সর্বশেষ সংবাদ-
শহরের কুখরালী থেকে সোহানা নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারঈদ উল আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় রোড শো, ও পরিবহণ কাউন্টারে মনিটারিংকালিগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি সোহরাব হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তালায় গাঁজা সেবনের সময় আটক দিদার মোড়ল : ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ডসাতক্ষীরায় পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অবহিতকরণসাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক শহরের ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ফল ও নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনদেবহাটায় ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড বিধবা নারীর মাটির ঘর: মানবেতর জীবনজাতীয় প্রতিভা অন্বেষণে মূকাভিনয়ে দেশসেরা সাতক্ষীরার জান্নাতনারী ও যুব নেতৃত্বের অংশগ্রহণে জলবায়ু সহনশীলতা ও সুরক্ষা বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকপদোন্নতি পেয়ে যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার হলেন আকরামুল

03নলতা  প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ব্রজপাটুলিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নলতা শরীফের পীরজাদা গওছার রেজার দৌহিত্র তৌফিক আমিন (১৪)  নিহত হয়েছে।
খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এর পুত্র গওছার রেজার পুত্র মো. শহিদুল হকের সদ্য এসএসসি পাশ করা একমাত্র পুত্র তৌফিক আমিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার একটু পরে নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদে তারাবী নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়।
একটি মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে ও সাথে ৯ম শ্রেণি পড়–য়া পার্শ্ববর্তী জিকুকে পিছনে বসিয়ে যাত্রা শুরু করে খানজিয়া রোড হয়ে ভাড়াশিমলা ইউপির ব্রজপাটুলিয়া কার্পেটিং রোডের দিকে। রাত পৌনে ৮টার দিকে  ব্রজপাটুলিয়ায় মিন্টু বাবুর বাড়ির সামনের বাগবাটী অভিমুখে প্রশস্ত রোডে দ্রুত গতিতে টার্ন নিতে যেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুপারি গাছে লেগে সজোরে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তৌফিক এবং মাটিতে ছিটকে পড়ে জিকু। দোকানে বসা কয়েক যুবক সাথে সাথে তৌফিককে উঠিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সংবাদ দেয়। পরবর্তীতে তাকে এ্যাম্বুলেন্সযোগে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিলে কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর ঐদিন রাত পৌনে ১১ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তৌফিক আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্নানিল্লাহি…রাজিউন)।
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নলতা শরীফের পীরজাদা গওছার রেজার দৌহিত্র অর্থাৎ মো. শহিদুল হকের একমাত্র পুত্র তৌফিক আমিন (১৪) কে ৯ জুন শুক্রবার বাদ জুমা নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে মাজার শরীফ সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। রওজা শরীফের খাদেম আলহাজ্জ মৌলভী আনছার উদ্দিন আহমদ, মিশন কর্মকর্তাবৃন্দ, পীর কেবলার ভক্তবৃন্দ, মরহুমের আত্মীয়-স্বজন তথা হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীর উপস্থিতিতে নামাজে জানাযা পরিচালনা করেন নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্জ হাফেজ মো. শামছুল হুদা।
তার মৃত্যুর সংবাদ রাত থেকে পর্যায়ক্রমে দাফনের পূর্ব পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে তৌফিকের সহপাঠী, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খী বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুর অব্যাহত উপস্থিতিতে নলতা শরীফের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আর একমাত্র পুত্রের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে তৌফিকের পিতা-মাতা একরকম পাগোল প্রায় হয়ে গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

02কেএম রেজাউল করিম : দেবহাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ কর্তৃক সাবেক সফল স্বাস্থ্য মন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ আ. লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সভাপতি সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা: আ ফ ম রুহুল হক’র বিরুদ্ধে দেবহাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের ইফতার মাহফিলে গুটিকয়েক সংগঠন বিরোধী নেতারা কুরচিপূর্ণ বক্তব্য রাখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ।

