সর্বশেষ সংবাদ-
শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : ৫০ হাজার টাকা জরিমানাদেবহাটায় বিভিন্ন বাজার ও স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযানবিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতক্ষীরায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার মৃত্যু৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহসাতক্ষীরায় ৯৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ নিখোঁজআশাশুনির মহিষকুড় মৎস সেট সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধনশ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন : সভাপতি মনির- সাধারণ সম্পাদক লিটনঅবৈধভাবে বালু উত্তোলন: সাতক্ষীরার গাবুরায় লাখ টাকা জরিমানাতালায় জেলে-কৃষকের জীবন-জীবিকার কথা শুনলেন ড. হোসেন জিল্লুরদেবহাটায় ম্যান ফর ম্যান ফাউন্ডেশনের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ

ডেস্ক রিপোর্ট : আশাশুনি থানায় চুরি, মারামারি, চাঁদাবাজি, সাতক্ষীরা থানায় মানব পাচারসহ একাধিক মামলার আসামি আশাশুনি উপজেলার মিত্র তেতুলিয়া গ্রামের নুর মোহাম্মদ গাজীর ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী সবুর গাজী পুলিশের হাতে আটক হয়েছে।
রবিবার দুপুর ৩ টার দিকে সাতক্ষীরা আদালত সংলগ্ন মেন রাস্তা থেকে তাকে আটক করে সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া পুলিশ ফাড়িঁ।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ আহম্মেদ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সবুর গাজীর নামে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে তাকে সাতক্ষীরা সদর থানায় দায়েরকৃত একটি পাচার মামলায় আটক করা হয়েছে। তাকে আদালতে চালান করে দেওয়া হবে”।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অনলাইন ডেস্ক : ঢালিউডের এ সময়কার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। তার অভিনীত ‘সোনা বন্ধু’ নামের সিনেমাটি সম্প্রতি সেন্সর বোর্ডে জমা দেয়া হয়েছে।
সেন্সর বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ‘সোনা বন্ধু’ সিনেমাটি সেন্সরে জমা দেয়া হয়। রবিবার সিনেমাটি প্রদর্শিত হবে।
জাহাঙ্গীর আলম সুমন পরিচালিত এ সিনেমায় পরীর বিপরীতে অভিনয় করছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ডি এ তায়েব। এছাড়া চিত্রনায়িকা পপিকেও এতে দেখা যাবে।
ফোক ধাচের এ সিনেমায় পরীমনি গ্রামের একজন সহজ-সরল মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন। অন্য দিকে ডি এ তায়েবকে একজন বাউলের চরিত্রে দেখা যাবে। যিনি লালনের গান করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেটার আরাফাত সানির বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে দায়ের মামলায় বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জাকির হোসেন টিপু ক্রিকেটার সানির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এছাড়া, আদালতে হাজির না হওয়ায় এ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন আদালত।

আরাফাত সানির আইনজীবী মো. জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘আজ যৌতুকের মামলায় আরাফাত সানির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু চিকনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। এ জন্য সময়ের আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আরাফাত সানির বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেন তার স্ত্রী দাবিকারী এক তরুণী। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মোহাম্মদপুর থানাকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর আগে মোহাম্মদপুর থানায় ওই তরুণীর করা একটি জিডি গত ৫ জানুয়ারি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। এরপর ২২ জানুয়ারি আরাফাত সানিকে তার আমিনবাজার এলাকার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এ ক্রিকেটার বরাবরই বিয়ে ও ওই তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

মামলায় ওই তরুণী দাবি করেন, সাত বছর আগে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর উভয়ের পরিবারকে না জানিয়ে সানির সঙ্গে তিনি গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু, বিয়ের পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ বাড়িতে তুলে না নিয়ে আরাফাত সানি সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এমনকি তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রস্তাব দিলেও সানি তাতে কান দেননি। এরপর গত ১২ জুন রাতে সানি তার নাম ব্যবহার করে নিজের মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং ওই আইডি দিয়ে তরুণীর নিজস্ব অ্যাকাউন্টে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে তাকে হুমকি দিতে থাকেন। এছাড়াও যৌতুক চেয়ে তাকে মারধরও করেন আরাফাত সানি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অপ্রতিম রহমান : সাতক্ষীরার ১১ বছরের মেয়ে মুক্তামনির বিরল ‘লিমফেটিক মেলফরমেশন’ রোগে আক্রান্ত। এই রোগের বিশেষত্ব হচ্ছে জন্মের পরপরই কিছু ক্ষেত্রে এই রোগের প্রকাশ কারও ক্ষেত্রে পায়, কারও ক্ষেত্রে পায় না। মুক্তামনিরটা প্রকাশ পেয়েছে তার জন্মের দেড় বছর পর। এটি একটি জন্মগত রোগ (কনজিনেটাল ডিজিস)। আজ ১৬ জুলাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন এ তথ্য জানান।
মুক্তামনির চিকিৎসা পদ্ধতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে লিমফেটিক মেলফরমেশন রোগে আক্রান্ত মুক্তামনি। যদিও প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা চারটি রোগের কথা ধারণা করে। তাকে ইতোমধ্যে দুই ব্যাগ রক্ত, ১ ব্যাগ প্লাজমা দেওয়া হয়েছে। তাকে হাসপাতাল থেকে ডাবল ডায়েট দেওয়া হচ্ছে। গত তিনদিনে মুক্তার রক্তের অনেকগুলো পরীক্ষা এবং ইউরিন টেস্ট হয়েছে। হয়েছে সিটিস্ক্যন, এমআরআই, ডুপ্লেক্স ও আলট্রাসোনোগ্রাফি। রক্ত এবং ইউরিনের রিপোর্ট হাতে পেলেও বাকিগুলো আগামীকাল পাবো। যেগুলো পেয়েছি সেগুলো ভালো আছে, বাকিগুলো আগামিকাল পেলে তার ওপর ভিত্তি করে পুরো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
কতদিনে মুক্তামনি সুস্থ হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মুক্তার চিকিৎসা সহজ হবে না। এটি নিঃসন্দেহে একটি দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা। এখানে মূল দায়িত্ব প্লাস্টিক সার্জারির। এর সঙ্গে অর্থোপেডিক, মেডিসিন, ভাসকুলার সার্জারি টিম এরা সবাই জড়িত থাকবে। তবে এটা বলতে চাই চিকিৎসা একধাপে চলবে না। ধাপে ধাপে সার্জারি করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যাবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপত্র ইমরান এইচ সরকারসহ তার কর্মীদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামানের আদালতে জামিন পাওয়ার পর তাদের ‍ওপর এই হামলা চালানো হয়।
ইমরান এইচ সরকার এ বিষয়ে বলেন, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলায় কোন আদালত থেকে আমি কোন নথিপত্র পাইনি। তারপরেও শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ দেখে আদালতে হাজির হওয়ায় আদালত আমাদেরকে জামিন দিয়েছেন। কিন্তু জামিন নিয়ে বের হওয়া মাত্র একদল সন্ত্রাসী আমার উপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। এসময় আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়।
আদালত প্রাঙ্গণে এমন হামলার ঘটনায় ইমরান ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, রাস্তায় প্রতিবাদ করলে মামলা হবে, আদালতে আসলে হামলা হবে, একটি সভ্য দেশে এসব বিষয় মেনে নেয়া যায় না। মানুষ এখন কোথাও নিরাপদ নয়।
তিনি বলেন, যারা আমার নামে মামলা করেছে,আজ তারাই আমার ওপর হামলা করেছে। এই হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে রোববার বিকেল ৫টায় গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিবাদ সমাবেশ করবে। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করে মিছিলের অভিযোগে গত ৩১ মে চীফ মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট আদালতে মানহানির এ মামলা দায়ের করেন ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এই মামলায় বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নোমান হোসাইন তালুকদার।
এছাড়া একই অভিযোগে ছাত্রলীগের সমাবেশ থেকে ইমরান এইচ সরকারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহবাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সাভারের আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাবালি এলাকার একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সেখানে অবস্থান নেয়া সকল জঙ্গি র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

তবে তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রথমে দুই ‘জঙ্গি’ আত্মসমর্পণ করেন। ১টার পর আরও দুই ‘জঙ্গি’ও আত্মসমর্পণ করেন।

রোববার দুপর ১২টায় এ রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত ওই আস্তানা থেকে গুলির শব্দ পাওয়া যায়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জাগো নিউজের কাছে চার ‘জঙ্গি’র আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাদের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর ১২টার দিকে দুই জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেন। ভেতরে তখনও দুই জঙ্গি সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করছিলেন। আত্মসমর্পণকারী দুই জঙ্গির মাধ্যমে আমরা তাদেরও আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাই। দুপুর ১টার দিকে তারা আস্তানা থেকে দুই হাত তুলে বের হয়ে আসেন।

আত্মসমর্পণকারী চার জঙ্গিকে র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই আস্তানা থেকে গুলি ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরও আগে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির ভেতর থেকে রাত ৩টার দিকে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

মুফতি মাহমুদ এর আগে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটিতে জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সেখানে যায় র‌্যাব। প্রথম থেকেই জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়।

অভিযান শুরুর আগে ওই বাড়ির আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। র‌্যাবের বিশেষ ইউনিট এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও সেখানে অবস্থান করছে।

শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাবালি এলাকার ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীনে ওই বাড়িটি ঘেরাও করে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। আজাদ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে পোশাক শ্রমিক পরিচয় দিয়ে বাড়িটি ভাড়া নেয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরার পল্লীচিকিৎসক মোকলেসুর রহমান জনির ‘নিখোঁজের’ তদন্তভার ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ রোববার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদউল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
এর আগে হাইকোর্ট জনির অবস্থান নির্ণয়ে বিচারিক তদন্তের জন্য সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হাবিবুল্লাহ মাহমুদকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিচারিক তদন্ত রিপোর্টে যা আছে :
পুলিশ কর্তৃক সাতক্ষীরার কুখরালীর অধিবাসী শেখ মোকলেসুর রহমান জনিকে গ্রেফতার ও তিনদিন পর্যন্ত থানায় আটকে রেখে পরবর্তীকালে অস্বীকারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বিচারিক তদন্ত কমিটি।
এই ঘটনার সাথে সাতক্ষীরার সদর থানার তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ ও এসআই হিমেল হোসেনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তৎকালীন এসপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন কল রেকর্ড যাচাই করা সম্ভব হলে জনির বর্তমান অবস্থানসহ এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেত। তদন্তকালীন সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্তৃপক্ষ বরাবর সহযোগিতা চেয়েও তা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে সময় ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণের অপর্যাপ্ততার কারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা ও জনির বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
আজ রবিবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চের দৈনন্দিন কার্যতালিকার ২৪ নম্বর ক্রমিকে বিষয়টি আদেশের জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
হোমিও চিকিৎসক মোকলেসুর রহমান জনির খোঁজ না পেয়ে তার স্ত্রী জেসমিন নাহার হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস রিট করেন। রিটে বলা হয়, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট রাত ৯টার দিকে ওষুধ আনতে বাড়ি থেকে বের হয়ে সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট এলাকায় এলে জনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওইদিন রাত ১টায় পুলিশ জনিদের বাড়িতে অভিযান চালায়। পরদিন জেসমিন ও তার শ্বশুর থানায় গিয়ে জনির খোঁজ করেন ও তাকে থানা হাজতে দেখতে পান। পরে আরো দুইদিন থানায় আটক থাকা জনিকে খাবারও দেন। ৮ আগস্ট থানায় গেলে পুলিশ জনিকে আটক করা এবং থানায় রাখার কথা অস্বীকার করে।
ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদউল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চ এ ঘটনায় প্রথমে পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জনিকে আটক বা গ্রেফতার করেনি। এছাড়া তাকে আটকের বিষয়ে থানার রেজিস্ট্রারে কোনো এন্ট্রিও নেই।
এরপরই হাইকোর্ট জনির অবস্থান নির্ণয়ে বিচারিক তদন্তের জন্য সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল­াহ মাহমুদকে ঘটনাটি তদন্ত করে সম্প্রতি হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, পুলিশের এ ধরনের আটক ও পরবর্তীতে তা অস্বীকার করার বিষয়ে সাম্প্রতিককালে যথেষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে কারো কারো লাশ পরবর্তীতে পাওয়া গেছে। কাউকে পরবর্তীতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। কাউকে বেশ কিছুদিন পর ফেরত পাওয়া গেছে। আবার কারো কারো খোঁজ আজও পাওয়া যায়নি। এ জাতীয় ঘটনাগুলোর যথাযথ তদন্ত হয়েছে বলে জানা যায়নি বলে প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় জিডি করার জন্য গিয়েছিলেন জেসমিন নাহার; কিন্তু তৎকালীন ওসি ওই জিডি গ্রহণ করেননি। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ডও তিনি সরবরাহ করেছেন। তৎকালীন ওসি ফিরোজ মোল্লাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সে জিডি গ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৭ আগস্ট গ্রেফতার হওয়া আসামি হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে জনির নাম মনে করতে পারেননি। তবে তাকে জনির ছবি দেখানো হলে চিনতে পারেন এবং তাকে থানা হাজতে দেখেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। জনির বাসা থেকে আনা খাবার দুইজনে ভাগ করে খেয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এসআই হিমেলকে জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি জনির পরিবারের সদস্যদের ডাকার কথা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি। তবে জনি সম্পর্কে কোনো অ্যাসাইনমেন্ট তার কাছে ছিল না মর্মে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। থানার ওসি, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার এবং ডিএসবি কর্মকর্তাসহ সকলেই জনির নামীয় কোনো অভিযোগ তাদের নিকট থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। গত ১০ আগস্ট জেসমিন ও তার পরিবারের সকল সদস্য জাতীয় পরিচয়পত্রসহ থানায় গিয়েছিলেন। জেসমিন ও এসআই হিমেলের সাথে তার কথোপকথনের অংশ মোবাইলে রেকর্ড করতে সক্ষম হন। পরে তা সিডি আকারে এই তদন্ত কমিটির কাছে একটি কপি দেওয়া হয়। রেকর্ডের সংশ্লিষ্ট অংশ মনোযোগ দিয়ে শুনলে পুলিশ কর্তৃক জনিকে আটকের বিষয়ে এটি একটি আকাট্য প্রমাণ।
পরবর্তীকালে সিডির ওই কণ্ঠস্বর এসআই হিমেলের মর্মে চিনতে পেরেছেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা।

সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক, ১৬ জু্লাই ২০১৭

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

যশোরের শহিদ সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ১৭তম বার্ষিকী আজ। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পার হলেও অদ্যাবধি এর বিচার সম্পন্ন হয়নি বরং গত ১২ বছর ধরে আইনের মারপ্যাঁচে আটকে রয়েছে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া।
এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নিহতের পরিবার ও যশোরের সাংবাদিক সমাজ। যদিও সরকার চাইলেই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব বলে মন্তব্য আইনজীবীদের।
প্রথিতযশা সাংবাদিক শামছুর রহমান ২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে জনকণ্ঠ যশোর অফিসে কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে সাংবাদিক শামছুর রহমান খুন হবার পর ২০০১ সালে সিআইডি পুলিশ এই মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। সেসময় বিগত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েক আসামির আগ্রহে মামলার বর্ধিত তদন্ত করে শামছুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাংবাদিক নেতা ফারাজী আজমল হোসেনকে নতুন করে আসামি করা হয়।
একইসঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে বাদ দিয়ে সাক্ষী করা হয় আসামিদের ঘনিষ্ট জনদেরকে। এতে একদিকে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় অন্যদিকে দুর্বল হয়ে যায় চার্জশিট। এরপর বিতর্কিত ওই বর্ধিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ২০০৫ সালের জুন মাসে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন হয়। ওই বছরের জুলাই মাসে বাদীর মতামত ছাড়াই মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
এ অবস্থায় মামলার বাদী শহীদ শামছুর রহমানের সহধর্মিনী সেলিনা আকতার লাকি বিচারিক আদালত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আপিল করেন।
আপিল আবেদনে তিনি বলেন, মামলার অন্যতম আসামি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিরক পলাতক রয়েছে। হিরকসহ সংশ্লিষ্ট মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে খুলনার সন্ত্রাসীদের সখ্যতা রয়েছে। ফলে তার (বাদীর) পক্ষে খুলনায় গিয়ে সাক্ষী দেয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাদীর এই আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলাটি কেন যশোরে ফিরিয়ে দেয়া হবে না তার জন্য সরকারের উপর রুলনিশি জারি করেন। এরপর মামলার আসামি ফারাজী আজমল হোসেন উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। সেই রীটের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলার সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
নিহতের সহোদর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন জেইউজে সভাপতি সাজেদ রহমান জানান, একাধিক বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে শামছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হয়। এছাড়া তারা একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন। কিন্তু এ নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
উচ্চ আদালতের নির্দেশের কারণে শামছুর রহমান হত্যা মামলার বিচারকাজ বন্ধ হয়ে আছে উল্লেখ করে যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম পিটু জানান, তাদেরও প্রত্যাশা আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হবে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপের জন্য তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরে যোগাযোগ করবেন বলেও জানান।
প্রসঙ্গত এ মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ জনের মধ্যে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মুশফিকুর রহমান হিরক পুলিশের খাতায় পলাতক রয়েছে। আরেক আসামি খুলনার ওয়ার্ড কমিশনার আসাদুজ্জামান লিটু র্যাবের ক্রসফায়ারে, কোটচাঁদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন কালু হার্টস্ট্রোকে এবং যশোর সদরের চুড়ামনকাটির আনারুল প্রতিপক্ষের হামলায় মারা গেছেন। বাকি আসামিরা জামিনে রয়েছেন।
এদিকে দীর্ঘদিনেও চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির বিচার না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর নিহতের পরিবার ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয় পুরনো বিতর্কিত তদন্ত বাতিলপূর্বক মামলাটি পুনঃতদন্তের।
শামছুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসক্লাব যশোর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest