঠতো। আমরাও উপভোগ করতাম। আশির দশকে সাতক্ষীরার বাজারে দখিনায়নের দাপট ছিল তুঙ্গে। সে সময় সওগাত সম্পাদক মো. নাসিরউদ্দিনের কাছ থেকে কবি পল্টু বাসারের নেওয়া সাহিত্যিক মো. ওয়াজেদ আলির ওপর একটি পুর্ণ পৃষ্ঠা সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল দখিনায়নে। সমসাময়িককালে কালিগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি লতিফুর রহমান বাবলুকে একদিন জেল ভোগ করতে হয়েছিল তৎকালিন নির্বাহী অফিসার হাতেম আলি খানকে ‘স্যার’ না বলে ভাই বলার কারণে। এই রিপোর্ট সাহসের সাথে প্রকাশ করেছিল সাপ্তাহিক দখিনায়ন। স্মৃতিতে হাতড়ালে এমন অনেক তথ্যই পাওয়া যাবে হয়তো। সাতক্ষীরার একটি দৈনিক দাঁড় করাতে যারা শ্রম দিয়েছিলেন তাদেরই একজন এই মুফতি আবদুর রহিম কচি। তিনি সকাল সন্ধ্যা কাজ করে পত্রিকাটিকে পাঠকের কাছে পাঠযোগ্য করে তুলেছিলেন। তিনি নিজে লিখেছেন। তিনি লিখিয়েছেন নবীনদের।
মুফতি আবদুর রহিম কচি কেবল একজন নিবেদিত সংবাদকর্মীই ছিলেন না। তিনি ছিলেন ভালো একজন আবৃত্তিকার, একজন অভিনেতাও। জন্ম দিয়েছিলেন সপ্তর্ষি থিয়েটারের, কবিতাকুঞ্জের ও সকাল নাট্যগোষ্ঠীর। নাটক লিখতেন। কবিতা লিখতেন। গান রচনা করতেন। এসব কারণে বারবার পুরস্কৃতও হয়েছেন তিনি। ভারত ও বাংলাদেশের কবি সম্মিলনে যোগ দিতেন তিনি। নিয়মিত কবিতার আড্ডায় সাহিত্যের মজলিশে বসতেন তিনি। কিছুদিন আগে কবি পল্টু বাসারের পৃষ্ঠপোষকতায় সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয় লিটল ম্যগাজিন অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুফতি আবদুর রহিম কচি। আমি আমার বক্তব্যে বলেছিলাম ‘দখিনায়নের পুনরুজ্জীবন দেখতে চাই’। কচি ভাই মৃদু হেসে সম্মতি দিয়েছিলেন। সেই কথা তিনি আর রাখেন নি। তার আগেই চলে গেলেন তিনি।
মুফতি আবদুর রহিম কচির নিত্য সঙ্গী ছিল দারিদ্র্য। পরিবারের ভরনপোষন ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া কিভাবে চলবে তার কোনো নিশ্চয়তা তিনি কখনও দিতে পারেন নি। নিজের অসুখ বিসুখে ওষুধ কিনতে পারেন নি। শারীরিক সুস্থতার জন্য ভালো খাবারও জোটেনি তার। এর মধ্যে একটি পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করা কত যে কঠিন তা সহজেই অনুমেয়। কাজকে সম্মান দিতেন তিনি। পরিশ্রমকে ভালবাসতেন তিনি। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি মাছের খামারে কাজ করেছেন। পানের মসলা তৈরি করে বিক্রি করেছেন। বই বাঁধাইয়ের কাজ করে অর্থ উপার্জন করেছেন। বাড়িতে নিভৃতে বসে কাগজের ঠোঙ্গা বানিয়েছেন তিনি। তবু সংসারের ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত ঘর্মাক্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সততার মতো গুণ থেকে এতোটুক বিচ্যুত হন নি মুফতি আবদুর রহিম কচি।
একজন নির্লোভ নির্মোহ ব্যক্তি ছিলেন তিনি। আজীবন ছিলেন প্রচার বিমুখ। কখনও কোনো বিলাসিতা তাকে স্পর্শ করেনি। পায়ে হেঁটে জোর বেশি রিকশা ভ্যানে চড়ে পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। কিডনী জটিলতা, লিভার ফাংশানিংয়ে জটিলতা, দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পাওয়া, হৃদরোগ এসবই তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে ফেলেছিল। অক্টোপাসের এই প্যাচ থেকে তিনি আর বের হতে পারলেন না। বড়ই আফসোস।
আগেই বলেছি তিনি পত্রিকার সম্পাদক। তিনিই পত্রিকার সাংবাদিক । আবার তিনিই পত্রিকার কম্পোজিটর। আবার কখনও কখনও তিনি নিজেই বিলি বণ্টন করেছেন তার পত্রিকা। যেনো কোনো খেদ নেই, কোনো দুঃখ নেই, কোনো কষ্টও নেই। বরং এতে সম্মান বোধ করেছেন তিনি।
কচি ভাই, মুফতি আবদুর রহিম কচি হতে পারেন আমাদের সাংবাদিকদের জন্য এক অনুপ্রেরণা, এক পথপ্রদর্শক।
লেখক ডিস্ট্রিক্ট : করেসপন্ডেন্ট, দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভি।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন (শুক্রবার) পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও ক্রসফায়ারে ৯০ জন নিহত হয়েছেন। ক্রসফায়ারে গত ছয় মাসে অন্যান্য বাহিনীর চেয়ে পুলিশ এগিয়ে রয়েছে। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার সংগঠন—আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এই তথ্য জানিয়েছে।
পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন ও হাইকোর্টের তিন জন বিচারপতির সাথে রিপোর্টার্স ক্লাব পাটকেলঘাটার নেতৃবৃন্দ সৌজন্য সাক্ষাত ও মতবিনিময় করেছেন। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী এ্যাড. মোহম্মদ হোসেনের পাটকেলঘাটাস্থ ‘ল’ চেম্বারে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো: নিজামুল হক নাসিম, হাইকোর্টের ডিভিশনের বিচারপতি কে. এম কামরুল কাদের, মো: মোস্তফা জামান ইসলাম, মো: বদরুজ্জামান, ঢাকা সিএমএম এর শেখ হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের এ্যাড. রবিউল ইসলাম বুদু কে রিপোর্টার্স ক্লাব পাটকেলঘাটার সাংবাদিকরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ও পরবর্তীতে মতবিনিময়ে মিলিত হন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রিপোর্টার্স ক্লাব পাটকেলঘাটার সভাপতি সৈয়দ মাসুদ রানা, সহ-সভাপতি (সিনি:) ডা: হেলাল উদ্দীন, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম রাজু, সাধারণ সম্পাদক খান হামিদুল ইসলাম, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক সুমন চক্রবর্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বজিৎ চক্রবর্র্তি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, অর্থ-সম্পাদক শাহিনুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক গাজী রোকনুজ্জামান, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অমিত কুমার , স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: সুপ্রদাস মজুমদার, সহ-সম্পাদক হাসান গফুর লিটন, প্রচার সম্পাদক ফরিদ হাসান জুয়েল, কার্য-নির্বাহী সদস্য ইউনুছ আলী সরদার, অমিত কুমার সাধু, মো: মশিউজ্জামান, সিরাজুল ইসলাম, রুবেল ইসলাম, মাহবুব হোসেন মিন্টু, রহমত আলী মিঠু ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাসান হোসেন বাবু।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : একতা, আন্তরিকতা, সহোযোগিতা ও অগ্রগতি এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে মেডিকেল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন অব সাতক্ষীরা ব্যানারে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ব্যাপক উদ্দিপনা, উৎসাহ ও জাকজমকপূর্ণ ভাবে উৎযাপিত হলো বিশেষ অনুষ্ঠান। সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত সাতক্ষীরা জেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘মেডিকেল স্টুডেন্টস এ্যাসোসিয়েশন অফ সাতক্ষীরা’ আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও জনসচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বি. এম. এর সভাপতি ডা. আজিজুর রহমান, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. কাজী হাবিবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমান, জেলা স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক ডা. মনোয়ার রহমান, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ডা. দেলোয়ার হোসেন ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন শ্রেণির ডাক্তারগণ। অনুষ্ঠানে সারাদেশের প্রায় ১০০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের আহবায়ক স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের মেধাবী ছাত্র রনজিত হালদার ও সংগঠনের সদস্য সচিব খুলনা মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের মেধাবী ছাত্র বি. এম. আসাদুজ্জামান নূর। আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য গাজী মেডিকেল কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র মাহফিজুর রহমান শুভ বলেন, অনুষ্ঠানে মূলত ভবিষ্যৎ সেবক প্রজন্ম সাতক্ষীরার সকল সদস্যকে এক করার আহবান জানানো হয়েছে এবং একটা স্থায়ী পরিকল্পনা ও পরিচালনা কমিটি করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিভিন্ন জনসচেতনতা ও সেবামূলক কর্মসূচিও খুব শীঘ্রই দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে জনসচেতনতামূলক বেশকয়েকটি স্লাইডও দেখানো হয়। সকলের সুস্থতা এবং একটা পরিকল্পিত সংগঠন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তরা।
শ্যামনগর ব্যুরো : শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট গ্রামে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ৫ ব্যক্তি গুরুত্বর আহত হয়ে শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে শ্যামনগর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।
কেএম রেজাউল করিম : দেবহাটায় আতœমানবতার সেবায় এক অসহায় অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছে জেলা পরিষদ। শুক্রবার বিকাল ৪ টায় মাঝ-পারুলিয়া গ্রামের আব্দুর রহিম সরদারের পরিবারে উক্ত চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। জেলা পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আলহাজ্ব আল ফেরদাউস আলফা অসহায় পরিবারে হাতে সহযোগীতার ৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ২নং পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন হিরাসহ স্থানীয় সুধীজনেরা। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অসহায় পরিবারে সামান্য সহয়তা পেয়ে অনেকটা আনন্দ বয়ে আনে। তাছাড়া এ সহযোগীতা পেয়ে তাদের পরিবারের সদস্যকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থতার আশা করছে পরিবারটি। প্রান্তিক পর্যয়ে জেলা পরিষদের সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলামসহ সকল সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন অসহায় পরিবারটি।
মোস্তফা কামাল : শ্যামনগরে কাশিমাড়ীর ঝাঁপালীতে খোলপেটুয়া নদীর প্রবল জোয়ারে পানি বেড়িবাঁধে ভেঙ্গে মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি লোকালয়ে আসার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এলাকাটিতে প্লাবিত হলে কয়েক শত ঘরবাড়ী মৎস্য ঘের ক্ষতিসহ জানমালের অপূরণীয় ক্ষতির সম্ভবনায় এলাকায় লোকজন বিনিদ্রা রাত যাপন করেছে। স্থানীয় এম,পি- এস,এম জগলুল হায়দার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান, পাউবো কর্মকর্তা সহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ এস,এম আব্দুর রউফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ,গত ২০০৯ সালে আইলায় ঝাপালীর টেপুখালী বাঁধ সংলগ্ন খোলপেটুয়া লবনাক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। ফলে মৎস্যঘের, ঘরবাড়ী ও নানা প্রজাতির বৃক্ষাদীর ব্যাপক ক্ষতি হয়। সে সময় স্থানটিকে পরিত্যক্ত ঘোষনা করে। প্রায় ৬০ বিঘা জমি ছেড়ে সরকারী বে- সরকারী সংস্থা সহ এলাকার লোকজন স্বেচ্ছা শ্রমের মাধ্যমে প্রায় ১কিঃ মিঃ দৈর্ঘ্য বাঁধটি দিয়ে স্বত্তি প্রকাশ করে। তবে অনেক ঘের মালিক ও জমির মালিক নিঃস্ব হয়। কয়েক মাস পরে ঘের মালিক ও জমির মালিকরা জমি ও ঘের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অনেক অর্থ খরচ করে পরিত্যাক্ত জমিতে পুণঃরায় বাঁধ দিয়ে মৎস্য ঘের শুরু করে। বর্তমানে নুরুল আমিন তরফদার ঘের না করলেও সরকারী নিয়ম মেনে আকবর আলী, জলিল মিস্ত্রী, আমজেদ কারিগর, জাহিদ সানা, সাইফুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, মনছুর গাজী, মোক্তার হোসেন,আমিন ও বাক্কার সহ অনেকে মৎস্য ঘের পরিচালনা করে আসছে। সেই পরিত্যক্ত বাঁধটি কয়েকদিন পূর্বে পুণঃরায় ফাটল ধরে বাঁধ ভাঙ্গে এবং প্রবল জোয়ারের পানি বাঁধের উপর দিয়েও সেই প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষতি হয়। মুলবাঁধটি এখনও অক্ষুন্ন থাকলেও ভীত কাটছে না এলাকাবাসীর। কাশিমাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ এস,এম আব্দুর রউফ ও সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি গাজী আনিছুজ্জামান আনিচ জানান, ঝাপালীতে এ ভাঙ্গন রোধ করে পুণঃরায় স্থায়ী ভাবে মজবুত বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুততার সাথে কাজটি সম্পন্ন হলে এলাকাবাসীর হতাশা কেটে যাবে। বাস্তবতার নিরিখে দলমত ভেদাভেদ ভুলে বাঁচার তাগিতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে এমনই প্রত্যাশা সকলের। খোলপেটুয়া ছোবল থেকে ফসলি আবাদি ও মৎস্য ঘের রক্ষা করতে জানমালের নিরাপত্তার স্বর্ত্তে জরুরিভিত্তিতে বাঁধ সংস্কারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
আসাদুজ্জামান ঃ ওরা সব হাইব্রীড নেতা। আগে কেউ স্মাগলিং করতো। কেউ করতো ডেকোরেশনের ব্যবসা। এখন দেখি আওয়ামী লীগ যুবলীগের বড় বড় নেতা। আজ তারাই আমার তিনটি চটকা গাছ কেটে নেযার চেষ্টা করছেন । আমি একজন দরিদ্র প্রতিবন্ধী মানুষ। এ ক্ষতি কিভাবে পুষাবো আমি।