অন্যদিকে, এর প্রতিক্রিয়ায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেবহাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্তির কথা জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সভা কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ সকল উন্নয়ন কে বাঁধাগ্রস্ত করতে দেবহাটায় আওয়ামীলীগের নামধারী গুটি কয়েক নেতারা সরকারের সে উন্নয়নকে পদে পদে বাঁধা সৃষ্টি করে বিএনপি-জামাতের সাথে সরাসরি সু-সম্পর্ক রেখে গত বৃহস্পতিবার পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাদের ম্যানেজ করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে সেখানে আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন তারা। যা সংগঠনের নিয়ম বহির্ভূত। যেখানে রুহুল হক এমপি সাতক্ষীরার গণমানুষের কল্যাণে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাইপাস সড়ক, রেললাইন স্থানপন, প্যারামেডিকেলসহ অগণিত উন্নয়ন করে চলেছেন। যা অকল্পনীয় সাতক্ষীরার মানুষের জন্য। সেখানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এ্যাড. স ম গোলাম মোস্তফা, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল গনি  আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক নারায়ন চন্দ্র সরকার, সদস্য অহিদুল ইসলাম, শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান কেল্টু, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামসহ তাদের গংরা ২০১৩ সালের পর থেকে দলকে দ্বিখ-িত করতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করে উপজেলা আওয়ামীলীগকে বার বার তারা অস্তিত্ব সংকটে ফেলার পাঁয়তারা করে চলেছে। তাদের এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিগত দিনে বিএনপি-জামাত সহিসংসতার সময় দেবহাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের ৩টি তাজা প্রাণ আবু রায়হান, আব্দুল আজিজ, আলমগীর হোসেন (বাকুম) কে আমাদেরকে হারাতে হয়েছে। এছাড়া সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড.স.ম গোলাম মোস্তফার দীর্ঘ দিনের চক্রান্তের ফল হিসাবে একরে পর এক আওয়ামীলীগ বিরোধী কর্মসূচি পালন করে চলেছে। তেমনি আগামী নির্বাচনে পুনরায় যেন আওয়ামীলীগ আর ক্ষমতায় না আসতে পারে সে জন্য এখন থেকে ঐ সকল চক্রান্তকারিরা সু-সংঘটিত হয়ে ইফতার মাহফিলের নামে একের পর এক সংগঠন বিরোধী কার্যকালাপে মেতে উঠেছে। তাই ইফতার মাহফিলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান কেল্টু যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সংগঠন বিরোধী। আমরা তার এই বক্তব্যের জন্য উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সাথে সাথে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা স্বোচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে অনুরোধ জানাচ্ছি এবং তাদের কমিটি দ্রুত বিলুপ্ত করাসহ আইনী ব্যবস্থা নেওয়ারও আহবান করছি। একই সাথে আজ থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সকল প্রকার অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবকলীগকে বর্জন করা হল। আগামীতে যদি কেউ রুহুল হকের মত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কটূক্তি বা অসম্মানজনক বক্তব্য প্রদান করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মুজিবর রহমান, সহ-সভাপতি নাজমুস শাহাদাত নফর বিশ্বাস, শরৎ চন্দ্র ঘোষ, যুগ্ন-সম্পাদক আনারুল হক, আজহারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক হোসেন রতন,নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহমুদুল হক, আলমগীর হোসেন সাহেব আলী, দেবহাটা সদর আ’লীগের সভাপতি আবুল কাশেম, সখিপুর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান,পারুলিয়া আ’লীগের সভাপিত শাহাবুদ্দীন বিশ্বাস আবারা, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, কুলিয়া আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক বিধান চন্দ্র বর্মন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্নুর. সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার ঘোষ, সখিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রব লিটু, কুলিয়া যুবলীগের সভাপতি মোসারাফ হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান সবুজ, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ, উপজেলা তাঁতীলীগের আহবায়ক নাসিরউদ্দীন, যুগ্ন-আহবায়ক মাহাবুর রহমান অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

2017-06-09 15.29.16নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি সংগঠক উপজেলা (ফারিয়ার) এর উদ্দ্যোগে শুক্রবার বেলা ২টার দিকে হাসপাতাল রোডে অবস্থিত ফারিয়ারের নিজস্ব কার্যালয়ে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত ও ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ফারিয়ার নেতৃবৃন্দর সাথে কলারোয়া ফারিয়ারের নেতৃবৃন্দর এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কলারোয়া ফারিয়ারের সভাপতি (নাভানা ফার্র্মা ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি) আক্তারুজ্জামান আক্তার। ঔষধ কালোবাজারী ক্রয় বিক্রয় এবং সকল অপশক্তির হাত থেকে সাংগঠনিক কার্র্য্যক্রমকে বেগবান ও গতিশীল করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় (ঢাকা) ফারিয়ারের সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহেল বিশ্বাস। কলারোয়া ফারিয়ারের সাধারণ সম্পাদক (ডেলটা ফার্র্মা ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি) আনায়ারুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর ফারিয়ারের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুুর রহমান, কলারোয়া ফারিয়ারের সহ সভাপতি বিএম আল রাজীব পিটার (এসকে এফ ফার্মা), সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান হাসান (ল্যাব এইড), সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিপুু (পপুলার ফার্মা)। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া ফারিয়ারের নেতৃবৃৃন্দ যথাক্রমে সহ-সভাপতি বিপুল হালদার (স্কায়ার ফার্মা), যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মামুন মুন্সী (ওয়ান ফার্মা),ও সোহেল রানা (অপসোনিন), সহ সাংগঠনিক রুবেল হোসেন (সোমাটেক ফার্মা), অর্র্থ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদ, (ইবনে সিনা ফার্মা), সহ অর্র্থ সম্পাদক আব্দুল হান্নান (ওরিয়ন ফার্র্মা), দপ্তর সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম (জুলফার বাংলাদেশ), সহ-দপ্তর সম্পাদক রাশেদুজ্জামান (রেডিসান), ক্রিয়া সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (এসকে এফ), সহ ক্রিয়া সম্পাদক হাসানুজ্জামান (ইনসেফটা), প্রচার সম্পাদক শ্রী সদানন্দ পোদ্দার (অপসো স্যালাইন), সহ প্রচার সম্পাদক তুহিন রাজ (গ্যাডিয়ান ফার্মা), সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশিকুজ্জামান আশিক (লিয়ন ফার্মা), সহ সাস্কৃতিক সম্পাদক সাইদুুর রহমান (গ্লোব ফার্মা), ধর্র্ম বিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেন (ওরিয়ান ফার্মা), সহ ধর্র্ম বিষয়ক সম্পাদক বিভুতি ভূষন (বিকন ফার্র্মা), তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হান্নান (রেনেটা ফার্র্মা লিমিটেড),ও সহ তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আতাউর রহমান (র‌্যাংস ফার্মা), কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি সেলিম নূরানী (গাডিয়ান ফার্মা),ও উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য শহিদুল ইসলাম (ড্রাগ ইন্টাঃ), জাহাঙ্গীর হোসেন (কসমিক ফার্র্মা) এবং সজীব হোসেন (হেল্থ কেয়ার লিমিটেড), মহাসিন হোসেন (কেমিকো ফার্র্মা), মনিরুল ইসলাম (পেট্রন ফার্র্মা লিমিটেড), আনোয়ার  হোসেন (গ্রাকো), আব্দুল জলিল (স্কায়ার), মাসুুম বিল্লাহ (ফার্মাসিয়া) ও আলমাছ হোসেন  (বেক্রিমকো) প্রমুখ। এছাড়া আগামী ১২ই জুন ১৬ই রমজান কলারোয়া ফারিয়ারের নিজস্ব কার্যালয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

Romelডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আসামি খালিদ মঞ্জুরুল রোমেলকে (৩৮)সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (৯ জুন) ভোরে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক সংলগ্ন সলঙ্গা থানার পাঁচলিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া খালিদ মঞ্জুরুল রোমেল সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার কাদাই বাদলা গ্রামের মৃত এমএ গোফরানের ছেলে। সে সাতক্ষীরা-০১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবের আপন ভাগ্নে।
র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ ক্যাম্পের মেজর সাফায়াত আহম্মদ সুমন পিএসসির সই করা ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে পাঁচলিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোমেলকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ওই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাকে সলঙ্গা থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট কলারোয়া উপজেলার এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষণের শিকার স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখে গাড়ির বহর নিয়ে শেখ হাসিনা যশোরে যাচ্ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের কলারোয়া উপজেলা সদরের বিএনপি অফিসের সামনে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পনা মতো আসামি হাবিবুর রহমানের নির্দেশে অন্যান্যরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি বহরটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একইসঙ্গে বোমা হামলাও চালানো হয়। এসময় সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। এ ঘটনায় কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দীন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এই মামলার প্রধান আসামি খালিদ মঞ্জুরুল রোমেল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

JdBVVJ_loseস্পোর্টস ডেস্ক: আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এবং আর্জেন্টিনার পক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন আর্জেন্টিনার গ্যাব্রিয়েল মেরকাদো।

খেলার প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল মেরকাদো। প্রথমে ডি মারিয়ার ক্রস থেকে নিকোলাস ওটামেন্ডির হেড পোস্টে লেগে ফিরেছিল। ছয় গজ বক্সে বল পেয়ে জালে জড়িয়ে দেন মেরকাদো।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৬২ মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল ব্রাজিলের সামনে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে সুযোগ হারায় সেলেসাওরা।অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আজ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে ম্যাচটি শুরু হয়। প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার সেরা তারকা লিওনেল মেসি খেললেও ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমার ছিল না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

01নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় পুলিশের সোর্স হিসাবে পরিচিত আশাশুনি উপজেলার বড়দল গ্রামের আফছার আলীর ছেলে আইয়ুব আলীর চাঁদাবাজি, অত্যাচার ও নির্যাতনে এলাকার দীনমজুরসহ সাধারণ নিরীহ মানুষ অতিষ্টি হয়ে পড়েছে। তার অত্যাচারে অনেক পরিবার দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। শুক্রবার সাতক্ষীরায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বড়দল গ্রামের মোনতাজ উদ্দিন গাজির ছেলে বিমান বাহিনীর অবসরপাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল হাকিম গাজি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চাকুরি শেষে বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি সাধারণভাবে জীবন যাপন করছেন। কিন্তু স্থানীয় পুলিশের সোর্স হিসাবে পরিচিত আইয়ুব আলী আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে পুলিশকে দিয়ে হয়রানি ও মিথ্যে নাশকতা মামলার আসামী বানিয়ে জেলে পাঠাবার হুমকি দেয়। চাঁদার টাকা না দেয়ায় গত ৭ এপ্রিল রাতে আইয়ুব আলী আমাকে ডেকে নিয়ে আশাশুনি থানার পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়। এরপর স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে থানার ওসির জন্য ৩০ হাজার ও আইয়ুব আলীর নিজের জন্য ১০ হাজার মোট ৪০ হাজার টাকা নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। তিনি বলেন, গত ৬ জুন আবারও পুলিশ আমাকে ধরতে আসে। এবার দাবি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা। এই চাঁদা দিতে না পারলে আমাকে ও আমার ভাইকে জামায়াত শিবিরের মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার করানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিজিবিতে কর্মরত আমার ছেলে জিএম মোস্তাফিজুর রহমান ও ভাতিজা জিএম জাহিদুল ইসলামকে চাকুরিচ্যুত করারও হুমকি দেয় সে। আমি ও আমার ভাই এখন পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আইয়ুব সরদার একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের লিডার। সৌদি প্রবাসী এক ব্যক্তিকে ধর্মের ভাই বানিয়ে তার কাছ থেকে আইয়ুব হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এই টাকা আইয়ুব ব্যবহার করছে রাষ্ট্রবিরোধী কাজে। তিনি বলেন আইয়ুব স্থানীয় ইদ্রিস গাজি, মান্নান গাজি, সুমন সানাসহ অনেককে সহযোগী হিসাবে ব্যবহার করে তাদেরকে চাঁদাবাজির কাজে নামিয়েছে। পুলিশের কাছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিতে গেলে তা নেওয়া হয়না। উল্টো যারা এ অভিযোগ করেন তাদেরকে জামায়াত শিবিরের সদস্য বানানো হয়। পুলিশকে সামনে রেখে আইয়ুবের চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন এ এলাকার বহু মানুষ। তার অত্যাচারে বড়দল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সুরঞ্জন ঢালি দেশ ত্যাগ করেছেন। তিনি জানান সম্প্রতি আইয়ুব সরদারের বিরুদ্ধে তদন্ত করেছেন কালিগঞ্জ সার্কেল সহকারি পুলিশ সুপার মির্জা সালাহউদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুলিশের দালাল আইয়ুবের বিরুদ্ধে তদন্ত করার আহবান জানিয়ে বলেন, তার সাথে জঙ্গিবাদের গোপন সম্পর্ক রয়েছে। সে সৌদি থেকে পাওয়া টাকা জঙ্গিবাদ লালনে ব্যবহার করছে। তাকে আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি নিজে ও পরিবারের সদস্যদেরকে আইয়ুবের হাত থেকে রক্ষা করতে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1496995454চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ‘এ’ গ্রুপের খেলার অনেকটাই কেড়ে নিয়েছে বৃষ্টি। প্রকৃতি বাধায় টানা দুটি ম্যাচে ফল দেখেনি অস্ট্রেলিয়া। বৃষ্টির কারণে নিশ্চিত জয় বঞ্চিত হয়েছে নিউজিল্যান্ড। আজ গ্রুপের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। আবহাওয়া রিপোর্ট বলছে, এ ম্যাচেও বৃষ্টি হানা দিতে পারে।

কার্ডিফের আবহাওয়া প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, আজ সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ১২ ডিগ্রিতে সেটা নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সকালে শহরটিতে তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ছিল ১৯ কিলোমিটার। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৮ শতাংশ। দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি না হলেও এরপরই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রাতে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। মেঘে ঢেকে আছে কার্ডিফের আকাশ।

যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, এই ম্যাচেও বৃষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশের জন্য ‘অঘোষিত ফাইনাল’ এই ম্যাচে জয় পাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই ম্যাচে হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেবে মাশরাফির দল। আর জয় পেলে টিকে থাকবে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা।

বৃষ্টির কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকেই ভেন্যুতে অনুশীলন করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। অবশ্য এই বৃষ্টির কারণে অবশ্য একটি মূল্যবান পয়েন্ট পেয়েছিল মাশরাফিরা। যে কারণে এখনো সেমিফাইনালে খেলার আশা জিইয়ে রেখেছে তারা। তবে এই ম্যাচে বৃষ্টি হলে বাংলাদেশের স্বপ্নটা ভেঙে যাবে। বিষয়টা মানছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফিও। বৃষ্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা কথা মানতেই হবে, বৃষ্টি হলে কারোই কিছু করণীয় থাকবে না। তাই এই বৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করে কোনো লাভও নেই। কারণ বিকল্প কোনো রাস্তা নেই আমাদের হাতে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1496895279সম্প্রতি খবরের কাগজ কি আকাশ খবরের পর্দা খুলিলেই দেখা যায়, দেশে বড় বড় অপরাধ যেমন ঘটিতেছে তেমনই মুড়ি-মুড়কির মতন মৃত্যুদণ্ডও আকছার বাঁটিয়া দেওয়া হইতেছে। আমাদের দেশে এখনও যে বিলিতি আইনের চল আছে তাহার অন্তর্গত নীতি এই যে বরং দুইজন অপরাধী ছাড়া পাক, কোন নিরপরাধ যেন অকারণ দণ্ড না লাভ করে। আইনের ফোকর দিয়া বহু দাগী অপরাধী ছাড়া পাইয়া যাইতেছে—একথা অসত্য নয়। বড় বড় অপরাধীপ্রবর মধ্যে মধ্যে দেশাহিতৈষীর বেশে দাঁড়াইয়া ওয়াজ-নসিহতও করিতেছেন। আমরা তো একপ্রকার মানিয়াই লইয়াছি—অপরাধ দুই চারিটা হইলে হউক, উন্নতির অগ্রযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়।

দেশে বিচার আচার যে কম হইতেছে—তাহাও নয়। প্রতিদিন কাগজের পর্দা সরাইলেই খবর পাওয়া যায় দুই কি চারিটা মৃত্যুদণ্ড বিতরণ করা হইয়াছে। আমাদের দেশে গণতন্ত্র নাই—এমন গুজব যাঁহারা ছড়াইতেছেন তাঁহাদের ভাবিয়া দেখিতে বলি দেখুন, আমাদের বিচার-ব্যবস্থায় অন্তত গণতন্ত্র বিরাজমান। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলেই মৃত্যুদণ্ডের স্বাদ ভোগ করিতেছেন। মাঝে মধ্যে দেওয়ালে সাঁটা পোস্টারও দেখি দুইদশটা। এই বা সেই অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড দাবি করা এইসব পোস্টারে কথিত অপরাধীর ফাঁস-আটা মুখচ্ছবিও দেওয়া থাকে। একদণ্ড ভাবিলেই বোঝা যায়, মৃত্যুদণ্ড জিনিশটা আমাদের সাধ্যের মধ্যে আসিয়া গিয়াছে। আমি এই নিবন্ধে সাহস করিয়া বলিতে চাই—এখন মৃত্যুদণ্ড একটা সাধের বস্তুও হইয়া উঠিয়াছে। সত্য বলিতেছি, দেওয়ালেরও চোখ আছে।

১৯৭১ সালের পরের কোন একসময় আমাদের প্রবীণ বন্ধু আবু সালেহ একটি ছড়ায় বলিয়াছিলেন, ‘ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না, বলা যাবে না কথা। রক্ত দিয়ে পেলাম শালার মরার স্বাধীনতা।’ কথাটা এতদিনে বুঝি আক্ষরিক সত্য হইয়া উঠিতেছে। কাহারও কাহারও জন্য স্বাধীনতা পাইবার একমাত্র পথ মৃত্যুদণ্ড লাভ করা। আর কাহারও জন্য বা মৃত্যুদণ্ড পাইবার একমাত্র পথ স্বাধীনতা লাভ করা।

এক্ষণে একটা প্রশ্ন আমাদের জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন দেখা দিয়াছে—এই যে আমরা এত ঘন ঘন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করিতেছি, তাহাতে কি অপরাধের মাত্রা বা অপরাধ-প্রবণতা আদৌ কমিতেছে? এ বিষয়ের সঠিক উত্তর পাওয়া অসম্ভব। কেননা এহেন সস্তায় মৃত্যুদণ্ড বিতরণ না করিলে—যে কেহ যুক্তি দেখাইতে পারেন—দেশে খুন, অপহরণ, রাহাজানি বা ধর্ষণক্রমে শত অপরাধ আরো হাজারগুণে বাড়িয়া যাইত। আমরা শুদ্ধ ভয়ে ভয়ে বলিতেছি, এত যে মৃত্যুদণ্ড ‘বিক্রয়’ করিতেছেন তাহাতেও কি অপরাধ কিছু পরিমাণে কমিয়াছে? তাহা হইলে উপায়?

আমরা স্বীকার করিয়া বলিব, এই প্রশ্নের সত্য উত্তর বলিয়া কিছু নাই। একটা উত্তর অবশ্য গ্রহণ করা যায়। মৃত্যুদণ্ডসহ এই দুনিয়ার সকল শাস্তির লক্ষ্য কিন্তু অপরাধ দূর করা নয়, অপরাধকে খানিক তফাতে রাখা। কে না জানে, এইভাবে অপরাধ রোধ করা যায় না। তাহাকে তাঁবে রাখা যায় বড়জোর। কথাটা খুলিয়া বলিতে হয়, মুষ্টিভিক্ষায় যেমন দারিদ্র দূর হয় না, তেমনি মৃত্যুদণ্ডেও অপরাধ পায়ে হাঁটিয়া চলিয়া যায় না। তো আমরা প্রতিদিন এহেন শাস্তির বিধান রাখিতেছি কেন? এক কদম আগাইয়া বলি, দিন দিন মনে হয় দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান জনপ্রিয় হইতেছে।

সৃষ্টির আদি হইতেই শাস্তির একটা লক্ষ্য বলা হইয়া থাকে অপরাধ দমন। কিন্তু আরেকটা লক্ষ্য সমানেই জারি আছে—ইহার নাম প্রতিশোধ গ্রহণ। কেহ কেহ ‘প্রতিশোধ’ শব্দটার সংশোধন করিয়া ‘প্রতিকার’ বলিয়া একটা মতবাদও খাড়া করিয়াছেন। ইঁহাদের মধ্যে এমানুয়েল কান্টের মতন বড় বড় জগদ্বিখ্যাত তত্ত্ববিজ্ঞানীও আছেন—একথা আমরা ভুলি নাই। তাহা হইলে এই দুঃখের শেষ কোথায়? আরও বলি—শেষ বলিয়া আদৌ কিছু আছে কি?

এখন হইতে আনুমানিক পাঁচশত বৎসর আগের কথা। যে দেশ পৃথিবীব্যাপী সাম্রাজ্যবিস্তার করিবার পর এতদিনে বৃদ্ধ হইয়া ঘাগু সিংহের মতো নিজের গুহায় ঝিমাইতেছে সেই প্রবীণ ইংলন্ড দেশের কথা। সেকালে ঐদেশের প্রবীণ তত্ত্বজ্ঞানী স্যার টমাস মোর (১৪৭৮-১৫৩৫) ‘এয়ুটোপিয়া’ বা ‘কল্পলোক’ নামে একটি উপন্যাস (১৫১৬-১৭) লিখিয়াছিলেন। ঐ উপন্যাসের গোড়ায় তিনি ইংলন্ডের তৎকালীন বিচারব্যবস্থার এক অবিস্মরণীয় ছবি আঁকিয়াছিলেন। স্যার টমাস মোর ছিলেন গ্রিক তত্ত্বজ্ঞানী প্লাতোন ওরফে আফলাতুনের পরম অনুরাগী। আফলাতুনের অনুকরণে দুই পণ্ডিতের সংলাপ আকারে টমাস মোরও তাঁহার উপন্যাসটা ফাঁদিয়াছিলেন।

‘কল্পলোক’ উপন্যাসের এক জায়গায় জনৈক আইনজীবী বলিতেছেন, ইংলন্ডের আইনই এই দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ আইন, কেননা ইংলন্ডের আইনে কোন চোর-ছ্যাঁচড়কেও একরত্তি ছাড় দেওয়ার অবকাশ হয় না। প্রমাণস্বরূপ তিনি এক আইনের নজির দেখাইলেন। তখন সে দেশের সব জায়গায় চোর ধরা পড়িবামাত্রই ফাঁসি দেওয়া হইতেছিল। তিনি জানাইলেন, একই ফাঁসির কাঠ হইতে কখনো কখনো একযোগে বিশজন করিয়া চোরও ঝোলানো হইতেছে।

এইটুকু বলিয়াই ভদ্রলোক ক্ষান্ত হন নাই। তিনি আরো একটা কথা বলিলেন, ‘অবাক কাণ্ড কি জানেন, যেখানে হাতে গোনা দুইচারিজন বাদে প্রায় সকল চোরকেই ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হইতেছে সেখানে কোথা হইতে জানি না এত এত চোর গজাইয়া উঠিতেছে।’ এই প্রস্তাবের উত্তরে টমাস মোরের নায়ক—ইঁহার নাম রাফায়েল হিথলোদে আর ইনি ভুবন পর্যটকও বটেন—বলিলেন, ‘এখানে তো অবাক হইবার কিছু নাই : চোর-ছ্যাঁচড়ের শাস্তিস্বরূপ এইভাবে মৃত্যুদণ্ড বাঁটিয়া দেওয়াটার মধ্যে আর যাহাই থাকুক ন্যায়-বিচার আদৌ নাই। আর সবচেয়ে বড় কথা ইহাতে দেশের ও দশের কোন উপকারও হইতেছে না। শাস্তির মধ্যে মৃত্যুদণ্ডই হইল সবচেয়ে বড় শাস্তি, অথচ অপরাধ দমনের ওষুধ বিচারে এই দণ্ড তো মোটেও কাজে আসিতেছে না।’

রাফায়েল হিথলোদে কথাটার আরো একটু ব্যাখ্যা যোগ করিলেন, ‘সাধারণ ছিঁচকা চুরিও অপরাধ বটে—একথা সত্য। কিন্তু এই লঘু অপরাধে মানুষের মাথা কাটিবার মতন গুরুদণ্ড দেওয়া তো সমীচীন নয়। তদুপরি, যাহাদের জীবনধারণের কোন উপায়-উপকরণ নাই তাহারা চুরি বা ডাকাতি তো করিবেনই—শাস্তিটা যত কঠিনই হোক, যত নির্দয়ই হোক, তাহাতে কেহ চুরি কিংবা ডাকাতি রোধ করিতে পারিবেন না।’ উপন্যাসের কাহিনী অনুসারে, রাফায়েল হিথলোদের বাড়ি পর্তুগাল দেশে। তিনি ভুবন ভ্রমিয়া শেষে টমাস মোরের দেশে আসিয়াছেন। তিনি একাধারে তত্ত্বাবিশরাদ এবং অভিজ্ঞ নাবিক।

রাফায়েল বলিলেন, ‘এই অপরাধ ও শাস্তি বিষয়ের এস্তেমাল করিতে বসিয়া আপনারা—এই ইংলন্ডদেশীয় বিজ্ঞলোকেরা—কোন কোন আজেবাজে শিক্ষকের মতো আচরণ করিতেছেন। বাজে শিক্ষকরা কি করেন, তাঁহারা ছাত্র-ছাত্রীদের না পড়াইয়া উল্টা তাহাদের ধরিয়া ধরিয়া ঠ্যাঙানি দেন। আপনারাও চুরির মতন সামান্য অপরাধে কঠিন কঠিন ও ভয়ানক শাস্তির আইন বানাইয়াছেন। অথচ তাহা না করিয়া আপনারা এমন ব্যবস্থা তো করিতে পারিতেন যাহাতে দেশের সকল মানুষ যে যাহার জীবিকা হয় মতো আয়-উপার্জন করিতে পারেন। অথচ এখন কিনা তাহারা বাঁচিয়া থাকিবার ভয়াবহ দায়ে পড়িয়া প্রথমে করিতেছেন চুরি আর পরে পরিণামে—চুরির দায়ে—মারা পড়িতেছেন।’

আলাপের এই পর্যায়ে আইনজীবী মহোদয় বলিলেন, ‘সে ব্যবস্থা তো আছেই। দেশে কাজের অভাব নাই। ইচ্ছা করিলেই তাহারা একটা না হোক আরেকটা কাজে নামিয়া পড়িতে পারেন—দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য আছে না? চাষবাসের কাজ তো পড়িয়াই আছে। ইহারা ইচ্ছা করিয়াই বদমায়েশি করিতেছে।’

রাফায়েল তখন বলিলেন, ‘এইভাবে যুক্তি দেখাইয়া তো আপনি পাড় পাইবেন না। যাহারা বিগত দুই দুইটা যুদ্ধে—একটা দেশের ভিতরের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায়, অন্যটা ফ্রান্সের রাজার সহিত যুদ্ধে—এই ইংলন্ডেই না কত লোক যে আহত ও পঙ্গু হইয়া ফিরিয়াছে। বিদ্যার মধ্যে ইহারা জানিতেন একটাই—সেই যুদ্ধবিদ্যা—এখন যুদ্ধে তাহাদের কাজ কি! এদিকে এই বয়সে নতুন কোন বিদ্যাশিক্ষার মুরোদও তাহাদের নাই।’ রাফায়েলের মতে, এই ছাঁটাই হওয়া সৈনিকেরাই দেশের একটা বিরাট বোঝা হইয়া দাঁড়াইয়াছেন। চুরি-ডাকাতি ছাড়া তাহাদের আর উত্তম কোন পেশা নাই।

তাহা ছাড়া দেশের বড়লোকেরা তো রহিয়াছেনই। তাহাদের মধ্যে যাঁহারা জমিদার তাহার দিনকে দিন জমির খাজনা বাড়াইতেছেন আর গরিব চাষীদের সুযোগ পাইলেই কৃষিজমি হইতে উচ্ছেদ করিতেছেন। বড়লোকদের থাকে পাইক পেয়াদা বরকন্দাজ লাঠিয়াল। কখনো যদি এক জমিদারের মৃত্যু হয়, তখন অনেক পাইক পেয়াদা চাকরি হারায়। তখন ইহাদের চোর-ডাকাতের দলে যোগ দেওয়া ছাড়া অন্য পথ থাকে না। কারণ দেশে ততদিনে পরিবর্তন ঘটিতেছে। পুঁজির প্রাথমিক সঞ্চয়ন শুরু হইয়াছে।

স্যার টমাস মোর—রাফায়েলের মুখ দিয়া—পরিশেষে বলিলেন, ষোড়শ শতকের গোড়ার দিকে ইংলন্ডে ভেড়ায় মানুষ খাওয়া শুরু করিয়াছিল। কারণ জমির মালিকেরা পশমের চাষ করিবার মতলবে হাজার হাজার কৃষকের জমি কাড়িয়া লইতেছিলেন। আর সেই জমিতে ফসলের চাষ না করিয়া পশম ছাঁটিবার উপযোগী ভেড়া চরাইতে শুরু করিয়াছিলেন তাঁহারা। এইভাবে ভূমি হইতে উচ্ছেদ হইয়া চাষীসমাজের একাংশ চুরি-ডাকাতির পথ বাছিয়া লইতে বাধ্য হইয়াছিলেন। উনিশ শতকের একজন বিখ্যাত গবেষক—রাফায়েল হলিনশেড—দেখাইয়াছেন একা অষ্টম হেনরি নামক এক রাজার রাজত্বকালেই (১৫০৯-১৫৪৭) ইংলন্ড দেশে ৭২,০০০ চোরকে ফাঁসিতে ঝোলানো হইয়াছিল। তাহাতে চুরির প্রকোপ দুই আনাও কমে নাই।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest