সর্বশেষ সংবাদ-
সরকার গণতন্ত্রের পরিবর্তে জবরদখল ও দলীয়করণ শুরু করেছে: এমপি ইজ্জত উল্লাহআ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে সরকার: নাহিদএনসিপির কমিটি পুনর্গঠন: পাটওয়ারী-হাসনাত-সারজিস-আসিফের পদোন্নতি৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন – নিকোলাস বিশ্বাসএরশাদের ৯ বছরের শাসন আমলে দেশের মানুষ সবচেয়ে ভালো ছিল: সাবেক এমপি আশুসাতক্ষীরায় জামায়াতে যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা ফারুক হোসেনসাতক্ষীরায় পৌর ও সদর উপজেলা তাঁতীদল এর সাংগঠনিক আলোচনা সভাকলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক- সম্পাদক ফারুকীসাতক্ষীরা সদরের ৫ নং শিবপুর ইউনিয়নে কৃষক দলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিতশ্যামনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী শাহ আলমের ব্যানার কেটে নষ্ট করার অভিযোগ

স্পের্টস ডেস্ক : আবারও দেশের দ্রুততম মানব-মানবী হলেন তাঁরা দুজন। দুজনই বিকেএসপির সাবেক অ্যাথলেট। আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ১৩তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে দ্রুততম মানব হয়েছেন মেজবাহ আহমেদ। দ্রুততম মানবীর নামটাও নতুন নয়—শিরিন আক্তার।
জাতীয় স্তরে মেজবাহর এটি টানা ষষ্ঠ শিরোপা। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমস দিয়ে এক শ মিটার স্প্রিন্টে তাঁর শুরু। তারপর তিনটি জাতীয় মিট ও দুটি সামার মিটে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখলেন। এক শ মিটারে শিরিনের এটি টানা পঞ্চম শিরোপা। তিনটি জাতীয় মিট ও দুটি সামার মিটে নিজেকে সবার ওপরে রাখলেন শিরিন।
আজ হাতঘড়িতে মেজবাহর টাইমিং হয়েছে ১০.৮০ সেকেন্ড। কদিন আগে ভারতের ভুবনেশ্বরে এশিয়ান ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ইলেকট্রনিকস বোর্ডে তাঁর টাইমিং ছিল ১০.৮৮। হাতঘড়িতে এর আগে সেরা টাইমিং করেছেন ১০.৭২। আগামী মাসের শুরুতে লন্ডনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে টাইমিংয়ে উন্নতির কথাই বললেন আজ, ‘বিশ্বাস করি ভালো সুযোগ-সুবিধা পেলে আমার পক্ষে আরও ভালো টাইমিং করা সম্ভব। লন্ডনে সেই চেষ্টাই করব।’
শিরিনও তাঁর সেরা টাইমিং করতে পারেননি আজ (১২.৩০)। যদিও ইলেকট্রনিকস বোর্ডে তাঁর ব্যক্তিগত সেরা ১১.৯৯, হাতঘড়িতে ১১.৮৪। এমন টাইমিং নিয়ে এসএ গেমসে সোনা জেতা দূরে থাক, মেয়েদের স্প্রিন্টে পদক জেতাই কঠিন। সেই স্বপ্ন অ্যাথলেটিকস অঙ্গনের কেউ আসলে দেখে না। তবে শিরিন দেখছেন, ‘ভালো প্রশিক্ষণ নিতে পারলে আগামী এসএ গেমসে সোনা জিততে চাই।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বিশ্বে মানবমৃত্যুর ৪০ শতাংশই হৃদরোগের কারণে হয়ে থাকে। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া হলে এই হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব।
হৃদরোগ সচেতনতা বিষয়ক এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় এ কথা বলেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।
তারা আরও বলেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার আগে হৃদরোগে আক্রান্ত ২৫ শতাংশ রোগীই মারা যায়। হাসপাতালে এনে দ্রুততার সাথে তার রক্তনালী খুলে দেওয়া গেলে এই মৃত্যু হার ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তারা।
শনিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে হৃদরোগ রোগ বিষয়ক এই হেলথ টকের আয়োজন করে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব ও খুলনার ফরটিস এসকর্টস হাসপাতাল। প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. হাবিবুর রহমান, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাজী আরিফ আহমেদ ও ফরটিস এসকর্টস হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মামুন ইকবাল।
তারা আরও বলেন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধুমপান ত্যাগ করা জরুরি। একই সাথে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
হৃদরোগের প্রধান উপসর্গ বুকে ব্যথা একথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলেন স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ইনজেকশন দিয়ে এবং পিসিআই পদ্ধতিতে রক্তনালী খুলে দেওয়া হলে ৬৫ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগী রক্ষা পায়। দক্ষিণ এশিয়ায় হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ বংশগত ধারাবাহিকতা। কোনো পরিবারে ৫২ বছরের পুরুষ এবং ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সের কোনো নারী মারা গেলে বিষয়টি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তারা বলেন এর নেপথ্য কারণ হৃদরোগ। লাল মাংস খাদ্য তালিকা থেকে বাদ রাখার পরামর্শ দিয়ে তারা আরও বলেন, মাংসের মগজ, কলিজা ও চামড়া খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবারের সাথে বাড়তি কাঁচা লবণ না খাবার পরামর্শ দিয়ে তারা আরও বলেন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হাঁটার পরামর্শ দিয়ে বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন তিরিশ মিনিটে আড়াই কিলোমিটার হাঁটার অভ্যাস করতে হবে ।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবার মাধ্যমে পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। জীবনঘাতি ব্যাধি হৃদরোগ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে এই রোগ থেকে আমরা পরিত্রাণ পেতে পারি। জনবল বৃদ্ধি করে সাতক্ষীরা হাসপাতালে অচিরেই কার্ডিয়াক ইউনিট ও ক্যাথ ল্যাব গঠন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন পরিমিত খাদ্য গ্রহনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সচেতন হতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে কখনও নিজের চিকিৎসার দায়ভার নেবেন না বলেও পরামর্শ দেন তিনি।
হেলথ টক অনুষ্ঠানে ফরটিস এসকর্টস হাসপাতালে ওপেন হার্ট বাই পাস, রিং বসানো, এনজিওপ্লাস্টি, পেস মেকার বসানোসহ সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে ডা. মামুন ইকবাল বলেন দিল্লীর ফরটিস এসকর্টস প্রধান হাসপাতালের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করে খুলনায় এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। ফরটিস হাসপাতালে হৃদরোগে কারও মৃত্যুর আগের ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসার কোনো অর্থ নেওয়া হয় না এমনকি মৃত ব্যক্তিকে ফরটিসের অ্যাম্বুলেন্সে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নিয়মও রয়েছে। সাতক্ষীরার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের হৃদরোগ চিকিৎসায় ফরটিস এসকর্টস হাসপাতাল সাধ্যমত আর্থিক ছাড় দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া পবিত্র রমজান মাস , ডিসিম্বর ও মার্চ মাসে চিকিৎসায় স্বল্প খরচে বিশেষ প্যাকেজ রয়েছে। ডা. মামুন ইকবাল ও ডা. আরিফ আহমেদ হৃদরোগ বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তারা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মাহাফিজুল ইসলাম আককাজ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার-০২ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আলিম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। প্রকাশ্যে কোন সভা-সমাবেশ বা দলীয় কর্মসূচি পালন না করলেও প্রচারণায় পিছিয়ে নেই তিনি। নীরবেই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে এখনো কোন সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে, প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। একই সাথে জেলার চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।
আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আলিম বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি। ইতিমধ্যে তিনি সাতক্ষীরা ০২ আসনের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আব্দুল আলিম ১৫ অক্টোবর ১৯৫৯ সালে লাবসা ইউনিয়নের খেজুরডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত আবুল কাশেম ছিলেন লাবসা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। ১৯৬২ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তার পিতা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। মাতা মৃত বকুল জান বিবি ছিলেন গৃহীণি। ১৯৮৮ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত পর পর ৬ বার আব্দুল আলিম লাবসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
আব্দুল আলিম ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের সময়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যোগদান করেন এবং লাবসা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গ্রাম সরকার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তারের সময়ে ইউনিয়ন গ্রাম সরকারের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। ২৭ অক্টোবর ২০১৩ থেকে ১৭ মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলে তার কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি বিএনপির কঠিন ক্লান্তিলগ্নে হাল ধরেছিলাম এবং বার বার জেল, জুলুমের শিকার হয়েছি। আমি আশাবাদী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিবেন এবং আমি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে সাতক্ষীরার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতিদের কর্মসংস্থান, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করবো। তিনি আরো বলেন, বিএনপির ত্যাগী, নিবেদিত নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা কাজ করছি। মনোনয়ন তো সবাই চাইতেই পারেন। দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ত্যাগী নেতার হাতেই ধানের শীষ তুলে দেবেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বার্ন ইউনিটে মুক্তামণিকে দেখতে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম

স্পোর্টস ডেস্ক :বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তামণিকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। আজ শনিবার শয্যাপাশে মুশফিককে দেখে বেশ খুশি হয় মুক্তামণি। মুশফিক তাকে সাহস দেন—বলেন, ‘তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে।’
১২ বছর বয়সী মুক্তামণি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি। বেলা দেড়টার দিকে তাকে দেখতে যান মুশফিক। তিনি মুক্তামণিকে বলেন, ‘চিন্তা কোরো না, তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে। সবাই তোমার পাশে আছে, দোয়া করছে।’
মুশফিককে দেখেই তাঁকে চিনতে পারে মুক্তামণি। সে বলে, টেলিভিশনে মুশফিককে অনেক দেখেছে। এখন কাছ থেকে দেখতে পেয়ে ভালো লাগছে।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন। মুশফিক তাঁকে বলেছেন, তিনি (মুশফিক) এ ধরনের রোগীদের পাশে থাকতে চান। কিন্তু সব সময় সুযোগ হয় না। তাই কোনো কোনো সময় লোকমারফত খোঁজখবর নেন, সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
মুক্তামণির রোগ নিয়ে সম্প্রতি ডেইল সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ব্যাপক আলোচনা চলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রখ্যাত চিকিৎসক ও সাতক্ষীরা -০৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আ ফ ম রুহুল হকের উদ্যোগে সাতক্ষীরা থেকে নিয়ে ১১ জুলাই মুক্তামণিকে ভর্তি করা হয় বার্ন ইউনিটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবাইশালের মুদি দোকানি ইব্রাহিম হোসেনের দুই মেয়ে হীরামণি ও মুক্তামণি। তারা যমজ। হীরামণি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলেও মুক্তামণি বিরল এক রোগে আক্রান্ত।
মুক্তামণির পরিবারের সদস্যরা জানান, জন্মের দেড় বছর পর থেকে মুক্তামণির ডান হাতের সমস্যার শুরু। প্রথমে হাতে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে মুক্তামণির ডান হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়। মুক্তামণি বিছানাবন্দী হয়ে পড়ে। হাতে পুঁজ জমে থাকায় তা থেকে সব সময় দুর্গন্ধ বের হতো। সাতক্ষীরা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় নানান চিকিৎসা চলে তার। তবে ভালো হয়নি বা ভালো হবে, সে কথা কেউ কখনো বলেননি। বার্ন ইউনিটে ভর্তির পর এখন হাতটি ব্যান্ডেজ করে রাখার কারণে তেমন কোনো গন্ধ বের হচ্ছে না।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন আশার কথা শুনিয়েছেন মুক্তামণি ও তার পরিবারকে। তিনি বলেছেন, চিকিৎসকেরা আশাবাদী, মুক্তামণি সুস্থ হয়ে যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর তুরাগে বিয়ে বাড়িতে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচ ভুয়া সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর অাগে জনতার হাতে ব্যাপক পিটুনি খেতে হয় তাদের।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন – মোরসালিন আহম্মেদ ওরফে অপু (৩০), ডা. মিরু ফরিদ (৫৪), সিরাজুল ইসলাম (৩২), রানা আহম্মেদ ( ২৮) এবং রবি আহম্মেদ ( ৩৪)।
তারা সবাই জাতীয় গোয়েন্দা সংবাদ নামের একটি পত্রিকার সাংবাদিক বলে দাবি করেন। মোরসালিন নিজেকে ওই পত্রিকার চিফ রিপোর্টার পরিচয় দেন।
তুরাগ থানাধীন মধ্যপাড়ার এক বিয়ে বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার বিকেলে যাচাই বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়।
জানা যায়, তুরাগের মধ্যপাড়ার একটি বিয়ে বাড়িতে পাত্রীর বয়স কম অভিযোগ করে নিজেদের সাংবাদিক জাহির করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে বিয়ে ভেঙে দেবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। পরবর্তীতে উৎসুক জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
তুরাগ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) নুর মুস্তাকিম জানান, পাঁচ ভুয়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিয়ে বাড়ির পাত্রীর বাবা রাইসুল ইসলাম পিয়ার বাদী হয়ে তুরাগ থানায় চাঁদাবাজির মামলাটি দায়ের করেছে। মামলা নং-১৮।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুই ইসরায়েলি পুলিশ নিহতের ঘটনায় গত সপ্তাহে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ বন্ধ করা দেয়ার পর থেকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে।
এর ধারাবাহিকতায় রামাল্লাহর ওয়েস্ট ব্যাংক ও হালামিশ এলাকায় ইসরায়েলি বসতিতে শনিবার ছুরি নিয়ে চালানো হামলায় তিন ইসরায়েলি নিহত ও একজন আহত হয়েছে।
১৪ জুলাই পুলিশ হত্যার ঘটনায় পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হামলাকারী তিনজনকে প্রথমে ইসরায়েলি আরব বলা হলেও পরে নিশ্চিত করা হয় তারা ফিলিস্তিনি। ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট এবং মুসলিমদের কাছে হারাম আল শরিফ নামে পরিচিত ওই স্থানটিতে হামলার পর কাছে থাকা আল-আকসা মসজিদ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ।
এর দু’দিন পর মসজিদ খুলে দিলেও ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ নতুন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকায়। জায়গায় বসানো হয় মেটাল ডিটেক্টর। দশ উল্লেখযোগ্য ফিলিস্তিনি নেতাসহ বেশ কয়েকজন বড় বড় ফিলিস্তিনি ব্যক্তিত্বকেও আটক করা হয়।
অন্যদিকে মুসলিমদের মসজিদ প্রাঙ্গণের গেটের বাইরে নামায আদায় করতে বলা হয়। এরপরও মসজিদের ঢুকতে চাইলে কড়া তল্লাশি পেরিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আরোপিত অতিরিক্ত নিরাপত্তা বিষয়ক নিয়মকানুনের প্রতিবাদে ১৪ তারিখে শুরু হয় বিক্ষোভ। ফিলিস্তিনি মুসলিমরা মেটাল ডিটেক্টর পেরিয়ে মসজিদে ঢুকে নামায পড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের দাবি, মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে সব মেটাল ডিটেক্টর তুলে নিতে হবে।
কিন্তু ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এজেন্সি শিন বেত মেটাল ডিটেক্টরগুলো সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিলেও স্থানীয় পুলিশ বলছে, এখনই সেগুলো সরানো যাবে না।
যুগযুগ ধরে ইহুদি-মুসলিম সবাই জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদকে পবিত্র স্থান হিসেবে দেখে এসেছে। দু’পক্ষই একে নিজের বলে দাবি করে, আবার দু’দলেরই সেখানে অবাধ বিচরণ।
এতদিন ধরে চলে আসা নিয়মে আল-আকসার ওপর মুসলিমদের আধিপত্য ছিল বেশি। তারা সেখানে নিয়মিত নামায আদায় করতে পারতেন। অন্যদিকে ইহুদিরা সবসময় মসজিদ প্রাঙ্গণে যেতে পারলেও সেখানে প্রার্থনা করার সুযোগ ছিল না তাদের।
১৪ জুলাই ইসরায়েলি পুলিশের ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় ১৯৬৯ সালের পর প্রথম মসজিদে জুমা’র নামায বাতিল করে মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়। এবং দু’দিন পর মেটাল ডিটেক্টর বসিয়ে তারপর খুলে দেয়া হয় আবার।
এ ঘটনাকে পবিত্র স্থানটির ওপর ইসরায়েলের অনধিকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ হিসেবে দেখছে ফিলিস্তিনিরা। তার ফল হিসেবেই ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভে নামে তারা।
তবে ইসরায়েল এ ধরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শুক্রবার ওই ইস্যুতে চলা বিক্ষোভ এবং ইসরায়েলি পুলিশ-ফিলিস্তিনি সংঘর্ষের শেষ সময়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটে। আল-জাজিরা জানায়, এ ঘটনায় হামলাকারীকে গুলি চালিয়ে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েল পুলিশ।
বিক্ষোভের ফল হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল না করে শুক্রবারই নতুন আরেকটি নিয়ম আরোপ করা হয়েছে আল-আকসা এলাকায়। ইসরায়েল এক ঘোষণায় জানিয়েছে, পরবর্তী বিক্ষোভ সমাবেশগুলোকে সামনে রেখে ৫০ বছরের কম বয়সী কোনো মুসলিম পুরুষ মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে সব বয়সী নারীরা ঢুকতে পারবেন।
এ ঘোষণার পর ফিলিস্তিনিদের চলমান প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এক ব্যক্তি ও পুলিশের চালানো গুলিতে দু’জন এবং পরে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে আরেকজন – মোট তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়। সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলিতে বিভিন্ন এলাকায় আহত হয় আরও দেড় শতাধিক।
ওই ঘটনার পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইসরায়েলের সঙ্গে তার দেশের সবরকম যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার টেলিভিশনে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরায়েল আল-আকসা মসজিদ এলাকায় বসানো মেটাল ডিটেক্টরগুলো সরিয়ে নিয়ে আগের ভারসাম্যমূলক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আগ পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে সব ধরণের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।
আল-জাজিরার ইসরায়েল প্রতিনিধি হ্যারি ফসেট বলেন, এটি মাহমুদ আব্বাসের পক্ষ থেকে অনেক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। কেননা, এই ঘোষণার অর্থ হলো ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পারস্পরিক নিরাপত্তা সমঝোতার অবসান। এবং এটাই বেশিরভাগ ফিলিস্তিনির কাঙ্ক্ষিত।

আন্তর্জাতিক মহলের উৎকণ্ঠা :
আল-আকসা ইস্যুতে চলমান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে আন্তর্জাতিক মহল উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও লেবানন ভূখণ্ডের দায়িত্বে থাকা ইসরায়েল ও জর্ডানের প্রতি পরিস্থিতি শান্ত করে দ্বন্দ্ব নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশে যে কোনো রকম বাধাই অগ্রহণযোগ্য। ‘আল-কুদ্‌স (জেরুজালেম) এবং আল-হারাম আল-শরীফের (আল-আকসা মসজিদ এলাকা) মুসলিম বৈশিষ্ট্য ও পবিত্রতা রক্ষা পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্যই জরুরি,’ বলেন তিনি।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন এক বিবৃতিতে মসজিদ বন্ধ করা ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার এবং হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে চলমান জটিলতা মিটিয়ে দ্রুত আগের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জর্ডানের পক্ষ থেকেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান আল-সাফাদি জানিয়েছেন, সঙ্কটের অবসান করে শান্তি পুনর্প্রতিষ্ঠার জন্য তার দেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : ছোট্ট এক শিশুর আঁকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহার করে আলোচনার কেন্দ্রে আসা গাজী তারিক সালমন জানিয়েছেন, যত বাধাই আসুক না কেন আজীবন সৎ থেকেই তিনি তার দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, বর্তমানে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ২৮ বিসিএস-এর এ কর্মকর্তা স্বপ্ন দেখেন দুর্নীতিমুক্ত সুন্দর এক বাংলাদেশের।

গাজী তারেক সালমন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকাকালে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানের একটি আমন্ত্রণপত্র প্রকাশ করেন। ওই আমন্ত্রণপত্রের পেছনের পাতায় পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া একজন শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপানো হয়।

ওই ছবিতে বঙ্গবন্ধুকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে মানহানী করা হয়েছে এমন অভিযোগে গত ৭ জুন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সালমনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ সাজু।

গত বুধবার ওই মামলায় জামিন চাইতে গেলে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট্র আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন প্রথমে তাকে কারাগারে পাঠান। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তাকে আবার জামিন দেন।

পারিবারিকভাবে অয়ন নামে পরিচিত সালমনকে নিয়ে এসব ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে। এরই মধ্যে মামলার বাদী সাজুকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

সরল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত এ কর্মকর্তার জন্ম সাতক্ষীরায়। পিতা আব্দুর রহমান শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক ছিলেন। তিনি এক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। এখনও পরিবার নিয়ে বসবাস করেন নিজ বাড়ি সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়ায়। গ্রামের বাড়ি দেবহাটার কোমরপুর গ্রামে।

তারিক সালমনের ডাক নাম অয়ন। ১৯৯৯ সালে যশোর জিলা স্কুল হতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি, ২০০১ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ২য় বিভাগ নিয়ে এইচএসসি পাশ করেন। ছোট থেকেই চাইতেন বড় হয়ে একজন সাংবাদিক হবেন। এ জন্য বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে আগ্রহী ছিলেন না কখনোই। তবে বাব-মায়ের ইচ্ছাতেই তার বিজ্ঞান বিভাগে পড়া। আর অনিচ্ছা নিয়ে পড়ার কারণে ফলাফলও হয় না আশানুরূপ।

এইচএসসিতে দ্বিতীয় বিভাগ পাওয়ায় পড়া হয়নি মেডিকেল কলেজ বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারপরও ভর্তি পরীক্ষায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যান একধাপ। ছাপার অক্ষরে নিজের নামটা দেখতে খুব ভালবাসতেন তিনি। ছোটবেলা থেকে লেখালেখি করতেন বিভিন্ন পত্রিকার শিশু সাহিত্য পাতায়। তবে বাবা-মায়ের একান্ত অনুগত হিসেবে সালমনের পিতা-মাতা কখনোই চাইতেন না ছেলে সাংবাদিকতার মতো একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় যাক। তাই বাবা মায়ের ইচ্ছেতেই ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে।

বইপাগল এই সরকারী কর্মকর্তা গল্প, উপন্যাস ও কবিতার বই পড়তে পছন্দ করেন। আর তাই ইংরেজি সাহিত্যের গল্প ও চরিত্রগুলোর সাথে খুব সহজেই পরিচিত হতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স -মাস্টার্সের ফলাফলে ছিলেন প্রথম পাঁচজনের মধ্যে। বাবা মো. আবদুর রহমান ছিলেন সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক । বাবা সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় তার ইচ্ছেতেই মূলত সালমনের বিসিএস-এ অংশ নেয়া। তবে সারাজীবন একাডেমিক পড়াশোনা খুব একটা না করলেও বিসিএস পরীক্ষার সময় পড়াশোনা করেছেন বিস্তর। সময় বেঁধে সিলেবাস ধরে পড়াশোনা করতেন। এপিয়ার্ড (অবতীর্ন) সার্টিফিকেটে অংশ নেন ২৮ তম বিসিএসে। যদিও পরীক্ষা আশানুরূপ না হওয়ায় খুব একটা খুশি হতে পারেনননি সেসময়। এরই মাঝে প্রকাশিত হয় পরীক্ষার ফলাফল। সেখানে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয় তাকে।

অবশ্য সেদিন ফলাফল দেখে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না অয়ন। প্রশাসন ক্যাডারে নিজের রোল নম্বরটি দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান।

২৯ তম বিসিএসেও লিখিত পরীক্ষায় সফল হন এ কর্মকর্তা। পরবর্তীতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে যোগ দেন পিএটিসিতে। সেখানে যেয়ে প্রথম দিন একেবারে হতভম্ব হয়ে যান। কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মাঝে হাসফাস লাগতে শুরু করে। ‘পান থেকে চুন খসলেই করা হয় শো কজ । তবে মাস দেড়েকের মধ্যেই মধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে যাই। ভাল লাগতে শুরু করে সবকিছু। সেসময় সকালটা শুরু হতো ভোর ৫ টায়। সকালে উঠে শরীরচর্চা করা। বিকেলে বাধ্যতামূলক খেলাধূলা করা, সময়মতো নামায পড়া, খাওয়া-দাওয়া করা একময় সবকিছুই ভাল লাগতে শুরু করে। একপর্যায়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে ট্রেনিং শেষ হয়ে গেলেও সেখান থেকে আসতে ইচ্ছা করে না।’

প্রশিক্ষণ শেষে যোগ দেন বরিশাল বিভাগে সহকারি কমিশনার হিসেবে। এরপর পটুয়াখালীতে ছিলেন, এসিল্যান্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন কুষ্টিয়ার মিরপুরে। ২০১৬ সালের আগস্টে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন বরিশালে আগৈলঝড়ায়। ২০১৭ সালের ৪ ঠা জুন যোগ দেন বরগুনা জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে।

তিনি জানান, সরকারী দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে বিভিন্ন সময় মুখোমুখি হতে হয়েছে ঝুঁকির। প্রতি পদে নিতে হয়েছে চ্যালেঞ্জ। অন্যান্য সরকারী চাকুরির মতো চাকুরিটা ৯টা-৫টার নয়। আর তাই সদা সচেষ্ট থাকেন দায়িত্ব পালনে। ফোন আসা মাত্রই ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেক্ষেত্রে গভীর রাতেও ছুটে যান দায়িত্ব পালনে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে গ্রামের মধ্যে স্বল্প সংখ্যক ফোর্স নিয়েও মাইলের পর মাইল হেঁটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অনেক চ্যালেঞ্জের বিষয়। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে অনেকসময় পড়তে হয় চাপের মুখে। প্রভাবশালীরা সেসময় জোর খাটানোর চেষ্টা করে। সবকিছুই মোকাবিলা করে চলেছেন সাহসিকতার সঙ্গে।

চাকুরিতে যোগদানের আগে এ সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা ছিল না তার। এখানে এসে দেখতে পান মানুষের জন্য কাজ করার বিস্তর সুযোগ। বিষয়টা অনেক উপভোগ করেন এ কর্মকর্তা।

মেধাবী এ কর্মকর্তার প্রিয় কাজ বই পড়া। পড়তে পছন্দ করেন অনেক বেশি। আর তাই বিদেশ ট্যুরে গিয়ে অন্যান্য ব্যাচমেটরা যখন শপিং এ ব্যস্ত তখন তাকে খুঁজে পাওয়া যায় বইয়ের দোকানে।

দুটো জাতীয় পুরস্কারও রয়েছে তার ঝুলিতে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগীতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি। রচনা প্রতিযোগীতাতেও থানা ও জেলা পর্যায়ের প্রথম পুরস্কারটি বরাদ্দ থাকতো তার জন্যই। লেখালেখিতে সিদ্ধহস্ত এ কর্মকর্তা কবিতা লিখতে পছন্দ করেন। ‘সহজ প্রেমের কবিতা’ নামে তার একটি বইও প্রকাশিত হয়েছে বইমেলায়। পছন্দ করেন শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে। আর তাই সুযোগ পেলে হাতছাড়া করেন না কখনোই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

এম. শাহীন গোলদার : সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ৯৭ বোতল ফেন্সিডিল,২০পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার ও এসব মালামাল করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায় ,সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১৭ জন,কলারোয়া থানা ০৪ জন,তালা থানা ০৪ জন,কালিগঞ্জ থানা ০২ জন,শ্যামনগর থানা ০৪ জন, আশাশুনি থানা ০৩ জন,দেবহাটা থানা ০১ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ০৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest