সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলা প্রেস ব্রিফিংচ্যানেল ওয়ান এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক জাকিরপ্রশাসনকে ব্যবহার করে নিজের জমির শ্রীবৃদ্ধির জন্য দুই ভূমিহীন পরিবারকে উচ্ছেদ!সুনামগঞ্জ ৪ উপজেলায় বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু, আহত ৭সাতক্ষীরা জেলা ধারাভাষ্যকার অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনসাতক্ষীরার প্রাক্তন রোভার স্কাউটদের সংগঠন স্বপ্নসিঁড়ির সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতাদেবহাটা থানার নতুন ওসি আব্দুল আলিমের দায়িত্ব গ্রহণবস্তুনিষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের কারনেই দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম সময় টিভিশ্যামনগরে কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালাসাংবাদিক জিন্নাহর উপর হামলাকারী মামুনকে কারাগারে পাঠালো আদালত

6bf495c34da055fe3f8999b07177e846-59436ea176d2cস্পোর্টস ডেস্ক : আসছে আগস্টে বাংলাদেশ সফর করবে অস্ট্রেলিয়া। আর দুই টেস্টের এ সিরিজের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে তারা। যদিও ১৩ জনের এ দল থেকে বাদ পড়েছেন মিচেল স্টার্ক ও স্টিভ ও’কিফ।
পায়ে চিঁড় ধরায় গত ভারত সফরের মাঝপথে ছিটকে যান স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মিশনে খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু বাঁহাতি পেসারের চোট পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। অ্যাশেজ সিরিজের কথায় মাথায় রেখে তাকে দেওয়া হয়েছে বিশ্রাম।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবার টেস্ট দলে ফিরেছেন ভিক্টরিয়ার তারকা পেসার জেমস প্যাটিনসন। ইনজুরি কাটিয়ে তিনি যোগ দিচ্ছেন দল। তিন অলরাউন্ডার হিলটন কার্টরাইট, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও বাঁহাতি স্পিনার অ্যাস্টন অ্যাগার আছেন দলে।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজে ১৯ উইকেট নেওয়া ও’কিফের জায়গায় এসেছেন অ্যাগার। ভারত সফরে একটিও টেস্ট না খেলা উসমান খাজা দলে জায়গা ধরে রেখেছেন। বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে ব্যাটিং দুর্দশায় থাকা শন মার্শকে বাদ পড়তে হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া দল: স্টিভ স্মিথ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার (সহঅধিনায়ক), অ্যাস্টন অ্যাগার, হিলটন কার্টরাইট, প্যাট কামিন্স, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, জশ হ্যাজেলউড, উসমান খাজা, নাথান লিয়ন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, জেমস প্যাটিনসন, ম্যাথু রেনশো ও ম্যাথু ওয়েড। সূত্র- ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

60c169703278bf917d80bf71133810fe-59433b9ec27b8ভারতীয় পোশাকে বাংলাদেশের ঈদের বাজার ছয়লাব। এমনকি হরেক নামের ও দামের ভারতীয় পোশাক এ দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। তবুও ভারতে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ঈদের কেনাকাটা করছেন অনেকেই। ভারতে গিয়ে শপিংয়ের এ মনোভাব কেবল উচ্চবিত্তে নয়, মধ্যবিত্তকেও গ্রাস করেছে। প্রতিদিনই দেশের হাজার হাজার মানুষ ঈদ উপলক্ষে শপিং করতে ছুটছেন কলকাতার বিখ্যাত বিগ বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেটের উদ্দেশ্যে। এবার ঈদের কেনাকাটায় দেড় লাখেরও বেশি বাংলাদেশির ভারতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

গত শুক্রবার বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ঈদের শপিং করতে গিয়েছিলেন মুন্সিগঞ্জের আরাফাত আবেদীন। তিনি প্রায় লক্ষাধিক টাকার শপিং করে দেশে ফিরেছেন মঙ্গলবার। দেশে ফিরে তিনি জানান, তিনি তার পরিবারকে খুশি করতে ভারতে গিয়েছিলেন ঈদের কেনাকাটা করতে। ‘ইন্ডিয়ার ট্যাগ লাগানো গিফট দেখলে পরিবারের সবাই খুশি হবে’ – এমন ধারণা থেকেই তিনি ঈদের শপিংয়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন। তিনি সেখান থেকে নিজের বোন, বোনের স্বামী, বাবা-মা, বন্ধুদের জন্য ঈদের কেনাকাটা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও এফবিসিসিআই-এর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ঈদের বাজার অনেক বড়। এদেশেই নামি-দামি সব ধরণের পোশাক পাওয়া যায়। তবুও ঈদ আসলে মানুষ ছুটে যায় ভারতে বা সিঙ্গাপুরে।’
হেলাল উদ্দিন আরও জানান, গত রজমানের ঈদের শপিং করতে দেড় লাখেরও বেশি বাংলাদেশি ভারতে গিয়েছিলেন। ঈদকে সামনে রেখে ভারতীয় হাই-কমিশন গত বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ভিসা দিয়েছিল। গত বছরের চেয়ে এবার আরও বেশি মানুষ সেখানে কেনাকাটা করতে যাবে উল্লেখ করে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রত্যেকে যদি সর্বনিম্ন এক হাজার ডলারের (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৭৮ হাজার টাকা) পণ্য কেনাকাটা করে তাহলে দেশ থেকে এবারের ঈদে এক হাজার ১৭০ কোটি টাকা চলে যাবে। তবে অনেকে ভারতে গিয়ে দুই হাজার ডলার থেকে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত কেনা-কাটা করছে। এই হিসাবে দেশ থেকে অর্থ চলে যাওয়া পরিমাণটা আরও বাড়বে।’
বাংলাদেশি সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেল ভারত থেকে ঈদের কেনাকাটা করে ফিরেছেন সোমবার। তিনি জানান, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকাসহ এর আশপাশের মার্কেটগুলোতে বাংলাদেশি ক্রেতাদের প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, ‘ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন মাকের্টে বাংলাদেশি ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। কলকাতার ব্যবসয়ীদের ধারণা, এখন প্রতিদিন গড়ে প্রায় পঁচিশ হাজার বাংলাদেশি ক্রেতা আসছেন শুধু নিউ মার্কেট চত্বরে। ঈদের আগ মুহূর্তে এ সংখ্যা দেড় লাখ থেকে দু’লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। নিউমার্কেট এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে শুধুমাত্র ছেলে-মেয়েদের পোশাকের দোকানের সংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক। প্রত্যেক দোকানে ইতোমধ্যেই ঈদের কেনাকাটা জমে উঠছে।’

জানা গেছে, বাংলাদেশি ক্রেতা ধরতে ভারতে গড়ে উঠছে নতুন নতুন বাজার। কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা মীর্জা গালিব স্ট্রিট, মল্লিকবাজার, বেলগাছিয়া, নিউমার্কেট, চিৎপুর, টালিগঞ্জ, এন্টালি, আনোয়ার শাহ রোড, রাজাবাজার, পার্ক সার্কাস, মেটিয়াবুরুজ, খিদিরপুর, পার্ক স্ট্রিট, চিৎপুরের জাকারিয়া স্ট্রিট, ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ চত্বর এলাকায় ইতোমধ্যে ঈদের জমজমাট বিক্রি শুরু হয়েছে। এসব এলাকায় অস্থায়ী ভিত্তিতে দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এর বাইরে ধর্মতলা থেকে গড়িয়াহাট, শিয়ালদহ থেকে রাজাবাজার বা বেলগাছিয়া-পার্ক সার্কাস থেকে এন্টালি-খিদিরপুর এলাকাতেও ঈদের কেনাকাটার ধুম লেগেছে। কলকাতার বিখ্যাত বিগ বাজার, শ্রী লেদারস, খাদিম, সাউথ সিটি মল ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ঈদ উপলক্ষ্যে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর বিশেষ ছাড়ও দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যান্ডের শপগুলো ছাড়াও বড় বাজার বা চায়না মার্কেট এলাকায় পাইকারি মূল্যে শাড়ি, থ্রিপিস, প্রসাধনী কিনছেন অনেকেই।

এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন মনে করেন, কেনাকাটা করতে অন্যদেশে যাওয়া তখনই বন্ধ হবে, যখন দেশেই মানসম্মত পণ্য পাওয়া যাবে প্রতিযোগিতামূলক দামে। তিনি বলেন, ‘এখন বাংলাদেশে বিশ্বমানের অনেক কিছুই পাওয়া যায়। তবে এমন অনেক পণ্য হয়ত আছে যেগুলো দেশে পাওয়া যায় না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যারা যাচ্ছেন, তারা নিয়ম মেনেই যাচ্ছেন। ঈদ শপিংকে কেন্দ্র করে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে গেলেও কিছুই করার নেই। কারণ, কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে যে নীতিমালা আছে তারা তা মেনেই করছেন। এছাড়া দু’দেশের সীমান্ত হাট রয়েছে। সেখান থেকেও দু’দেশের মানুষ ইচ্ছেমতো বাজার করতে পারেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

031159Pic-06অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে চালের দাম। এর ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। সহসাই কমছে না বেড়ে যাওয়া চালের দাম। আর এই দাম কমানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কোনও উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না।
সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ২০০৭ ও ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মোটা চালের কেজি ৪০ টাকা এবং সরু চালের কেজি ৫৬ টাকায় উঠেছিল। নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে হাওরের ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ইস্যুকে পুঁজি করে বাড়তে থাকে চালের দাম। এরপর থেকে আর স্থিতিশীল হয়নি চালের বাজার। এখন বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনও মোটা চাল নেই। ৬৫ টাকার নিচে পাওয়া যায় না ভালো মানের চিকন চাল।
হাওরে বন্যায় ডুবে যাওয়া ১০ লাখ মেট্রিক টন চালের ঘাটতি মেটাতে ওই সময় বিভিন্ন মহল থেকে বারবার চাল আমদানির দাবি উঠেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে ৬ লাখ টন চাল সরকারিভাবে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। পরে আরও ৪ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই চাল এলেই বাজার স্বাভাবিক হবে। তবে এখনও সরকারিভাবে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া চালের এক কেজিও দেশে এসে পৌঁছেনি। কবে নাগাদ ওই চাল দেশে আসতে পারে, সেই প্রশ্নেরও কোনও জবাব দিতে পারছেন না সরকারের দায়িত্বশীল কেউ।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার টু সরকার পদ্ধতিতে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াগত জটিলতায় আটকে আছে। এরই মধ্যে বুধবার (১৪ জুন) আবার আড়াই লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা হবে এ চাল। এর মধ্যে ৫০ হাজার টন সিদ্ধ ও দুই লাখ টন আতপ চাল। টনপ্রতি চলের দাম পড়বে ৪৭০ মার্কিন ডলার। ৮০ টাকায় ডলার হিসাবে এই চালের দাম পড়বে প্রতিকেজি ৩৭ টকা ৬০ পয়সা। তবে এই আড়াই লাখ টন চালও কবে নাগাদ দেশে আসতে পারে, সে সম্পর্কে কোনও তথ্য জানাতে পারেননি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অনেকেই বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে যোগাযোগ করেও নাকি চাল পাওয়া যায়নি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের দাম বেশি বেড়েছে গত পাঁচ মাসে। প্রতিমাসেই সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা করে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও বাড়ছে মোটাসহ সব ধরনের চালের দাম। এই সময়ে চিকন চালের দামও বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এখন বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনও মোটা চাল নেই, ভালো চিকন চালও নেই ৬৫ টাকার নিচে। তবে চালের দাম বাড়ার কারণ জানেন না কেউ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিলারদের কারসাজিতে বেড়েছে মোটা চালের দাম। সেই দাম এরই মধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৫ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে চাল বিক্রি করলেও তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারছে না। রাজধানীর কোথায় এই চাল বিক্রি করা হয়, তা খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর।
এদিকে, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এখনও বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দিচ্ছে না সরকার। তবে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গেলে যেকোনও সময় বেসরকারিভাবেও চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
সরকারের একটি সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে কৃষক উৎপাদিত ধানের দাম নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না। এ বছর চালের দাম বাড়তে থাকলে কৃষকের কথা চিন্তা করেই বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির বিষয়টি নিয়ে ভাবেনি সরকার। কারণ, ২০১৪ সালে বেসরকারিভাবে বিপুল পরিমাণে চাল আমদানি হওয়ায় দেশের বাজারে চালের দাম একেবারেই কমে যায়। ফলে ওই বছর ধানের ন্যায্যমূল্য পাননি কৃষকরা। তাদের অনেকে ধান উৎপাদনে আগ্রহও হারান।
চালের বাজারের অস্থিরতা প্রসঙ্গে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে চালের দাম। সরকার স্বীকারই করতে চায় না যে চালের দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে। হাওরাঞ্চলের সাত জেলায় এ বছর আগাম বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। আরও ১৯টি জেলায় ধানক্ষেতে ছত্রাকের আক্রমণে (ব্লাস্ট রোগ) উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুই কারণে এ বছর ১০ লাখ টনের বেশি বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।’
ট্রেডিং করপোরেশন অব বংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময় উন্নতমানের মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের কেজি ছিল গড়ে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা। আর এখন বাজারে সাধারণ মানের মিনিকেট চালের কেজিই ৫৬-৬০ টাকা। যদিও সাধারণ মানের মিনিকেট চালের দাম গত বছরের এই সময়ে ছিল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ বেশি খায় বিআর-২৮ ও পাইজাম চাল। এই দুই প্রকারের চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। বাজারে এখন বিআর-২৮ চালের কেজি ৫২ থেকে ৫৬ টাকা, পাইজাম চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৪ টাকা। অথচ জানুয়ারিতেও এসব চালের দাম ছিল প্রতিকেজি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। আর গত বছরের এই সময়ে দাম ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এসব চালের দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চালের দামকে কেন্দ্র করে অন্য সব নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে। তারা হিমশিম খাচ্ছেন সংসার চালাতে। বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণিও, তবে লোকলজ্জার ভয়ে তারা এ বিষয়ে উচ্চকিত হতে পারছেন না।
ঢাকায় দিনাজপুর থেকে আসা দিনমজুর মজনু মিয়া কাজ করেন কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেটে। বিভিন্ন পাইকারি দোকানের পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ করেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে দিন শেষে চারশ টাকা পেলেই বাজার খরচ কিনে বাসায় যেতাম। এখন পারি না। চাল কিনতেই বাড়তি খরচ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে মাছ, মাংস ও সবজি, হলুদ, মরিচ, পেঁয়াজ—সবকিছুর দামই বেড়েছে। তাই চারশ টাকার বাজার করতে এখন লাগে পাঁচশ থেকে সাড়ে পাঁচশ টাকা। কিন্তু বাড়তি সেই টাকা কোথায় পাবো?’ আক্ষেপের সুরে মজনু মিয়া বলেন, ‘আমার আয় তো বাড়েনি!’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1497546227আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে উঠে একরকম ইতিহাসই গড়েছে বাংলাদেশ। যাকে স্বপ্নের চেয়ে বড় কিছু বললে ভুল বলা হবে না। বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় উত্থানের গল্প দেখছে ক্রিকেটবিশ্ব। তারই ধারাবাহিকতার ফল এই এই আসরের শেষ চারে ওঠা। সেমিতে ভারতের সঙ্গে পেরে ওঠেনি ঠিক, কিন্তু এই আসরে লাল-সবুজের দল যে অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই বলাই যায়, আসরে নিজেদের শেষ ম্যাচটি জিততে পারেনি তো কী হয়েছে, ক্রিকেটপ্রেমীদের মন তো জয় করে নিতে পেরেছে তারা।

অবশ্য বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর রূপকথার গল্প শুরু হয় ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকে। সে আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পরই ক্রিকেটবোদ্ধাদের নজরে আসতে শুরু করে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে শুরু হয়েছিল মাশরাফিদের স্বপ্নযাত্রা।

বিশ্বকাপের পর জয়যাত্রা অব্যাহত রাখে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবিয়ে। এরপর পূর্ণশক্তির ‘টিম ইন্ডিয়া’ও নতজানু হয় বাংলাদেশের পরাক্রমের কাছে। পাকিস্তানের পর ভারতের বিপক্ষেও বাংলাদেশ পায় প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের দারুণ অভিজ্ঞতা। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জিতে আরেকটি ক্রিকেট-রূপকথার গল্প লিখেছিল তারা।

সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে আরেকটি ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের পর দ্বিতীয় মর্যাদাপূর্ণ আসর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনালে উঠে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে টপকে ‘বি’ গ্রুপ রানার্স আপ হয়েই শেষ চারে ওঠে বাংলাদেশ। অবশ্য এর আগে এশিয়া কাপ ও এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালেও খেলেছিল বাংলাদেশ। তবে সেসব সাফল্য যেন ম্লান হয়ে গেছে বাংলাদেশের নতুন অর্জনে।

অবশ্য আইসিসির ইভেন্টগুলোতে বরাবরই দুর্দান্ত খেলে বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে চমকে দেয় তারা। ২০০৭ সালে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে আসরের দ্বীয় পর্বে উঠেছিল। আর ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে তো কোয়ার্টার ফাইনালেই ওঠেন মাশরাফিরা।

তবে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার পাশাপাশি ব্যক্তিগত কিছু পারফরম্যান্স সবার মন জিতে নিয়েছে। বিশেষ করে তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসানের ব্যাট হাতের নৈপুণ্য বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।

তামিম চার ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফসেঞ্চুরিতে ২৯৩ রান করে আসরে সেরাদের কাতারে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। আর সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অসাধারণ দুটি সেঞ্চুরি করে শুধু দলকেই জেতাননি, মানুষের মনও জিতে নিয়েছিলেন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠতে না পারলেও শেষ চারে ওঠাও কম অর্জন নয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1497551677একটা দেশ কেমন চলছে সেটা বোঝার উপায় কী? জ্ঞানীগুণী মানুষদের নিশ্চয়ই এটা বের করার নানা উপায় আছে। তারা অর্থনীতির দিকে তাকাবেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা বিবেচনা করবেন, দুর্নীতির পরিমাপ করবেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যাচাই-বাছাই করবেন এবং আরও অনেক কিছু বিশ্লেষণ করে একটা রায় দেবেন।

আসলে দেশ কেমন চলছে সেটা বের করা খুবই সহজ। দেশের একজন সংখ্যালঘু মানুষকে নিরিবিলি জিজ্ঞেস করবেন, ‘দেশটি কেমন চলছে?’ সেই সংখ্যালঘু মানুষটি যদি বলে, ‘দেশ ভালো চলছে’, তাহলে বুঝতে হবে দেশটি ভালো চলছে। আর সেই মানুষটি যদি ম্লান মুখে মাথা নেড়ে বলে, ‘দেশটি ভালো চলছে না’, তাহলে বুঝতে হবে দেশটি আসলেই ভালো চলছে না। দেশে ১০টা পদ্মা সেতু, এক ডজন স্যাটেলাইট আর ১০ হাজার ডলার পার ক্যাপিটা আয় হলেও যদি সংখ্যালঘু মানুষটি বলে ‘দেশ ভালো নেই’, তাহলে বুঝতে হবে আসলেই দেশ ভালো নেই। (সংখ্যালঘু শব্দটি লিখতে আমার খুব সঙ্কোচ হয়। সবাই একই দেশের মানুষ। এর মধ্যে কেউ কেউ সংখ্যাগুরু, কেউ কেউ সংখ্যালঘু— সেটি আবার কেমন কথা? কিন্তু আমি যে কথাটি বলতে চাইছি, সেটি বোঝানোর জন্য এই শব্দটি ব্যবহার করা ছাড়া উপায় ছিল না।)

এখন যদি আমরা এই দেশের একজন হিন্দু, সাঁওতাল বা পাহাড়ি মানুষকে জিজ্ঞেস করি দেশ কেমন চলছে, তারা কী বলবে? নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে সবাইকে ঘরছাড়া করা হয়েছিল। গাইবান্ধায় পুলিশে সাঁওতালদের ঘরে আগুন দিচ্ছে— পত্রপত্রিকায় সেই ছবি ছাপা হয়েছে। সর্বশেষ রাঙামাটির লংগদুর ঘটনায় পাহাড়ি মানুষদের বাড়ি জ্বালিয়ে তাদের সর্বস্ব লুট করে নেওয়া হয়েছে। প্রাণ বাঁচানোর জন্য মা তার সন্তানদের বুকে চেপে ধরে মাইলের পর মাইল পাহাড় অতিক্রম করে জঙ্গলে লুকিয়ে আছে, বৃষ্টিতে ভিজেছে, রৌদ্রে পুড়েছে, অভুক্ত থেকে মশার কামড় খেয়ে প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে চমকে চমকে উঠেছে। আমি যদি তাকে বলি— বাংলাদেশ অনেক বড় সম্ভাবনার দেশ, এবারে উন্নয়নের বাজেটেই হয়েছে চার লাখ কোটি টাকার, পদ্মা সেতুর ৪০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে, আগামী মাসে আমাদের নিজস্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হবে— সেই অসহায় মা কি আমার কথা শুনে শূন্য দৃষ্টিতে আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকবেন না? তাকে কি আমি কোনোভাবেই বোঝাতে পারব যে আমাদের অনেক কষ্ট করে, যুদ্ধ করে, রক্ত দিয়ে পাওয়া দেশটি স্বপ্নের একটি দেশ?

আমি তাকে কিংবা তার মতো অসংখ্য পাহাড়ি মানুষকে সেটি বোঝাতে পারব না। তাদের কাছে এই দেশটি হচ্ছে একটি বিভীষিকা, যেখানে প্রকাশ্যে হাজার হাজার মানুষ এসে পুরোপুরি নিরপরাধ মানুষের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। তাদের রক্ষা করার কেউ নেই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে থেকে এই ঘটনাগুলো ঘটতে দেয়। এই ঘটনাটি ঘটবে সেটি সবাই আঁচ করতে পারে, তারপরও কেউ সেটা থামানোর চেষ্টা করে না। আমি নিজেকে এই পাহাড়ি মানুষদের জায়গায় বসিয়ে পুরো বিষয়টা কল্পনা করে আতঙ্কে শিউরে উঠেছি।

পৃথিবীতে অন্যায় কিংবা অপরাধ হয় না, তা নয়। আমরা প্রতি মুহূর্তেই আমাদের চারপাশে এগুলো দেখছি। কিন্তু লংগদুর ঘটনাটা ভিন্ন। যুবলীগের একজন কর্মীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কে মেরেছে ঠিকভাবে জানা নেই, প্রচার করা হলো— দু’জন চাকমা তরুণ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের শাস্তি দেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হলো পুরোপুরি নির্দোষ কিছু পাহাড়ি গ্রামবাসীকে। একজন-দু’জন ক্রুদ্ধ মানুষ নয় হাজার হাজার সংগঠিত মানুষ পেট্রোলের টিন আর ট্রাক্টর নিয়ে হাজির হলো। পেট্রোল দিয়ে বাড়িতে বাড়িতে আগুন দেওয়া হলো, ট্রাক্টর ব্যবহার করা হলো লুট করা মালপত্র বোঝাই করে নেওয়ার জন্য। বিচ্ছিন্ন একজন কিংবা দু’জন মানুষ বাড়াবাড়ি কিছু একটা করে ফেলছে— সেটি বিশ্বাস করা যায়। কিন্তু কয়েক হাজার মানুষ মিলে একটা ভয়ঙ্কর অন্যায় করার জন্য একত্র হয়েছে— সেটা আমরা বিশ্বাস করি কেমন করে?

কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। কারণ আমরা বারবার এই ঘটনা ঘটতে দেখেছি। আমরা কেমন করে এত হৃদয়হীন হয়ে গেলাম?
২.

আমরা জানি, কিছুদিন আগেও আমাদের ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ে আদিবাসী মানুষদের সম্পর্কে অনেক ধরনের অসম্মানজনক কথা লেখা থাকত। সচেতন মানুষেরা একটি একটি করে বিষয় সবার চোখের সামনে এনেছেন। তখন সেগুলো ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু একটা প্রশ্ন তো আমরা করতেই পারি— এই পাঠ্যবইগুলো তো হেজিপেজি-অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, রুচিহীন, বুদ্ধিহীন মানুষেরা লেখেন না। এই বইগুলো লেখেন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাবিদরা। লেখা শেষ হওয়ার পর সম্পাদনা করেন আরও গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা। তাহলে পাঠ্যবইগুলোতে এ রকম অবিশ্বাস্য সাম্প্রদায়িক কথা কেমন করে লেখা হয়? কেমন করে আদিবাসী মানুষদের এত অসম্মান করা হয়?

কারণটা আমরা অনুমান করতে পারি। আমরা যাদের বড় বড় শিক্ষিত মানুষ হিসেবে ধরে নিয়েছি, তাদের মনের গভীরে লুকিয়ে আছে সঙ্কীর্ণতা। যারা আমার মতো নয়, তারা অন্য রকম। আর অন্য রকম মানেই অগ্রহণযোগ্য। অন্য রকম মানেই খারাপ, অন্য রকম মানেই নাক সিঁটকে তাকানো।

অথচ পুরো ব্যাপারটাই আসলে ঠিক তার বিপরীত। সারাজীবনে আমি যদি একটা বিষয়ই শিখে থাকি, সেটা হলো একটা উপলব্ধি— ‘বৈচিত্র্যই হচ্ছে সৌন্দর্য’। কোনও মানুষ কিংবা সম্প্রদায় যদি অন্যরকম হয়ে থাকে, তাহলে সেটা হচ্ছে বৈচিত্র্য এবং সেই বৈচিত্র্যটুকুই সৌন্দর্য।

পৃথিবীতে অনেক সৌভাগ্যবান দেশ রয়েছে যেখানে অনেক দেশের অনেক মানুষ পাশাপাশি থাকেন। তারা দেখতে ভিন্ন, তাদের মুখের ভাষা ভিন্ন, তাদের কালচার ভিন্ন, ধর্ম ভিন্ন, খাবার কিংবা পোশাক ভিন্ন। আমরা সেদিক থেকে অনেক দুর্ভাগা। আমাদের দেশে মানুষের মাঝে সেই বৈচিত্র্য নেই। ঘর থেকে বের হয়ে যেদিকেই তাকাই, সেদিকেই আমরা একইরকম মানুষ দেখতে পাই। তাদের মুখের ভাষা-চেহারা-পোশাক কোনোকিছুতেই পার্থক্য নেই। আমাদের দেশের একটুখানি ভিন্ন ধরনের মানুষ হচ্ছেন সাঁওতাল কিংবা গারোরা, পাহাড়ি মানুষ। এই মানুষগুলোকে আমাদের বুক আগলে রাখার কথা। অথচ আমরা তাদের অবহেলা করি!
আমাদের পরের প্রজন্ম শেখাতে হবে— পৃথিবীর সৌন্দর্য হচ্ছে বৈচিত্র্যে। সারাবিশ্বে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হচ্ছে ‘ডাইভারসিটি’। একটি দেশে যত বেশি ডাইভারসিটি, সেই দেশটি তত সম্ভাবনাময়। নতুন পৃথিবী আধুনিক পৃথিবী। আধুনিক পৃথিবীর মানুষেরা একে অন্যের সঙ্গে বিভেদ করে না। শুধু যে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে না তা নয়; গাছ, ফুল, পশুপাখি সবাই মিলে যে একটা বড় পৃথিবী এবং সবার যে পাশাপাশি বেঁচে থাকার অধিকার আছে, সেটিও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে।

অথচ আমরা সবিস্ময়ে দেখতে পাই একজন-দু’জন নয়, কয়েক হাজার মানুষ মারমুখী হয়ে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। কী তাদের অপরাধ? তাদের অপরাধ সেই মানুষগুলো আমাদের থেকে একটু ভিন্ন।
৩.

আমার শৈশবটি কেটেছে বাংলাদেশের নানা এলাকায়। বাবা পুলিশের অফিসার হিসেবে দুই-তিন বছর পর পর নতুন জায়গায় বদলি হয়ে যেতেন। সেই সুযোগে আমরা রাঙামাটি আর বান্দরবান— এই দুই জায়গাতেও ছিলাম। বান্দরবানে আমি স্কুলে পড়েছি, আমাদের ক্লাসে বাঙালি ছেলেমেয়ের পাশাপাশি পাহাড়ি ছেলেমেয়েরাও ছিল। তাদের অনেকে ভালো বাংলা বলতে পারত না। এখন অনুমান করি সে কারণে লেখাপড়াটা নিশ্চয়ই তাদের জন্য অনেক কঠিন ছিল। ক্লাসের ভেতরে লেখাপড়াটা নিয়ে আমাদের আগ্রহ ছিল না, ক্লাস ছুটির পর বনে জঙ্গলে পাহাড়ে নদীতে ঘুরে বেড়ানোতে আমাদের আগ্রহ ছিল বেশি। তাই ভালো বাংলা না জানলেও সেটা কোনও সমস্যা হতো না। ধর্ম, ভাষা, গায়ের রঙ, শরীরের গঠন কিংবা কালচার ভিন্ন হলেও সব মানুষ যে একেবারে একই রকম সেটি আমি শিখেছি নিজের অভিজ্ঞতায়।

বান্দরবানের সেই স্কুলে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে চমকপ্রদ শিক্ষক পেয়েছিলাম, যার কথা আমি কখনও ভুলিনি। আমি আমার নিজের শিক্ষক জীবনে তার শেখানো বিষয়গুলো এখনও ব্যবহার করে যাচ্ছি এবং এখনও ম্যাজিকের মতো ফল পেয়ে যাচ্ছি।

আমাদের এই শিক্ষক ছিলেন একজন পাহাড়ি (সম্ভবত মারমা) নারী। পাহাড়ি পোশাকে ক্লাসে আসতেন। একজন মানুষকে বিচার করতে হলে কখনও তার চেহারা নিয়ে কথা বলতে হয় না। কিন্তু অসৌজন্যমূলক হলেও আমাকে একটুখানি বলতে হচ্ছে, মধ্যবয়স্ক এই নারীর গলগণ্ড রোগ ছিল বলে তাকে কোনও হিসেবেই সুন্দরী বা আকর্ষণীয় বলার উপায় নেই। ভদ্র মহিলা দুয়েকটির বেশি বাংলা শব্দ জানতেন না। তিনি আমাদের ড্রয়িং টিচার ছিলেন, কিন্তু ছবি আঁকতে পারতেন না। কোনোদিন চক হাতে বোর্ডে কিছু আঁকার চেষ্টাও করেননি। কিন্তু তারপরও আমাদের ড্রয়িং ক্লাস নিতে কখনও তার কোনও অসুবিধা হতো না। ক্লাসে এসে তিনি বলতেন, ‘লাউ আঁকো’ কিংবা ‘বেগুন আঁকো’— এর বেশি কিছু বলেছেন বলে মনে পড়ে না।

আমরা তখন লাউ কিংবা বেগুন আঁকতাম। আমাদের সবারই স্লেট-পেন্সিল ছিল, যাবতীয় শিল্পকর্ম সেখানেই করা হতো। ছেলেমেয়েরা লাউ কিংবা বেগুন এঁকে আমাদের ড্রয়িং টিচারের কাছে নিয়ে যেত। লাউয়ের ও বেগুনের আকার-আকৃতি দেখে তিনি বিভিন্ন মাত্রার উল্লাস প্রকাশ করতেন এবং চক দিয়ে স্লেটের কোনায় মার্ক দিতেন। কেউ চার, কেউ পাঁচ, কেউ ছয়, কিংবা সাত। আমার ছবি আঁকার হাত ভালো ছিল। তাই আমার লাউ কিংবা বেগুন দেখে তিনি উল্লসিত হয়ে দশ দিয়ে দিতেন।

ড্রয়িং ক্লাস হতে লাগল, তিনি আমাদের শিল্পকর্মে নম্বর দিতে লাগলেন। আমরা আবিষ্কার করলাম, তার দেওয়া নম্বরও বাড়তে শুরু করেছে। দশের বাধা অতিক্রম করে কেউ পনেরো, কেউ সতেরো পেতে লাগল। কতর ভেতর পনেরো কিংবা সতেরো— সেটা নিয়ে আমাদের কোনও প্রশ্ন ছিল না। হয়তো প্রজাপতি আঁকতে দিয়েছেন, কেউ প্রজাপতি এঁকে নিয়ে গেছে এবং তাকে বাইশ দিয়েছেন। পরের জনের প্রজাপতি হয়তো আরও সুন্দর হয়েছে, তাকে ত্রিশ দিলেন। এর পরের জন্য হয়ত পুরো চল্লিশ পেয়ে গেলো।

আমরা সব ক্লাসেই লেখাপড়া করে আসছি, কোথাও এমন নম্বর পাইনি। একটা কলা এঁকে যখন নম্বর পেয়ে যাই, তখন মনে হয় রাজ্য জয় করে ফেলেছি!

কাজেই আমাদের এই ড্রয়িং ক্লাসটা ছিল আনন্দময় একটা সময়। লাউ, কলা, প্রজাপতি শেষ করে তখন আমরা পশুপাখি আঁকতে শুরু করলাম। শুধুমাত্র একটা গরু এঁকে একদিন আমি আটশ পঞ্চাশ পেয়ে গেলাম। আনন্দে-উত্তেজনায় আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। আমাদের ড্রয়িং টিচার ততদিনে বুঝে গেছেন, আমি ভালো আঁকতে পারি এবং সেজন্য আমার প্রতি তার এক ধরনের স্নেহ ছিল। প্রায় নিয়মিতভাবে আমি ক্লাসে সবসময় সবার চেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে আসছি।

একদিন ক্লাসে এসে বললেন, ‘বুডডিশ আঁকো’। শব্দটি আমি বুঝতে পারিনি। তখন অন্যরা বুঝিয়ে দিল, ড্রয়িং টিচার বৌদ্ধমূর্তি আঁকতে বলেছেন। আমি তখন বিপদে পড়ে গেলাম। বান্দরবানের ক্যাং ঘরে নানা রকম বৌদ্ধমূর্তি দেখে এসেছি। কিন্তু তার ছবি আঁকার মতো খুঁটিনাটি লক্ষ করিনি। আমাদের ক্লাসে আরও একজন মারমা ছেলে ভালো ছবি আঁকত। সে অসাধারণ একটা বৌদ্ধমূর্তি এঁকে নিয়ে গেলো এবং ড্রয়িং টিচার তাকে চৌদ্দশ নম্বর দিয়ে দিলেন। আমি বসে বসে মাথা চুলকে যাচ্ছি। আমার ড্রয়িং টিচারের তখন আমার জন্য মায়া হলো। মারমা ছেলেটির স্লেটটি আমার সামনে রেখে সেটা দেখে দেখে আঁকতে বললেন। আমি সেটা দেখে দেখে একটা বৌদ্ধমূর্তি আঁকলাম এবং আমিও চৌদ্দশ নম্বর পেয়ে গেলাম!

এরপর এত বছর পার হয়ে গেছে, আমি আমার এই ড্রয়িং টিচারের কথা ভুলিনি। তিনি আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিল্পটি দিয়ে গেছেন। সেটি হচ্ছে ছেলেমেয়েদের উৎসাহ দিতে হয়! আমিও আমার সারাটি জীবন ছেলেমেয়েদের উৎসাহ দিয়ে আসার চেষ্টা করে আসছি এবং দেখে আসছি এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

এই মারমা ড্রয়িং টিচারের মতো নিশ্চয়ই একজন সাঁওতাল বৃদ্ধ কিংবা গারো যুবক রয়েছে, যার কাছ থেকে আমার জীবনের কোনও একটি শিক্ষা পাওয়ার কথা ছিল। আমরা সেটি পাইনি। আমরা মানুষে মানুষে বিভাজন করে নিজেদের ভাষা-ধর্ম-কালচার নিয়ে অহঙ্কার করে অন্যদের তাচ্ছিল্য করতে শিখিয়েছি। অবহেলা করতে শিখিয়েছি। আমরা যদি আধুনিক পৃথিবীর আধুনিক মানুষ হতে চাই, তাহলে সবাইকে তার প্রাপ্য সম্মান দিয়ে বেঁচে থাকা শিখতে হবে।
৪.

হয়তো বাংলাদেশ কিছুদিনের মধ্যে অনেক উন্নত হয়ে যাবে। আমাদের মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে যাবে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে আমরা এগিয়ে যাব। আমাদের প্রশ্ন ফাঁস হবে না, স্কুলে আনন্দময় পরিবেশে ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করবে। নিজেদের অর্থে আমরা বিশাল বিশাল পদ্মা ব্রিজ তৈরি করব। কিন্তু যদি একটি পাহাড়ি শিশু তার মায়ের হাত ধরে আতঙ্কে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়ের জন্য জঙ্গলে ছুটে যেতে থাকে, তাহলে কি আমাদের সব উন্নয়ন পুরোপুরি অর্থহীন হয়ে যাবে না?

দেশের একটি নাগরিককেও যদি আমরা সম্মান নিয়ে শান্তিতে নিজের ঘরে ঘুমানোর পরিবেশ তৈরি করে দিতে না পারি, তাহলে বিশাল পদ্মা ব্রিজ দিয়ে কী হবে?

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1497582489চাকরি ডেস্ক : এ সপ্তাহে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও অনলাইন থেকে সংগৃহীত চাকরির মধ্যে সেরা চাকরির বিজ্ঞপ্তিগুলো নিয়ে আমাদের সাপ্তাহিক আয়োজন। একনজরে সপ্তাহের সেরা সাতটি চাকরি দেখে নিতে পারেন আপনি।

১৬০ জন নিয়োগ দিচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব খাতভুক্ত পাঁচ ধরনের পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৬০ প্রার্থীকে এই নিয়োগ দেওয়া হবে।

পদসমূহ

পরিসংখ্যান তদন্তকারী পদে ৯৪ জন, থানা পরিসংখ্যানবিদ আটজন, পরিসংখ্যান সহকারী ২০ জন, জুনিয়র পরিসংখ্যান সহকারী ৩৭ জন, ইনুমারেটর পদে একজনসহ মোট ১৬০ প্রার্থী এই নিয়োগ পাবেন।

যোগ্যতা

পদগুলোতে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের পদমর্যাদা অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক পাস থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। পরিসংখ্যান তদন্তকারী পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের দুই বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে। এ ছাড়া প্রথম তিনটি পদে আবেদনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএসআরটি বা অন্য যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিষয়ে ডিপ্লোমা বা উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বয়স

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে আগামী ৩০ জুন, ২০১৭ পর্যন্ত আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার নাতি বা নাতনিদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩২ বছর।

বেতন

পদমর্যাদা অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের ১১ হাজার থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি মাসে বেতন দেওয়া হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরম পাওয়া যাবে পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট (www.bbs.gov.bd) এবং ব্যুরোর জেলা অফিসগুলোয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ডাকযোগে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার ঠিকানা ‘মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, পরিসংখ্যান ভবন, ই-২৭/এ, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭’। প্রার্থীরা আগামী ১৩ জুলাই, ২০১৭ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

মূল বিজ্ঞপ্তি : bit.ly/2rjIpWi

উচ্চ মাধ্যমিক পাসেই নিয়োগ বিমানবাহিনীতে

সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে যাঁরা দেশসেবায় আগ্রহী, তাঁদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এলো বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। ৭৭ বিএএফএ কোর্সে জিডি(পি), এডিডব্লিউসি, এটিসি, মেটিয়রলজি, লজিস্টিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাডমিন ও ফিন্যান্স ক্ষেত্রে ফ্লাইট ক্যাডেট হিসেবে এই নিয়োগ দেওয়া হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

জিডি(পি), এডিডব্লিউসি, এটিসি, মেটিয়রলজি ও লজিস্টিক শাখার জন্য গণিতসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় (বিজ্ঞান) উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। গণিত বিষয়ে কমপক্ষে এ-গ্রেডসহ ন্যূনতম ফল জিপিএ ৪.৫০ থাকতে হবে।

ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়সহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (বিজ্ঞান) পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। অ্যাডমিন পদে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষায় একই ফলাফলে পাস প্রার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া ফিন্যান্স শাখায় আবেদনের জন্য প্রার্থীদের গণিত বা হিসাববিজ্ঞান বিষয়সহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষা) পাস হতে হবে। গণিত বা হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে কমপক্ষে বি-গ্রেডসহ ন্যূনতম ফল হতে হবে জিপিএ ৪.৫০।

শারীরিক যোগ্যতা

পুরুষ প্রার্থীদের ন্যূনতম শারীরিক উচ্চতা হতে হবে পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি। পাশাপাশি বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি হতে হবে।

নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে জিডি(পি) শাখার জন্য পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি এবং অন্যান্য শাখার জন্য পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি ন্যূনতম উচ্চতা থাকতে হবে। বুকের মাপ হতে হবে স্বাভাবিক অবস্থায় ২৮ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি।

প্রার্থীদের ওজন হতে হবে বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী। জিডি(পি) শাখার প্রার্থীদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ৬/৬ থাকতে হবে। এ ছাড়া অন্যান্য শাখার প্রার্থীদের দৃষ্টি বিধি অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।

অন্যান্য যোগ্যতা

প্রার্থীদের প্রকৃত বাংলাদেশি অবিবাহিত নাগরিক হতে হবে। এ ছাড়া ১ জানুয়ারি, ২০১৮ হতে আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৬ বছর ছয় মাস থেকে ২২ বছর পর্যন্ত।

আবেদন প্রক্রিয়া

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নিয়ম অনুসরণ করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ওয়েবসাইট (www.joinbangladeshairforce.mil.bd) থেকে অনলাইনে লগইন করে আবেদন করতে হবে।

মূল বিজ্ঞপ্তি : bit.ly/2ryTCBr

নতুনদের জন্য ইসলামী ব্যাংকে ৩২ হাজার টাকার চাকরি

ব্যাংকিং ক্যারিয়ার গড়ায় আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিচ্ছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, গ্রেড-৩ (জেনারেল)’, ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, গ্রেড-৩ (ক্যাশ)’ এবং ‘টেম্পোরারি মেসেঞ্জার’ পদে প্রার্থীরা এই নিয়োগ পাবেন।

অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, গ্রেড-৩ (জেনারেল অ্যান্ড ক্যাশ)

স্নাতকোত্তর পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে শিক্ষাজীবনের কোনো ক্ষেত্রে তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের ফল গ্রহণযোগ্য হবে না। লিখিত ও মৌখিক যোগাযোগে দক্ষ হতে হবে। এ ছাড়া প্রার্থীদের মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও এক্সেল চালনায় পারদর্শিতা থাকতে হবে।

টেম্পোরারি মেসেঞ্জার

ন্যূনতম মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বয়স

আগামী ৩০ জুন, ২০১৭ পর্যন্ত আবেদনকারীর বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৩০ বছর।

বেতন

অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, গ্রেড-৩ (জেনারেল অ্যান্ড ক্যাশ) পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রথম ছয় মাসের শিক্ষানবিশকালীন বেতন দেওয়া হবে ২৬ হাজার টাকা। শিক্ষানবিশকাল সফলভাবে সম্পন্ন হলে ব্যাংকের পে-স্কেল অনুযায়ী ৩২ হাজার টাকা বেতন পাবেন নিয়োগপ্রাপ্তরা।

এ ছাড়া টেম্পোরারি মেসেঞ্জার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রতি মাসে বেতন দেওয়া হবে ১৬ হাজার টাকা।

আবেদন প্রক্রিয়া

ইসলামী ব্যাংকের ওয়েবসাইট (career.islamibankbd.com/) অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করা যাবে ১২ জুন, ২০১৭ থেকে ৩০ জুন, ২০১৭ পর্যন্ত।

মূল বিজ্ঞপ্তি : bit.ly/2s3Iy34

১১১৩ জন নিয়োগ দেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এক হাজার ১১৩ জন প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিককে ১১ ধরনের অস্থায়ী পদে এই নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার প্রার্থীরা পদগুলোতে আবেদন করার সুযোগ পাবেন না। এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অন্যান্য জেলা কোটা অনুসরণ করা হবে।

পদসমূহ
স্টোরকিপার ৪২ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ৪০৪ জন, ক্যাশিয়ার ১৩ জন, ড্রাইভার পাঁচজন, প্লাম্বিং মিস্ত্রি ছয়জন, স্প্রেয়ার মেকানিক ১৬৮ জন, অফিস সহায়ক সাতজন, ফার্মলেবার ১৫২ জন, নিরাপত্তা প্রহরী বা অফিস গার্ড ২১৯ জন, বাবুর্চি (কুক) ৩২ জন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ৬৫ জনসহ মোট এক হাজার ১১৩ প্রার্থী এই নিয়োগ পাবেন।

যোগ্যতা
পদগুলোতে আবেদনের জন্য পদমর্যাদা অনুযায়ী প্রার্থীদের অষ্টম শ্রেণি পাস যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিষয়ে স্নাতক পাস পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পদের জন্য অন্যান্য ক্ষেত্রে দক্ষতাসম্পন্ন হতে হবে।

বয়স
১৪ জুন, ২০১৭ তারিখে প্রার্থীদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩২ বছর।

বেতন
পদমর্যাদা অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রতি মাসে আট হাজার ২৫০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নিয়ম অনুসরণ করে টেলিটকের ওয়েবসাইট (dae.teletalk.com.bd) থেকে পদগুলোতে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সুযোগ থাকছে ১৪ জুন, ২০১৭ সকাল ১০টা থেকে ১৩ জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

মূল বিজ্ঞপ্তি : bit.ly/2scTSIh

বঙ্গবন্ধু কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডে চাকরি

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের তত্ত্বাবধায়ন, কার্যক্রম, বাণিজ্যিক উন্নতি সাধন এবং অন্যান্য কাজ পরিচালনার জন্য আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসবি)। প্রতিষ্ঠানটিতে সাত ধরনের পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।

পদসমূহ
স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ার (এসএটি-ই) পদে দুজন, মিশন ইঞ্জিনিয়ার (এমআইএস-ই) একজন, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার (এনইটি-ই) দুজন, স্যাটেলাইট কন্ট্রোলার (এসইটি-সি) চারজন, মনিটরিং অ্যান্ড কন্ট্রোল অপারেটর পাঁচজন, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার (সিপিটি-ই) দুজন এবং গ্রাউন্ড স্টেশন মেইন্টেনার (জিএস-এম) পদে দুজনসহ মোট ১৮ প্রার্থী এই নিয়োগ পাবেন।

যোগ্যতা
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। প্রথম তিনটি পদের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং বাকি পদের জন্য কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে।

প্রার্থীদের শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হতে হবে। গ্রেডিং পদ্ধতিতে জিপিএ ৫.০০-এর মধ্যে ন্যূনতম ৪.০০ এবং সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.০০ থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রার্থীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার পাশাপাশি কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজ, ইউনিকোড টাইপিং ইত্যাদি চালনায় পারদর্শী হতে হবে।

বয়স
স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ার (এসএটি-ই), মিশন ইঞ্জিনিয়ার (এমআইএস-ই) এবং নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার (এনইটি-ই) পদে আবেদনকারীদের বয়স আগামী ৯ জুলাই, ২০১৭ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে। অন্যান্য পদে প্রার্থীদের বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য বয়স ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।
বেতন
বঙ্গবন্ধু কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসবি) নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের বেতন, বাড়ি ভাড়া ভাতা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ভাতা দেওয়া হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

প্রার্থীদের দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, শিক্ষাজীবনের সব সনদ ও অভিজ্ঞতা সনদের সত্যায়িত কপিসহ জীবনবৃত্তান্ত ডাক বা কুরিয়ারে এবং ই-মেইলের মাধ্যমে সফটকপি পাঠিয়ে আবেদন করতে হবে। ডাক বা কুরিয়ারযোগে আবেদন করার ঠিকানা ‘প্রোজেক্ট ডিরেক্টর, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট লঞ্চিং প্রোজেক্ট, বিটিআরসি, আইইবি ভবন (পঞ্চম ফ্লোর), রমনা, ঢাকা-১০০০’। প্রার্থীদের ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনপত্রের সফটকপি পাঠাতে হবে ‘satellitecThbtrc.gov.bd’ ঠিকানায়। আবেদন করা যাবে ৯ জুলাই, ২০১৭ পর্যন্ত।

মূল বিজ্ঞপ্তি : bit.ly/2sde4d7

বাংলাদেশ ব্যাংকে আকর্ষণীয় পদে ২৫০ নিয়োগ

স্বপ্নের ব্যাংকিং ক্যারিয়ার গড়ায় আগ্রহী অনভিজ্ঞ প্রার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় পদে চাকরির সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ‘অফিসার (জেনারেল)’ পদে ২৫০ প্রার্থী দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকটিতে এই নিয়োগ পাবেন।

যোগ্যতা
যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা চার বছর মেয়াদি স্নাতক পাস প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাজীবনের যেকোনো একটি পর্যায়ে প্রথম বিভাগ বা সমমানের ফল থাকতে হবে। কোনো ক্ষেত্রেই তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের ফল গ্রহণযোগ্য হবে না।

বয়স
১১ জুন, ২০১৭ অনুযায়ী আবেদনকারীদের বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৩০ বছর। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

বেতন
জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রতি মাসে ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

আগ্রহী প্রার্থীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (bit.ly/2snqbaq) থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ১২ জুলাই ২০১৭ পর্যন্ত।

মূল বিজ্ঞপ্তি : bit.ly/2t4pTTd

স্কয়ারে নতুনদের চাকরি, বেতন ২৭ থেকে ৩১ হাজার টাকা পর্যন্ত

নতুনদের চাকরির সুযোগ দিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। ‘এক্সিকিউটিভ, কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স’ পদে গাজীপুরের কালিয়াকৈর প্ল্যান্টে এই নিয়োগ দেওয়া হবে।

যোগ্যতা
এম ফার্ম অথবা রসায়ন, ফলিত রসায়ন বা জৈব রসায়ন বিষয়ে এমএসসি পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। নতুনদের আবেদনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এক থেকে দুই বছরের সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া যোগাযোগে দক্ষ ও মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপ্লিকেশন চালনায় পারদর্শী হতে হবে।

বয়স
প্রার্থীদের বয়স হতে হবে অনূর্ধ্ব ৩০ বছর।

বেতন
নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রতি মাসে ২৭ হাজার ৫০০ থেকে ৩১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া

স্কয়ার ফার্মার ওয়েবসাইট (bit.ly/2tfYoFg) থেকে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থাকছে ২৪ জুন, ২০১৭ পর্যন্ত।

মূল বিজ্ঞপ্তি : bit.ly/2ryGH2y

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

landslide-2রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে মাটির নিচে চাপা পড়া এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে শুক্রবার সকালে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী।

তবে পার্বত্য এলাকায় এখনো তীব্রভাবে রয়েছে জ্বালানি ও খাদ্যসংকট। বিগত কয়েকদিন ধরেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে খাবার।

বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে রাঙামাটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেও সেটা নিরবিচ্ছিন্ন নয়। কখনো আসছে কখনো যাচ্ছে, মোবাইল নেটওয়ার্কও মিলছে মাঝে মাঝে।

চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধস ও ব্যাপক প্রাণহানীতে পাহাড়ে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

এ পর্যন্ত দেড়শ’র বেশি প্রাণহানী হয়েছে। এখনো মাটি চাপা পড়ে আছে অনেক। পাহাড় ধসে রাঙামাটির সাথে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের যোগাযোগ বন্ধ আছে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ৩৫টি স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ চালু করতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর কাজ করছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে রাস্তায় হেঁটে চলার উপযোগী করতে পারবে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ১৯ ইসিবি কোরের নেতৃত্বে গত দুইদিনে চট্টগ্রামের রানীর হাট থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কে ধসে পড়া ১৫টি স্থানে মাটি সরানো হয়েছে।

শালবন এলাকায় প্রায় দেড়শ’ ফিট রাস্তাসহ পাহাড় ধসে পড়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ দ্রুত চালু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সেনা কর্মকর্তা।

সম্প্রতি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পার্বত্য এলাকায় দুইদিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে পাঁচ সেনা সদস্যসহ দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে।

লঘুচাপের প্রভাবে রোববার থেকে সারা দেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সোমবার থেকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-বান্দরবানে শুরু হয় পাহাড় ধস। এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাঙামাটি জেলা। সেখানেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১১ জন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

01ক’দিন আগে লিখেছিলাম ‘ আমে দুধে মিশে যাবে , আঁটি বাগানে যাবে’। এতে অনেকের বিরাগভাজন হয়ে মহাবিপদে পড়েছি। কেউ বলছেন কারে বানালেন  আঁটি? কারও কারও প্রশ্ন আপনার আম দুধ তো আরও ফারাক হয়ে গেলো। মিশলো কই। বৃহস্পতিবার এক ইফতার মাহফিলে যেয়ে আমাকে একজন খুব বড় মুখ করেই বললেন ‘ কই আপনার আম দুধ তো মিশলোই না’। আমি করজোড়ে মাফ চেয়েছি। বলেছি পুরনো কাল থেকে শুনে এসেছি এ কথা। এই জমানায় তা যদি ভুয়া হয়ে যায় তো আমার কি করার আছে। আমি একটি গল্প তাদের শুনাতে চাই। যারা শাস্ত্র নিয়ে নাড়াচাড়া করেন তারা বলতে পারবেন যে রাক্ষসরাজ রাবণের মধ্যম ভ্রাতার নাম ছিল কুম্ভকর্ণ। তিনি প্রতি ছয় মাস একটানা ঘুমের পর মাত্র একদিনের জন্য জাগতেন। তিনি ছিলেন অতিশয় নিদ্রাপরায়ন ব্যক্তি। আমি যাদের বিরাগভাজন হয়েছি তাদের উদ্দেশ্যে বলি নিশ্চয়ই আম দুধ এখন কুম্ভকর্ণের চরিত্র  ধারন করেছে। নিশ্চয়ই তাদের ঘুম ভাঙ্গবে একদিনের জন্য। সেদিনই হয়তো আমে দুধে মিশেল হয়ে যাবে। আমার মসলা সত্য বলে প্রমানিত হবে।
এই আম দুধের মিশেল দেখতে চেয়ে আমি আরও এক ধাক্কার মুখে পড়েছি। কারন আগের লেখায় আমি বড় আশা করে  বলেছিলাম ‘ আমরা আর একটি ইফতারের অপেক্ষায় থাকলাম। যে দিন আম দুধ মিশে যাবে , আর আঁটি যাবে বাগানে’। পবিত্র রমজান মাসে আমার এমন প্রত্যাশা নিশ্চয়ই খারাপ  ছিল না। কিন্তু আমার প্রত্যাশায় বালি পড়েছে। আমার হাতে এখন দুটি ইফতারের দাওয়াত কার্ড রয়েছে। এর একটি হলো জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক দুই বারের সাংসদ এবং জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক জনাব মুনসুর আহমেদের।  তিনি ইফতারির দাওয়াত দিয়েছেন। আমরা দাওয়াত কবুল করেছি।  তারিখ ১৮ জুন রোববার। স্থান তুফান কনভেনশন সেন্টার, কামালনগর, সাতক্ষীরা।  আরেকটি ইফতারের দাওয়াত পেয়েছি আমি। সেটি দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। তার চিঠিতে একটি চমৎকার  মেসেজ আছে। এতে লেখা রয়েছে ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ। দেখে ভালোই লাগলো। ভাবলাম এই তো আম আর দুধ এক পাতে এসেই গেছে। এই মিশলো আরকি। কিন্তু আমার প্রত্যাশায় আবার কে যেনো বালি ছড়িয়ে দিলেন। হাতে পেলাম এক প্রেস রিলিজ। এতে  যা লেখা  রয়েছে তা  পাঠকদের সামনে হুবহু তুলে ধরলাম। ‘বিশ্বস্থ সূত্রে জানতে পারলাম যে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাতক্ষীরা জেলা শাখা আয়োজিত পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আগামী ২১ রমজান, ১৭ জুন, শনিবার শহরের কাটিয়াস্থ সাতক্ষীরা পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ চত্বরে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের উদ্যোগ নিয়ে দাওয়াত পত্র বিতরণ করা হচ্ছে। উক্ত দাওয়াত পত্রে সভাপতি হিসেবে আমার উপস্থিতির কথা লেখা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে এ  বিষয়ে আমার সাথে কোন আলোচনা করা হয়নি। এমনকি ইফতার মাহফিলের দাওয়াতপত্র আমার নিকট আদৌ পৌছায়নি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, সাতক্ষীরা জেলা শাখা আয়োজিত আমার স্বাক্ষরিত ইফতার মাহফিল ইতি পূর্বেই আহবান করা হয়েছে। যাহা আগামী ২২ রমজান, ১৮জুন সাতক্ষীরা শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। আমার অজান্তে যে ইফতার মাহফিলের দাওয়াতপত্র বিতরণ করা হচ্ছে আমি তার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
যাহারা বারবার জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ড করে যাচ্ছে, সেই চক্রটি আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং  দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, সাতক্ষীরা জেলা শাখা আমার স্বাক্ষরিত দাওয়াত পত্রানুযায়ী জেলা আওয়ামীলীগ ও এর সকল সহযোগি অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি’।
আমাদের প্রিয় নেতা মুনসুর আহমেদের পাঠানো এই বিবৃতি  দেখে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ। একই দলের সাধারন সম্পাদক জনাব নজরুল ইসলাম বড় মুখ করে তার নেতা জনাব মুনসুর আহমেদকে তার আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করবার কথা উল্লেখ করেছিলেন। আর জনাব মুনসুর আহমেদ তা খন্ডন করে বলেছেন ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা’। বরং ১৮ তারিখে আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিলে যোগদানের আমন্ত্রন জানিয়েছেন তিনি।
প্রিয় পাঠক আমি এখন ধরা খেয়েছি। পবিত্র রমজানের সওগাত হচ্ছে ভ্রাতৃত রমজান আমাদের শেখায় আল্লাহর দরবারে নিজেকে সমর্পন করতে।  এক দলের দুই ভাই আমি বলবো দুটি প্রস্ফুটিত গোলাপ । এই রমজানে তারা দুই দিকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছেন। যেনো কেউ কাউকে চিনছেন না। বাতাসে তারা দোলা খাচ্ছেন। আর বিড় বিড়য়ে কি যেনো বলছেন। কেনো ইফতারের টেবিলে এক সাথে বসে ইফতার করা যায় না।  আমি ভুলে যাইনি যে তাদের কাছে কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অতীতের ভুল ভ্রান্তি পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসাবে দলের সাধারন সম্পাদক সেতুমন্ত্রি ওবায়দুল কাদের তাদেরকে ডেকে বসিয়ে এসব বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কেউই যেনো সাড়া দিচ্ছেন না। অথচ সেদিন তারা ঢাকায় বসে কোলাকুলি করেছেন। বুকে বুক মিলেয়ে বলেছেন তাদের পথ তাদের মত এক ও অভিন্ন।  দুজনেই চোখের পানি ফেলেছেন। বলেছিলেন আর মুখ ফিরিয়ে থাকা নয়। কিন্তু বাড়ি ফিরে একি দেখছি আমরা । দুই নেতার মধ্যে কেনো এতো ফারাক। আমি  এখনও অপেক্ষায় আছি। পবিত্র  রমজানের আরও কয়েকটি দিন সামনে। নিশ্চয়ই আম দুধ এক জায়গায় এসে যাবে , এমন স্বপ্ন দেখতে আমার ভয় কিসের। কারণ আমাদের ভোট নিয়েছেন আপনারা। আমাদের দেওয়া ভোটে আপনারা হয়েছেন জনপ্রতিনিধি। আমাদের প্রত্যাশায় কেনো তবে বালি পড়বে।
আমার শেষ কথা কুম্ভকর্ণের নিদ্রা কিন্তু এখনও ভাঙ্গেনি। ছয় মাসের রজনী এখনও বাকি। বলে  রাত জাগা পাখি।  নিদ্রাপরায়ণ কুম্ভকর্ণ একটি দিনের জন্য হঠাৎ যে কোনো সময় জেগে উঠবেন। আমরা শুভ্র হাসিতে চেয়ে চেয়ে দেখবো আম আর দুধ মিশে গেছে। আঁটি বাগানে গেছে।  বাপ দাদার আমলের সে কথা ভুল হতেই পারে না।
—- সুভাষ চৌধুরী , সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্ট করেসপনডেন্ট, দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest