সর্বশেষ সংবাদ-
হত্যা মামলা কারাগারে থাকা অবস্থায় সাতক্ষীরা জজকোর্টের সাবেক পিপি লতিফের মৃত্যুপ্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদঈদকে সামনে রেখে অপরূপ সাজে সেজেছে দেবহাটার রূপসী ম্যানগ্রোভ ফরেস্টহত্যা, ধর্ষণ, জুয়া ও মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক ‘ক্রসফায়ার’: প্রধানমন্ত্রীকে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আবেদনদুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালাশহরের কুখরালী থেকে সোহানা নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারঈদ উল আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় রোড শো, ও পরিবহণ কাউন্টারে মনিটারিংকালিগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি সোহরাব হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তালায় গাঁজা সেবনের সময় আটক দিদার মোড়ল : ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ডসাতক্ষীরায় পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অবহিতকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরায় বিটিভির ক্যামেরা পার্সন মীর মোস্তফা আলীর মাতা মলুদা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা -০২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। শোক বার্তার তিনি বলেন, “মঙ্গলবার রাতে বার্ধ্যক্য জনিত কারণে তিনি নিজস্ব বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠক জীবদ্দশায় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিক হিসাবে সমাজ পরিবর্তনের ও দূর্ণীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিপ্লবী আদর্শের বীর সৈনিক রুপে স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তাঁর আদর্শ ও জীবনাচরণে সকলকে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করবে। ৭১’র অকুতোভয় বীর সেনানী মোড়ল আব্দুস সালাম জন্ম গ্রহন করেন ১৯৪৮ খ্রিঃ ১লা এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার কৃষ্ণকাটি গ্রামে। তার পিতার নাম হাজী আবুল কাশেম মোড়ল, মাতা আশাফুন্নেছা বেগম। ৩ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ছোট বেলায় তাঁর বাবা মা ও গ্রামবাসী আদর করে তাকে ডাকতো বাচা। লেখাপড়ার হাতে খড়ি কৃষ্ণকাটি প্রাইমারী স্কুলে। এর পরবর্তীতে ভর্তি হন কপিলমুণি সহচরী বিদ্যামন্দিরে। এই স্কুলে লেখাপড়ার সময় ১৯৬২ সালে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় তদানীন্তন পাকিস্তান সরকারের হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বাতিলের আন্দোলন ও ধর্মঘট পালনের মধ্যে দিয়েই মূলতঃ রাজনীতিতে হাতে খড়ি মোড়ল আব্দুস সালাম মোড়লের। তিনি ১৯৬৪ সালে কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী দাবার আন্দোলন, স্কুলের নির্বাচিত মণিটর এবং ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ঐ স্কুল থেকে ২য় বিভাগে মেট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন। উচ্চ শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে ভর্তি হন বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ দৌলতপুর ব্রজলাল (বি,এল কলেজ) মহাবিদ্যালয়ে এবং ১৯৬৬ সালে দৌলতপুর কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে এখান থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বাগেরহাটে আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র (পি,সি কলেজ) মহাবিদ্যালয়ে ¯œাতক শ্রেণীতে ভর্তি হন। সে সময়ে দেশে রাজনীতি তুঙ্গে, তিনিও সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত পর পর দু’বার বাগেরহাট মহাকুমায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী সরকার বিরোধী গণআন্দোলনে ক্যাম্পাস থেকে গ্রেফতার হন এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারী সরকার আন্দোলন মুখে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। ঐ একই বছর তৎকালীণ পাকিস্তানের মন্ত্রী খান এ সবুর তার রাজনৈতিক সফরে তালায় এসে পরবর্তীতে কৃষ্ণকাটি হাইস্কুল পরিদর্শনে যান। এই সময় সবুর খানের আগমনের প্রতিবাদে পাড়া থেকে ছেড়া জুতা সংগ্রহ করে কৃষ্ণকাটি রাস্তায় রাস্তায় জুতার মালা টাঙ্গিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
তিনি ১৯৭০ খ্রিঃ ৭ই ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রলীগের জাতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য নিরুপনে ছাত্রলীগ আহুত কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের ঢাকা বলাকা ভবনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় যোগ দেন। সভায় স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তৎকালীণ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক স্বপন কুমার চৌধুরীর প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক নির্দেশনা পথ বেছে নেন। ১৯৭০ খ্রিঃ ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসকে বাংলাদেশ দিবস হিসাবে পালনের কর্মসূচীতে তৎকালীণ পাইকগাছা, আশাশুনি, বড়দল, রাড়–লী, কপিলমুণি, খুলনা ও সাতক্ষীরার ব্যাপক এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করেন তিনি। কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নির্দেশনায় ২৬ শে মার্চ আশাশুনির খড়িহাটির জনসভা বাতিল করে সাতক্ষীরা সদরে পৌঁছে ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান, কামরুল, আজিবর, ময়না, জজভাই, মাসুদা, কামরুজ্জামান, এনামূল, দেলোয়ার হোসেন দুলু, মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি, দুই খসরু, কাজল, হাবলু, গোলাম, সুভাষ সরকার, সাইদুর রহমানসহ সাতক্ষীরার ছাত্রনেতাদের প্রয়োজনীয় কাজের প্রস্তুতিকে নির্দেশনা প্রদান করেন। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ১৯৭১ সালের ২৯ শে মার্চ সাতক্ষীরার তৎকালীণ এসডিও খালেক মাসুদের অফিসের সামনে হাজির হয়ে মোড়ল আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা নামিয়ে তা পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং একই সাথে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। গণ পরিষদের সদস্য এম, এ গফুর এবং সুবেদার আয়ুব আলীসহ সাতক্ষীরা জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহায়তায় পাঞ্জাবী খালেদ মাহমুদকে গ্রেফতার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মোড়ল আব্দুস সালাম। দেশ মাতৃকার শৃঙ্খল ভাঙ্গার দুর্বার শপথে বলীয়ান মোড়ল মোড়ল আব্দুস সালামের চেতনায় প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের সৃষ্ট মশাল দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে। স্বাধীন দেশের কর্মযোগ্য পরিচালনায় অর্থের প্রয়োজনে সাতক্ষীরা শহরের পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংকের অর্থ ও সম্পদ সংগ্রহ করার পরিকল্পনায় ৮ই এপ্রিল সফল অভিযানে অংশগ্রহন করেন তিনি। সংগৃহীত হয় নগদ মোট এক কোটি বিরাশি লক্ষ টাকা যাহা ছিল নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহযোগিতার শুভ সূচনা। ১৯৭০ খ্রিঃ নির্বাচনের ব্যাপক গণ সংযোগ এবং সাংগঠনিক কাজের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন যোদ্ধা হিসেবে ভারতের দেরাদুন ক্যাম্প থেকে স্বশস্ত্র যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে ১৯৭১ খ্রিঃ ১৫ই আগষ্ট বৃহত্তর খুলনা জেলার মুজিব বাহিনীর প্রধান শেখ কামরুজ্জামান টুকুর নেতৃত্বে ১৬জন প্রশিক্ষিত এবং ১৯ জন সহযোগীসহ মোট ৩৭ জনের একটি দল নিয়ে ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে সাতক্ষীরা জেলার তালা মাগুরায় অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ পরিচালনার ঘাটি গড়ে তোলেন মোড়ল আব্দুস সালাম। এরপর শুরু করেন স্থানীয় মানুষের মধ্যে ট্রেনিং প্রদানের কাজ এবং পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর শত্রু ঘাঁটি আক্রমনের পরিকল্পনা। প্রস্তুতি পূর্বে প্রাথমিক আক্রমন পরিচালনায় পাইকগাছা, বড়দল, হাড়িয়ায় সফলতা অর্জিত হয়। এরপর পাটকেলঘাটা, কপিলমুণি রাজাকার ঘাঁটির বিরুদ্ধে কোন্টি আগে পরিচালিত হবে সেই প্রশ্নে মোড়ল আব্দুস সালাম সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর কথা মত কপিলমুণি রাজাকার ঘাঁটি আক্রমণ ও সফলতা অর্জিত হয়। ১৯৭১ সালের ৭ই ডিসেম্বর মঙ্গলবার এই যুদ্ধ সম্পর্কে মোড়ল আব্দুস সালাম লিখেছেন তার জীবনে কপিলমুণি যুদ্ধই শেষ যুদ্ধ। কপিলমুণি রাজাকার ঘাঁটির তালিকা মতে ১,৬০১ জন মানুষকে হত্যা করে। কপিলমুণি যুদ্ধে বিজয় অর্জিত হবার গর্বজনিত গণ আদালতের রায়ে বন্দী ১৫৫ জন রাজাকারের মধ্যে ১৫১ জনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। কপিলমুণি যুদ্ধের পর পর্যায়ক্রমে খুলনা ও ১৬ ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জনে মোড়ল আব্দুস সালাম একজন নিবেদিত প্রাণ সংগঠক ও নেতার দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে নৌপথ ও সামুদ্রিক গেরিলা যুদ্ধে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট অঞ্চলের যে সকল কমান্ডার ও নৌ-কমান্ডার সহযোগিতা করেন স,ম, বাবর আলী, শেখ কামরুজ্জামান টুকু, মুজিব বাহিনীর প্রধান, বৃহত্তর খুলনা। মুজিব বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার শেখ ইউনুস আলী ইনু, প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদ, গাজী মোঃ রফিক, মোড়ল আব্দুস সালাম, স,ম, আলাউদ্দীন, ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান, নৌ-কমান্ডো বজলুর রহমান, সমশের আলী, শফিক আহম্মেদ, ডঃ মাহফুজুর রহমান, মেজর সামছুল আরেফিন, সাইদুর রহমান কুটু ভাই, নুরুল ইসলাম মানিক, কে,এম মুজিবর রহমান, যিজির আলী বিবি, শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চুসহ হাজারও মুক্তিযোদ্ধা।
দেশ স্বাধীনের পর তিনি পূর্বতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পিসি কলেজ থেকে ¯œাতক ডিগ্রী লাভ করেন এবং পুনরায় ১৯৭২ সালে বৃহত্তর খুলনা জেলার ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। দেশের রাজনৈতিক টানা পোড়নের এক পর্যায় ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর জাসদ (জেএসডি) গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি ১৯৭৪ সালে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুরসহ কয়েকটি জেলার গণবাহিনী প্রধান ও সিওসি এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি কয়েকবার কারাবরণ করেন।
প্রগতিশীল প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন সক্রিয়। তাঁর দলের মতাদর্শগত সংগ্রাম পরিচালনায় বাঁধাগ্রস্থ হয়ে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হন এবং বাসদ গঠন করে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালে সংস্কারপন্থি জাসদের সাথে যুক্ত হন এবং ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ মেয়াদে জাসদের খুলনা জেলার সভাপতি ও পরবর্তীতে আমৃত্যু জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
মোড়ল আব্দুস সালাম তাঁর বর্নাঢ্য রাজনীর পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৯৭ সালে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোস্পানীর খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী ছিলেন। এছাড়াও বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন উত্তরণ পরিচালিত কেন্দ্রীয় পানি ও ভূমি কমিটি পরিচালনায় দক্ষ ভূমিকা পালন করেন। দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যায় সুপেয় পানির নিশ্চয়তা এবং এতদঅঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলনে কেন্দ্রীয় পানি কমিটির অন্যতম পুরোধা। এছাড়াও খুলনা সাতক্ষীরা অঞ্চলে খাস জমিতে ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রাম এবং ভূমিহীন নারী পুরুষদের মাঝে খাসজমি বিতরণের নেতৃত্ব দেন। তিনি উত্তরণ পরিচালিত তালা উপজেলা ভূমি কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেন। তালা উপজেলার খাসজমি চিহ্নিতকরণ, ভূমিহীন বাছাই ও তালিকা প্রণয়ন ছিল তাঁর চিন্তার ফসল।
সামাজিক জীবনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুস সালাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থেকে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তিনি কানাইদিয়া রথখোলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু স্মৃতি সংসদের আজীবন সদস্য, কপিলমুণি পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি, কপিলমুণি আঞ্চলিক বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সভাপতি, কপিলমুণি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, কৃষ্ণকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিসহ আরও বহু প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
ব্যক্তি জীবনে মোড়ল আব্দুস সালাম এক কন্যা সন্তানের জনক। তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নির্লোভ, খাঁটি বাঙালী এবং আদর্শ দেশপ্রেমিক, সদালাপী, বিনয়ী, যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞান মনোস্ক। তিনি কখনও সুযোগ সন্ধানী ছিলেন না। মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িকতাই ছিল তার ধর্ম। সকলের কাছে প্রিয় এই মানুষটি আমাদের মাঝে নেই। তিনি গত ৫ জুলাই ২০১১ খ্রিঃ মঙ্গলবার না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আমরা এ বীর সেনানীর অকাল প্রয়াণে শোকাহত, মর্মাহত। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করি।
এই মহান দেশপ্রেমিকের মৃত্যুর পরে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয় তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ;
মোড়ল আব্দুস সালাম গণ গ্রন্থাগার, বেসরকারীভাবে পরিচালিত, উত্তরণ এর ব্যবস্থাপনায়, তালা, সাতক্ষীরা।
বিপ্লবী আব্দুস সালাম স্মৃতি পরিষদ, কপিলমূণি, পাইকগাছা, খুলনা।
আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশন, তালা, সাতক্ষীরা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুস সালাম বৃত্তি ও কল্যাণ ট্রাষ্ট, কপিলমুণি, পাইকগাছা, খুলনা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল আব্দুস সালাম স্মৃতি মিনার পরিষদ, কৃষ্ণকাটি, তালা, সাতক্ষীরা।
কপিলমুণি বালিকা বিদ্যালয় একটি ভবন সালাম চত্ত্বর নামে নামকরণ করা হয়।
তালা ব্রীজ ভায়া কপিলমুণি খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি সালাম সড়ক নামে নামকরণ করা হয় এবং তালা ৬ নং মডেল ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষিত তালা উপজেলার শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশপ্রেমিক মোড়ল আব্দুস সালামকে মরণোত্তর স্মারক প্রদান করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে সংবিধানের ১৬ তম সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায় নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করায় বেসরকারী বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ডাকযোগে নোটিশটি পাঠান সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু। এতে বলা হয়, রায় ঘোষণার পর মন্ত্রী বলেন, ১৬তম সংশোধনী বাতিল করে এভাবে রায় দিতে পারে না আদালত।

তার বক্তব্য সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। নোটিশে এই আইনজীবী বলেন, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে রাশেদ খান মেননকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ করেন নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবী। অন্যস্থায় তার বিরুদ্ধে মামলার করার কথা উল্লেখ করা হয় লিগ্যাল নোটিশে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

বি. এম আলাউদ্দীন: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকরাবাদ গ্রামে সোবহান গাইনের পুত্র জিয়ারুল গাইনের বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়েছে এলাকার আলোচিত দুধর্ষ চোর ও মাদক স¤্রাট মৃত: রজব আলী সরদারের পুত্র শাহীনুর সরদার (শাহীন) (৪২)। সোমবার আনুমানিক রাত্র ২.০০ টায় উক্ত ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে জিয়ারুল গাইন সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে শাহীনুর সরদার তার বাড়িতে চুরি করতে যায়। জিয়ারুল ও তার স্ত্রী প্রতিদিনের ন্যায় বাড়ীর বারন্ডায় ঘুমায়, সেই সুবাধে সে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে আলমারির তালা ভাঙে , জিয়ারুল শব্দ শুনতে পেয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকলে চোর শাহীনুর তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। জিয়ারুল তাকে জাপটে ধরে চিৎকার করতে থাকে তখন স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে চোর আটকে রেখে স্থানীয় মেম্বর হাফেজ মো: রুহুল আমিন এর নিকট হস্তান্তর করে। মেম্বর সকালে শাহীনুর কে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে সে পয়শা ও ডলার চক্রের মূল হোতা হিসাবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিলো এবং মাদক, চুরি, ছিনতাই মামলায় একাধিক বার কারা বরণ করে। কিন্তু আইনের ফাক ফোকড় দিয়ে বেরিয়ে এসে আবারো একই কাজ লিপ্ত হয়ে এলাকা বাসীকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এমতাবস্থায় কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির জন্য উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

আশাশুনি ব্যুরো: ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার মাদ্রাসা ছাত্র সিয়াম আশাশুনির কুল্যায় উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ছাত্রটি কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলা সদরের গরু ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান চৌধুরীর পুত্র মো: নাদির সিয়াম (১২)। জানাগেছে সিয়াম ইটনা আলিয়া মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণির ছাত্র। মাদ্রাসা সুপার রংপুর এলাকার আশরাফুল আলম হেবজখানায় দেরিতে যাওয়ার জন্য নাদির সিয়ামকে মারধর করে। শিক্ষকের উপর অভিমান করে ইটনা থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর রেলষ্টেশন থেকে রেল যোগে খুলনায় আসে। ক্ষুদার জ্বালা সইতে না পেরে খুলনা সোনাডাঙ্গা বাসস্টা-ের একটি চায়ের দোকানে ২৭টাকার বিভিন্ন খাবার খায় সিয়াম। কিন্তু বিল দিতে না পারায় চা দোকানী তাকে মারধর করতে থাকে। এমন সময় খুলনা থেকে কাজ শেষে বাড়ী ফেরার পথে আশাশুনির কুল্যার মোড়ের বাসিন্দা মো: আলামিন ও সাহাদাত হোসেন এ ঘটনা দেখে তারা দোকানীর বিল দিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করে। সিয়াম অসুস্থ হওয়ায় কিশোরগঞ্জ থেকে কবে এসেছে ঠিক করে বলতে পারছে না। সে তার ব্যাগ হারিয়ে ফেলায় তার পরিবারের মোবাইল নাম্বারটিও হারিয়ে ফেলেছে। সিয়ামকে নিজ ঠিকানায় পৌছে দিতে সাহাদাত-আলামিন তাকে সাথে করে বাড়িতে (কুল্যার মোড়) নিয়ে আসে। বিষয়টি ইটনা থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করলে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত কেউ এমন অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৫০পিচ ইয়াবা ও ১০ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক মহিলা ব্যবসায়ীকে করেছে সাতক্ষীরা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে পাটকেলঘাটার বাইগুনি গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত মহিলা বাইগুনি গ্রামের মাদক সম্রাট ইউনুস আলীর স্ত্রী।
সাতক্ষীরা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপ-পরিদর্শক বিজয় কুমার মজুমদারের নেতৃত্বে বিভাগীয় স্টাফসহ মর্জিনার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসময় তার বাড়িতে অভিনব কৌশলে কলসের মধ্যে ১৫০ পিচ ও বাজারের ব্যাগ থেকে ১০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। তার স্ত্রী ইউনুস আলী মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কারণে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে বলে জানান তারা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

সম্মিলিত সাংবাদিক এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিটিভি’র সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধির ক্যামেরা পার্সন মীর মোস্তফা আলীর মাতা মলুদা খাতুন আর নেই। তিনি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজারবাগানস্থ নিজস্ব বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। (ইন্নালিল্লাহি–রাজিউন)। তিনি বেশ কিছুদিন যাবত অসুস্থ্য ছিলেন। তার মৃত্যুত খবর শুনে শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে যান তালা-কলারোয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এদিকে মোস্তফার মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক, শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাফিজুল ইসলাম আক্কাজ, অর্থ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন নির্বাহী সদস্য আব্দুর রহিম, আব্দুর রহমান, খন্দকার আনিসুর রহমান, মোঃ মেহেদীআলী সুজয়, সদস্য সৈয়দ সাদিকুর রহমান, আসাদুজ্জামান মধু, সেলিম হোসেন, রাহাত রাজা, আয়েজ বিল্লাহ শিমুল, হাবিবুর রহমান পলাশ,শেখ কামরুল ইসলাম, ফিরোজ হোসেন। বুধবার যোহরের নামাজের পর রাজার বাগানস্থ দারুস সালাম জামে মসজিদে মরহুমের নামাজে যানাজ অনুষ্ঠিত হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ : পরিবেশ রক্ষা ও সমাজ উন্নয়নকারী সংগঠন হাতিরঝিল সোসাইটি সাতক্ষীরার ঈদ পুর্নমিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শহরের শহিদ নাজমুল সরণিস্থ প্রাণসায়ের খাল পাড়ে শেখ নাসেরুল হকের সভাপতিত্বে ঈদ পুর্নমিলনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-০২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মািক্তযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলা প্রমুখ। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর মাহমুদ হাসান লাকি, জাসদ নেতা ওবায়দুস সুলতান বাবলু, জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ হায়দার আলী তোতা, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা স্মৃতি সংসদ জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জসি, জেলা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাঈদ, এড. ফারুক হোসেন, এড. মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক ফরিদ আহম্মেদ ময়না, এপিপি এড. তামিম আহমেদ সোহাগ, বাংলাদেশ স্থল বন্দর শ্রমিক ফেডারেশন ভোমরা শাখার সভাপতি মীর মহিতুল আলম, জেলা তাঁতীলীগের সভাপতি মীর আজহার আলী শাহিন, ক্রীড়া সংগঠক খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স, সাফিউল আযম, মাহবুব হোসেন, ছড়াকার শেখ নাজমুল হাসান ও কালিমুল্লাহ প্রমুখ। সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল পরিবেশ রক্ষা ও সমাজ উন্নয়ন। ইতিমধ্যে সংগঠনটি শহরের পাকাপোলের দু’ধারের প্রাণসায়ের খাল পরিস্কার করে ফুলের বাগান ও বসার স্থান করে নান্দনিক লেক তৈরী করে মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা। এসময় হাতিরঝিল সোসাইটি সাতক্ষীরার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest