সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় নির্মাণাধীন ভবনের সাব-কন্টাক্টরের কাছে চাঁদা দাবি : থানায় অভিযোগতালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: সার সংকট, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে গুরুত্বারোপদেবহাটায় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে খেলাভিত্তিক সেশন পরিদর্শনসাতক্ষীরায় আবাসিক হোটেল-রেস্তোরাঁ – বেকারি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময়সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

তিনি মাঠের লোক, রাজনীতির সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই বললেই চলে ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার। তবে রাজনীতির প্রতি তাঁর কিছুটা আগ্রহ আছে, তা বোঝা গেছে বহুবার। সম্প্রতি রাজনীতি কথা বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘একজন কার্টুন চরিত্র’ বলেছেন আর্জেন্টিনার এই সাবেক তারকা ফুটবলার।

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক ম্যারাডোনার এই বক্তব্য চমকজাগানিয়া হলেও সত্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আচার-আচরণও তাঁর কাছে নাকি বিরক্তিকর।

কনফেডারেশনস কাপ দেখতে ম্যারাডোনা এখন রাশিয়ায়। সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ম্যারাডোনা বলেন, ‘যদি রাজনীতির কথা বলি, আমার কাছে ট্রাম্প একজন কার্টুন চরিত্র। যখন আমি তাঁকে টিভিতে দেখি, প্রত্যেকবার চ্যানেল বদলে দেই।’

অবশ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা করেন, ‘পুতিন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সে পারে বিশ্বে শান্তি এনে দিতে। আমার কাছে সে বিস্ময়কর একজন নেতা, এক কথায় অসাধারণ।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে ফ্লোরিডা যাচ্ছিলেন টম ম্যাককালাহ নামের এক ব্যক্তি। বিমানে উঠে যথারীতি বসলেন নিজের আসনে। আর তখন থেকেই শুরু হলো বিপত্তি। বিমানটির সিলিং ফুটো হয়ে টপটপ করে পানি পড়তে শুরু করল ম্যাককালাহর গায়ে। এর পর হাতে থাকা একটি সাময়িকী ওপরে ধরে গায়ে পানি পড়া থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হয়নি। পুরো যাত্রায় টপটপ করে পড়া পানি তাঁর পুরো শরীর ভিজে যায়। একই পরিণতি হয় বিমানের অন্য আরো কয়েকজনের।

গত শুক্রবার ডেলটা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভুক্তভোগী যাত্রী ম্যাককালাহর ছেলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে পোস্ট করেন।

তবে এ ঘটনার জন্য ম্যাককালাহ টুঁ শব্দটিও করেননি। তিনি বেশ আনন্দের সঙ্গেই ঘটনাটি উপভোগ করেছেন।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের ফুটো ছাদ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ার পরও টমসহ কয়েকজন যাত্রীকে তাঁদের সিটে বসে থাকতে বাধ্য করা হয়। বিমান ছাড়ার আগপর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে বিমান ছাড়ার পর টিস্যু পেপার দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। গন্তব্যে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই ভিজে যান বেশ কয়েকজন যাত্রী।

ভিডিওতে দেখা যায়, পাইলট যখন বিমান ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন, তখন যাত্রী ম্যাককালাহ একটি ম্যাগাজিনের সাহায্যে সেই পানিকে ভিন্ন দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। বিমানটি যাত্রীবোঝাই ছিল। ফলে যাত্রীরা এদিক-সেদিক নড়াচড়া করারও কোনো সুযোগ পাননি।

এক হাজার ৮০০ ডলার দিয়ে টিকেট কেটেছিলেন ম্যাককালাহ। এর পরও যাত্রাপথে এমন অসুবিধায় পড়তে হয়েছে তাঁকে। অবশ্য বিমান কর্তৃপক্ষ মাশুল হিসেবে তাঁকে ১০০ ডলার দিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

গত রোববার (২ জুলাই) ধানমণ্ডিতে নিজের চাকরিরত অফিসে আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে আর থাকবেন না বলে জানিয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন। তবে বিগত সময়ও এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। বিসিবির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের অক্টোবরে। কিন্তু নাজমুল হাসান জানালেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

পাপন জানান, মন থেকেই তিনি আর সভাপতি থাকতে চান না। তিনি এতো চাপ নিতে পারছেন না। তবে পরিচালক হিসেবে থাকার ইচ্ছে রয়েছে তার। এছাড়া আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেতৃত্ব নিয়েও চিন্তাভাবনা করছে বিসিবি।

কয়েকদিন আগে শ্রীলংকান মিডিয়ায় এসেছে তারা কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহকে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিসিবি নির্ভার যে, কোচ ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গেই থাকছেন।

পাপন বলেন, ক্রিকেট থেকে দূরে সরে থাকাটা আমার জন্য কঠিন। আমার মনের কথা ক্রিকেটে থাকলে পরিচালক হয়েই থাকা আমার জন্য ভালো। সভাপতি হয়ে থাকাটা আমার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অনেক বেশি সময় দিতে হচ্ছে।

পাপন বলেন, ‘দেখা যায়, কোনো না কোনো খেলোয়াড়ের সমস্যা আছে। তারা যেহেতু আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাই অনেক বেশি সময় চলে যায়। এছাড়া আইসিসি, এসিসি, চাকরি, রাজনীতি সব কিছু মিলিয়ে অনেক বেশি চাপ হয়ে যাচ্ছে।’

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম শুননেই প্রতিটি পুরুষ হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়। শুধু পুরুষ হৃদয়েই নই মেয়েদের মনেও দোলা খায়। ঐশ্বরিয়ার রুপের আসল রহস্য কি। এই বিশ্বসুন্দরী ফ্যাশন সরণীতে হোক বা বলিউডে বা হলিউডে সব জায়গাতেই সবার হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। মাঝে মাঝেই নিশ্চই আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগে উনি নিজেকে এত সুন্দর রাখেন কীভাবে? চলুন চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক ঐশ্বর্যর বিউটি সিক্রেটসের দিকে।

ঐশ্বর্য রাইয়ের বিউটিসিক্রেটস :
ঐশ্বর্য জিনগতভাবে সুন্দর স্কিন আর চুলের অধিকারী। তা সত্ত্বেও উনি খুব হেল্দি লাইফস্টাইল ফলো করেন সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য। ফ্রায়েড ফুড,জাঙ্ক ফুড, প্যাকেজড ফুড, মদ, স্মোকিং এইসবের থেকে দূরে থাকেন উনি। ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আর ফাইবার যুক্ত ফল ও সব্জি খান প্রচুর পরিমাণে। আর শ্যুটিং এর সময় ঘরের খাবার খেতেই পছন্দ করেন উনি। সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে জল পান করেন স্কিন হাইড্রেটেড আর ফ্রেশ রাখার জন্য। এছাড়াও বেশ কিছু বিউটি সিক্রেটস ফলো করেন যা আমরাও রোজকার জীবনে ফলো করতে পারি।

ঐশ্বর্যের স্কিনকেয়ার রুটিন :
ঐশ্বর্য বেসন দুধ আর হলুদ ব্যবহার করেন স্কিন এক্সফলিয়েট করার জন্য। সঙ্গে দই ও ব্যবহার করেন ত্বকেরআর্দ্রতা ধরে রাখতে। আর শসার মাস্কও লাগান। এর সঙ্গে রোজ ব্যবহার করেনময়শ্চারাইজার। তবে ত্বকের জন্য বেশিরভাগ ন্যাচরাল জিনিস লাগাতেই পছন্দ করেন উনি।

ঐশ্বর্যের মেক আপ সিক্রেট:
ঐশ্বর্য কোন সময়ই উগ্র মেক আপ পছন্দ করেন না। বেশিরভাগ সময়ই পিঙ্ক, পিচ আর ব্রাউনের শেড বেছে নেন ঠোঁট আর গালের জন্য। ম্যাক, রেভলন, মেবিলিন ওঁর প্রিয় ব্র্যান্ড।

ঐশ্বর্যের ডায়েট:
যে কোন ফ্যাটি খাবারের থেকে দূরে থাকেন ঐশ্বর্য। সব্জি সেদ্ধ খেতে পছন্দ করেন খুব। মাঝে মাঝে ব্রাউন রাইসও খান। একসঙ্গে প্রচুর খাবার না খেয়ে মাঝে মাঝে অল্প অল্প খাবার খান।

ঐশ্বর্যের ফিটনেস সিক্রেট:
এই গ্ল্যাম কুইন সব সময় মেনে নিয়েছেন উনি কোনদিন জিরো ফিগারের পিছনে ছোটেন নি। একমাত্র ‘ধুম ২’ এর জন্য অনেকটাই টোনড ডাউন আর ফিট হতে হয়েছিল ওঁকে।

মাঝে মা হওয়ার পর প্রায় ব্যায়াম করা ছেড়ে দিয়েছিলেন, ফলে একটু মোটা হয়ে যান কিন্তু এখন আবার পুরনো অ্যাশকে ফিরে পেয়েছি আমরা। সকালে উঠে ৪০ মিনিট দ্রুত মর্নিং ওয়াক করার পর প্রায় এক ঘন্টা ফ্রি হ্যান্ড আর যোগ ব্যায়াম করেন উনি।

ঐশ্বর্য সব সময় বিশ্বাস করেন সিম্পল যোগ ব্যায়াম আর সহজ লাইফস্টাইল ফলো করলে যে কেউ ফিট এবং সুন্দরী থাকবেন। তাই আপনিও যদি এই বিশ্বসুন্দরীর মতো সবার মন জয় করতে চান তা হলে আজ থেকেই ফলো করুন ওঁর বিউটি রেজিম।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানায় রোববার একই দিনে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেড়েছে লক্ষনীয়ভাবে। বেসরকারি হিসেবে চলতি বছর জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন বজ্রপাতে।
গত বছর সাড়ে তিনশো মানুষ মারা গিয়েছিল এবং সে বছরই বহু মানুষের প্রাণহানির পর প্রথম বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার।

এরপর বজ্রপাত রোধে নেয়া হয় বিশেষ পরিকল্পনা এবং শুরু হয় সতর্কীকরণ কর্মসূচি। কিন্তু তারপরও থেমে নেই এমন মৃত্যু।
রোববার কুষ্টিয়ায় বৃষ্টিপাতের সময় বজ্রপাতের কবল থেকে রক্ষা পেতে ভ্যান থেকে নেমে মাঠের মাঝে একটি কাঁচা ঘরে কয়েকজন আশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি, সেখানেই বজ্রপাতে প্রাণ গেছে শিশুসহ ৫ জনের।
তাদের মধ্যে এগারো বছরের একটি শিশুও রয়েছে বলে জানান কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার ওসি মো রফিকুল ইসলাম। বজ্রপাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরাম। এর সদস্য সচিব গওহর নাঈম ওয়াহারা।
তাদের হিসেবে বাংলাদেশের গত বছর বজ্রপাতে মারা যান ৩৫০জন। তার আগের বছর মারা যান ২৭৪ জন। ২০১২ সালের পর থেকে প্রাণহানির সংখ্যা দুইশোর নিচে ছিল না।
ডিজাস্টার ফোরাম বলছে এ বছর মে মাস পর্যন্ত ৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। জুন মাসেও ত্রিশ জনের মতো প্রাণ হারায়। ফলেমোট সংখ্যা প্রায় একশো। এ সংখ্যা আরো বাড়ার আশংকা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন গওহর নাঈম ওয়াহারা।
বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যাটি একদিকে যেমন বাড়ছে তেমনি অন্যদিকে তার খবরও আগের তুলনায় প্রচার মাধ্যমে আসছে অনেক।
বজ্রপাতের ফলে প্রাণ হারাচ্ছেন মূলত কর্মক্ষম পুরুষেরা। গওহর নাইম ওয়াহারা বলছিলেন এর ফলে বহু পরিবার নি:স্ব হয়ে পড়ছে।
“বিভিন্ন সময় বজ্রপাতে হতাহতদের মধ্যে নারী ছিল, শিশু ছিল। কিন্তু কর্মক্ষম পুরুষের সংখ্যা প্রত্যেক মানুষের সংখ্যা কিন্তু সবচেয়ে বেশি। তারা কাজ করছিল। মাঠে কাজ করছিল, নৌকা চালাচ্ছিল, হয়তো কোনও একটা গাছের নিচে বসে বিশ্রাম ছিল।”
“বজ্রপাত কেড়ে নিচ্ছে গ্রামের কর্মঠ পুরুষদের তাদেরকে নিয়ে আমাদের কোন চিন্তা নেই। তারা এতই গরীব মানুষ” -বলছিলেন নাঈম ওয়াহারা।
ডিজাস্টার ফোরাম জানাচ্ছে- বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিদের হিসেব অজানা। তবে ধারণা করা হয় যে সংখ্যায় মানুষ নিহত হন তার চেয়ে চার থেকে ৫ গুণ মানুষ আহত হন।
সরকারের পক্ষ থেকে গত বছরই বজ্রপাতকে দুযোর্গ হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং বিভিন্ন রকম সতর্কতামূলক প্রচার কার্যক্রম নেয়া হয়।
সরকারিভাবে বিভিন্ন এলাকায় ১০ লাখ তালগাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। কারণ বজ্রপাত থেকে রক্ষার জন্য উঁচু গাছপালা সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
দুর্যোগও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: শাহ কামাল বলেন, “এখন একটা দুর্যোগ হিসেবে গ্রহণ করেছি। এতদিন পর্যন্ত এটা ছিল গ্রামীণ এলাকাতে। যেমন বিল এলাকা বা হাওর এলাকাতে ছিল, এখন এটা দেখা যাচ্ছে শহর এলাকাতেও হচ্ছে। এখন আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি দশ লাখ গাছ লাগাতে। এই গাছগুলো বড় হতে তো সময় লাগবে।”

“এই সময়ের মধ্যে আমরা চাচ্ছি টাওয়ার নির্মাণ করতে। তবে সবার চেয়ে বেশি দরকার সচেতনতা। আমরা টেলিভিশন রেডিওতে বিভিন্নভাবে সচেতন করার কাজ করছি। স্থানীয়ভাবে আরো কিছু প্রশিক্ষণ দেয়ার চিন্তা আছে। আর ১০৯০ নম্বরে ফোন করে যে কেউ কোথায় বৃষ্টি হবে কোথায় বিজলি চমকাবে সেটা জানতে পারবে”।
তবে গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া অল্প শিক্ষিত মানুষদের পক্ষে ফোন করে বৃষ্টি বাদলার খবর নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া আসলে কতটা সম্ভব সে প্রশ্নটি এখনও বহাল।
কৃষিজীবী বা ক্ষেতমজুর -দিনমজুর, মাঝি, জেলে এই মানুষদের পক্ষে কাজ বাদ দিয়ে ঘরে বসে থাকা মানে একদিনের রোজগার কমে যাওয়া।
গবেষক বা পরিবেশবিদরা মনে করেন গ্রামে বা শহরে বাড়ি ঘরের ক্ষেত্রে আর্থিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেমন জরুরি তেমনি গাছ কেটে উজার করার ফলে বাড়ছে এ ধরনের মৃত্যু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যক গ্রামে যেভাবে মোবাইল টাওয়ার বসানো হচ্ছে তার সাথে আর্থিং সিস্টেম সংযুক্ত করতে পারলে বজ্রপাতে মৃত্যু রোধ করার কাজটাতে একটি ভূমিকা রাখতে পারে সেটি।
আর বজ্রপাতে মৃত মানুষদের পরিবারকে সরকারি তরফে আর্থিক কিছু সহায়তা দেয়া হলেও যে শত শত মানুষ অসহায় অবস্থায় বেঁচে থাকছে তাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার বিষয়টি এখনো অনেকটাই থেকে যাচ্ছে উপেক্ষিত।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি : পাটকেলঘাটা হারুন-অর-রশিদ ডিগ্রী কলেজে গতকাল সকাল ১০টায় ২০৬ নং কক্ষে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির পরিচিতিমূলক ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াজিহুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক ফকির আহমদ শাহের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শেখ আব্দুল মালেক, অধ্যাপক সুব্রত কুমার দাশ, অধ্যাপক আব্দুল গফ্ফার, অধ্যাপক আরশাদ আলী, অধ্যাপক আহ্লাদ চন্দ্র, অধ্যাপক সরদার নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. নাজমুল হক, অধ্যাপক লক্ষ্মী রানী দাশ প্রমুখ। এ সময় নবাগত শিক্ষার্থীদের মাঝে রজনীগন্ধা ফুল বিতরণ করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

dav

শ্যামনগর ডেস্ক : শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা গ্রামে ‘‘সরকারি নির্দেশনায় মানুষ ও গর” এক ঘরে’’ শীর্ষক একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ায় গতকাল ০২ জুলাই সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: কামরুজজামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ আব্দুল¬াহ সাদীদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা , শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সার্ভেয়ার সাংবাদিকবৃন্দ জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন ‘‘সরকারি নির্দেশনায় মানুষ ও গর” এক ঘরে’’ শীর্ষক সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ফুলদাসী মুন্ডা (ফুলকি) তাঁর ছেলে চার” মুন্ডার পরিবারের সাথে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে। তাদের গর” রাখার জন্য আলাদা গোঁয়াল ঘর আছে এবং বর্তমানে সেখানেই গর” রাখা হচ্ছে। চার” মুন্ডাসহ স্থানীয়দেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা গর” গোঁয়াল ঘরে রাখা হয় বলে জানায়। তাদের বসবাসকৃত সরকারি খাস জমির পাশে রেকর্ডীয় জমির সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া তাদের যাতায়াতের পথের জন্য ৫ ফিট জায়গা প্রদানে সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ফুলদাসী মুন্ডা (ফুলকি) তার ছেলের পরিবারের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস) এর নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের সাজানো নাটকীয় ঘটনা ফেসবুকে প্রকাশ করায় উপস্থিত জনসাধারণ তাকে ধিক্কার জানান। স্থানীয়রা আরো বলেন উক্ত কৃষ্ণপদ মুন্ডা ও তার সহযোগীরা পরবর্তীতেও এ ধরনের কর্মকা- ঘটাতে পারে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী রেবেকা বেগম

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী তালা উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের আলতাব সরদারের স্ত্রী রেবেকা বেগম। তিনি বলেন,“আমার সংসারে অনেক মানুষ। ছেলেমেয়েদের দু’বেলা খাওয়ানোর মত টাকা আয় হত না। দু’জনে আয় করে যা আয় হত সকলে দু’বেলা খাওয়া চলত না। তখন একজনের কাছ থেকে একটা গরু নেই। নিজেদের খাওয়া যোগাতে পারি না, গরুর খাবার তারপরে গরুটা বড় করে সেটা থেকে একটা বাচ্চা হয় এবং মালিক সেটা আমাকে দিয়ে দেয়। সংসারে অভাবের কারণে বাড়ি থেকে সকলে মিলে কাজের জন্য ঢাকায় চলে যায়। একজনের আয়ে সেখানে আমাদের চলছিল না। দীর্ঘ ৫/৬ বছর আমরা ঢাকায় থাকি তারপর বাড়িতে এসে আমরা ঐ গরুটা পালন শুরু করি। আস্তে আস্তে আমার অনেক গরু হয়। মাসে অনেক টাকার দুধ ও মশাল বিক্রি করে। বছরে কমপক্ষে ৪/৫ শত মশাল বিক্রি করি। বর্তমানে আমার গোয়ালে কয়েক লক্ষ টাকার গরু রয়েছে। এভাবে আস্তে আস্তে আমার অবস্থার পরিবর্তন শুরু হয়। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়েছি। তারা সকলে স্বামীর বাড়িতে ভাল আছে। আর সকল সমস্যা এর মাধ্যমে সমাধান করি। প্রায় ৫/৬ বিঘা জমি বন্ধক রেখে সেখানে ফসল ফলাচ্ছি। এখন আমার মাসে অনেক টাকা আয় হয়। বর্তমানে আমাদের সংসারে কোন অভাব নাই। আমি এভাবে আমার অবস্থার পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ আমার সকল আশা পূরণ করে দেন। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।
দু’বেলা পেট ভরে খেতে পারতাম না। এখন বর্তমানে লক্ষ টাকার মালিক হতে পেরেছি। আমার বাড়িতে বর্তমানে অনেক গরু ছাগল রয়েছে। সংসার ভাল ভাবে চালাতে পারছি। তাই এখন আমি আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বি।”

শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্য অজর্নকারী নারী তন্নি রায়

শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্য অজর্নকারী নারী তালা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের রামপ্রসাদ রায়ের কন্যা তন্নি রায়। তিনি বলেন,“ আমি লেখাপড়া করতাম। আমি যখন একাদশ শ্রেণিতে পড়তাম, তখন আমার মা বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। তারা আমাকে কিছুদিন লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয় পরে লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে বলে এবং গ্রামের বাড়িতে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। অনেক সহ্য করে স্বামীর বাড়িতে চেষ্টা করেও লেখাপড়া করতে পারিনি। পরে বাবার বাড়িতে আসি। অনেক ঝগড়া বিবাদের পরে আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন কোন দিশা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। লেখাপড়া শুরু করি। পরীক্ষায় এ গ্রেডে উত্তীর্ণ হই। পরে নার্সিং পেশা অর্থাৎ মানুষের সেবা করার জন্য এখানে লেখাপড়ার চেষ্টা করি ও চান্স পেয়ে যায়। পরে সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নার্সিং পড়া শুরু করেছি। নার্সিং শেষ করে হাসপাতালে যোগদান করে মানুষের সেবায় আমি নিয়োজিত থাকব। মানুষের সেবা করাই আমার ধর্ম। এটা মনে করে সামনের দিন গুলো কাটাতে চাই। বাবার আর্থিক অবস্থা অনেক খারাপ। তারপরও বাবা চেষ্টা করেছেন আমার লেখাপড়া করে মানুষ করার জন্য। পরম করুনাময় আমার আশা যেন পূরণ করেন। এটাই আমার একান্ত কাম্য। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে পুনরায় লেখাপড়া শুরু করেছি। এখন আমি অনেক ভাল অবস্থানে চলে এসেছি। আমাদের গরীব পরিবারের পক্ষে লেখাপড়া করানোর হচ্ছে না তারপরেও অনেক কষ্টা সহ্য করে পুনরায় লেখাপড়া শুরু করেছি। লেখাপড়া শেষ করে মানুষের সেবা করে যাব।”

সফল জননী অনিমা দেবনাথ

সফল জননী নারী তালা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত: দিলীপ দেবনাথের স্ত্রী। তিনি বলেন,“আমার স্বামী ছিল মানসিক প্রতিবন্ধী। আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। সংসার চালানোর মতই কিছুই ছিলন না। স্বামীর সাথে ঘর সংসার চলাকালীন আমার তিনটি কন্যা সন্তান হয়। শত প্রতিকূলতা দারিদ্রতার সাথে আমি আমার সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিগত ৫ বছর পূর্বে আমার স্বামী মারা যায়। আমার স্বামী মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় এলাকার মানুষ আমাকে অনেক অত্যাচার করেছে। যে আমি বাড়িঘর ছেলে অন্যত্র চলে যায়। কিন্তু শত প্রতিকূলতা ও দারিদ্রতার মাঝে ছেলেমেয়েদের মানুষ করার চেষ্টা করেছি। আমার সন্তানেরা পড়ালেখা ভালভাবে যাতে করতে পারে চেষ্টা করছি। সে জন্য আমি মাঠে কাজ করি। তিন সন্তানের লেখাপড়া, তাদের পোশাক পরিচ্ছদ, খাওয়া দাওয়া সুষ্ঠভাবে আমার পক্ষে পরিচালনা করা ছিল খুবই অসাধ্য। দু’মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ছোট মেয়েকে কুমিরা মহিলা কলেজে বাংলা বিভাগে ৪র্থ বর্ষে অনার্স পড়াচ্ছি। তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে সমাজে মানুষের উন্নয়নে কাজ করার আশা করছি। আমি সমাজের মানুষের জন্য কাজ করি। আমি ব্র্যাকের একজন সেবিকা হিসেবে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমি শত দুঃখ কষ্ট সহ্য করে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করতে পেরে আমি গর্বিত বোধ করি।”

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে কাজ করছেন তাসলিমা

তালা উপজেলার ভায়ড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ এর কন্যা তাসলিমা খাতুন। তিনি বলেন,“ আমার বিয়ের এক বছরের মধ্যে স্বামী আমাকে তালাক দেয়। আমার গর্ভে তখন বাচ্চা ছিল। তারপর এক তালাক করে আমার মা বাবা উভয়ই মারা যায় ছোট একটা ভাই রেখে। কিভাবে সংসার চলবে জানতাম না। কাজের জন্য বাড়ির বাহির হয়ে যায়। লোকের বাড়ি কাজ করতাম। যা পাইতাম তাতে তিন জনের দু’বেলা সংসার চলত না। লোকের বাড়ি থেকে চেয়েও এনে খেয়েছি। ছোট ভাই স্কুলে যাওয়ার মত ছিল সে লেখাপড়া করত। আমার মত যেন তার কপাল না পোড়ে সেজন্য তার লেখাপড়া বন্ধ করিনি। রাজমিস্ত্রীর সাথে জোগাড়ির কাজ করতাম। যেটা পাইতাম তা দিয়ে দু’বেলা কোন রকম সংসার চলত। থাকার মত কোন ভাল জায়গা ছিল না। তালায় এসে বাসা ভাড়া করে থাকতাম। এভাবে চলতে চলতে আমার ভাই ৫ম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করে। অষ্টম শ্রেণিতে গোল্ডেন এ প্লাস নিয়ে পাস করল। এসএসসি তে গোল্ডেন এ প্লাস ও এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়ছে। আমার ছেলে ও ভাইকে মানুষ করার চেষ্টা করে সফল হয়েছি। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে বর্তমানে নতুন উদ্যোগে কাজ শুরু করে এখন আমি সফল হয়েছি। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে বর্তমানে ভাই ও ছেলেকে মানুষ করে নিজেও পূর্বের তুলনায় অনেক ভাল অবস্থানে চলে আসতে পেরেছি। আমার মত অসহায় মেয়ে ভাইতে ঢাকা ভার্সিটিতে পড়াতে পারাটা কতটা কষ্টকর তারপরেও আমি সফল হয়েছি।”

সমাজ উন্নয়নে অসমান্য অবদান রেখেছেন জাকিয়া সুলতানা ইতি

সমাজ উন্নয়নে অসমান্য অবদান রেখেছেন তালা উপজেলার কলিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাকিয়া সুলতানা ইতি। ১৯৯৭ সালের ৪ এপ্রিল বিবাহ হয় কলিয়া গ্রামের মো: শামছুর রহমান মোড়লের পুত্র শামীম কবিরের সাথে। স্বামীর সাথে সংসার করে দু’টি কন্যা সন্তানের জননী হয়। স্বামীর সংসার সামলিয়ে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ায়। বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলা করে ও বাল্যবিবাহ রোধের জন্য সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে বহুমুখী কার্যসম্পাদন করে। দেখতে দেখতে স্বামীর সংসার ১১ বছর পার করতে না করতে হঠাৎ ২৮ ই জুন ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গভীর রাতে স্বামীর মৃত্যুবরণ হয়। বিধবা জাকিয়া সুলতানার অবুঝ দুধের বাচ্চাসহ দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে মানসিক ও আর্থিক ভাবে নির্যাতনের মুখোমুখি হয়। তখন সে নারী উন্নয়ন সংস্থার সাথে বিভিন্ন ধরনের সমাজ উন্নয়ন মূলক কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে। অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সময় দিতে থাকে অসহায় মানুষের কল্যাণের জন্য। অদম্য পরিশ্রম করে প্রতিরোধ করেছে বাল্য বিবাহ। উৎসাহ দিয়েছে শতশত কিশোরী মেয়েদের। স্বপ্ন দেখিয়েছে তাদের উজ্বল ভবিষ্যতের। কখনো মা বাবাকে বুঝিয়েছে, কখনো কাজীকে বাল্য বিবাহ রোধের জন্য পরামর্শ দিয়েছে আবার কখনো কিশোরী মেয়েদের বাল্য বিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে গানের মাধ্যমে সচেতন করেছে। তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ১৭ গ্রামের প্রতিটি বাড়ির কিশোরী মেয়েরা জাকিয়া আপাকে চেনে। পায়ে হেঁটে সময় পেলে সকলের বাড়িতে যায়।
কিন্তু ক্ষমতা ও আইনের ফাঁক ফোকরের অজুহাত দেখিয়য়ে গোপনে গোপনে বাল্য বিবাহ চলতে থাকে। এই বাল্য বিবাহের দৃশ্য দেখে হতাশ হন জাকিয়া সুলতানা। তখন সমাজের মানুষের কান কথাকে উপেক্ষা করে বিধবা জাকিয়া সুলতানা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি- নারী উন্নয়ন সংস্থার পরিচালনা পরিষদের সদস্য, শতদল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য, উত্তরণ সংস্থার বিনামূল্যে আইন সহায়তা প্রকল্পে ইউনিয়ন কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট তেঁতুলিয়া শাখার সদস্য। এ সকল প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পরিষদের দায়িত্বে থেকে সমাজ উন্নয়নের হাতকে শক্তিশালী করেন। কিন্তু বাল্য বিবাহ দৃষ্টিভঙ্গির অসচেতন ব্যক্তিরা বিভিন্ন অসাধু উপায়ে একের পর এক বাল্য বিবাহ দিয়ে থাকে। সমাজের বিভিন অনিয়ম প্রতিরোধ, সামাজিক উন্নয়ন ও বাল্য বিবাহ রোধে উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে নিজেকে দাঁড় করায়। তার অদম্য চেষ্টা, সাহসী, ত্যাগী, কর্মঠ মহিলার সদিচ্ছা দেখে বিপুল জনসমর্থন দিয়ে সমাজের মানুষ তাকে ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বর বানায় ২২ মার্চ ২০১৬ ইং তারিখে। বর্তমানে জাকিয়া সুলতানার হাত অনেক শক্তিশালী। ৫ নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কোথাও বাল্য বিবাহ হতে থাকলে এলাকার মানুষ জাকিয়া আপাকে জানায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বরগণ জাকিয়া আপার ডাকে সাড়া দেয়। ঝাঁপিয়ে পড়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে। অনেক বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছে। কিশোরী মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের সচেতনতা প্রশিক্ষনের মাধ্যমে উজ্বল ভবিষতের দিকে নিয়ে গেছে। তার বড় কন্যা এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও ছোট কন্যা ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত বর্তমানে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার SDG অর্জনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সূর্য উদয় থেকে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত বিরামহীনভাবে অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আর বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সমাজ উন্নয়নে অসামন্য অবদান রেখে চলেছেন। তাই তিনি নিজের ভাষায় বলতে চান- “মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই”।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest