নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার সেকেন্ড অফিসারসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাতে গুষ নিয়ে সকালে ফেরত দেয়ায় পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন হালিমা নামে এক গৃহবধু। শুক্রবার দুপুর একটার দিকে কলারোয়া প্রেসক্লাবে উপজেলার পাটুলিয়া গ্রামের আওয়ামীলীগের সমর্থক আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী হালিমা খাতুন কলারোয়া থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই আনোয়ার হোসেন ও এএস আই সাইদুর রহমানের বিচার চেয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ও লিখিত অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে হালিমা খাতুন লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার স্বামীসহ তার পরিবারের সবাই আওয়ামীলীগের সমর্থক। তার দ্বিতীয় কন্যা বি-ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ভারতে তার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ২৩হাজার টাকা জোগাড় করে বাড়িতে রাখে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে কে বা কারা তার বাড়ির দরজায় প্রচন্ড জোরে ধাক্কা মারতে থাকে। এসময় তিনি দরজা খুলেই দেখতে পান পিস্তল হাতে ওই দুই দারোগাসহ কয়েকজন পুলিশ। কোন কিছু বলার আগেই তারা বলেন যে, বাড়িতে টাকা কত আছে? তিনি বললেন, তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক কষ্টে ২৩হাজার টাকা গুছিয়ে রেখেছি। বলা মাত্রই দুই দারোগা বলেন, টাকা গুলি নিয়ে আয়, তা নাহলে তোর স্বামীকে ক্রসফায়ারে দিয়ে দিব। তখনই তিনি প্রান ভয়ে ঘর থেকে ২৩হাজার টাকা এনে সাঈদ দারোগার হাতে দিয়ে দেন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, এরপর দারোগা আনোয়ার আরো ২০ হাজার টাকা পাশ থেকে ধার করে নিয়ে আসতে বলেন। তখন তিনি ওই গভীর রাতে জীবনের বাজি রেখে পাশের বাড়ি রফিকুল ইসলামের নিকট ২০হাজার টাকা ধার চায়তে যান। কিন্তু ফিরে এসে যখন টাকা ধার পায়নি বলেন, তখন তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে তাদের হাতপা ধরে অনেক অনুনয় বিনয় করায় দারোগা সাঈদ বলেন, ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছি তবে আগামিকাল শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে আরো ২০হাজার টাকা নিয়ে থানায় আসবি। এসময় তারা (দারোগা) যোগাযোগ করার জন্য একটি মোবাইল নং- ০১৭৯৯-১০০৬১২ দিয়ে আসেন। শুক্রবার সকালে হালিমা খাতুন বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি উপজেলা আ.লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানাতে বলেন। পরে সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনের বাসায় গিয়ে তাকে বিষয়টি বিস্তারিত জানালে তিনি (উপজেলা চেয়ারম্যান) পুলিশের দেয়া নম্বরটিতে কল দিলে দারোগো সাঈদ ধরে বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ওসি সাহেবকে বললে ওসি সাহেব তাকে (হালিমা) থানায় পাঠিয়ে দিতে বলেন। তিনি থানায় গেলে ওসি সাহেব ওই দুই দারোগাকে ডাকেন এবং চিনেন কিনা বলেন। ওই দুই দারোগা আসার সাথে তিনি বলেন, এনাদের দুই জনের কাছে টাকা দিয়েছি। ওসি সাহেব তখন দারোগা আনোয়ার ও সাঈদকে টাকা ফের দিতে বলেন এবং ওসি সাহেবের সামনেই তারা উক্ত ২৩ হাজার টাকা তাকে (হালিমা) ফেরত দেন। টাকা নিয়ে থানা থেকে বের হওয়ার সময়- ‘টাকা নিয়ে বাড়ি যা, এক সপ্তাহের মধ্যে বুঝতে পারবি’ বলে সাঈদ দারোগা হুমকি দিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন হালিমা খাতুন। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন বলেন, কলারোয়া থানার দারোগা আনোয়ার হোসেন ও সাঈদ হোসেন উল্লেখিত আব্দুস সাত্তারের নিকট থেকে ২৩হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তবে সকালে ওসি সাহেবকে বলার পর তারা টাকা গুলি ফেরত দিয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে থানার সেকেন্ড অফিসার আনোয়ার হোসেন ও সাঈদ হোসেনেরে নিকট মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তারা ওই রাতে বাইরে কোন অভিযানে যাননি জানিয়ে বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখ জানান, আব্দুস সাত্তার নামে ওই গ্রামে একজন থানায় লিস্টেট ব্যক্তি আছে। তবে ওইদিন রাতে ভুল বশত: উল্লেখিত আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা। এছাড়া টাকার লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, শুক্রবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে (হালিমা) থানায় পাঠালে বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির একটা সুরাহা করে দেয়া হয়েছে।

আমির হোসেন খান চৌধুরী: আজ সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের বার্ষিক সাধারণ সভা। গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত দুই বছর ধরে এই সংস্থাটির বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন করা হচ্ছে কিছুটা লুকোচুরি করে! ১১৪১ জন আজীবন সদস্যের এই ইউনিটের সাধারণ সভা এমন এক জায়গায় আয়োজন করা হচ্ছে যেখানে একসাথে ১০০ জনকেও বসানো সম্ভব নয়! অর্থাৎ সুপরিকল্পিতভাবে সদস্যদের উপস্থিত হতে নিরুৎসাহিত করে সাজানো সাধারণ সভার আয়োজন চলছে! অন্যদিকে ডাকযোগে সকল সদস্যদের নিকট বার্ষিক সাধারণ সভার নোটিশ পাঠানোর কথা থাকলেও শত শত সদস্য কোনদিনই এ নোটিশ পান না। আবার অনেকেউ সভা অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর এ নোটিশ হাতে পান। কোরাম না পুরলেও ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে সভার উপস্থিতির কোরাম পূরণ হয়েছে দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শুধু অনিয়ম-দুর্নীতি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট। এ নিয়ে রেডক্রিসেন্টের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে তীব্র ক্ষোভ।