নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে স্থাপিত প্রথমবারের মতো হ্যাচারিতে কাঁকড়া পোনা উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ হ্যাচারিতে বছরে ৪০লাখ কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন হবে। পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ হ্যাচারিতে উৎপাদিত পোনা থেকে কৃষকরা বছরে ৩৯ কোটি টাকার কাঁকড়া রপ্তানি করতে পারবেন। গতকাল শনিবার সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনি ইউপির কলবাড়িতে স্থাপিত নতুন এ কাঁকড়ার হ্যাচারিতে উৎপাদিত কাঁকড়ার পোনা পুকুরে অবমুক্ত করা হয়। এ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিকাশমান কাঁকড়া চাষ খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর বাস্তবায়নে এবং শ্যামনগরের নওয়াবেঁকী গণমূখী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কাঁকড়ার হ্যাচারিট স্থাপন করা হয়। শ্যামনগরের কলবাড়িতে হ্যাচারি কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিকেএসএফ এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (কার্যক্রম) মোঃ ফজলুল কাদের এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপক আকন্দ মোঃ রফিকুল ইসলাম, নওয়াবেঁকী গণমূখী ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ ইকরামুল কবির ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ লুৎফর রহমানসহ কাঁকড়া চাষী ও স্থানীয় সুধীজন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে কাঁকড়ার পোনার চাহিদা বর্তমানে তিন কোটি। এসব পোনা চাহিদা মিটাতে হয় সুন্দরবনের নদ-নদী থেকে। সুন্দরবন হতে বিপুল পরিমাণে কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহ করার ফলে সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্য ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে হ্যাচারি স্থাপনের মাধ্যমে দেশে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনের এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে ছোট আকারের হ্যাচারি স্থাপনের প্রক্রিয়া করা হবে, যাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নিজেরাই পোনা উৎপাদন করে কাঁকড়ার পোনার চাহিদা পূরণে সক্ষম হন।




নাজমুল হক, পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি : পাটকেলঘাটার অদূরে বিনেরপোতার অধিকাংশ ইটভাটাগুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই আইনের তোয়াক্কা না করে ফলজ ও বনজ কাঠ পোড়ানোর মহোৎসবে মেতে উঠেছে। ফলে অত্র এলাকায় বায়ু দূষণ করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় জনজীবন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ তে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ইট পোড়ানোর জন্য কাঠের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া কোন ব্যক্তি ইট ভাটায় ইট প্রস্তুত করতে পারবে না এবং ইট ভাটার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৫০ ঘর বসতি এলাকায় ফলজ ও বনজ বাগান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলে ভাটার অনুমোদন হবে না। অথচ এ আইনের কোনটিই অনুসরণ করেনি বিনেরপোতার অধিকাংশ ভাটাগুলো। বিশেষ করে বিনেরপোতায় লিয়াকত আলীর ২টি একই স্থানে কামরান ব্রিকস ও হায়দার আলীর খোদেজা ব্রিকসে সরেজমিনে দেখা গেছে অবাধে কাঠ পোড়ানোর ভয়াবহ দৃশ্য। এমনকি লাইসেন্সও দেখাতে পারেনি মালিকপক্ষ। লাইসেন্সের কথা জানতে গিয়ে বেরিয়ে এলো আসল তথ্য। তারা বলেন, প্রতিবছর বিভিন্ন সংস্থাকে ম্যানেজ করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামকে ২০-৩০ হাজার টাকা দিতে হয় বলে লাইসেন্স লাগে না। লাইসেন্স নাকি সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পকেটে। শিক্ষা, শ্রম, বন ও পরিবেশ রক্ষা সোসাইটি সাতক্ষীরা জেলা ইন্সপেক্টর শেখ আফজাল হোসেন জানান, যেখানে ইটের মাপ দৈর্ঘ্য ১০ ইঞ্চি, প্রস্থ ৫ ইঞ্চি এবং পুরুত্ব থাকা উচিৎ ৩ ইঞ্চি। অথচ সেখানে দেখা গেছে এসকল ভাটা গুলিতে ইটের মাপ দৈর্ঘ্য ৮ ইঞ্চি, প্রস্থ ৪ ইঞ্চি ও পুরুত্ব ২ থেকে আড়াই ইঞ্চি। পরিবেশ আইনের কোনটিই তারা মানছে না। অবাধে কাঠ পোড়ানোর দৃশ্যটি ভিডিও ধারণ করেন সোসাইটির সাতক্ষীরা অফিস সহকারী শেখ মিন্টু হোসেন। এলাকাবাসীর আক্ষেপ এভাবে ভাটাগুলোতে ইটের মাপ ঠিক না থাকা, বসতি এলাকায় ভাটা, কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো সর্বপরি লাইসেন্স বিহিন এসকল অবৈধ ভাটাগুলি কি দেখার কেউ নেই ? একদিকে সরকার হারাচ্ছে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব অন্যদিকে পরিবেশের হচ্ছে মারাত্মক ক্ষতি। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দীন জানান, জেলার প্রায় ২ শতাধিক ইট ভাটার মধ্যে ৮০-৯০ টির মতো লাইসেন্স আছে। বাকি অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অচিরেই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নলতা প্রতিনিধি : কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ১২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে মাথা পিছু মাসিক ৫ শত টাকা হিসেবে জানুয়ারি থেকে জুন ২০১৭ পর্যন্ত ৬ মাসের এককালীন ৩ হাজার করে মোট ৩৬ হাজার ড. হোসনেয়ারা বানু বৃত্তির টাকা প্রদান করা হয়েছে। নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক মরহুম ছিয়ামত আলী বিশ্বাসের ৪র্থ কন্যা (কানাডা প্রবাসী), ডা. মো. শহিদুল আলমের বোন ও অত্র বিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় প্লেস করার গৌরব অর্জনকারিনী প্রকৌশলী ড. হোসনেয়ারা বানু বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক অনুদান প্রদানের পাশাপাশি অত্র বিদ্যালয়ে ২০১০ থেকে দরিদ্র ও মেধাবী কিছু শিক্ষার্থীর মাঝে নিজ নামে বৃত্তি প্রদান করে আসছেন। তারই অংশ হিসেবে ২৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি টাকা প্রদান অনুষ্ঠান। নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোনায়েম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ও নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় শতবর্ষ উদযাপন (২৪ ও ২৫ মার্চ’১৭) কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক সাইদুর রহমান, মনিরুজ্জামান মহসিন, ড. হোসনেয়ারা বানু’র মেজ ভ্রাতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক হাবিবুর রহমান, সমাজসেবক রেজাউল ইসলাম, আসলাম হোসেন, খান ইকবার হোসেন, রফিকুল ইসলাম সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীবৃন্দ।