সর্বশেষ সংবাদ-
সাংবাদিক সামিউল মনিরের উপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর হামলা: আটক -০২তালার নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা ভূগর্ভ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের শীর্ষে আশাশুনিদীর্ঘ দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষ : কাঁকড়া আহরণ অনুমতি পেলো বনজীবীরাসাতক্ষীরা কারাগারে হাজতির মৃত্যুনার্সিং ভর্তি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় মায়ের বকুনিতে ছাত্রীর আত্ম#হত্যাশ্যামনগরে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতা ও তার পরিবারকে হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধনসাতক্ষীরা জেলা বাস্তহারা দলের ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদনΜια βραδιά φωτός και ήχου στα ψηφιακά σαλόνια

photo-1495107408দুধ বেশ উপকারী খাবার। তবে জানেন কি দুধ পানের সঠিক সময় কোনটি? সকালে নাকি রাতে?

দুধ থেকে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন পাওয়া যায়। ল্যাকটোজে (দুধের একটি উপাদান) অস্বস্তি না থাকলে দুধ পানে কোনো অসুবিধা নেই। তবে নির্দিষ্ট উপাকারের জন্য নির্দিষ্ট সময় দুধ পান করলে উপকারটি  ভালোভাবে পাওয়া যায়।

জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশ হয়েছে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন।

১. সকালের নাস্তায় বেশি প্রোটিন পেতে চাইলে সকালে দুধ পান করতে পারেন। ক্যালসিয়াম, প্রোটিনের বাইরেও দুধে থাকে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন। নিয়মিত দুধ পান করলে এসব পুষ্টিও পাবেন।

২. সকালে ব্যায়াম করতে চাইলে, সকালে দুধ পান করুন। এতে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাবেন। আপনার হাড় ও পেশির বৃদ্ধির জন্য ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন জরুরি।

৩. ঘুমের সমস্যা হলে এবং ভালোভাবে ঘুমাতে চাইলে, রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করুন। এটি ঘুমাতে সাহায্য করবে।

৪. সারাদিন পরিশ্রমের পর ক্লান্ত লাগলে রাতে দুধ পান করুন। দুধের মধ্যে রয়েছে অ্যামাইনো এসিড। এটি মস্তিষ্কের সেরোটোনিনের হরমোর নিঃসরণে সাহায্য করে। শরীর শিথিল রাখে।

ঠান্ডা দুধের চেয়ে গরম দুধ পান করাই ভালো। গরম দুধ হজমে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত দুধ পান করবেন না। দিনে ১৫০ থেকে ২০০ মিলিলিটারই যথেষ্ট।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

xfull_1191958584_1495132692.jpg.pagespeed.ic.JadCZYtcWm২০১৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। এ বছর সেরা নায়ক হিসেবে যৌথভবে নির্বাচিত হয়েছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান ও অভিনেতা মাহফুজ আহমেদ। সেরা নায়িকা নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।

এতে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা ও সংগীতশিল্পী ফেরদৌসি রহমান।

বৃহস্পতিবার তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২৫টি ক্যাটাগরিতে সরকার প্রতিবছর এ স্বীকৃতি দিয়ে থাকে।

এক নজরে পুরস্কারপ্রাপ্তরা-

শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র: যৌথভাবে বাপজানের বায়োস্কোপ (পরিচালক- মো. রিয়াজুল মওলা রিজু) ও অনিল বাগচীর একদিন (পরিচালক- মোরশেদুল ইসলাম)।

শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র: একাত্তরের গণহত্যা ও বধ্যভূমি (চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর)।

শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক: যৌথভাবে মো. রিয়াজুল মওলা রিজু (চলচ্চিত্র-বাপজানের বায়োস্কোপ) ও মোরশেদুল ইসলাম (চলচ্চিত্র -অনিল বাগচীর একদিন)।

শ্রেষ্ঠ অভিনেতা প্রধান চরিত্র: যৌথভাবে শাকিব খান (চলচ্চিত্র- আরো ভালোবাসবো তোমায়) ও মাহফুজ আহমেদ (চলচ্চিত্র- জিরো ডিগ্রি);

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী প্রধান চরিত্র: জয়া আহসান (চলচ্চিত্র- জিরো ডিগ্রি)।

পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা: গাজী রাকায়েত (চলচ্চিত্র- অনিল বাগচীর একদিন);
পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী: তমা মির্জা (চলচ্চিত্র-নদীজন);

