স্বাস্থ্য ডেস্ক: দুইদিন ধরে সোমার জ্বর। অন্য সবার মতো সোমারও মাঝেমধ্যে জ্বর হয়। জ্বর হলে কিছুটা কষ্ট তো হয়ই। কিন্তু সে কষ্ট মেনে নেওয়া খুব একটা কঠিন নয় সোমার কাছে। জ্বরের কারণে সৃষ্ট শারীরিক কষ্টের চেয়ে বেশি কষ্ট হয় জ্বরের সময়কার খাবারের মেনু নিয়ে। এ অবস্থায় সোমাকে সাগু, বার্লি, দুধ, পাউরুটি ছাড়া কোনো কিছুই খেতে দেওয়া হয় না। সাধারণ খাবার যেমন, ভাত- মাছ থাকে নিষিদ্ধ খাবারের তালিকায়। মূলত ভাত খাওয়ার ব্যাপারে থাকে বিশেষ আপত্তি। সোমার ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। ভাত খেতে দেওয়ার বিষয়টি যে শুধু জ্বরের সময় বন্ধ থাকে তা কিন্তু নয়। জ্বর সেরে ওঠার দুই তিন দিন পর হয়তো ভাত খেতে দেওয়া হয়। জ্বরে ভাত খাওয়া নিয়ে এ ধরনের ঘটনা অনেক পুরোনো। জ্বর হলে ভাত খাওয়া যাবে না, ভাত খেলে জ্বর বেড়ে যাবে- এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে অনেক দিন থেকে। আর এই ভুল বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে জ্বরের রোগীকে খেতে দেওয়া হয় রুটি কিংবা কিছু স্বাদহীন খাবার। দেখা যায়, সুস্থ অবস্থাতেই যে খাবারগুলো মানুষের মুখে রোচে না, অসুখের সময় বিস্বাদ মুখে সেই খাবারগুলো কষ্ট করে অযথা পেট পুরতে হয়। অথচ যেকোনো সাধারণ খাবার এবং ভাত চাইলেই কিন্তু রোগী খেতে পারে। কিন্তু ভুলের বশবর্তী হয়ে রোগীকে ভাত খাওয়া থেকে বিরত রাখা হয় অথবা রোগী নিজেই ভাত খাওয়া থেকে বিরত থাকে। জ্বরের সময় রোগীর পথ্য বলে বিবেচিত সাগু, বার্লি, রুটি ইত্যাদি খেলে যে জ্বর উপশমে বিশেষ কোনো সম্পর্কই নেই। ভাত খেলে জ্বর বাড়ে এ ধারণাও ভুল। রোগজীবাণু আক্রমণে কিংবা শারীরিক কোনো অসুবিধায় অস্থিমজ্জা থেকে পাইরোজেন নামক এক ধরনের পদার্থ নিঃসৃত হয়। এই পাইরোজেন রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে তাপ নিয়ন্ত্রক হাইপোথ্যালামাসে পৌঁছে। সাধারণভাবে হাইপোথ্যালামাস শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। অসুস্থ অবস্থায় পাইরোজেন হাইপোথেলামাস এর তাপ নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে বেড়ে যায়। এটাই হচ্ছে জ্বর। অনেক রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয় এই জ্বর। জ্বরে শরীরের বিপাক ক্রিয়া বেড়ে যায়। প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রার জন্য বিপাকক্রিয়া শতকরা সাত ভাগ বেড়ে যায়। বিপাক ক্রিয়া বেড়ে গেলে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদাও বেড়ে যায়। শক্তির এই চাহিদা পূরণের জন্য চাই পুষ্টিকর খাবার। জ্বর হলে শুধু ভাত কেন, অন্য সব পুষ্টিকর খাবারও রোগীকে দেওয়া উচিত। তবে কয়েকটি রোগে বিশেষ করে লিভার, কিডনি, হার্টের অসুখ ও ডায়াবেটিসে কিছু কিছু খাবার গ্রহণের ব্যাপারে খানিকটা বিধিনিষেধ রয়েছে। এ ছাড়া টাইফয়েড জ্বরে কম করে আঁশ জাতীয় খাবার গ্রহণের ব্যাপারে খানিকটা বিধিনিষেধ রয়েছে। এ ছাড়া টাইফয়েড জ্বরে কম করে আঁশ জাতীয় খাবার গ্রহণের কথা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ জ্বরে ভাত খেতে কোনো সমস্যা নেই। এভাবে জ্বর হলেই ভাত খেতে না দেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। জ্বরে ভাত খেলে কোনো ক্ষতিও হয় না।




নাজমুল হক, পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি : পাটকেলঘাটার অদূরে বিনেরপোতার অধিকাংশ ইটভাটাগুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই আইনের তোয়াক্কা না করে ফলজ ও বনজ কাঠ পোড়ানোর মহোৎসবে মেতে উঠেছে। ফলে অত্র এলাকায় বায়ু দূষণ করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় জনজীবন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ তে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ইট পোড়ানোর জন্য কাঠের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া কোন ব্যক্তি ইট ভাটায় ইট প্রস্তুত করতে পারবে না এবং ইট ভাটার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৫০ ঘর বসতি এলাকায় ফলজ ও বনজ বাগান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলে ভাটার অনুমোদন হবে না। অথচ এ আইনের কোনটিই অনুসরণ করেনি বিনেরপোতার অধিকাংশ ভাটাগুলো। বিশেষ করে বিনেরপোতায় লিয়াকত আলীর ২টি একই স্থানে কামরান ব্রিকস ও হায়দার আলীর খোদেজা ব্রিকসে সরেজমিনে দেখা গেছে অবাধে কাঠ পোড়ানোর ভয়াবহ দৃশ্য। এমনকি লাইসেন্সও দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ। লাইসেন্সের কথা জানতে গিয়ে বেরিয়ে এলো আসল তথ্য। তারা বলেন, প্রতিবছর বিভিন্ন সংস্থাকে ম্যানেজ করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামকে ২০-৩০ হাজার টাকা দিতে হয় বলে লাইসেন্স লাগে না। লাইসেন্স নাকি সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পকেটে। শিক্ষা, শ্রম, বন ও পরিবেশ রক্ষা সোসাইটি সাতক্ষীরা জেলা ইন্সপেক্টর শেখ আফজাল হোসেন জানান, যেখানে ইটের মাপ দৈর্ঘ্য ১০ ইঞ্চি, প্রস্থ ৫ ইঞ্চি এবং পুরুত্ব থাকা উচিৎ ৩ ইঞ্চি। অথচ সেখানে দেখা গেছে এসকল ভাটা গুলিতে ইটের মাপ দৈর্ঘ্য ৮ ইঞ্চি, প্রস্থ ৪ ইঞ্চি ও পুরুত্ব ২ থেকে আড়াই ইঞ্চি। পরিবেশ আইনের কোনটিই তারা মানছে না। অবাধে কাঠ পোড়ানোর দৃশ্যটি ভিডিও ধারণ করেন সোসাইটির সাতক্ষীরা অফিস সহকারী শেখ মিন্টু হোসেন। এলাকাবাসীর আক্ষেপ এভাবে ভাটাগুলোতে ইটের মাপ ঠিক না থাকা, বসতি এলাকায় ভাটা, কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো সর্বপরি লাইসেন্স বিহিন এসকল অবৈধ ভাটাগুলি কি দেখার কেউ নেই ? একদিকে সরকার হারাচ্ছে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব অন্যদিকে পরিবেশের হচ্ছে মারাত্মক ক্ষতি। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন জানান, জেলার প্রায় ২ শতাধিক ইট ভাটার মধ্যে ৮০-৯০ টির মতো লাইসেন্স আছে। বাকি অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অচিরেই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।