শ্রেষ্ঠ অভিনেতা/অভিনেত্রী খল চরিত্রে: ইরেশ যাকের (চলচ্চিত্র- ছুঁয়ে দিল মন); শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী: যারা যারিব (চলচ্চিত্র – প্রার্থনা); শিশু শিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার: প্রমিয়া রহমান (চলচ্চিত্র- প্রার্থনা)।

শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক: সানী জুবায়ের (চলচ্চিত্র-অনিল বাগচীর একদিন); শ্রেষ্ঠ গায়ক: যৌথভাবে সুবীর নন্দী (তোমারে ছাড়িতে বন্ধু, চলচ্চিত্র- মহুয়া সুন্দরী) ও এসআই টুটুল (উথাল পাতাল জোয়ার, চলচ্চিত্র- বাপজানের বায়োস্কোপ)।

শ্রেষ্ঠ গায়িকা: প্রিয়াংকা গোপ (আমার সুখ সে তো, চলচ্চিত্র- অনিল বাগচীর একদিন);
শ্রেষ্ঠ গীতিকার: আমিরুল ইসলাম (উথাল পাতাল জোয়ার, চলচ্চিত্র- বাপজানের বায়োস্কোপ);
শ্রেষ্ঠ সুরকার: এসআই টুটুল (উথাল পাতাল জোয়ার, চলচ্চিত্র- বাপজানের বায়োস্কোপ)।

শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার: মাসুম রেজা (বাপজানের বায়োস্কোপ); শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার: যৌথভাবে মাসুম রেজা (বাপজানের বায়োস্কোপ) ও মো. রিয়াজুল মওলা রিজু (বাপজানের বায়োস্কোপ)।

শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা: হুমায়ূন আহমেদ (অনিল বাগচীর একদিন); শ্রেষ্ঠ সম্পাদক: মেহেদী রনি (বাপজানের বায়োস্কোপ); শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক: সামুরাই মারুফ (জিরো ডিগ্রি); শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক: মাহফুজুর রহমান খান (পদ্ম পাতার জল);

শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক: রতন কুমার পাল (জিরো ডিগ্রি); শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা: মুসকান সুমাইকা (পদ্ম পাতার জল) এবং শ্রেষ্ঠ মেক-আপম্যান: শফিক (জালালের গল্প)।

প্রসঙ্গত, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে আঠার ক্যারেট মানের ১৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্নপদক, পদকের রেপ্লিকা, সম্মাননাপত্র ও নির্ধারিত অর্থের চেক। আজীবন সম্মাননপ্রাপ্তকে এক লাখ টাকা, সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রযোজক, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রযোজক, প্রামান্যচিত্র চলচ্চিত্র প্রযোজক, চলচ্চিত্র পরিচালককে ৫০ হাজার টাকা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিজয়ীদের ত্রিশ হাজার টাকা করে অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

443বাংলাদেশ, উপমহাদেশ এবং বিশ্ব সংগীতে অবদান, সাংস্কৃতিক কার্যত্রম এবং বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে সৃজনশীল ভূমিকা রাখার জন্য রুনা লায়লাকে সম্মাননা দিচ্ছে জাতিসংঘ। ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত হবে ‘ইন্সপায়ারিং ওম্যান ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ইন দ্য গ্লোবাল ইকোসিস্টেম’ অনুষ্ঠান। এখানে রুনা লায়লাকে বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানেই রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্য ফেসবুকে রুনা লায়লা নিজেই এই খবর দিয়েছেন। তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রুনা লায়লা এখন গান নিয়ে ব্যস্ত। বিভিন্ন শো আর চলচ্চিত্রে গান করছেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

photo-1479562780পাবনার ঈশ্বরদীতে  সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফের ছেলে যুবলীগ সভাপতি তমাল শরীফসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে মন্ত্রীর গ্রামের বাড়ি থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গত  ১৮ মে ঈশ্বরদীতে যুবলীগের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে দুটি বাড়ি ও তিনটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বাড়িতে হামলার ঘটনায় যুবায়ের বিশ্বাসের বাবা আতিয়ার রহমান বাদী হয়ে যুবলীগ সভাপতি তমাল শরিফসহ ৩২ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পাবনার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এই অভিযানে মন্ত্রীপুত্রসহ ১১ জন গ্রেফতার হন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

Harun Mpমাত্র পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের সাংসদ বজলুল হক হারুনের (বি এইচ হারুন) পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। কীভাবে হয়েছে, তার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই বি এইচ হারুনের। ধর্ম মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বি এইচ হারুনের বিপুল সম্পদের সামান্য অংশ হচ্ছে রাজধানীর বনানীর বহুল আলোচিত দ্য রেইনট্রি হোটেল। কাগজে-কলমে হোটেলটির মালিকানা বি এইচ হারুনের স্ত্রী, তিন ছেলে ও মেয়ের নামে।
আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এই বাণিজ্যিক হোটেল তৈরি করা হয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন ছাড়া। গত ২৮ মার্চ হোটেলটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। বনানী থানা শুরুতে তাঁদের অভিযোগ আমলে নিতে চায়নি। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সমাজের নানা স্তরে ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় হয়। পরে আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে শাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় (আরজেএসসি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘দ্য রেইনট্রি ঢাকা লিমিটেড’ নামে যে কোম্পানি নিবন্ধিত হয়, তারই সংক্ষিপ্ত নাম রেইনট্রি হোটেল। এর পরিচালকেরা হলেন বি এইচ হারুনের স্ত্রী মনিরা হারুন, তিন ছেলে শাহ মো. নাহিয়ান হারুন, শাহ মো. আদনান হারুন ও মাহির হারুন এবং মেয়ে হোমায়রা হারুন। শাহ মো. আদনান হারুন হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।
বি এইচ হারুনের নামে থাকা জমিতে হোটেলটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১২ সালে আর বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু হয় চলতি বছরের শুরুর দিকে। বেআইনিভাবে পরিচালিত হওয়ায় গত ১৫ এপ্রিল হোটেলটি সিলগালা করে দিয়েছিলেন রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইনও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। হোটেলের মালিকেরা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই আবার পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংযোগ পেয়ে যান।
কিন্তু কীভাবে তৈরি হলো পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র না নেওয়া এ বিলাসবহুল হোটেল? অর্থই বা কোথা থেকে এল—এ অনুসন্ধান করতে সামনে চলে আসে সাংসদ বি এইচ হারুনের অন্য সব সম্পদের খবরও।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালের ভগ্নিপতি হচ্ছেন বি এইচ হারুন। আবার বি এইচ হারুনের ছেলে বিয়ে করেছেন দৈনিক ইনকিলাব-এর প্রকাশক-সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিনের মেয়েকে। বাহাউদ্দিনের বাবা মাওলানা আবদুল মান্নান, যিনি এরশাদ সরকারের ধর্মমন্ত্রী ছিলেন।
পাঁচ বছরে এত সম্পদ!
২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় বি এইচ হারুন ৩৮ লাখ টাকার অর্থসম্পদ দেখান। এর মধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজার, সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকে ৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা, বাড়ি/দোকান ভাড়া থেকে ১৬ লাখ টাকা, ব্যবসা থেকে ১৪ লাখ টাকা এবং সম্মানী বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয়। স্ত্রী মনিরা হারুনের নামে তখন কিছুই ছিল না।
কিন্তু ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে হলফনামায় বি এইচ হারুন দেখান, তাঁর নিজের ও স্ত্রীর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে ১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া নগদ ২ কোটি ৯০ লাখ, ব্যাংকে ৬৭ লাখ এবং ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, গাজীপুরে ১৭ কাঠা, মিরপুরে ৫ কাঠা, বনানীতে সাড়ে ৬ কাঠা, বারিধারায় ৬ কাঠার একটি ও সাড়ে ৪ কাঠার আরেকটি প্লট রয়েছে তাঁর।
এ ছাড়া ছোট ছেলে আদনান হারুনকে দুটি জাহাজ কিনতে ১৩ কোটি টাকা এবং বড় ছেলে নাহিয়ান হারুনকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক হতে ২০ কোটি টাকা দেন। এ ছাড়া স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ভাই ফয়জুর রব আজাদের নামে জমা রাখেন ১৫ কোটি টাকা।
শেষ হলফনামায় অবশ্য দায় হিসেবে বি এইচ হারুন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, স্ত্রীর কাছ থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ এবং বৈদেশিক মুদ্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ঋণ নেন বলে দেখান।
এসবের বাইরেও প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২০১৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটটি কোম্পানিতে মালিকানা রয়েছে বি এইচ হারুনের, এর মধ্যে পাঁচটিরই চেয়ারম্যান তিনি।
অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বি এইচ হারুন গত বুধবার বলেন, ‘সম্পদ তো তেমন বাড়েনি। যেগুলো বলছেন, এগুলো আগে থেকেই ছিল।’
রেইনট্রি হোটেলসহ বহুতলবিশিষ্ট ভবনই নির্মাণ করা হয়েছে চার-পাঁচটি, অর্থের উৎস কী—এমন প্রশ্নের জবাবে বি এইচ হারুন বলেন, ‘ব্যাংকঋণ নিয়ে করেছি।’
রূপালী ব্যাংক থেকে কয়েক কোটি টাকা ঋণ তো নিলেন গত বছর আর ভবনগুলো নির্মাণ করেছেন তারও আগে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘সব কথা টেলিফোনে বলা যাবে না।’
বিএনপির টিকিটে ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠির ভান্ডারিয়া-কাউখালী আসন থেকে অংশ নিয়ে বর্তমান পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কাছে তিনি জামানত হারিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন, কিন্তু মনোনয়ন পাননি। ১৯৯৮ সালে যোগ দেন আওয়ামী লীগে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে জেলার রাজাপুর-কাঁঠালিয়া আসন থেকে ‘নৌকা’ প্রতীকে অংশ নিয়ে তৃতীয় হন।
আগের দুবারের বিএনপির সাংসদ শাহজাহান ওমর জরুরি অবস্থার সময় বিদেশে থাকায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি এবং ওই নির্বাচনে বিজয়ী হন বি এইচ হারুন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যে প্রায় অর্ধেক সাংসদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, তাঁদেরই একজন তিনি।
ব্যাংকের গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ!
প্রথমবার সাংসদ হওয়ার পর থেকেই অভিযোগ ওঠে, প্রিমিয়ার ব্যাংকের গ্রাহক রুমি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমানের ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন বি এইচ হারুন। বি এইচ হারুন তখন প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক (বর্তমানেও পরিচালক)।
খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পৃথক আবেদনে জানান, সৌদি সরকারের সাহায্যে ২০০৮ সালে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ১৫ হাজার ঘর নির্মাণের ২০৪ কোটি টাকার কাজ পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর হিসাব ছিল প্রিমিয়ার ব্যাংকের বংশাল শাখায় এবং কাজ চলাকালে ২৯৭টি চেকের পাতার মাধ্যমে ৭০ কোটি টাকা তিনি উত্তোলন করেন।
কাজ শেষে বাকি টাকা তোলার জন্য খলিলুর বংশাল শাখায় গেলে তৎকালীন ব্যবস্থাপক সামসুদ্দিন চৌধুরী (পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে ডিএমডি) জানান, তিনি সব টাকা তুলে নিয়ে গেছেন এবং হিসাবও বন্ধ করে দিয়েছেন। খলিলুর দুই সংস্থাকে বলেছেন, তাঁর অজ্ঞাতে অতিরিক্ত ৩৮৮টি চেকবই ইস্যু দেখিয়ে জাল সইয়ের মাধ্যমে ১৩৪ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছেন বি এইচ হারুন।
ব্যাংকের হিসাব বিবরণীতে খলিলুরের হিসাবে ২০৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। বেশির ভাগ টাকা তোলা হয়েছে ব্যাংকের বনানী শাখা থেকে, যা বি এইচ হারুনের অফিস থেকে ৫০ গজ দূরে।
ওই সময় প্রিমিয়ার ব্যাংকের এমডি ছিলেন খন্দকার ফজলে রশীদ। মাঝখানে কয়েক বছর ঢাকা ব্যাংকের এমডি থেকে বর্তমানে আবার তিনি প্রিমিয়ার ব্যাংকের এমডি। বিদেশে থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
খলিলুরের অভিযোগ, সামসুদ্দিন চৌধুরীর পাশাপাশি সুপরিকল্পিত এ জালিয়াতির সহযোগী ব্যাংকটির তৎকালীন অতিরিক্ত এমডি আবু হানিফ খান এবং বি এইচ হারুনের মালিকানাধীন আল হোমায়রা মেডিকেল সেন্টারের দুই হিসাবরক্ষক গোলাম মোস্তফা রাজা ও ফরিদউদ্দিন। গত রাতে মুঠোফোনে জানতে চাইলে সামসুদ্দিন চৌধুরী এ ব্যাপারে কথা বলতে চাননি।
গোলাম মোস্তফা রাজা বর্তমানে আলোচিত রেইনট্রি হোটেলের ব্যবস্থাপক এবং গত মঙ্গলবার রেইনট্রি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
রুমি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমান বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন যাচ্ছে। হুমকি দিচ্ছে মেরে ফেলার। বনানী ও গুলশান থানায় পাঁচটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচারপ্রার্থী।’

বি এইচ হারুন রিটার্ন দাখিল করেন না
বিপুল সম্পদ বৃদ্ধির বিপরীতে কত টাকা আয়কর দেন বি এইচ হারুন? আয়কর অধ্যাদেশে বিধিনিষেধ থাকায় কারও আয়করের তথ্যই জানায় না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
তবে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অস্বাভাবিক আয় দেখানোটা মুশকিল বলেই আওয়ামী লীগের ২০০৯-১৪ সময়ের পাঁচ বছরে তিনি কোনো আয়কর দিতে চাননি। পুরোনো অর্থবছরসহ আয়কর আদায়ে তাঁর বিরুদ্ধে এনবিআর সাতটি মামলা দায়ের করেছিল।
গত সোমবার ও মঙ্গলবার এনবিআরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত তিনি আয়করের ঝামেলাগুলো মিটিয়েছেন। কিন্তু দুই বছর ধরে আবার আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন না। ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের রিটার্ন দাখিল না করায় এনবিআর তাঁকে জরিমানা করেছে। তবে জরিমানার টাকা এখনো আদায় হয়নি বলে জানা গেছে।
দুই বছর ধরে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করার কারণ জানতে চাইলে গত মঙ্গলবার মুঠোফোনে বি এইচ হারুন বলেন, ‘যিনি এটা বলেছেন, ঠিক বলেননি। ফাইল সব ঠিকঠাক আছে।’
নিজ ব্যাংকের গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে পাঁচ বছরে এত সম্পদের মালিক হলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বি এইচ হারুন বলেন, ‘এসব মিথ্যা অভিযোগ। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’
সক্রিয় দুদক, নিষ্ক্রিয় বাংলাদেশ ব্যাংক
২০১৪ সালের জুলাইয়ে অভিযোগপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও বি এইচ হারুনের বিরুদ্ধে পরে আর তা দেয়নি দুদক। এই ফাঁকে খলিলুরের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির নামে নতুন প্রতারণা করেন বি এইচ হারুন। খলিলুরকে ৫ কোটি টাকার চেক দেন তিনি, কিন্তু সমঝোতা চুক্তিতে সই করেননি। অথচ ওই চুক্তিকে আমলে নিয়েই দুদক নথিভুক্ত (মামলা না করা) করে ফেলে ওই ঘটনা।
পরে বি এইচ হারুনের নামে চেক ডিজ-অনারের মামলা করেন খলিলুর এবং আদালত থেকে মুচলেকা দিয়ে জামিন নেন বি এইচ হারুন। অন্য দুটি চেক ব্যাংকে উপস্থাপনের সময় আসেনি এখনো।
তবে ইকবাল মাহমুদ দুদক চেয়ারম্যান হয়ে আসার পর বিষয়টি পুনরুজ্জীবিত হয়। সংস্থার উপপরিচালক সামছুল আলমকে প্রধান করে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত দল গত ৪ এপ্রিল প্রিমিয়ার ব্যাংকের এমডির কাছে তথ্য চায়।
দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল গত মঙ্গলবার বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণ নেওয়া হচ্ছে। যত শক্তিশালীই কেউ থাকুন না কেন, পদক্ষেপ নিতে দুদক এক পা-ও পেছাবে না।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও বেরিয়ে এসেছিল চেকবই ইস্যু রেজিস্টার ও কার্ডে রক্ষিত নমুনা স্বাক্ষরের সঙ্গে অনেক চেকের পাতায় থাকা খলিলুরের স্বাক্ষরের মিল নেই। স্বাক্ষরে মিল না থাকা সত্ত্বেও প্রিমিয়ার ব্যাংক কীভাবে টাকা দিল, সেই প্রশ্নও তুলেছিল। পরে আর এগোয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা গত বুধবার মুঠোফোনে বলেন, তিনি পুরো বিষয়টি জানেন না, জানতে চান না এবং জানাতেও চান না।
জানাতে না চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘জনসমক্ষে বলার মতো ঘটনা এটা না।’
সূত্র : প্রথম আলো

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

18555837_1922738054627385_6688002229697475861_n৮ম শ্রেণির ছাত্র রাহাত(১৬) কাগুজী বাঁচতে চায়। সে কিডনী জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ভারতের ভেলোরে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক রেজাউল কাগুজী’র ছেলে। তার দুটি কিডনীই নষ্ট হয়েছে। তাকে বাঁচাতে হলে প্রায় ২৯ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু তার পিতার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবানদের সামান্য আর্থিক সহযোগিতায় আবারো হাসি আনন্দে পিতা-মাতার কোল আলোকিত করতে পারে রাহাত। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: রেজাউল কাগুজী, একাউন্ট নং- ১৮১২১০১০৯৭৮৬৬, পূবালী ব্যাংক, সাতক্ষীরা শাখা। বিকাশ নং- ০১৭২৫ ৫৮৯৭৩৯।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আশাশুনি ব্যুরো : আশাশুনির চরম প্রতিবন্ধী খায়রুল ইসলাম সংসারের ঘানি টানার জীবনযুদ্ধের মধ্যেও ক্লান্তিহীন পড়ালেখার মাধ্যমে মাস্টার্স পাশ করে সুস্থ মানুষদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সৎ উদ্দেশ্য ও অদম্য ইচ্ছা থাকলে অনেক অসাধ্যকেও জয় করা সম্ভব তার উৎকৃষ্ট প্রমান খায়রুল।
আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের মোহাম্মদ আলি সরদারের পুত্র খায়রুল ইসলাম। তার বর্তমান বয়স ২৭ বছর। তিনি জন্মগত ভাবে প্রতিবন্ধী। দু’টি পা সম্পূর্ণ অচল। দু’হাতেও স্বাভাবিক কিছু করার সক্ষকতা নেই তার। এখন মুখে ভাত তুলেও খেতে পারেননা। কোন রকমে কলম চালাতে পারেন; তাও অতি কষ্টে। ২৭ বছর আগে তার জন্ম হয় পিতার ভিটা টেকাকাশিপুর গ্রামে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়ায় তার মাতার উপর নেমে আসে অভিশাপ। পিতা মোহাম্মদ আলি তার মা আমিরুন নেছাকে তালাক দিয়ে বিদায় করে দেন। তিন মাসের শিশুকে নিয়ে মা গোয়ালডাঙ্গায় পিতার ভিটায় আশ্রয় নেন। আর্থিক অনটনের মধ্যে কষ্টকর জীবন-যাপনের পথ ধরে তার বেড়ে ওঠা। সংসার নির্বাহের জন্য পরের বাড়িতে কাজ করতেন। প্রতিবন্ধী ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনকে অন্ধকারমুক্ত করা যায় কিনা সে মনোস্কামানা নিয়ে ছেলেকে মাদরাসায় পাঠানো শুরু করেন। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখাকালীণ খরচ যোগানোর তাগিদে টিউশনি শুরু করে খায়রুল। এভাবে নিজের খরচ নিজে যোগানোর মাধ্যমে গোয়ালডাঙ্গা শুক্কলিয়া দাখিল মাদরাসায় পড়ালেখা করে ২০০৫ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় খায়রুল। সাধারণ পরীক্ষার্থীদেরকে তাক লাগিয়ে দিয়ে খায়রুল ৩.৬৭ পেয়ে কৃতিত্ব অর্জন করেন। এরপর বড়দল আলিম মাদারাসায় ভর্তির পর খরচ বেড়ে যাওয়ায় টিউশনিতে আরও বেশী সময় দিতে হতো। কিন্তু না সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিল। চলাফেরায় দুর্বলতা বেড়ে গেল। তখন বিয়ারিং এর গাড়িতে চড়ে চলাচল শুরু করলেন। জীবনযুদ্ধের মাঝে আবার লেখাপড়ায় সফলতা অর্জন করলেন তিনি; ২০০৭ সালে ২.১৭ পেয়ে আলিম পাশ করলেন। এরপর বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুল হতে এইচএসসি এবং ২০০৯ সালে ফাজিল পাশ করেন ২.১৭ পেয়ে। চরম অভাব ও চলাচলে প্রতিবন্ধীকতা এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনে প্রতিকূলতা থাকা স্বত্তেও লেখাপড়া থামেনি। ২০১৩ সালে আশাশুনি কলেজ হতে ইসলামের ইতিহাসে ফার্স্টক্লাশ নিয়ে অনার্স পাশ করেন। অদম্য আগ্রহ সহকারে তিনি খুলনা বিএল কলেজ থেকে মাস্টার্স (ইসলামের ইতিহাস) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২০১৬ সালে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়া সাতক্ষীরা আলিয়া মাদরাসা হতে ২০১৭ সালে হাদিস গ্রুপ থেকে কামিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। আবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে মৎস্য চাষ ও খাদ্য উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। লেখাপড়ায় ঈর্ষণীয় সফলতা পেয়ে জীবনে বড় কিছু হওয়ার আগ্রহ বেড়ে গেলেও তার জীবনের বড় বিপত্তি শুরু হয় ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ। এদিন রাতে মাথার পাশে জ্বলন্ত গ্লোব রেখে মশারি টানিয়ে ঘুমিয়ে যান। কোন এক সময় মশারিতে আগুন লেগে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তার সমস্ত শরীর আগুনে ঝলছে যায়। তাকে নেওয়া হয় প্রথমে আশাশুনি হাসপাতালে এবং পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। এখানে তাকে ৮ মাস ধরে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসা শেষে পোড়া ঘা শুকিয়ে গেলেও তার পঙ্গুত্ব কয়েকগুণ বেড়ে যায়। হাত-পা চালানোর শক্তি বহুগুণ হারিয়ে যায়। এখন অন্যের সহযোগিতা ছাড়া নিজেকে পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে গেছ। মোজাহার উদ্দীন মাল্টিক্রাফট সেন্টারে শিশু শিক্ষার ছোট্ট একটি চাকুরি পেলেও সেটি টিকিয়ে রাখতে পারেননি। বর্তমানে টিউশনির ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও ধরে রাখতে পারছেননা। বর্তমানে একটি পুরনো হুইল চেয়ারে চড়ে তার চলাচল। যেটি ২০০৭ সালে ঋশিল্পী দিয়েছিল। তেতুলিয়া আশ্রয়ন আবাসনে বসবাসকারী অসহায় খায়রুল এখন ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে খুবই চিন্তিত। তারপরও তার অসীম আগ্রত তাকে থামিয়ে রাখতে পারছেনা। তার ইচ্ছা বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেয়া। তিনি বলেন সমাজের বোঝা হয়ে থাকার মধ্যে কোন তৃপ্তি নেই। কিন্তু প্রতিবন্ধিতা তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তবুও তিনি হতাশ হতে রাজি নন। তার প্রত্যাশা বিসিএস দিয়ে একটি অবলম্বন তার ভাগ্যে জুটাতে চান তিনি। জীবনকে যতটুকু সম্ভব স্বাভাবিক করতে সচেতন মানুষের সহানুভূতিপূর্ণ ব্যবহার প্রত্যাশা করা তার জন্য বেশি কিছু চাওয়া নয় বলে মনে করেন তিনি। চরম শারীরিক প্রতিবন্ধী খায়রুল নিত্য প্রতিকূলতাকে পিছে ঠেলে দিয়ে বারবার স্বপ্ন জয় করে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, আমাদের জন্য সেটি বিশাল উদাহরণ হয়ে যুগ যুগ উঠে আসবে। আসুন আমরা তার জীবনকে যোগ্য স্থানে পৌছে দিতে পাশে থাকি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

bf5941e9fa27d45dab365a6ba16747f6-591d724a0f5daবনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা দায় স্বীকার করে এই জবানবন্দি দেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান এই তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী পরিষদের আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার রিংকি জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ মে) সকাল ৯টার মধ্যে সাফাত ও সাদমানকে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছিল। বিচারকের খাস কামরায় তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়।

তিনি আরও জানান, সাফাতের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব। এদিকে সাদমান সাকিফের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেন আরেক ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী।

সাফাত ও সাদমান ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তাদের আদালতে নেওয়া হয়। সাদমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড আজ বৃহস্পতিবার এবং সাফাতের ছয়দিনের রিমান্ড শুক্রবার শেষ হচ্ছে। এ মামলার অপর আসামি নাঈম আশরাফকে বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার করে আদালতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৬ মে বনানী থানায় সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফসহ পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন দুই তরুণী। বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি হোটেলের একটি রুমে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। মামলার সব আসামিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest